❑ গনিতের কিছু প্রাসঙ্গিক ইংরেজী শব্দঃ
Geometry-জ্যামিতি,
Point-বিন্দু্,
Line-রেখা,
Solid-ঘনবস্ত
Angle-কোণ,
Adjacent angle-সন্নিহিত কোণ,
Vertically opposite angles-বিপ্রতীপকোন,
Straight angles-সরলরেখা,
Right angle-সমকোণ,
Acute angle সূক্ষকোণ,
Obtuse angle- স্থুলকোণ ,
Reflex angle –প্রবিদ্ধ কোন,
Complementary angle-পূরক কোণ,
Supplementary angle-সম্পুরক কোণ,
Parallel line-সমান্তরাল রেখা,
Transversal-ছেদক,
Alternate angle-একান্তর কোণ,
Corresponding angle-অনুরূপ কোণ,
In-center – অন্ত-কেন্দ্র,
Circumcenter – পরিকেন্দ্র,
Centroid –ভরকেন্দ্র,
Orthocenter- লম্ববিন্দু,
Equilateral triangle-সমবাহু ত্রিভুজ,
Isosceles angle-সমদিবাহু ত্রিভুজ,
Scalene angle –বিষমবাহু ত্রিভুজ,
Right angled triangle- সমকোণী ত্রিভুজ,
Acute angled triangle-সূক্ষকোণী ত্রিভুজ,
Obtuse angled triangle-স্থুলকোণী ত্রিভুজ,
Congruent – সর্বসম,
Equiangular triangles-সদৃশকোণী ত্রিভুজ,
Quadrilateral- চতুভুজ,
Diagonal-কর্ণ,
Parallelogram- সামন্তরিক,
Rectangle-আয়তক্ষেত্র ,
Square-বর্গ, Rhombus-রম্বস,
Mensuration -পরিমিতি
Online Teaching Educayer/শিক্ষাদান
তোমার যদি এর স্বপ্ন দেখার সামর্থ্য থাকে , তবে তুমি তা বাস্তবায়নেরও যোগ্যতাও অবশ্যই রাখো।
27/04/2023
স্ত্রীর জটিল হিসাব
➖➖➖➖➖➖
এক স্বামী তার স্ত্রীর কাছ থেকে ২৫০ টাকা ধার নিল।
তার কিছুদিন পর আবার ২৫০ টাকা নিল। তার কিছুদিন পর স্ত্রী তার স্বামীর কাছে পাওনা টাকা চাইলো।
স্বামী জিজ্ঞেস করলো কতো হয়েছে?
স্ত্রী বলল ৪১০০ টাকা !
কিভাবে? স্বামী জিজ্ঞেস করল।
স্ত্রী খাতায় লিখে ঠিক এভাবেই হিসেব দিল
👇👇👇👇
২ ৫ ০ টাকা
+২ ৫ ০ টাকা
--------------------------------------
মোট- ৪ ১০ ০ টাকা
স্বামী হতবাক হয়ে ভাবতে লাগলো কোন স্কুলে পড়েছে কে জানে !
স্বামী বুদ্ধি খাটিয়ে ভেবে দেখল যে, ও যেভাবে গণিত শিখেছে ওকে সেভাবেই শোধ দিতে হবে।
সে ১০০ টাকা দিয়ে স্ত্রীকে দিয়ে জিজ্ঞেস করল আর কতো পাবে খাতায় হিসেব করে দেখাও।
স্ত্রী ঠিক আগের মতো হিসাব করল-
👇👇👇👇
৪ ১ ০ ০ টাকা
- ১ ০ ০ টাকা
------------------------
৪ টাকা
স্ত্রীকে ৪ টাকা দিয়ে বলল হিসাব বরাবর ! 🤣
দুজনেই এভাবে আনন্দিত হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে লাগল।
কিন্তু মাঝখান থেকে গণিতের মৃত্যু হয়ে গেল। 😉🤭🥱
27/04/2023
ভর্তি নিয়ে আলোচনা হয়নি’
গুচ্ছভুক্ত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে চলে এ সভা।
জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এ সভায় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাছিম আখতার, যুগ্ম আহ্বায়ক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদসহ আরও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
সভা বিষয়ে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ সভায় মূলত গুচ্ছের ভর্তির প্রক্রিয়ার সফটওয়্যারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গুচ্ছের কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি প্রক্রিয়ায় যে ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হবে; সেটার কাজের ধরন, আবেদনের ক্রম-প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে এ সূত্র জানিয়েছে, গুচ্ছের এ সভায় গুচ্ছের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। গুচ্ছের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। যা পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
জবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজকের সভায় গুচ্ছের টেকনিক্যাল বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে উপাচার্যদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সে সভায় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে গুচ্ছ কমিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা প্রক্রিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পুরো ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে চাচ্ছে গুচ্ছ ভর্তি কমিটি।
সূত্র জানিয়েছে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন ব্যতীত ভর্তির সুযোগ থাকছে না। শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় পছন্দক্রম অনুযায়ী মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ভর্তির সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, শুধুমাত্র এক আবেদনেই ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে। এজন্য প্রতি ইউনিট বাবদ ৫০০ টাকা লাগবে এবং ভর্তির সুযোগ পেলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি নিশ্চয়ন করতে হবে। ভর্তি নিশ্চয়ন ছাড়া কেউ ভর্তির সুযোগ পাবেন না।
একদিন শিক্ষক ক্লাসে আসলেন এবং বোর্ডে লিখলেন
৯×১=৭
৯×২=১৮
৯×৩=২৭
৯×৪=৩৬
৯×৫=৪৫
৯×৬=৫৪
৯×৭=৬৩
৯×৮=৭২
৯×৯=৮১
৯×১০=৯০
লেখা শেষ করে তিনি ছাত্রছাত্রীদের দিকে তাকালেন,
দেখলেন সবাই মিটিমিটি হাসছে..
তিনি বললেন, "আমি জানি তোমরা কেন হাসছো, আমি নামতার প্রথম লাইন ভুল লেখেছি।আমি প্রথম লাইন ভুল লেখেছি তোমাদেরকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখানোর জন্য"..
ছাত্র ছাত্রী আগ্রহের সাথে শুনছিলো..
শিক্ষক আবার বলা শুরু করলেন..
" দেখো, আমি নয়টা লাইন সঠিক লেখেছি।এজন্য তোমরা আমার প্রশংসা করোনি বা ধন্যবাদ ও দাওনি। অথচ একটা লাইন ভুল লেখেছি বলে হাসাহাসি করছো, সমালোচনা করছো"..
এটাই পৃথিবীর নিয়ম, এটাই বাস্তবতা। তুমি হাজারটা ভাল কাজ করো কেউ তোমার প্রশংসা করবে না, একটা সামান্য ভুল করে দেখো পুরো পৃথিবী মাইক নিয়ে নেমে পড়বে তোমার সমালোচনা করার জন্য।🙂
২০২৩ সাল থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম চালু হতে যাচ্ছে:
** এসএসসির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষা হবেনা।
** তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত থাকবেনা বার্ষিক পরীক্ষা।
** দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিজ্ঞান-মানবিক-বাণিজ্য বিভাজন থাকবেনা!
**এইচএসসি পরীক্ষার নাম ও ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে!
-শিক্ষামন্ত্রী!
26/01/2021
প্রথম আলোর নিউজ
১০ টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা
শুভংকর কর্মকার
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০৯: ৫৫
রাজধানীর বাড্ডায় নিজের প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে বাদশা গ্রুপের কর্ণধার মো. বাদশা মিয়া
রাজধানীর বাড্ডায় নিজের প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে বাদশা গ্রুপের কর্ণধার মো. বাদশা মিয়াছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
১৪ বছর বয়সের কিশোর। অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন। পরিবারে টানাটানি। সংসার চালাতে বাবাকে কিছুটা সহযোগিতা করতেই ১০ টাকা পকেটে নিয়ে মাদারীপুরের শিবচর থেকে লঞ্চে উঠে বসলেন। নারায়ণগঞ্জের কাঠপট্টি এলাকায় নেমে হেঁটে হেঁটে এলেন টানবাজারে। এলাকার পরিচিত এক বড় ভাইয়ের গদিতে উঠলেন। রাশি রাশি সুতার মধ্যেই দিলেন ঘুম। কয়েক দিন পর রব ভূঁইয়া নামের গদি থেকে এক বান্ডিল সুতা(১০ পাউন্ড) বাকিতে কিনে এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করলেন। তাতে মুনাফা হলো ৪ টাকা।
১৯৭৫ সালের সেই কিশোর আজকের মো. বাদশা মিয়া। নিজের চেষ্টা আর পরিশ্রমে গত ৪৬ বছরে বস্ত্র খাতের শীর্ষ রপ্তানিকারকদের একজন হয়েছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন বাদশা টেক্সটাইল, কামাল ইয়ার্ন, পাইওনিয়ার নিটওয়্যার ও পাইওনিয়ার ডেনিম নামের চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ময়মনসিংহের ভালুকা ও হবিগঞ্জে বাদশা মিয়ার চার কারখানায় কাজ করেন ২৫ হাজারের বেশি কর্মী। বার্ষিক লেনদেন ৪০ কোটি ডলারের বেশি, যা দেশীয় মুদ্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যার পুরোটাই সরাসরি বা প্রচ্ছন্ন রপ্তানি অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা। টানা পাঁচবার রপ্তানি ট্রফি পেয়েছে বাদশা টেক্সটাইল ও কামাল ইয়ার্ন।
বারিধারায় নিজের বাসভবনে ১৬ জানুয়ারি রাতে দেড় ঘণ্টার আলাপচারিতায় নিজের দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনের উত্থান-পতনের গল্প শোনালেন বাদশা মিয়া। বয়স ৬০ বছর হওয়ার পরও টগবগে তরুণের মতোই ব্যবসা সামলাচ্ছেন। পড়াশোনা শেষ করে তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দুই ছেলে কামাল উদ্দিন আহমেদ ও মহিউদ্দিন আহমেদ।
বাদশা মিয়ার ইচ্ছা, তিলে তিলে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান কয়েক শ বছর টিকে থাকুক। আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হোক। সে জন্য ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে করপোরেট সংস্কৃতির চর্চা গড়ে তুলছেন। তবে নেতৃত্বে সব সময় নিজেরা থাকতে চান। বললেন, বেশি বেশি আরাম-আয়েশ করলে প্রতিষ্ঠান ধসে পড়ে। প্রতিষ্ঠানকে টেকসই করতে হলে কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করতে হয়। এর বিকল্প কোনো বুদ্ধি নেই।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বাড্ডায় নিজের প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে বাদশা গ্রুপের কর্ণধার মো. বাদশা মিয়া
রাজধানীর বাড্ডায় নিজের প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে বাদশা গ্রুপের কর্ণধার মো. বাদশা মিয়াছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
টানবাজারের ‘বাদশা’
১৪ বছর বয়সে টানবাজারে আসার পর দ্রুতই ব্যবসা বাড়তে থাকে বাদশা মিয়ার। তখন সুতা বেচাকেনায় দালালি প্রথা ছিল। এক দোকানের সুতা অন্য দোকান বা ক্রেতার কাছে বিক্রি করে কমিশন মিলত। এক বেল সুতা(৪৮০ পাউন্ড) বিক্রি করতে পারলে ৭ টাকার মতো আয় হতো। তো প্রথম দিকে সুতার দালালি করে ভালো অর্থ উপার্জন করেন বাদশা মিয়া।
বাদশা মিয়া বললেন, ‘শুরুর দিকে আমার টাকাপয়সা ছিল না। গাজীপুরের কাশেম কটন মিলের নির্বাহী পরিচালক মঈনুল ইসলাম সাহেব আমাকে স্নেহ করতেন। ১-২ বেল সুতা আমার নামে বরাদ্দ দিতেন। সেই সুতা জয়দেবপুর পর্যন্ত গরুর গাড়িতে করে এনে বাসে ওঠাতাম। তারপর ফুলবাড়িয়া স্টেশন পর্যন্ত এসে বাস বদল করে নারায়ণগঞ্জে নিতাম। এভাবে বেশ কিছুদিন ব্যবসা করেছি।’
১৯৭৬ সালে পাইকারি সুতা বিক্রির লাইসেন্স করেন বাদশা মিয়া। টানবাজারে ভাড়ায় গদি নেন এবং কয়েক মাসের ব্যবধানে ভালো একটি জায়গায় সেটিকে স্থানান্তর করেন। তখন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) আশরাফ, জিনাত, মন্নু, অলিম্পিয়া, কাদেরিয়াসহ কয়েকটি বস্ত্রকল থেকে সরাসরি সুতা কিনে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি শুরু করেন। বিভিন্ন হাটেও সুতা বিক্রি করেছেন। বললেন, ‘বেশি মুনাফার আশায় টেক্সটাইল মিল থেকে সুতা নিয়ে সরাসরি হাটে হাটে দৌড়াতাম। আবার অনেক সময় রাতের বাসে বিভিন্ন জেলার বস্ত্রকলে চলে যেতাম। পরদিন বস্ত্রকল থেকে সুতাভর্তি ট্রাক নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফিরতাম।’
সুতার ব্যবসা করে ১৯৮২ সালের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে যান বাদশা মিয়া। ১৯৮৩ সালে একসঙ্গে চার-পাঁচটি বস্ত্রকলের সুতা বিক্রির একক এজেন্ট হোন। তখন একেকটি মিলে এজেন্ট হতে ৫০ লাখ টাকা জামানত দিতে হতো। এজেন্ট হওয়ার পর ব্যবসা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে তাঁর।
পোশাক কারখানায় সফল হওয়ার পর বস্ত্রকল করার দিকে মনোযোগ দিলেন বাদশা মিয়া। ভালুকায় ১০০ বিঘা জমির ওপর বস্ত্রকল শুরু করেন ২০০৩ সালে। ধীরে ধীরে সেটি আবার বড় হতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে হবিগঞ্জে আড়াই শ বিঘা জমির ওপর ডেনিম কাপড় উৎপাদনের কারখানা করেন। সেখানে তাঁর বিনিয়োগ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটীতে নিজের জমিতে ১৯৮৬ সালে পোশাক কারখানা করার পরিকল্পনা করেন। মেশিনপত্রও কিনে আনেন। শেষ পর্যন্ত সাহস করলেন না। মেশিনপত্র দিলেন বিক্রি করে। আবার দোকানদারিতেই মনোযোগ দিলেন। অবশ্য সেখানে টুস্টিং কারখানা মানে সুতা ডাবলিং বা মোটা করার কারখানা দেন। চাদর বুনতে সেই টুস্টিং সুতার ছিল বেশ কদর।
১৯৮৫ সালে ভাইদের নিজের ব্যবসায় নিয়ে আসেন। তখন কিছুটা স্থির হোন বাদশা মিয়া। পরের বছর ভারত থেকে তুলা আমদানি শুরু করেন। অবশ্য এর আগে সুতা আমদানিতে হাত পাকান বাদশা মিয়া। ধীরে ধীরে টানবাজারের ‘বাদশা’ অর্থাৎ বড় ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন বাদশা মিয়া। আসমা বেগমকে বিয়ে করেন। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় নিজের বাড়ি নির্মাণ হয়ে গেছে। টানা দুবার টানবাজারের সুতা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
জেদ করে পোশাকে, তারপর...
স্কয়ার টেক্সটাইলে প্রথম থেকেই সুতার এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা করেছেন বাদশা মিয়া। তার সূত্র ধরেই ১৯৯৭ সালে ঢাকায় পাকাপাকিভাবে চলে আসেন। ১৯৯৯ সালে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটীতে ৪০০ মেশিন দিয়ে সোয়েটার কারখানা করলেন। অবশ্য ১০ বছর পর সেটিকে ভালুকায় স্থানান্তর করেন। বর্তমানে কারখানায় মেশিনের সংখ্যা ২ হাজার। কাজ করেন ১৫ হাজার শ্রমিক।
সুতার ব্যবসায় হাত পাকিয়ে বস্ত্রকল করার আগে পোশাকশিল্পে আসার পেছনের কারণ বললেন বাদশা মিয়া। সেটি শুনুন তাঁর মুখেই, ‘পোশাক খাতের পশ্চাৎমুখী শিল্পে ধীরে ধীরে মুনাফা কমে আসতে থাকে। তা ছাড়া পোশাক কারখানার মালিকেরা অধিকাংশই সুতার দাম সময়মতো পরিশোধ করতেন না। সে জন্য একরকম জেদ করেই পোশাক কারখানা করে ফেলি।’
পোশাক কারখানায় সফল হওয়ার পর বস্ত্রকল করার দিকে মনোযোগ দিলেন বাদশা মিয়া। ভালুকায় ১০০ বিঘা জমির ওপর বস্ত্রকল শুরু করেন ২০০৩ সালে। ধীরে ধীরে সেটি আবার বড় হতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে হবিগঞ্জে আড়াই শ বিঘা জমির ওপর ডেনিম কাপড় উৎপাদনের কারখানা করেন। সেখানে তাঁর বিনিয়োগ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
পোশাকের মতো বস্ত্রকলে বিনিয়োগ করার পেছনেও গল্প আছে। বাদশা মিয়া বললেন, ‘ব্যবসা করতে গিয়ে দেখলাম আমরা সুতা বেচে পাই ২ আনা, আর মিলমালিকেরা পান ২ টাকা। তা ছাড়া তখনকার সময়ের সব কটি টেক্সটাইল মিলে ঘুরেছি। তুলা থেকে সুতা উৎপাদনের প্রতিটি স্তর আমার প্রায় মুখস্থ...।’ তবে আসল কারণটা বললেন অনেক পরে, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল শিল্প গড়ব। সেখানে অনেক লোক কাজ করবেন। আমি সব সময় আমার স্বপ্নের পেছনে ছুটেছি।’
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বাড্ডায় নিজের প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে বাদশা গ্রুপের কর্ণধার মো. বাদশা মিয়া
রাজধানীর বাড্ডায় নিজের প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে বাদশা গ্রুপের কর্ণধার মো. বাদশা মিয়াছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
ব্যবসাজীবনে হোঁচট
দীর্ঘদিন ধরেই তুলার বড় আমদানিকারক বাদশা মিয়া। ২০১০ সালে ভারতসহ কয়েকটি দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তুলা আমদানির চুক্তি করেন। তার পরপরই তুলার দাম বেশ বেড়ে যায়। ভারতের রপ্তানিকারকেরা তুলা না দিয়ে চুক্তিভঙ্গ করলেন। সে সময় সুইজারল্যান্ডের এলডিসি নামের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ঢাকায় এসে বাদশা মিয়াকে বললেন, তুলা দিতে পারবেন না। তবে দাম যেটুকু বেড়েছে, সেই অর্থ দেবেন। বাদশা মিয়া রাজি হয়ে যান। দুই দিনের মধ্যে ৬০ লাখ ডলার ব্যাংকে চলে এল।
আমি হলাম কামলা(খেটেখাওয়া) মানুষ। কারখানায় কাজ করতেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিনের জন্য হলেও ভালুকা বা হবিগঞ্জে কারখানায় গিয়ে থাকি।’ অবসর কী করেন জানতে চাইলে বললেন,
বাদশা গ্রুপের কর্ণধার মো. বাদশা মিয়া
তুলা না পেলেও আর্থিকভাবে লাভবান হলেন বাদশা মিয়া। তবে পরের বছরই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন। প্রতি পাউন্ড তুলা ১ ডলার ৯০ সেন্টে চুক্তি করেছেন। দেশে আসতে আসতে বিশ্ববাজারে তুলার দাম ১ ডলারের নিচে নেমে গেল। দাম পড়ে গেল সুতার। পাক্কা ৩০০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়লেন। এটিই তাঁর জীবনের বড় হোঁচট।
বাদশা মিয়া বললেন, ‘সে সময় চুক্তি অনুযায়ী সুতা না নিয়ে আন্তর্জাতিক কটন অ্যাসোসিয়েশনের কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান। তবে নিশ্চিত বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়লেও আমি চুক্তি অনুযায়ী তুলা নিয়েছি। ব্যাংকের কাছেও ঋণখেলাপি হইনি। আসলে ঋণখেলাপি আমার ব্যবসায়িক জীবনের ডিকশনারিতে নেই।’
মাঝরাতে ছোটেন কারখানায়
বাদশা মিয়া ৬০ বছর বয়সে এসেও দিনে ১৬ ঘণ্টার মতো কাজ করেন। রাতে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান। প্রায়ই মাঝরাতে ভালুকা বা হবিগঞ্জে চলে যান। সুতা ও ডেনিম কারখানায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই উৎপাদন হয়। পুরো কারখানা চক্কর দেন। উৎপাদন দেখেন। তারপর ঘুমাতে যান।
হাসতে হাসতে বাদশা মিয়া বলেন, ‘আমি হলাম কামলা(খেটেখাওয়া) মানুষ। কারখানায় কাজ করতেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিনের জন্য হলেও ভালুকা বা হবিগঞ্জে কারখানায় গিয়ে থাকি।’ অবসর কী করেন জানতে চাইলে বললেন, ‘অবসরেও কাজ করতে পছন্দ করি। ব্যবসার প্রয়োজনে বিদেশে গেলেও দেশেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’
কারখানার আশপাশে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করেন বাদশা মিয়া। কারখানার কাজের ফাঁকে সেখানে সময় কাটান। তাঁর ইচ্ছা, ছেলেদের হাতে ব্যবসার সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চাষবাসে (বাদশা মিয়ার ভাষায় খেতখামারি) মনোযোগ দেবেন।
জীবনে কোনো অতৃপ্তি নেই
রাত বাড়ছে। আলাপচারিতায় ইতি টানতে হবে। বাদশা মিয়ার কাছে আমরা জানতে চাই, আপনার জীবনে কি কোনো অতৃপ্তি আছে? বললেন, ‘বাবার কাপড়ের ব্যবসা ছিল। আমাদের বাড়িতে তাঁত ছিল। ফলে ছোটবেলা থেকেই সুতা ও কাপড়ের সঙ্গে সম্পর্ক। স্বাধীনতার পর আমরা আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে যাই। সে কারণেই পড়ালেখা বাদ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আসতে হয়েছিল।’
বাদশা মিয়া বললেন, ‘আসছি কোথা থেকে? অজপাড়া গাঁ থেকে উঠে এসে শিল্পকারখানা করেছি। হাজার হাজার মানুষের রুটিরুজির ব্যবস্থা করেছি। আজকের পর্যায়ে আসার পর আমার কোনো অতৃপ্তি নেই। আর কী অতৃপ্তি থাকতে পারে, আপনিই বলেন।’
আলাপের ফাঁকে হঠাৎ কয়েক লাইন আবৃত্তি করলেন বাদশা মিয়া‘প্রথম যেদিন তুমি এসেছিলে ভবে, কেঁদেছিলে তুমি একা, হেসেছিল সবে। এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরণে হাসিবে তুমি, কাঁদিবে ভুবন।’ বললেন, ‘ছোটবেলা থেকে এই কথাগুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। সেভাবেই জীবনটা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। জানি না কতটুকু পেরেছি...।’
বিজ্ঞাপন
তরুণদের জন্য পরামর্শ
বাদশা মিয়ার প্রতিষ্ঠানে যাঁরাই কাজ করতে আসেন, তাঁদের প্রথমে কয়েক মাসের জন্য কারখানায় পাঠিয়ে দেন। সেখানে হাতেকলমে প্রশিক্ষণের পর মূল পদে বসানো হয়। বাদশা মিয়া বললেন, ‘আমরা কী পণ্য, কীভাবে বানাই, সেটিই যদি না জানে তাহলে কীভাবে চলবে। সে জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যেক কর্মীকে কারখানায় প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাই।’
তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে এই ব্যবসায়ীর পরামর্শ, প্রথমে কাজ শিখতে হবে। তারপর সেই কাজের সঙ্গে লেগে থাকতে হবে। তাহলেই সফল হওয়া যাবে। সততা, কঠোর পরিশ্রম ও পণ্যের মানে আপস না করার কারণেই আজকের পর্যায়ে আসতে পেরেছেন বলে মনে করেন বাদশা মিয়া।
আমি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই। তারপর সেই মানুষকে ভয় পাই যে আল্লাহকে মোটেই ভয় পায় না।
_শেখ সাদী
10/12/2020
Ok” শব্দটি আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি । কিন্তু এর মজার ব্যবহার সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই। “Ok” কখনো Exclamation প্রকাশ করে এবং কখনো Noun, Adjective , Verb,এবং Adverb হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। তাই, শিক্ষার্থীদের “Ok”র এই বিচিত্র ব্যবহার গুলি সম্পর্কে অবশ্যই জেনে রাখা দরকার।
“একজন মানুষ এখন কতটা উপরে আছে, তা দিয়ে আমি তার সাফল্য মাপি না। একদম নিচে পড়ে যাওয়ার পর সে নিজেকে কতটা ওপরে তুলতে পারে – সেটাই আসল কথা।”
– জর্জ এস, প্যাটন (২য় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকান সেনাবাহিনীর জেনারেল)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka