যশোরের চাষি ভাইদের ফসলের অবস্থা
Center for Islamic Research and Learning - CIRL
Center for Islamic Research and Learning (CIRL) is Quran based research and Learning center
13/05/2021
ঈদের দিন আনন্দ প্রকাশ করা, দান সদকা করা ও মোবারাকবাদ জানানো মুস্তাহাব। তবে মোবারাকবাদ জানানোর জন্য শব্দ নির্ধারন করা, একই শব্দ সবসময় ব্যাবহার করা, বা "ঈদ মোবারাক" শব্দটি দিয়েই মোবারাকবাদ জানাতে হবে এমন মনে করা ঠিক নয়। তা মাকরুহ হবে, কেউ কেউ বিদাআত বলেছেন। তাই সতর্ক থাকা উচিত ৷ তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম, ঈদুকুম মোবারাক, ঈদুন সাঈদুন ৷ এ ধরনের শব্দ দিয়ে মোবারাকবাদ জানানো যাবে৷ মোবারাকবাদের স্বপক্ষে সাহেবে হুলিয়া সহিহ সনদে অনেক আসারে সাহাবা এনেছেন। যার দ্বারা বুঝা যায় তা সাহাবাগন থেকে প্রমানিত ৷ তাই তা মুস্তাহাব ৷-ফতহুল বারী২/৪৪৬;রদ্দুল মুহতার, ১/৭৭৭, ফতওয়ায়ে রহিমিয়া ১/২৮১
13/05/2021
মাসআলাঃ জুমা ও ঈদের নামাযেও ভুলে কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা করা জরুরি। ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. বলেন,ঈদ, জুমা, ফরয ও নফল নামায সব ক্ষেত্রেই সাহুর একই হুকুম। (কিতাবুল আছল ১/৩২৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০১)
মুতাকাদ্দিমীন ফকীগণের মতও এটিই। অবশ্য পরবর্তী কোনো কোনো ফকীহ বলেছেন, জুমা ও ঈদে যদি বেশি বড় জামাত হয় এবং ইমাম সিজদা সাহু করলে মুসল্লিদের ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা থাকে তবে তখন সাহু সিজদা না করার সুযোগ আছে। সুতরাং জুমা ও ঈদের নামাযেও সাহু সিজদা করলে যদি মুসল্লিদের মাঝে কোনো বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা না থাকে তবে সাহু সিজদা করাই নিয়ম। বিশেষ করে যদি প্রকাশ্য ভুল হয় তাহলে সাহু সিজদা না করলে বরং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকে। তাই এমন ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করাই জরুরি। -আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৪; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৮; রদ্দুল মুহতার ২/৯২
13/05/2021
মাসআলাঃ ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় হাত উঠানো সুন্নত। ওয়াজিব নয়। তাই কেউ হাত না উঠালেও তার নামায হয়ে যাবে। এ কারণে সাহু সিজদা করতে হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত এমনটি করা ঠিক নয়। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৮৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকি, ১৩৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৪
13/05/2021
মাসআলাঃ ঈদের নামাযে যদি ইমাম সাহেব রুকুর আগে দাড়িয়ে তিনটি তাকবীর দেন এরপর ভুলে রুকুর তাকবীর না বলে রুকুতে চলে যান। তাহলে নামায আদায় হয়ে যাবে। কারন ইমাম সাহেব যেহেতু রুকুতে যাওয়ার আগেই দাড়িয়ে তিন তাকবীর সমাপ্ত করেছেন তাই ঈদের নামযের অতিরিক্ত ওয়াজিব তাকবীরগুলো আদায় হয়ে গেছে। শুধু রুকুর তাকবীর ছুটেছে। রুকুর তাকবীর বলা সুন্নত। এটা ছুটে গেলে সাহু সিজদাও আসে না, নামাযও নষ্ট হয় না। তাই জামাত শুদ্ধ হয়েছে। ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭২; শরহুল মুনইয়াহ ১৩, ৩৮২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৮৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৮৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৬, ৪৭৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫১
13/05/2021
ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কিরাত অবস্থায় শরিক হলে তাকবীরে তাহরীমার পর নিজে নিজে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। অতপর বাকি নামায যথানিয়মে ইমামের সাথে আদায় করবে। আর ঈদের নামাযের এক রাকাত ছুটে গেলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে আগে সূরা-কিরাত পড়বে এরপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। আর কোনো ব্যক্তি ইমামের তাশাহহুদ অবস্থায় জামাতে শরিক হলে তার নামাযও সহীহ হবে। এক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের সালামের পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই দুই রাকাত নামায পড়বে। অর্থাৎ প্রথম রাকাতের শুরুতেই অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিবে। অতপর সূরা-কিরাত পড়বে। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯২; কিতাবুল আছল ১/৩২২; ফাতহুল কাদীর ২/৪৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬২৩; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৪
13/05/2021
#ঈদের_নামাযের_কাযার_বিধানঃ
ঈদের নামাযের কোন কাযা নেই৷ তবে ঈদুল ফিতরের দিন যদি কোন কারনবশত ঈদের নামায আদায় করতে না পারে৷ যেমন আকাশ মেঘালার কারনে চাঁদ দেখা না যাওয়া বা অর্ধদুপুরের পর চাঁদ দেখার সংবাদ আসা ইত্যাদি৷ তবে পরদিন ঈদের নামায আদায় করে নিবে৷ কিন্তু দ্বিতীয় দিন অর্ধদুপুর অতিবাহীত হয়ে যাওয়ার পর আর ঈদের নামায আদায় করা জায়েয হবেনা৷ কেননা ঈদুল ফিতরের নামায ঈদের দিন আদায় করাই ওয়াজিব৷ আর একদিন বিলম্ভ ছিল মূলত উজরের কারনে৷ যা শরীয়ত অনুমোদিত৷
(সুনানে ইবনে মাজাহ ১৬৫৩ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ২০০৫৬, ২০০৬১ হাদীস৷ বুলুগুল মারাম ৪৮৬ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৬৮ পৃষ্ঠা৷ হিদায়া ১/১৬৩ আল-মুখতাসারুল কুদুরী ৯১ পৃষ্ঠা৷)
13/05/2021
#ঈদের_দিন_নফল_নামাযের_বিধানঃ
উভয় ঈদের দিন ঈদের নামাযের আগে বা পরে অন্য কোন নামায নেই৷ যেমন ইশরাক,চাশত, নফল ইত্যাদি৷ সুতরাং ঈদের নামাযের আগে বা পড়ে ঈদগাহে বা বাড়িতে কোন প্রকার নামায আদায় করা মাকরুহে তাহরীমী৷ (বুখারী ৯৬৪- ৯৮৯ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১৯৪২ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ১৫৮৭ হাদীস৷ সুনানে দারেমী ১৬০৩,১৬১০ হাদীস৷
মুসনাদে আহমাদ ১৯০৫, ১৯৮৪,২০৬৩ হাদীস৷)
13/05/2021
দশটি বিষয়ের সময়ে খুতবা হওয়া সুন্নাত-
১. আলহামদু এর সাথে শুরু করা।
২. আল্লাহর প্রশংসা করা।
৩. কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা।
৪. দরূদ শরীফ পাঠ করা।
৫. ওয়াজ ও নছিহতের বাক্য আবৃত্তি করা।
৬. কুরআন মজীদের যে কোনো আয়াত পাঠ করা।
৭. উভয় খুতবার মাঝখানে তিন তছবীহ পরিমাণ বসা।
৮. সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করা।
৯. দ্বিতীয় খুতবায় হামদ ও সানা এবং দরূদ শরীফ পড়া।
১০. উভয় খুতবাকে সংক্ষেপ করা।
মাসআলাঃ ঈদের প্রথম খুতবায় দাঁড়িয়ে খতিব শুরুতে ৯বার লাগাতার আল্লাহু আকবার বলে খুতবা আরম্ভ করা এবং দ্বিতীয় খুতবার শুরুতেও লাগাতার ৭বার আল্লাহু আকবার তাকবীর বলা ইমামের জন্য মুস্তাহাব (ফতওয়া শামী ১ম খণ্ড; ৭৮৩ পৃ: আলমগিরী ১ম খণ্ড; ১২১ পৃ: বাহরুররায়েফ ২য় খণ্ড; ১৬২ পৃ:)।
মাসআলাঃ জুমা ও ঈদের খুতবা মনোযোগের সাথে শ্রবণ করা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন সময়ে কোনো ধরনের কথা বলা, কাজ করা নিষিদ্ধ। এমনকি তাসবীহ-তাহলীল পড়াও নিষিদ্ধ। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু যার রা. বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় সূরা বারাআত পাঠ করলেন। তখন আমি উবাই ইবনে কাআব (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি চেহারা মলিন করলেন এবং চুপ থাকলেন। এভাবে পরপর তিনবার প্রশ্ন করার পরও তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। জুমার নামায শেষ হওয়ার পর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে বার বার প্রশ্ন করার পরও কোনো উত্তর দিলেন না কেন? তখন উবাই রা. বললেন, (খুতবা চলাকালে প্রশ্ন করার কারণে) আপনি জুমার কোনো সওয়াব পাননি। আপনার অনর্থক কথা বলা হয়েছে। তখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে উবাই রা.-এর এ কথা জানালাম। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উবাই ঠিকই বলেছে। (দ্রষ্টব্য : সহীহ ইবনে খুযাইমা ২/৮৭৪, হাদীস : ১৮০৭
হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরী রাহ. বলেন, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামায পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না।- মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/১০৩-১০৪
হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি যদি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় পাশের ব্যক্তিকে কথা বলতে নিষেধ কর তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮৫১
-তাফসীরে তবারী ৬/১৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৫-২/১৬২; মুসনাদে আহমদ, হাদীস :
13/05/2021
#ঈদের_খুতবার_বিধানঃ
ঈদের খুতবাহ ঈদের নামাযের পর পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ৷ আর ঈদের নামাযের পুর্বে খুতবাহ পাঠ করা মাকরুহে তাহরীমী ও জঘন্যতম বিদআত৷ (সহীহুল বুখারী ৯৬৩- ৯৫৭ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১৯৩৭ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ১৫৬৪ হাদীস৷)
ঈদের নামাযের পর মুসল্লিদের দিকে ফিরে দাড়িয়ে দুটি খুতবা পাঠ করা সুন্নত এবং উভয় খুতবার মাঝখানে তিন তাসবীহ পরিমান সময় নিরব বসে থাকাও সুন্নত৷ আর উপস্থিত শ্রুতাদের জন্য মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবন করা ওয়াজিব৷ আর মুসল্লি অধিক হওয়ার কারনে খুতবার আওয়াজ না শুনলেও চুপ থাকা ওয়াজিব এবং খুতবার সময় কোন প্রকার কথাবার্তা বলা মাকরুহে তাহরীমী৷ (সুনানে নাসায়ী ১৫৭৭-১৫৮৩ হাদীস৷ সহীহুল বুখারী ৯৭৬ হাদীস৷)
ঈদের খুতবাহ আরবীতে পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ৷ আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় ঈদের খুতবাহ পাঠ করা মাকরুহে তাহরীমী ও জঘন্যতম বিদআত৷ কেননা হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যমানা থেকে বর্তমান যমানা পর্যন্ত সকলে আরবীতেই ঈদের খুতবাহ পাঠ করতেন৷ সুতরাং আরবীতে খুতবাহ পাঠের ব্যপারে সমস্ত মুসলিমের ইজমা সংঘটিত হয়েছে৷ (সহীহুল বুখারী ৯৫৬ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২০৯০ হাদীস৷
ফতোয়ায়ে শামী ২/১৩৭,১৪৭ পৃষ্ঠা৷
ইমদাদুল ফতোয়া ১/৬৪৭,৬৫৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ১২/৩৪৮ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৮৯ পৃষ্ঠা৷)
13/05/2021
#ঈদের_নামাযে_আযান_ইকামাতের_বিধানঃ
উভয় ঈদের নামায ও ঈদের খুতবায় আযান ইকামাত নেই৷ সুতরাং ঈদের নামায বা খুতবায় আজান ইকামাত দেয়া জায়েয হবেনা৷ বরং আজান ইকামাতের প্রচলন করা জঘন্যতম অন্যায় ও বিদআত হবে৷ (সহীহুল বুখারী ৯৬০ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১৯৩৪- ১৯৩৫ হাদীস৷
সুনানে আবু দাউদ ১১৪৮ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ১৫৬২ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ২০৮৪৭ হাদীস৷)
13/05/2021
#ঈদের_নামাযের_সুন্নত_কিরাতঃ
উভয় ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ক্বফ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কমার অথবা প্রথম রাকাতে সূরা আলা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা গশিয়া পাঠ করা সুন্নত৷
(সুনানে নাসায়ী ১৫৬৭- ১৫৬৮ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ১৯৪৪ হাদীস৷
সুনানে আবু দাউদ ১১৫৪ হাদীস৷ মুয়াত্তা
মালিক ৪২০ হাদীস৷)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
1210