08/06/2026
বহু রৌদ্র আর বহু অন্ধকার পেরিয়ে, ধুলোপথে হেঁটে হেঁটে আজ আমি ক্লান্ত। জীবনের দীর্ঘ পথরেখা যেন শেষ হতে চায় না। এক স্বপ্নের পিছু ছুটতে ছুটতে কত ঋতু ঝরে গেছে, কত নদী শুকিয়ে গেছে, কত সন্ধ্যা নেমে এসেছে নিঃশব্দে। একদিন যে পৃথিবীকে সবুজ ও বিস্ময়ে ভরা মনে হয়েছিল, আজ তার রঙ অনেকটাই মুছে গেছে; মানুষের ভিড়ের মধ্যেও এক গভীর নিঃসঙ্গতা আমাকে ঘিরে থাকে। পথের ধুলো, সময়ের ক্ষয় আর অপূর্ণতার ভার নিয়ে যখন চারদিকে তাকাই, তখন মনে হয় “সব মুখ আজ কয়লা কালো।”
In frame: জান্নাতুল আদনিন জিনিয়া
01/06/2026
মোহবতী! পরের জন্মে আমরা না হয় কাঠবিড়ালি হবো। এই বিষাদময় মানবীয় পৃথিবীর সকল জটিলতা, সকল না-বলা কথার ভার ফেলে রেখে, মলচত্বর, ভিসিচত্বর আর পুরোনো গাছপালায় ঘেরা পথগুলোর মধ্যে আমাদের দিন কেটে যাবে। কৃষ্ণচূড়ার লাল ছায়া, শ্রাবণের ভেজা পাতা, শীতের কোমল রোদ—সবকিছু আমাদের ছোট্ট জীবনে আপন হয়ে থাকবে। তুমি এক ডাল থেকে অন্য ডালে ছুটে বেড়াবে, আর আমি তোমার পিছু পিছু ফিরবো। দীর্ঘ ছুটোছুটির শেষে আমি যদি ক্লান্ত হয়ে কোনো গাছের কাণ্ডে মাথা রেখে বসে পড়ি, তবে তুমি না হয় একবার ফিরে দেখ— স্নিগ্ধ আলিঙ্গনে মুছে দিও পৃথিবীর সমস্ত অবসাদ, উষ্ণ চুম্বনে আমার শরীরে দিও প্রাণের সঞ্চার। আর এভাবেই ডাল থেকে ডালে, ঋতু থেকে ঋতুতে, কোনো বিচ্ছেদের ভয় ছাড়াই, হেসে খেলে কাটিয়ে দিবো একটি জীবন।
Picture from: Tanwir Hasan
29/05/2026
Every sip feels like a quiet conversation with my loneliness.
15/05/2026
অথচ আমরা একই আকাশের নীচে থেকেও কোনোদিন এক ঋতুর মানুষ হতে পারিনি। তুমি ছিলে মেঘ—নিঃশব্দে ভেসে আসা, আবার অনায়াসে দূরে সরে যাওয়া; আর আমি ছিলাম চাতক— তোমাকে পাওয়ার অবিরাম প্রতীক্ষার তৃষ্ণায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা একাকী পাখি।
তুমি ছিলে চাঁদ—নরম আলোয় ভেজা এক শান্ত উপস্থিতি, যা দূর থেকেও মনকে ছুঁয়ে যায়; আর আমি ছিলাম অমাবস্যা—নিজের অন্ধকারে ডুবে থাকা এক দীর্ঘ রাত্রি। আমাদের মাঝখানে কেবল দূরত্বের এক শীতল স্বচ্ছতা।
আমি ছিলাম মরুভূমি— অন্তহীন বালির ভিতরে লুকোনো দহন আর নিঃসঙ্গতা; আর মোহবতী! তুমি ছিলে বর্ষা— সবুজের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসা এক উন্মত্ত জীবনধারা।
[ক্যাম্পাসের বরপুত্র অভ্র ঘুমাচ্ছে]
09/05/2026
গভীর রাতে হলের দেয়ালে কেবল চুন-সুরকি থাকে না, সাথে থাকে কিছু নিঃশব্দ আর্তনাদ, পূরণ না হওয়া কিছু স্বপ্ন আর নামের পাশে জমা ক্লান্ত অন্ধকার।
জিয়া হলের ১০৯ নাম্বার রুম থেকে...
29/04/2026
যে বৃষ্টির ভেতর আমি একা দাঁড়িয়ে ভিজি—জল নেমে আসে কাঁধ বেয়ে, বুকের ভেতর জমে ওঠে এক অদ্ভুত শূন্যতা। সে বৃষ্টি কি তোমাকেও ছুঁয়ে যায়? কোথাও কোনো অচেনা জানালার ধারে?
আর এই যে হঠাৎ বজ্রপাত, আকাশের নীল শিরা ছিঁড়ে দেয়, চারপাশ লণ্ডভণ্ড করে দেয় তার শব্দ—সেই তীব্র আওয়াজে তুমি কি আঁৎকে ওঠো, নাকি নিঃশব্দে বসে থাকো অন্য কোনো অন্ধকারের ভিতরে?
আমার অনেক জানতে ইচ্ছে করে—এই ভাঙাচোরা আলো-আঁধারে তুমি ভয় পেয়ে কি আমার কথা ভাবো? নাকি নিঃসঙ্গতার চাদরে লুকিয়ে রাখো নিজেকে।
📸 from শিক্ষার্থী সংসদ
14/04/2026
আমার হাতে চিরকাল তোমার উত্তরীয় থাকুক
যেখানে তোমার পা সেখানে আমার মাথা থাকুক
কেউ তোমাকে ভালবাসলে আমার ভালো লাগে না
প্রিয়, পুরো জগৎ তোমার শত্রু হয়ে থাকুক
17/03/2026
মোহবতী, তোমার কাছে পৌঁছাতে গিয়ে আমি বারবার নিজের ভেতরের আকাশটাই উজাড় করে দিয়েছি। কখনও নদীর মতো অবিরাম স্রোতে ভালোবাসা বয়ে দিয়েছি, কখনও আবার শরতের কাশফুলের মতো নীরব সৌন্দর্যে তোমার পথের ধারে দাঁড়িয়ে থেকেছি। কখনও রাতের নিঃসঙ্গ নক্ষত্র হয়ে দূর থেকে আলো পাঠিয়েছি, আবার কখনও ভোরের শিশির হয়ে নিঃশব্দে তোমার পায়ের কাছে ঝরে পড়েছি। দিনের পর দিন ভিখারির মতো বসে থেকেছি শুধু সামান্য ভালোবাসার প্রত্যাশায়। নিজের স্বপ্ন, স্বস্তি, সমস্ত-অস্তিত্ব একে একে সপে দিয়েছি তোমার দোরগোড়ায়। অথচ তোমাকে বোঝাতে পারলাম না— এই সমস্ত ক্লান্তি, সমস্ত অপেক্ষা, সমস্ত নীরব আর্তনাদ কেবল একটিমাত্র সত্য উচ্চারণ করছিল: আমি তোমাকে ভালোবাসি। হায়! তুমি বুঝলে না মোহবতী! বুঝতে চাইলে না!
📷 SA J ID
07/03/2026
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত প্রাঙ্গণে এক নীরব অথচ পরিচিত মুখ আমাদের “অভ্র”। ক্যাম্পাসের প্রতিটি আন্দোলন, মিছিল, সভা কিংবা সাংস্কৃতিক আয়োজন সবই যেন তার অদৃশ্য দায়িত্বের অংশ। লাল ইটের উপর নিশ্চিন্তে শুয়ে থাকা অভ্র যেন শহরের কোলাহলের মাঝেও এক অদ্ভুত স্থিরতার প্রতীক। সে এক নীরব সহযোদ্ধা, যার রাজনৈতিক জীবন অনেক তথাকথিত ‘ফ্রি রাইডার’ শিক্ষার্থীদের চেয়েও উজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণাময়। মানুষের ভিড়, স্লোগানের ঢেউ, কিংবা মাইকের তীব্র শব্দ— কোন কিছুই তাকে বিচলিত করে না; বরং সে নীরবে উপস্থিত থাকে, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।