SRT

SRT

Share

School of Religious Thought

10/06/2024
26/08/2023

আল্লাহর নিকট ইসলাহের তাওফীক প্রার্থনা করুন
- হযরত মাওলানা মুফতি তকী উছমানী (দা.বা)

আমার হযরত (ডা. অবদুল হাই আরেফী) রাহ. বলতেন- আল্লাহ তাআলা বড়ই দয়ালুু ও মেহেরবান। মা-বাবার চেয়েও বহুগুণে বেশি। অতএব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট নিঃসঙ্কোচে চাইতে থাক। এভাবে বল যে, আয় আল্লাহ! আপনি দুনিয়াতে আমাকে ভালো কাজ করার তাওফীক দিন অথবা আখেরাতের পাকড়াও থেকে রেহাই দিন। আমি আপনার দরবারে আমার সার্বিক বিষয় অর্পণ করছি। আপনি আমার হালত দুরস্ত করে দিন, আমাকে ইসলাহ করে দিন অথবা আখেরাতের আযাব থেকে মুক্তি দিন। এভাবে আল্লাহর কাছে চাইতে থাক। মানুষ এগুলোকে মামুলি বিষয় মনে করে। এজন্য এর প্রতি এত গরজ করে না। কিন্তু বাস্তবতা হল, ইসলাহের জন্য এটা অনেক মুফীদ ও উপকারী একটি মাধ্যম। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার নিকট সবসময় নাছোড়বান্দা হয়ে চাইতে থাকা।

আর যে ব্যক্তি এভাবে নিয়মিত দুআ করে সে অবশ্য নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টাও অব্যাহত রাখে। এজন্য দুআর অর্থ কখনও এই নয় যে, শুধু দুআই করে যাব। চেষ্টা, মেহনত-মোজাহাদা কোনো কিছুই আর করা লাগবে না! বরং আল্লাহ তাআলা সর্বক্ষেত্রে এ হুকুম দিয়েছেন যে, তুমি তোমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা মেহনত কর এবং আমার কাছে দুআ কর। চেষ্টাও অব্যাহত রাখ এবং দুআও করতে থাক। তো যে এভাবে চেষ্টা ও দুআ একসাথে জারি রাখবে, এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার মোআমালা বা আচরণ হল- আল্লাহ তাআলা একে আযাব দিবেন না। আল্লাহ তাআলা তাকে গুনাহ ও নাফরমানী থেকে হেফাযত করবেন। নতুবা কম সে কম তাকে মাফ করে দিবেন।

--------------------------
একটি শিক্ষণীয় ঘটনা-
--------------------------

আমি আপনাদেরকে একটি ঘটনা শোনাই। ঘটনাটি আমার নিজের সাথেই ঘটেছে। আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে জার্মান থেকে আমার কাছে এক ব্যক্তির একটি চিঠি আসে। সে মূলত পাকিস্তানী। পরবর্তীতে জার্মানের নাগরিক হয়ে গেছে। তার নামটা এখনও আমার মনে আছে- আবদুল লতীফ।

সে চিঠিতে উল্লেখ করে- আমি রুটিরুজির তালাশে পাকিস্তান থেকে জার্মান চলে আসি। তখন ধর্মকর্মের প্রতি আমার আগ্রহ-আকর্ষণ কিছুই ছিল না। নামায-রোযা বা অন্য কোনো দ্বীনী বিষয়ের প্রতি আমার কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না। ব্যস ¯্রফে পেটের দায়ে পাকিস্তান ছেড়ে জার্মানে পাড়ি জমাই এবং এখানেই স্থায়ী হয়ে যাই। এখানে থাকতে থাকতে জার্মানী এক মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী। তখন দ্বীন-ঈমানের প্রতি আমার মোটেও তাওয়াজ্জুহ ছিল না। নামায-রোযা, যাকাত, কুরবানী কোনো বিষয়ে কোনো খবর নেই। একেবারে বেলাগাম চলতে থাকি। আমাদের মাঝে সম্পর্ক আরো গভীর হতে থাকে। একপর্যায়ে আমরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হই এবং আমি ওরকমই উদাস জীবন যাপন করতে থাকি। আমাদের ঘর-সংসার যথারীতি চলতে থাকে। কিছুদিন পর আমি এক পুত্রসন্তানের পিতা হই।

ছেলে আমার ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকে। যখন তার কিছুটা পড়ার বয়স হয়, দেখি তার মা তাকে ঈসায়ী ধর্মমতের দীক্ষায় বড় করছে। এ দেখে আচানক আমার ভেতর থেকে একটি মুসলিম সত্তা জেগে ওঠে। গায়রত যেন আমার পুরো দেহটাকে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে তোলে- আরে! এ তোর সন্তান হয়ে এখন কি না ঈসায়ী দীক্ষা গ্রহণ করছে! ঐদিন থেকে আমি আমাকে ভিন্নভাবে উপলব্ধি করছি। আমি সংকল্প করলাম, আমি ওকে এ থেকে অবশ্যই বিরত রাখব। আমি ওর মাকে বললাম, এ আমার ছেলে। তুমি একে তোমার মনমত খ্রিস্টধর্ম অনুসারে শিক্ষা দিতে পার না। সে আমাকে পাল্টা জবাবে বলে, কেন আমি তাকে শেখাব না? সে আমারও সন্তান। আমি আমার নিকট যা সত্য ও সঠিক মনে করি আমার ছেলেকে তা অবশ্যই শেখাব। তুমি আমাকে এতে কোনোভাবেই বাধা দিতে পার না। আমি তাকে বললাম- না, তোমার ধর্ম সঠিক নয়; আমার ধর্মই সঠিক। সে আমাকে বলে, তোমার ধর্ম কেন সঠিক? আমাকে বুঝিয়ে বল। এখন যখন ধর্ম নিয়ে তার সাথে আলোচনা শুরু হল, দেখি যে, খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে তো তার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে; কিন্তু আমি তো আমার ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানি না। ফল এই দাঁড়াল যে, ধর্ম বিষয়ে যখনই বিতর্ক হয় সে জিতে যায় আর আমি কোনো কিছুই বলতে পারি না। এভাবেই এখন সংসার চলছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আমি নামায-রোযার প্রতি কিছুটা মনোযোগী হই। কিছুটা ধর্ম পালন শুরু করি। কিন্তু ধর্ম নিয়ে কথা বলতে গেলে আমি তার সাথে আর পেরে উঠি না।

হযরত! সে আমার সন্তানের জীবন ধ্বংস করছে। তাকে খ্রিস্টান বানিয়ে ফেলছে। আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে উদ্ধার করুন।

এ চিঠি আমার নিকট পৌঁছে। আমি আল্লাহর কাছে দুআ করি- আল্লাহ, বেচারা কঠিন মছিবতে ফেঁসে আছে। আপনি আমার মনে এরকম কোনো মশওয়ারা ঢেলে দিন, যাতে এর একটি সুরাহা হয়।

(এভাবে দুআ-দরূদ পড়ে) আমি তার কাছে জবাবী পত্র লিখি- খ্রিস্টবাদ বিষয়ে আমার একটা কিতাব রয়েছে। উর্দুতে ‘ঈসাইয়্যত কেয়া হ্যয়’ নামে আর ইংরেজিতে ডযধঃ ওং ঈযৎরংঃরধহরঃু নামে (এবং বাংলায় ‘খৃস্টধর্মের স্বরূপ’ নামে) প্রকাশিত হয়েছে। আপনি নিজ থেকে তার সাথে এ বিষয়ে কোনো বিতর্কে জড়াবেন না। কারণ বিতর্কে তেমন ফল হয় না। বিশেষ করে যখন ধর্ম সম্পর্কে আপনি তেমন কিছুই জানেন না। এজন্য আমার পরামর্শ হল- আপনি তাকে যেভাবে পারেন দুটি কাজ করতে প্রস্তুত করুন। এক. আমি এ কিতাবটি পাঠাচ্ছি। আপনি তাকে এটা পড়ার অনুরোধ করুন। দুই. তাকে বলুন যে, তুমিও আল্লাহকে বিশ্বাস কর আমিও আল্লাহকে বিশ্বাস করি। তুমি প্রতি রাতে উঠে আল্লাহর কাছে এভাবে দুআ কর যে, আয় আল্লাহ! যদি ঈসায়ী ধর্ম সত্য হয়, তাহলে আমি যেন তাতে অবিচল থাকি। আর যদি ইসলাম ধর্ম সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এর সত্যতা আমার অন্তরে গেঁথে দিন এবং তা মেনে নেওয়া আমার জন্য সহজ করে দিন। এভাবে তাকে দুআ করার জন্য প্রস্তুত করুন।

কয়েকদিন পর তার দ্বিতীয় পত্র আসে, হযরত! সে কাজ দুটি করতে রাজি হয়েছে। আপনার কিতাব পড়া শুরু করে দিয়েছে এবং রাতে উঠে উঠে দুআও করছে। কিন্তু এখনও কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। আগে যেমন ছিল তেমনি আছে। ইসলামের প্রতি সে কোনো আকর্ষণ বোধ করছে না।

আমি এর জবাবে লিখি, ‘ঘাবড়াবেন না। তাকে বলবেন, সে যেন দুআ অব্যাহত রাখে। বাদ না দেয়।’

আমিও আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকি যে, আয় আল্লাহ! তুমি তার মনে সত্য ঢেলে দাও।

কয়েকদিন পর তার তৃতীয় চিঠি আসে। সে লেখে, মাওলানা! আপনি আল্লাহকে হয়ত দলীল-প্রমাণের আলোকে চিনেছেন। কিন্তু আমি আল্লাহকে চোখে দেখে ফেলেছি। গতকালের ঘটনা; আমার স্ত্রী তার ভার্সিটিতে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। আমিও তার সাথে ছিলাম। ইউনিভার্সিটির কাজ শেষ করে আমরা যখন ফিরছিলাম, সে গাড়ী ড্রাইভ করছিল। চালাতে চালাতে সে গাড়ী হঠাৎ সাইডে নিয়ে ব্রেক করল। স্টিয়ারিংয়ের উপর মুখ রেখে কাঁদতে আরম্ভ করল। আমি ভাবতে লাগলাম, খোদা না খাস্তা আবার হার্টে সমস্যা হল কি না। হার্টবিট বেড়ে যাওয়ায় হয়ত গাড়ী থামিয়ে দিয়েছে এবং এভাবে কাঁদছে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম- কী সমস্যা? কী হল? এতে যেন তার কান্না আরো বেড়ে গেল। হেঁচকি তুলে কাঁদতে লাগল সে। আমি ভড়কে গেলাম। বললাম, আরে বল তো কী হয়েছে?

সে কাঁদতে কাঁদতে বহু কষ্টে শুধু এতটুকু বলল- না, আমার কোনো সমস্যা নেই। আমাকে কোথাও নিয়ে তাড়াতাড়ি মুসলমান বানিয়ে নাও। আমি আমার কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না- এ কি সেই মেয়ে, যে আমার সাথে ইসলাম নিয়ে বিতর্ক করত! আর আজ কিনা সেই মেয়েই বলছে- ‘আমাকে মুসলমান বানিয়ে নাও’! আমি তড়িৎ গাড়ী ড্রাইভ করে নিকটতম ইসলামিক সেন্টারে তাকে নিয়ে গেলাম। আলহামদু লিল্লাহ, সেখানে সে কালিমা পড়ে মুসলমান হয়েছে।

ঘরে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেছে। গত রাত পয়লা রমযানের রাত ছিল। আমরা উভয়ে আজ সাহরী খেয়েছি এবং আজ এই প্রথম দিন, যেদিন আমরা উভয়ে একসাথে রোযা রাখছি।

এ তো ছিল আবদুল লতীফের চিঠি। দ্বিতীয় আরেকটি চিঠি ছিল তার স্ত্রীর। সে তাতে লিখেছে, আমি আপনার শুকরিয়া আদায় করছি। আপনি আমাকে এমন পথের সন্ধান দিয়েছেন, যা আমার সামনে সত্য উদ্ভাসিত করে দিয়েছে। এখন আপনি বলে দিন- আগামীতে আমি কীভাবে চলব?

তো যা বলছিলাম, আল্লাহ তাআলার কাছে যদি কিছু চাওয়া হয়, বিশেষ করে যদি হেদায়েত চাওয়া হয় এবং দ্বীনের উপর চলার তাওফীক চাওয়া হয়, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি মোতাবেক যিন্দেগী তলব করা হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তা দান করবেন। খোলাসা কথা হল, ব্যস, রাস্তা একটাই। নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করতে থাকুন এবং চেষ্টার সাথে সাথে আল্লাহ তাআলার নিকট নেক কাজের এবং ইসলাহের তাওফীক ও মদদ চাইতে থাকুন। তারপর দেখুন, আল্লাহ তাআলা কীভাবে আপনাকে সাহায্য করেন! কীভাবে তাওফীকে এলাহী আপনার শামিলে হাল হয়! আল্লাহ তাআলা আমল করার তাওফীক দান করুন- আমীন। (দ্র. ইসলাহী খুতুবাত, ১৮/৭৮-৮৪) হ

অনুবাদ : মুহাম্মাদ আশিক বিল্লাহ তানভীর
সূত্র : আল-কাউসার (বর্ষ১৫/সংখ্যা১১)

02/05/2023

যাদের থেকে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হয় না

অবুঝ, নাবালেগ ছেলে ও মস্তিষ্কবিকৃত ব্যক্তি থেকে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হবে না। তবে শিশু নাবালেগ হলেও বুঝমান হলে তার কণ্ঠে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হবে।

সূত্র —কিতাবুল আছল ১/২৭২; বাদায়েউস সানায়ে; ১/৪৪০; রদ্দুল মুহতার ২/১০৭-১০৮

23/04/2023

সিজদায়ে তিলাওয়াত কার উপর ওয়াজিব, কখন ওয়াজিব

# প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলমানের উপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব। এ ধরনের কেউ সিজদার আয়াত পাঠ করলে বা অন্য কারো থেকে শ্রবণ করলে তাকে সিজদা করতে হয়। নাবালেগ ও মস্তিষ্কবিকৃত ব্যক্তির উপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব নয়।

# হায়েয ও নেফাস অবস্থায় মহিলারা কারো থেকে সিজদার আয়াত শুনলে তাদের উপর সিজদা ওয়াজিব হয় না। তাবেয়ী ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

عَنْ إبْرَاهِيمَ أَنّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْحَائِضِ تَسْمَعُ السّجْدَةَ، قَالَ: لاَ تَسْجُدُ، هِيَ تَدَعُ مَا هُوَ أَعْظَمُ مِنَ السّجْدَةِ، الصّلاَة الْمَكْتُوبَةَ.

অর্থাৎ হায়েয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা করবে না। তার তো এর চেয়ে বড় বিধান ফরয নামাযই পড়তে হয় না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৪৩৪৭) —কিতাবুল আছল ১/২৭২; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৩৯

20/04/2023

কুরআন মাজীদে মোট সিজদার আয়াতের সংখ্যা-

কুরআন মাজীদে সিজদার আয়াতের সংখ্যা মোট চৌদ্দটি। যেগুলো আমাদের উপমহাদেশে প্রকাশিত মুসহাফগুলোতে ‘সিজদা’ শব্দ লিখে ও আয়াতের সংশ্লিষ্ট অংশের উপরে বা নিচে লম্বা দাগ টেনে চিহ্নিত করা রয়েছে। এ আয়াতগুলোর কোনোটি তিলাওয়াত করলে বা কারো থেকে শ্রবণ করলে সিজদায়ে তিলাওয়াত করা ওয়াজিব হবে।
সূত্রঃ কিতাবুল আছল ১/২৭৩

সূরায়ে হজ্বের ৭৭ নং আয়াত, যার পাশে হিন্দুস্তানের মুসহাফগুলোতে ‘ইমাম শাফেয়ী রাহ.-এর মতে সিজদা’ বা এ জাতীয় অন্য লেখা বা চিহ্ন থাকে, হানাফী মাযহাবসহ অনেক ফকীহগণের মতে তা সিজদার আয়াত নয়।

ইমাম সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব ও হাসান বসরী রহিমাহুমাল্লাহ থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন—

في الحج سجدة واحدة الأولى منها.

সূরায়ে হজ্বে সিজদা একটাই। আর সেটা হচ্ছে, প্রথম সিজদা।
- সূত্রঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৪৩০০, কিতাবুল আছল ১/২৭৩

তাই এ আয়াত পাঠে সিজদা করা জরুরি বা আবশ্যক নয়। অবশ্য তা যেহেতু ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ সহ অন্যান্য আরো ফকীহগণের মতে সিজদার আয়াত। তাই কোনো কোনো হানাফী ফকীহ এ আয়াতেও সিজদা করে নেয়ার কথা বলেছেন। সে হিসাবে এ আয়াত পাঠেও সিজদা করে নেয়া ভালো। সূত্রঃ ইলাউস সুনান ৭/২৪৪-২৪৫

#আয়াতেসিজদাহ

17/04/2023

আমরা পাঁচভাবে শোকর আদায় করতে পারি :

১. যবানের মাধ্যমে শোকর
২. দিলের মাধ্যমে শোকর
৩. আমলের মাধ্যমে শোকর
৪. নিআমতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে শোকর ও
৫. নিআমতের অন্যায় ব্যবহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে শোকর।

যদি এভাবে শোকরের যিন্দেগী গড়তে পারি, তবে আমরা সফল।

- মাওলানা আব্দুল মালেক (দামাত বারাকাতুহুম)

17/04/2023

ইমাম নাসায়ী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন, ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার অথবা মক্কার এক বাগানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন দুই ব্যক্তির আওয়ায শুনতে পেলেন যাদেরকে কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদেরকে আযাব দেওয়া হচ্ছে। (এমন) বড় কোনো কারণে আযাব দেওয়া হচ্ছে না (যা থেকে বাঁচা খুব কঠিন)। এরপর বললেন, হাঁ, (তবে বড় গুনাহ)। তাদের একজন পেশাব থেকে ইস্তিবরা করত না, আরেকজন পরনিন্দা করত।

বর্ণনাটির আরবী পাঠ-

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَائِطٍ مِنْ حِيطَانِ مَكَّةَ أَوِ الْمَدِينَةِ سَمِعَ صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذَّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ، ثُمَّ قَالَ: بَلَى، كَانَ أَحَدُهُمَا لَا يَسْتَبْرِئُ مِنْ بَوْلِهِ، وَكَانَ الْآخَرُ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ...

- সুনানে নাসায়ী, হাদীস ২০৬৮, ২০৬৯
- মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১২১৬৪
- শরহু মুশকিলিল আসার, তহাবী, হাদীস ২১৩

17/04/2023

কিছু আদব
মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক [দামাত বারাকাতুহুম]

আদবের অর্থ হল, তরীকা। কোনো কাজের ভালো তরীকাকে আদব বলা হয়। সব কাজ নিপুণভাবে করা আদব। এক হল কাজের আদব, আরেক হল সারা জীবনের আদব। এক হল কাজ নিপুণভাবে করা, আরেক হল সারা জীবন গুছিয়ে চলা। অন্তরে আদব সৃষ্টি করা। এবাদত, মুআমালা, মুআশারাসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামী আদব রক্ষা করা।

এখনকার বিষয় হল, কথা, কাজ ও জীবন-যাপনের কিছু আদব নিয়ে আলোচনা করা। কিছু আদব গুরুত্বপূর্ণ, কিছু আদব বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু আদব কেবলই শোভা ও সৌন্দর্য। এমনিভাবে কিছু আদব তো সরাসরি শরীয়তের নুসূসের মধ্যে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে; যাকে আমরা সাধারণত সুন্নত অথবা সুনান বলে থাকি। আর যেসব আদব বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা সহজেই উপলব্ধি করা যায় সেগুলোর প্রতি লক্ষ রাখার কথাও শরীয়তের মূলনীতির অধিনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। মোটকথা, সব আদবের শরয়ী হুকুম এক নয়, আবার সবগুলোর গুরুত্ব এক স্তরের নয়। তবে যেসব আদব কেবলই শোভা ও সৌন্দর্য, কোনো ওযর না থাকলে নিজস্ব পরিমণ্ডলে সেগুলোর প্রতিও লক্ষ রাখা ভালো।

কিছু আদবের আলোচনা আলকাউসারের এ বিভাগে দুয়েকবার করা হয়েছিল। সে সব লেখা এখন আমার সামনে নেই। কিছু আদবের আলোচনা করার তাগাদা যেহেতু মনে বার বার আসছিল তাই নিজে মনে রাখার জন্য এবং সাথীদের ফায়েদার জন্য কিছু আদব আলোচনা করছি। এর মধ্যে কিছু তো এমন থাকবে, যার আলোচনা ইতিপূর্বে হয়েছে। কিছু এমন থাকবে, যেগুলোর আলোচনা খুব সম্ভব এখনো এ বিভাগে করা হয়নি।

আদবের ব্যাপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব হল, নিজে তা গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা। অন্যের মধ্যে কোনো আদবের কমতি দেখলে তার প্রতি খারাপ ধরাণা করা যাবে না। তার ব্যাপারে মন্তব্য করা যাবে না; বরং তার ভালো গুণাবলীর প্রতি লক্ষ রাখবে। নিজের কমতি ও দুর্বলতার কথা স্মরণ করবে। কারণ, এমন অনেক হয়, আমরা কিছু শাখাগত আদবের তো খুব খেয়াল রাখি, কিন্তু গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার মত ফরয আদবের মধ্যে কমতি করে বসি। এমনও হয়ে থাকে, কিছু শাখাগত আদবের প্রতি খেয়াল রাখলেও সুনানুল হুদা ও সুনানে মুআক্কাদার ব্যাপারে উদাসীনতার পরিচয় দিই।

হাঁ, নিজের চেয়ে ছোট কারো মাঝে কিংবা নিজ সাথীদের মধ্যে কোনো আদবের কমতি দেখা গেলে, যদি জানা যায়, অমনোযোগিতা অথবা ওযরের কারণে নয়, বরং এ আদব সম্পর্কে জানা না থাকার কারণে এমন হচ্ছে, তাহলে নিরালায় সম্মানের সঙ্গে ওই আদবের দিকে তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে সমস্যা নেই। তাকেও অনুরোধ করা উচিত- আমার থেকে এমন অপছন্দনীয় অথবা অশোভনীয় কোনো আচরণ অথবা কথা প্রকাশ পেলে আপনিও আমাকে অবশ্যই অবহিত করবেন।

এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর সংক্ষেপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদবের আলোচনা করা হচ্ছে, লক্ষণীয় যে, এ তালিকা একেবারেই তারতীব ছাড়া। না বিষয়বস্তু হিসেবে এতে কোনো তারতীব আছে, না গুরুত্বের দিকে লক্ষ করে কোনো তারতীব দেওয়া হয়েছে।

কিছু আদবের তালিকা

এক. তালিবুল ইলম কোনো বুযুর্গ অথবা কোনো মাদরাসার যিয়ারতে যেতে চাইলে বিরতির সময়ে যাবে। নিজের মাদরাসা খোলা অবস্থায় যাবে না। প্রচণ্ড ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে উস্তাযের হুকুমে দরসের বাইরের সময়ে গেলে ভিন্ন কথা। বিরতির সময় গেলেও নিজ অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে যাবে। যেখানে যাচ্ছে সেখানে যোগাযোগ করে জেনে নেবে, যে উদ্দেশ্যে যাচ্ছে সে উদ্দেশ্য তখন পূর্ণ হবে কি না।

দুই. বের হওয়ার সময় খেয়াল করবে, সামনের ওয়াক্তের নামাযগুলো মসজিদে জামাতে আদায়ের কী ব্যবস্থা হবে? কমপক্ষে জামাতে আদায় করার কী সূরত হবে? বুযুর্গদের দেখেছি, এসব বিষয়ে লক্ষ রাখতে- বের হওয়ার পূর্বে জামাতে নামায আদায় করে বের হতেন কিংবা গন্তব্যে জামাতে নামায আদায়ের ব্যবস্থা ভেবে নিতেন। আর রাস্তায় সহজে তা সম্ভব হলে তাই করতেন।

তিন. বের হওয়ার পূর্বে এটাও খেয়াল রাখতে হবে, বাজারের খোলা দোকান এবং হোটেল থেকে কিংবা হোটেলে বসে খাবারের প্রয়োজন যেন না পড়ে। কারণ, খুব প্রয়োজন ছাড়া তালিবুল ইলমদের জন্য এসব জিনিস থেকে বিরত থাকাই ভালো। এটা আদব ও মাসলাহাতের ব্যাপার। কোনো ফিকহী হুকুম নয় যে, এটা নাজায়েয অথবা মাকরূহ বলা হবে।

যেখানে যাচ্ছে সেখানে মেহমানদারির ইনতিযাম হলে তা কবুল করাই উচিত। তবে আমাকেও খেয়াল রাখতে হবে, যেন খবর দেওয়া ছাড়া ঠিক দস্তরখানের মুহূর্তে অথবা অসময়ে উপস্থিত না হই। একবার নোমানী রাহ.-এর কাছে ঠিক দুপুরে গিয়ে পৌঁছলাম। আগে কোনো খবরও দেওয়া হয়নি। হযরত জিজ্ঞেস করলেন, খেয়ে এসেছ?

বললাম, না।
বললেন, কেন খেয়ে আসনি?
-এরপর যা ছিল তা দিয়েই মেহমানদারি করেন।

বিশেষ করে কয়েকজন একসঙ্গে ঠিক দস্তরখানের সময় অথবা অসময়ে কোথাও গিয়ে ওঠা উচিত নয়। আগে থেকে খবর দিয়ে গেলে ঠিক আছে।

চার. বের হওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, ফেরার সময় যানবাহন পেতে কষ্ট হবে না তো।

পাঁচ. রাতে ওখানে থাকতে হলে আগেই ভাবতে হবে, সেখানে রাতে থাকার ব্যবস্থাপনা কী? সেখানে মেহমানখানা থাকলেও অপরিচিত মানুষকে অনুমতি কীভাবে দেবে? তাই আগেই এমন কোনো পন্থা ভেবে নিতে হবে, যেন ব্যবস্থাপকদের কোনো পেরেশানী না হয়।

ছয়. কোনো বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হলে, বিশেষত কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎ করতে হলে আগে থেকে অনুমতি নিয়ে যাওয়া ভালো। কমপক্ষে যোগাযোগ করে অবস্থা অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত। যে হযরতরা বেশি ব্যস্ত এবং রুটিন খুব মেনে চলেন তাদের ক্ষেত্রে এই আদবের রক্ষা করা বেশি জরুরি।

সাত. কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হাদিয়া নিয়ে যাওয়া সুন্নত মনে করা ঠিক না। কিছু মানুষ আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় হাদিয়া দেওয়া জরুরি মনে করে। এ ধারণা একেবারে ভুল। হাদিয়ার কিছু বিধান, মূলনীতি ও আদব আছে। সেগুলো জানা জরুরি। এখানে ওসবের আলোচনা করছি না। আমি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই। তা হল, কাউকে দেখা যায়, হাদিয়া নিয়ে আসে; কিন্তু সাক্ষাতের মাঝে অথবা সাক্ষাৎ শেষে যাওয়ার সময় হাদিয়ার কথা বলে না। অনুমতি ছাড়া বরং জানানো ছাড়াই হাদিয়ার জিনিস রেখে চলে যায়। এ কাজ মারাত্মক ভুল। এটা হাদিয়ার প্রাণই নষ্ট করে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা হল, মেযবান জানবেই বা কী করে- এটা হাদিয়া না মেহমানের ব্যক্তিগত জিনিস! হাদিয়া হয়ে থাকলে কার জন্য হাদিয়া? যদি কোনোভাবে জানাও যায়, এটা তার জন্য হাদিয়া তখন তো তার এটা ব্যবহার করতে সংকোচ বোধ হবে। আত্মসম্মানের অধিকারী মানুষ এটা কবুল করতে পারবে না। কারণ, হাদিয়া তো পেশ করা হয়। কোনো রকম না জানিয়ে ফেলে চলে যায় না। এটা খেয়াল রাখাও জরুরি, সদকাকেও হাদিয়া বলে না, সহযোগিতাকেও বলে না। এটা ভিন্ন এক নেক কাজ। এর ভিন্ন আদব ও আহকাম আছে। হাদিয়া তো হয় নিষ্কলুষ মহব্বতের ভিত্তিতে ইকরামের জন্য। এর ভিন্ন মূলনীতি ও আদব আছে।

আট. দস্তরখানে কাউকে বিশেষ কোনো কিছু খাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করা উচিত নয়। এক-দুবার অনুরোধ করে নিরস্ত হওয়া উচিত। মেহমানের মর্জিবিরোধী পীড়াপীড়ি করতে থাকা উচিত নয়।

নয়. এমনিভাবে কাউকে মেযবান অথবা খাদেমের পক্ষ থেকে বেশি পরিমাণে খাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করা উচিত নয়। উদ্দেশ্য তো হল, মেহমানকে খুশি করা এবং আরাম দেওয়া। কিন্তু কেউ কেউ মেহমানের কাছে দাবি করে, বেশি খেয়ে, সব পদ খেয়ে যেন মেজবানকে খুশি করে। মনে রাখবেন, এমন দাবি মেহমানদারির নীতি-পরিপন্থী।

হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ.-কে এ ধরনেরই কোনো প্রেক্ষাপটে কেউ বলেছেন, এতে মেজবানের দিল-শিকনী (মনোকষ্ট) হবে। হযরত বললেন, আমরা যদি তার মন রক্ষা করতে যাই তাহলে আমাদের শিকম-শিকনী (পেট-খারাপ) হবে।

এটা ভিন্ন কথা যে, অসহনীয় না হলে মেহমান মেজবানের মন রক্ষার প্রতি খেয়াল রাখবে। তবে এখানে প্রসঙ্গক্রমে এ কথা নিবেদন করছি, দস্তরখানে অনেক পদের সমাহার ঘটানো খাইরুল কুরুনের তরীকা নয়। ভালো হয়, যদি আমরা এ তরীকার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করি।

দশ. কারও সাক্ষাতে গেলে উপযুক্ত সময়ে যাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে শুধু নিজের সহজতার দিকেই লক্ষ রাখবে না; বরং যার সঙ্গে সাক্ষাতে যাওয়া হচ্ছে তার সহজতা প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

অসময়ে সাক্ষাৎ জরুরি প্রয়োজনেই কেবল হতে পারে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতে একটি ঘটনা খোদ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর জবানীতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, একবার আমি কায়লুলার জন্য শুয়ে গেছি। এমন সময় সংবাদ এল, দরজায় কে একজন এসেছে।

আমি বললাম-

ما جاء هذه الساعة إلا لحاجة، أدخلوه.

এ সময়ে সে কোনো প্রয়োজনেই এসেছে। নিয়ে আসো তাকে -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৫/৭৫

এগার. মুখোমুখি হয়ে বসতে হলে নিজের অবস্থা অনুযায়ী হয়ত দু’হাঁটু গেড়ে বসবে কিংবা আসন পেতে বসবে। এক হাঁটু উঠিয়ে বসতে চাইলে যথাসম্ভব দেহের নিম্নাংশ কাপড় দিয়ে ঢেকে নেবে। যেন কোনো অশোভনীয় দৃশ্যের সৃষ্টি না হয়। দু হাঁটু উঠিয়ে বসা তো একেবারেই উচিত নয়। ‘খাবারের সময় এভাবে বসা সুন্নত’ ধারণাটি একেবারেই প্রমাণহীন কথা। এটা কেবল মুখে মুখে প্রচারিত একটি কথা, যার কোনো ভিত্তি নেই।

বারো. সালোয়ার বা লুঙ্গির সাথের অন্তর্বাস একটি প্রাচীন পোশাক। খাইরুল কুরূনে এর প্রচলন ছিল। কমপক্ষে বাইরে যাওয়ার সময় বিশেষ করে বাস ইত্যাদিতে সফরের সময় লুঙ্গি অথবা সালোয়ারের নিচে তা ব্যবহার করা উচিত।

তের. কথার আওয়াজ সীমিত হওয়া কাম্য। এত নীচু হবে না যে, পুনরায় তাকে জিজ্ঞেস করতে হয় কী বললেন! আবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জোরেও হবে না।

চৌদ্দ. শুধু কথার আওয়াজই নয়, সব ধরনের আওয়াজই সীমিত হওয়া কাম্য। প্লেটের আওয়াজ, চামচের আওয়াজ, খাবারের আওয়াজ, ডাল পান করার আওয়াজ, চা পান করার আওয়াজ- সব কিছুতে কোমলতা কাম্য। আওয়াজ না হওয়ার জন্য অনেক বেশি তাকাল্লুফ করবে না আবার উদাসীনতার পরিচয়ও দেবে না।

এমনিভাবে হাঁটার সময়ও যথাসম্ভব জুতার আওয়াজ সীমিত রাখবে। কিছু জুতা আছে, যেগুলোতে পানি লাগলে অথবা ভেজা পায়ে পরে হাঁটলে একরকম অসুন্দর আওয়াজ হয়, তাই শুকানোর সুযোগ থাকলে পা ও জুতা শুকিয়ে নিলে ভালো।

জুতা পরিধানের সময় মাটিতে আস্তে রাখবে। সোজা দাঁড়িয়ে উপর থেকে জামিনে ফেলবে না। মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় অনেক মুসল্লি বিষয়টি খেয়াল করেন না; ফলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত এ অপছন্দনীয় আওয়াজ সবাইকে শুনতে হয়। এমন না করা উচিত। যে কোনো অপছন্দনীয় আওয়াজ থেকে আশপাশের লোকজনকে বাঁচানো শরীয়তে কাম্য।

গাড়ির আওয়াজ, স্পিকারের আওয়াজ, শাসনের জন্য ধমকানোর আওয়াজ, এমনকি ওয়াজ-নসীহত ও পাঠদানের আওয়াজ ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া কাম্য। খেয়াল রাখতে হবে, প্রয়োজনের সীমা যেন অতিক্রম না হয় এবং অন্যের কষ্টের কারণ না হয়। হযরাতুল উস্তায শাইখুল ইসলাম তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর ‘লাউড স্পিকারের নিষ্ঠুর ব্যবহার’ প্রবন্ধটি মনোযোগ দেওয়ার মতো বিষয়। ‘যিকর ও ফিকরে’ এটি ছাপা হয়েছে।

পনের. দস্তরখানে হাত ধোয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, আশপাশের কারও কাপড় অথবা শরীরে যেন কোনো ছিটা না পড়ে। খাবারের পরে হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে এদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আলাদা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলে জোয়ানরা ওখানে হাত ধৌত করবে। দস্তরখানে বসে হাত ধোয়ার কী প্রয়োজন?

ষোল. হাত ধোয়ানোর ক্ষেত্রেও নৈপুণ্যের বিষয় আছে। কখন পানি ঢালতে হবে, কখন বেশি, কখন কম, কখন থামতে হবে, প্রয়োজন মতো কখন পানি অথবা গ্লাস ঘোরাতে হবে, না এক জায়গাতেই ঢালতে হবে? সঠিক আকল থাকলে আকল কাজে লাগালেই ব্যাপারটি সহজ হয়ে যায়। নতুবা এসব বিষয়ও শিখতে হয়। কেউ কেউ হাত ধোয়ানোর সময় অনেক পানি নষ্ট করে, কিন্তু এরপরও পরিষ্কার হয় না।

সতের. হাত ধোয়া ও ধোয়ানোর সময় আশপাশে খেয়াল রাখা জরুরি। ডানে-বামে আহার চলমান অবস্থায় নিজে আগে আগে উঠতে চাইলে আলাদা হয়ে হাত ধোয়া উচিত। এমনিভাবে দস্তরখানে তরকারি অথবা ভাতের পাত্র থাকলে সেগুলো প্রথমে উঠিয়ে নিতে হবে। পানির ছিটা কারও উপর অথবা খাবারে না পড়ার প্রতি লক্ষ রাখা কাম্য।

আঠার. সাধ্য থাকলে দস্তরখানের জন্য আলাদা হ্যান্ডওয়াশ রাখা ভালো। বাথরুম থেকে হ্যান্ডওয়াশ এনে দস্তরখানে হাত ধোয়ালে কারও অস্বস্তি হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এসব কথা লেখা হয়েছে। অন্যথায় সাবান বলুন অথবা হ্যান্ডওয়াশ কিংবা টিস্যু কোনোটাই না আবশ্যক না সুন্নত। এসব আমাদের আরামের যিন্দেগির অংশ।

حرص قانع نيست صائب ورنہ اسباب معاش

ہرچہ ما دركار داريم اكثرے در كار نيست

কিন্তু আরামের যিন্দেগি যখন গ্রহণই করেছি তখন আকল ব্যবহার করে এমন পন্থা অবলম্বন করবে যেন পরিশীলিত স্বভাবের মানুষের জন্য অসহনীয় না হয়।

ঊনিশ. গ্লাসে পানি না থাকলেও তার মুখ আলগা রাখা উচিত নয়। উপরে কোনো ঢাকনা রাখতে হবে। কিছুক্ষণ পর এ গ্লাসে আমিই পান করব অথবা অন্যকে পান করাব।

বিশ. গ্লাস ব্যবহারের সময় ঢাকনাটা উল্টো করে রাখা। অর্থাৎ গ্লাসের ভেতরের দিকে যে অংশটা থাকে তা উপরের দিকে রাখা, যে দিকটা গ্লাসের ভেতরের দিকে থাকে সে দিকে যেন ধুলাবালি না লাগে।

একুশ. যৌথ গোসলখানায় কোনো ব্যক্তিগত জিনিস রেখে আসবে না। খাস হাম্মাম হলেও নিজের এমন কোনো জিনিস উন্মুক্ত রাখবে না, যা অন্য কারও নজরে পড়া উচিত নয়।

বাইশ. হাম্মাম থেকে ফিরে যৌথ ব্যবহারের সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার বদলে ব্যক্তিগত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ভালো। সাধ্য থাকলে এর খেয়াল রাখা উচিত। গুলশানের এক মসজিদে দেখেছি, অযু খানায়ও মাশাআল্লাহ সাবান ও সাবানদানি রাখা আছে। এটা তাদের সুন্দর রুচি ও মুসল্লীদের একরাম করার প্রমাণ বহন করে। কিন্তু এ মসজিদ কর্তৃপক্ষের হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা করা সহজেই সম্ভব ছিল। এটা পরিশীলিত স্বভাবের তাগাদাও। আবার স্বাস্থ্যের জন্যও অধিক উপযোগী। যেমনটা শুনেছি কোনো কোনো ডাক্তারের কাছ থেকে।

অনেককে দেখা যায় হাম্মামে বা বেসিনে জরুরত সারার পর হাত ধোয়ার জন্য সাবান রেখে দেয়। সামর্থ থাকলে এখানে তরল সাবান (হ্যান্ডওয়াশ) রাখা উচিত।

তেইশ. এক রিকশায় দুই সাথীর বেশি ওঠা ঠিক না। এটা অশোভন ও ভদ্রতার পরিপন্থী। বিশেষ করে মাদরাসার তালিবুল ইলমের জন্য।

চব্বিশ. পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা উভয়টাই ঈমানের শাখা। এর প্রতি খুব গুরুত্বারোপ করা উচিত।

পঁচিশ. পরিচ্ছন্নতার তা‘মীম-ব্যাপকতা, তাদকীক-নৈপুণ্য এবং মুদাওয়ামাত-ধারাবাহিকতা কাম্য।

তা‘মীম-ব্যাপকতা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, প্রত্যেক জিনিসের পরিচ্ছন্নতা কাম্য। প্রত্যেক জিনিসের প্রত্যেকটি অংশে পরিচ্ছন্নতা কাম্য। যেমন, শুধু নিজের কাপড়ের পরিচ্ছন্নতা নয়, দেহের পরিচ্ছন্নতাও কাম্য। দেহের শুধু দর্শনীয় অংশগুলো নয়, সারা শরীরের পরিচ্ছন্নতার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। শুধু নিজের মধ্যেই পরিচ্ছন্নতা সীমাবদ্ধ রাখবে না, নিজের আসবাব, ঘর, হাম্মাম, আঙিনা- প্রতিটি জিনিস মানসম্মত পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন রাখব।

মাদরাসা অথবা নিজ বাড়ির ভবন এবং ভবনের পেছনের অংশ পরিচ্ছন রাখব। তা আপনার জন্য পেছনের অংশ, কিন্তু আপনার ওদিকের প্রতিবেশীর জন্য এবং ওদিক দিয়ে যাতায়াতকারীর জন্য সামনের অংশ। তাই আপনি যতটা গুরুত্ব দিয়ে সামনের অংশ পরিষ্কার করে থাকেন পেছনের অংশও -যা সাধারণত আপনার দৃষ্টির আড়ালে থাকে- গুরুত্ব দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।

পরিচ্ছন্নতার সামানগুলোর পরিচ্ছন্নতা কাম্য। বদনার তলাও পরিচ্ছন্নতার সময় লক্ষণীয়। এভাবে ভাবতে থাকুন আর পরিচ্ছন্নতার সীমারেখা বোঝার চেষ্টা করুন।

তাদকীক-নিপুণতা দিয়ে উদ্দেশ্য হল, পরিচ্ছন্নতা ভালোভাবে হতে হবে, নিখুঁতভাবে হতে হবে।

আজকাল অনেকসময় পরিচ্ছন্নতার নৈপুণ্যের প্রতি এজন্য খেয়াল করা হয় না যে, পরিচ্ছন্নতার মর্মই মাথা থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে। যেমন হাম্মামের পরিচ্ছন্নতার বেলায় কিছু মানুষের মাথায় এটা কাজ করে, পা-দানি ও আশপাশে কোনো বড় নাপাকি না থাকলেই হল। পানির মধ্যে ময়লা দেখা গেলে কী সমস্যা? কমোডে ময়লার আস্তর পড়লে কী? টাইলসের রং বদলে গেলেও কোনো সমস্যা নেই। টাইলসের ফাঁকে ময়লা জমলে কী সমস্যা?

বদনার ভেতর-বাহির কালো হয়ে যাওয়া, জুতো পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া, জুতোর নিচে নয় উপরের দিকে ময়লার আস্তর পড়ে গেলেই বা কী! দরজা ও দেয়ালের অবস্থা দেখার তো প্রয়োজনই নেই!

মোটকথা, স্বভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই তো ‘পরিচ্ছন্নতা’ ও ‘ময়লা’র মর্ম স্থীর হয়। তাই এখন সম্ভবত এসব বিষয়ে আলোচনাও একটু কঠিন হয়ে গেছে।

এমনিভাবে ওযুখানার অবস্থাও ভেবে দেখুন। আমাদের অনেকের মাথায় ওযুখানার পরিচ্ছন্নতার অর্থ কী? টিউবওয়েলের আশপাশের অবস্থা ভাবুন, এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কী মর্ম আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়?

وإذا كان ذلك موضع غسل الأواني بعد الطعام فأمره خطير جدا، يرى هناك حبوب الرز، قطعات الأدم، والعدس، ونحو ذلك، فإن لم يكن هذا غيرَ مخل عندنا بالنظافة والمروءة، وغير مخل أيضا بأدب النعمة وأدب الرزق، فعلى فهمنا وذوقنا السلام، أما والحال هذا فلا قول ولا كلام!

উল্লেখিত উদাহরণগুলো দিয়ে আমরা অনুমান করতে পারি, নিখুঁত পরিচ্ছন্নতার জন্য আমাদের কতটা ভেবেচিন্তে কাজ করা উচিত এবং এর কত গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

নিয়মতি পরিষ্কার করলে এর জন্য প্রতিদিন বেশি সময় ও বেশি মেহনতের প্রয়োজন পড়ে না। পরিচ্ছন্নতা এমন নয় যে, একদিন করবে এরপর দু-তিন দিন অথবা তিন-চার দিন বিরতি দেবে। প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়। কিছু জায়গা, কিছু জিনিসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রতিদিন একাধিকবার করতে হয়। আর হালকা-পাতলা পরিচ্ছন্নতা তো চলমান থাকাই উচিত।

ছাব্বিশ. হাড়ি, পাতিল, পেয়ালা, চামচ, দস্তরখান, চায়ের কাপ ব্যবহারের পর এমনিই রেখে দেওয়া ঠিক নয়। অনতিবিলম্বে পরিষ্কার করে জায়গা মতো রেখে দেওয়া উচিত। কোনো জিনিস ব্যবহারের পর পরিষ্কার না করে রেখে দেওয়া, সামনে প্রয়োজন হলে ধোয়ার ফিকির করা উসূলের খেলাফ কাজ, স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এ থেকে বেঁচে থাকা অনেক জরুরি।

এমনিভাবে দস্তরখানের সময় ব্যবহৃত পানির বালতিটি ভরার পর পরিষ্কার করার প্রবণতা ঠিক নয়, তা দিনে অন্তত তিনবার খালি করা এবং পরিষ্কার করা জরুরি।

ব্যবহৃত পানির বালতি এবং ময়লার ঝুড়ি পরিষ্কার না করে ফেলে রাখা ভদ্রতা পরিপন্থী কাজ। এই অলসতা ও উদাসীনতা থেকে আমাদেরকে বাঁচতেই হবে।

সাতাশ. ইসলামে যেমনিভাবে পরিচ্ছন্নতার তাকিদ করা হয়েছে তেমনিভাবে পরিপাটি থাকার তাকিদও করা হয়েছে। পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি থাকা- এ তিন গুণ একত্রিত হলে পূর্ণতা সৃষ্টি হয়।

হাদীস শরীফে এসেছে, এক সফর থেকে ফেরার সময় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার কাছে পৌঁছে ইরশাদ করেন-

إِنّكُمْ قَادِمُونَ عَلَى إِخْوَانِكُمْ، فَأَصْلِحُوا رِحَالَكُمْ، وَأَصْلِحُوا لِبَاسَكُمْ، حَتّى تَكُونُوا كَأَنّكُمْ شَامَةٌ فِي النّاسِ.

অর্থাৎ তোমরা তোমাদের ভাই বেরাদারের নিকট পৌঁছতে যাচ্ছ। সুতরাং নিজেদের বাহন ঠিকঠাক কর এবং পোশাক-পরিচ্ছদ পরিপাটি কর। যেন তোমরা লোকজনের মাঝে সুন্দর অবয়বের তিলকসদৃশ হও। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪০৮৯

আটাশ. কোনো জিনিস ফেলতে হলে নির্ধারিত জায়গায় ফেলবে, নতুবা উপযুক্ত জায়গায় তো অবশ্যই ফেলবে। জানালা দিয়ে বাইরে কিছু ফেলা একদমই অনুচিত কাজ।

ঊনত্রিশ. ব্যবহৃত টিস্যু ও অন্যান্য ময়লা রাখার জন্য পৃথক ঝুড়ি এবং কাগজ রাখার জন্য (বিশেষত যে কাগজে লেখা থাকে, আরও বিশেষ করে যদি দ্বীনী লেখা হয়) পৃথক ঝুড়ি হওয়া উচিত। একই ঝুড়িতে ময়লার সঙ্গে পবিত্র কাগজ রাখা উচিত নয়। এরপর ময়লা নির্ধারিত জায়গায় ফেলবে। কাগজ-পত্র উপযুক্ত স্থানে রেখে পুড়িয়ে দেবে।

ত্রিশ. কোথাও দেখেছি, টিস্যু দিয়ে হাত মুছে চিলমচি অথবা পেয়ালার পানিতে ফেলে দিয়েছে। এমন করা উচিত নয়। পানিতে কাঁটা, হাড্ডি, টিস্যু ইত্যাদি না ফেলা উচিত। কারণ, পানি ফেলার জায়গা আর এসব জিনিস ফেলার জায়গা এক নয়। আরও কিছু কারণ আছে, যে জন্য এমন করা উচিত নয়।

একত্রিশ. থু থু ফেলার জন্য, নাক সাফ করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহার করা উচিত অথবা কোনো উপযুক্ত জায়গা খোঁজা উচিত। কোনো ধরনের ভাবনা চিন্তা ছাড়াই ডানে বামে থুথু ফেলা অথবা নাক সাফ করা উচিত নয়। এটা মুরূআত পরিপন্থী এবং অন্যের জন্য কষ্টদায়কও।

আজ এখানেই ইতি টানতে চাচ্ছি। কিছু কথা ‘তালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয়’-এর মধ্যেও উল্লেখ আছে। কিছু কথা আলকাউসার মুহাররম ১৪৩০ হিজরী (ভলিউম ২০১১ ঈ.) রবিউল আখির ১৪৩৫ হিজরী, যিলকদ ১৪৩৫ হিজরী (ভলিউম ২০১৪ ঈ.) সংখ্যায় উল্লেখ আছে।

আল্লাহ তাআলা আমাকে, আমার সন্তানদেরকে, আমার তালিবুল ইলম ভাইদেরকে, আমার শুভানুধ্যায়ী এবং প্রত্যেক মুমিন-মুমিনাতকে ইসলামী আদব শেখার এবং আপন করে নেওয়ার তাওফীক দান করুন।

هذا، وصلى الله تعالى وبارك وسلم على سيدنا ومولانا محمد خاتم النبيين لا نبي بعده، وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.

সূত্র | আল-কাউসার

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka