17/04/2023
উচ্চশিক্ষার স্বর্গরাজ্য কানাডা
সামিন আশরাফ। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ-তে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তার ইচ্ছা ছিলো- দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া। বাবার কাছে এ কথা বলার পরেই তিনি জানতে চাইলেন কোন দেশে যেতে চান তিনি। দ্বিতীয়বার না ভেবে বলে দিলেন কানাডা। বাবাকে বলার পাঁচ বছর তিনি পিআর পেয়ে বাবা-মাকে ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন কানাডা, ছোট ভাইকেও নিয়ে গেছেন নিজের কাছে।
আরিফা বিনতে রামিসার শখ ছিলো কানাডায় পড়তে যাওয়ার। কিন্তু একা মেয়েকে দেশের বাইরে পাঠাতে চাননি তার বাবা-মা। বিয়ের পর স্বামীকে নিজের শখের কথা। স্বামী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আজ তিনি কানাডা প্রবাসী।
রাশিদুল ইসলাম, নন-ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরি করতেন। ভালো চাকরি, মোটা বেতন - এ সবকিছুকে পেছনে রেখে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন কানাডা। কারণ, নিশ্চিত ভবিষ্যত।
সামিন আশরাফ, আরিফা বিনতে রামিসা, রাশিদুল ইসলামের মতো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন দেশের বাইরে পড়াশোনার জন্য ছুটছেন।
তাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডা এখন পছন্দের শীর্ষে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় এখন কানাডার দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কারণ, এখানকার শিক্ষার মান বিশ্বের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। সে সঙ্গে পড়াশোনা শেষে এখানে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বিশ্বের যেকোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এর বাইরে দেশ হিসেবে কানাডা একদিকে যেমন সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর, অন্যদিকে নিরাপদ।
আজকে আমরা আলোচনা করবো কানাডায় আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম নিয়ে।
কানাডায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক শিক্ষার মেয়াদকাল তিন থেকে পাঁচ বছর। স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রামগলোতে তিন থেকে পাঁচ বছর অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ স্নাতক শেষ করে এখানে ভালো চাকরির সম্ভাবনা রয়েছে।
কানাডায় একটি স্নাতক ডিগ্রির ক্ষেত্রে ক্ষেত্রটি বিস্তৃত। রয়েছে বিজ্ঞান, গণিত, মানবিকতা, ইতিহাস এবং প্রকৌশলের মতো বিষয়। কানাডায় আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে।
কানাডার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বছরে তিনটি সেমিস্টার রয়েছে।
১) ফল (সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর)
কানাডায় এটাকেই একাডেমিক ইয়ার বা শিক্ষা বর্ষের শুরু ধরা হয়। এই সেমিস্টারেই বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আগ্রহী হন। যদিও ভর্তির আবেদনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী আলাদা। সাধারণত আন্ডার গ্রাড লেভেলে জুনের দিকে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
২) উইন্টার (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল)
আন্ডার গ্রাড লেভেলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সেমিস্টারে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে। ভর্তির শেষ সময় আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
৩) সামার (মে থেকে আগস্ট)
কানাডায় এই সময়ে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর ছুটি থাকে। বিশেষ করে যারা আন্ডার গ্রাড লেভেলে পড়েন। তবে এ সেমিস্টারেও ভর্তি সম্পন্ন করে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- যেই সেমিস্টারেই আপনি আবেদন করেন না কেন, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করাটা বোকামি। সুতরাং যে বিশ্ববিদ্যালয় আপনি পছন্দ করবেন, সেখানে শুরুতেই আবেদন করাটা ভালো।
আন্ডারগ্যাজুয়েট লেভেলে ভর্তির জন্য কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মানে আমাদের দেশের উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পাশ হতে হবে। কানাডার প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও ফরাসি দুটি ভাষাতেই পড়াশোনা করা যায়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের ভাষা বেছে নিতে পারেন। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে ইংরেজি ভাষাতে পড়াশোনাটাই সব শিক্ষার্থী বেছে নেন। যার জন্য আপনার সবার আগে প্রয়োজন IELTS করা। আর সেখানে আপনাকে কমপক্ষে ৬.০০ থেকে ৬.৫০ পেতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক এবং কানাডায় উচ্চ শিক্ষার জন্য অতি আবশ্যিক।
কানাডায় পড়ালেখার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে SPONSOR দেখাতে হয়। মানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে হবে, আপনি সেখাননকার শিক্ষার খরচ বহন করতে পারবেন। শিক্ষার্থীর SPONSOR মূলত বাবা-মা এবং কাছের আত্মীয়রাই হয়ে থাকেন।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হচ্ছে, অনেক কনসালটেন্সি ফার্ম বা ব্যাংক বলে এই SPONSOR তারা দেখিয়ে দেবে। কিন্তু এই পথে হাঁটা মোটেও উচিৎ হবে না। কারণ, কানাডা প্রায় দুর্নীতিমুক্ত দেশ। এখানে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার ক্ষেত্রে কোন প্রকার অসততার আশ্রয় নেওয়া অনুচিত।
আলোচনার এই পর্যায়ে আমরা কথা বলবো, রেকমেন্ডশন লেটার নিয়ে। কানাডার ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রেকমেন্ডশন লেটার। রেকমেন্ডশন লেটার হল একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক এবং গবেষণা করার যোগ্যতা মূল্যায়ন পত্র, যার আপনার এবং আপনার কাজের সঙ্গে একটি প্রয়েসরকে ধারণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনেক সময়ই এটি পড়ে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। রেকমেন্ডশন লেটারের জন্য ইউনিভার্সিটিগুলোর নিজস্ব ফরম রয়েছে।
এবার আমরা আলোচনা করবো- স্টেটমেন্ড অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডি নিয়ে। অনেক সময় অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজে স্টেটমেন্ট অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডি লিখতে হয়। এটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও মাস্টার্স এবং পিএইচডি লেভেলের জন্য খুবই দরকারী।
আপনি আপনার উচ্চ শিক্ষার জন্য যেই প্রোগ্রামটি ঠিক করেছেন, সেই প্রোগ্রামের অ্যাডভাইজার বা ডিনকে স্টেটমেন্ড অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডিটি মেইল করবেন। তাকে জানাবেন, আপনার আগ্রহের ক্ষেত্রটি সম্পর্কে। তবে একটি মেইলেই যে আপনি উত্তর পেয়ে যাবেন, সেটি ভাবার কোন কারণ নেই। বেশ কয়েকবার মেইল পাঠানো লাগবে আপনাকে।
কানাডায় উচ্চ শিক্ষার জন্য আগ্রহীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্কলারশিপের ব্যবস্থা। যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদের ব্যাপারে কানাডার সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সচেতন।
কানাডার প্রধান প্রধান স্কলারশিপগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভেনিয়ার কানাডা গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ, আইডিআরসি ডক্টরাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড, ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পোস্ট গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন্টার্নশিপ (আইআরডিআই) প্রোগ্রাম, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রাম ইত্যাদি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ার কার্যক্রমের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া। কানাডার ভিসা আবেদনের জন্য আপনি VFS - CANADA ওয়েব সাইটে যাবতীয় তথ্য পাবেন।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ যে, যিনি আপনাকে স্পন্সর করবেন উনার চাকরি / ব্যবসা সক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, জমি জমার হিসাব, ব্যাংক ব্যালেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এসগুলো আপনার ভিসা প্রসেসের সময় লাগবে।
আলোচনার শুরুতেই বলেছি, কানাডা অভিবাসীদের জন্য স্বর্গরাজ্য। কানাডা অনেকটাই অভিবাসীদের ওপর নির্ভরশীল। তাই অভিবাসীরা এখন প্রচুর কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ফুল টাইম কাজের সুযোগ আছে। সে সঙ্গে স্টুডেন্ট ভিসায় আসা শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রীর ফুল টাইম কাজ করার সুযোগ রয়েছে৷ এটিও কানাডার উচ্চশিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ৷ পড়ালেখা শেষে ১ থেকে ৩ বছরের ওয়ার্ক পারমিট। রয়েছে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ।
সব মিলিয়ে Dream Education Destination হিসেবে আমরা কিন্তু কানাডাকে সবার প্রথমে বিবেচনা করছি। তবে আমরা লক্ষ্য করেছি, যোগ্যতা থাকার পরও সঠিক গাইড লাইনের অভাবে, অনেক ছাত্র-ছাত্রী Dream Destination পর্যন্ত পৌছাতে পারেনা, অনেকে টাকা পয়সা খুইয়ে নানা হয়রানির শিকার হয়। অনেকে হয়তো সব যোগ্যতা থাকার পরও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে বেশি দূর যেতে পারে না। অনেকে বুঝতে পারেনা কিভাবে কোথা থেকে শুরু করতে হবে। আমরা এমন স্টুডেন্টদের পাশে দাড়াতে চাই। মেধা আপনার, সঠিক স্থানে মেধার বিকাশের দায়িত্ব আমাদের।
কিভাবে আমরা আপনার পাশে?
আমরা আপনার কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথচলার সঙ্গী হিসেবে পাশে থাকতে চাই। এ পাশে থাকার জন্য আপনাকে IELTS পরীক্ষা দিতে হবে। আর সেখানে আপনাকে কমপক্ষে ৬.০০ থেকে ৬.৫০ পেতে হবে। এর পর থেকে প্রতিটি পদক্ষেপেই আপনার পাশে আমরা থাকবো।
কানাডার যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা থেকে শুরু করতে চাই, আপনাকে সাহায্য করা। এর পর আপনার সাহায্য করবো বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার আনতে।
আগেই আলোচনা করেছি কানাডার ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রেকমেন্ডশন লেটার। এই রেকমেন্ডশন লেটার লেখার ক্ষেত্রেও আমরা আপনাকে সাহায্য করতে চাই। আপনি যে রেকমেন্ডশন লেটার লিখবেন, সেটি দেখে দেওয়া এবং এডিট করার কাজে আপনাকে আমরা সাহায্য করবো।
স্টেটমেন্ড অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডি নিয়ে লেখার ক্ষেত্রেও আপনার পাশে আমরা থাকবো। সে সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরের সঙ্গে যো্গাযোগের স্থাপনের কাজেও আপনাকে আমরা সাহায্য করবো।
সবশেষ থাকে ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া। আপনাকে বলে রাখি, পৃথিবীর কেউ বা কোন এজেন্সি আপনাকে ভিসা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। কারণ, এটি একটি দেশের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিষয়। তবে ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীই ভুল করেন। আপনাকে এ ভুল থেকে বেরিয়ে আসার পথ বাতলে দিতে চাই আপনাকে। যাতে আপনার ভিসা আবেদন ভিসা অফিসারের মনোপুত হয়।
স্বপ্ন দেখবেন আপনি, স্বপ্নের বাস্তবায়নে পাশে থাকবে Dream Education Destination. জানেন নিশ্চয়ই, সঠিক গাইড লাইনে থাকলে, আপনার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরন হতে বাধ্য।