02/04/2023
প্রশ্ন
মিসওয়াক কিংবা টুথপেস্ট ব্যবহারে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে?
উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.
রোযা রেখে মিসওয়াক ও টুথপেস্ট ব্যবহার করা জায়েয। তবে এর কোন কিছু গিলে ফেলা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। বরং রোযাদার ও বে-রোযদার সবার জন্য মিসওয়াক ব্যবহার করা সুন্নত।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন:
“কোন মতভেদ ছাড়া মিসওয়াক ব্যবহার করা জায়েয। কিন্তু সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর মিসওয়াক ব্যবহার করা মাকরূহ কিনা; এ ব্যাপারে তারা দুটো অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এ দুটো অভিমতই ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত আছে। কিন্তু এটি মাকরূহ হওয়ার সপক্ষে শরয়ি এমন কোন দলিল নেই; যা মিসওয়াক সংক্রান্ত দলিলগুলোর সার্বিকতাকে সংকুচিত করবে।”[আল-ফাতাওয়াল কুবরা (২/৪৭৪) থেকে সমাপ্ত]
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমগণকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:
রোযাদার কি সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন? তার জন্য দিনের বেলায় মিসওয়াক করা কি জায়েয? নারী কি মেহেদী ব্যবহার করতে পারেন কিংবা চুল আঁচড়ানোর জন্য তেল দিতে পারেন?
তারা জবাব দেন: “রোযাদার তার পোশাকে, কিংবা মাথায় পরিধেয়ের উপরে কিংবা শরীরে সুগন্ধি দিতে পারেন। তবে তিনি সুগন্ধি নাক দিয়ে গ্রহণ করবেন না। রোযদার দিনের বেলায় মিসওয়াক করতে পারেন। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি না আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হত তাহলে আমি প্রত্যেক নামাযের সময় তাদেরকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম”।[মুত্তাফাকুন আলাইহি] এই হাদিস রোযাদারের ও বে-রোযদারের যোহরের নামায ও আসরের নামাযকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা এমন কোন সহিহ দলিল জানি না যা এ সময়ে মিসওয়াক করা থেকে বারণ করে।
নারী মেহেদী দিতে পারেন কিংবা চুল আঁচড়ানোর জন্য চুলে তেল দিতে পারেন। যেহেতু এটি রোযার উপর কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। অনুরূপভাবে পুরুষও রোযা রেখে শরীরে কোন ঔষধ বা অন্য কিছু মাখতে পারেন।”[সমাপ্ত][ফাতাওয়াল লাজনাদ দায়িমা (১০/৩২৮)]
শাইখ ইবনে বাযাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: রোযাদারের টুথপেস্ট ব্যবহার করার হুকুম কি?
তিনি জবাব দেন: “মিসওয়াকের মত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিস্কার করলে রোযা ভাঙ্গবে না। তবে পেটের ভেতর কিছু চলে যাওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোন কিছু ভেতরে চলে যায় সেক্ষেত্রে তাকে রোযাটি কাযা করতে হবে না।”[মাজমুউ ফাতাওয়াশ শাইখ ইবনে বায (১৫/২৬০) থেকে সমাপ্ত]
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব
01/04/2023
প্রশ্ন
ইনজেকশনের মাধ্যমে মানুষের শরীর থেকে রক্ত নেয়া কি রোযা ভঙ্গকারী; নাকি ভঙ্গকারী নয়?
উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.
“যে রক্ত নেয়া হয়েছে সেটা যদি প্রচলিত প্রথায় যৎসামান্য হয় তাহলে তার উপর সেই দিনের রোযা কাযার পালন করা ওয়াজিব নয়। আর যদি প্রচলিত প্রথায় বেশি হয় তাহলে আলেমদের মতভেদের ঊর্ধ্বে থাকার নিমিত্তে, সতর্কতা গ্রহণার্থে ও দায়মুক্তির লক্ষ্যে সেই দিনের রোযাটি কাযা পালন করবে।”[ফাতাওয়াল লাজনাদ দায়িমা (১০/২৬৩)]
শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায (রহঃ) কে রমযানের দিন মেডিকেল টেস্টের জন্য রক্ত নেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাব দেন:
“এ ধরণের টেস্ট করা রোযাকে নষ্ট করবে না; বরঞ্চ এটি ক্ষমার্হ। যেহেতু এটি প্রয়োজন এবং পবিত্র শরিয়তে পরিজ্ঞাত রোযা ভঙ্গকারী শ্রেণীয় নয়।”[ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা (২/১৩৩)]
শাইখ ইবনে জিবরীন বলেন:
“যদি কেউ রক্ত দান করে এবং তার কাছ থেকে অনেক রক্ত নেয়া হয়; তাহলে শিঙ্গা লাগানোর উপর কিয়াসের ভিত্তিতে তার রোযা নষ্ট হবে। রক্ত দান হলো: কোন রোগীকে বাঁচানোর জন্য কিংবা জরুরী অবস্থার জন্য সংরক্ষণের নিমিত্তে শিরা থেকে রক্ত নেয়া হয়। আর যদি গৃহীত রক্ত অল্প হয়; তাহলে রোযা নষ্ট করবে না। যেমন টেস্ট করার জন্য ইনজেকশনের সুঁই দিয়ে রক্ত নেয়া।”[ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা (২/১৩৩)]
সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব
01/04/2023
প্রশ্ন
রোযা বর্জনকারী কি কাফের হয়ে হবে; যতক্ষণ সে নামায আদায় করে, কিন্তু কোন অসুস্থতা বা ওজর ছাড়া রোযা রাখে না।
উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.
যে ব্যক্তি রোযার ফরযিয়তকে অস্বীকার করে রোযা রাখে না আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে সে ব্যক্তি কাফের। আর যে ব্যক্তি অসলতা ও অবহেলা করে রোযা রাখে না তার ব্যাপারে কিছু আলেমের অভিমত হচ্ছে সে কাফের। কিন্তু সঠিক অভিমত হচ্ছে— এমন ব্যক্তি কাফের নয়। তবে ইসলামের এই মহান রুকন ও আলেমদের সর্বসম্মত (ইজমাকৃত) ফরয বিধান বর্জন করার মাধ্যমে সে মহা বিপদের দ্বারপ্রান্তে আছে। রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে সে শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত; যে শাস্তি তাকে নিরস্ত করবে। এমন ব্যক্তির উপর ফরয হল সে যে রোযাগুলো বর্জন করেছে সেগুলোর কাযা পালন করা এবং আল্লাহ্ তাআলার কাছে তাওবা করা।
আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।
[দেখুন: ফাতাওয়াল লাজনাহ (১০/১৪৩)]
মূলঃ islamQA
01/04/2023
প্রশ্ন :- রোযা অবস্থায় ওযুর সময় মুখে পানি নেয়ার হুকুম কী?
উত্তর :
একজন মুমিন পরিপূর্ণভাবে ওযু করতে আদিষ্ট। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মর্মে আদেশ করেছেন, তিনি বলেন: “ওযুকে পরিপূর্ণ করুন, আঙ্গুলগুলোর মাঝে খিলাল করুন, জোরালোভাবে নাকে পানি দিন; যদি না আপনি রোযাদার হন”।[সুনানে তিরমিযি (আস-সাওম/৭৮৮), সুনানে আবু দাউদ (১৪২), আলবানী ‘সহিহু সুনানিত তিরমিযি’ গ্রন্থে (৬৩১) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা অবস্থায় প্রকৃষ্টভাবে কুলি ও নাকে পানি দেয়া থেকে বিরত থাকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন; যাতে করে এটি হারামের দিকে পর্যবসিত না করে। আর তা হলো রোযা অবস্থায় পানি পেটে চলে যাওয়া। কিন্তু রোযা অবস্থায় নিছক কুলি করায় কোন আপত্তি নেই; যদি রোযাদারের পেটে পানি চলে না যায়।
তাই উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেন: একবার আমি রোযা অবস্থায় চাঙ্গাবোধ করে চুম্বন করলাম। তখন বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আজ আমি জঘন্য কিছু করে ফেলেছি। আমি রোযা রেখে চুম্বন করে ফেলেছি। তিনি বললেন: আপনি যদি রোযা রেখে কুলি করেন; তাহলে সেটাকে কেমন মনে করেন? আমি বললাম: অসুবিধা নাই। তিনি বললেন: তাহলে এই প্রশ্ন কেন?[সুনানে আবু দাউদ (সাওম অধ্যায়/২০৩৭), আলবানী সহিহ সুনানে দাউদ গ্রন্থে (২০৮৯) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
হাদিসটির ব্যাখ্যাকার বলেন: তাঁর বাণী: “আপনি যদি রোযা রেখে কুলি করেন; তাহলে সেটাকে কেমন মনে করেন”: এর মধ্যে চমৎকার ফিকাহ (সূক্ষ্মবোধ) এর দিকে ইঙ্গিত রয়েছে। সেটা হলো: কুলি করা রোযাকে ভঙ্গ করবে না। যেহেতু কুলি হলো পান করার পূর্বধাপ...।
আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।