09/11/2023
কানাডার ভিসিট ভিসা 🇨🇦
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর একটি দেশ হল কানাডা। বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপ্রেমীরা কানাডায় ঘুরতে যান। কানাডা এমন একটি দেশ যেখানে আপনি চাইলে অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ যেমন নিতে পারবেন, তেমনি পারবেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে হারিয়ে যেতে। পাশাপাশি দেশটি সাংস্কৃতিক দিক দিয়েও বৈচিত্র্যময়। ভ্রমণেরজন্য এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কানাডায় এখন অভিবাসী আইনও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। ফলে যে কোন সময় আপনি এ দেশের সৌন্দর্য্য উপভোগের সুযোগ নিতে পারেন।
কানাডার ভিজিট ভিসায় সফলতা পাওয়ার জন্য কিছু ধাপ আছে যেগুলো আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই।
কানাডার ভিজিট ভিসার জন্য আবেদন করার জন্য, আবেদনকারীদের অবশ্যই নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয়তাগুলো পূরণ করতে হবে-
বৈধ পাসপোর্ট
ভিসার আবেদন ফি
পূরণ করা ভিসার আবেদন ফর্ম
একটি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট-আকারের ছবি
একটি কভার লেটার ব্যাখ্যা করে যে কেন আপনি কানাডা ভ্রমণ করতে চান
প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রমাণ যে আপনি আপনার দেশে ফিরে যাবেন, যেমন:
একটি চাকরি বা শিক্ষার অফার
পর্যাপ্ত অর্থ
আপনার দেশে সম্পত্তি বা পরিবারের সম্পত্তি
কানাডার ভিজিট ভিসার জন্য আবেদন করার জন্য, আবেদনকারীদের অবশ্যই ভিসার আবেদন অনলাইনে জমা দিতে হবে। ভিসার আবেদন ফর্ম পূরণ করার পরে, আবেদনকারীদের তাদের আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র জমা দিতে হবে।
কানাডার ভিজিট ভিসার প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় নেয়। ভিসার আবেদন ফর্ম জমা দেওয়ার পরে, আবেদনকারীদের তাদের আবেদনের অবস্থান পরীক্ষা করতে ভিসার অনলাইন স্ট্যাটাস চেকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে।
কানাডার ভিজিট ভিসা সাধারণত পাসপোর্টের মেয়াদ ততদিন দেওয়া হয়। ভিসাটি একাধিক প্রবেশের অনুমতি দেয়, যার অর্থ আপনি ভিসাটি বৈধ থাকাকালীন যতবার ইচ্ছা কানাডা প্রবেশ করতে পারেন। তবে এখানে উল্লেখ্য হলো- ভিসা দেওয়া না দেওয়া এবং ভিসার মেয়াদের বিষয়টি ভিসা অফিসারের উপর নির্ভর করে৷
কানাডার ভিজিট ভিসার জন্য আবেদন করার সময়, আবেদনকারীদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করেন। ভিসা পাওয়ার জন্য, আবেদনকারীদের অবশ্যই প্রমাণ দিতে হবে যে তারা কানাডায় তাদের সফরের সময় তাদের দেশে ফিরে যাবেন।
কিভাবে আমরা আপনার পাশে?
আমরা আপনার কানাডা ভ্রমণে পথচলার সঙ্গী হিসেবে পাশে থাকতে চাই। এ পাশে থাকতে ভিজিট ভিসার প্রতিটি পদক্ষেপে পরামর্শ দিয়ে আপনার পাশে থাকবো।
আপনাকে বলে রাখি, পৃথিবীর কেউ বা কোন এজেন্সি আপনাকে ভিসা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। কারণ, এটি একটি দেশের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিষয়। তবে ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে অনেকেই ভুল করেন। আপনাকে এ ভুল থেকে বেরিয়ে আসার পথ বাতলে দিতে চাই আপনাকে। যাতে আপনার ভিসা আবেদন ভিসা অফিসারের মনোপুত হয়।স্বপ্ন দেখবেন আপনি, স্বপ্নের বাস্তবায়নে পাশে থাকবে Dream Education Destination. জানেন নিশ্চয়ই, সঠিক গাইড লাইনে থাকলে, আপনার কানাডা ভ্রমণের স্বপ্ন পূরন হতে বাধ্য।
27/05/2023
কানাডায় মাস্টার্স লেভেলে পড়াশোনা
রাশিদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছর তিনেক আগেই মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন। তবে দেশে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পাওয়ায় হতাশায় ভুগতে থাকেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আরেকবার মাস্টার্স করতে চলে যান কানাডায়।
জাকিয়া আহমেদের গল্পটা ভিন্ন। অনার্স লেভেলেই তিনি পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু দুইবার ভিসা রিজেক্ট হওয়ায় মুষড়ে পড়েন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ইচ্ছার কারণে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ভর্তি পরীক্ষা দেন নি তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় একটি কলেজ থেকে অনার্স কমপ্লিট করে আবারও বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। এবার গন্তব্য ঠিক করে কানাডা।
রাশিদুল, জাকিয়ার মতো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন দেশের বাইরে পড়াশোনার জন্য ছুটছেন। তাদের পছন্দের শীর্ষে আছে কানাডা। ড়াশোনা শেষে এখানে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ থাকার বিশ্বের যেকোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
আমরা এর আগে আলোচনা করেছি কানাডায় আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম নিয়ে। এবার আমরা আলোচনা করবো কানাডায় মাস্টার্স লেভেলের পড়াশোনা নিয়ে।
সেপ্টেম্বর মাসে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির আবেদন শুরু হয়। এটাকে ফল সেমিস্টার বলা হয়। আবেদন করা যায় সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী সময়সীমা দু-তিন সপ্তাহ কমবেশি হতে পারে। তবে সময় হাতে আছে ভেবে বসে থাকলে হবে না, যত দ্রুত সম্ভব নির্ভূলভাবে আবেদন করা ভালো।
এর বাইরে উইন্টার (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) এবং সামার (মে থেকে আগস্ট) সেমিস্টারে মাস্টার্স লেভেলে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
মাস্টার্স লেভেলে আবেদন করতে অনার্স বা আগে যদি কোন মাস্টার্স করা থাকে তার ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট, IELTS এর মার্কশিট, শিক্ষকদের কাছ থেকে letter of recommendation ও উচ্চশিক্ষার বিস্তারিত পরিকল্পনা statement of purpose (SOP)। যেহেতু এসব আবেদন অনলাইনে করতে হয়; তাই এসব কাগজের স্ক্যান কপি সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে।
এক্ষেত্রে অনার্স বা মাস্টার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উঠিয়ে রাখতে হবে।
কানাডায় পড়াশোনা করতে যাওয়ার জন্য দরকার ইংরেজি ভাষার দক্ষতা৷ বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে কমপক্ষে IELTS ৬ থেকে ৭-এর মধ্যে থাকতে হয়। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে চাইবেন, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকবে। সেখান থেকে জেনে নিতে পারবেন তাদের রিকোয়ারমেন্টগুলো।
লেটার অব রিকমান্ডেশন, কানাডায় উচ্চশিক্ষার আবেদনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ সাধারণত কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করলে, সে কেমন তা জানার জন্য একটি গোপনীয় পত্র সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনার নির্বাচিত দু-তিনজন প্রফেসরের কাছে চাওয়া হয়। আপনার শিক্ষক আপনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন, তা লিখে জানাবেন। এই কার্যক্রমে আবেদনকারী কোনোভাবেই কিছু জানবে না। তবে শিক্ষার্থীদের উচিত হবে, যে যে শিক্ষকের নাম দেবে তার কাছ থেকে আগে অনুমতি নেওয়া। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকের বিশ্ববিদ্যালয় ডোমেইনের ই-মেইল ব্যবহার করা উচিত।
আবেদন করতে রেজাল্ট অনেক ভালো হতে হবে– এমন নয়। রেজাল্টের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ভেদে আলাদা হয়। তবে রেজাল্ট যত ভালো থাকবে, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সম্ভাবনাও বেশি থাকবে।
কানাডায় পড়ালেখার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে SPONSOR দেখাতে হয়। মানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে হবে, আপনি সেখাননকার শিক্ষার খরচ বহন করতে পারবেন। শিক্ষার্থীর SPONSOR মূলত বাবা-মা এবং কাছের আত্মীয়রাই হয়ে থাকেন।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ যে, অনেক কনসালটেন্সি ফার্ম বা ব্যাংক বলে এই SPONSOR তারা দেখিয়ে দেবে। কিন্তু এই পথে হাঁটা মোটেও উচিৎ হবে না। কারণ, কানাডা প্রায় দুর্নীতিমুক্ত দেশ। এখানে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার ক্ষেত্রে কোন প্রকার অসততার আশ্রয় নেওয়া অনুচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ার কার্যক্রমের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া। কানাডার ভিসা আবেদনের জন্য আপনি VFS - CANADA ওয়েব সাইটে যাবতীয় তথ্য পাবেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ যে, যিনি আপনাকে স্পন্সর করবেন উনার চাকরি / ব্যবসা সক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, জমি জমার হিসাব, ব্যাংক ব্যালেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এসগুলো আপনার ভিসা প্রসেসের সময় লাগবে।
কানাডা অনেকটাই অভিবাসীদের ওপর নির্ভরশীল। তাই অভিবাসীরা এখন প্রচুর কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ফুল টাইম কাজের সুযোগ আছে। সে সঙ্গে স্টুডেন্ট ভিসায় আসা শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রীর ফুল টাইম কাজ করার সুযোগ রয়েছে৷ এটিও কানাডার উচ্চশিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ৷ পড়ালেখা শেষে ১ থেকে ৩ বছরের ওয়ার্ক পারমিট। রয়েছে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ।
সব মিলিয়ে Dream Education Destination হিসেবে আমরা কিন্তু কানাডাকে সবার প্রথমে বিবেচনা করছি। তবে আমরা লক্ষ্য করেছি, যোগ্যতা থাকার পরও সঠিক গাইড লাইনের অভাবে, অনেক ছাত্র-ছাত্রী Dream Destination পর্যন্ত পৌছাতে পারেনা, অনেকে টাকা পয়সা খুইয়ে নানা হয়রানির শিকার হয়। অনেকে হয়তো সব যোগ্যতা থাকার পরও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে বেশি দূর যেতে পারে না। অনেকে বুঝতে পারেনা কিভাবে কোথা থেকে শুরু করতে হবে। আমরা এমন স্টুডেন্টদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
মেধা আপনার, সঠিক স্থানে মেধার বিকাশের দায়িত্ব আমাদের।
কিভাবে আমরা আপনার পাশে?
আমরা আপনার কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথচলার সঙ্গী হিসেবে পাশে থাকতে চাই। এ পাশে থাকার জন্য আপনাকে IELTS পরীক্ষা দিতে হবে। আর সেখানে আপনাকে কমপক্ষে ৬.০০ থেকে ৬.৫০ পেতে হবে। এর পর থেকে প্রতিটি পদক্ষেপেই আপনার পাশে আমরা থাকবো।
কানাডার যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা থেকে শুরু করতে চাই, আপনাকে সাহায্য করা। এর পর আপনার সাহায্য করবো বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার আনতে। আগেই আলোচনা করেছি কানাডার ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রেকমেন্ডশন লেটার। এই রেকমেন্ডশন লেটার লেখার ক্ষেত্রেও আমরা আপনাকে সাহায্য করতে চাই। আপনি যে রেকমেন্ডশন লেটার লিখবেন, সেটি দেখে দেওয়া এবং এডিট করার কাজে আপনাকে আমরা সাহায্য করবো।স্টেটমেন্ড অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডি নিয়ে লেখার ক্ষেত্রেও আপনার পাশে আমরা থাকবো। সে সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরের সঙ্গে যো্গাযোগের স্থাপনের কাজেও আপনাকে আমরা সাহায্য করবো।
সবশেষ থাকে ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া। আপনাকে বলে রাখি, পৃথিবীর কেউ বা কোন এজেন্সি আপনাকে ভিসা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। কারণ, এটি একটি দেশের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিষয়। তবে ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীই ভুল করেন। আপনাকে এ ভুল থেকে বেরিয়ে আসার পথ বাতলে দিতে চাই আপনাকে। যাতে আপনার ভিসা আবেদন ভিসা অফিসারের মনোপুত হয়।স্বপ্ন দেখবেন আপনি, স্বপ্নের বাস্তবায়নে পাশে থাকবে Dream Education Destination. জানেন নিশ্চয়ই, সঠিক গাইড লাইনে থাকলে, আপনার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরন হতে বাধ্য।
11/05/2023
https://immigrationnewscanada.ca/ircc-acknowledgment-of-receipt-aor-all-you-need-to-know/
IRCC Acknowledgment of Receipt (AOR) - All You Need To Know
An official document known as an Acknowledgment of Receipt (AOR) proves that IRCC has received your application. Learn what receiving an AOR indicates.
11/05/2023
https://www.cbc.ca/news/politics/canada-new-passport-more-nature-fewer-history-1.6838308
Canada's new passport to show more nature and less history | CBC News
Canada's passport is getting a makeover with a new design that will feature more natural landscapes and fewer Canadian historical moments and monuments.
21/04/2023
Canada Will Need 30,000 Immigrants To Fill Retiring Farmers
Canada Will Need 30,000 Immigrants To Fill Retiring Farmers
Approximately 40 percent farmers in Canada are expected to retire within the next 10 years, with 66 percent of them not having a succession plan.
17/04/2023
উচ্চশিক্ষার স্বর্গরাজ্য কানাডা
সামিন আশরাফ। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ-তে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তার ইচ্ছা ছিলো- দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া। বাবার কাছে এ কথা বলার পরেই তিনি জানতে চাইলেন কোন দেশে যেতে চান তিনি। দ্বিতীয়বার না ভেবে বলে দিলেন কানাডা। বাবাকে বলার পাঁচ বছর তিনি পিআর পেয়ে বাবা-মাকে ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন কানাডা, ছোট ভাইকেও নিয়ে গেছেন নিজের কাছে।
আরিফা বিনতে রামিসার শখ ছিলো কানাডায় পড়তে যাওয়ার। কিন্তু একা মেয়েকে দেশের বাইরে পাঠাতে চাননি তার বাবা-মা। বিয়ের পর স্বামীকে নিজের শখের কথা। স্বামী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আজ তিনি কানাডা প্রবাসী।
রাশিদুল ইসলাম, নন-ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরি করতেন। ভালো চাকরি, মোটা বেতন - এ সবকিছুকে পেছনে রেখে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন কানাডা। কারণ, নিশ্চিত ভবিষ্যত।
সামিন আশরাফ, আরিফা বিনতে রামিসা, রাশিদুল ইসলামের মতো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন দেশের বাইরে পড়াশোনার জন্য ছুটছেন।
তাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডা এখন পছন্দের শীর্ষে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় এখন কানাডার দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কারণ, এখানকার শিক্ষার মান বিশ্বের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। সে সঙ্গে পড়াশোনা শেষে এখানে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বিশ্বের যেকোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এর বাইরে দেশ হিসেবে কানাডা একদিকে যেমন সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর, অন্যদিকে নিরাপদ।
আজকে আমরা আলোচনা করবো কানাডায় আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম নিয়ে।
কানাডায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক শিক্ষার মেয়াদকাল তিন থেকে পাঁচ বছর। স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রামগলোতে তিন থেকে পাঁচ বছর অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ স্নাতক শেষ করে এখানে ভালো চাকরির সম্ভাবনা রয়েছে।
কানাডায় একটি স্নাতক ডিগ্রির ক্ষেত্রে ক্ষেত্রটি বিস্তৃত। রয়েছে বিজ্ঞান, গণিত, মানবিকতা, ইতিহাস এবং প্রকৌশলের মতো বিষয়। কানাডায় আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে।
কানাডার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বছরে তিনটি সেমিস্টার রয়েছে।
১) ফল (সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর)
কানাডায় এটাকেই একাডেমিক ইয়ার বা শিক্ষা বর্ষের শুরু ধরা হয়। এই সেমিস্টারেই বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আগ্রহী হন। যদিও ভর্তির আবেদনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী আলাদা। সাধারণত আন্ডার গ্রাড লেভেলে জুনের দিকে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
২) উইন্টার (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল)
আন্ডার গ্রাড লেভেলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সেমিস্টারে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে। ভর্তির শেষ সময় আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
৩) সামার (মে থেকে আগস্ট)
কানাডায় এই সময়ে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর ছুটি থাকে। বিশেষ করে যারা আন্ডার গ্রাড লেভেলে পড়েন। তবে এ সেমিস্টারেও ভর্তি সম্পন্ন করে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- যেই সেমিস্টারেই আপনি আবেদন করেন না কেন, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করাটা বোকামি। সুতরাং যে বিশ্ববিদ্যালয় আপনি পছন্দ করবেন, সেখানে শুরুতেই আবেদন করাটা ভালো।
আন্ডারগ্যাজুয়েট লেভেলে ভর্তির জন্য কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মানে আমাদের দেশের উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পাশ হতে হবে। কানাডার প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও ফরাসি দুটি ভাষাতেই পড়াশোনা করা যায়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের ভাষা বেছে নিতে পারেন। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে ইংরেজি ভাষাতে পড়াশোনাটাই সব শিক্ষার্থী বেছে নেন। যার জন্য আপনার সবার আগে প্রয়োজন IELTS করা। আর সেখানে আপনাকে কমপক্ষে ৬.০০ থেকে ৬.৫০ পেতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক এবং কানাডায় উচ্চ শিক্ষার জন্য অতি আবশ্যিক।
কানাডায় পড়ালেখার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে SPONSOR দেখাতে হয়। মানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে হবে, আপনি সেখাননকার শিক্ষার খরচ বহন করতে পারবেন। শিক্ষার্থীর SPONSOR মূলত বাবা-মা এবং কাছের আত্মীয়রাই হয়ে থাকেন।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হচ্ছে, অনেক কনসালটেন্সি ফার্ম বা ব্যাংক বলে এই SPONSOR তারা দেখিয়ে দেবে। কিন্তু এই পথে হাঁটা মোটেও উচিৎ হবে না। কারণ, কানাডা প্রায় দুর্নীতিমুক্ত দেশ। এখানে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার ক্ষেত্রে কোন প্রকার অসততার আশ্রয় নেওয়া অনুচিত।
আলোচনার এই পর্যায়ে আমরা কথা বলবো, রেকমেন্ডশন লেটার নিয়ে। কানাডার ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রেকমেন্ডশন লেটার। রেকমেন্ডশন লেটার হল একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক এবং গবেষণা করার যোগ্যতা মূল্যায়ন পত্র, যার আপনার এবং আপনার কাজের সঙ্গে একটি প্রয়েসরকে ধারণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনেক সময়ই এটি পড়ে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। রেকমেন্ডশন লেটারের জন্য ইউনিভার্সিটিগুলোর নিজস্ব ফরম রয়েছে।
এবার আমরা আলোচনা করবো- স্টেটমেন্ড অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডি নিয়ে। অনেক সময় অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজে স্টেটমেন্ট অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডি লিখতে হয়। এটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও মাস্টার্স এবং পিএইচডি লেভেলের জন্য খুবই দরকারী।
আপনি আপনার উচ্চ শিক্ষার জন্য যেই প্রোগ্রামটি ঠিক করেছেন, সেই প্রোগ্রামের অ্যাডভাইজার বা ডিনকে স্টেটমেন্ড অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডিটি মেইল করবেন। তাকে জানাবেন, আপনার আগ্রহের ক্ষেত্রটি সম্পর্কে। তবে একটি মেইলেই যে আপনি উত্তর পেয়ে যাবেন, সেটি ভাবার কোন কারণ নেই। বেশ কয়েকবার মেইল পাঠানো লাগবে আপনাকে।
কানাডায় উচ্চ শিক্ষার জন্য আগ্রহীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্কলারশিপের ব্যবস্থা। যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদের ব্যাপারে কানাডার সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সচেতন।
কানাডার প্রধান প্রধান স্কলারশিপগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভেনিয়ার কানাডা গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ, আইডিআরসি ডক্টরাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড, ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পোস্ট গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন্টার্নশিপ (আইআরডিআই) প্রোগ্রাম, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রাম ইত্যাদি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ার কার্যক্রমের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া। কানাডার ভিসা আবেদনের জন্য আপনি VFS - CANADA ওয়েব সাইটে যাবতীয় তথ্য পাবেন।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ যে, যিনি আপনাকে স্পন্সর করবেন উনার চাকরি / ব্যবসা সক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, জমি জমার হিসাব, ব্যাংক ব্যালেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এসগুলো আপনার ভিসা প্রসেসের সময় লাগবে।
আলোচনার শুরুতেই বলেছি, কানাডা অভিবাসীদের জন্য স্বর্গরাজ্য। কানাডা অনেকটাই অভিবাসীদের ওপর নির্ভরশীল। তাই অভিবাসীরা এখন প্রচুর কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ফুল টাইম কাজের সুযোগ আছে। সে সঙ্গে স্টুডেন্ট ভিসায় আসা শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রীর ফুল টাইম কাজ করার সুযোগ রয়েছে৷ এটিও কানাডার উচ্চশিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ৷ পড়ালেখা শেষে ১ থেকে ৩ বছরের ওয়ার্ক পারমিট। রয়েছে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ।
সব মিলিয়ে Dream Education Destination হিসেবে আমরা কিন্তু কানাডাকে সবার প্রথমে বিবেচনা করছি। তবে আমরা লক্ষ্য করেছি, যোগ্যতা থাকার পরও সঠিক গাইড লাইনের অভাবে, অনেক ছাত্র-ছাত্রী Dream Destination পর্যন্ত পৌছাতে পারেনা, অনেকে টাকা পয়সা খুইয়ে নানা হয়রানির শিকার হয়। অনেকে হয়তো সব যোগ্যতা থাকার পরও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে বেশি দূর যেতে পারে না। অনেকে বুঝতে পারেনা কিভাবে কোথা থেকে শুরু করতে হবে। আমরা এমন স্টুডেন্টদের পাশে দাড়াতে চাই। মেধা আপনার, সঠিক স্থানে মেধার বিকাশের দায়িত্ব আমাদের।
কিভাবে আমরা আপনার পাশে?
আমরা আপনার কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথচলার সঙ্গী হিসেবে পাশে থাকতে চাই। এ পাশে থাকার জন্য আপনাকে IELTS পরীক্ষা দিতে হবে। আর সেখানে আপনাকে কমপক্ষে ৬.০০ থেকে ৬.৫০ পেতে হবে। এর পর থেকে প্রতিটি পদক্ষেপেই আপনার পাশে আমরা থাকবো।
কানাডার যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা থেকে শুরু করতে চাই, আপনাকে সাহায্য করা। এর পর আপনার সাহায্য করবো বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার আনতে।
আগেই আলোচনা করেছি কানাডার ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রেকমেন্ডশন লেটার। এই রেকমেন্ডশন লেটার লেখার ক্ষেত্রেও আমরা আপনাকে সাহায্য করতে চাই। আপনি যে রেকমেন্ডশন লেটার লিখবেন, সেটি দেখে দেওয়া এবং এডিট করার কাজে আপনাকে আমরা সাহায্য করবো।
স্টেটমেন্ড অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডি নিয়ে লেখার ক্ষেত্রেও আপনার পাশে আমরা থাকবো। সে সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরের সঙ্গে যো্গাযোগের স্থাপনের কাজেও আপনাকে আমরা সাহায্য করবো।
সবশেষ থাকে ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া। আপনাকে বলে রাখি, পৃথিবীর কেউ বা কোন এজেন্সি আপনাকে ভিসা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। কারণ, এটি একটি দেশের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিষয়। তবে ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীই ভুল করেন। আপনাকে এ ভুল থেকে বেরিয়ে আসার পথ বাতলে দিতে চাই আপনাকে। যাতে আপনার ভিসা আবেদন ভিসা অফিসারের মনোপুত হয়।
স্বপ্ন দেখবেন আপনি, স্বপ্নের বাস্তবায়নে পাশে থাকবে Dream Education Destination. জানেন নিশ্চয়ই, সঠিক গাইড লাইনে থাকলে, আপনার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরন হতে বাধ্য।
07/04/2023
অন্য কোন ভিসা নিয়ে কানাডায় থাকা অবস্থায় কি স্টাডি ভিসায় আবেদন করা যায়?
Can I apply for a study permit if I’m already in Canada?
Yes. You can apply for a study permit while you’re in Canada. Find out what instructions you need to follow and what forms you need to use by telling us where you’re applying from.
21/03/2023
Good News!!!
Canada announces extension of post-graduation work permits for up to 18 months to retain high-skilled talent
Employers are facing unprecedented challenges in finding and retaining the workers they need during this period of economic recovery and growth.