23/07/2026
আল্লামা খলীলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী নারীদের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেছেন।
আলোচনার শুরুতে তিনি কুরআনুল কারিমের সূরা আত-তাহরীমের ১১ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন, আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মুমিনদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। কী সেই দৃষ্টান্ত? মনে হতে পারে, আল্লাহ তাআলা যেহেতু দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, তাহলে হয়তো কোনো নবী-রাসুলের কথা বলবেন। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি একজন মহীয়সী নারীর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি কোনো নবী বা রাসুলের স্ত্রী নন, আবার কোনো নেক বান্দার স্ত্রীও নন; বরং তিনি ছিলেন ফিরআউনের স্ত্রী। আল্লাহ তাআলা তাঁর দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝিয়েছেন যে, দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তির স্ত্রী হলেও যদি কেউ ঈমান, আমল, তাকওয়া ও পবিত্রতায় পরিপূর্ণ হন এবং আল্লাহর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দৃঢ় থাকে, তাহলে আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও মাকাম দান করবেন।
আমার প্রিয় বোনেরা! দ্বীন ও ঈমানের হিফাজতে শুধু পুরুষরাই ত্যাগ ও কুরবানি দেননি; বরং নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে সমানভাবে ত্যাগ ও কুরবানির ইতিহাস রচনা করেছেন।
হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর আলোচনা হযরত হাজেরা ও হযরত সারার আলোচনা ছাড়া অসম্পূর্ণ। তেমনি হযরত মূসা (আ.)-এর আলোচনা তাঁর মা ও বোনের আলোচনা ছাড়া অসম্পূর্ণ। হযরত আইয়ুব (আ.)-এর আলোচনা তাঁর স্ত্রী হযরত রহিমার আলোচনা ছাড়া অসম্পূর্ণ। হযরত ঈসা (আ.)-এর আলোচনা তাঁর মা হযরত মারইয়াম (আ.)-এর আলোচনা ছাড়া অসম্পূর্ণ। হযরত আদম (আ.)-এর আলোচনা হযরত হাওয়া (আ.)-এর আলোচনা ছাড়া অসম্পূর্ণ।
হযরত খাদিজা (রা.)-এর আলোচনা ছাড়া ইসলামের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। হযরত আয়েশা (রা.), হযরত ফাতিমা (রা.), হযরত রুকাইয়া (রা.), হযরত উম্মে সালামা (রা.), হযরত খনসা (রা.)-সহ অন্যান্য মহীয়সী নারীদের আলোচনা ছাড়া ইসলামের ইতিহাস পূর্ণতা পায় না। হযরত হালিমা সাদিয়া (রা.)-এর আলোচনা ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শৈশবের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। হযরত সুমাইয়া (রা.)-এর আলোচনা ছাড়া ইসলামের শহীদদের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। হযরত উম্মে মাবাদ (রা.)-এর আলোচনা ছাড়া হিজরতের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। তাই আল্লাহ তাআলার কাছে আপনারা অত্যন্ত সম্মানিত ও মূল্যবান।
আমার প্রিয় বোনেরা! আপনাদের হৃদয় কোমল। আপনাদের চোখে খুব দ্রুত অশ্রু চলে আসে। এই কোমল হৃদয় ও অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে আল্লাহর কাছে ইসলামের জন্য দোয়া করুন। নিজেদের সফলতার জন্য, ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য দোয়া করুন। আপনাদের সন্তানদেরকে আগামীর জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলুন।
আপনারা নিজেদের ঘরকে আলোকিত করুন। ভালোবাসার পরিবেশ গড়ে তুলুন। শাশুড়ি-বউয়ের মধ্যে, ননদ-ভাবির মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলুন। ঝগড়া-বিবাদ যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে ঘরের পরিবেশ সুন্দর করুন। কারণ যে ঘরে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে, সে ঘরের সন্তান সাধারণত সুন্দর চরিত্রে গড়ে ওঠে না।
আরেকটি বিষয়—কোনো মা-বোন যেন বেপরোয়াভাবে চলাফেরা না করেন এবং বেপর্দায় না চলেন, সে বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখুন।
ঘরের পরিবেশ সুন্দর করতে বউ শাশুড়ির কাছে গিয়ে বলুন, “এতদিন আপনি অনেক কষ্ট করেছেন। আজ থেকে আপনার ছুটি। এখন থেকে সব কাজ আমার দায়িত্ব। আমাকে আপনার খেদমত করার সুযোগ দিন। আপনি ইবাদত করুন এবং আমার জন্য দোয়া করুন।”
আর শাশুড়ি বউকে বলুন, “আমার প্রিয় মেয়ে! তুমি এখনো ছোট, আমার ঘরে নতুন এসেছ। তুমি তোমার স্বামীকে সময় দাও। বাকি কাজ আমি দেখছি।”
এভাবেই ঘরকে জান্নাতের একটি বাগানে পরিণত করুন।
আমার প্রিয় বোনেরা! পৃথিবীর অনেক দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। আপনাদের দেশটি অত্যন্ত সুন্দর। এখনো এটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়নি। আপনারা এই দেশটিকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলুন। দেশটির হেফাজত করুন। প্রতিটি ঘরকে জান্নাতের মতো শান্তিময় করে রাখুন। সবার সঙ্গে মিষ্টি ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলুন। ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করুন।
কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; বরং এটি আমাদের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। আমাদের জীবনের প্রতিটি ধাপকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্যই এটি নাজিল হয়েছে। আপনারা দ্বীনি বই-পুস্তক পড়ুন। বাংলায় অনেক মূল্যবান বই প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো অধ্যয়ন করুন। মাআরিফুল হাদিস, বেহেশতি জেওরসহ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য দ্বীনি গ্রন্থ পড়ুন। তাকওয়ার জীবন অবলম্বন করুন।
আল্লাহ তাআলা আপনাদের সবাইকে ইসলামের জন্য কবুল করুন। আমীন।
— মাওলানা আশরাফ আলম কাসেমী নদভী
মাহাদুস সাকাফা, বাংলাদেশ
২২ জুলাই ২০২৬, বুধবার