কলমের কালি

কলমের কালি

Share

By The Pen and What They Write. Quran (68:1)

10/07/2021

আমার ছোট বোন আমার বরের সামনে আসা তো দূরের কথা আমার ছোট বোনের ছায়াও তিনি এখনো দেখেন নাই!

কি অবাক লাগছে?

অবাক লাগারই কথা। কারণ আমরা ইসলাম থেকে এত বেশিই দূরে সরে গিয়েছি যে ইসলামী নীতি মেনে চলতে দেখলে আমারা অবাক হই, নীতি ছেড়ে দিলে অবাক হই না।

এই যে আমার বরের একমাত্র শালি আমার ছোট বোন। সে তার দুলাভাই এর সামনে না আসাতে কি তার কিংবা আমার বরের কোনো ক্ষতি হয়েছে বলেন তো?আমার বোন তার সামনে না এসেও তাকে শ্রদ্ধা করে, আমার বর তার শালির সাথে তথাকথিত দুষ্টামি, ফাজলামি না করেও তাকে বোনের মতোই স্নেহ করে।

কেনো সামনে গিয়ে ভুরু নাচিয়ে, ভাইয়া ভাইয়া করে নো মাইন্ডে গায়ে লেগে বসে থাকতে হবে বলেন তো?কি আছে এইটাতে? এই ধরনের মেলামেশার দ্বারা কি আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় হয়?!

আমি এমন অনেক ঘটনা জানি যেখানে শালি-দুলাভাই এর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠার কারণে বহু সাজানো গোছানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে! এই ভয়ংকর, অসভ্য, অবৈধ সম্পর্কের জের ধরে প্রাণ গেছে অনেকের!

আরেক দল আছে যারা মুখে নিকাব, গায়ে বোরকা আবার হাতে পায়ে মোজা লাগিয়ে দুলাভাই, দুলাভাই করে দুষ্টামি, ফাজলামি, হাসাহাসি করেন!

কি ভাই! ইসলামের নীতি কে কি মনে করেন আপনারা?? ছোট, তুচ্ছ? নিজের মন মতো, সুযোগ মতো নিয়ম বানিয়ে কিছুটা মানবো, কিছুটা ছাড়বো?
এমন নিয়ম মেনে ইসলামের নীতিকে ছোট করে দেখার কোনো দরকার নাই। পারলে পুরোটা কিংবা যতটা সম্ভব মানার চেষ্টা করেন।

পরিশেষে বলতে চাই, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দেবর মৃত্যু তুল্য।

দেবর ভাবীর জন্য যেমন মৃত্যু তুল্য ঠিক তেমনই শালি দুলাভাই এর জন্য দুলাভাই শালির জন্য মৃত্যু সমতুল্য।

আপনি যতই এইটারে ভাই বোনের সম্পর্কের মতো বানাতে চান না মনে রাখবেন ইসলামের নীতির বাহিরে সামান্যতম কল্যাণও নাই। আল্লাহ আমাদের বুঝ দান করুক।

লেখাঃ তুরাবি ফারহা

29/06/2021

সদ্য কেনা নতুন গাড়ীটা যখন পরিষ্কার করছিলাম তখন আমার ছয় বছরের ছেলেটা ধাতব কিছু দিয়ে গাড়ীটাতে কিছু লিখছিল । খুব শখের গাড়ী তাই রাগ সামলাতে না পেরে লিখা অবস্হায় ছেলের হাতের উপর আঘাত করলাম । রাগের মাথায় খেয়াল করেনি যা দিয়ে আঘাত করেছি সেটা ছিল লোহার একটা পাইপ!
আমার ছোট্ট ছেলেটা হাসপাতালের বেডে শুয়ে ঘুমাচ্ছিল আর আমি ওর পাশে বসে কাঁদছি । লোহার আঘাতে চারটা আঙুল ভেঙে গেছে। আর ঠিক হবে না কখনও । আমার চোখের পানি ওর গালের উপর পড়ে ঘুম ভেঙে যায় ওর । ব্যান্ডেজ করা হাতের দিকে চেয়ে আমায় বলে 'সরি বাবা, আমি আর গাড়ীর উপর লিখব না । আমার আঙুলগুলো কি আবার ফিরে পাব-বাবা?'
বাসায় ফিরে পুরো গাড়ীটা দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে ফেলি । তারপর ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ি । আমার চোখ পড়ে গাড়ীর গায়ে ছেলের লিখাটার উপর-' Love u Dad ' !
পরদিন সকালে সেই হতভাগ্য বাবা আর বেঁচে নেই । ভীষণ কষ্টে আত্মহত্যা করেন। তার নিথর দেহের পাশে একটা চিরকুট পড়ে ছিল, তাতে লিখেছিল :
'Anger & love have no limits. The choice is yours!'
#রেগে_গেলেন_তো_হেরে_গেলেন।।
আমরা এমন অনেক মানুষ আছি যারা নিজের রাগের জন্য জীবনে অনেক কিছু হারিয়ে ফেলি।

রাগ জিনিসটা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।।
ইসলাম রাগ করতে নিষেধ করেছে।।।
(অজ্ঞাতনামা)

28/06/2021

"ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান" পড়ার পর মোহিত হয়ে ব্রিটিশ লেখক ইভন রিডলিকে মেসেজ দিয়েছিলাম, "রিডলি! আমি বাংলাদেশে বসে আপনার বইটি পড়ে ফেললাম, চমৎকার লিখেছেন!"
ঘন্টা দুয়েক পর রিডলি ফিরতি মেসেজ দিয়েছেন, "নুসরাত! পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। জেনে ভালো লাগলো।"

আমি রিডলিকে দেখে শুনে ও পড়ে সত্যি মোহিত।

আমাদের দেশের কিছু লেখক একটু প্ল্যাটফর্ম পেলেই পাঠকদের নাগাল থেকে নিজেকে দূর বহুদূরে সরিয়ে নেন। একটা দারুণ ভাবসাব এসে যায় তাদের মাঝে। পাঠকদের টুকরো মেসেজ তখন চোখে পড়ে না, পড়লেও সযত্নে এড়িয়ে যান। কিন্তু ইভন রিডলি সুদূর ব্রিটেনে বসে বাংলাদেশ থেকে নক করা স্নাতক পড়ুয়া একটি অপরিচিত মেয়ের ছোট্ট মেসেজটিও গুরুত্বের সাথে নেন।
সবচেয়ে চমৎকার বিষয় হলো, তিনি নাম ধরে সম্বোধন করেন।

যাকে নিয়ে এতক্ষণ পড়লেন, এবার চলুন তার বইটি ও তার কিছু পরিচয় জেনে নেই।

"ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান" বইটি
পড়তে পড়তে চোখে ভাসবে নাইন
ইলেভেনের সেই প্রখর উত্তপ্ত মুহূর্তের
দৃশ্য। এই বইয়ে পুরো সময়টার উত্তেজনাকর চিত্র
তুলে ধরেছেন ইভন রিডলি।

একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক তিনি। সানডে সান, অবজারভার সহ
বিখ্যাত সব সংবাদপত্রে কাজের সুবাদে পাকিস্তান
হয়ে তালেবানদের ঘাঁটি আফগানিস্তানে অনুপ্রবেশ
করেন তিনি। লক্ষ্য একটিই - টুইন টাওয়ারে
হামলাকারী তালেবানদের সম্পর্কে আফগান নেটিভদের
মন্তব্য সংগ্রহ করে তা বিশ্ববাসীকে জানানো।

কিন্তু ভাগ্যের কী পথরেখা! তালেবানদের হাতেই
ধরা পড়ে যান ইভন রিডলি। নাইন ইলেভেনের ঘটনার
দু সপ্তাহ পরেই রিডলিকে খোদ তালেবানদের
ডেরায় বন্দী হতে হলো।

পশ্চিমা বিশ্বের কাছে অন্যতম যুদ্ধাস্ত্র হলো যৌন
নিপীড়ন। রিডলি ভয়ে ভয়ে প্রহর গুনতে থাকেন -
এই বুঝি তাকে গণধর্ষনের স্বীকার হতে হয়!
কিন্তু নাহ! তালেবানরা তাকে অতিথি হিসেবে
সম্বোধন করে অনুসন্ধান কাজ চালায়।

প্রচন্ড রকমের নারীবাদী রিডলি তালেবানদের প্রতি যখন তখন
ব্রিটিশ গালি ছুড়তে থাকেন, আর বিনিময়ে তালেবান
যোদ্ধাদের কাছ থেকে উপহার পান মুচকি হাসি।
এ ও কী সম্ভব! বন্দিনী রিডলি ভাবেন।
রাতে তালেবান কমান্ডার রিডলিকে রুমের ভেতর
থেকে লক করে ঘুমাতে বলেন যাতে কোন
পুরুষ তাকে বিরক্ত করতে না পারে। তথ্য
অনুসন্ধানে জেরা করার সময়ও তালেবানরা তার দিকে
না তাকিয়েই তাকে প্রশ্ন করে যান। সূক্ষ্ম
বুদ্ধিমতী দুর্ধর্ষ সাংবাদিক রিডলির চোখ এসব
এড়িয়ে যায় না।

সোনালী চুলের অধিকারী রিডলির গোসলের
সময় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন খোদ তালেবান
কমান্ডার, নাহ্ কোনদিন বিরক্ত করেননি।
এ ও কী সম্ভব! রিডলি ভাবেন।
একজন বন্দিনী, হাজার হাজার মাইল দূরে কোন এক
চরমপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠীর কারাগারে দিন অতিবাহিত
করেন, যে জঙ্গি গোষ্ঠী তাকে আশ্বাস দিয়ে বলে "
আপনি অচিরেই দেশে ফিরবেন, চিন্তা করবেন না।
"
জঙ্গি কমান্ডার প্রতিদিন খোঁজ নেন তার কিছু
প্রয়োজন আছে কিনা, কোন অভিযোগ আছে
কিনা।
পশ্চিমা বিশ্ব তখন রিডলির প্রাণ নাশের আশঙ্কায় কলরব
তুলছে রাস্তা ঘাটে।
অবশেষে রিডলির সম্মুখে আসেন মোল্লা ওমর।
মোল্লা ওমরকে দেখে তার শ্বাসরোধ হওয়ার
উপক্রম! মোল্লা তাকে অভয় দিয়ে জিজ্ঞেস
করেন - "What's your religion?"
রিডলি জবাব দেন, তিনি খ্রিস্টান।
আবার প্রশ্ন আসে "What sort of Christian?"
এরপর মোল্লা ওমর তাকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত
দেন।

রিডলি মোল্লা ওমরের কথায় চমকে ওঠেন, শুধু বলেন "এরকম এক কঠিন
পরিস্থিতিতে আমি ইসলাম নিয়ে ভাবছিনা। তবে যদি
মুক্তি পাই তাহলে আমি ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা
করবো। "
মোল্লা ওমর মুচকি হেসে প্রস্থান করেন।

অবশেষে রিডলি মুক্ত হন, দশ দিনের বন্দিজীবন
থেকে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির প্রথম পদক্ষেপে আফগান- পাক সীমান্তে
রাজ্যের সাংবাদিক তাকে ছেঁকে ধরে - "রিডলি!
আপনি সুস্হ আছেন?"
তিনি পাকিস্তানের ব্রিটিশ দূতাবাসে পৌঁছেন যখন তখনও
বাতাসে প্রশ্ন ভাসে - "তালেবানরা কী আপনার উপর
যৌন নির্যাতন করেছে?"
প্রশ্ন শুনে রিডলি হাসেন, না সূচক উত্তর দেন।
প্রশ্নকারকেরা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকায়।
লন্ডনে ফেরেন রিডলি।
তিনি তার কথা রাখার প্রক্রিয়া শুরু করেন -
ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। টানা দেড় বছর
কুরআন হাদীস সহ সব বিষয়ে জানতে সচেষ্ট হন,
বুঝার জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ করেন । অবশেষে
২০০৩ সালে রিডলি ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। বলেন "এটি এক চমৎকার জীবন ব্যবস্থা!"

এরপর আমরা একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিককে হিজাব পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাই। তিনি বলেন -
"ওয়াল স্ট্রিটের একজন সফল ব্যবসায়ী যেমন
স্যুটের বাইরে শুধু গেঞ্জি পরে অফিসে
যেতে পারেন না ঠিক তেমনই ঢিলেঢালা পোশাকও মুসলিম
নারীদের আলাদা পরিচয় বহন করে।"

অনেক অনেক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে
আছে বইটির পাতায় পাতায়।
সংগ্রহ করুন এবং পড়ুন। নিজের ঝুলিতে সংগ্রহে রাখার
মতো একটি বই "ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান। "
রিডলির জন্য ভালবাসা।

___________নুসরাত তাজরী

27/06/2021

আমাদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা- শহীদ ইমাম ওমর ফারুক ত্রিপুরা
শহীদ ইমাম ওমর ফারুক ত্রিপুরার জীবন কাহিনী এবং সেদিনের ঘটনা শুনে আমার কাছে একটা উপন্যাস মনে হলো! উনার পরিবারের নিকট থেকে যা জানা গেলো সেটা শুধু গল্প উপন্যাসে দেখা যায়। ওমর ফারুকের ত্বাকওয়া ও ঈমানী চেতনার কাছে অনেক বড় বড় আলেমও হার মেনে যাবে।
শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার তিন মেয়ে এক ছেলে। হাফসা ত্রিপুরা, আমেনা ত্রিপুরা, ও মায়মুনা ত্রিপুরা। হাফসা ত্রিপুরার বিয়ে হয়ে গেছে, তিনি স্বামীর সাথে বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। আমেনা ত্রিপুরা ৭মে শ্রেণিতে পড়েন, ছেলে ইব্রাহীম ত্রিপুরা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ছোট মেয়ে মায়মুনা ত্রিপুরা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সবচেয়ে খুশির খবর তারা সবাই মাদ্রাসাতে পড়াশোনা করছে। খুশির খবর বললাম এই কারনে যে, এই পরিবারটি শুধু নামেই মুসলিম হতে চায়নি। ওমর ভাই নিজে এবং নিজ পরিবারকে ইসলামের শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
পুর্নেন্দু ত্রিপুরা বৌদ্ধ ধর্ম থেকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। ২০১৪ সালে পুর্নেন্দু ত্রিপুরা থানচিতে তার একজন উপজাতীয় মুসলিম বন্ধুর দাওয়াতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বান্দরবানে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ওমর ফারুক নাম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় গিয়ে তাবলিগে যোগ দেন। তাবলিগে এক চিল্লা(৪০দিন) সময় দেয়ার পর নিজ গ্রামে ফিরে এসে মেয়ে হাফসা ও আমেনাকে ঢাকায় নিয়ে এসে মাদ্রাসাতে ভর্তি করে দেন। এই দু'জন এখন ঢাকাতে আছে।
ঢাকা থেকে রোয়াংছড়িতে ফিরে আসার পর শান্তিবাহিনী তার বাড়িতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। কিন্তু সাহসী ওমর ফারুক তাদেরকে বলে, ধর্ম পরিবর্তন তার গণতান্ত্রিক অধিকার। কাজেই কোনো ভুল বা অন্যায় তিনি করেননি। তবুও সন্ত্রাসীরা তাকে হুমকি দিলে তিনি সন্ত্রাসীদের বলেন, তোমরা কী করবা আমার। প্রাণ নিবা, নাও আমি বুক পেতে দিলাম। গুলি করো। আমি শহীদ হয়ে যাবো। এই বলে তিনি জামার বোতাম খুলে সন্ত্রাসীদের সামনে বুক চেতিয়ে দাঁড়ান। সেদিন ওমর ফারুকের ত্বাকওয়া ও ঈমানী চেতনার কাছে হতবিহ্বল হয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি না করে ফিরে যায়।
এরপর থেকে তিনি তার আশেপাশের অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াত দিতে শুরু করেন এবং একটির পর একটি পরিবারকে ইসলামের আলোয় দিক্ষিত করতে থাকেন। বেশ কিছু পরিবার ইসলামের সুশীতল ছায়ায় চলে আসলে ওমর ফারুক একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং এ লক্ষ্যে নিজের এক একর জমি মসজিদকে দান করেন। নিজেই সে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে নিজেই সেখানে অক্তিয় নামাজের ইমামতি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে এই মসজিদে তিনি মাইক লাগিয়ে আজান দেয়া শুরু করেন।
এই মাইক লাগানোর পর থেকে তার উপর নতুন করে প্রাণনাশের হুমকি শুরু হয়। তিনি প্রায়ই তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট বলতেন, ওরা আমাকে হত্যা করবে।
ওমর ফারুকের মেজো মেয়ে আমেনার বর্ণনা মতে, তার বাবা প্রতিদিন রাতে এশার নামাজ পড়ে এসে পরিবারের সাথে রাতের খাবার খান। ১৮ জুন শুক্রবার দিবাগত রাতেও অন্যান্য দিনের মতোই তার বাবা এশার নামাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে একটি চেয়ারে বসে বিশ্রাম গ্রহণ করছিলেন। বাড়ির অন্যান্যরা রাতের খাবার রেডি করছিলো। এসময় একটি কণ্ঠস্বরে ঘরের বাইরে থেকে তার পূর্বের ত্রিপুরা নাম ধরে তাকে ডাক দেয়।
ওমর ফারুক এই ডাকের অর্থ বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে দেখার চেষ্টা করেন এবং ঘরের ভেতরেই অবস্থান করেন। এ সময় পাশের জঙ্গল থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দরোজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার দিকে অস্ত্র তাক করলে ওমর ফারুকের স্ত্রী রাবেয়া বেগম স্বামীকে রক্ষা করতে ছুটে যান। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তার বুকে লাথি মারলে তিনি ছিটকে পড়ে যান। এসময় সন্ত্রাসীরা খুব কাছে থেকে ওমর ফারুকের মাথায় দুই রাউন্ড গুলি করলে তিনি মুখ থুবড়ে পড়ে যান এবং সাথে সাথেই শাহাদাত বরণ করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে, কিন্তু তার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
আমেনার দাবী, অন্যান্য দিন পাড়াগুলোর প্রত্যেক বাড়িতে বাইরে সোলার বিদ্যুতের বাল্ব জ্বললেও ওইদিন পাড়ায় কোনো বাড়ির বাইরের আলো জ্বালানো হয় নি। গুলির শব্দ শুনে প্রতিবেশী খ্রিস্টান পরিবারের কেউ এগিয়ে না এসে সবাই ঘরে অবস্থান করেছে।
অন্যদিকে কাছাকাছি পাড়ায় বসবাসকারী নওমুসলিম পরিবারগুলো ওমর ফারুকের উপর আসা হুমকির বিষয়টি অবগত ছিলো। ফলে ওমর ফারুকের বাড়িতে গুলির শব্দ শুনে তারা ঘটনাটি সহজেই বুঝে ফেলে এবং সন্ত্রাসীরা এবার তাদের হত্যা করতে আসবে ধারণা করে সকলে স্ত্রী, সন্তানসহ জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা পাহাড়ে ইসলামের যে আলো জ্বালিয়ে গেছেন সেই আলো পুরো পার্বত্যকে আলোকিত করবে ইনশাআল্লাহ।

27/06/2021

- তুমি আমাকে ভালোবাসলে কখনোই কালো জাদুর মত জঘন্য জিনিসের দিকে এগুতে না শুভ!!

- অনু, আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি। তাহমীদের সাথে তোমার বিয়ে আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। কি আছে ওর মধ্যে যা আমার মধ্যে নেই। বিশ্বাস কর আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি।

- ভালোবাসা না। তুমি শয়তানের ফাদে পড়েছ।

- কিভাবে বোঝাই যে তোমায় আমি ভালোবাসি। তুমি আমার কাছে চলে আসো, তোমার হাসবেন্ডের চেয়ে টাকা, সম্মান, সুরত,খ্যাতি সব আমার বেশি আছে। আমি তোমাকে রানীর মত রাখব। শুধু আমার কাছে চলে এসো।

-তোমার মধ্যে তা নেই যা আমি তাহমীদের মধ্যে দেখেছি। দ্বীনদারীতা।

- আমি তাও করব, সব করব আমি। ৫ ওয়াক্ত নামায পড়তে হবে তো? সব বাজে কিছু ছাড়তে হবে তো। তোমার জন্য সব করব আমি। তুমি শুধু আমার কাছে চলে এসো।

-এটাই তোমার আর তাহমীদের মধ্যে পার্থক্য। একজন পার্থিব উদ্দ্যেশ্য মানে নারীর লোভে নামায পড়তে যায় আরেকজন যায় তার আল্লাহকে ভালোবেসে। একজন প্রকৃত মুসলমান কখনোই কোন নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেয়না। বিবাহিত নারী তো দূরে থাক, কুমারী মেয়েও না।

- তোমার বিয়ের আগে থেকে আমি তোমাকে চাই।

- তুমি আমাকে চাও, এটা চাওয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ। তুমি আমাকে ভালোবাসোনা। ভালোবাসা পবিত্র জিনিস। মহান রব্বুল আলামিন তার নিজের অন্তরের ভালোবাসা ১০০ ভাগ করে তার ১ ভাগ সমগ্র দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেন। বাকি ৯৯ ভাগ তিনি নিজের কাছে রাখেন। তোমার কি মনে হয়, স্বয়ং আল্লাহ থেকে প্রাপ্ত এ ভালোবাসা কোন অপবিত্র চাওয়ায় বিরাজ করে? কোনদিনই না। এটা শুধুমাত্র শয়তানের ধোকা।
তুমি যদি প্রকৃত মুমিন হতে, তাহলে আমাকে সেদিন জানালার ফাঁকে দেখে ভালোলাগার পর দ্বিতীয়বার আর ফিরে না তাকিয়ে বরং ইস্তেখারার সালাত আদায় করে আমার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে। আর তা প্রত্যাখিত হলে তুমি ডিপ্রেশনে গিয়ে কালো জাদুর আশ্রয় না নিয়ে বরং বুঝে নিতে, আমি তোমার জন্য কল্যানজনক ছিলাম না। তোমার জন্য সংগী খুজে নিয়ে বিয়ে করতে এবং তাকেই ভালোবাসতে।
ফেসবুক ওয়ালে হাজারো ডিপ্রেশন পোস্ট না দিয়ে বরং সুখী থাকতে। ডিপ্রেশন কাদের হয় জানো? যারা আল্লাহকে আকড়ে ধরতে পারেনা। আমার নবি (স) এর মত বেশি কষ্ট তো তোমার কখনোই হয়নি বা কেউ তোমাকে দেয়ও নি যে সিজদাহ দিলে পিঠে উটের নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বা পাথর নিক্ষেপ করে দাত ফেলে দেয়া হয়েছে। অথচ তার মন খারাপ হলেও কখনো ডিপ্রেশনে পড়েন নি তিনি। বরং মা আয়েশা (রা) বলেন বাড়ি ফিরলে তার ভাব দেখে মনে হতো তিনি উৎসবের আমেজ নিয়ে এসেছেন। ডিপ্রেশন কেবল মাত্র তাদেরই হয় যারা ভালো করে আল্লাহকে আকড়ে ধরতে পারেনি।

ভালোই যদি বাসতে আমাকে তাহলে যাদু করে আমাকে রোগাক্রান্ত করতে পারতে না এই উদ্দ্যেশ্যে যেন বাড়ির কাজ করতে না পারায় আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এই তোমার জন্য আমি মাসের পর মাস বিছানায় পড়ে ছিলাম। ব্যাথায় চিৎকার করেছি। নাক কান মুখ দিয়ে রক্ত পড়েছিল অনর্গল। কোন ডাক্তারি ওষুধে কাজ হয়নি।
কিন্তু বলে না, রাখে আল্লাহ মারে কে?
আমার স্বামী এবং আমার আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। তাই সে ও আমাকে ছাড়েনি আর হাদীস অনুসারে করা আমলের উছিলায় আল্লাহর রহমতের সাথে তোমার শয়তানি কালাজাদু পেরে উঠেনি।
চেয়েছিলে যেন আমাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। চেয়েছিলে যেন আমার তাহমীদ মারা যায়। কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় ছিলাম বলে তুমি আমাদের কিছুই করতে পারোনি।ভালোবাসলে এধরণের নিকৃষ্ট কাজ করার চিন্তাও করতে না।

সন্দেহ আমি তোমাকে বহু আগেই করেছিলাম যখন ৪ বছর বিবাহিত জীবন চলার পরেও প্রতিটা জন্মদিনে তুমি আমার বাসার সামনে উপহার রেখে যেতে।
কিন্তু আল্লাহ সন্দেহ করা থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। তাই সেই সন্দেহকে ঝেড়ে ফেলে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজকে আমার বাসায় চুপিচুপি এসে তোমাকে পুতুল গাড়তে দেখে আমি আর চুপ থাকতে পারলাম না।
তোমার লাভ কি হবে এসব করে? না পাবে দুনিয়ায় আমাকে না পাবে আখিরাতে জান্নাতে যেতে।
ইন শা আল্লাহ শীগগিরই একদিন তুমি অনুতপ্ত হবে। আর আমার কাছে ক্ষমা চাইতে আসবে। তুমি ক্ষমা না চাইলে আমি কোনদিনই ক্ষমা করবোনা। আর কারো দাবি স্বয়ং আল্লাহও মাফ করেন না যতক্ষন না যে অত্যাচারিত হয়েছে সে মাফ করে। কারো দাবী মাথায় রেখে জান্নাতের আশাও করোনা।
বেরিয়ে যাও আমার বাড়ির সীমানা থেকে। আর কোনদিনই যেন তোমাকে না দেখি।

কথাগুলো এক নাগাড়ে বলে চলে আসলাম। আল্লাহর পথে আমি ছিলাম, আছি,থাকব ইন শা আল্লাহ। আর এই পথে থাকার জন্যই শত প্রস্তাবের ভীড়ে তাহমীদের সাথে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলাম। একজন প্রকৃত আল্লাহওয়ালা যে শুধু প্রেমই করবে না, বরং আমাকে ভালোও বাসবে আমার মৃত্যু পর্যন্ত এবং আখিরাতেও আমার সংগী হবে। এ নিতী আমার দ্বীনের শিক্ষা আমাকে শিখিয়েছে। আল্লাহর দ্বীনের জ্ঞানে জ্ঞানী নয় যে, সে কি আর আলোকিত? আলো ছাড়া এই অন্ধকারের জগতে চলব কিভাবে?
আমি জানি যদি আমার রব চান তো শুভ একদিন খুব অনুতপ্ত হবে যদি। হয় সে আজ আমার কথা শুনে তার উছিলায় হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে, নয়তো সে তার পাপের শাস্তি পেয়ে নিজের ভুল বুঝতে পারবে।
আমার আর তাহমীদের কাছে ছুটে আসবে ক্ষমা চাইতে। আমিও সেদিন মনে কোন ক্ষোভ রাখব না। ক্ষমা করে দিয়ে তাহমীদকে বলব তাকে দ্বীনের পথে চলতে সাহায্য করতে। কারণ রাগ রেখে তো আমার লাভ নেই। আমার নবি (স) তো মক্কা বিজয়ের পর তার সাথে অন্যায় করা হাজার জনকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। বরং কাউকে ক্ষমা করলে আল্লাহ কিয়ামতের দিন আমাকে ক্ষমা করবেন।

#ভালোবাসা
©তাহসিন মাহমুদ তামান্না

note: বদনজর এবং কালোজাদু থেকে বাচার জন্য কুরানের শেষ তিনটি সূরা প্রতি ফরজ নামাযের পর ৩ বার করে পড়ুন।
জাযাকাল্লাহু খইরণ ❤️

26/06/2021

পাহাড়ী ওমর ফারুক রাহি.-কে হত্যা করে আমাদের বুঝিয়ে দিলো পাহাড়ী এলাকাতেও আমাদের দ্বীন এর আলো পৌঁছানো দরকার।
এবং এ বিষয়ে কিছু আলেম উদ্দ্যেগও নিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ ।
দ্বীনের আলো নিভানোর জন্য যাকে হত্যা করা হলো তাকে শহীদ করা হলোই,এখন দ্বীনের আলো আরও শক্তিশালী হয়ে ছড়িয়ে পড়বে ইনশাআল্লাহ তায়ালা ।
এটাকে বলে হিতে বিপরীত ।

তেমনিভাবে আমাদের শায়খ আহমদুল্লাহ হাফি. ইমুজি নিয়ে একটা বক্তব্য দেন।
এটা আবার আনন্দবাজার পত্রিকা সহ ইন্ডিয়ার কিছু লোকজন ট্রল বা কৌতুক হিসেবে ব্যবহার করছেন ।
দেখা গেলো উনাকে নিয়ে ট্রল করতে গিয়ে, নিউজ করতে গিয়ে শাইখ এর পরিচিতি ইন্ডিয়াতেও বেড়ে গেলো।
ইন্ডিয়াতে যেসব মুসলিমরাও শাইখ আহমদুল্লাহকে চিতেন না,
আনন্দবাজার পত্রিকাগুলো তাকেও চিনার ব্যবস্হা করে দিলো ।
ব্যাপারটা হিতে বিপরীত হয়ে গেলো না ?

-আমিরুল ইসলাম

22/06/2021

.
নিজের চোখে দেখা ঘটনা। আমি একটুও আগ বাড়িয়ে বলছি না। হুবহু ঘটনাটি আপনাদের শুনাচ্ছি।
একজন যুবক। বয়স আঠারো বছর। হঠাৎ একটা কল আসলো। তখন ঠিক দুপুরবেলা। একজন বললো, "শাইখ মুহাম্মাদ"! আপনি কি এখন একটু আসতে পারবেন? আমি বললাম,কেন? একটা বিভৎস দূর্ঘটনা হয়েছে।
সেখানে তারা ছিলো তিনজন এবং চতুর্থ জন্য অপেক্ষা করছিলো লাশের গোসল দেবার জন্য। আমি প্রশ্ন করলাম, অন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না?তারা বলল, " শাইখ, আপনি আসুন এবং দেখে যান।"

আমি রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলাম এবং রওনা দিলাম। গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "মাইয়্যেত ( ডেড বডি) কোথায়?" তারা বলল, এইতো। আমি তাকিয়ে দেখলাম। পাশে আরও একজন যুবক ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, কে তুমি? আমি তার কাজিন। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, "তার পরিবারের লোকজন কোথায়? আমি লাশের দিকে এগিয়ে গিয়ে যুবকটির দিকে তাকালাম। অল্প বয়স। বেশ লম্বাচওড়া, হৃষ্টপুষ্ট, তামাটে গায়ের রঙ। কিন্তু তার মৃত্যুটা বড় অদ্ভুত ছিলো। আমি আবারও তার দিকে তাকালাম। তারপর ভাইদের বললাম, "আর কে গোসলে সাহায্য করবে?"
রবের সাহায্য চাইলাম। আমরা তাকে গোসল দেয়া শুরু করলাম।

ইয়া রব! ইয়া রব!
আমরা খুব ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। দ্বীনদার লোকদের গোসল কখনো এমন অনুভূতি হয় না। আর গুনাহগাররা তো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও উদাসীন। আমরা হঠাৎ অদ্ভুদ এক দৃশ্য দেখলাম। তার গায়ের রঙ ধীরে ধীরে কালো আকার ধারণ করছে। আমি বললাম, ভাইয়েরা! তাড়াতাড়ি গোসল শেষ করুন। দ্রুত! তারপর আমরা তাকে ধরলাম এবং কাফনের উপর রাখলাম।
আল্লাহর কসম! যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই! আল্লাহর কসম! যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই!
যেইমাত্র তাকে কাফনের উপর রাখলাম, ভীষণ দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু করল। কোথা থেকে এত দুর্গন্ধ আসছিলো আমরা ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। ঘামের গন্ধ কখনো এমন হয় না।

রবের কসম! আমরা এমন দুর্গন্ধ কখনো পাইনি। আমরা দৌড়ে গোসলখানা থেকে বের হয়ে গেলাম। কপাট খুলে বাইরে চলে আসলাম। দুর্গন্ধ যুবকটির লাশ থেকেই আসছিল। তার কাজিনকে জিজ্ঞেস করলাম, " রবকে ভয় করুন! উনি কি সালাত আদায় করতেন? সে আমার দিকে তাকালো। বলল, সে ইবাদাত করত। "সে কি সত্যিই সালাত আদায় করত?" সে বলল, জ্বি!

আমরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারছিলাম না! কি বিভৎস গন্ধ! একজন বয়স্ক লোক আমাদের বললেন, মুখ ঢেকে প্রবেশ করুন! মাস্ক পরে নিন। একজন ভাই দৌড়ে গিয়ে মাস্ক নিয়ে এলেন। আমি নিজে দুটো জামা দিয়ে নাক ঢেকে তার উপরে মাস্ক লাগালাম। ঘরের জানালা খুললাম। ফ্যান ছেড়ে দিলাম। দ্রুত তার লাশকে কাফন দিলাম এবং বের হয়ে গেলাম।

তার কাজিনকে বললাম, তুমি বললে সে ইবাদাত করতো! নিজের চোখে আমরা এই খারাপ লক্ষণ দেখেছি! এই লোক কখনোই ইবাদাতগুজার হতে পারে না! এই বলে আমি চলে এলাম।

ঠিক দুই দিন পর! কাজিনটি সেখানে আমার খুঁজে আসলো। লোকজন তাকে আমার ঠিকানা বলে দিলো। সে এলো। তার অনুশোচনার কথা আমাকে জানালো। আমি বললাম, "আমি জানতাম, তুমি মিথ্যা বলেছো সেদিন।" সে বললো, হায়! আমি যদি মিথ্যা কথা না বলতাম! হায়! আমি যদি মিথ্যা কথা না বলতাম!

ইয়া শাইখ! আপনি জানেন কিভাবে সে মৃত্যুবরণ করেছিলো? সে ঠিক এভাবেই বলেছিলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কীভাবে সে মৃত্যুবরণ করেছিলো? কীভাবে? সে বললো, আমি লাইফে তাকে কখনো সালাত আদায় করতে দেখিনি। মৃত্যুর আগে আগে সে সমকামে ( হোমোসেক্সুয়াল) লিপ্ত হয়েছিলো এবং তা থেকে সে পাক- পবিত্রও হয়নি। মৃত্যুর সময় তার হাতে সিগারেট ছিলো। গাড়িতে গান চলছিলো ইয়া শাইখ!


আপনারা শুনছেন? আপনারা জানেন, কেন তার লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল? যেন তার রব আখেরাতের পূর্বে, এই দুনিয়াতেই তার আসল চেহারা তুলে ধরতে পারেন।
|| যে ঘটনা সালাত পড়তে উদ্বুদ্ধ করে ||
মূল - শাইখ মোহাম্মাদ শাহরানী
অনুবাদ - যাইনাব বিনতে মুহাম্মাদ আলী

21/06/2021

পড়ি কিন্তু পারি না! সমাধান কী?
মুল আলোচনার আগে দুইটা প্রশ্নের উত্তর খুব ভালো করে বুঝি,
ক) পড়াশুনায় ভালো করা জরুরী কেন? আরে পড়াশুনা করে কে কি করছে? ।ফেইলরদের এসব আবর্জনা কথনে কান দেওয়া যাবে না। পড়াশুনা করেই অনেক গরীব ঘরের ছেলে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত, সম্মানিত। পড়াশুনা করে হবে ইন শা আল্লাহ। হালাল ও সম্মানিত রিযিকের জন্যই কেবল নয়, বিবাহ শাদী, শ্বশুর শাশুরির আদর, বন্ধুবান্ধব আত্নীয় স্বজন তথা সমগ্র জাতি যখন তোমাকে জিজ্ঞেস করবে কোথায় পড়, বা কি কর তখন তৃপ্তির সাথে একটা ভালো লাগা সম্মানজনক উত্তর দিতে হলে ভালো ইউনিভার্সিটির নাম বা পেশার নাম সাথে থাকতে হবে।
খ) পরিশ্রমই নিয়তি। কখন করলে ভালো?
বন্ধুরা মনে রাখবে শারিরিক পরিশ্রম তোমাকে করতেই হবে। হয় স্টুডেন্ট লাইফে অথবা তার পরে। স্টুডেন্ট লাইফের পরিশ্রমে বেশ দাম পাওয়া যায় আর পরবর্তী লাইফের পরিশ্রমে তা থাকে না। ছাত্র জীবনে রাত জেগে পড়ার মধ্যে যে কষ্ট তা নিশ্চয়ই রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অন্যের হুকুম পালনের চেয়ে কম। সুতরাং পড়শুনা অবস্থায় পরিশ্রম করাই ভালো কি বলো!
এক্ষণে পড়ালেখার কয়েকটি কৌশল দেখি যাতে রেজাল্ট আপগ্রেড করা সহজ হয়।
১। ওযু করে বা হাত পা ধুয়ে পড়তে বসা
ওযু করে বা হাত পা ধুয়ে পড়তে বসা উচিত। ঘামের শরীরে বা বাইরে থেকে এসেই শুরু না করা। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে শুরু করা। এতে মানসিক প্রশান্তি হবে। নরম শান্ত মন পড়া লেখার উপযোগী। মনে রাখবে সব মেশিনেরই একটা ভালো স্টার্ট দরকার। তোমার শরীরও একটা জৈবিক মেশিন।
২। বাজারের মত পড়ার বিষয়ের লিস্ট করা
মহিলারা যেমন যত্ন করে বাজারের লিস্ট করে সেভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী সমসাময়িক চাহিদার উপর ভিত্তি করে লিস্ট করে তা পড়ার টেবিলের সামনে বা বামে সুন্দর করে লাগিয়ে রাখা। যে বিষয় পড়া হয়ে গেছে বা জরুরত শেষ হয়েছে তা কেটে ফেলা। এটা যে যত সুন্দরভাবে করবে তার পড়াশুনা তত সহজ হবে।
৩। পড়ার বিষয় ও সময় নির্বাচন
পড়ার সময় নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর বিষয়ের সাথেও এর ভালো সম্পর্ক আছে। মুখস্থ করার বিষয়গুলো পড়তে হবে ঘুম ও খেলাধুলার পর। অর্থাৎ ভোরে আর মাগরিবের পর। রাতে খাওয়ার পর ঘুম ঘুম চোখে আর দুপুরের পর অলস তন্দ্রাচ্ছন্ন সময়ে মুখস্থ করা অনেক সময়ের ব্যাপার। গনিত রিলেটেড বিষয়গুলো দুপুরের পর আর রাতে খাওয়ার পর ভরা পেটে করলে সুবিধা পাওয়া যায়। কোন সময়ে কতটুকু পড়বেন টার্গেট করে নেবেন। নইলে বরকত হারাবেন। ফালতু সময় নষ্ট হবে।
৪। পড়ার টুলসগুলোকে সুন্দর করা
জানালার পাশে টেবিল, টেবিলে সুন্দর কলমদানি, সুন্দর খাতা, লাল নীল কলম ও মার্কার, বাধানো বই, আর টেবিলের পাশে সম্ভব হলে একটা গাছ। লাল আলোতে পড়া ভালো হয়না। তাই সাদা টিউব লাইট বা এনার্জি সেভিং এল ই ডি অবশ্যই। পড়তে গিয়ে খাটে উঠেছেন তো শেষ। দুই ঘন্টায় দুই মিনিটের পড়া হবে না। শুয়ে পড়লে তো পড়লেনই আর উঠতে পারবেন না। খবরদার! ফেসবুক মাস্ট বি অফ ডিউরিং দ্যা রিডিং পিরিয়ড!
৫। খেয়াল করে পড়া, জোড়ে জোড়ে পড়া
অনেক সময় আমরা পড়ি এক, চিন্তা করি আরেক। এতে গর্জন হলেও অর্জন কিছু হয় না। সুতরাং খেয়াল করে করে পড়তে হবে। পড়া যদি কান দিয়ে ঢোকে তালে তা ধরে রাখার জন্য অতিরিক্ত সাপোর্ট পাওয়া যায়। মস্তিস্ক বেশ আন্দোলিত হয়। ফলে স্মৃতিতে তাড়াতাড়ি স্থান নেয়। পড়া ঢুকাতে হবে চোখ, মুখ, কান, অন্তর সব দিক দিয়ে। তবে খেয়াল করে।
৬। লিখে পড়া, অন্তত নোট রাখা কিংবা কালারিং করা
পড়ার বিষয় লিখে রাখলে ভালো। তবে অনেক সময় সব লেখা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে মুল পয়েন্টগুলো সুন্দর করে লিস্ট করে তার পাশে কি-ওয়ার্ডগুলো লিখে রাখা। বইয়ের সাধারণ পয়েন্টগুলো হলুদ আর একটু কঠিন পয়েন্টগুলো লাল মার্কার দিয়ে দাগিয়ে রাখা। কি ওয়ার্ডগুলো লাল কালি দিয়ে সার্কেল দিয়ে রাখা। এতে পড়া মনে রাখতে ও মুখস্থ করতে সহজ হবে ইন শা আল্লাহ।
৭। কৌশল করে পড়া
টেবিল, ছক, ছবি, ছড়া, ট্যাবলেট ইত্যাদি ব্যবহার করা। ট্যাবলেট কি? ধরেন, সাইন থিটা মনে রাখতে আমরা "সালতি" অর্থাৎ লম্ব/অতিভুজ আর কস থিটা মনে রাখতে "কভুতি" অর্থাৎ ভুমি/অতিভুজ দুইটি ট্যাবলেট মনে রাখতে পারি। এভাবে বিভিন্ন পয়েন্টের প্রথম অক্ষর দিয়ে মনের মত ট্যাবলেট বানানো যায়। এছাড়া বিভিন্ন ফ্লো চার্ট, সালের ক্রোনলজি দিয়ে ধারাবাহিকতা মনে রাখা সহজ হয়। আরেকটা বিষয় হল গল্প দিয়ে ছবি করা। বিজ্ঞান বিষয়ের ছবিগুলো ভালো করে বুঝে বুঝে আকা। এসব কৌশল পড়া শিখতে সহজ করে।
৮। পড়ার মাঝে ব্রেক
এক টানা না পড়া। প্রতি আধা ঘন্টা পর পারলে ব্রেক নেওয়া। তবে পড়ার তুমুল অবস্থায় না। স্বাভাবিক অবস্থায়। এই বিরতিতে একটু মধু বা খেজুর জাতীয় খাবার। অথবা চা কফিও ভালো। সামান্য ব্যায়ামও উপকারী। এই ব্রেক মস্তিস্ককে সামান্য রেস্ট দেয়। আমরা যে কম্পিউটার রিফ্রেশ করি তেমন।
৯। গনিতের বিশেষ কৌশল
গনিতের মূল সাফল্য মুখস্থ করা। অবাক হবেন না। আমার কথা না। নটরডেম কলেজের বিখ্যাত গণিত স্যার বিদ্যুৎ কুমার ভদ্রের বিশেষ বানী। কি মুখস্থ করবেন? কোন অঙ্ক কোন তরিকায় শুরু করতে হয়, কোনটার পর কোনটা বের করতে হয়, কোন ফলটা সাধারণত কোন পর্যায়ে ব্যবহৃত হয় এগুলো। অর্থাৎ গণিতের কৌশল মুখস্থ রাখা। যদি মনে করেন যে পরীক্ষার খাতায় পদ্ধতি আবিস্কার করে লিখবেন তাহলে লিখতে পারেন। ২৮ এর বেশি পাবেন না। আর হ্যা কখনও অঙ্ক দেখে অঙ্ক বুঝবেন না। এই বোঝা পরীক্ষার খাতায় অবুঝ হয়ে যায়। খাতার পর খাতা কাটাকাটি করবেন কিন্তু ঐ বুঝ মনে পড়বে না। সুতরাং খাতায় অঙ্ক করতে হবে মাথায় না।
১০। নিজেকে নিজে যাচাই
পড়া শেষে মনে করার চেষ্টা করুন যে কি পড়েছেন। প্রয়োজনে কাউকে পড়াটা ধরতে বলুন। এতে কোথায় আপনার সমস্যা তা ডিটেক্ট হবে। পরীক্ষামূলক লেখার সময় বই পাশে নিয়ে লিখবেন না। তাহলে লেখার চেয়ে দেখা বেশি হবে। ফলাফল হবে নকল করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব।
১১। কোন কিছুই কঠিন নয়
প্রথম দেখায় কিছু কিছু জিনিস কঠিন লাগতে পারে। কিন্তু সত্যি কথা হলো কোন জিনিসই বেশি কঠিন নয়। হলে তা কেউ পারতো না। কিছু যদি কঠিন লাগেই সেটা সুন্দর করে মার্ক করে রাখো। কয়েকটা সেগমেন্ট করে দেখ যে বেশিরভাগ সেগমেন্টই তুমি বোঝ। একটা কিছু তাকে কঠিন করেছে। পরে একসময় বন্ধুর সাথে সেটা আলোচনা করে নাও। দেখবে পুরো বিষয়টা সহজ লাগবে। আমরা যে ভুলটা করি কঠিন কিছু মনে হলে আর তার কাছে যাই না। ফলত ওর সম্পর্কে ধীরে ধীরে একটা ভয় অন্তরে গেথে যায়। অথচ সামান্য একটা লাইন আনলক করতে পারলেই পুরো পাতা বোঝা যেত।
১২। শেখা ও শেখানো
শেখার সাথে শেখানোর অভ্যাস করা উচিত। মাস্টারি করার আগ্রহে মানুষ অনেক সময় কষ্ট হলেও শিখতে বাধ্য হয়। আমার আরবী শেখা মনে হয় এই কারনেই সম্ভব হয়েছে!
১৩। ভালো ছাত্রকে শিক্ষক করা
অনেক সময় শিক্ষকের ভাষা হিব্রু মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে বন্ধুকে কিছু খাওয়ানোর পর তাকে জিজ্ঞেস কর। ফেলতে পারবে না। তুমিও ভালো শিখতে পারবে। তোমার সমস্যা শিক্ষকের চেয়ে বন্ধু বেশি বোঝে কারন সেও মাত্র তা সলভ করেছে।
১৪। প্রেম ভালোবাসা ভালো ফলের শত্রু
কোন মেয়ের সাথে চিট চ্যাট করেছোতো শেষ। বহুত ভালো ছাত্রকে দেখেছি কালের গহবরে হারিয়ে গেছে। মনে রাখবা শেষ ভালোতো সব ভালো। তমার ভালো রেজাল্ট দেখে সে আসবে আর খারাপ রেজাল্ট দেখে সুযোগ বুঝে মায়ের দোষ দিয়ে পালাবে। এই হল হাল, দেখা হবে কাল। অপ্রয়োজনীয় সালামেরও উত্তর দিও না।
আল্লাহ আমাদের হালাল পরাশুনায় বরকত দিক। আসসালামু আলাইকুম ও রহমাতুল্লাহি ও বারাকাতুহু।

---(এলার্জি জনিত কারণে নাম গোপন রাখা হলো।)

21/06/2021

জনপ্রিয় এক গার্লস গ্রুপে হাতের ছবি দিয়ে এক আপু পোস্ট করেছেন এইরকম ক্যাপশনে :

"বিয়ের পর এই প্রথম একা একা লতি কুটলাম আর নখগুলো কেমন নষ্ট হয়ে গেছে।বাসায় ননদ আছে কিন্তু সে তার রুমে শুয়ে আছে একটুও সাহায্য করেনি!
বিয়ের আগে কখনো লতি কুটিনাই আমি। আম্মুই সব করতো। এখনো বাবার বাড়ি গেলে আমাকে কিচ্ছু করতে দেয় না আম্মু। "

অতঃপর সেখানে কমেন্টের নমুনাগুলা ছিলো এমন:

1⃣ এরা এমনই আপু। কখনো আপনার কষ্ট বুঝবেনা। আর সাহায্যের আশা করে তো কোনো লাভই নাই।

2⃣ আমার ননদও এমন আপু। একটু কাজও করে না। শ্বাশুরীও কিছু বলেনা মেয়েকে।(এইটা কমন কমেন্ট, কয়েকটা ছিলো এই একই কমেন্ট)

3⃣ আমার ননদ অনেক ভালো। আমাকে অনেক হেল্প করে। (কেউ জিগাইছে?)

4⃣ হাজবেন্ড কে নিয়ে আলাদা হয়ে যান আপু আর হেল্পিং হ্যান্ড রাখুন। এদের জন্য করে কোনো লাভ নেই আপু। কষ্ট করে করবেন কিন্তু কোনো দাম পাবেন না।

ব্লা ব্লা ব্লা....

একটি কমেন্ট ছিলো ভিন্ন:

*আপু আপনি বোধহয় ভুলে গেছেন এইটা আপনার ননদের বাবার বাড়ি। আপনি যেমন বাবার বাড়িতে কোনো কাজ করেননি/এখনো গেলে করেননা সেও তার বাবার বাড়িতে কাজ করেনা। এইটাই স্বাভাবিক আপু। আর আপু ননদের কথা বাদ দিন। এই যে আপনার আম্মুর কথা বললেন না? যিনি সব করে ফেলেন আর আপনাকে কিচ্ছু করতে হতো না তিনিও তার আম্মুর আদরের ছিলেন ঠিক আপনার মতো। তিনিও(আপনার আম্মু)এমন কাজ করতে হতো না একটা সময় আর এখন একাই সব কাজ করে ফেলেন। ঠিক এইভাবে আপনিও একদিন মা হবেন আর সবকিছু নিজেই করে ফেলবেন আর আপনার মেয়ে শুয়ে থাকবে রুমে আর ছেলের বউ বলবে ননদ একটুও সাহায্য করেনা!এইটা আসলে ননদের দোষ না আপু। এইটা আমাদের সমাজের নিয়ম।

আপনার আম্মু যখন সব কাজ একাই করে তখন আপনার কাছে সেটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার লেগেছে। তার কষ্ট হচ্ছে ভেবে হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দিয়ে সাহায্য করার কথা আপনার মাথায় আসেনি। হয়তো ভেবেছেন আম্মু কত কষ্ট করে আমাদের জন্য কিন্তু সেই হিসেবে তাকে কতটা সাহায্য করেছেন?
কিন্তু যখন নিজে কাজ করতে গিয়েছেন তখন ননদের সাহায্য না করার ব্যাপারটা আপনার মাথা বেশ ভালো করে খেয়াল করেছে। আপনার সাহায্য দরকার। একা একা কাজ করাটা কষ্টের। একজন একা সব করবে আর একজন রুমে শুয়ে আছে ব্যাপারটা আপনার মস্তিষ্ক মেনে নিতে পারছেনা। কিন্তু সেই মস্তিষ্ক আবার আপনার বাবার বাড়ি গেলে সব ইজিলি মেনে নেয়। বাবার বাড়িতে পা রাখতেই খুশিতে আন্দোলিত হয়ে ওঠে। উফফফ কদিন সব কাজ মা করবে আর আমি রেস্ট নিতে পারবো। আহা কি শান্তির জায়গা!

অতঃপর পোস্ট গায়েব.........!!! ©

সত্যিই আজকাল উচিত কথা কারো সহ্য হয়না! এক বোনকে বলেছিলাম আপু পারলে পর্দা করেন এভাবে নিজেকে অনলাইনে অফলাইনে শো করবেননা। কি লাভ বলেন দিনশেষে পাপের রাশি লিখতে থাকবে ফেরেশতা। আমি আপনার ভালো চাই বলেই বললাম। দুআ করি আপনার হেদায়েতের জন্য।
অতঃপর আমার কমেন্ট ডিলেট....!!!
কিন্তু, wow vabi, nice, wonderful, r o etc. সব কমেন্ট গুলাই ছিল।
Nothing to say! As you sow,so you reap.

✍️.......আয়েশা সিদ্দিকা।

21/06/2021

মনে করেন, আপনার কাছে ১০০ টাকা আছে। তা দিয়ে ২০ টা সিঙ্গাড়া কিনে এলাকার এক ছোট ছেলেকে বললেন, আজকে আছরের নামাজের পর ছোট ছোট পোলাপাইন সবাই যেনো মসজিদে আসে। খাবার দেয়া হবে।

দেখবেন, হৈ হৈ করে সব পোলাপাইন মসজিদে এসে রেডি। সর্বমোট ১৩-১৪ জন পিচ্চি কিচিরমিচির করছে মসজিদের বারান্দায়। এখন আপনার প্রজেক্ট শুরু করবেন। সেটা কি?

> এই বাচ্চারা, কে কে অজু করতে পারো?
- আমি, আমি, আমি, আমি.... (অনেকে এম্নেই হাত তুলবে)

> কে কে নামাজ পড়তে পারো?
- আমি, আমি, আমি, আমি.... (অনেকে এম্নেই হাত তুলবে)

> বাহ। সবাই পারো তো। খুব ভাল। চলো আবার শিখি আজকে। এই যে এইভাবে এইভাবে।

মোটামুটি ৩০ মিনিটের প্রোজেক্টের মাধ্যমে ১৩-১৪ জনের উপর এমন ইনভেস্টমেন্ট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ, যার লাভ আপনি দুনিয়ায় পাবেন তো পাবেন; মরার পর আপনার নামাজ রোজার সওয়াব যখন বন্ধ- তখন কবরে থেকে দেখবেন যে, 'প্রতিদিন ৫ বার করে সওয়াব আপনার আমল বক্সে ঢুকতেছে।'
যদিও প্রজেক্টে ছিল ১৩-১৪ জন, কিন্তু দেখা যাবে কয়েক হাজার, কয়েক লাখ, কয়েক কোটি জায়গা থেকে লাভ আসতেছে। ওয়াও না?

তাই, বছরে একবার হলেও প্রজেক্ট-টা চালাতে পারেন, ইনশাআল্লাহ।
ওয়ামা তাউফিকি ইল্লা বিল্লাহ।
#সদকাহে_জারিয়া💜

(Unspecified)

20/06/2021

অনেকে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতকে বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে মজা পায়। ইনফ্যাক্ট ভার্সিটি লাইফেও আমি এটা করেছি। বিজ্ঞান ও কুরআন নিয়ে প্রেজেন্টেশনও বানাতাম। মিলে গেলে একটা ভাব থাকতো দেখেছো!!
কিন্তু এখন দেখছি যে যে কয়েকটি বিষয় মেলে তার চেয়ে ঢের বেশি মেলে না। আচ্ছা যদি তাই হয় তাহলে মিলিয়ে যে মজাটা পেতাম না মিললে কি সেই দুখটা পাবো? মিলিয়ে আস্তিক হলে না মিললে নাস্তিক হবে না কেন? অবশ্য তখন একটা মিছে সুখ খুজতে হবে বিজ্ঞান এখনো অতদূর যায়নি।
আমাদের প্রজন্মের একটা বড় ভুল হয়ে গেছে যে আমরা সব কিছুর একটা বৈজ্ঞানিক কারন খুজি। এতে যেটা হয়েছে স্প্রিচুয়ালিটি বা আধ্যাত্মিকতার প্রভাব কমে কমে বস্তুবাদের প্রভাব বেড়ে গেছে।
ভূমিকম্প স্রেফ টেকটোনিক প্লেটের মুভমেন্টের ফল, সূর্যগ্রহণ যাস্ট চাদের সামনে চলে আসা, সুনামি সমুদ্রে ভুমিকম্প, মহামারি স্রেফ একটা ভাইরাসের সংক্রমণ ইত্যাদি। কিন্তু এগুলোর পেছনে যে আরও কিছু বিষয় আছে সেদিকে আমাদের খেয়াল যায় না। অথচ মহান আল্লাহ এগুলো বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলো এমনি দেন না। একটা সুনির্দিষ্ট কারনে দিয়ে থাকেন। কয়জন আছে যারা এগুলোর পিছনে বিজ্ঞান ছাড়া অন্যকিছু খোজে?
আমরা যদি কুরআনের আগের দিনের শাস্তিগুলো দেখি প্রায় অনেক গুলোরই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে আসমানী আযাবকে উপেক্ষা করা সম্ভব। তাই না?
এইতো এখনো অনেক মানুষ আছে যারা করোনা ভাইরাসকে আল্লাহর আযাব বললে ক্ষেপে যান। আপনি কিভাবে জানলেন! ফলত মানুষের মন তাওবা ইস্তেগফারের দিকে যায় না। আল্লহর উদ্দেশ্য কিভাবে বিস্মৃত হচ্ছে বুঝতে পারছেন?
সেদিন এক ভদ্রলোককে আমার ইন্ট্রো নিয়ে ট্রল করতে দেখলাম। আর উনার ট্রল দেখে কথাটা আমার আরও বিশ্বাস হতে লাগলো। কি অদ্ভুত দুনিয়া।
আসলেই মানুষের অন্তর চোখের চেয়ে বেশি দেখে!

---(এলার্জি জনিত কারণে নাম গোপন রাখা হলো।)

18/06/2021

আলহামদুলিল্লাহ! আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ভাইকে খুজে পাওয়া গেছে,,,।

বিস্তারিত লিংকেঃ-
https://www.rtvonline.com/bangladesh/national/135173/%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%81-%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%B9%E0%A6%BE

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka