The Great Bangladesh

The Great Bangladesh

Share

We share positive vibes and the latest good news to help people start the day informed and inspired. Stay connected with us!

Content comes from newspapers, books, and magazines, with sources always cited.

01/08/2026

বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক ( এডি ) পদটি দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরি হিসেবে পরিচিত । ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত সহকারী পরিচালক পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৫ হাজার ১৪৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন । উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৭ আগস্ট । এই পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারলে চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায় । লিখিত পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য কার্যকর প্রস্তুতির কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক সুমন সেন ।
ফোকাস রাইটিং

এই পরীক্ষায় বাংলা ফোকাস রাইটিংয়ে ৩০ ও ইংরেজি ফোকাস রাইটিংয়ে ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকে । সমসাময়িক বৈশ্বিক বা বাংলাদেশ - সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজিতে একটি করে ফোকাস রাইটিং লিখতে হয় । ফোকাস রাইটিং নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে , যেমন টাইটেল লিখতে হবে কি না , কতটুকু লিখতে হবে , পয়েন্ট আকারে লেখা যাবে কি না কিংবা ভূমিকা ও উপসংহার থাকবে কি না । টাইটেল অবশ্যই লিখতে হবে । লেখার দৈর্ঘ্য নির্ভর করবে পরীক্ষার সময় এবং উত্তরপত্রে বরাদ্দ স্থানের ওপর । নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব তথ্যসমৃদ্ধ ও সুসংগঠিত লেখা উপস্থাপন করার চেষ্টা করতে হবে । ফোকাস রাইটিং পয়েন্ট

আকারে কিংবা অনুচ্ছেদ

ছবি : মাহতাব হোসেন

সুমন সেন

সহকারী পরিচালক , বাংলাদেশ ব্যাংক

আকারে লেখা যায় । তবে শুরুতে ‘ ভূমিকা ’ এবং শেষে ‘ উপসংহার ’ শব্দ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই । এই অংশে ভালো করতে হলে নিয়মিত জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকীয় ও মতামত বিভাগ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে । সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ডি - ডলারাইজেশন , পঞ্চম শিল্পবিপ্লব , ব্যাংকিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার , ফ্রি ট্রেড জোন , স্মার্ট বাংলাদেশ , ডিজিটাল ব্যাংক , সাইবার নিরাপত্তা , বিভিন্ন মেগা প্রকল্প , রাশিয়া - ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব , মুদ্রাস্ফীতির কারণ ও নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা , সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দা ও বাংলাদেশের করণীয় , ব্যাংকিং খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনলাইন ব্যাংকিং । বাংলা ও ইংরেজি ফোকাস রাইটিংয়ের জন্য একই প্রস্তুতি অনুসরণ করা যেতে পারে ।

সাধারণ জ্ঞান

এই অংশে ১০ নম্বরের জন্য সাধারণত ৫ থেকে ১০ টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকে এবং সব প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয় । প্রশ্নগুলো সাধারণত বিভিন্ন ব্যাংকিং টার্ম ( যেমন BACH , BACPS , NPSB , BEFTN , MICR ) , সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা , অর্থনৈতিক সংকট ,

,

মেগা প্রকল্প , খেলাধুলা , জলবায়ু , ভূগোল , তথ্যপ্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ( যেমন SWIFT , SOFR , LIBOR ) থেকে আসে । ভালো

Organizational Beac

প্রস্তুতির জন্য এসব বিষয় নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে । পাশাপাশি পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় ।

গণিত

এই অংশে ৩০ নম্বরের জন্য সাধারণত ৫ টি প্রশ্ন থাকে এবং প্রতিটি প্রশ্নের মান ৬। প্রশ্নের মান এসএসসি পর্যায়ের হলেও প্রশ্ন প্রণয়ন করবে আইবিএ । তাই সবার আগে আইবিএ পরিচালিত পূর্ববর্তী পরীক্ষার গণিত প্রশ্ন ভালোভাবে অনুশীলন করা উচিত । এরপর তাদের পছন্দের অধ্যায় ; যেমন শতকরা , লাভ - ক্ষতি , সময় ও কাজ , সময় - দূরত্ব - গতিবেগ , অংশীদারত্ব , মিশ্রণ , সেট , সংখ্যাপদ্ধতি ও পরিমিতি থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে ।

অনুবাদ

এই অংশে ২০ নম্বরের একটি বাংলা অনুচ্ছেদ ইংরেজিতে অনুবাদ করতে হয় । ভালো করার জন্য নিয়মিত অনুবাদের অনুশীলনের বিকল্প নেই । জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকীয় বা মতামত বিভাগ থেকে অনুবাদ চর্চা করা যেতে পারে । অনুবাদের ক্ষেত্রে শাব্দিক অনুবাদ না করে ভাবানুবাদের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত । অ্যানালিটিক্যাল রিজনিং ও অন্যান্য এই অংশে ৪০ নম্বর থাকে এবং আইবিএ এখানে নতুন ধরনের প্রশ্ন দিতে পারে ; যেমন পাজল , ক্রিটিক্যাল রিজনিং , আরগুমেন্ট রাইটিং , এসেই ( যেমন : ট্রি , হ্যাপিনেস , আ টিপিক্যাল ডে ইন ২০২৫ ইত্যাদি ) । পাজল ও ক্রিটিক্যাল রিজনিংয়ের জন্য জিআরই বিগ বুক এবং জিম্যাট অফিশিয়াল গাইড থেকে অনুশীলন করলেই যথেষ্ট । পাশাপাশি থিমেটিক রাইটিং , এসেই ও আরগুমেন্ট রাইটিংয়ের জন্য ইউটিউব বা অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে লেখার সঠিক কাঠামো শিখে নিয়মিত অনুশীলন করলে ভালো নম্বর অর্জন করা সম্ভব ।

বাংলা ব্যাকরণ

এই অংশে ১০ নম্বর থাকবে । সাধারণত বানান , বাক্যশুদ্ধি , প্রবাদ - প্রবচন , কারক , সমাস , সন্ধি , এককথায় প্রকাশ এবং প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ থেকে প্রশ্ন আসে । বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রকাশিত যেকোনো মানসম্পন্ন বাংলা গাইড থেকে উল্লিখিত বিষয়গুলো প্রস্তুতি নিলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব ।

ইংরেজি ব্যাকরণ

এই অংশে ২০ নম্বর থাকে । প্রশ্ন আসে সেনটেন্স স্ট্রাকচার , সাবজেক্ট - ভার্ব অ্যাগ্রিমেন্ট , ফাইনাইট অ্যান্ড নন - ফাইনাইট ভার্ব , ট্রান্সফরমেশন , ন্যারেশন / স্পিচ , ক্লজ অ্যান্ড ফ্রেজ , গ্রুপ ভার্বস , ইডিয়মস , রাইট ফর্ম অব ভার্ব । এই অংশের জন্য পিসি দাসের ইংরেজি গ্রামার বই অনুসরণ করা যেতে পারে ।

ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ব্যাংকিং নলেজ এই অংশে ভালো নম্বর পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলি , মনিটারি পলিসি , ব্যাংকিং টার্মস , ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস , ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটস , ব্যাংকিং আইন এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং ইস্যুগুলোকে অগ্রাধিকার দিন । প্রতিদিন একটি জাতীয় দৈনিকের অর্থনীতি পাতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার ও রিপোর্ট অনুসরণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন । শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ না করে প্রতিটি বিষয়ের ধারণা , প্রয়োগ ও সাম্প্রতিক উদাহরণসহ লিখতে অনুশীলন করুন । পাশাপাশি পূর্ববর্তী বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইবিএ পরিচালিত লিখিত পরীক্ষার ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ব্যাংকিং নলেজ - সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো নিয়মিত সমাধান করলে এই অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব ।

গ্রন্থনা : আনিসুল ইসলাম নাঈম
সোর্স আজকের পত্রিকা

01/08/2026

সেলস অপারেশনে সফল হবেন যেভাবে

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

সেলস অপারেশন মানেই কি শুধু এক্সেল শিটের হিসাবনিকাশ , রিপোর্ট তৈরি বা তথ্য রাখা ? অনেকে তাই মনে করেন । বাস্তবে এই বিভাগের কাজ সংখ্যার গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে যায় । একজন দক্ষ সেলস অপারেশন পেশাজীবী শুধু ডেটা বিশ্লেষণ করেন না , মাঠে কাজ করা সেলস টিমের পথও সহজ করে দেন । দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া , সময় বাঁচানো এবং বিক্রির গতি বাড়ানোর পেছনে তাঁর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

তথ্য নয় , কার্যকর উপস্থাপন দরকার সেলস টিমকে কোনো হিসাবনিকাশ বা বিশ্লেষণ পাঠানোর সময় সেটি শুধু একটি এক্সেল ফাইলে পাঠিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না । তথ্য এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে , যাতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একজন সেলস কর্মী বুঝে নিতে পারেন তাঁর অবস্থান । প্রয়োজনে এআই ব্যবহার করে তথ্যকে জেপিইজি বা পিডিএফ ফরম্যাটে সহজ রূপ দেওয়া যেতে পারে । মাঠে কাজ করা মানুষের জন্য সহজবোধ্য ভিজ্যুয়ালই সবচেয়ে কার্যকর ।

মাঠের বাস্তবতা বুঝতে হবে

সেলস টিমের কর্মীরা দিনের বেশির ভাগ সময় কাটান মাঠে , অর্থাৎ গ্রাহকের ধারে ধারে । রোদ , বৃষ্টি , যানজটের মধ্যে তাঁদের কাজ করতে হয় । তাই তাঁরা সব সময় এক্সেল বা জটিল রিপোর্ট বিশ্লেষণের সুযোগ পান না । সেলস অপারেশনের দায়িত্ব হলো , যেকোনো ফরম্যাটে পাওয়া তথ্যকে সহজ , পরিষ্কার ও ব্যবহারযোগ্য করে তাঁদের সামনে তুলে ধরা । The Great Bangladesh

সময়মতো কাজই বড় শক্তি

এই পেশায় সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ । যদি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে কোনো তথ্য প্রয়োজন হয় , তাহলে মাসের শুরু থেকে সংশ্লিষ্টদের মনে করিয়ে দেওয়া উচিত । অন্য কোনো প্রয়োজনে ফোনে কথা হলেও ডেটার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায় । ছোট এই অভ্যাস বড় ধরনের বিলম্ব কমিয়ে দেয় ।

সহযোগিতাই পেশাদারত্ব

সেলস অপারেশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাপোর্টিভ

মানসিকতা । কোনো সেলস সদস্য বা আরএসএম তথ্য চাইলে ‘ এটি আমার কাজ নয় ’ কিংবা ‘ আমি জানি না ' — এ ধরনের উত্তর পেশাদারত্বের পরিচয় দেয় না । উত্তর জানা না থাকলে খুঁজে বের করতে হবে । প্রয়োজন হলে অন্যের কাছ থেকে জেনে জানাতে হবে । একজন দক্ষ সেলস অপারেশন কর্মী আসলে প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমস্যা - সমাধানকারী ।

অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে

কর্মজীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে , যেগুলো আমাকে নতুন করে শিখিয়েছে । ডেকো ফুডস লিমিটেডে কাজ করার সময় একজন সেলস সদস্য বারবার ফোন করে বলছিলেন , তাঁর টার্গেট বেশি দেওয়া হয়েছে । বিষয়টি তখনকার জিএম সালাউদ্দিন স্যারকে জানাই । পরে মজা করে সহকর্মীকে বললাম , ‘ স্যার বলেছেন , টার্গেট নিয়ে যতবার ফোন দেবেন , তত লাখ করে বাড়বে । ’ কথাটি শুনে তিনি আর টার্গেট নিয়ে ফোন করেননি । তখন বুঝেছিলাম , সব সমস্যার সমাধান কঠোর ভাষায় হয় না । কখনো কখনো রসবোধও দারুণ কার্যকর । আরেকবার একজন সেলস সদস্য জানতেন , ক্যালকুলেশন ঠিকই হয়েছে । তারপরও নিজের যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিলেন । তখন বললাম , ' আপনি আমার বসকে মেইল করে লিখুন , আমি ক্যালকুলেশনে ভুল করেছি । মেইলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে রাখবেন । ' এরপর আর তিনি বিষয়টি এগিয়ে নেননি । কারণ তিনিও জানতেন , হিসাবে কোনো ভুল ছিল না ।

ধৈর্যই সবচেয়ে বড় দক্ষতা

সেলস অপারেশনে কাজ করতে গেলে নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় । কোথাও চাপ , কোথাও অভিযোগ , কোথাও ভুল বোঝাবুঝি । এসব সামলাতে প্রয়োজন ধৈর্য , আত্মবিশ্বাস ও পেশাদারত্ব । ব্যক্তিগত অহং , ‘ আমি কেন করব ’ কিংবা ‘ এটা আমার দায়িত্ব নয় ’ – এই মানসিকতা নিয়ে এই পেশায় সফল হওয়া কঠিন ।

সর্বশেষ একটি বিষয় সব সময় মনে রাখা প্রয়োজন ; প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব তৈরি করে সেলস টিম । ব্যাক অফিসের দায়িত্ব হলো সেই টিমকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া । সেলস অপারেশনের সাফল্যও সেখানেই । আমি কোর সেলস এবং সেলস অপারেশন — দুই ক্ষেত্রেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছি । এই লেখার প্রতিটি উপলব্ধি সেই বাস্তব অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন ।

সোর্স আজকের পত্রিকা

Photos from The Great Bangladesh's post 01/08/2026

১ আগস্ট, বণিকবার্তা

Photos from The Great Bangladesh's post 01/08/2026

১ আগস্ট, প্রথমআলো

01/08/2026

চুরি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় প্রত্যাহার বাংলাদেশিদের ৩২৫ গবেষণাপত্র
01/08/2026


আহমেদ উল্যা ইউসুফ, ঢাকা

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের একজন অধ্যাপকের নাম মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান। তিনি নিজেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষক বলেও দাবি করেন।

অবশ্য কয়েকটি সুপরিচিত জার্নাল বা সাময়িকী মনিরুজ্জামানের ২৬টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করেছে। এসব গবেষণার ছয়টিতে তিনি মূল লেখক এবং বাকিগুলোতে সহলেখক ছিলেন। জার্নালগুলো বলছে, ভুয়া বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন যোগ করা, তথ্যের অসংগতি, চৌর্যবৃত্তিসহ নানা অনিময়ের অভিযোগে গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহার করেছে তারা।

মনিরুজ্জামান খান শুধু একটি উদাহরণ। প্রথম আলো ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন সময়ে প্রত্যাহার হওয়া অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্রের খোঁজ পেয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গবেষকের সংযুক্তি রয়েছে।

বিশ্বের যেকোনো দেশের গবেষকদের ক্ষেত্রে গবেষণাপত্র জার্নাল বা সাময়িকীতে প্রকাশ করা বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক জগতের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। জার্নালে প্রকাশের মাধ্যমে গবেষক আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাজের মেধাস্বত্ব ও একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করেন। বিশ্বখ্যাত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ পেলে তা গবেষকদের মর্যাদা বাড়ায় এবং শিক্ষকতার ক্ষেত্রে পদোন্নতিতেও ভূমিকা রাখে।

গবেষকেরা বলছেন, কোনো দেশের একের পর এক গবেষকের গবেষণা প্রত্যাহার হলে তা ওই দেশের গবেষকদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে ফেলে। নতুন গবেষণা সুপরিচিত জার্নালে প্রকাশ কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্বজুড়ে একজন গবেষকের গবেষণার মান ও প্রভাব মূল্যায়ন করা হয় মূলত তাঁর কাজকে অন্য গবেষকেরা কতবার উদ্ধৃত (সাইটেশন) করেছেন, সেটার ভিত্তিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব (জিওলজি) বিভাগের অধ্যাপক কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদের প্রায় ৪৫০টি গবেষণা প্রায় ২০ হাজার বার উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, একেকটি গবেষণা প্রত্যাহারের ঘটনা ফুটবল মাঠের একেকটি লাল কার্ডের মতো। বাংলাদেশিদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের সংখ্যা এখন উদ্বেগজনক।

কীভাবে খোঁজ

গবেষণাপত্রের বিষয়ে অভিযোগ উঠলে সাধারণত বিশ্বের বেশির ভাগ প্রকাশনা সংস্থা কমিটি অন পাবলিকেশন এথিকসের (কোপ) নীতিমালা অনুসরণ করে সেটা সমাধান করে। কোপ একটি অলাভজনক সংস্থা, যা মূলত গবেষণাপত্রের নীতিগত মান এবং সততা বজায় রাখতে কাজ করে। প্রথমে প্রকাশনা সংস্থার সম্পাদক অভিযোগের

চুরি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় প্রত্যাহার বাংলাদেশিদের ৩২৫ গবেষণাপত্র
প্রথম পৃষ্ঠার পর

প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করেন। প্রাথমিক প্রমাণ পেলে গবেষকের কাছে মূল তথ্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে সাময়িকী বা প্রকাশক কর্তৃপক্ষ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে। জালিয়াতি গুরুতর হলে গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের (রিট্রাকশন) ঘোষণা দেওয়া হয়।

এসব ঘোষণার খোঁজ রেখে তালিকা প্রকাশ করে রিট্রাকশন ওয়াচ নামের একটি ওয়েবসাইট। প্রত্যাহারকৃত বাংলাদেশি গবেষণার তথ্য সংগ্রহে রিট্রাকশন ওয়াচের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজেরা ঘেঁটে এই ৩২৫টি গবেষণা পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, এটাই চূড়ান্ত সংখ্যা নয়। আরও গবেষণা প্রত্যাহার হয়ে থাকতে পারে।

এই প্রতিবেদনে একই গবেষণাপত্রে একাধিক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বা গবেষকের নাম থাকলেও মোট হিসাবের ক্ষেত্রে সেটি একবার গণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে এলসেভিয়ার, স্প্রিঞ্জার নেচার, উইলি, হিন্দাউই, আইইইইর মতো জার্নাল থেকেই বেশি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহার করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সবচেয়ে বেশি এসেছে পিয়ার রিভিউ (বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন) প্রক্রিয়ায় কারচুপি, তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি, প্লেজিয়ারিজম (চৌর্যবৃত্তি), একই তথ্য পুনর্ব্যবহার এবং অপ্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি দিয়ে সাইটেশন (উদ্ধৃতি-সংখ্যা) বাড়ানোর অভিযোগ। কিছু গবেষণায় অর্থের বিনিময়ে লেখকস্বত্ব বেচাকেনার বাণিজ্যিক চক্র জড়িত (পেপার মিলের) থাকার কথাও চিহ্নিত করেছেন প্রকাশকেরা।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩২৫টি গবেষণার মধ্যে ৪৪টিতে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, ৪২টিতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ৩২টিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ২১টিতে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি (ইউআইইউ) এবং ২০টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নাম রয়েছে।

অন্যদিকে ১১টি করে গবেষণায় নাম আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (১০), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১০), বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি (১০), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (৭), গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (৬) গবেষকেরাও রয়েছেন এই তালিকায়।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মনিরুজ্জামান খানের যেসব গবেষণা প্রত্যাহার হয়েছে, সেগুলো ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল। আর প্রত্যাহারের হয় ২০২৩ সালে। প্রত্যাহার হওয়া প্রতিটি গবেষণাপত্রেই সৌদি আরবের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সহলেখক হিসেবে ছিলেন।

বাংলাদেশি একাধিক গবেষক বলছেন, বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নতির জন্য সৌদি আরব গবেষকদের আর্থিক সুবিধা দিত। এতে বিভিন্ন দেশের গবেষকেরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে গবেষণা প্রকাশ শুরু করেন। যদিও গবেষণার মান বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফলে ২০২০ সালের পর থেকে সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়।

এদিকে ২৬টি গবেষণা প্রত্যাহারের ঘটনায় নিজের দায় অস্বীকার করে উল্টো প্রকাশকদের দায়ী করেছেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান। গত ২ জুলাই মুঠোফোনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে অধ্যাপক মনিরুজ্জামান শুরুতে নিজেকে বিশ্বসেরা গবেষকদের একজন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘একাধিক পর্যালোচকের মূল্যায়ন ও সংশোধনের পরই গবেষণাগুলো প্রকাশিত হয়েছিল।’

গবেষণা প্রত্যাহারের সময় প্রকাশকেরা গবেষকদের বক্তব্য জানতে চান। তেমনটি হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা মতামত দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রকাশকেরা গুরুত্ব দেয়নি।’

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেড় বছরের ব্যবধানে মনিরুজ্জামান ও তাঁর সহযোগী শিক্ষার্থীরা অন্তত ৮০টি গবেষণা প্রকাশ করেছিলেন। এত অল্প সময়ে কীভাবে এত গবেষণা প্রকাশ করা যায়, তা নিয়ে নিজের অনুষদে সন্দেহের মুখে পড়েছিলেন মনিরুজ্জামান।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদপ্রধান অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসাইন গত ২ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, ‘এতগুলো গবেষণা একসঙ্গে প্রকাশ হয়েছিল আন্তর্জাতিক প্রকাশনায়। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেও অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তখনই আমরা মনিরুজ্জামানকে সতর্ক করে দিই।’

যদিও এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ নেয়নি। গবেষণা প্রকাশের ক্ষেত্রে লেখক কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেটা উল্লেখ করতে হয়। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত লেখকদের গবেষণা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী থেকে একের পর এক প্রত্যাহার হয়েছে। প্রথম আলোর অনুসন্ধান বলছে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত লেখকদের গবেষণা প্রত্যাহারের সংখ্যা ৪২। গবেষকদের কেউ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কেউ অতিথি গবেষক।

প্রত্যাহৃত এসব গবেষণার আটটির সঙ্গে যুক্ত মুনতাসির মোরশেদ। তিনি নর্থ সাউথের পাশাপাশি ড্যাফোডিলকেও সংযুক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন। যদিও তিনি কর্মরত বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা ফেলো হিসেবে।

মুনতাসির মোরশেদ গত ৬ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতি ভালোবাসা’র কারণে তিনি তাদের নাম দিয়েছেন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং ড্যাফোডিলের ‘অতিথি গবেষক’। তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক কী কারণে গবেষণাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেটা আমি পরিষ্কার নই।’

মুনতাসির মোরশেদের প্রত্যাহার হওয়া আটটি গবেষণা পাঠানো হলে এই ঘটনাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ উল্লেখ করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক এনামুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পদক্ষেপ নেব।’

ছিল প্রণোদনা ও পুরস্কার

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন গবেষকের অন্তত ৪৪টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রত্যাহার হওয়া ব্যক্তিদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়টির ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক মমিনুর রহমান। তাঁর সাতটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটিতে তিনি মূল লেখক এবং দুটি গবেষণায় সহলেখক ছিলেন।

গবেষণাগুলোর বিষয় ছিল ক্যানসার, ন্যানোমেডিসিন, আলঝেইমার রোগ, কোভিড-১৯ এবং সামুদ্রিক উপাদান থেকে ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা ইত্যাদি। বিশ্বের অন্যতম বড় গবেষণা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্প্রিঞ্জার ও এলসেভিয়ার তাদের তদন্তে উল্লেখ করেছে, গবেষণাগুলোয় নানা অনিয়ম খুঁজে পাওয়ায় সম্পাদকীয় বোর্ড গবেষণাগুলোর বৈজ্ঞানিক ফলাফলের ওপর আস্থা হারিয়েছে।

মমিনুরের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ড্যাফোডিলের ফার্মেসি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গবেষকদের বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। গবেষণার মানের ভিত্তিতে একজন গবেষক ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পান। এ ছাড়া বিশেষ অবদানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা এবং প্রতিবছর অনুষদ ও বিভাগভিত্তিক ‘বেস্ট রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।

যাঁদের গবেষণা প্রত্যাহার হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রদত্ত অর্থ ফেরত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির গবেষণা বিভাগের পরিচালক মাহফুজা পারভীন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের কিছু নজির এখানে রয়েছে। মমিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সুরাহা করা হবে।

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির নাম ব্যবহার করে গবেষণা প্রকাশ করেছেন, এমন কয়েকজন গবেষক বাস্তবে অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাঁদের একজন তালহা বিন ইমরান। তাঁর ১০টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সাময়িকী থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গবেষণাপত্রে ড্যাফোডিলের নাম ব্যবহার করা হলেও তিনি বর্তমানে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে কর্মরত।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, এমন ৯টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে আব্দুল কাদের মহিউদ্দিন নামের এক গবেষকের। গবেষণাগুলোতে একমাত্র লেখক মহিউদ্দিন। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়নি। কোনো সহলেখকও নেই। মহিউদ্দিন নামের এই গবেষক ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির ফার্মেসি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের পর থেকে তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সতর্ক করেই দায় সারল বিশ্ববিদ্যালয়

গবেষণা প্রত্যাহারের ঘটনা সামনে এলে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় গত বছর। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেট সভা তৌফিকুল ইসলামকে লঘুদণ্ড হিসেবে সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম সহলেখক হিসেবে আছেন, এমন নয়টি গবেষণা প্রত্যাহার হওয়ার তথ্য পেয়েছে প্রথম আলো। যেগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যাহৃত হয়েছে। গবেষণাগুলো করোনাকালে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) থেকে সৃষ্ট দূষণ, বঙ্গোপসাগর উপকূলে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছিল।

কেন শুধু সতর্ক করেই দায় সেরেছে বিশ্ববিদ্যালয়—এমন প্রশ্নে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শওকত আলী গত ১৪ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবস্থা নিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জটিলতায় পড়েছিল। কারণ, গবেষণা প্রত্যাহারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা তাঁদের সামনে ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো নীতিমালাও নেই।

নিজ গবেষণার তথ্য পুনর্ব্যবহার

চিনি, টি–ব্যাগ, সুন্দরবনের পশুর নদের মাছ এবং কোভিড-১৯ ভাইরাস নিয়ে একের পর এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত এসব গবেষণায় তিনি সহলেখক ছিলেন।

অবশ্য আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থাগুলোর তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁর নাম থাকা কয়েকটি গবেষণায় বাস্তব পরীক্ষার পরিবর্তে কাল্পনিক উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইতিমধ্যে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সহলেখক হিসেবে থাকা ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, সুন্দরবনের প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে ২০২২ সালে তাঁর দলের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়, যা এখনো প্রত্যাহার হয়নি। তবে পরে ওই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে নতুন পরীক্ষা ছাড়াই আরও গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান গত ৭ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সৎ থাকার চেষ্টা করেছিলেন। প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সঙ্গে মূল যোগাযোগ ছিল ব্রাজিলের গবেষক গুইলহার্ম মালাফাইয়ার। তাই কোথায় সমস্যা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সঠিকভাবে জানেন না। গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার পর সতর্ক হয়েছি।’

পদোন্নতির আবেদনে প্রত্যাহৃত গবেষণা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক স্বপন চন্দ্র মজুমদার। তিনি একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘সেরা গবেষক’ পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২২ সালে তিনি সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। তবে প্রথম আলোর হাতে আসা এই অধ্যাপকের পদোন্নতির আবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আবেদনের শুরুতে স্বপন চন্দ্র মজুমদার যে গবেষণার কথা উল্লেখ করেছিলেন, সেটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রত্যাহার করে নেয় প্রকাশনা সাময়িকী।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে পরিবেশদূষণ কমানোর বিষয়ে করা সেই গবেষণায় স্বপন চন্দ্র মজুমদার সহলেখক ছিলেন। এটি প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে প্রকাশনা সাময়িকী বলেছে, গবেষণা প্রকাশের আগে বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনাটি ছিল ভুয়া।

স্বপন চন্দ্র মজুমদারের আরেকটি গবেষণা প্রত্যাহার হয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। সেই গবেষণায় মূল লেখক ছিলেন এই অধ্যাপক। করোনা মহামারির সময়ে বাংলাদেশের ব্যাংকারদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর করা এই গবেষণাটিও গবেষণা সাময়িকী প্রত্যাহার করছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই গবেষণার লেখা, তথ্য, গবেষণার ফলাফল কিংবা ধারণা নেওয়ার ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি হয়েছিল।

অধ্যাপক স্বপন চন্দ্র এসব অভিযোগ অসত্য দাবি করে বলেন, প্রকাশনা সংস্থাগুলো নিজেদের কিছু অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে গবেষণাপত্র দুটি প্রত্যাহার করে।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামানের ১১টি গবেষণাপত্র কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী থেকে জালিয়াতির অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যাপক কামরুজ্জামানের প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাগুলো প্রকাশ হয়েছিল ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। আর প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে।

প্রত্যাহার হওয়া ১১টি গবেষণার মূল বিষয়বস্তু ছিল সবুজ অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা। গবেষণাগুলোর ৫টিতে মো. কামরুজ্জামান প্রধান লেখক ছিলেন। ৬টিতে তিনি ছিলেন সহলেখক। ৪টিতে সহলেখক ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের অধ্যাপক সালমা করিম।

বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিঞ্জার ও এলসেভিয়ারের সম্পাদকীয় বোর্ড গভীর তদন্তের পর এই গবেষণাপত্রগুলো বাতিল ঘোষণা করে। সংস্থাগুলো প্রত্যাহার নোটে যেসব জালিয়াতির কথা বলেছে, এর মধ্যে ছিল ভুয়া পিয়ার-রিভিউ।

কামরুজ্জামান গত ২০ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর পেছনে কোনো বড় ধরনের জালিয়াতি বা লেখা চুরির ঘটনা ছিল না। মূলত ‘লিটারেচার রিভিউ’ বা তথ্যসূত্রের কিছু অসামঞ্জস্যের কারণে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করেছিল।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. জুলফিকার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি তাঁরা জানতেন না। জেনে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জবাবদিহির ব্যবস্থা কী

গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে গবেষকেরা সাধারণত দেশীয় বিভিন্ন জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করে নিজেদের পদোন্নতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অন্যান্য সুবিধা নেন। বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যা কম। তাতেও অনিয়ম, চুরি ইত্যাদি ধরা পড়ছে। কিন্তু গবেষণা প্রত্যাহার হলে জবাবদিহির ব্যবস্থা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ নিজের কার্যালয়ে ১৬ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো শিক্ষক বা গবেষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা এবং ব্যবস্থা নেওয়া প্রথমত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় যদি অভিযোগ উপেক্ষা করে বা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তখন ইউজিসি নিজে তদন্ত করবে এবং সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।’

এখন দেখার বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ও ইউজিসি কী পদক্ষেপ নেয়।

সোর্স প্রথমআলো

01/08/2026

সৌদির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ
01/08/2026


ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে গেছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যেহেতু বাংলাদেশের সম্পর্ক আর স্বার্থ জড়িত, তাই এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

আ ন ম মুনীরুজ্জামান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক

রাহীদ এজাজ, ঢাকা

লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি রপ্তানিতে বাধা পেয়ে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিয়ে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। নতুন এই জোটের লক্ষ্য লোহিত সাগর, বাব আল–মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগর দিয়ে সব ধরনের জাহাজের স্বাধীনভাবে চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত জোটে বাংলাদেশের যোগদানের তথ্য গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রিয়াদ থেকে আরব নিউজ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোট গঠন নিয়ে আলোচনায় ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অংশ নেয় ৪৩টি দেশ। এর মধ্যে সৌদি আরবসহ ১৪ দেশ নিয়ে জোট গঠন করা হয়। জোটে সৌদি আরব, বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও নাইজেরিয়া।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে একটি কূটনৈতিক সূত্র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, জোট গঠন বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে সৌদি আরব জোটের প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে আসছে। প্রাথমিকভাবে এতে অন্তত ৫০টি দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল সৌদি আরবের। তবে শুরুতে মোট ১৪টি দেশকে নিয়ে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হয়।

বাংলাদেশের সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে বাংলাদেশ এতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সৌদি আরবের এ উদ্যোগ কেন

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে লোহিত সাগর, বাব আল–মানদেব ও এডেন উপসাগর। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাব আল–মানদেব। মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ১০ থেকে ১২ শতাংশ সামুদ্রিক

সৌদির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ
প্রথম পৃষ্ঠার পর

বাণিজ্য হয়ে থাকে। তাই কোনো কারণে এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি বাজারসহ বিশ্ববাণিজ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সেটিই হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই পথে বৈশ্বিক জ্বালানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ হতো। সৌদি আরব এই পথ দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি করতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগর ব্যবহার করছিল তারা। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেল শোধনাগারগুলো থেকে লোহিত সাগর উপকূলে ইয়ানবু বন্দরে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এনে রপ্তানি করা হচ্ছিল।

তবে সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়। এর পর থেকে বাব আল–মানদেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে সৌদি জাহাজগুলো হুতিদের হামলার শিকার হচ্ছে। এতে হরমুজের মতো এই নৌপথেও সৌদি আরবের তেল সরবরাহও বাধার মুখে পড়ছে। মূলত হুতিদের হুমকির মুখে নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ।

জোটের লক্ষ্য

সৌদি আরবের বিবৃতিতে জোটের কিছু লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লোহিত সাগর, বাব আল–মানদেব ও এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ই জোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

তবে নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্যদেশগুলো কেমন ধরনের জাহাজ ও উড়োজাহাজ দেবে, তা বিবৃতিতে বলা হয়নি। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবের কোথায় অবস্থিত, তা–ও জানানো হয়নি। এটুকু বলা হয়েছে, জোটের সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্য বিনিময় এবং যৌথভাবে অভিযানের পরিকল্পনা করবে। সামরিক মহড়া ও সমুদ্রে যৌথ অভিযান পরিচালনাও করবে।

বাব আল–মানদেব প্রণালির এক পাশে ইয়েমেন। দেশটির উপকূলের বড় অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। এর কারণেই এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে গোষ্ঠীটি। প্রণালির অপর পাশে রয়েছে ইরিত্রিয়া ও জিবুতি। এখন জিবুতি নতুন জোটের সদস্য হওয়ায় কিছুটা সুবিধা পেতে পারে সৌদি আরব। যদিও জোটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই জোট মূলত প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে কাজ করবে, তারা কোনো দেশকে নিশানা করবে না।

এদিকে জোটে আরও দেশের যোগ দেওয়ার সুযোগ রেখেছে সৌদি আরব। আর জোট গঠনের আলোচনায় আমন্ত্রিতদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলও ছিল। যদিও লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব নৌ নিরাপত্তা কার্যক্রম চলমান। তাই ইউরোপের নিরাপত্তা কার্যক্রমের বাইরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কার্যক্রম আলাদা কী ভূমিকা রাখবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান মনে করেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত, নানা কারণে সেটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। বাংলাদেশ অতীতে কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয়নি। প্রথমবার যুক্ত হয়ে কোনো সংঘাতে যাতে বাংলাদেশ না জড়ায়, সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে। আর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে গেছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যেহেতু বাংলাদেশের সম্পর্ক আর স্বার্থ জড়িত, তাই এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইসলামি সামরিক জোটে (আইএমসিটিসি) যোগ দেয়। ৪২টি মুসলিম দেশের ওই জোটে যুক্ত হলেও রিয়াদে জোটের সদর দপ্তরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল পাঠায়নি ঢাকা। পরে জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি ও প্রতিনিধিদল পাঠানোর তাগিদ দেয় সৌদি আরব।

সোর্স প্রথমআলো

31/07/2026

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: যে বিষয়গুলো জেনে রাখা প্রয়োজন
নাদিয়া রহমান

VISA Application to USA

প্রতি বছরই প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান উচ্চশিক্ষার জন্য। এর অন্যতম কারণ, আমেরিকার ফান্ডিং ব্যবস্থা, যা ইউরোপ বা অন্যান্য দেশগুলোর স্কলারশিপ বা স্টাইপেন্ড থেকে ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে নয়, বরং নিজ নিজ বিভাগেই টিচিং কিংবা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ মেলে।

স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কুল থেকে আই-২০ সংগ্রহ করা। একজন শিক্ষার্থীর পরিচিতি হলো আই-২০। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, যেখানে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মতারিখ, ভর্তি হওয়া প্রোগ্রামের নাম, মেজর, কোর্সের সময়কাল এবং মোট খরচের হিসাবসহ প্রতিটি বিষয় উল্লেখ থাকে। এই ফর্ম পাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে অবশ্যই এটি গুরুত্বসহকারে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ এটি ভিসা সাক্ষাৎকার এবং আমেরিকায় ইমিগ্রেশনের সময় প্রয়োজন হবে।

ডিএস-১৬০ ফর্ম: নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা ফর্ম
এরপরের ধাপ হলো ডিএস-১৬০ ফর্ম পূরণ করা। এটি মূলত নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসার অনলাইন আবেদন ফর্ম। এটি কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের (সিইএসি) ওয়েবসাইট থেকে পূরণ করা হয়। এই ফর্মে বেশ কয়েকটি ধাপ থাকে, যার প্রতিটিই খুব সতর্কতাবশত পূরণ করতে হয়। এখানে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত, পারিবারিক তথ্য থেকে শুরু করে পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা এবং সব শেষে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন, সেখানকার নাম, ঠিকানা, সেভিস নম্বরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। ফর্মটির প্রতিটি ধাপ পূরণ করার সময়েই তথ্যগুলো সেভ অপশনে যেয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর সব শেষে আপনার ছবি আপলোড করার পর সাবমিট করে অবশ্যই একটি কনফার্মেশন কপি প্রিন্ট করে রাখবেন। কারণ পরবর্তীতে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় এটি আপনাকে জমা দিতে হতে পারে।

ডিএস-১৬০ ফর্ম পূরণে কোনো ভুল বা অসঙ্গতি রাখা যাবে না। কারণ এটি আপনার ভিসা অনুমোদনে প্রভাব ফেলবে। ডিএস-১৬০ জমাদানের পর শিক্ষার্থীকে একটি নির্দিষ্ট মূল্যের ভিসা আবেদন ফি, যা এমআরভি ফি হিসেবে পরিচিত, দিতে হয়। বাংলাদেশে এটি সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। ফি প্রদানের রসিদও সংরক্ষণ করতে হবে পরবর্তীতে ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার ছবি। ছবির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আছে যা ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে হবে। যেমন: ছবি তোলার সময় চশমা পরা যাবে না এবং আপনার ছবি গত ছয় মাসের মধ্যকার হতে হবে।

আই-২০ ফর্ম পাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে সেভিস ফি, যা মূলত স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ইনফরমেশন ফি, দিতে হয়। সেভিস ফির জন্য শিক্ষার্থীদের সাধারণত ৩৫০ মার্কিন ডলার দিতে হয় এবং এটি অনলাইনে ওয়েবসাইট থেকেই দেওয়া যায়। পেমেন্ট করার জন্য আপনার আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড প্রয়োজন হবে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক ট্রান্সফার বা চেক কিংবা ম্যানি অর্ডারের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার অপশনও থাকে। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখা প্রয়োজন, কেননা সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৩০০ ডলারের বেশি একবারে পে করার অপশন থাকে না। তাই হয়তো আগে থেকেই ব্যাংককে জানিয়ে রাখতে হবে ক্রেডিট লিমিট বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। নয়তো দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে থাকলে সেখান থেকে এই ফি অনলাইনে দেওয়া। এই ফি দেওয়ার পরও একটি ইলেকট্রনিক রসিদ প্রিন্ট করে রাখতে হবে। ডিএস-১৬০-এর মতো এটিও ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে কী কাজ করতে হয়?
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে কী কাজ করতে হয়?
ভিসা ইন্টারভিউয়ে যে কাগজগুলো অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন
ভিসা ইন্টারভিউয়ের দিন শিক্ষার্থীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজ সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রিন্ট করা ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, আই-২০ ফর্ম, সেভিস ফি রসিদ, আপনার পাসপোর্ট, এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ও মার্কশিট, আর্থিক প্রমাণ, যেমন: ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিংবা স্কলারশিপ সার্টিফিকেট। এছাড়াও পূর্বের ভিসা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে তার কপি সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। ইন্টারভিউয়ে সাধারণত জিজ্ঞাসা করা হয় কেন শিক্ষার্থী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে চাইছে, কোন প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছে এবং কে তার আর্থিক সহায়তা দেবে। এছাড়াও প্রমাণ দিতে হতে পারে যে পড়াশোনার শেষে শিক্ষার্থী দেশে ফিরে আসবে কি না।

পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুসরণ করলে কিছুটা জটিল হলেও সহজে সম্পন্ন করা যায়। সঠিক তথ্য প্রদান, নথি প্রস্তুত রাখা, প্রতিটি ফি জমা দেওয়া এবং ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করা শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়েই বিষয়গুলো করতে হবে।

সোর্স দ্য ডেইলি স্টার

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Dhaka