31/01/2021
কলেজে চার বন্ধু ছিল। পরীক্ষার আগের দিন তারা পার্টি করেছিল এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় নি। পরীক্ষার দিন তারা একটি প্ল্যান করল।
তারা নিজেদের শরীরের ময়লা আবর্জনা লাগিয়ে অপরিষ্কার করে ফেলল।
তারপর তারা কলেজের প্রফেসরের কাছে গেল এবং বলল যে, গতকাল রাতে তারা বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিল এবং আসার পথে গাড়ির টায়ার পাংচার হয়ে গেছে। তাদেরকে পুরো রাস্তা গাড়ি ঠেলে আনতে হয়েছিল। তাই এখন তারা পরীক্ষা দিতে পারবেনা।
প্রফেসর এক মিনিট ভেবে দেখলেন এবং সেই চার ছাত্রকে বললেন, "আচ্ছা ঠিক আছে। তোমাদেরকে তিন দিন সময় দিলাম। তিনদিন পর তোমরা পরীক্ষা দিতে পারবে।" ছাত্ররা তাকে ধন্যবাদ জানাল ।
এই তিনদিন ছাত্ররা মিলে অনেক প্রস্তুতি নিল।
চতুর্থ দিনে তারা কলেজে গেল। কলেজের প্রফেসর তাদেরকে বলল, "প্রস্তুতির জন্য তোমাদেরকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তাই তোমরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা কক্ষে বসবে।"
ছাত্ররা রাজি হল এবং আলাদা আলাদা রুমে বসল। প্রফেসর তাদেরকে একটি করে প্রশ্নপত্র দিলেন। প্রশ্নপত্রে মাত্র দুটি প্রশ্ন ছিল। সেগুলো হলো:
১. তোমার নাম কী? _____________ (১ নাম্বার)
২. কোন টায়ারটি পাংচার হয়েছিল? ________(৯৯ নাম্বার)
অপশন: ক) সামনের ডান পাশেরটা , খ) সামনের বাম পাশেরটা, গ) পেছনের ডান পাশেরটা, ঘ) পেছনের বাম পাশেরটা
চারজনে চার রকম উত্তর দিল এবং তারা ধরা পড়ে গেল। প্রিয় পাঠক বিশ্বাস রাখেন ফাঁকিবাজরা অবশ্যই ধরা পড়বে।
জীবনকে পরিবর্তন করতে আপনার কাজকে ভালবাসুন এবং ফাঁকিবাজি পরিহার করুন। 😁
12/12/2020
আমি ভালও নই, আমি মন্দও নই। আমি কেবল আমি।
জাপানের এক গ্রামে এক তরুন সন্যাসী বাস করতেন। তিনি খুবই বিখ্যাত ছিলেন এবং তার প্রচুর খ্যাতি ছিল। তাঁর সম্মানে সারা গ্রামে গান গাওয়া হত। কিন্তু একদিন সব কিছু বদলে গেল।
সেই গ্রামের এক কুমারী মেয়ে গর্ভবতী হল এবং একটি শিশুর জন্ম দিল। যখন তার পরিবারের লোকজন তাকে প্রশ্ন করল এই শিশুটি কার, তখন সে বলল এই শিশুটি সেই তরুন সন্যাসীর।
গুনমুগ্ধ থেকে শত্রু হতে কতটুকু সময় লাগে? কতটুকু সময়? এর জন্য এক মূহুর্ত সময়ও লাগে না, কারণ প্রতিটি গুনমুগ্ধের মাঝে একজন নিন্দাকারী লুকিয়ে থাকে। মন শুধু একটা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, এবং যেদিন থেকে মুগ্ধতা শেষ হয় সেদিন থেকে তার নিন্দা শুরু হয়।
যে মানুষেরা আজ শ্রদ্ধা করছে তা এক মিনিটেই অশ্রদ্ধায় পরিণত হতে পারে। যে ব্যক্তি আজ কারো পা ছুঁয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এক মূহুর্তেই সে তার মাথা কাটার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। শ্রদ্ধা এবং অশ্রদ্ধার মাঝে কোন পার্থক্য নেই-এ দু’টি কেবল একই মুদ্রার দু’টি দিক।
সে গ্রামের সব মানুষ ঐ সাধুর কুড়ে ঘর আক্রমন করে জ্বালিয়ে দিল। দীর্ঘদিন তারা শ্রদ্ধা করে এসেছে কিন্তু এতোদিনে তাদের অবদমিত ক্ষোভ বেরিয়ে এসেছে। এখন তাদের অশ্রদ্ধা করার সুযোগ এসেছে, সূতরাং তারা সবাই সাধুর কুড়ে ঘরে আগুন লাগাতে ছুটে এসেছে। এবং সেই পিঁচ্চি শিশুটাকেও তারা সাধুর পানে ছুড়ে মারতে দ্বিধা করল না।
সাধু শুধাইলো, “ ব্যাপার কি?”
লোকজন চিৎকার করে বলল, “তুমি আমাদের প্রশ্ন করছ ব্যাপার কি? এত সাহস তোমার? এই শিশুটি তোমার। এই জ্বলন্ত ঘরের দিকে তাকাও, তোমার হৃদয়ের দিকে তাকাও, এই শিশুটা আর এর মায়ের দিকে তাকাও। তোমাকে আর আমাদের বলতে হবে না যে এই শিশুটা তোমার।”
সাধু বললেন, “তাই নাকি? এই শিশুটা আমার?”
শিশুটা কান্না জুড়ে দিলে সাধু গান গেয়ে তাকে থামাতে চেষ্টা করল, এবং গ্রামবাসী ঐ শিশুটি সহ তাকে সেই পোড়া ঘরের পাশে রেখে চলে গেল। তারপর তিনি যথাসময়ে ভিক্ষা করতে গেলেন, বিকেল হয়েছে। কিন্তু কে তাঁকে খাবার দেবে আজ? আজ তিনি যে দরজায় দাড়ালেন সেটাই সজোরে বন্ধ হয়ে গেল তাঁর দিকে। তাঁর পিছু পিছু একদল ছেলেবুড়ো বিদ্রুপ করে চলল, পাথর ছুড়ে মারল।
শেষ পর্যন্ত শিশুটা যে মেয়েটির ছিল তিনি সেই দরজায় এসে বললেন, “আমাকে না হয় খাবার নাই দিলেন, কিন্তু এই শিশুটার জন্য তো একটু দুধ দিন! আমার দোষ থাকতে পারে কিন্তু এই অবলা শিশুটার কি দোষ?”
শিশুটা কাঁদছিল-চারপাশে লোকজনের ভিড়। এই অবস্থা শিশুটার মায়ের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠল। সে তার বাবার পায়ে পড়ে বলল, “আমাকে ক্ষমা করুন, আমি ঐ সাধুর নামে মিথ্যা বলেছি। আমি শিশুটির প্রকৃত বাবাকে বাঁচাতে এই সাধুর নাম নিয়েছি। তাঁর সাথে আমার কোন পরিচয়ও নেই।”
মেয়েটির বাবা হতচকিত হয়ে গেলেন, এ তো মস্ত বড় ভুল হয়ে গেছে। তিনি দৌড়ে বাইরে এসে সাধুর পায়ে পড়লেন এবং শিশুটিকে তাঁর কাছে থেকে নিতে চাইলেন।
সাধু আবারো শুধালেন, “ব্যাপার কি?”
মেয়েটির বাবা বললেন, “আমাকে ক্ষমা করুণ, বড় ভুল হয়ে গেছে আমাদের। এই শিশুটা আপনার নয়।”
সাধু উত্তর দিলেন, “তাই নাকি? সত্যি শিশুটা আমার নয়?”
ঐ গ্রামের লোকজন সাধুকে বলে, “ আপনি একটা পাগল! সকালেই কেন আপনি এটা অস্বীকার করলেন না?”
সাধু বললেন, “তাতে কি পার্থক্য হত? এই শিশুটা নিশ্চয় কারো হবে। এবং ইতোমধ্যে আপনারা একটা ঘর জ্বালিয়েছেন, এখন আর একটা ঘর জ্বালাতে হবে। আপনারা একজন কে অপদস্থ করা উপভোগ করেছেন এখন আর একজনকে অপদস্থ করা উপভোগ করবেন। তাতে কি পার্থক্য হবে? শিশুটা নিশ্চয় কারো না কারো হবে। আমারও হতে পারত। সুতরাং সমস্যা কি?”
তারা বলে, “আপনি কি বুঝতে পারছেন না সবাই আপনাকে দোষারোপ করছে, অপদস্থ করছে,অবমাননা করছে?”
সাধু বলেন, “আমি যদি আপনাদের নিন্দায় উদ্বিগ্ন হতাম তবে আপনাদের শ্রদ্ধা নিয়েও আমাকে উদ্বিগ্ন হতে হয়। আমি যা ঠিক মনে করি তা করেছি, আপনাদের যা ঠিক মনে হয়েছে করেছেন। গতকাল পর্যন্ত আমাকে শ্রদ্ধা করা ঠিক মনে হয়েছিল, সূতরাং আপনারা তাই করেছেন। আজ আপনাদের মনে হচ্ছে আমাকে শ্রদ্ধা করা ঠিক নয়, করছেন না। কিন্তু আমি আপনাদের শ্রদ্ধা বা অশ্রদ্ধা নিয়ে উদ্বিগ্ন নই।”
তারা বলে, “ওহে মহামান্য সাধু, আপনার খ্যাতি নষ্ট হচ্ছে সে বিষয়টি অন্তত বিবেচনা করতে হত।”
সাধু উত্তর দিলেন, “আমি ভালও নই মন্দও নই। আমি কেবল আমি। আমি ভাল এবং মন্দের এই চিন্তা ছেড়েছি। আমি ভাল হবার সকল চিন্তা ছেড়েছি কারণ আমি যত ভাল হতে চেষ্টা করেছিলাম দেখেছি তত মন্দ হয়েছি। আমি যতই মন্দত্ব থেকে মুক্তি পেতে চাইছিলাম ভালত্ব ততই আমার থেকে দূরে চলে যাচ্ছিল, সূতরাং আমি এই সব চিন্তা ছেড়েছি।
আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হয়েছি। এবং যেদিন নিরপেক্ষ হয়েছি সেদিন বুঝেছি আমার মাঝে ভালত্ব বা মন্দত্ব কিছুই নেই। পরিবর্তে আমার মাঝে নতুন কিছুর জন্ম হয়েছে যা মন্দত্ব এবং ভালত্বের তুলনায় ভাল এবং তার মাঝে মন্দত্বের কোন ছায়াও নেই।”
10/12/2020
আইনস্টাইন এবং মিঃ বিন পাশাপাশি সীটে বসে আছেন দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দেয়ার পথে আইনস্টাইন বললেন, চলো ১টা গেম খেলি।
আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবো যদি তুমি উত্তর দিতে না পার তবে তুমি আমাকে ৫ ডলার দিতে হবে; আর আমি যদি না পারি তবে আমি তোমাকে ৫০০ ডলার দিবো।
আইনস্টাইন প্রথম প্রশ্ন করলেন, পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত? মিঃ বিন কোনও উত্তর দিলেন না, তার পকেট থেকে ৫ ডলার দিয়ে দিলেন। এবার মিঃ বিন এর প্রশ্ন করার পালা, সে আইনস্টাইনকে প্রশ্ন করলো কি ৩ পায়ে পাহাড়ে যায় এবং ৪ পায়ে নেমে আসে?
আইনস্টাইন ইন্টারনেট সার্চ দিলো এবং তাঁর মেধাবী সব বন্ধুদের কাছে জানতে চাইল। এক ঘণ্টা পর তিনি মিঃ বিনকে ৫০০ ডলার দিয়ে বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এবার বলো কি ৩ পায়ে পাহাড়ে যায় এবং ৪ পায়ে নেমে আসে?
মিঃ বিন তার পকেটে হাত দিলেন এবং আইনস্টাইনকে ৫ ডলার দিয়ে বললেন, "আমিও জানি না"! 😒
09/12/2020
ভালো ফলাফল সহ স্নাতক পাশ করা ছেলেকে উপহার দিতে বাবা তাকে পারিবারিক গ্যারেজে নিয়ে গেলেন। একটি পুরনো গাড়ি দেখিয়ে বললেন, জরাজীর্ণ এই গাড়িটা আমি বহু বছর আগে নিয়েছিলাম। এখন এর অনেক বয়স হয়ে গেছে। তোমার খুশীর মুহূর্তে এটা আমি তোমাকে উপহার হিসেবে দিতে চাই। তবে তার আগে তুমি এটা বিক্রির জন্য একটা গাড়ির শোরুমে যাও এবং দেখো, তারা এটার কত দাম বলে।” ছেলেটা গাড়ির শোরুম থেকে বাবার কাছে ফিরে এসে বলল, ′′তারা এই গাড়ির মূল্য এক হাজার ডলার বলেছে, কারণ এটি দেখতে খুব জরাজীর্ণ।” বাবা বললেন, “এবার এটা ভাঙ্গারি দোকানে নিয়ে যাও, দেখ ওরা কি বলে!” ছেলে ভাঙ্গারি দোকান থেকে ফিরে এসে বলল, “এটা অনেক পুরনো গাড়ি বলে ওরা মাত্র ১০০ ডলার দাম দিতে চায়।′′ বাবা তখন একটা গাড়ির ক্লাবে গিয়ে গাড়িটা দেখাতে বললেন। ছেলেটা গাড়িটি ক্লাবে নিয়ে গেল এবং ফিরে এসে খুশিতে তার বাবাকে বলল, "ক্লাবে কিছু লোক খুবই কৌতূহলি হয়ে গাড়িটি পর্যবেক্ষণ করলো এবং এর জন্য এক লক্ষ ডলার অফার করেছে। যেহেতু এটি একটি Nissan Skyline R34, একটি আইকনিক গাড়ি।" তখন বাবা তাঁর ছেলেকে বললেন, "সঠিক জায়গার সঠিক লোক, তোমাকে সঠিক ভাবেই মূল্যায়ন করবে। আর যদি কোথাও তোমাকে মূল্যায়ন না করা হয়, তবে রাগ করবেনা। বুঝে নিবে, তুমি ভুল জায়গায় আছো। তারাই তোমার মূল্য দিবে, যাদের নিজেদের মূল্যবোধ আছে, গুণ ও গুণীর মর্ম উপলব্ধি করার মত যোগ্যতা আছে। এমন জায়গায় কখনো থেকো না, যেখানে তোমার প্রকৃত মূল্যায়ন করার যোগ্য মানুষের বড্ড অভাব।"