04/10/2026
এআইয়ের যুগে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা
শিল্প বিপ্লবের সময় মানুষের কাজের ধরন বদলেছিল। কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হওয়ার পর কাজের প্রক্রিয়ায়ও এসেছিল পরিবর্তন। প্রযুক্তির উন্নতি ও পরিবর্তনের হাওয়ায় অনেক পেশাই হারিয়ে গেছে। আবার নতুন নতুন পেশা ও কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাই এআই নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঠিক ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন হাবিব তারেক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই জ্ঞান ও বিশ্লেষণভিত্তিক কাজ দ্রুত করতে পারছে। তাই চাকরিপ্রার্থীদের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি চারটি চাকরির প্রায় একটির ওপর কোনো না কোনো মাত্রায় জেনারেটিভ এআইয়ের প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হবে। এ ছাড়া ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে।
অর্থাৎ একই সময়ে চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন চাকরি সৃষ্টিও হবে।
এআই আতঙ্ক
এআইয়ের কারণে অনেকেই চাকরি হারানোর আশঙ্কা করেন। আসলে চাকরি বা কাজের ধরন, প্রযুক্তির সক্ষমতা, প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এবং মানুষের ভূমিকা—এই বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে সেই পদটির ওপর এআইয়ের প্রভাব কতটুকু পড়বে। একজন হিসাবরক্ষকের কাজের মধ্যে যদি নিয়মিত ডেটা এন্ট্রি, নির্দিষ্ট ফরম্যাটে রিপোর্ট তৈরি বা সাধারণ হিসাব যাচাইয়ের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ থাকে, তাহলে সেগুলোর কিছু অংশ সফটওয়্যার ও এআই দিয়ে করা সম্ভব।
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজেও কোডের খসড়া তৈরি, ডিবাগিং এবং ডকুমেন্টেশন তৈরির মতো কাজ ক্রমেই এআই সহায়তায় করা হচ্ছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে হিসাবরক্ষক বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী—কারো কোনো প্রয়োজন হবে না। বরং তাদের কাজের প্রক্রিয়ায় কিছু দায়িত্ব কমে যেতে পারে, তবে নতুন ধরনের দায়িত্ব বাড়তে পারে। আইএলওর গবেষণায় বলা হয়েছে, জেনারেটিভ এআইয়ের প্রভাবে চাকরি বিলুপ্তির চেয়ে চাকরি রূপান্তর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ বেশির ভাগ পেশায় এমন কিছু কাজ থাকে, যেখানে মানবিক বিচার, যোগাযোগ, দায়িত্ব নেওয়া, বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা শুধু মানুষের সঙ্গে মানুষের হবে না; মানুষ এবং এআইয়ের সমন্বয়ে কে বেশি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সেটিই দেখা হবে।
মানুষেরও ভূমিকা থাকবে
কাজের প্রক্রিয়ার কোনো না কোনো অংশে পেশাজীবী বা মানুষের প্রয়োজন আছে। যেসব কাজে মানবিক বিচার, নেতৃত্ব, জটিল সমস্যা সমাধান, সৃজনশীলতা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রয়োজন বেশি, সেসব ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা থাকবে। যেমন—এআই রোগ নির্ণয়ের সহায়ক তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, রিপোর্টের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিতে পারে কিংবা চিকিৎসককে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে; কিন্তু রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ, পরিস্থিতির সামগ্রিক মূল্যায়ন, চিকিৎসার ঝুঁকি ব্যাখ্যা এবং চূড়ান্ত দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। এআই একটি পাঠের সারাংশ তৈরি করতে পারে, প্রশ্ন বানাতে পারে কিংবা শিক্ষার্থীর অনুশীলনের জন্য উপকরণ তৈরি করতে পারে; কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা বোঝা, তার দুর্বলতা শনাক্ত করা, উৎসাহ দেওয়া এবং শিক্ষণ পদ্ধতি পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা আলাদা। তাই শুধু এমন কাজ শেখা নয়, যা এআই এখনো করতে পারে না; বরং এমন দক্ষতা তৈরি করতে হবে, যাতে এআই ব্যবহার করে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা যায়।
এআইয়ের সঙ্গে তাল মেলান
ভবিষ্যতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য শুধু একটি ডিগ্রি যথেষ্ট হবে না; সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এইআইয়ের ওপরও ভালো দখল থাকতে হবে। ধরুন, দুজন কনটেন্ট লেখক আছেন। একজন শুধু এআই দিয়ে দ্রুত লেখা তৈরি করতে পারেন। অন্যজন এআই দিয়ে গবেষণার প্রাথমিক কাজ করেন, তথ্য যাচাই করেন, ভালো প্রশ্ন করতে পারেন, তথ্যের ভুল ধরতে পারেন, পাঠকের প্রয়োজন বোঝেন এবং শেষে নিজের বিচার-বিশ্লেষণ দিয়ে লেখা সম্পাদনা করেন। দ্বিতীয় ব্যক্তির দক্ষতা শুধু এআই ব্যবহার নয়; বরং এআই সহায়তায় ভালো কাজ তৈরি করা। এই পার্থক্য আগামী দিনের চাকরির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মাইক্রোসফটের ২০২৬ সালের ওয়ার্ক ট্রেন্ড ইনডেক্সে এআই এজেন্টের প্রসারের সঙ্গে মানুষের কাজের ধরন বদলে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
যেসব সেক্টরে সুযোগ বাড়বে
ভবিষ্যতে এআই, মেশিন লার্নিং, ডেটা বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সফটওয়্যার উন্নয়ন, অটোমেশন, রোবটিকস ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ মানুষের চাহিদা বাড়বে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, সাপ্লাই চেইন, কৃষি-প্রযুক্তি, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবার মতো খাতেও প্রযুক্তি সমন্বিত নতুন ভূমিকা তৈরি হতে পারে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রযুক্তি পরিবর্তনের পাশাপাশি সবুজ রূপান্তর, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনকেও ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারের বড় চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের চাকরি শুধু আইটি খাতেই হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রায় প্রতিটি পেশায়ই প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে।
ক্যারিয়ার পরিকল্পনা
এআইয়ের যুগে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে শেখার আগ্রহ ও চেষ্টা থাকতে হবে। এর জন্য প্রথম ধাপে নিজের পছন্দ ও সক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে একটি মূল পেশা নির্বাচন করুন। এরপর সেই পেশায় কোন কাজগুলো এআই দিয়ে সহজ হতে পারে, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়তে পারে এবং কোন দক্ষতা মানুষের হাতে থাকবে, তা বিশ্লেষণ করে এগোতে থাকুন। ডেটা অ্যানালিটিকস, গ্রাহকের আচরণ, এআই টুল, মার্কেটিং অটোমেশন এবং মৌলিক ব্যাবসায়িক ধারণা সম্পর্কে ভালো জানাশোনা থাকতে হবে। একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার শুধু কোড লেখা নয়, সিস্টেম ডিজাইন, ডেটা বেইস, নিরাপত্তা, সমস্যা বিশ্লেষণ এবং এআইনির্ভর ডেভেলপমেন্টও শিখতে পারেন।
শুধু সার্টিফিকেট নয়, কাজও জানতে হবে
শুধু ডিগ্রি বা সার্টিফিকেটের ওপর ভরসা করলে এই যুগে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। কাজের ক্ষেত্রেও নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। যেমন—ডিজাইনারের পোর্টফোলিও, একজন প্রোগ্রামারের গিটহাব বা বাস্তব প্রকল্প, একজন লেখকের প্রকাশিত কাজ, একজন ডেটা বিশ্লেষকের ড্যাশবোর্ড বা কেস স্টাডি তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখবে। তাই শেখার পাশাপাশি প্রকল্প বা পোর্টফোলিও ভারী করার দিকে জোর দিতে হবে।
ভয় নয়, দরকার প্রস্তুতি
আইএলওর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বেশির ভাগ পেশায় এআইয়ের পূর্ণ প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে কাজের রূপান্তরের সম্ভাবনাই বেশি। তাই চাকরিপ্রার্থীদের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে—নিজ পেশা বা কাজে গভীর দক্ষতা, প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের সক্ষমতা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত শেখার মানসিকতা। ভবিষ্যতে একজন কর্মীকে শুধু তাঁর নিজের দক্ষতার জন্য নয়, বরং এআইসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তিনি কী ফলাফল বা আউটপুট দিতে পারছেন, এর ভিত্তিতেই হবে তাঁর মূল্যায়ন।
দক্ষতায় জোর দিন
এআই সাক্ষরতা : নিজের কাজসংশ্লিষ্ট কোন এআই টুল কী করতে পারে, কিভাবে ব্যবহার করতে হয়, কোথায় ভুল করতে পারে এবং তথ্য যাচাই কিভাবে করতে হয়—এসব জানা প্রয়োজন।
তথ্য বিশ্লেষণ দক্ষতা : এক্সেল বা গুগল শিটসের মতো মৌলিক টুল থেকে শুরু করে এসকিউএল, ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং প্রয়োজনে পাইথনের মতো দক্ষতা অনেক পেশায়ই বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
যোগাযোগ দক্ষতা : ভালোভাবে লেখা, উপস্থাপন করা, আলোচনা করা, ই-মেইল লেখা, সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং নিজের ধারণা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা—এসব দক্ষতার গুরুত্ব সব সময়ই থাকবে।
সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা : কোন প্রশ্ন করা উচিত, সমস্যার মূল কোথায়, পাওয়া উত্তরটি বাস্তবসম্মত কি না—এসব ক্ষেত্রে সাধারণত মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
সৃজনশীলতা : ধরুন, একই টুল একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করছে। কিন্তু তাদের মধ্যে চিন্তা ও সৃজনশীলতার তারতম্য আছে। তাহলে কী দাঁড়াল? সৃজনশীল বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা থেকে যে আউটপুট সম্ভব, সাধারণ চিন্তা থেকে সে রকম আউটপুট হবে না।
অভিযোজন ক্ষমতা : আজ যে সফটওয়্যার বা টুল জনপ্রিয়, কয়েক বছর পর সেটার চল না-ও থাকতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট টুলের ওপর নির্ভর না করে প্রতিনিয়ত শেখার আগ্রহ ও চর্চা থাকতে হবে।
google newsকালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
Add as a preferred source on GoogleGoogle-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন
নাবিক ও এমওডিসি নেবে নৌবাহিনী
‘এ-২০২৭’ ব্যাচে নাবিক ও এমওডিসি (নৌ) নেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ২৬ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে এসংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আবেদন করতে হবে অনলাইনে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে। শুধু পুরুষ প্রার্থীরাই আবেদনের সুযোগ পাবেন
প্রকাশ: শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০০
নাবিক ও এমওডিসি নেবে নৌবাহিনী
ছবি : সংগৃহীত
জনবল নেওয়া হবে ডিই/ইউসি (সিম্যান, কমিউনিকেশন ও টেকনিক্যাল); রেগুলেটিং; রাইটার, স্টোর ও মিউজিশিয়ান; মেডিক্যাল; কুক ও স্টুয়ার্ড; টোপাস ও এমওডিসি (নৌ) শাখায়। টোপাস শাখায় ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে অষ্টম শ্রেণি। বাকি সব শাখার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান। তবে শাখাভেদে ন্যূনতম জিপিএ ও অন্যান্য একাডেমিক যোগ্যতা বা শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এ ছাড়া নির্ধারিত শারীরিক যোগ্যতাও থাকতে হবে। প্রার্থীদের অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক (পুরুষ) ও অবিবাহিত (বিপত্নীক/তালাকপ্রাপ্ত নয়) হতে হবে। সাঁতারও জানতে হবে। বয়স নির্ধারিত হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ অনুযায়ী। ‘নাবিক’ প্রার্থীদের বয়স হতে হবে ১৭ থেকে ২০ বছর। ‘এমওডিসি (নৌ)’ প্রার্থীদের বয়স হতে হবে ১৭ থেকে ২২ বছর।
নিয়োগ পদ্ধতি
অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় সনদ ও কাগজপত্রসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত কেন্দ্রে নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হতে হবে। প্রাথমিক বাছাই পর্বে প্রার্থীর কাগজপত্র যাচাই করা হবে। এরপর প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষার বিষয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (HbsAg ও ডোপ টেস্টসহ) নেওয়া হবে। সব জেলা ও শাখার প্রার্থীদের পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর মেধাক্রম অনুসারে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হবে।
সুযোগ-সুবিধা
♦ বেতন ও ভাতাদি : সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য সুবিধাসহ সশস্ত্র বাহিনীর বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন ও ভাতাদি প্রাপ্য হবে।
♦ বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম, থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার সুবিধা।
♦ পারিবারিক রেশন সুবিধা।
♦ অবসর গ্রহণকালে অবসর ভাতা এবং গ্র্যাচুইটির সুবিধা।
♦ চাকরিকালীন যোগ্যতার ভিত্তিতে নন-কমিশন্ড অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং বিশেষ যোগ্যতার ক্ষেত্রে কমিশন্ড অফিসার পদে পদোন্নতির সুযোগ।
♦ চাকরিকালীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে অথবা পঙ্গু হলে পদবিভিত্তিক বীমা সুবিধা এবং পরিবারের জন্য বেনেভোলেন্ট ফান্ডের আর্থিক সুবিধা।
♦ বিদেশে প্রশিক্ষণ, নৌবাহিনীর জাহাজে বিদেশে শুভেচ্ছা সফর, বিদেশ থেকে জাহাজ আনয়ন ও জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বিদেশভ্রমণের মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জনের সুযোগ।
♦ বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে নিয়োগ প্রাপ্তির সুযোগ।
♦ নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে মানসম্পন্ন সুসজ্জিত বাসস্থান প্রাপ্তি।
♦ সামরিক হাসপাতালসমূহে উন্নতমানের চিকিৎসা সুবিধা ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে নগদ অর্থ প্রদানসহ বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা ইত্যাদি।
আবেদন যেভাবে
নাবিক পদের প্রার্থীদের www.joinnavy.navy.mil.bd ওয়েবসাইটের ‘সেইলর’ সেকশনে গিয়ে ‘অ্যাপ্লাই নাও’ অংশে ক্লিক করতে হবে। প্রথমে নিয়োগের প্রাক-যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। নাবিক ও এমওডিসি (নৌ)-এর শাখাভিত্তিক ‘জব ডেসক্রিপশন’ (দায়িত্ব ও কর্তব্য) জেনে ‘অ্যাপ্লাই নাও’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর সাইন আপ বা সাইন ইন করে প্রার্থীকে ব্যাংকিং/মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। এ পর্যায়ে প্রার্থীরা যেকোনো ব্যাংকের ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩০০ টাকার (অফেরতযোগ্য) আবেদন ফি জমা দিতে পারবেন। পেমেন্ট সফল হওয়ার পর নির্দেশনা অনুসরণ করে যথাযথ তথ্য দিয়ে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন সাবমিট করে ‘নাবিক-১’ ফরমটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে রাখুন।
অযোগ্যতা
♦ সশস্ত্র বাহিনী অথবা সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তকৃত/বহিষ্কৃত/অপসারিত/পলাতক বা স্বেচ্ছায় অব্যাহতিপ্রাপ্ত হলে।
♦ ফৌজদারি মামলায় দণ্ড বা সাজাপ্রাপ্ত হলে।
♦ দ্বৈত নাগরিকত্ব।
♦ এর আগে সশস্ত্র বাহিনীর বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ চলাকালীন স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগ করলে।
♦ চাকরি আছে ডেস্ক
যেভাবে চাকরি পেলাম
প্রথম বিজেএসেই সিভিল জজ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগে পড়াশোনা করেছেন রাজু আহমেদ। তিনি ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর পথচলা সহজ ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি কিভাবে তিনি বিজেএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন, কোন কৌশলে প্রথমবারেই সফল হলেন—জানাচ্ছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার
প্রকাশ: শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০০
প্রথম বিজেএসেই সিভিল জজ
রাজু আহমেদ
যেভাবে আইন পেশায়
ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন রাজু আহমেদের। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাস্তবতা মেনে নিয়ে ভর্তি হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ধীরে ধীরে আইন পছন্দের বিষয়ে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে ঠিক করি, আমাকে বিচারক হতেই হবে। এর পরই বিচারক হওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিজেএস প্রস্তুতি শুরু করি।’
শিক্ষাজীবন
রাজু আহমেদের জন্ম চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে। সেখানে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মানসম্মত শিক্ষা—কোনোটাই ছিল না। তবু থেমে থাকেননি তিনি। এসএসসিতে জিপিএ ৪.৯৫ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৭৫ পান তিনি। এরপর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেন। বর্তমানে তাঁর এলএলএম চলমান।
বাবার স্বপ্ন পূরণ
রাজু আহমেদের বাবা ছিলেন একজন দরিদ্র কৃষক। নিজে লেখাপড়ার সুযোগ না পেলেও তাঁর স্বপ্ন ছিল ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে তোলা। দীর্ঘ ৩০ বছর একাই সংসারের ঘানি টেনেছেন তিনি। ছোটবেলায় বাবাকে দেখেছেন লাঙল-জোয়াল কাঁধে নিয়ে মাঠে যেতে। কিন্তু রাজুকে কখনো কৃষিকাজে সাহায্য করতে বলেননি তাঁর বাবা। নিজ ইচ্ছায় মাঠে যেতে চাইলেও তাঁর বাবা বাধা দিয়ে বলতেন, স্কুলে যাও। বাবার স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হলো। অ্যাপিয়ার্ড হিসেবে প্রথমবারের মতো ১৮তম বিজেএসে অংশ নিয়েই মেধাক্রমে ২৬তম হন তিনি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেই রাজু আহমেদ এখন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত।
প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি
প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির শুরুতে মূল আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো ভালোভাবে বুঝে পড়েছেন তিনি। এরপর সেগুলো বারবার রিভিশন দিয়েছেন। সাধারণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো বাছাই করে সেগুলো পড়তেন। পাশাপাশি নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পড়েছেন, যাতে সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর ওপর আপডেট থাকা যায়।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি
লিখিত পরীক্ষার জন্য মূল আইনগুলোকে ভিত্তি করে নিজের তৈরি করা হ্যান্ডনোট বারবার রিভিশন দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আরো গভীরভাবে বোঝার জন্য বড় বড় কমেন্টারিজ ও রেফারেন্স বই পড়েছেন।
ভাইভার প্রস্তুতি
ভাইভার জন্য আলাদা করে কোনো প্রস্তুতি নেননি রাজু। প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তৈরি করা নোটগুলোই বারবার রিভিশন দিয়েছেন। পাশাপাশি একাডেমিক বিষয় ও আইন সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা রাখার চেষ্টা করেছেন।
সেশনজট যখন সুযোগ
রাজু আহমেদের বিভাগে অনেক সেশনজট ছিল। তাই শিক্ষার্থীদের অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু সেশনজটকে তিনি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। এর ফলে তুলনামূলক বেশি সময় পেয়েছেন। এই সময়টা কাজে লাগিয়ে আইনের প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে পড়ার চেষ্টা করেছেন। শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য নয়, আইনকে বোঝার এবং এর পেছনের বিষয়বস্তুগুলো জানার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বা দক্ষতা।
প্রার্থীদের জন্য পরামর্শ
নতুন বিজেএস পরীক্ষার্থীদের প্রতি রাজু আহমেদের পরামর্শ—সবার আগে শর্টকাট পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রথমবারেই বিচারক হতে চাইলে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে বিজেএসের প্রস্তুতি সমন্বয় করে শুরু করা উচিত। জুডিশিয়ারির সিলেবাস ডাউনলোড করে নিজের একাডেমিক সিলেবাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। এভাবে একই বিষয়ে একাডেমিক ও বিজেএস—উভয় পরীক্ষার জন্যই প্রস্তুত হওয়া যাবে। পাশাপাশি নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করতে হবে। মূল আইনগুলো ভালোভাবে বুঝে পড়তে হবে। শুরুটা যত আগে হবে, প্রস্তুতিটা তত বেশি গভীর ও গোছানো হবে।
যেভাবে চাকরি পেলাম
প্রতিদিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নিয়েছি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন মাহমুদ হাসান মৃধা। তিনি ৩৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী জেলার দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত। তাঁর চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতা শুনেছেন আব্দুন নুর নাহিদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০০
প্রতিদিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নিয়েছি
মাহমুদ হাসান মৃধা
আপনার সম্পর্কে বলুন। কোথায় পড়াশোনা করেছেন? কতগুলো চাকরির আবেদন করেছেন? কোনগুলোতে ডাক পেয়েছেন?
আমার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের উয়াইল গ্রামে।
আমি এসএসসি পাস করেছি কলিয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এইচএসসি দিয়েছি টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান কলেজ থেকে। বিবিএ ও এমবিএ করেছি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) থেকে। বিসিএস ক্যাডার হিসেবে যোগদানের আগে আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হিসেবে চাকরি করেছি। এরপর ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রশাসন ক্যাডারের চাকরিতে যোগ দিয়েছি। আমি বর্তমানে পটুয়াখালী জেলার দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত।
বিসিএস নিয়ে স্বপ্নের শুরুটা কিভাবে?
অনেক আগে থেকেই আমার প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করার স্বপ্ন। আমার বাবা ও দাদি ছোটবেলা থেকে চাইতেন, আমি বড় হয়ে জেলা প্রশাসক বা ডিসি হই। সেই থেকে স্বপ্নের শুরু। আমি বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষ (অনার্স) থেকেই।
প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কৌশল ও রুটিন কেমন ছিল? কোন বিষয়গুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন?
প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার জন্য আমি মূলত বেসিক বইগুলো অনুসরণ করেছি। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য বেশি তথ্য জানতে হয়। লিখিত পরীক্ষার জন্য বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তের ওপর দখল থাকতে হয়। লিখিত পরীক্ষার খাতায় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের দক্ষতাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লিখিত পরীক্ষার খাতায় যেন তথ্যসমৃদ্ধ লেখা থাকে এবং উপস্থাপনটাও যেন বৈচিত্র্যময় হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেছি। আমি মূলত তথ্য সংগ্রহের দিকে বেশি মনোযোগী ছিলাম। তথ্য সংগ্রহের জন্য নিয়মিত পত্রিকা পড়েছি। এ ছাড়া বিভিন্ন রেফারেন্স বই ও ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়েছি। রুটিন করে না পড়ে এক দিনে কতটুকু অংশ পড়ব, সেটা ঠিক করে লক্ষ্যভিত্তিক পড়েছি।
নিজেকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন?
আমি বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি—এই দুটি বিষয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য ও উপাত্ত নোট করে পড়তাম। একই সঙ্গে নিয়মিত পত্রিকা পড়তাম। সে ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় আমি প্রচুর ম্যাপ, ছক, গ্রাফসহ প্রয়োজনীয় তথ্য লিখেছি, যা লিখিত পরীক্ষার খাতাকে বৈচিত্র্যময় করেছে বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া পত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পত্রিকার নামের রেফারেন্স ও তারিখসহ পরীক্ষার খাতায় উল্লেখ করেছি। এই ধরনের বিষয়গুলোতে জোর দেওয়ায় লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর এসেছে বলে আমার ধারণা। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে বেসিক বই পড়ার ফলে এ বিষয়ে তথ্যসমৃদ্ধ লেখা সম্ভব হয়েছে।
ভাইভায় প্রস্তুতি কেমন ছিল? আপনার কাছে কোনো কিছু কঠিন মনে হয়েছে?
ভাইভার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সমসাময়িক বিষয়ে জানাশোনা ও নিয়মিত পত্রিকা পড়ার ওপর জোর দিয়েছি। এ ছাড়া ভাইভায় ক্যাডার পছন্দক্রম নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তাই পছন্দের ক্যাডার সম্পর্কে ভালোভাবে জানার চেষ্টা করেছি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত বিষয়গুলো সম্পর্কেও বিস্তর ধারণা রাখতে হয়। আমি ভাইভা বোর্ডে আনুমানিক ১০ মিনিট ছিলাম। আমার ভাইভা পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। ভাইভায় সাধারণত যেসব প্রশ্ন হতে পারে, এমন সব বিষয়েই পড়াশোনা বা প্রস্তুতি নিয়ে ভাইভায় অংশ নিয়েছি। তাই ভাইভা বোর্ডের প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে দিতে পেরেছি।
এটা কততম ভাইভা ছিল? আপনার পছন্দের তালিকায় কী ছিল?
বিসিএস পরীক্ষায় এটা আমার দ্বিতীয় ভাইভা ছিল। আমার পছন্দের তালিকায় প্রথম পছন্দ হিসেবে সব সময়ই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার ছিল। আল্লাহর রহমতে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারেই চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছি।
একজন ইউএনও হিসেবে আপনার কাজের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে বলুন।
ইউএনও হিসেবে কাজ করার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। এই পদে দায়িত্ব পালনকালে জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়া যায়। জনগণের বিভিন্ন সমস্যার সরাসরি সমাধান করা যায়, যা মানসিক স্বস্তি দেয়। এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের অনেক উপকার করা সম্ভব। আমি এ পর্যন্ত দুটি উপজেলায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। দায়িত্ব পালনকালে জনগণের পক্ষ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। কাজের ক্ষেত্রে অনেক উৎসাহ পেয়েছি, যা আমার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।
নতুন বিসিএস প্রার্থীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
বিসিএস একটি দীর্ঘ যাত্রা। এখানে ধৈর্য ধরে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ওপর প্রচুর জানাশোনা থাকতে হবে। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার খাতায় তথ্যসমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা থাকতে হবে। সব শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
চাকরির প্রস্তুতি এগিয়ে রাখবে নোট
নিয়োগ পরীক্ষার আগে বইয়ের সব অংশ রিভাইস দেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। তা ছাড়া বেশি পড়লে অনেক কিছু মনেও রাখা যায় না। তাই শেষ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোই ঝালিয়ে নেওয়া জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ লাইন বা তথ্য আগে থেকেই নোট করে রাখলে শেষ মুহূর্তে চটজলদি প্রস্তুতি নেওয়া যায়। বিস্তারিত জানাচ্ছেন হাবিব তারেক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০০
চাকরির প্রস্তুতি এগিয়ে রাখবে নোট
চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিষয়ভিত্তিক বই পড়তে হয়। কিন্তু বইয়ের সব অংশ বা লাইন গুরুত্বপূর্ণ না। প্রশ্ন আসে গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে। তা ছাড়া পরীক্ষার আগে পুরো বই রিভাইস দেওয়া সম্ভব হয় না। তখন সময় বাঁচাতে কিংবা প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা লাইন রিভাইস দিতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো নোট আকারে লিখে রাখলে কম সময়ে সহজেই রিভাইস বা প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
কেন নোট : নোটের মূল উদ্দেশ্য বড় তথ্যকে সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য ও স্মরণযোগ্য করা। গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, সূত্র, সাল-তারিখ, পরিসংখ্যান, তালিকা ও পার্থক্য নোট করা যেতে পারে। যেমন—আপনি একটি বিষয়বস্তু পড়ার সময় এসংক্রান্ত কয়েকটি মূল পয়েন্ট নোট করলেন। পরে এই পয়েন্টগুলো একনজর দেখলেই পুরো বিষয়টিই মনে করতে পারবেন। এ ছাড়া নোট করা থাকলে সহজে কম সময়ে রিভাইস দেওয়া যায়।
প্রথমেই সিলেবাস : নোট তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস, মান বণ্টন ও প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন। কোনো বিষয়ে পড়ার সময় কিছু অংশ বা লাইন চিহ্নিত করে রাখলে পরে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো একনজরে দেখা যায়।
বিষয়ভিত্তিক নোট : বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাহিত্য, ব্যাকরণ, গণিতের সূত্র কিংবা ইংরেজি গ্রামার—প্রতিটি অংশ আলাদা খাতায় বা ফাইলে রাখা যেতে পারে। তাহলে পরে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যাবে। বিশেষ করে সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে তথ্যকে বিভাগ অনুযায়ী সাজালে রিভাইস বা পুনরাবৃত্তি সহজ হয়।
তথ্যের সঙ্গে প্রশ্ন : কোনো তথ্য শুধু লিখে রাখার বদলে তার পাশে সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর লিখলে নোট আরো কার্যকর হয়। যেমন—একটি গুরুত্বপূর্ণ সাল বা ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে ‘কবে’, ‘কোথায়’, ‘কার আমলে’—এ ধরনের প্রশ্ন জুড়ে দেওয়া যেতে পারে।
ভুলের খাতা : মডেল টেস্ট বা বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধানের সময় যেসব প্রশ্ন ভুল হচ্ছে, সেগুলো আলাদা করে নোট রাখা উচিত। ভুলের কারণও সংক্ষেপে উল্লেখ করা যেতে পারে। পরীক্ষার আগে এই নোট খাতা বারবার দেখলে একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমে।
পরিবর্তনশীল তথ্য হালনাগাদ : চাকরির পরীক্ষায় সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, অর্থনীতি, পুরস্কার, ক্রীড়া, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য আসতে পারে। তাই পুরনো নোটের সঙ্গে নতুন তথ্য যোগ বা হালনাগাদ করতে হবে।
সোর্স কালের কণ্ঠ