বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা যায় একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কাজ চারটা:
১. শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়ন ঘটানো
২. গবেষণা এবং উদ্ভাবন
৩. কমিউনিটি এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া তৈরি।
৪. সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বিকাশ ঘটানো।
একবার Educational Research Methodology (ERM) শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণে একজন রিসোর্স পার্সন বললেন, 'প্রত্যেক শিক্ষককেই গবেষণা করতে হবে, অন্যথায় তাকে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।' এটা শুনে আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, 'স্যার, এটা কীভাবে সম্ভব যে প্রত্যেক শিক্ষকই গবেষণা করবেন? এটা তো বাস্তবসম্মতও নয়। আমার প্রশ্নটা শুনে তার মনে হয় খুব একটা ভালো লাগে নাই, তাই যথাযথ উত্তর তিনি দিতে চান নাই বা দিতে পারেন নাই।
আমরা যদি চাই দেশের সব শিক্ষক গবেষণা করবেন, সব বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে সমান পারদর্শী হবে- তাহলে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হাজার খানেকের বেশি শিক্ষক থাকা উচিত নয়। নিয়োগের সময়ই সর্বোচ্চ স্যালারি আর সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এমন মেধাবীদের নিয়োগ দিতে হবে যারা গবেষণা করতে সক্ষম। তারও আগে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও এমন শিক্ষার্থীদেরকে অনার্সে ভর্তি করতে হবে যারা গবেষণার জন্য স্বেচ্ছায় ধীরে ধীরে নিজদেরকে প্রস্তুত করবে। আপনি ১২৫০০ টাকা স্যালারি দিয়ে অথবা নামমাত্র গবেষণা ফান্ড দিয়ে বলবেন 'যাও গবেষণা কর' - এটা রীতিমতো প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়!
উপরন্তু, সম্ভবত বাংলাদেশ নামক সোনার দেশের সোনার মানুষরাই মনে করে যে 'গবেষণা শুধু শিক্ষকদের বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই পৈতৃক সম্পত্তি'
শিক্ষক হলেই আপনার গবেষণা করতে হবে, নয়তো পদোন্নতি বন্ধ। বিপরীতে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, মেজিস্ট্রেট, ডাক্তারদের মনে হয় গবেষণা করা পাপ! পৃথিবীতে এমন একটা দেশ দেখান যেখানে শুধু শিক্ষক বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা করেই দেশ বদলে গেছে!
আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা নিজেদের ঘারে দোষ বা দায়িত্ব কোনটাই নিতে রাজি না। যতো সমস্যা সব অন্যের কারণে, আর যতো অর্জন সব আমার কারণে। এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাসী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করে না - এইটা তার অপরাধ! শিক্ষক গবেষণা করে না, ক্লাসে পড়ায় না, তাই শিক্ষার মান রসাতলে; এইটা শিক্ষকের দায়! আর বাকীরা সবাই বাংলাদেশের উন্নয়নে গবেষণা করে, কিংবা স্ব-স্ব পেশার উন্নয়নে একদম শীর্ষে আছে! বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নে পৃথিবীর শীর্ষে, আমলারা প্রশাসনিক উন্নয়নে পৃথিবীর রোল মডেল, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররাও নিজেদের সেক্টরের উন্নয়নে অদ্বিতীয়! পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, কোট-কাচারি, ট্যাক্স, কাস্টম, পুলিশ সহ সবাই ফেরেশতা! বাংলাদেশ ডুবানোর দায় শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবা এদেশের শিক্ষকদেরই।
এসো আলো ছড়াই
Just three words can be used about myself: Responsible, Honest & Dedicated
🎓 38th BCS (General Education) Cadre
👨🏫 Teacher & Career Advisor
✍️ Writer | Shaping futures through education and mentorship.
📍Dedicated to building a brighter Bangladesh.
ফটোকার্ডে নাম পদবী লাগিয়ে ঘটা করে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর মতো তেমন কোন পরিচয় আমার নাই। দু-চারজন যারা আমাকে ভালোবাসেন তারা সহ সবাইকে ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা।
24/05/2026
আলফা জেনারেশনের পড়াশোনা 🙂
21/05/2026
এই সুবর্ণভূমি তো এমন ছিল না! এই সোনার দেশের মানুষগুলোতো সোনাই ছিল! হঠাৎ কী যে হলো: গত এক দশকে এদেশের মানুষের মনন আর সাংস্কৃতিক জগতটা নষ্ট হয়ে গেল! টাকা আসলো, প্রযুক্তি আসলো, বিশ্বায়নের ছোঁয়া লাগল; আর তাতেই হানাহানি বেড়ে গেল! সুশিক্ষার জায়গাটা দখল হয়ে গেল। নষ্ট হয়ে গেল সামাজিক সেবাখাতগুলো! অর্থনীতি আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারল না; আমলাতন্ত্রও আর দুর্নীতি থেকে বের হতে পারল না! শিক্ষক হারাল তার নৈতিকতা-মূল্যবোধ; শিক্ষার্থীরা পথ হারাল! ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে প্রতিটি পেশাই যেন লাইনচ্যুত হলো। সবকিছু কেমন যেন তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে নীরবে নিভৃতে কেঁদে চলেছে!
শুধু একাই প্রবল শক্তি নিয়ে টিকে থাকলো রাজনীতি! এ যেন নজরুলের সেই বিখ্যাত পঙক্তি:
"বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত মম শির"
20/05/2026
রাগ করলা? 😉
20/05/2026
বিসিএস ক্যাডার ভূক্ত (জেনারেল/টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল) কর্মকর্তাদের সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের আজকের প্রশ্ন।
গুগল আপনাকে সব খুঁজে এনে দেবে। আপনি গুগল সার্চবক্সে যেয়ে 'চুকনগর' লিখুন, চুকনগর এনে দেবে না। আপনাকে এনে দেবে লাশের সারি। আপনি চুকনগর নামের অর্থ খুঁজুন, পাবেন না। চুকনগরের সৌন্দর্য খুঁজুন, পাবেন না। পাবেন শুধু একটা রক্তাক্ত ইতিহাস। আজ মে মাসের বিশ তারিখ। আজ সকাল এগারটা থেকে চুকনগরে আরম্ভ হবে ব্রাশফায়ার, টানা চার ঘণ্টা পর বিকাল তিনটায় থামবে ব্রাশফায়ার কারণ ততক্ষণে ফুরিয়ে যাবে বুলেট। আপনি একবার চোখ বুজে নিজেকে নিয়ে যান উনিশশো একাত্তর সালে। আপনি চোখ খুলে আর নিজেকে পাবেন না।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটা গ্রামের নাম চুকনগর। সকাল এগারটা থেকে বিকেল তিনটা। এক প্লাটুন পাকিস্তানি সৈন্য। চার মাইল। চার ঘণ্টা। আনুমানিক বারো হাজার মানুষ। বলা হয়, পৃথিবীর যেকোনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সংঘটিত সর্ববৃহৎ একক গণহত্যার নাম, চুকনগর গণহত্যা। চার ঘণ্টা ব্যাপী চলা এই ব্রাশফায়ারের নেতৃত্ব দেয় পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ হায়াত। বিকেল তিনটার দিকে গুলি ফুরিয়ে যাওয়ার পর সামনে পা বাড়াতে পারেনি সে আর। মাটি ভিজে গিয়েছিল, পায়ের তলায় ছিল অগুনিত লাশ। লাশ সরানোর নির্দেশ দিয়ে চলে যায় হায়াত।
চুকনগর গ্রামের আনসার আলী সরদার জানিয়েছিলেন, তারা সারাদিন ধরে বিয়াল্লিশজন মিলে একুশটি বাঁশে করে লাশ ঠেলে নদীতে ফেলেছিলেন। প্রতিবার দুইশো করে লাশ। একুশ তারিখ থেকে চব্বিশ তারিখ পর্যন্ত বিয়াল্লিশজন মিলে চার হাজার লাশ গুনে হাল ছেড়ে দেন। আটলিয়া ইউনিয়নের পাতাখোলার বিল থেকে চাঁদনী, ফুটবল মাঠ, চুকনগর স্কুল, মালতিয়া, রায়পাড়া, দাসপাড়া, তাঁতীপাড়া, ভদ্রা নদী ও সাতক্ষীরা রোড থেকে ঘ্যাংরাইল নদী পর্যন্ত লাল হয়ে ছিল রক্তে।
বিশ তারিখের পর ভদ্রা নদীর জল ছুঁয়েনি মানুষ। দু’মাস অবধি ঐ নদীর মাছ খায়নি। লাশ পঁচা গন্ধ এতবেশী ছিল, ছয় মাস অবধি চুকনগর বাজারে যায়নি কেউ। কোথাও কোথাও লাশ আটকে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একুশ তারিখ সকালবেলা বাবা চিকন আলী মোড়লের সন্ধানে বের হয়েছিলেন পুত্র এরশাদ আলী মোড়ল। তিনি দেখেছিলেন ভয়ংকর এক দৃশ্য। পাতখোলা বিলের সামনে লাশের স্তুপ থেকে মৃত এক নারীর স্তন চুষে দুধ খাওয়ার চেষ্টা করছে এক ক্ষুধার্ত শিশু। এরশাদ আলী মোড়ল শিশুটিকে নিয়ে আসেন। শিশুটির নাম রাখেন 'সুন্দরী'। মৃত মায়ের কপালে সিঁদুর ও হাতের শাখা দেখেই বুঝেছিলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী তারা। সুন্দরীকে একটা সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারেই বড়ো করেন তিনি। একটা সাক্ষাৎকারে সুন্দরী বলেছিলেন, আমি তো জানি না আমার পৈত্রিক বাড়ি কোথায়, কোথা থেকে এসেছিলেন আমার বাবা মা। চুকনগরের এই জায়গায় আসলে শুধু বুকটা হু হু করে উঠে আমার।
চুকনগর গণহত্যার বহু বহু বৎসর পরের একটা গল্প শোনাই। প্রাসঙ্গিক গল্প। জায়গাটা হচ্ছে, নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন। ওখানে বাংলাদেশীরা একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এক ভদ্রলোক মামা ও মামী সহ ঐ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন। যে ট্যাক্সি করে তারা যাচ্ছেন, ঐ ট্যাক্সি ড্রাইভার একজন পাকিস্তানি যুবক। প্যাসেঞ্জার বাংলাদেশী শুনে যুবক উচ্ছ্বসিত। জানালো- ‘আমরা সবাই ভাই ভাই, মাঝখানে ইন্ডিয়া এসে গোলমাল বাঁধালো।’
যা অনুমেয় ছিল; যুবক একাত্তর জানে নাই। তাদের পড়ানো হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী ও মুক্তি বাহিনী মিলে ষড়যন্ত্র করে গণ্ডগোল লাগিয়েছে ভাই ভাইয়ের মধ্যে। এটা তাদের পাঠ্য পুস্তকের পাঠ্য। ফলে ওরা জানে- অত মানুষ হত্যা, অত ধর্ষণ, অত জ্বালাও পোড়াও, সব প্রোপাগান্ডা। ওরা বিশ্বাস করে- মুক্তিবাহিনী মূলত হিন্দু আর ইন্ডিয়ানদেরই একটা গ্রুপ যারা শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করতো ও লুটপাট করতো। ভদ্রলোকের মামা রাগে কাঁপতে কাঁপতে যুবককে তখন একটা লম্বা বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমি বক্তব্যটা হুবহু তুলে দিচ্ছি।
‘আমি নিজে মুক্তিবাহিনীর লোক। আমি হিন্দুও না, ইন্ডিয়া থেকেও আসি নাই। অতএব তোমার শিক্ষায় ভুল আছে। একাত্তর সালে আমি তোমাদের আর্মির অত্যাচার দেখেছি। কিভাবে তারা নিরীহ মানুষ খুন করেছে আর গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। নিজ হাতে গুলি করে তোমাদের আর্মিকে থামিয়েছি কয়েক জায়গায়। এই যে পিছনের সিটে বসা আমার ভাগ্নেটাকে দেখছো, ওর জন্ম ঐ যুদ্ধের সময়। ওর মা আমার ছোট বোন। সে আট মাসের প্রেগন্যান্ট অবস্থায় প্রায় আশি মাইল রাস্তা হেঁটে শহর থেকে গ্রামে পালিয়ে গিয়েছিল তোমাদের আর্মির হাত থেকে বাঁচার জন্য। আমি কোনো লোকমুখে শোনা গল্প বলছি না। আরও কিছু শুনতে চাও? তুমি যদি মুক্তিবাহিনী সম্বন্ধে আরেকটা বাজে কথা বলো, এখনই তোমার ট্যাক্সি থেকে আমরা নেমে যাবো।’
বাকি রাস্তা পাকিস্তানি যুবক আর একটাও কথা বলে নাই। বরং যখন ভদ্রলোক ট্যাক্সি থেকে নেমেছিলেন, যুবক নিজেও নেমেছিল। জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার মা কি জীবিত আছেন? ভদ্রলোক মাথা ওপর-নিচ করেছিলেন। যুবক বলেছিল, তোমার মাকে বোলো, একজন পাকিস্তানী তাঁর কাছে মাফ চেয়েছে।
পাকিস্তান পৃথিবীর কুৎসিত’তম রাষ্ট্র। ঘৃণ্য রাষ্ট্র। খবিশ রাষ্ট্র। এই বর্বর রাষ্ট্র তার নব্য প্রজন্মদের তাদের করা বর্বরতার ইতিহাস জানায়নি একফোঁটা। এই শুয়োরের বিষ্ঠামাখা রাষ্ট্র জানায়নি, চুকনগরের ফসলি জমিতে এখনও হাড়গোড় পাওয়া যায় মানুষের। কখনো সখনো পাওয়া যায় নারীর পরিহিত অলঙ্কার। জানায়নি সহস্র নারীর যোনীতে বেয়নেট ঢুকিয়ে পেটের ওপর উঠে দাঁড়িয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলার গল্প। কিশোরগঞ্জের বরইতলার রেললাইনে অসংখ্য মানুষকে বসিয়ে এক এক করে ওদের মাথা ত্রিশ কেজি ওজনের বিশেষ শাবল দিয়ে চূর্ণ করে দিয়েছিল ওরা একদিন।
একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের ধরণ ও প্রক্রিয়া সম্বন্ধে গবেষণায় যা পাওয়া গেছে তার থেকে অল্প একটু বলি:
▪️ ১. সন্দেহজনক ব্যক্তিকে দেখামাত্র গুলি করা।
▪️ ২. শক্ত সমর্থ তরুণদের রাস্তা অথবা বাড়িঘর থেকে বন্দি করে অজ্ঞাত স্থানে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শারীরিক নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন শেষে হাত বেঁধে কখনও একজন কখনও অনেকজনকে একসাথে গুলি করে মেরে গর্ত অথবা জলাশয়ে ফেলে দেওয়া।
▪️ ৩. লোকসংখ্যা বেশী থাকলে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করা।
▪️ ৪. আপনজন সামনে থাকলে তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে ব্যক্তিকে জবাই করা, দেহ টুকরো টুকরো করা।
▪️ ৫. ভীতি ছড়ানোর জন্য সবার সামনেই অসহায় মানুষদের অঙ্গচ্ছেদ করা।
▪️ ৬. চোখ উপড়ে ফেলা।
▪️ ৭. নগ্ন করে উল্টো করে বেঁধে মাথা থেকে পা পর্যন্ত চামড়া ছিলে ফেলা।
▪️ ৮. ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে করে মাথা চূর্ণ করে দেওয়া।
▪️ ৯. বস্তার ভেতর ঢুকিয়ে মুখ বেঁধে অনর্গল পিটিয়ে হত্যা করা অথবা মুখ বন্ধ বস্তাসহ নদীতে ফেলে দেওয়া।
▪️ ১০. দড়ি দিয়ে ব্যক্তিকে বেঁধে অনবরত লাথি ঘুষি অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে করে মেরে ফেলা।
▪️ ১১. বাঁশ ও রোলারের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ চেপে ধরে থেঁতলে দেওয়া।
▪️ ১২. বেয়নেট দিয়ে পেট এফোঁড়-ওফোঁড় করা, নাড়িভুড়ি বের করা, বুক চিরে হৃদপিণ্ড উপড়ে নেওয়া।
▪️ ১৩. দড়ি দিয়ে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা।
▪️ ১৪. পানি, অগ্নিকুণ্ড অথবা বয়লারে নিক্ষেপ করে হত্যা করা।
▪️ ১৫. মৃতপ্রায় মানুষ পানি খেতে চাইলে মুখে প্রস্রাব করা, মলমূত্রের ওপর মানুষটার মাথা চেপে ধরা।
▪️ ১৬. সিগারেটের আগুনে শরীরের সংবেদনশীল জায়গায় ছ্যাকা দেওয়া।
▪️ ১৭. মলদ্বার ও আশপাশের স্থানে বরফ অথবা উত্তপ্ত লোহা ঢুকিয়ে দেওয়া।
▪️ ১৮. চোখের সামনে লাইট জ্বালিয়ে আলো দিয়ে চোখ ঝলসে দেওয়া।
▪️ ১৯. গায়ে ও মলদ্বারে ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া।
▪️ ২০. আঙুলে সুঁচ ফোটানো।
▪️ ২১. নখ উপড়ে ফেলা।
▪️ ২২. শরীরের চামড়া ছিলে লবণ ও মরিচ লাগিয়ে দেওয়া।
▪️ ২৩. পুরুষের অণ্ডকোষ ও লিঙ্গ থেঁতলে দেওয়া।
▪️ ২৪. মেয়েদের যৌনাঙ্গে লাঠি, রাইফেলের নল, ধারালো বোতল জাতীয় কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া।
▪️ ২৫. ‘বাঁশ ঢলা’ দেওয়া।
▪️ ২৬. বরফের চাঙরের ওপর শুইয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা।
▪️ ২৭. বুলেট বাঁচাতে দা দিয়ে জবাই করা।
▪️ ২৮. তরুণীদের বাড়ি থেকে ধরে এনে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা, স্তন কেটে নেওয়া, অমানুষিক শক্তি ব্যবহার করে চুল টেনে চামড়া সহ উপড়ে ফেলা।
সর্বপ্রথম আশির দশকের গোড়ায় ভিয়েতনাম যুদ্ধফেরত মার্কিন সৈন্যদের মধ্যে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার দেখা দিয়েছিল। ভয়ানক যুদ্ধের সবটুকুন ভয়াবহতার প্রত্যক্ষদর্শী যারা, যুদ্ধ শেষে বাকি জীবন তাড়িয়ে বেড়িয়েছিল তাদের ঐ স্মৃতি, ঐ মৃত্যু, ঐ ট্রমা।
আমার মাঝেমধ্যে খুব জানতে ইচ্ছে করে, একাত্তরের যুদ্ধ ফেরত ঐ শুয়োরের জাতগুলো ঘুমোতে পেরেছিল কোনোদিন তারপর? ওদের কারোর পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার হয়নি? ওরা কী করে ঘুমিয়েছিল? ওরা সুখী হয়েছিল? ওদের বিবাহ হয়েছিল হয়তো। পুত্র সন্তান হয়েছিল, কন্যা সন্তানও হয়েছিল। ওরা নিশ্চয় ঐ কন্যার কপালে চুমু খেয়েছিল। চুলে হাত বুলিয়েছিল। ফোলা গাল দু’টো টিপে কোলে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিল সপ্তাহে একবার। স্ত্রী সহ। কন্যা আবদার করেছিল হয়তোবা ঘাড়ে চড়ার। তারা নিশ্চয় ঘাড়েও চড়িয়েছিল তাকে। ঐ সন্তান থেকেছে পরম আদরে, বেঁচে আছে দুধে ভাতে।
কখনই ওই সন্তানের জানা হবে না, চার ঘণ্টায় বারো হাজার, প্রতি ঘণ্টায় তিন হাজার, প্রতি মিনিটে পঞ্চাশ এবং প্রতি সেকেন্ডে একজন করে মানুষ হত্যা করলে মাত্র দশটা সেকেন্ড বাকি থাকে ঘড়িতে, যে দশটা সেকেন্ড চুকনগরে মারার মতোন আর দশটা মানুষ খুঁজে পায়নি তার রক্তপিপাসু রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের সেবক। এক ভদ্রা নদীর রক্তের অংক কষতে এই জনম কাটবে তাদের। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল বিস্তৃত একটা শ্মশানের বাকি হাড়গোড় গুনার সময় কই আর।
সূত্র:
১. ‘২০ মে ১৯৭১: চুকনগর গণহত্যা’ – আহমাদ ইশতিয়াক (দ্য ডেইলি স্টার, ২০.০৫.২০২১)
২. ‘চুকনগর বধ্যভূমি’ – (ডুমুরিয়া, খুলনা, গর্ভমেন্ট বিডি সাইট)
৩. আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ
৪. ‘চুকনগর গণহত্যা’ – মুনতাসীর মামুন
৫. ‘৭১ এর গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ’ – ডা. এম এ হাসান (সংগ্রামের নোটবুক)
18/05/2026
বিসিএস ক্যাডার ভূক্ত (জেনারেল/টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল) কর্মকর্তাদের সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর "আইন,বিধি ও পদ্ধতি বিষয়ের আজকের প্রশ্ন।
17/05/2026
যারা বিসিএস- এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা নিজেদের প্রস্তুতিটা ধরে রাইখেন। নোট, খাতা, বই এসব সংগ্রহে রাইখেন। চাকরিটা হলেই কিন্তু যুদ্ধটা শেষ না!
এটা বিসিএস ক্যাডার ভূক্ত (জেনারেল/টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল) কর্মকর্তাদের সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর "বাংলাদেশ ও চলতি বিষয়াবলীর আজকের প্রশ্ন।
17/05/2026
ইংরেজি ক্লাস চলছে ওরাকল বিসিএসে!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka