Tanvir's Tech Talk

Tanvir's Tech Talk My official page where I will post my tutorial videos on macOS, Photoshop, Illustrator, After Effects, Premiere and many other exciting apps

বাংলাদেশের সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সারের আয়ের বড় অংশ এখন AI-এর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায়বাংলাদেশে ছয় লাখের বেশি মানুষ ...
16/08/2026

বাংলাদেশের সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সারের আয়ের বড় অংশ এখন AI-এর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায়

বাংলাদেশে ছয় লাখের বেশি মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করে বছরে পাঁচশো মিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি মুদ্রা আয় করেন। আর ঠিক এই মুহূর্তে, বিশ্বের ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে একটা বড় পরিবর্তন হচ্ছে, যেটা এই আয়ের একটা অংশকে সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলছে।

গল্পের শুরু কোথায়?

Upwork আর Fiverr-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এখন দুইটা বিপরীতমুখী স্রোত একসঙ্গে বইছে। একদিকে, ক্লায়েন্টরা অনেক সাধারণ কাজ, যেমন সাধারণ লেখা, বেসিক ডিজাইন, ছোট এডিট, এসবের জন্য এখন সরাসরি ChatGPT বা Midjourney-র মতো টুল ব্যবহার করছেন, ফ্রিল্যান্সার খোঁজার বদলে। এর ফলে ২০২৪ সালের প্রথমার্ধেই Upwork-এর অ্যাপ ডাউনলোড কমেছে ২২ শতাংশ, Fiverr-এর কমেছে ১৮ শতাংশ, আর এই ধারা ২০২৬ সালেও চলছে।

অন্যদিকে, ঠিক উল্টো একটা প্রবণতাও চলছে। Upwork নিজেই জানিয়েছে, AI-সংক্রান্ত স্কিল থাকা ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। যারা AI ওয়ার্কফ্লো বানাতে পারেন, AI টুল দিয়ে কাজ দ্রুত এবং ভালো মানের করে দিতে পারেন, তাদের অর্ডার কমছে না, বরং বাড়ছে।

এটার মানে কি?

সহজ কথায়, যে ফ্রিল্যান্সাররা শুধু "কম দামে দ্রুত কাজ করে দিই" এই মডেলে চলতেন, তাদের জায়গাটা এখন AI নিজেই নিয়ে নিচ্ছে। কারণ ক্লায়েন্ট যদি নিজেই AI দিয়ে সাধারণ মানের কাজ পেয়ে যান, তাহলে সেই একই কাজের জন্য একজন মানুষ ফ্রিল্যান্সারকে টাকা দেওয়ার দরকার পড়ে না।

কিন্তু যারা AI-কে নিজের কাজের একটা টুল হিসেবে ব্যবহার করে ভ্যালু যোগ করছেন, যেমন "আমি AI দিয়ে দ্রুত বানাবো, তারপর নিজের অভিজ্ঞতা আর নজর দিয়ে সেটাকে প্রফেশনাল মানে নিয়ে যাবো", তাদের চাহিদা বরং বাড়ছে। কারণ ক্লায়েন্ট এখনও একজন মানুষের বিচারবুদ্ধি, ভালো ফিনিশিং, আর দায়বদ্ধতা চান, শুধু কাঁচা AI আউটপুট না।

এইদিকে আমি আমার ফ্রিলান্স কিন্তু এ আই দিয়েই শুরু করি। আমার সবগুলা ফাইভার গিগ শুধুমাত্র এ আই নিয়েই। সো আমার মনে হয় না আমার ক্লায়েন্ট হাত ছাড়া হয়েছে, বরং এ আই দিয়ে একটা ক্রিটিকাল সময়ে শুরু করায় (যখন এ আই মাত্র আসলো, এবমগ ক্লায়েন্ট রা তেমন কেউ কিছু জানত না), আমার প্রোফাইল বেশ ভালো বুস্ট পায়।

বাংলাদেশের জন্য এর মানে কী

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত মূলত গড়ে উঠেছে ভলিউম আর গতির ওপর ভিত্তি করে, বেশি কাজ, কম সময়, প্রতিযোগিতামূলক দাম। ঠিক এই মডেলটাই এখন সবচেয়ে বেশি চাপে আছে। যারা শুধু এক্সিকিউশন বিক্রি করেন, তাদের জন্য সামনের বছরগুলো কঠিন হতে পারে। তবে বাংলাদেশ সরকারও বিষয়টা বুঝতে পেরে freelancers.gov.bd-এর মতো উদ্যোগ আর দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প চালু করেছে, যাতে ফ্রিল্যান্সাররা নতুন দক্ষতার দিকে এগোতে পারেন।

আসল প্রশ্নটা হলো, একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি কি শুধু এক্সিকিউশন বিক্রি করছেন, নাকি AI-কে ব্যবহার করে এমন কিছু দিচ্ছেন যেটা একটা প্রম্পট লিখেই পাওয়া যায় না?

তাহলে কী করা উচিত

এই মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গাটা হলো, AI-কে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে নিজের কাজের একটা হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা। যে কাজে বিচারবুদ্ধি, ক্লায়েন্ট রিলেশনশিপ, বা সৃজনশীল সিদ্ধান্ত লাগে, সেখানে মানুষের ভূমিকা এখনও অপরিহার্য। কিন্তু যে কাজ পুরোপুরি যান্ত্রিক, সেটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করাটাই বরং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আপনার নিজের কাজের কোন অংশটা AI সহজেই করে ফেলতে পারবে বলে মনে হয়, আর কোন অংশটা এখনও শুধু আপনিই করতে পারবেন?

আপনার বানানো AI ভিডিও যদি ইউরোপের কোনো ক্লায়েন্টের কাছে যায়, নতুন একটা আইন এখন আপনার ঘাড়েও পড়ছেআপনি বসে আছেন ঢাকায়,...
12/08/2026

আপনার বানানো AI ভিডিও যদি ইউরোপের কোনো ক্লায়েন্টের কাছে যায়, নতুন একটা আইন এখন আপনার ঘাড়েও পড়ছে

আপনি বসে আছেন ঢাকায়, কাজ করছেন ফ্রিল্যান্সে, আর ইউরোপের একজন ক্লায়েন্টের জন্য AI দিয়ে একটা ভয়েসওভার বা চ্যাটবট বানিয়ে দিচ্ছেন। শুনতে মনে হতে পারে এটা শুধু ইউরোপের কোম্পানিগুলোর মাথাব্যথা। কিন্তু নতুন আইনটা বলছে, আপনি কোথায় বসে আছেন সেটা বিষয় না, বিষয় হলো আপনার বানানো জিনিসটা কাদের কাছে যাচ্ছে।

গল্পের শুরু কোথায়?

২০২৬ সালের ২ আগস্ট থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের AI Act-এর একটা বড় অংশ কার্যকর হয়ে গেছে, যার নাম Article 50, transparency বা স্বচ্ছতা নিয়ম। ইউরোপিয়ান কমিশনের AI Office আর দেশগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখন থেকে এটা তদারকি করা শুরু করেছে।

নিয়মটা মূলত চারটা জায়গায় প্রযোজ্য। এক, কোনো চ্যাটবট বা AI ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট যদি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, তাহলে সেটাকে স্পষ্ট করে বলতে হবে যে এটা একটা মানুষ না, একটা AI। দুই, deepfake ছবি, ভিডিও বা অডিও হলে সেটাকে লেবেল করতে হবে। তিন, জনসাধারণের স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে AI দিয়ে লেখা কনটেন্ট প্রকাশ করলে সেটাও জানাতে হবে, যদি না কোনো মানুষ সম্পাদক সেটা যাচাই করে থাকেন। চার, AI দিয়ে বানানো কনটেন্টে মেশিন-রিডেবল মার্ক থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সেটা শনাক্ত করা যায়।

যেটা সবচেয়ে বেশি মানুষ ভুল বোঝে

এখানেই আসল ধাক্কাটা। বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন, এই আইন শুধু ইউরোপে রেজিস্টার করা কোম্পানিদের জন্য। কিন্তু আসলে তা না। নিয়ম প্রযোজ্য হয় কে সেই কনটেন্ট বানাল তার ওপর না, বরং সেই কনটেন্ট বা AI সিস্টেম শেষ পর্যন্ত ইউরোপের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা তার ওপর।

মানে, আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে বসে একটা জার্মান বা ফরাসি কোম্পানির জন্য AI-জেনারেটেড ভিডিও, ভয়েসওভার, বা চ্যাটবট বানিয়ে দেন, আর সেটা ইউরোপের দর্শক বা ব্যবহারকারীর কাছে যায়, তাহলে এই আইন আপনার কাজের ওপরও প্রযোজ্য হতে পারে। জরিমানার অঙ্কটাও ছোট না, সর্বোচ্চ দেড় কোটি ইউরো বা কোম্পানির বৈশ্বিক আয়ের ৩ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যেটাই বেশি হয়। এটা মূলত ক্লায়েন্ট কোম্পানির ওপর বর্তায়, কিন্তু ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার ডেলিভারি যদি এই নিয়ম না মেনেই যায়, ক্লায়েন্ট সেই সমস্যায় পড়তে পারেন, আর সেটা শেষ পর্যন্ত আপনার কাজের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে।

আমার নিজের কিছু ইউরপিয়ান ক্লাইন্ট আছে যাদের জন্য আমি বেশ কিছু ভিডিও বানিয়েছি, আমি এখন তাদের কে জানিয়ে দিচ্ছি যাতে তারা ভিডিও টাকে এ আই দারা জেনেরেটেড ট্যাগ এখনি দিয়ে ফেলে। আমার ইউরপিয়ান ক্লাইয়েন্ট এর সংখ্যা দেখা যাক কি হয় এই রুলিং এর পর।

তবে একটা জিনিস পরিষ্কার করা দরকার

এই আইন AI ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে না। এটা শুধু বলছে, লুকিয়ে করা যাবে না। নিয়মগুলো যথেষ্ট নমনীয়ও, যেমন যদি স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে এটা একটা AI (একজন সচেতন সাধারণ মানুষের কাছে), তাহলে আলাদা করে ঘোষণা লাগে না। আর ২ আগস্টের আগে বানানো পুরনো কনটেন্টে পূর্বসত্তার প্রভাব (retroactive) পড়ছে না।

একজন প্র্যাক্টিশনার হিসেবে এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ

AI ভিডিও আর কনটেন্ট প্রোডাকশনের কাজ এখন আন্তর্জাতিক হয়ে গেছে। বাংলাদেশের একজন ক্রিয়েটর, স্টুডিও, বা ফ্রিল্যান্সার হয়তো কখনো ইউরোপের মাটিতে পা রাখেননি, কিন্তু তার কাজ প্রতিদিনই ইউরোপের স্ক্রিনে যাচ্ছে। এই ধরনের আইন যত বাড়বে, ততই ক্লায়েন্টরা তাদের ভেন্ডরদের কাছ থেকে "এটা কি AI দিয়ে বানানো?" এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চাইবে, চুক্তির শর্ত হিসেবেই।

তাহলে এখন কী করা উচিত

এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বসে কারো ব্যক্তিগতভাবে জরিমানার ঝুঁকি নেই, দায়টা মূলত ইউরোপিয়ান কোম্পানির। কিন্তু যারা ইউরোপিয়ান ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করেন, তাদের জন্য এখন থেকেই ডেলিভারির সময় AI ব্যবহারের বিষয়টা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া একটা ভালো অভ্যাস হয়ে উঠছে, শুধু আইন মানার জন্য না, বরং ক্লায়েন্টের বিশ্বাস ধরে রাখার জন্যও।

আপনার ইউরোপিয়ান ক্লায়েন্টের কাজে AI ব্যবহার করলে, সেটা তাদের আগে থেকেই জানানো উচিত, নাকি ফলাফল ভালো হলে সেটা বলার দরকার নেই? কি মনে করেন?

মাসে ২০ ডলার সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই এখন শক্তিশালী AI চালানো যায়, নিজের ল্যাপটপে, ইন্টারনেট ছাড়াই।গতকাল Meta একটা নতুন মডে...
11/08/2026

মাসে ২০ ডলার সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই এখন শক্তিশালী AI চালানো যায়, নিজের ল্যাপটপে, ইন্টারনেট ছাড়াই।

গতকাল Meta একটা নতুন মডেল ছেড়েছে, নাম Muse Glimmer। ৩০ বিলিয়ন প্যারামিটারের এই মডেলটা সম্পূর্ণ ফ্রি, ওপেন সোর্স, Apache 2.0 লাইসেন্সে। মানে যে কেউ ডাউনলোড করে নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে, এমনকি বাণিজ্যিক কাজেও।

আসল চমক অন্য জায়গায়। এই সাইজের মডেল সাধারণত চালাতে বিশাল সার্ভার লাগে। কিন্তু Meta একে এমনভাবে সংকুচিত করেছে যে এটা একটামাত্র সাধারণ গেমিং GPU-তে চলে যায়, এমনকি একটা ভালো ম্যাকেও।

এটা চালাতে হলে আজই ওলামা আপডেট করে নিতে হবে। আমার জিপউ হচ্ছে ৩০৯০, ২৪ জিবি ভির‍্যাম আর ৩২জিবি সিস্টেম র‍্যাম। ৩০ বিলিওন প্সাযারামিটার কিন্তু ডাউনলোড সাইজ মাত্র ১৮ গিগা। আমি আর ডিপ টেস্ট করে পরবর্তীতে আর ভালো রিভিউ দিবো আশা করি।

এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ যাদের প্রতি মাসে ডলারে সাবস্ক্রিপশন ফি দেওয়া কঠিন, বা যাদের ইন্টারনেট স্লো বা অনির্ভরযোগ্য, তাদের জন্য এটা একটা বাস্তব বিকল্প। ক্লায়েন্টের ফাইল নিজের কম্পিউটারেই থাকছে, বাইরে কোথাও পাঠাতে হচ্ছে না। লোডশেডিং বা নেট ডাউন থাকলেও কাজ থামছে না।

তবে এটা সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল নয়। কিছু কাজে অন্য ওপেন মডেলও এগিয়ে আছে। কিন্তু "ফ্রিল্যান্সার নিজের পিসিতে একটা প্রায়-প্রিমিয়াম মানের AI চালাতে পারছে", এই ধারণাটাই বড়।

তোমাদের কাজে যদি প্রতি মাসে AI সাবস্ক্রিপশনের খরচ একটা বোঝা হয়, তাহলে একটা লোকাল, ফ্রি মডেল ব্যবহার করা কি এখনই বিবেচনা করার সময় এসেছে?

একজন পাইলট ককপিটে বসে ছিলেন, কিন্তু বিমানটা উড়িয়েছিল একটা AIদুই বছর ধরে একটা F-16 যুদ্ধবিমান হ্যাঙ্গারে বসে ছিল, আর তা...
11/08/2026

একজন পাইলট ককপিটে বসে ছিলেন, কিন্তু বিমানটা উড়িয়েছিল একটা AI

দুই বছর ধরে একটা F-16 যুদ্ধবিমান হ্যাঙ্গারে বসে ছিল, আর তার ভেতরে বসে ইঞ্জিনিয়াররা তাকে "ভাবতে" শেখাচ্ছিলেন। এই সপ্তাহে সেই বিমান অবশেষে আকাশে উড়ল, আর অনেকটা সময় ধরে ককপিটে বসে থাকা মানুষটা ছিলেন শুধুই দর্শক।

গল্পের শুরু কোথায়

আমেরিকার Defense Advanced Research Projects Agency, সংক্ষেপে DARPA, আর মার্কিন বিমানবাহিনী মিলে একটা প্রজেক্ট চালাচ্ছে, নাম VENOM (Viper Experimentation and Next-generation Operations Model)। উদ্দেশ্য একটাই, একটা সাধারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত F-16 বিমানকে এমনভাবে বদলে ফেলা, যাতে সেটাকে একটা AI নিজেই উড়াতে পারে।

২০২৬ সালের জুন মাসে ফ্লোরিডার Eglin বিমানঘাঁটিতে প্রথম এই পরিবর্তিত বিমানগুলো ওড়ানো শুরু হয়, প্রথমে শুধু যাচাই করার জন্য যে সবকিছু নিরাপদে কাজ করছে কিনা। এরপর জুলাই মাসে আসল পরীক্ষা শুরু হলো, এবার AI সত্যিকার অর্থেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিল।

ককপিটে মানুষ ছিল, কিন্তু হাত ছিল না স্টিয়ারিং-এ

এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। এটা কোনো পাইলটবিহীন ড্রোন ছিল না। একজন প্রশিক্ষিত টেস্ট পাইলট পুরো সময় ককপিটে বসে ছিলেন, বিমান উড্ডয়ন করাতেন নিজেই, আর যেকোনো মুহূর্তে একটা সুইচ টিপে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু ফ্লাইটের বড় একটা অংশ জুড়ে, নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম চালাচ্ছিল একটা AI এজেন্ট।

DARPA-র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেমস "ফ্যাংস" ভালপিয়ানি বলেছেন, তারা F-16-এর মূল সফটওয়্যার না বদলেই বিমানটার ফ্লাইট কন্ট্রোল আর সেন্সরগুলো স্বয়ংক্রিয় করতে পেরেছেন। মানে, একটা সাধারণ যুদ্ধবিমানকে অনেকটা কম খরচে, কম সময়ে একটা "চিন্তা করতে পারা" প্লাটফর্মে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে।

এটা নতুন কিছু কেন

২০২৪ সালে একটা বিশেষ পরীক্ষামূলক বিমান, X-62A VISTA, একজন মানুষ পাইলটের বিপক্ষে ডগফাইটে (আকাশযুদ্ধে) লড়েছিল, শুধুমাত্র AI-এর নিয়ন্ত্রণে। সেটা ছিল একটা এককালীন গবেষণা প্রকল্প। কিন্তু VENOM প্রোগ্রামের বড় পার্থক্য হলো, এটা কোনো একটা বিশেষ বিমানের জন্য নয়, বরং সাধারণ, চলতি ফ্লিটের F-16 বিমানগুলোকেই দ্রুত AI-চালিত করে তোলার একটা পদ্ধতি তৈরি করছে। মানে গবেষণাগার থেকে বাস্তব যুদ্ধবিমানের ফ্লিটে যাওয়ার দূরত্বটা এখন অনেক কমে এসেছে।

এই কাজের পেছনে রয়েছে হাজার হাজার ঘণ্টার সিমুলেশন। এক-বনাম-এক থেকে শুরু করে দুই-বনাম-দুই যুদ্ধ পরিস্থিতি, একই দৃশ্য হাজার বার পুনরাবৃত্তি করে দেখা হয়েছে, প্রতিবার একটু ভিন্ন সিদ্ধান্ত আর বিমানের আচরণ পরীক্ষা করার জন্য।

এর পেছনের বড় লক্ষ্য কী

এই পুরো প্রকল্পের আসল লক্ষ্য শুধু একটা AI-চালিত বিমান বানানো নয়। ভবিষ্যতে একজন মানুষ পাইলট যাতে একসঙ্গে বেশ কয়েকটা পাইলটবিহীন সহযোগী বিমান (এদের বলা হয় Collaborative Combat Aircraft) পরিচালনা করতে পারেন, VENOM সেই পথের একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কল্পনা করুন, একজন পাইলট আকাশে উড়ছেন, আর তার চারপাশে কয়েকটা AI-চালিত "উইংম্যান" বিমান তার নির্দেশে কাজ করছে।

সতর্কতার দিকটাও মনে রাখা দরকার

এই ধরনের প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ততই একটা প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে, কতটা স্বয়ংক্রিয়তা নিরাপদ, আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কতটুকু মানুষের হাতে রাখা উচিত। এখানে যেটা লক্ষণীয়, পুরো পরীক্ষার নকশাতেই মানুষের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, একটা সুইচের মাধ্যমে। প্রযুক্তি যতই স্বয়ংক্রিয় হোক, সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত লাগাম এখনও মানুষের হাতেই রাখা হচ্ছে, অন্তত এই পরীক্ষার পর্যায়ে।

সামরিক খাতে AI-এর এই অগ্রগতি একদিকে যেমন প্রযুক্তির চমকপ্রদ অগ্রগতি দেখায়, অন্যদিকে একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়, শক্তিশালী প্রযুক্তির সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ে সমানভাবে।

এসএসসি আর ও লেভেল: একটা পরীক্ষায় হোঁচট খেলেই কি সব শেষ হয়ে যায়?ধরুন আপনার পাশের বাসার একটা ছেলে আছে, অঙ্কে একদম কাঁচা...
10/08/2026

এসএসসি আর ও লেভেল: একটা পরীক্ষায় হোঁচট খেলেই কি সব শেষ হয়ে যায়?

ধরুন আপনার পাশের বাসার একটা ছেলে আছে, অঙ্কে একদম কাঁচা কিন্তু ইংরেজি আর জীববিজ্ঞানে দুর্দান্ত। আরেকটা মেয়ে আছে, অঙ্কে চ্যাম্পিয়ন কিন্তু ভাষার বিষয়ে হিমশিম খায়। এখন বাংলাদেশের এসএসসি সিস্টেমে এই দুইজনকেই একই বছরে, একসাথে ১১টা বিষয়ে বসতে হবে। একটা বিষয়ে খারাপ করলে সেই দাগ পুরো রেজাল্টে লেগে যাবে, কিছু করার নেই। অথচ ক্যামব্রিজ বা এডেক্সেলের ও লেভেল সিস্টেমে এই দুইজনই চাইলে নিজের শক্তির জায়গা ধরে বিষয় বেছে নিতে পারত, আলাদা আলাদা সেশনে ভাগ করে পরীক্ষা দিতে পারত। এই একটা পার্থক্যই আসলে দুটো সিস্টেমকে সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গায় নিয়ে দাঁড় করায়।

এসএসসি চলে অনেকটা "সব নয়তো কিছুই না" নীতিতে। একই শিক্ষাবর্ষে ১১টা বিষয়ে বসতে হয় (বাংলা আর ইংরেজির দুটো করে পত্র মিলিয়ে মোট ১৩টা উত্তরপত্র), আর ফলাফল আসে একসাথে, একটাই জিপিএ। একটা বিষয়ে খারাপ করলে বাকি সব বিষয়ে যত ভালোই করুন না কেন, জিপিএ নেমে যাবে। সিস্টেমটা যেন ধরেই নেয় প্রত্যেক শিক্ষার্থী সব বিষয়ে মোটামুটি সমান পারদর্শী হবে। কিন্তু বাস্তবে এমন ছাত্রছাত্রী খুঁজে পাওয়া কঠিন। কেউ ভাষায় ভালো, কেউ অঙ্কে, কেউবা বিজ্ঞানে। এসএসসি এই স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের জায়গাটা রাখে না।

এখন একটা জিনিস পরিষ্কার করা দরকার। কেউ এক দুই বিষয়ে ফেল করলে তাকে পুরো ১১টা বিষয় আবার দিতে হয় না, শুধু ফেল করা বিষয়টাই পরের বছর দিতে পারে, আর আগের পাস করা বিষয়ের রেজাল্ট থেকেই যায়। কিন্তু আসল সমস্যা লুকিয়ে আছে এখানেই। সেই সুযোগটা মিলবে পরের বছরের নিয়মিত পরীক্ষার সাথেই, মানে পুরো একটা বছর অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। এই এক বছরে সহপাঠীরা কলেজে চলে যায়, আর যে ফেল করেছে সে থেকে যায় ঝুলে, না স্কুলে না কলেজে। আগে তো সব বিষয়ে পাস না করলে কলেজে ভর্তিই হওয়া যেত না। সম্প্রতি একটা সংস্কার প্রস্তাবে বলা হয়েছে দুইটা পর্যন্ত বিষয়ে ফেল করলেও অস্থায়ীভাবে কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে, তবে এটা এখনো ব্যতিক্রম, সাধারণ নিয়ম না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটা বিষয়ে ফেল মানে একটা পুরো বছর হারানো।

ও লেভেল সিস্টেমটা পুরোপুরি আলাদা চিন্তা থেকে তৈরি। এখানে প্রতিটা বিষয় একটা আলাদা ইউনিটের মতো কাজ করে। শিক্ষার্থী চাইলে একই সেশনে সব বিষয় দিতে পারে, আবার চাইলে দুই তিনটা সেশনে ভাগ করেও দিতে পারে, যেমন মে জুনে কিছু বিষয়, অক্টোবর নভেম্বরে বাকিগুলো। প্রতিটা বিষয়ের রেজাল্ট আলাদা থাকে, একটাতে খারাপ করলে অন্যগুলোতে তার প্রভাব পড়ে না। যে বিষয়ে দুর্বল, সেটা এড়িয়ে গিয়ে বা পরে আলাদাভাবে রিসিট দিয়ে শক্তিশালী বিষয়গুলো দিয়েই একটা ভালো প্রোফাইল বানানো যায়। এই সুবিধা পরের ধাপেও কাজে লাগে, বিশ্ববিদ্যালয় বা পলিটেকনিক ভর্তির সময় অনেক প্রতিষ্ঠান দুই সেশনের ফলাফল একসাথে মিলিয়ে নেয়। যেমন সিঙ্গাপুরে দুইটা আলাদা সেশনের ও লেভেল রেজাল্ট একসাথে জমা দিয়ে জুনিয়র কলেজ বা পলিটেকনিকে ভর্তি হওয়া যায়। নাইজেরিয়ার মতো দেশেও এই একই দর্শন চলে, বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় দুই সেশনের রেজাল্ট মিলিয়ে ভর্তির যোগ্যতা যাচাই করে, যদিও মেডিসিন বা ল এর মতো প্রতিযোগিতামূলক বিষয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান শুধু এক সেশনের রেজাল্টই চায়।

তবে এখানে একটু সাবধান থাকা ভালো। "কোনো পেনাল্টি নেই" কথাটা সব জায়গায় সমানভাবে সত্যি না। প্রতিষ্ঠানভেদে, দেশভেদে নিয়ম বদলায়, আর কিছু প্রতিযোগিতামূলক কোর্স শুধু এক সেশনের রেজাল্টই মানে। তাই সুবিধাটা বাস্তব, কিন্তু নিঃশর্ত না। কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চায়, তাকে আগে থেকেই সেই প্রতিষ্ঠানের নীতি যাচাই করে নিতে হবে।

যে শিক্ষার্থী একটা দুইটা বিষয়ে দুর্বল কিন্তু বাকি সবকিছুতে ভালো, তার জন্য এসএসসির এই একসাথে সব বিষয়ের চাপটা মানসিকভাবে খুব ভারী হয়ে দাঁড়াতে পারে। একটা বিষয়ে ফেলের ভয় পুরো পরীক্ষাটাকেই ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে, আর বছরের পর বছর এই একই চাপ একজনের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে। ও লেভেলের মডিউলার কাঠামোয় এই ঝুঁকিটা ভাগ হয়ে যায়। দুর্বল বিষয়ে বাড়তি সময় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া যায়, দরকার হলে আবার বসা যায়, আর ততক্ষণে ভালো বিষয়গুলোর রেজাল্ট নিয়ে একটা শক্তিশালী প্রোফাইল ধরে রাখা যায়। একটা দুর্বলতা এখানে কাউকে "ফেল করা ছাত্র" বানিয়ে দেয় না।

এই "সব বিষয় একসাথে, একটাই সুযোগ" মডেলের সবচেয়ে ভারী দাম দিতে হয় গ্রামের মেয়েদের। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার এখনো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেশগুলোর একটা, আর গ্রামের সমাজে মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে পরিবারের ধৈর্য প্রায়ই একটামাত্র পরীক্ষার ফলাফলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এসএসসিতে ফেল করা একটা মেয়ের জন্য এটা শুধু পড়াশোনার একটা ধাক্কা না, এটাই প্রায়ই তার পুরো শিক্ষাজীবনের শেষ বিন্দু হয়ে যায়। ঢাকা বোর্ডের একটা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রায় চল্লিশ শতাংশই ইতিমধ্যে বিবাহিত, আর এই সংখ্যায় মেয়েদের অংশটাই বড়। "ম্যাট্রিক ফেল" শব্দটা এখনো বাংলাদেশের সমাজে একটা ভারী কলঙ্কের মতো কাজ করে। একবার ফেল করলেই পরিবার ধরে নেয় মেয়েটার আর পড়াশোনায় "ভবিষ্যৎ নেই", আর তখনই বিয়ের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার চাপ শুরু হয়।

এই পুরো ব্যাপারটা আরও কঠিন হয়ে যায় যখন মনে রাখি একটা মাত্র বিষয়ে দুর্বলতাও একটা গোটা বছর কেড়ে নেয়। একটা মেয়ে হয়তো শুধু গণিত বা ইংরেজির একটা পত্রে দুর্বল, বাকি সব বিষয়ে ভালো, তবু তাকে গোটা এক বছর ঘরে বসে থাকতে হয় পরের সুযোগের জন্য। গ্রামের পরিবারে এই অপেক্ষার বছরটাতেই বিয়ের প্রস্তাব চলে আসে, আর্থিক চাপ বাড়ে, বা "মেয়ে এমনিতেই অনেক পড়েছে" গোছের মনোভাব মাথাচাড়া দেয়। তারপর সেই ফেল করা বিষয়ের পরীক্ষায় সে আর কখনো বসেই না। গবেষণা বলছে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে ঝরে পড়া আর বাল্যবিবাহ একে অপরকে টেনে নিয়ে যায়, পরীক্ষায় খারাপ ফল বিয়ের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করে, আর বিয়ে হয়ে গেলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

এই জায়গাতেই ও লেভেলের মতো মডিউলার সিস্টেমের গুরুত্বটা চোখে পড়ে, যদিও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এর খরচ আর প্রাপ্যতা এখনো বাস্তবসম্মত না, সেটা একটু পরেই বলছি। কিন্তু ভাবুন তো, একটা মেয়ে যদি তার দুর্বল বিষয়টা আলাদাভাবে, পরে সুবিধামতো সময়ে দেওয়ার সুযোগ পেত, আর সেই সময়টায় ভালো বিষয়গুলোর রেজাল্ট নিয়ে এগিয়ে যেতে পারত, তাহলে পরিবারের কাছে তাকে "ব্যর্থ" প্রমাণ করার সুযোগটাই অনেক কমে যেত। একটামাত্র পরীক্ষার ফলাফলের ওপর একটা মেয়ের গোটা ভবিষ্যৎ ঝুলিয়ে রাখাটা কোনোভাবেই ঠিক না, আর এই বাস্তবতা বদলানো দরকার, চাই সেটা হোক সিস্টেম সংস্কার দিয়ে বা কোনো বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি দিয়ে।

এখন আসল প্রশ্নটা হলো, দুটো সিস্টেম আসলে কোথায় গিয়ে একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়? প্রথম ধাক্কাটা লাগে "ন্যায্যতা" শব্দটাকে ঘিরে। এসএসসি ন্যায্যতা মানে বোঝে সমতা, সবাই একই দিনে একই কাঠামোয় একই শর্তে পরীক্ষা দেয়, তুলনা করা সহজ, পরিচালনা করাও সহজ। এই অভিন্নতার কারণেই সরকারি বৃত্তি, কোটা আর ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে এসএসসির দীর্ঘদিনের সংগতি আছে, আর খরচও এত কম যে প্রায় সব পরিবারের নাগালে থাকে। ও লেভেল একদম উল্টো পথে হাঁটে, এখানে ন্যায্যতা মানে নমনীয়তা, প্রত্যেকের শক্তি দুর্বলতা অনুযায়ী আলাদা সুযোগ তৈরি করা। মজার ব্যাপার হলো, এসএসসি যেটাকে "সবার জন্য সমান সুযোগ" বলে দাবি করে, ও লেভেলের চোখে সেটাই আসলে মানুষের স্বাভাবিক বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করা। কারণ বাস্তবে কেউই সব বিষয়ে সমান দক্ষ না, আর একটামাত্র মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার চাপ সৃজনশীলতা বা প্রায়োগিক দক্ষতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না বলেও সমালোচনা আছে।

দ্বিতীয় ধাক্কাটা লাগে ঝুঁকি আর সময়ের হিসাবে। এসএসসিতে একটা বিষয়ের দুর্বলতা পুরো জিপিএ আর ভবিষ্যৎ সুযোগকে টেনে নামিয়ে দেয়, আর ফেল করলে কার্যত একটা গোটা বছর নতুন করে শুরু করতে হয়, মানসিক চাপ আর সময়ের বিশাল ক্ষতি নিয়ে। ও লেভেল ঠিক এই ঝুঁকিটাকেই ভেঙে ছড়িয়ে দেয়, একটা বিষয়ে খারাপ ফল অন্য বিষয়ের ফলাফলকে ছোঁয় না, সেশন ভাগ করে দেওয়া যায় বলে চাপ কমে আর প্রস্তুতির সময় বাড়ে। কিন্তু এই সুবিধার একটা উল্টো পিঠও আছে। সেশন ভাগ করলে পুরো প্রক্রিয়া লম্বা হয়ে যায়, ফলাফলের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়, আর এই নমনীয়তার দাম দিতে হয় নগদ টাকায়, পরীক্ষার ফি, বই, কোচিং সব মিলিয়ে খরচ এত বেড়ে যায় যে সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়। এসএসসি যেখানে প্রায় সবার জন্য সুলভ, ও লেভেলের নমনীয়তা সেখানে মূলত সামর্থ্যবানদের জন্যই বাস্তবসম্মত থেকে যায়।

তৃতীয় ধাক্কাটা স্বীকৃতি আর সমতুল্যতা নিয়ে। এসএসসি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানিক কাঠামোর সাথে এতটাই মিশে আছে যে জাতীয় পর্যায়ে এর মান নিয়ন্ত্রণ আর তুলনা করা সহজ। ও লেভেল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, বিদেশে পড়তে যাওয়ার সময় সুবিধা দেয়, কিন্তু বাংলাদেশের সরকারি চাকরি, কোটা বা কিছু ভর্তি প্রক্রিয়ায় এর সমতুল্যতা নির্ধারণ নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা হয়। আর ও লেভেলের নিজের ভেতরেই "কোনো পেনাল্টি নেই" প্রতিশ্রুতিটা সবজায়গায় খাটে না, সব প্রতিষ্ঠান বা দেশ দুই সেশনের রেজাল্ট সমানভাবে নেয় না, প্রতিযোগিতামূলক বিষয়ে প্রায়ই এক সেশনের শর্ত থাকে। মোটকথা, একটা যা দেয় (সাশ্রয় আর স্বীকৃতির স্থিরতা), অন্যটা ঠিক সেখানেই খামতি রাখে (নমনীয়তা আর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বিনিময়ে), আর কোনোটাই একা পূর্ণাঙ্গ সমাধান না।

শেষ পর্যন্ত দুটো সিস্টেমই একই জায়গায় পৌঁছাতে চায়, শিক্ষার্থীর যোগ্যতা যাচাই করা। শুধু পথ দুটো আলাদা। এসএসসি ধরে নেয় সবাই সমান, ও লেভেল ধরে নেয় সবাই আলাদা। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে লাখো লাখো শিক্ষার্থী একই কাঠামোর মধ্য দিয়ে যায়, ও লেভেলের নমনীয়তা সবার জন্য বাস্তবসম্মত না, খরচ আর প্রাপ্যতার কারণে। কিন্তু এসএসসি সিস্টেমেও যদি বিষয়ভিত্তিক নমনীয়তা বা মডিউলার মূল্যায়নের কিছুটা অংশ আনা যায়, তাহলে হয়তো একটা বিষয়ে হোঁচট খাওয়া লাখো মেধাবী ছেলেমেয়ের স্বপ্ন এত সহজে ভেঙে পড়বে না।

Article was written by me, data research was done using Claude. grammer and language checked checked by Claude. Image generated by ChatGPT

একটি AI যখন গণিতের ৫০ বছরের পুরনো ধাঁধা মাত্র ২০০০ ডলারে সমাধান করে ফেললযে সমস্যা বিশ্বের সেরা গণিতবিদরা কয়েক দশক ধরে স...
10/08/2026

একটি AI যখন গণিতের ৫০ বছরের পুরনো ধাঁধা মাত্র ২০০০ ডলারে সমাধান করে ফেলল

যে সমস্যা বিশ্বের সেরা গণিতবিদরা কয়েক দশক ধরে সমাধান করতে পারেননি, সেটা একটা AI সমাধান করে ফেলল মাত্র একটা ল্যাপটপের দামে, আর তাও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

শুনতে সায়েন্স ফিকশনের মতো লাগছে, তাই না? কিন্তু এটাই ঘটেছে গত সপ্তাহে, বাস্তবে।

গল্পের শুরু

২০২৬ সালের ১ আগস্ট, OpenAI একটা ঘোষণা দিল যা গণিতের জগতে রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছে। তাদের পরবর্তী বড় মডেল, যার নাম দেওয়া হয়েছে Astra, সেটার একটা অভ্যন্তরীণ (internal) সংস্করণ দিয়ে তারা গণিত ও থিওরেটিক্যাল কম্পিউটার সায়েন্সের দশটা এমন সমস্যার সমাধান করিয়েছে, যেগুলো বহু বছর ধরে কেউ সমাধান করতে পারেনি। আর সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, পুরো কাজটা করতে খরচ হয়েছে মাত্র প্রায় ২০০০ ডলার, মানে একটা মোটামুটি ভালো মানের ল্যাপটপের দামের সমান।

কেন এটা সাধারণ কোনো খবর নয়

আমরা প্রায়ই শুনি, কোনো AI মডেল কোনো পরীক্ষায় (বেঞ্চমার্কে) ভালো নম্বর পেয়েছে। কিন্তু এখানে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই জানা থাকে, শুধু মডেলকে সেটা খুঁজে বের করতে হয়। কিন্তু এবার Astra যেসব সমস্যা সমাধান করেছে, সেগুলোর উত্তর আগে থেকে কারো জানা ছিল না। এমনকি কেউ জানত না উত্তরটা আসলে সম্ভব কিনা।

এর মধ্যে একটা সমস্যা ছিল, নন-সোফিক গ্রুপ (non-sofic group) নামের একটা জিনিসের অস্তিত্ব প্রমাণ করা, যেটা গ্রুপ থিওরির একটা বড় খোলা প্রশ্ন ছিল। আরেকটা ছিল স্ফিয়ার-প্যাকিং ঘনত্বের নতুন সীমা বের করা। শুনতেই বোঝা যাচ্ছে, এগুলো সহজ কাজ নয়।

বিশ্বাস করব কীভাবে? প্রমাণ কোথায়?

এখানেই আসল মজার ব্যাপারটা। AI প্রায়ই এমন কথা বলে যেটা শুনতে সঠিক মনে হয়, কিন্তু আসলে ভুল হতে পারে। তাহলে এই দাবি বিশ্বাস করব কীভাবে?

OpenAI এই সমস্যাগুলো, যেভাবে সমাধান করা হয়েছে সেটা GitHub-এ প্রকাশ করেছে Lean নামের একটা ফরম্যাল ভাষায়, যেটা কম্পিউটার নিজে যাচাই করতে পারে। মানে, কোনো মানুষের কথায় বিশ্বাস করার দরকার নেই। যে কেউ চাইলে সেই প্রমাণ কম্পিউটারে চালিয়ে নিজে যাচাই করে নিতে পারবে, প্রতিটা ধাপ ঠিক আছে কিনা। এটা অনেকটা এমন, যেন কেউ বলল "আমার কথা বিশ্বাস করো" না বলে বলল "নাও, নিজে হিসাব করে দেখো।"

গণিতবিদরা কী বললেন

গল্পটা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে যখন দেখি, বিশ্বখ্যাত গণিতবিদরাও এটা যাচাই করেছেন। Timothy Gowers, যিনি গণিতের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার Fields Medal পেয়েছেন, তিনি বলেছেন, এই মডেলের একটা প্রমাণ তিনি বিনা দ্বিধায় Annals of Mathematics নামের সবচেয়ে সম্মানজনক জার্নালে প্রকাশের জন্য সুপারিশ করবেন। এই স্তরের একজন মানুষের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া, এককথায় অসাধারণ।

তাহলে এটা কি AGI, মানে সুপার-বুদ্ধিমান AI?

না। আর এটা বলাটা জরুরি। গণিত এমন একটা ক্ষেত্র, যেখানে নিয়ম পরিষ্কার এবং উত্তর যাচাই করা যায়। AI এই ধরনের কাঠামোবদ্ধ সমস্যায় স্বাভাবিকভাবেই ভালো করে। কিন্তু এর মানে এই না যে এই মডেল একটা শিশুও যা সহজে বোঝে, সেই সাধারণ জ্ঞানের কাজও পারবে। তাই এই খবরকে "AI এখন মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান হয়ে গেছে" বলে ভাবাটা ভুল হবে। বরং এটা বলা ঠিক হবে, AI এখন গণিতের গবেষণায় সত্যিকারের অবদান রাখতে পারে, যেটা নিজেই একটা বিশাল অর্জন।

এর মানে কী দাঁড়াল

এতদিন ধরে ধরে নেওয়া হতো, বড় বড় গাণিতিক আবিষ্কার শুধু প্রতিভাবান মানুষদের হাতেই সম্ভব। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কম্পিউটিং পাওয়ার আর টাকা থাকলে এই ধরনের গবেষণাও অনেকটা স্কেল করা সম্ভব। বছরের পর বছর যে সমস্যা মানুষকে আটকে রেখেছিল, সেটা এখন একটা ল্যাপটপের দামে সমাধান হয়ে যাচ্ছে। এর মানে এই না যে মানুষের গণিতবিদদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে, বরং তাদের কাজটা বদলে যাচ্ছে। কোন সমস্যা নিয়ে কাজ করা দরকার, ফলাফলের মানে কী, সেটা এখনো মানুষকেই ঠিক করতে হবে। AI এখন হয়ে উঠছে গবেষণার এক শক্তিশালী সহযোগী, প্রতিস্থাপক নয়।

08/05/2026

VIdeo টা দেখো কমেন্টে, আমি last month এ রকম আর ৩০টা ভিডিও বানাইসি ক্লায়েন্ট এর জন্য, paid— শুধু AI tools দিয়া!
কীভাবে করলাম? সহজ করে বলি:
১. Prompt ঠিকমতো লেখো
Prompt যত ভালো, output তত ভালো — এইটাই সব। একটু time দিয়া prompt fine-tune করলে AI অনেক বেশি কাজের জিনিস দেয়।
২. Architect এর মতো ভাবো
AI script লিখে দিতে পারবে, কিন্তু গল্পের flow টা তোমাকেই বুঝতে হবে। Planning stage এ AI ঢুকাও — time বাঁচবে, quality ও বাড়বে।
৩. এক tool এ আটকে থেকো না
Runway, Kling, Midjourney — সব tool এর আলাদা আলাদা strength আছে। Mix করো, নতুন visual style বের হয়ে আসবে।
৪. Lip sync এ ভুল করো না
এইটা অনেকে ignore করে। Descript বা HeyGen দিয়া ঠিকমতো sync করো — না হলে video টা দেখতে awkward লাগে।
৫. QA skip করো না
AI output মানেই perfect না। প্রতিটা video শেষে নিজে একবার চেক করো। Human eye এখনো best QA tool।
৬. Batch করো
একটা একটা করে বানাইলে সময় বেশি লাগে। একসাথে ৫-১০টার কাজ করো — efficiency অনেক বাড়বে।
৭. AI + তোমার creativity = আসল magic
AI কে creative space দাও, কিন্তু direction তোমার হাতে রাখো। এই balance টা পাইলে output দেখে নিজেই চমকাবা।
AI video production actually অনেক fun — শুধু workflow টা ঠিক করতে হবে। কেউ try করতে চাইলে জিগাও!

Address

Dhanmondi Road 8
Dhaka
1209

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tanvir's Tech Talk posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Tanvir's Tech Talk:

Shortcuts

Share