Eilmbook

Eilmbook

Share

Eilmbook is an educational website. Knowledge seekers will be able to register. The web Eilmbook is an educational social media website.

Where users can exchange and publish messages up to a maximum of 1000 characters. These messages are called ELM. Eilmbook members' ELMS messages can be found on their profile page. Users can add friends and update and exchange their personal information, as well as a user can join a city, workplace, school and region-based network. Users can open commercial or institutional pages. The website is a combination of Arabic word (علم) and English word (Book) and is named Eilmbook.

ইয়াজুজ-মাজুজঃ বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ 04/12/2025

ইয়াজুজ ও মাজুজ : কুরআন, সহিহ হাদিস ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের আলোকে বিশদ বিশ্লেষণ

ইয়াজুজ-মাজুজঃ বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ ইয়াজুজ ও মাজুজ আদম সন্তানের দুটি বিশাল জাতি। যারা শেষ সময়ে পৃথিবীতে চলে আসবে এবং ভায়ানক হত্যাযজ্ঞ চালাবে। কুরআন...

Welcome to Eilmbook Social Community 02/11/2025

Eilmbook.com-এ নতুন আপডেট: আরও দ্রুত, স্মার্ট ও ব্যবহারবান্ধব অভিজ্ঞতা

বাংলা অনলাইন দুনিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সামাজিক ও জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম Eilmbook.com নিয়ে এসেছে নতুন সংস্করণ ও ফিচার আপডেট। সর্বশেষ এই সংস্করণে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ডিজাইন, উন্নত গতি এবং ব্যবহারকারীদের জন্য আরও সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ আপডেটের মাধ্যমে বাংলা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ স্মার্ট ও শিক্ষামূলক সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে খবর, মতামত ও জনসচেতনতা—সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যাবে।

🔹 নতুন ফিচার ও উন্নয়নসমূহ

১. Smart Feed System:
ব্যবহারকারীরা এখন তাঁদের আগ্রহ ও পছন্দ অনুযায়ী খবর ও পোস্ট দেখতে পাবেন। কনটেন্ট সাজানো হচ্ছে একদম ব্যক্তিগত ফিড অ্যালগরিদমে।

২. Public Discussion Board:
Eilmbook এখন খুলে দিয়েছে উন্মুক্ত আলোচনার ক্ষেত্র—যেখানে সমাজ, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি বা যেকোনো বিষয়ে ব্যবহারকারীরা মতামত প্রকাশ করতে পারবেন।

৩. Dark Mode & Light Mode:
চোখের আরামের জন্য যুক্ত হয়েছে দুটি থিম অপশন। ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী থিম বেছে নিতে পারবেন।

৪. Instant Update Panel:
হোমপেজেই এখন দেখা যাবে সর্বশেষ খবর, কমিউনিটি আপডেট এবং জনপ্রিয় পোস্ট—একই জায়গায়।

৫. Improved Security System:
নতুন সংস্করণে ডেটা সুরক্ষা ও ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

🔸 প্রতিষ্ঠাতার মন্তব্য

Eilmbook-এর প্রতিষ্ঠাতা বলেন,

“আমরা চাই একটি এমন বাংলা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে যেখানে জ্ঞান, খবর ও সমাজের ইতিবাচক চিন্তা একসাথে মিলিত হবে। এই আপডেটের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য—বাংলা ভাষাভাষী ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নিরাপদ, শিক্ষামূলক ও সম্মানজনক ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা।”

তিনি আরও বলেন, “Eilmbook শুধু একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক নয়; এটি হবে বাংলা ভাষার জ্ঞান ও জনমতের কেন্দ্র।”

🔹 বাংলা কমিউনিটির ভবিষ্যৎ

Eilmbook.com-এর এই নতুন সংস্করণকে ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যেই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন। অনেকেই বলছেন, প্ল্যাটফর্মটি এখন আগের চেয়ে দ্রুত, ব্যবহারবান্ধব এবং তথ্যবহুল।

বাংলা অনলাইন কমিউনিটিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশায় Eilmbook.com এগিয়ে চলেছে—
“একই স্থানে খবর, জ্ঞান ও জনমতের সংযোগ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে।

Welcome to Eilmbook Social Community Eilmbook helps you connect and share with the people in your life.

31/08/2025

হাফ হাতা জামা পরে নামাজ আদায় হবে?

08/08/2025

অহঙ্কারকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না

অহঙ্কার প্রকাশের একটি সুনির্দিষ্ট আচরণ নির্ণয় করেও কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন, হজরত আবু হুরায়রা (রাজি.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, (পূর্বযুগে) একজন লোক ছিল, যে উন্নতমানের এক প্রস্থ পোশাক পরে চলছিল, যা তাকে আত্মম্ভরিতায় নিমজ্জিত করেছিল। মাথা ছিল চিরুনিকৃত, সে পথ চলছিল দাম্ভিকতার সাথে। ঠিক তখন আল্লাহ তাকে ভ‚মিতে দাবিয়ে দিলেন। লোকটি কিয়ামত পর্যন্ত মাটিতে ধসতেই থাকবে, ধসতেই থাকবে। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

অপর একটি হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রাজি.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ওই ব্যক্তির প্রতি করুণার নজরে তাকাবেন না, যে তার লুঙ্গি-পায়জামা-প্যান্ট অহঙ্কারবশত টাখনুর নিচে পরিধান করে।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

এ দুটো হাদিসের প্রথমটিতে উন্নতমানের পোশাক পরাকে নয়, বরং পোশাকের বা সাজসজ্জার কারণে দাম্ভিক হয়ে উঠে বা অহঙ্কার প্রদর্শন করাকে মারাত্মক অন্যায় ও শাস্তিযোগ্য পাপ বলে বোঝানো হয়েছে। মাশাআল্লাহ, আমরা অনেকেই হয়তো এহেন পাপচিন্তা ও অন্যায় অভ্যাসে আক্রান্ত নই। কিন্তু আমাদেরই মাঝে এ ধরনের সাজ-পোশাক ও ঠাটপাট নিয়ে আত্মম্ভরিতায় ভোগের লোকের সংখ্যা নেহাত কমও নয়।

আসলে অহঙ্কার তো পোশাকে নয়, অন্তরেই বাসা বাঁধে। আর অন্তরের অহঙ্কার ও দম্ভই মানুষের পোশাকে, আচরণে প্রকাশ পেতে থাকে। সাধ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী হালালভাবে উপার্জিত দামি-সুন্দর পোশাক পরতে নিষেধ নেই; যদি তা অপব্যয়ের পর্যায়ে বা অহঙ্কারের উদ্দেশে না হয়ে থাকে। বস্তুত, হাদিসে বর্ণিত ব্যক্তির সাজ-পোশাক নয়, আত্মম্ভরিতাই তাকে আল্লাহর গজবে নিপতিত করেছে।

দ্বিতীয় হাদিসটিতেও লুঙ্গি-পায়জামা-প্যান্ট টাখনুর নিচে পরিধানের কথাটির সঙ্গে ‘অহঙ্কারবশত’ শর্তটি জুড়ে রয়েছে। কেননা, শত সতর্কতার মাঝেও কখনো কারো টাখনুর নিচে কাপড় নেমে যেতে পারে। এ কাজ মনের ভুলে বা অনিবার্য প্রয়োজনে বা পোশাকের আকার-আকৃতি ও ধরনের কারণেও হতে পারে। যদি এ রকমটি কারো সাথে নিয়মিত বা স্থায়ীভাবে না দেখা যায়, বরং মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে তবে তাকে এ হাদিসের উদ্দেশ্যকৃত ব্যক্তি বলে গণ্য না করাই উচিত হবে।

কারণ, এ আচরণের সঙ্গে অহঙ্কারের শর্ত রয়েছে। কাজেই আমরা যেন অহঙ্কারবশত টাখনুর নিচে পোশাক না পরি। সেই সঙ্গে ভুল, অপারগতা বা প্রয়োজনবশত কাউকে পরতে দেখে প্রকৃত কারণ না জেনে তার ব্যাপারে কুধারণা ও বদনাম জুড়ে না দিই। কেননা, এ রকম করাটাও জঘন্য ও গর্হিত কাজ। আমরা কোনোভাবেই দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর রহমতের নজর থেকে বঞ্চিত হতে চাই না।

এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরো একটি হাদিস নিম্নরূপ, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাজি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহঙ্কার রয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন, ‘কোনো মানুষ যদি চায় তার উত্তম পোশাক হোক, তার জুতো সুন্দর হোক, তা হলে এটা কি অহঙ্কার?’ জবাবে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সুন্দর! তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। অহঙ্কার হলো, সত্যকে অস্বীকার করা ও মানুষকে হেয় ও তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (সহিহ মুসলিম)

এই হাদিসটির মাধ্যমে আমরা সম্ভাব্য বিভ্রান্তি ও অহেতুক গোঁড়ামি থেকে মুক্ত থাকতে পারি। কেননা, অহঙ্কার বা দম্ভ ব্যতিরেকে কেবল সরল সৌন্দর্যবোধ ও রুচিশীলতা থেকে উত্তম পোশাক ও সাজসজ্জা নিষেধ তো নয়ই, বরং আল্লাহরও তাই পছন্দ। হাদিসের শেষাংশের ঘোষণা ও ব্যাখ্যা আমাদের জন্য বিশাল ছাড় ও উৎসাহপূর্ণ বটে। তবে হাদিসটির প্রথমাংশের ওপরেই আমাদের অধিক দৃষ্টি, চিন্তা ও আমল থাকা উচিত। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরিষা দানা পরিমাণ অহঙ্কার থাকলেও জান্নাতের দরজা বন্ধ অর্থাৎ জাহান্নাম অবধারিত।

কতই না ভয়াবহ রাসূল (সা.)-এর এই উচ্চারণ। আমরা যখন অহঙ্কার থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত হতে পারব, আর নিজের অনিচ্ছায় অজান্তে লালিত ছিটেফোঁটা অহঙ্কারের ব্যাপারেও সদা সতর্ক ও তৎপর থাকব; তখনই আমরা মুক্তির আশা করতে পারব, এর আগে নয়। বাস্তব তো এই যে, শুধু দুনিয়ার সম্পদ ক্ষমতা ও সৌন্দর্যই নয়; আমরা অনেক সময় দ্বীনি কর্মকাÐ বা প্রতিষ্ঠানেও প্রভাব পরিচয় নিয়ে অহঙ্কারী হয়ে থাকি। এমনটি মোটেও কাম্য নয়।

আমাদের সোজা কথাটি বুঝতে হবে যে, নিরহঙ্কার মানুষ হতে পারাটা রাসূল (সা.)-এর জীবনচরিত্রের অন্যতম ও বিশালতম এক সুন্নত; যা আমরা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করেও হয়তো অনেক সময় নিজেদের খুব সুন্নতওয়ালা ভেবে থাকি। অথচ এ অহঙ্কারমুক্ত থাকার সুন্নতটির ওপর আমল না করতে পারলে কেবল সাজ-পোশাকের সুন্নত আমাদের অবধারিত জাহান্নাম থেকে বাঁচাবে না। তাই আমরা প্রকৃত নিরহঙ্কার হওয়ার চেষ্টা করি এবং আল্লাহপাকের কাছে তা কামনা করি। (আমীন)

08/08/2025

যুগে যুগে জালিমের পরিণতি

২০২৪ সালে বিশ্বের দুই বড় জালিমের পতন হয়েছিল। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার এবং ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের। উভয়েই স্বজাতির স্বার্থের বিরুদ্ধে বিদেশিদের তোষণ করে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। উভয়ই নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে জনরোষ থেকে প্রাণ বাঁচান। এটা তাদের দুনিয়ার পতন, তবে জালিমের আসল শাস্তি রয়েছে আখিরাতে।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। আল্লাহ যুগে যুগে জালিমদের পাকড়াও করেছেন। তথাপি যুগে যুগে নতুন জালিমের সৃষ্টি হয়। তারা নিজেদের সর্বক্ষমতার অধিকারী ভেবেছিল, ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল ও জুলুম করেছিল। বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহ তাদের দৃষ্টান্তস্বরূপ পেশ করেছেন, যাতে পরবর্তী সময়ে যারা আসবে তারা শিক্ষা লাভ করতে পারে। ‘আমি কারুন, ফিরাউন ও হামানকে ধ্বংস করেছিলাম। মুসা তাদের কাছে উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু তারা ভূমিতে দম্ভ করল, তারা আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি।

প্রত্যেককেই আমি তাদের পাপের কারণে পাকড়াও করেছিলাম; তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড ঝটিকা, কাউকে আঘাত করেছিল মহানাদ, কাউকে আমি ধসিয়ে দিয়েছিলাম ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছিলাম নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো জুলুম করেননি; তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল। ...আমি মানুষের কল্যাণার্থে এসব দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকি, কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তিরাই কেবল তা বোঝে।’ (সুরা আনকাবুত : ৩৯-৪৩)

নিচে পৃথিবীর ক্ষমতাধর কয়েকজন জালিমের জুলুম ও তাদের পরিণতি তুলে ধরা হলো—

ক্ষমতার দাপটে ও ঔদ্ধত্যে বিভোর ফিরাউন

ফিরাউন জমিনে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল এবং সে তার অধিবাসীদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছিল। তাদের একটি শ্রেণিকে সে অত্যন্ত দুর্বল করে রেখেছিল, যাদের পুত্রদের সে জবাহ করত ও নারীদের জীবিত রাখত। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। (সুরা কাসাস : ৪)
ফিরাউন সম্প্রদায়ের নেতারা (ফিরাউনকে) বলল, আপনি কি মুসা ও তার সম্প্রদায়কে মুক্ত ছেড়ে দেবেন, যাতে তারা (অবাধে) পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যদের বর্জন করতে পারে? সে বলল, আমরা তাদের পুত্রদের হত্যা করব এবং তাদের নারীদের জীবিত রাখব, আর তাদের ওপর আমাদের পরিপূর্ণ ক্ষমতা আছে। (সুরা আরাফ : ১২৭)
ফিরাউন বলল, কী! আমি অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা এই ব্যক্তির প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় এটা কোনো চক্রান্ত। তোমরা এই শহরে পারস্পরিক যোগসাজশে এই চক্রান্ত করেছ, যাতে তোমরা এর বাসিন্দাদের এখান থেকে বহিষ্কার করতে পার। আচ্ছা, তোমরা শিগগিরই এর পরিণাম জানতে পারবে। আমি তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব, তারপর তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব। (সুরা আরাফ : ১২৩-১২৪)
সে বলল, আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক। পরিণামে আল্লাহ তাকে পাকড়াও করলেন আখেরাত ও দুনিয়ার শাস্তিতে। যে ভয় করে তার জন্য অবশ্যই এতে রয়েছে শিক্ষা। (সুরা নাজিয়াত : ২৪-২৬)
ঔদ্ধত্যের কারণে ফিরাউন ও কওমের পরিণতি

ফিরাউন ও তার বাহিনী জমিনে অন্যায় অহমিকা প্রদর্শন করেছিল। তারা মনে করেছিল তাদের আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না। সুতরাং আমি তাকে ও তার সৈন্যদের পাকড়াও করলাম এবং সাগরে নিক্ষেপ করলাম। এবার দেখো, জালিমদের পরিণতি কী হয়ে থাকে! (সুরা কাসাস : ৩৯-৪০)

কারুন ও তার পরিণতি

‘কারুন ছিল মুসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি। কিন্তু সে তাদেরই প্রতি জুলুম করল। আমি তাকে এমন ধনভান্ডার দিয়েছিলাম, যার চাবিগুলো বহন করা একদল শক্তিমান লোকের পক্ষেও কষ্টকর ছিল। স্মরণ করো, তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, দম্ভ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না। ...সে বলল, এসব তো আমি আমার জ্ঞানবলে লাভ করেছি। সে কি জানত না যে, আল্লাহ তার আগে এমন বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছিলেন, যারা শক্তিতেও তার অপেক্ষা প্রবল ছিল এবং লোকবলেও বেশি ছিল? অপরাধীদের তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেসও করা হয় না। ...পরিণামে আমি তাকে তার প্রাসাদসহ ভূগর্ভে ধসিয়ে দিলাম। তার সপক্ষে এমন কোনো দল ছিল না, যারা আল্লাহর শাস্তি থেকে তাকে সাহায্য করতে পারত এবং সে নিজেও পারল না আত্মরক্ষা করতে। ... ওই পরকালীন নিবাস তো আমি সেই সব লোকের জন্যই নির্ধারণ করব, যারা পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য দেখাতে ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। শেষ পরিণাম তো মুত্তাকিদের অনুকূলেই থাকবে।’ (সুরা কাসাস : ৭৬-৮৩)

নমরুদ ও তার পরিণতি

তুমি কি ওই ব্যক্তির অবস্থা চিন্তা করনি, যাকে আল্লাহ রাজত্ব দান করার কারণে সে নিজ প্রতিপালকের (অস্তিত্ব) সম্পর্কে ইবরাহিমের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয়? যখন ইবরাহিম বলল, তিনি আমার প্রতিপালক যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যুও ঘটান। তখন সে বলল, আমিও তো জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই। ইবরাহিম বলল, আচ্ছা, আল্লাহ তো সূর্যকে পূর্ব থেকে উদিত করেন, তুমি তা পশ্চিম থেকে উদিত করো তো! এ কথায় সে কাফের নিরুত্তর হয়ে গেল। আর আল্লাহ এরূপ জালিমদের হেদায়েত করেন না। (বাকারা ২ : ২৫৮)

পৃথিবীতে প্রথম ঔদ্ধত্য প্রদর্শনকারী ছিল নমরুদ। সে-ই আসমান অভিমুখে টাওয়ার নির্মাণ করেছিল। আল্লাহ তাকে শায়েস্তা করার জন্য একটি মশা পাঠান। সেটি তার নাকে প্রবেশ করে। মশার জ্বালা থেকে বাঁচার জন্য তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হতো। তার রাজত্ব ছিল ৪০০ বছর। সে যেমন ৪০০ বছর পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল, তেমনি আল্লাহ তাকে ৪০০ বছর এই আজাবে রাখেন। অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করে। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ২/৮৭৮)

আল্লাহ ছাড় দেন তবে ছেড়ে দেন না

জালিমকে অনেক সময় আল্লাহ তৎক্ষণাৎ পাকড়াও করেন না। তখন জালিম মনে করে তাকে ঠেকানোর মতো কেউ নেই। কিন্তু তার সময় ফুরিয়ে গেলে আল্লাহ তাকে ঠিকই গ্রেপ্তার করেন। ‘আমি ধ্বংস করেছি কত জনপদ, যেগুলোর বাসিন্দা ছিল জালিম। এসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল এবং অনেক কূপ পরিত্যক্ত হয়েছিল ও অনেক সুদৃঢ় প্রাসাদও। ...এবং আমি কত জনপদকে অবকাশ দিয়েছি যখন তারা ছিল জালিম; অতঃপর তাদের শাস্তি দিয়েছি এবং প্রত্যাবর্তন আমারই কাছে।’ (সুরা হজ : ৪৫-৪৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা জালিমকে অবকাশ দেন, তারপর যখন পাকড়াও করেন তখন আর কোনো ছাড় দেন না। তারপর তিলাওয়াত করেন, ‘যেসব জনপদ জুলুমে লিপ্ত হয়, তোমার প্রতিপালক যখন তাদের পাকড়াও করেন, তখন তাঁর পাকড়াও এমনই হয়ে থাকে। বাস্তবিকই তাঁর পাকড়াও অতি মর্মন্তুদ, বড় কঠিন!’ (মুসলিম : ২৫৮৩)

আখেরাতে জালিমের পরিণতি

‘তুমি কিছুতেই মনে করো না জালিমরা যা কিছু করছে, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর। তিনি তো তাদের সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যে দিন চক্ষুগুলো থাকবে বিস্ফারিত। ভীতবিহ্বল চিত্তে আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা ছোটাছুটি করবে। নিজেদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে উদাস। ...সেদিন তুমি অপরাধীদের দেখবে শৃঙ্খলিত অবস্থায়। তাদের জামা হবে আলকাতরার আর আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে। ...এটা এজন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেকের কৃতকর্মের প্রতিফল দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণ করেন।’ (সুরা ইবরাহিম : ৪২-৪৩ ও ৪৯-৫০)

26/06/2025

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, কেয়ামত দিবসে লোকদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই আমার অধিক নিকটতম হবে, যে ব্যক্তি তাদের মধ্যে আমার প্রতি বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজি)

25/06/2025

আজকাল অনেক কিশোর ও তরুণ মসজিদে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। অথচ কিছু তরুণ আছে যারা ছোটবেলা থেকেই মসজিদমুখী। তাহলে আমরা—অভিভাবক, শিক্ষক, নামাজি—কি করতে পারি?

১. মসজিদকে আকর্ষণীয় স্থান বানান
তাঁদের চোখে সুন্দর ও আরামদায়ক করে তুলুন। যেন মসজিদে আসা আনন্দের হয়, দায়িত্বের নয়।

২. শৈশব থেকেই অভ্যস্ত করুন
ছোটদের জন্য অজুস্থল, ওয়াশরুম, ক্যাফেটেরিয়া, খেলার জায়গা—এই ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তন আনবে।

৩. যুবকদের দায়িত্ব দিন
মসজিদের কাজে তাদের যুক্ত করুন—দাতব্য কাজ, আয়োজন বা প্রকাশনায় অংশ নিক তারা।

৪. বয়স্কদের আচরণ নম্র হোক
যুবকেরা বড়দের দেখেই শেখে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার হতে হবে সদয়, সহানুভূতিশীল।

৫. সন্তানদের নিয়ে ওমরাহ পালন করুন
এই সফর অনেকের জীবন বদলে দেয়। আত্মিক উন্নতি ও ইমান জাগ্রত হয়।

➡️ চলুন, মসজিদকে কেবল নামাজের জায়গা নয়—যুবসমাজের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কেন্দ্র বানাই।

🕋 আসুন সন্তানদের মসজিদমুখী করতে আজ থেকেই উদ্যোগ নিই। ইনশা আল্লাহ।

24/06/2025

🌙 নবীজি (সা.)-এর যুদ্ধে ছিল নীতি, শান্তি, আর মানবতা। কিন্তু আজকের পৃথিবী? একটি বোমায় শত শত নিরীহ প্রাণ ঝরে, নারী-শিশুর আর্তনাদে ভরে রণাঙ্গন। উপাসনালয় ধ্বংস, প্রকৃতি ছারখার, মৃতদেহের প্রতি অমানবিকতা—এটাই কি সভ্যতা? 🤔 এই ভিডিওতে দেখুন, কীভাবে নবীজির শিক্ষা আজকের ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে এক মহান আদর্শ।

💡 আপনার মতামত জানান কমেন্টে! ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক 👍, শেয়ার 🔄, এবং সাবস্ক্রাইব করুন 🔔। আরও ইসলামী ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখতে চ্যানেলটি ঘুরে আসুন!

#নবীজি #ইসলামী_শিক্ষা #যুদ্ধের_নীতি #আধুনিক_যুদ্ধ #মানবতা

10/06/2025

ধরুন! বাসের ভাড়া দিয়ে নেমে দেখলেন, ভাংতি হিসেবে হেল্পার আপনাকে যে বিশ টাকার নোটটা ধরিয়ে দিয়েছে সেটাতে তিনটা তালিজোড়া। আপনাকে নিতান্তই অসাবধান এবং সরল পেয়ে বেচারা হাসতে হাসতেই তার ‘চালাতে না পারা’ নোটখানা ধরিয়ে দিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে।

বাস থেকে নেমে আপনি রিক্সায় উঠলেন। রিক্সা ভাড়া চল্লিশ টাকা। মোক্ষম একটা সুযোগ এলো আপনার হাতে—হেল্পারের ধরিয়ে দিয়ে যাওয়া ছেঁড়া বিশ টাকার নোটটাকে অন্য একটা বিশ টাকার নোট, কিংবা দুটো দশ টাকার নোটের সাথে মিশিয়ে দিয়ে রিক্সাওয়ালার কাছে আপনি তা অনায়েশে চালিয়ে দিতে পারেন। বেচারা টের পেলে তো পেলোই না, পেলে নির্বিঘ্নে আপদটা অন্যের ঘাঁড়ে উঠিয়ে দেওয়া গেল!

কিন্তু, সেই ছেঁড়া বিশ টাকার নোট অন্য নোটের সাথে মিশিয়ে রিক্সাওয়ালাকে গুছাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পারলেন না।

আপনি ভাবলেন— "কেউ একজন আমার সাথে অন্যায় করেছে বলে সেই একই অন্যায় আমি অন্য একজনের সাথে করতে পারি?" এমনও তো হতে পারে—এই ছেঁড়া নোট রিক্সাওয়ালাটা কোথাও চালাতে পারল না। এই নোট চলবে না বলে তাকে দোকানদার চাল না দিতে পারে, ওষুধের দোকানদার ওষুধ না দিতে পারে, এমনকি—নিজের মেয়ের জন্য একটা খেলনা কিনতে গেলেও এই ছেঁড়া নোটের কারণে তাকে ফেরত আসতে হতে পারে।

মানিব্যাগ থেকে নোটটা বের করতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত বের করা হলো না আপনার। রিক্সাওয়ালাকে চকচকে দুটো বিশ টাকার নোট দিয়ে ছেঁড়া নোটটাকে মানিব্যাগের অবহেলিত কোণটায় গুঁজে রাখলেন।

এই যে শেষ মুহূর্তের এই বোধ—এটার নাম হলো তাক্বওয়া। এই কাজটার সাক্ষী কেবল আপনি আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। দুনিয়ার আর কেউ এই ব্যাপারে জানে না। না আপনাকে ধোঁকা দিয়ে যাওয়া সেই বাসের হেল্পার, না যে রিক্সাওয়ালাকে আপনি ধোঁকায় ফেলতে যাচ্ছিলেন সে—কেউ না।

হতে পারে, কেবল এমন একটা অতি-ক্ষুদ্র কাজের জন্য আখিরাতে আপনি জান্নাতে পৌঁছে যাবেন। হতে পারে আপনার সেদিনকার এই কাজটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এতো পছন্দ হয়ে যায় যে—তিনি আপনার পূর্বের আর পরের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।

কখনোই কোন ভালো কাজকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এড়িয়ে যাবেন না। হয়তো, ওই কাজটাই হয়ে উঠবে আখিরাতে আপনার নাজাতের চাবিকাঠি।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Dhaka
Dhaka
1216