13/05/2021
দশটি বিষয়ের সময়ে খুতবা হওয়া সুন্নাত-
১. আলহামদু এর সাথে শুরু করা।
২. আল্লাহর প্রশংসা করা।
৩. কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা।
৪. দরূদ শরীফ পাঠ করা।
৫. ওয়াজ ও নছিহতের বাক্য আবৃত্তি করা।
৬. কুরআন মজীদের যে কোনো আয়াত পাঠ করা।
৭. উভয় খুতবার মাঝখানে তিন তছবীহ পরিমাণ বসা।
৮. সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করা।
৯. দ্বিতীয় খুতবায় হামদ ও সানা এবং দরূদ শরীফ পড়া।
১০. উভয় খুতবাকে সংক্ষেপ করা।
মাসআলাঃ ঈদের প্রথম খুতবায় দাঁড়িয়ে খতিব শুরুতে ৯বার লাগাতার আল্লাহু আকবার বলে খুতবা আরম্ভ করা এবং দ্বিতীয় খুতবার শুরুতেও লাগাতার ৭বার আল্লাহু আকবার তাকবীর বলা ইমামের জন্য মুস্তাহাব (ফতওয়া শামী ১ম খণ্ড; ৭৮৩ পৃ: আলমগিরী ১ম খণ্ড; ১২১ পৃ: বাহরুররায়েফ ২য় খণ্ড; ১৬২ পৃ:)।
মাসআলাঃ জুমা ও ঈদের খুতবা মনোযোগের সাথে শ্রবণ করা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন সময়ে কোনো ধরনের কথা বলা, কাজ করা নিষিদ্ধ। এমনকি তাসবীহ-তাহলীল পড়াও নিষিদ্ধ। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু যার রা. বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় সূরা বারাআত পাঠ করলেন। তখন আমি উবাই ইবনে কাআব (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি চেহারা মলিন করলেন এবং চুপ থাকলেন। এভাবে পরপর তিনবার প্রশ্ন করার পরও তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। জুমার নামায শেষ হওয়ার পর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে বার বার প্রশ্ন করার পরও কোনো উত্তর দিলেন না কেন? তখন উবাই রা. বললেন, (খুতবা চলাকালে প্রশ্ন করার কারণে) আপনি জুমার কোনো সওয়াব পাননি। আপনার অনর্থক কথা বলা হয়েছে। তখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে উবাই রা.-এর এ কথা জানালাম। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উবাই ঠিকই বলেছে। (দ্রষ্টব্য : সহীহ ইবনে খুযাইমা ২/৮৭৪, হাদীস : ১৮০৭
হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরী রাহ. বলেন, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামায পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না।- মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/১০৩-১০৪
হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি যদি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় পাশের ব্যক্তিকে কথা বলতে নিষেধ কর তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮৫১
-তাফসীরে তবারী ৬/১৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৫-২/১৬২; মুসনাদে আহমদ, হাদীস :