27/04/2026
# বার কাউন্সিল পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধারা সিরিজ পর্ব-২: সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
🧍 ধারা ১১৮ (সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তি): সমস্ত ব্যক্তিই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য যোগ্য, যদি না আদালত মনে করে যে তাদের প্রশ্ন বোঝার অক্ষমতা বা যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেওয়ার অক্ষমতা রয়েছে।
🖐️ ধারা ১১৯ (বোবা সাক্ষীর সাক্ষ্য): যে সাক্ষী কথা বলতে অক্ষম (মুক), তিনি যদি লিখনের মাধ্যমে অথবা ইশারার মাধ্যমে আদালতে তার বক্তব্য প্রকাশ করতে সক্ষম হন, তবে তার সেই লিখন বা ইশারা আদালতের সামনে মৌখিক সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে। তবে এই সাক্ষ্য অবশ্যই খোলা আদালতে দিতে হবে।
💍 ধারা ১২০: সমস্ত দেওয়ানি মামলায় স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য যোগ্য সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবেন। ফৌজদারি মামলায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অভিযুক্তের পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য যোগ্য সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবেন।
👨⚖️ ধারা ১২১: আদালতে কর্মরত কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট বিচারিক দায়িত্ব পালন বিষয়গুলি সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বাধ্য করা যাবে না, যদি না উচ্চতর আদালতের কোনো বিশেষ আদেশ থাকে।
🔒 ধারা ১২৬: কোনো অ্যাডভোকেট, উকিল বা মোকদ্দমা পরিচালনাকারী ব্যক্তিকে তার মক্কেলের সুস্পষ্ট সম্মতি (Express Consent) ছাড়া নিম্নলিখিত বিষয়গুলি আদালতে প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে না।
🛑 ধারা ১৩২: আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কোনো সাক্ষীকে তার পূর্বে করা অপরাধ বা নৈতিক স্খলন সংক্রান্ত এমন কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা যাবে না, যা তাকে ভবিষ্যতে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে বা জরিমানার দিকে নিয়ে যেতে পারে, তবে যদি আদালত তাকে উত্তর দিতে নির্দেশ দেয়, তবে সেই উত্তর দিতে সে বাধ্য থাকবে।
🔢 ধারা ১৩৪: কোনো ঘটনা প্রমাণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। একটি ঘটনার প্রমাণের জন্য যদি আদালত মনে করে যে সাক্ষ্যটি বিশ্বাসযোগ্য (Credible), তবে এক জন সাক্ষীই যথেষ্ট।
🗣️ ধারা ১৩৭: জবানবন্দি, জেরা, পুনঃ-জবানবন্দি যা একটি সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
🗣️ ধারা ১৩৮: জবানবন্দি, জেরা, পুনঃ-জবানবন্দি এর পরীক্ষার ক্রম ও জেরার ক্ষেত্র।
❓ ধারা ১৪১: (ইঙ্গিতমূলক প্রশ্ন), যে প্রশ্ন নিজেই এমনভাবে প্রণয়ন করা যে, তা সাক্ষীর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত উত্তরটি ইঙ্গিত করে বা নির্দেশ করে, ।
🚫 ধারা ১৪২: নেতৃত্বমূলক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার উপর নিষেধাজ্ঞা, আদালতের অনুমতি ছাড়া, জবানবন্দি বা পুনঃ-জবানবন্দির সময় কোনো ইঙ্গিতমূলক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না।
🗣️ ধারা ১৪৩: জেরার (Cross-examination) সময় নেতৃত্বমূলক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে।
📝 ধারা ১৪৫: জেরার সময় একজন সাক্ষীকে তার পূর্ববর্তী কোনো লিখিত বিবৃতির (যেমন: পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দি, চিঠি, বা ডায়েরি) ভিত্তিতে জেরা করা যেতে পারে, যা তার বর্তমান সাক্ষ্যের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ।
⚖️ ধারা ১৪৬: জেরার সময়, সাক্ষীকে বিপরীত পক্ষ সত্যতা যাচাই, পরিচয় ও অবস্থান প্রকাশ সাক্ষীর চরিত্র বা নীতিগত দুর্বলতা এই তিনটি উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যেকোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে।
🛑 ১৮৭২ ধারা ১৪৭: জেরার সময় কোনো সাক্ষীকে যে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যা সরাসরি মামলার প্রাসঙ্গিক ঘটনা প্রতিষ্ঠা করে। যদি সেই প্রশ্নের উত্তর সাক্ষীকে দোষী সাব্যস্ত (criminate) করতে পারে বা জরিমানার দিকে নিয়ে যেতে পারে, তবুও সাক্ষীকে সেই উত্তর দিতে বাধ্য থাকতে হবে।
🚫 ধারা ১৫১: আদালত কোনো সাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করা অশোভন (indecent) বা কলঙ্কজনক (scandalous) প্রশ্নগুলি নিষিদ্ধ করতে পারে। তবে, যদি এই প্রশ্নগুলি মামলার মূল বিচার্য ঘটনা (facts in issue) নির্ধারণের জন্য অপরিহার্য হয়, তবে আদালত এই ধরনের প্রশ্ন করার অনুমতি দিতে পারে।
😡 ধারা ১৫৪: (বৈরী সাক্ষী) যে পক্ষ কোনো সাক্ষীকে আদালতে ডেকে আনে, আদালত সেই পক্ষকে সেই সাক্ষীর নিকট এমন প্রশ্ন করার অনুমতি দিতে পারে, যা বিপরীত পক্ষ জেরার সময় করতে পারত।
👨⚖️ ধারা ১৬৫: (বিচারকের ক্ষমতা) মামলার সত্য উদ্ঘাটন করার জন্য, বিচারক যেকোনো সময়ে যেকোনো সাক্ষীকে যেকোনো ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন। একই উদ্দেশ্যে তিনি যেকোনো দলিল তলব করার আদেশও দিতে পারেন, এমনকি যদি সেই প্রশ্ন বা দলিল পক্ষগুলির দ্বারা উত্থাপিত প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক হয়।
🚫 ধারা ১৬৭: যদি কোনো মামলায় ভুলভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ (Admitted) করা হয় বা ভুলভাবে সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে শুধু সেই কারণে কোনো মামলায় নতুন বিচার বা আদালতের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করা হবে না।