CIvil Engineering

CIvil Engineering

Share

civil engineering

02/09/2019
02/09/2019

পাইলের (Piles) খরচ বের করার নিয়ম এবং
পাইল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য! যা জেনে রাখা উচিত।
--------------------------------------------------

পাইলিং কি এবং কেন করা হয় ?
-----------------------------------------------
‘পাইলিং’ হচ্ছে বিল্ডিং বা স্থাপনার এক ধরনের ফাউন্ডেশন যা স্থাপনার নিচে মাটির গভীরে লোড স্থানান্তর করে স্থাপনাকে দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে। এটা সাধারণত করা হয়ে থাকে যেসব জমিতে মাটির ভারবহন ক্ষমতা কম কিন্তু স্থাপনাটি বহুতলভিত্তিক। এটাকে স্থাপনার কলামের সাথে তুলনা করা যায় যা মাটির গভীরে স্থাপিত হয়।

পাইলিং কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমনঃ
------------------------------------------------------
*কাস্ট-ইন-সিটু পাইল
*স্যান্ড পাইল
*প্রি-কাস্ট পাইল
*শোর পাইল
*টিম্বার পাইল

★কাস্ট ইন সিটু পাইল
------------------------------------------------------
এগুলোর মধ্যে কাস্ট-ইন-সিটু পাইল সবচেয়ে বেশী প্রচলিত। এটা সাধারনত সিলিন্ডারাকৃতির হয়ে থাকে যার ব্যাস বা ডায়া ১৮ ইঞ্চি থেকে ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এটা আরো বেশি হতে পারে। আর দৈর্ঘ্য নির্ভর করে মাটির লেয়ারের উপর যা সয়েল টেস্ট রিপোর্টে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বেশিরভাগ বহুতল স্থাপনার ভিত্তিতে এই পাইলিং ব্যবহৃত হয়েছে।

★স্যান্ড পাইল
------------------------------------------------------
স্যন্ড পাইলের ধারণাটি অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও ক্ষেত্রবিশেষে এটি বেশ কার্যকর। সাধারনত কম তলা বিশিষ্ট স্থাপনা যেখানে মাটির ভারবহন ক্ষমতা কম সেখানে স্যন্ড পাইল করে সেটা বৃদ্ধি করা যায়। তবে অনেক তলাবিশিষ্ট ভবনের ক্ষেত্রে এটি ব্যাবহার করা যায় না।

★প্রি কাস্ট পাইল
------------------------------------------------------
প্রি-কাস্ট পাইলের ক্ষেত্রে সম্পুর্ন পাইল আগে কাস্টিং বা ঢালাই করা হয় সুবিধামত স্থানে (মাটির অভ্যন্তরে নয়) । তারপর এট মেশিনের সাহায্যে বা হ্যমারিং করে সাইটের ভুমিতে যথাস্থানে ঢোকানো হয়।

★শোর পাইল
------------------------------------------------------
শোর পাইল করা হয় মাটির পার্শ্বচাপ প্রতিরোধ করার জন্য। যেই সমস্ত স্থাপনায় বেসমেন্ট থাকে, কিংবা অন্য কোন কারনে মাটি কাটতে হয়, সেখানে পাশের মাটি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাই এই ব্যবস্থা করা হয়। এটার সাথে শেয়ার ওয়ালের তুলনা করা যায়। এটা প্রি কাস্ট বা কাস্ট ইন সিটু বা টিম্বার পাইল হতে পারে।

★টিম্বার পাইল
------------------------------------------------------
টিম্বার পাইল হলো গাছকে (সাধারণত শাল গাছের কান্ড) পাইল হিসেবে ব্যবহার করা। এটা ব্যবহার করা হয় কমতলা বিশিষ্ট ভবনে।

পাইলের এস্টিমেট
-----------------------------------------

# Estimate for Cast-
in-Situ Pile (1:1.5:3).
পাইলটির ব্যাস 18",
গভীরতা 60'-0".
পাইলটিতে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত মোট 8 টি 16mm ব্যাসের রড ব্যাবহার করা হয়েছে।
কাট অফ লেভেল আরোও 2'-0" ধরা আছে।
10mm রড দিয়ে স্পাইরাল এর কাজ করা আছে।
প্রথম L/4 এবং শেষ L/4 এ স্পাইরালের স্পেসিং 4"C/C. বাকিটা 6"C/C ধরতে হবে।
কভারিং আদর্শ পরিমান ধরে নিতে হবে।

# Estimate-

Estimate for 18"Dia Boring.
-------------------------------------------
= 1x62'-0" = 62.00 Rft.

Estimate for RCC (1:1.5:3).
-------------------------------------------
= 1x{(πx1'-6"x1'-6")/4}x62'-0" = 109.56 Cft.

Estimate for Reinforcement.
-------------------------------------------
For 16mm Dia Main Rod.
= 8x62'-0" = 496.00 Rft. = 238.57 Kg.
Lap = 8x2'-0" = 16.00 Rft. = 7.69 Kg.

For 10mm Dia Spiral.
= Nπ{(D+d)+8d}
= 152π{(1'-0"+0.032)+(8x0.032)}
= 152π(1.032+0.256) = 615.04 Rft. = 115.01 Kg.
Lap = 15x1'-0" = 15.00 Rft = 2.80 Kg.

# Total Rod = 364.00 Kg. = 3.64 qntl.

# পাইল ক্যাপ সম্পর্কে বিস্তারিত
-------------------------------------------------
১। পাইল ক্যাপ বিল্ডিং এর অতিগুরুত্ব পুর্ন অংশ।

২। পাইল ক্যাপ বিল্ডিং এর সকল লোড পাইলে স্থানান্তর করে।

৩। দৈর্ঘ্য প্রস্থ সমান এমন পাইল ক্যাপ কে বর্গাকার পাইল ক্যাপ দৈর্ঘ্য প্রস্থের চেয়ে বড় হলে তাকে আয়তাকার পাইল ক্যাপ বলা হয়।

৪। পাইল ক্যাপ এর পুরুত্ব মাটির বিয়ারিং ক্যাপাসিটির ও বিল্ডিং এর লোডের উপর নির্ভর করে।

৫। পাইল ক্যাপ এর রড সাধারন্ত সিঙ্গেল জালী হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে ডাবল জালী হয়।

৬। পাইল ক্যাপ এর রডে এল বা মাটাম লাগে।

৭। পাইল ক্যাপ ঢালায়ের আগে আমরা পাইলের মাথা ভেঙ্গে রড বের করি তারপর পাইল ক্যাপ এর নীচে বালি
দিয়ে ড্রেসিং লেভেলিং পানি দিয়ে কম্পেটিং পলিথিন সোলিং সিসি করে (সিসি করার সময় খেয়াল রাখতে
হবে য়েন পাইলের মাথার উপর না যায়) তার পর রড বাইন্ডিং করে সাটারিং করে ঢালায় করা হয়।

৮। পাইল ক্যাপ এর ঢালায়ের পুরুত্ব বেশী থাকায় ভালভাবে ভাইব্রেটিং করা উচিৎ যেন ভিতরে ভয়েড না থাকে।

৯। পাইল ক্যাপ ঢালায়ের সময় কলামের সেন্টার যেন কোন সমস্যা না হয়।

১০। ভালভাবে কিউরিং করতে হবে।

১১। সাটারিং খোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন পাইল ক্যাপ এর কোন প্রকার ক্ষতি না হয়।

পাইল ক্যাপ চেক লিষ্ট
-------------------------------------------
• পাইলের উপর থেকে দুর্বল কংক্রিট সরিয়ে ফেলুন

• শাটার এর সকল ছিদ্র বা ফাকা বন্ধ করতে হবে

• সব সাইট শলে (সঠিক উলম্ব) রাখতে হবে

• সাটার এর সাপোর্ট ভালভাবে চেইক করতে হবে যাতে করে সাটার ঢালাই এর সময় খুলে না যায় বা ঢালাই মোটা না হয়

• সাটারে কংক্রিট ঢালার লেভেল মার্কিং করতে হবে

• কলামের রডের আনুভুমিক সাপোর্ট কংক্রিট লেভেল এর উপরে থাকতে হবে

• ক্লিয়ার কভার ভালমত চেইক করতে হবে

• রড বাধাই এর তারের কোন অংশ যেন কংক্রিট কভারের মধ্যে না যায় খেয়াল রাখতে হবে
• কলাম রিং নিচে, মাঝে ও উপরে দিতে হবে। কংক্রিট এর চার ইঞ্চ উপরে একটি রিং দিতে হবে।

• কলামের রড শলে (উলম্ব/খাড়া) রাখতে হবে

• কংক্রিট ঢালার পুর্বে ভালভাবে পরিস্কার করতে হবে।
----------------------------------------------------------------------

বিল্ডিং এর ডিজাইন ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলি সম্বন্দে নতুন নতুন তথ্য পেতে আমাদের মূল পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত সাথেই থাকুন।।
----------------------------------------------------------------------
সিভিল ইঞ্জিনিয়ার দের জন্য পোস্টটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ
★পোস্টটি শেয়ার করে রেখে দেন যেকোন সময় কাজে আসবে।।

02/09/2019

# Tide column design.
# Preparation problem for appointment of water development board.
Engineering: Our Passion

Problem: Considering the load of all things, it was found that a tide column had to carry 90 ton axial load. Then the column needs to be designed. In this case the architect has previously stated that the column size should be limited to 10 "x15". The light has to be calculated.
Engineering: Our Passion

Solution: - Calculate the main rod of the column.
Since the column size is already set = 10 "x15" = 25cmx37.5cm

As we know, load carrying capacity in the case of tide columns
P = 0.85Ag (0.25f'c + fs.pg)
Here,
P = 90 Ton = 90000 Kg.
Ag = 25x37.5 = 937.50 cm ^ 2
f'c = 210 kg / cm ^ 2 (assume).
fy = 4000 kg / cm ^ 2 (assume).
pg = Steel Ratio (this has to be figured out).

Engineering: Our Passion
Since fy = 4000 Kg / Scm
Then fs = 0.4fy = 0.4x4000 = 1600 Kg / Scm

P = 0.85Ag (0.25f'c + fs.pg)
Or. 90000 = (0.85x937.5) x {(0.25x210) + (1600xpg)}
Or. 90000 = 796.87 {52.5 + 1600pg}
Or. 90000 = 41835.67 + 1274992pg
Or. pg = (90000-41835.67) / 1274992
Or. pg = 0.0377 = 0.038

As we know, the steel ratio for the columns ranges from 0.01 to 0.08 according to the approved ACI code. So our calculation is fine.
Now, Area of ​​Steel Ast = Ag.pg
= 937.5x0.038
= 35.625 Scm

If we use a 20 mm rod, its sectional area will be = 3.1416 Scm each

Therefore 20mm rod is needed = 35.625 / 3.1416
= 11.33 = 12 Nos.

So I got the column size = 25cmX37.5cm
Rod pylons 20 mm in diameter = 12 in diameter. (Ans).

Engineering: Our Passion
Tie Rod Design:
A tie will be made with a rod of 10 mm diameter.
1). Diameter of 16x main rod = 16x2.0 = 32 cm
2). Diameter of 48x tie rod = 48x1.0 = 48 cm
3). Minimum side size = 25 cm

Then the tie rod spacing will be 10 mm diameter rod
@ 25 cm C / C. (Ans).

26/08/2019

১.বীম কাকে বলে?
# উওরঃ বিম এক প্রকার অনুভূমিক
কাঠামো।যা এক বা একাধিক
সার্পোটের উপর অবস্হান করে।
২.বিম কত প্রকার ও কি কি?
#উওরঃ ৫ প্রকার।
(সাধারণ স্হাপিত,ক্যান্ট
িলিভার,ঝুলন্ত,আবদ্ধ ও ধারাবাহিক
বিম)
৩. দালানের টানা লোড বহন করে
কোন কাঠামো?
# উত্তরঃ বিম
৪.বাংলাদেশে কোন পদ্ধতিতে বিম
ডিজাইন করা হয়?
#উওরঃ WSD method
৫.কখন টি-বিম ডিজাইন করা হয়?
#উওরঃ যখন বিম ও স্ল্যাব এক সঙ্গে
ঢালাই করা হয়
৬.যখন বিমের আকার সীমাবদ্ধ রাখতে
হয় তখন কি বিম ডিজাইন করা হয়?
#উওরঃ ডাবলি-রিইনর্ফোসমেন্ট বিম
৭.বিমের কোন অংশে কোন বল কাজ
করে?
#উওরঃ টপে-কম্পেশন বা চাপালোড
বটমে -টেনশন বা টানা বল
৮.বিম ডিজাইনে f'c মান কত এবং এই
তথ্যাটি কিভাবে পাওয়া যায়?
#উওরঃ ২১০ এবং f'c মানটি পাওয়া যায়
কিউব বা সিলিন্ডার টেস্ট থেকে।
৯.একটি ভবনে কয়টি জায়গায় বিমের
অবস্হান থাকে?
উওরঃ ৩ জায়গা।
১০.গ্রেড বিম,ল্যান্ডিং বিম, রুফ বিম
কি?
#উওরঃ
গ্রেডবীমঃ সুপার স্ট্রাকচার
দেওয়ালের নিচে যে বিম থাকে
তাকে গ্রেড বিম বলে
ল্যান্ডিং বিমঃ সিড়িঁর ল্যান্ডিং
এর সাথে সংযুক্ত বিমকে ল্যান্ডিং
বিম বলে।
রুফ বিমঃ ছাদেঁর সাথে সংযুক্ত বিম
হচ্ছে রুফ বিম।
১১.বিমে Extra ber কেন ব্যবহার করা হয়?
#উওরঃ যখন উপরের straight ber উপর প্রযুক্ত
tension নিতে সক্ষম হয় না।তখন Extra tension
বহন করার জন্য Extra bar ব্যবহার করা হয়।
১২.R.C.C বিমে কত ধরণের ড্রয়িং করতে
হয়?
#উওরঃ ২ ধরণের। Long & Cross sectional view

24/08/2019

গ্রেড বীমঃ-
ফুটিং এর পিলার এর উপর ভুমির সমান্তরাল করে যে বীম ঢালাই করা হয় তাকে গ্রেড বীম বলে।
গ্রেড বীমের উপর সুপার স্ট্রাকচার দেওয়াল নির্মান করা হয়। সাধারন ভাবে বলা যায়, সুপার স্ট্রাকচার দেওয়ালের নিচে যে বীম থাকে সেই বীম-ই গ্রেড বীম।

একটি রুমের আকার=(২৫X২০) ফুট

[ এখানে,দৈর্ঘ্য ২৫ ফুট এবং প্রস্থ ২০ ফুট ]

গ্রেড বীমের সাইজ= (১৮X১৬) ইঞ্ছি

[প্রস্থ=১৬/১২=১.৩৩ ফুট এবং উচ্চতা=১৮/১২= ১.৫ ফুট ]

এখানে, রুমের যে দৈর্ঘ্য দেওয়া আছে তা কলামদ্বয়ের মধ্যবর্তী
দুরুত্ব ।

গ্রেড বীমের দৈর্ঘ্য বের করার নিয়ম:
-----------------------------------------------------

১. দৈর্ঘের দিকে গ্রেড বীম আছে ২টা=২x ২৫ ফুট= ৫০ ফুট

২. প্রস্থের দিকে গ্রেড বীম আছে ২টা =২x২০ ফুট = ৪০ফুট

অতএব,গ্রেডবীমের মোট দৈর্ঘ্য হচ্ছে=৪০+৫০=৯০ফুট

কাজের পরিমাণ
-------------------------------

কাজের পরিমাণ =দৈর্ঘ্যxপ্রস্থxউচ্চতা
=৯০X ১.৩৩ X ১.৫ ঘনফুট =১৭৫.৫ ঘনফুট

গ্রেড বীমের আর.সি.সি কাজের পরিমাণ=১৭৫.৫ ঘনফুট = ওয়েট ভলিউম

সাধারণত, লুজ/ড্রাই ভলিউম = ১.৫ × ওয়েট ভলিউম।
সুতরাং এখানে
লুজ/ড্রাই ভলিউম = ১.৫ × ১৭৫.৫ ঘনফুট = ২৬৩.২৫ ঘনফুট

সুতরাং সিমেন্ট, বালি , ও খোয়ার পরিমান
--------------------------------------------------------------
ধরি ,
সিমেন্ট, বালি , ও খোয়ার অনুপাত =১ঃ১.৫ঃ৩

সিমেন্ট =২৬৩.২৫ * (১/৫.৫)= ৪৭.৮৬ ঘনফুট =৩৮.২৯= ৩৯ ব্যাগ
বালু = ২৬৩.২৫ * (১.৫/৫.৫)= ৭১.৭৯ ঘনফুট
খোয়া =২৬৩.২৫ * (৩/৫.৫)= ১৪৩.৫৮ ঘনফুট =২০১০ টি ইট

19/08/2019

hello ! please like my page

07/08/2019

আর.সি.সি.

আর.সি.সি. ফুটিং (R.C.C. FOOTING )
Sub Structure

আর.সি.সি. ফুটিং ডিজাইনের নীতিসমুহ (Understand the principles of designing R.C.C. footing)

কোন প্রকৌশল কাঠামোর যে অংশ মাটির নিচে থাকে তাকে ভিত্তি বলে ।
ভিত্তি কাঠামোর সর্বনিম্ন অংশ যার সাহায্যে কাঠামোর নিজস্ব ওজন এবং অন্যান্য আরোপিত ওজনকে মাটির শক্ত স্তরে স্থানান্তর করা হয়।
ভিত্তি সুপার ষ্ট্রাকচার (Super Structure) এর বেইজ হিসাবে কাজ করে, একে সাব ষ্ট্রাকচার বলে। সুতরাং কাঠামোর নিজস্ব ওজন এবং এর উপরস্থ অন্যান্য ওজনকে মাটির শক্ত স্তরে স্থানান্তর করার জন্য কাঠামোর যে ভুমিস্নস্থ অংশ কংক্রিট ব্লক, পাইল, গ্রিলেজ ইত্যাদির সমন্বয়ে কৃত্তিমভাবে তৈরী করা হয়, তাকে ভিত্তি বা Foundation বলে।

কাঠামোর বসন (Settlement) প্রতিরোধ করার জন্য ্কাঠামোর লোডকে মাটির শক্ত স্তরে ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে।যাতে করে মাটির ভার বহন ক্ষমতা দ্বারা বসনকে প্রতিরোধ করা যায়। এই জন্য ভিত্তির সবচেয়ে নিচের অংশকে ধাপে ধাপে বড় করে প্রশস্ত করা হয়। এ অংশকেই আসলে ফুটিং বলে। অধিক লোড আরোপিত হলেই ফুটিংকে আর.সি.সি. ( R.C.C. ) এর তৈরী করা হয়।

ভিত্তি (Foundation) প্রধানত দুই প্রকার -
১। গভীর ভিত্তি ( Deep Foundation)
২। অগভীর ভিত্তি (Shallow Foundation)

১। গভীর ভিত্তিঃ( Deep Foundation) যখন সুপার ষ্ট্রাকচারের সবচেয়ে নিচের অংশকে অনেক অভীরে স্থাপন করা হয়, তখন তাকে গভীর ভিত্তি বলে।

এটি তিন পরকার-
পাইল ফাউন্ডেশন
কফার ড্যাম
কেইসন বা ওয়েল ফাউন্ডেশন

২। অগভীর ভিত্তিঃ(Shallow Foundation) যখন সুপার ষ্ট্রাকচারের সবচেয়ে নিচের অংশকে মাটির অভ্যান্তরে স্বল্প গভীরতায় স্থাপন করা হয়, তখন তাকে অগভীর ভিত্তি বলে।

এটি চার পরকার-
স্প্রেড ফুটিং (Spread Footing)
কম্বাইন্ড ফুটিং (Combined Footing)
স্ট্রাপ বা ক্যান্টিলিভার ফুটিং (Strap or Cantilever Footing )
ম্যাট ফুটিং (Mat or Raft Footing)

Super Structure
আর.সি.সি. মেঝে স্ল্যাবঃ(R.C.C. floor slab)
রড সিমেন্ট কংক্রিট দিয়ে নির্মিত সমতল পাতলা ঢালাইকে স্ল্যাব বলে। এটি সাধারণত প্রশস্ত এবং এর উপর ও নিচের তল প্রায় সমান্তরাল হয়ে থাকে। একাধিক তলা বিশিষ্ট বাড়ির নিচের তলায় যেটা ছাদ উপরের তলায় সেটা মেঝে হিসেবে পরিচিত। তবে দালানের সর্ব উপরের স্ল্যাবকে সাধারণত ছাদ স্ল্যাব এবং ভিরের অন্যান্য স্ল্যাবকে মেঝে স্ল্যাব বলে। স্ল্যাব সাধারণত রিইনফোরসড কংক্রিট বীম অথবা ইটের দেওয়াল অথবা ইটের দেওয়াল অথবা ষ্টীল মেম্বার অথবা সরাসরি কলাম অথবা ভূমির উপরে অবস্থান করে।
একমুখী স্ল্যাবঃ(One way slab) যে সমস্ত স্ল্যাবগুলোর প্রস্থ বরাবর বিপরীত প্রান্তদ্বয় সমান্তরাল বীম অথবা দেওয়ালের উপর অবস্থান করে এবং প্রধান রড গুলো কেবলমাত্র একদিক ব্যবহার করা হয়, তাকে একমূখী স্ল্যাব বলে। একমূখী স্ল্যাবের প্রধান রডগুলো স্ল্যাব প্যানেলের প্রস্থ বরাবর স্থাপন করা হয় এবং দৈর্ঘ্য বরাবর টেম্পারেচার ও শ্রিংকেজ রড ব্যবহত হয়। এই স্ল্যাবের উপর আরোপিত লোড এবং স্ল্যাবের নিজস্ব ওজন প্রধান রডের মাধ্যমে দেওয়াল অথবা বীম এর উপর ন্যাস্ত করা হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেক্ষ্য যে, যদি স্ল্যাবের দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থের অনুপাত ২ অথবা ২ এর বেশি হয়।

১। একদিকে রিইনফোরসমেন্টএর প্রকারভেদ-
ক) একমুখী সলিড স্ল্যাব।
a) গার্ডার এবং বীম সাপোর্টের উপর স্ল্যাব।
b) ষ্টীল বীমের উপর স্ল্যাব।
c) ডেক স্ল্যাব।
খ) একমুখী রিবড স্ল্যাব।
গ) প্রিকাষ্ট স্ল্যাব।

দ্বিমুখী স্ল্যাবঃ(Two way slab) যে সমস্থ স্ল্যাব চার দেওয়াল বা বীমের উপর অবস্থান করে এবং স্ল্যাবের দুই দিকেই প্রধান গুলো ব্যবহার করা হয়, তাকে দ্বিমূখী স্ল্যাব বলে। যখন স্ল্যাবটি বর্গাকার হয় অথবা স্ল্যাবটির
২। দুইদিকে রিইনফোরসমেন্টএর প্রকারভেদ-
ক) দ্বিমুখী সলিড স্ল্যাব।
a) একসাথে ঢালাইকৃত বীমের উপর স্ল্যাব।
b) ষ্টীল বীমের উপর স্ল্যাব।
খ) দ্বিমুখী রিবড স্ল্যাব।
গ) বীম বিহীন স্ল্যাব।
a) ড্রপ প্যানেল বা কলাম ক্যাপিটাল বা উভয়ের সমন্বয়ে গঠিত ফ্লাট স্ল্যাব।
b) ড্রপ প্যানেল বা কলাম ক্যাপিটাল বিহীন ফ্লাট স্ল্যাব।
c) রিবড স্ল্যাব।
তবে সামগ্রিকভাবে আর.সি.সি. ফ্লোর স্ল্যাবকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
ক) একমুখী স্ল্যাব।
খ) দ্বিমুখী স্ল্যাব।
গ) ফ্লাট স্ল্যাব।
ঘ) রিবড স্ল্যাব।
ঙ) আর.বি. স্ল্যাব।

মেঝে স্ল্যাবের সজ্ঞা ও প্রকারভেদ(ALL KINDS OF FLOOR SLAB)
ঝড়, বৃস্টি, রোদ, তাপ ইত্যাদি প্রাকৃতিক অবস্থা থেকে রক্ষা পেয়ে দালানের মধ্যে যাতে নিরাপদে তথা আরাম-আয়েশের সাথে বসবাস করা যায় সেজন্য ভবন বা দালানের উপর য আচ্ছাদন বা ঢাকনা দেওয়া হয় তাকে ছাদ বলে।
ছাদ প্রধাণত তিন প্রকার-
১। ঢালু ছাদ।
২। সমতল ছাদ।
৩। বাঁকানো ছাদ।
১। গঠন পদ্ধতি অনুসারে ঢালু ছাদ তিন প্রকার-
ক) সিংগেল ছাদ।
খ) ডাবল ছাদ।
গ) ট্রাস্ট ছাদ।
ক) সিংগেল ছাদ আবার পাঁচ প্রকার-
a) লিন-টু-ছাদ।
b) কাপল ছাদ।
c) কাপল ক্লোজ ছাদ।
d) সিজারস ছাদ।
e) কলাম বীম ছাদ।

গ) ট্রাস্ট ছাদ আবার আট প্রকার-
a) কিং-পোস্ট ছাদ।
b) কুইন পোস্ট ছাদ।
c) ম্যানসারড ছাদ।
d) কম্পোজিট ছাদ।
e) বেলফাস্ট ছাদ।
f) লেমিনেটেড ছাদ।
g) স্টীল ছাদ।

২। সমতল ছাদ তিন প্রকার-
a) টালী বর্গার ছাদ।
b) ঢালাই ছাদ।
c) ঝুলন্ত খিলানোর ছাদ।

৩। বাঁকানো ছাদ দুই প্রকার-
a) শেল ছাদ।
b) ডোম ছাদ।

একমুখী সলিড স্ল্যাবের ডিজাইনের ধাপ সমুহ - DESIGN STEP OF ONE WAY SOLID SLAB
একমুখী স্ল্যাব ডিজাইনের ক্ষেত্রে স্ল্যাবের ছোট স্প্যান বা প্রস্থকে স্প্যান হিসাবে ধরা হয়, এবং এই প্রস্থ বরাবর ১ (এক) মিটারের একটি ফালি (Strip ) বিবেচনা করে বীমের ন্যায় ডিজাইন করা হয়।
ধাপ-১ ডিজাইন লোড (Step-1: Design Load )
( ক) স্ল্যাবের ওজনঃ (Weight of Slab )
ACI কোড অনুযায়ী স্ল্যাবের মোট গভীরতা বা পুরুত্ব (t ) নির্ণয় করে কংক্রিটের একক ওজনের সাহায্যে প্রতি বর্গমিটারে স্ল্যাবের ওজন নির্ণয় করা হয়।
উল্লেখ্য, স্ল্যাবের নুন্যতম পুরুত্ব বা গভীরতা, বেন্ডিং মোমেন্ট দ্বারা সঠিক বলে বিবেচিত হতে হবে।

( খ) স্ল্যাবের প্রতি বর্গমিটারে লাইভ লোড ও অন্যান্য ডেড লোডের পরিমান।

( গ) স্প্যানের উপর মোট বিস্তৃত লোড।
তাহলে, W= ( স্ল্যাবের ওজন + লাইভ লোড + অন্যান্য লোড) ×স্প্যান দৈর্ঘ্য ।
ধাপ-২ সর্বোচ্চ শিয়ার (Step-2: Maximum shear )
বীমের ন্যায় স্ল্যাবের প্রান্ত অবস্থার উপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ শিয়ার, V এর মান নির্ণয় করা হয়।
( ক) সাধারণ ভাবে স্হাপিত এবং অবিচ্ছিন্ন স্ল্যাবের ক্ষেত্রে, সর্বোচ্চ শিয়ারV = W/2
( খ) আংশিক অবিচ্ছিন্ন স্ল্যাবের ক্ষেত্রে,
১। বিচ্ছিন্ন প্রান্তের শিয়ার বল, V = 0.4 W
২। অবিচ্ছিন্ন প্রান্তের শিয়ার বল, V = 0.6 W
ধাপ-৩ সর্বোচ্চ বেন্ডিং মোমেন্ট (Step-3 Maximum bending moment )
বীম ডিজাইনের ন্যায় স্ল্যাবের প্রান্ত অবস্থার উপর নির্ভর করে স্ল্যাবের সর্বোচ্চ বেন্ডিং মোমেন্ট, M এর মান নির্ণয় করা হয়।

সাধারণ ভাবে স্হাপিত স্ল্যাবের ক্ষেত্রে, সর্বোচ্চ বেন্ডিং মোমেন্ট M = WL/8
পুরপুরি অবিচ্ছিন্ন স্ল্যাবের ক্ষেত্রে, সর্বোচ্চ বেন্ডিং মোমেন্ট M = WL/12
আংশিক অবিচ্ছিন্ন স্ল্যাবের ক্ষেত্রে, সর্বোচ্চ বেন্ডিং মোমেন্ট M = WL/10
ধাপ-৪ স্ল্যাবের গভীরতা (Step-4 Depth of slab )
কার্যকরী গভীরতা, d = √M / Rb
এখানে, M = সর্বোচ্চ বেন্ডিং মোমেন্ট
b = বিবেচিত ফালির প্রস্হ = 1m = 100 cm.
R = ½ fc jk
k = k / (n+ fs / fc)
j = 1 – k/3
মোট গভীরতা = কার্যকরী গভীরতা + রডের ব্যাস / ২ + মুক্ত কভারিং।
স্ল্যাবের ক্ষেত্রে মুক্ত কভারিং ২ সেমি এবং রডের কেন্দ্র থেকে কভারিং ২.৫ সেমি ধরা হয়।
উল্লেখ্য, মোট গভীরতার মান ধাপ-১ এ অনুমানকৃত পুরুত্ব বা গভীরতার চেয়ে বেশি হবেনা।
ধাপ-৫ টান রডের ক্ষেত্রফল (Step-5 Area of tensile reinforcement )
১ মিটার ফালির জন্য রডের পরিমান,
As = M / fsjd
রডের কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দুরত্ব বা ব্যবধান (Spacing )
S = b as / As
এখানে, as = নিরধারিত আকরের একটি রডে ক্ষেত্রফল
প্রধান রডের সর্বোচ্চ ব্যবধান-
স্ল্যাবের পুরুত্বের ৩ গুণ বা ৪৫ সেমির বেশি হবেনা।

কংক্রিটের বিবরণঃ
সিমেন্ট, বালি, খোয়া নির্দিষ্ট অনুপাতে পানির সংমিশ্রণে তৈরি কৃত্রিম পদার্থকে কংক্রিট বলে। এ জাতীয় কংক্রিটের চাপ সহন ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। তাই যেখানে কংক্রিটকে বেশি চাপ সহ্য করতে হয়, সেখানে এটা ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ বেড ব্লক, গ্রাভিটি, রিটেইনিং ওয়াল এবং আর্চ ইত্যাদি।

কংক্রিট মূলত চার প্রকারঃ

1. সিমেন্ট কংক্রিট।
2. আরসিসি।
3. লাইম কংক্রিট।
4. প্রি স্ট্রেসড কংক্রিট।

বিভিন্ন প্রকার কংক্রিটের মূল উপাদান ও ব্যবহারঃ
সিমেন্ট কংক্রিটঃ উপাদান- সিমেন্ট, বালি, খোয়া ও পানি।ব্যবহার- কাঠামোর ভিত্তিতে বেড ব্লক হিসেবে, মেঝে, পুরু গ্রাভিটি ড্যাম, গ্রাভিটি রিটেইনিং ওয়াল, আর্চ ইত্যাদি।

রে-ইনফোরসড সিমেন্ট কংক্রিটঃ উপাদান- সিমেন্ট, বালি, খোয়া, মাইল্ড স্টিল রড ও পানি।
ব্যবহার- কাঠামোর বীম, কলাম, স্ল্যাব, লিন্টেল, সানশেড, রেলিং, ড্রপ ওয়াল, প্যারাপেড, সিঁড়ি, পানির ট্যাংক, ব্রীজ, কাল্ভারট, রাস্তা ইত্যাদি নির্মাণে।

লাইম কংক্রিটঃ উপাদান- চুন, সুরকী, খোয়া ও পানি।
ব্যবহার- কাঠামোর ভিত্তিতে বেড ব্লক ও জল ছাদে।

প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিটঃ উপাদান- সিমেন্ট, বালি, খোয়া, হাই টেন্সাইল স্টিল ও পানি।
ব্যবহার- ব্রীজ, কলাম, বীম, স্ল্যাব ইত্যাদিতে।

পেইন্টের বিবরণঃ
এক বা একাধিক কঠিন পদার্থ তরল বাহন বা মাধ্যমে মিশ্রিত করে পেইন্ট বা রঙ প্রস্তুত করা হয়। এতে রঞ্জক অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত বর্ণ প্রদানকারী উপাদান তরল পদার্থ এবং শুষ্ককারী পদার্থ আছে। পিগমেন্ট ও বাইন্ডার এর তরল দ্রবনকে পেইন্ট বলে।

পেইন্টের উপাদানঃ

• মুল উপাদানঃ হোয়াইট লেড, জিঙ্ক হোয়াইট, আয়রণ অক্সাইড, গ্রাফাইট, লিথোপেন, এন্টিমনি হোয়াইট ইত্যাদি।
• বাহনঃ তিষির তৈল, বাদাম তৈল, সয়াবিন তৈল, টাংগওইয়েল, কাস্টার ওয়েল ইত্যাদি।
• শুস্কীকরঃ লেড মনোক্সাইড, লেড এসিটেট, ম্যাংগানিজ ডাই-অক্সাইড, জিঙ্ক সালফেট, ম্যাংগানিজ সালফেট ইত্যাদি।
• দ্রাবকঃ তারপিন তৈল, দ্রবণীয় ন্যাপথা ইত্যাদি।
• রঞ্জকঃ হোয়াইট লেড, ব্লু লেড, ক্রোম গ্রিন, ক্রোম ইয়োলো, আম্বার, রেড লেড, কার্বন ব্লাক ইত্যাদি।

উত্তম পেইন্টের গুনাগুনঃ

• ভাল পেইন্ট শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী পৃষ্ঠের সৃষ্টি করবে।
• ইহা উজ্জ্বল পৃষ্ঠ প্রদান করবে।
• ভাল পেইন্ট সহজে এবং মুক্তভাবে পৃষ্ঠদেশের উপর প্রয়োগ করা যাবে।
• প্রতি একক পরিমান পেইন্টে আচ্ছাদান ক্ষমতা সেশি থাকবে।
• ভাল পেইন্ট তাড়াতাড়ি শুকাবে না কিংবা আস্তে আস্তে শুকাবে না।
• শুকানোর পরে পৃষ্ঠতলে কোন সুক্ষন ফাটল দেখা দিবে না।
• ইহা আবহাওয়া জনিত ক্ষয়রোধী হবে।
• শুকানোর পরে সমবর্ণের স্তর প্রদান করবে।
• ভাল পেইন্ট সুলভ ও সহজ প্রাপ্য হবে।
• দীর্ঘদিন যাবত উজ্জলতা প্রদান করবে।
• ইহা অগ্নিরোধী এবং আর্দ্রতারোধী হবে।

ভারনিশের বিবরণঃ
ভারনিশ এক প্রকার সুরক্ষাকারী স্বচ্ছ আবরক পদার্থ যা সাধারণত কাঠের পৃষ্টতলে প্রয়োগ করা হয়। তারপিন তৈল বা এলকোহল (স্পিরিট) এ রিজিন বা গালা জাতীয় পদার্থ (রজন, আম্বার, কোপাল, পাতগালা ইত্যাদি) এর মিশ্রিত দ্রবণকে ভারনিশ বলে।

ভারনিশের উপাদানঃ

• রেজিনঃ কোপাল, শেলাক রজন, আম্বর, ডেমার, ম্যাপ্টিক, গম ইত্যাদি।
• শুষ্ককারীঃ ন্যাপথা, সিদ্ধ তিসির তৈল, তারপিন তৈল।
• দ্রাবকঃ নিরথাজ, শ্বেত কপার, লেড এসিটেট।

উত্তম ভারনিশের গুণাগুণঃ

• পৃষ্ঠের প্রকৃত রুপ ফুটিয়ে তোলে।
• পৃষ্ঠতল দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং শক্ত আবরণ সৃষ্টি করে।
• পৃষ্ঠতল টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়রোধী হয়।
• পৃষ্ঠের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে।
• কাঠের আঁশের প্রকৃত অবস্থা দেখা যায়।
• আবহক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় না।
• পৃষ্ঠতল সমবর্ণের ও সৌন্দর্য মন্ডিত হয়।
• পৃষ্ঠতলে কোন চিড় বা ফাটল দেখা যায় না।

কিউরিংয়ের বিবরণঃ
ঢালাইয়ের পরদিন হতে অথবা ৬ ঘন্টা পর থেকে কংক্রিটকে সর্বদা ভিজানো রাখার পদ্ধতিকেই কিউরিং বলে। ঢালাইকৃত কংক্রিটের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য একে সর্বদা ভিজা অবস্থায় রাখতে হয়, এটাই কিউরিং।

কিউরিংয়ের উদ্দেশ্যঃ

• কংক্রিটকে শক্তিশালী করার জন্য
• কংক্রিট জমাট বাধার সময় সংকোচনের ফলে যাতে ফেটে না যায়।
• কংক্রিটে অবস্থিত সিমেন্ট ও পানির ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হবার জন্য।
• নির্মাণ কাজকে স্থায়ী ও মজবুত করার জন্য।
কিউরিং করার পদ্ধতিঃ

• সরাসরি পানি ছিটিয়ে।
• মাটি দ্বারা ঘের তৈরি করে।
• ছায়াময় তৈরি করে।
• পাটের ছালা দ্বারা পৃষ্টদেশ আচ্ছাদিত করে।
• পানা দিয়ে ঢেকে দিয়ে।

লিন্টেলের বিবরণঃ
লিন্টেল বীমের মতো সোজা করে দরজা-জানালা বা এ জাতীয় ফাঁক ফোঁকর এর উপর স্থাপিত যে অনুভূমিক কাঠামো তৈরী করা হয় তাকে লিন্টেল বলে। লিন্টেল বীমের মতোই কাজ করে থাকে এবং উহার উপর আরোপিত লোডকে খাড়া ভাবে সাপোর্টে স্থানান্তর করে থাকে।

লিন্টেল মোট ছয় প্রকার-

1. কাঠের লিন্টেল।
2. পাথরের লিন্টেল।
3. ইটের লিন্টেল।
4. স্টীলের লিন্টেল।
5. আর বি লিন্টেল।
6. আর সি সি লিন্টেল।

লিন্টেলের প্রয়োজনীয়তাঃ
• উপরস্থ কাঠামো বা দেওয়ালের ভার বহন করার জন্য।
• ফোঁকরের পার্শ্বস্থ এবং উপরস্থ দেওয়ালকে একত্রে সংযুক্ত করে কাঠামোর শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য।
• দরজা-জানালার ফ্রেম লাগানোর ক্ষেত্রে সুবিধার জন্য।
• সানশেড স্থাপনে কাঠামোগত সুবিধা পাওয়ার জন্য।

আরসিসি লিন্টেল অধিক ব্যবহত হয়ার কারণ
• এটি যে কোন দৈর্ঘ্যে এবং যে কোন লোডের জন্য ব্যবহার করা যায়।
• এটি পচে না, ঘুণে ধরেনা, বেঁকে যায় না এবং আগুনে পুরে না।
• এটি অধিক দীর্ঘস্থায়ী এবং শক্তিশালী হয়।
• এটি তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়সাপেক্ষ এবং সহজে নির্মাণ করা যায়।

স্কাটিংয়ের বিবরণঃ
কক্ষের অভ্যান্তরে দেওয়াল গুলোর মেঝে সংলগ্ন কিছু পরিমাণ জায়গাকে পানি রোধক করা হয়, এই অংশ টুকুকেই স্কাটিং বলে।

স্কাটিং করার কারনঃ

• কক্ষের দেওয়ালকে আর্দ্রতা রোধী করার জন্য।
• পানি চুয়ানো রোধ করার জন্য।
• রুমের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য।
• দেওয়ালকে ব্যবহার জনিত ক্ষয়ক্ষতি হতে রক্ষা করার জন্য।
স্কাটিং এর মালামালঃ

• সিমেন্ট
• পাথর কুচি
• বালি
• সাদা পাউডার
• পাডলো
• পানি

চুন প্রাপ্তির উৎসঃ
চুনের উৎস গুলো হলো চুনা পাথর, সামুক ও ঝিনুকের খোলস ইত্যাদি। সাধারণতঃ খাঁটি বা অখাঁটি চুনাপাথর পুরিয়ে চুন তৈরি করা হয়।

চুন সাধারণত তিন প্রকারঃ

1. ধনিক চুন
2. ঔদক চুন
3. প্রাকৃতিক চুন
চুনের গুনাগুনঃ

• চুনের ভস্মীকরন
• চুনের কলিকরণ
• চুনের জমাটবদ্ধতা
• চুনের পানি যোজন
• চুনের ঔদকতা
ভালো চুনের বৈশিষ্টঃ

• চুনকে অবশ্যই জ্বালানি ছাইমুক্ত হতে হবে
• চুনাপাথরের চুনে অপদ্রব্য ৫% এর বেশি থাকবেনা
• চুনাপাথর গুলোকে কম পোড়াতে হবে
• ইহা শক্ত পিন্ডাকারে থাকবে
• ইহা সহজে পানি যোজিত হবে
• ইহা মৃদু পানিতে দ্রবণীয় হবে
• ইহা দুর্গন্ধ মুক্ত হবে
• ভালো চুন ৬৪ নং চালুনি দিয়ে চালা যাবে
চুনের ব্যবহার ক্ষেত্রঃ

• চুনকামের কাজে
• লাইম পানিং এর কাজে
• গাঁথুনি এবং প্লাস্টারিং এর মসলা তৈরিতে
• সিমেন্ট প্রস্তুতিতে
• কংক্রিট তৈরিতে
• জল ছাদে
• শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে
• কাঁচ শিল্পে
• কস্টিক সডা উৎপাদনে
• ব্লিচিং পাউডার তৈরিতে
• বিভিন্ন প্রকার ঐষধ তৈরিতে

নীট সিমেন্ট ফিনিশিংঃ
সিমেন্ট-পানি একত্রে গুলে সদ্য নির্মিত প্লাস্টার বা আস্তরের উপর প্রলেপ দেওয়াকে নীট সিমেন্ট ফিনিশিং বলে।

নীট সিমেন্ট ফিনিশিং করার কারণঃ
আস্তরকৃত সারফেসকে মসৃণ, স্থায়ী, ও শক্তিশালী করার জন্য।
পানি প্রবেশে বাধা প্রদান এবং ক্ষয়রোধ করার জন্য।
সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য।
পৃষ্ঠদেশ সহজে পরিষ্কার করার জন্য।

নীট সিমেন্ট ফিনিশিং করার ক্ষেত্রঃ

1. মেঝে
2. স্কাটিং
3. জানালার সিল
4. রেলিং এর হ্যান্ড রেইল
5. সিঁড়ির ধাপ
6. প্যারাপেট ওয়ালের উপর
7. প্লিন্থ ওয়াল
8. প্লিন্থ প্রটেকশন
9. ড্রেন
10. প্রাচীরের উপর
11. টয়লেট
12. পানির ট্যাংক ইত্যাদি।

নীট সিমেন্ট ফিনিশিং করার পদ্ধতিঃ
সাধারণত তিনটি ধাপে নীট সিমেন্ট ফিনিশিং করার কাজ সম্পন্ন করা হয়-
১। আস্তর করণঃ যে স্থানে নীট সিমেন্ট ফিনিশিং করার কাজ করতে হবে, সেখানে প্রথমে মসলা দিয়ে আস্তর করে নিতে হবে।
২। সিশ্রণ প্রস্তুতকরণঃ সাধারণতঃ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের সাথে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি নিশিয়ে ঘন তরল তৈরী করা হয়।
৩। মিশ্রণঃ সদ্য প্লাস্টারকৃত পৃষ্ঠতল কিছুটা শক্ত হবার পর সিমেন্টে পানি মিশ্রিত ঘন তরল ঢেলে দিতে হবে এবং কর্নি বা পাট্টা দিয়ে সমহারে প্রলেপ দিয়ে হয়, অনেক ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় করার জন্য কাঙ্ক্ষিত রঞ্জক পদার্থ মিশিয়ে নিতে হয়। সব শেষে কিউরিং করতে হবে।

পয়েন্টিংয়ের বিবরণঃ
মসলা দ্বারা ইটের জোড়াগুলোকে সুন্দর, মনোরম ও মজবুত করাকে পয়েন্টিং বলে।

পয়েন্টিং আট প্রকার-
১। ফ্লাশ পয়েন্টিং।
২। রেসেসড পয়েন্টিং।
৩। রাবড বা কীড বা গ্রুভ পয়েন্টিং।
৪। বিডেড পয়েন্টিং।
৫। স্ট্রাক পয়েন্টিং।
৬। টাক পয়েন্টিং।
৭। ভী- পয়েন্টিং।
৮। ওয়েদারড পয়েন্টিং।

পয়েন্টিং করার উদ্দেশ্যঃ
• আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব থেকে দেয়াল এ ব্যবহত সামগ্রীকে রক্ষা করা।
• কাঠামোকে স্থায়ী ও শক্তিশালী করা।
• কাঠামোর সৌন্দর্য রক্ষা করা।
• নির্মাণ সামগ্রীর বাস্তবরূপ প্রদর্শন করা।
• নির্মাণ খরচ কমানো।

পয়েন্টিং এর উপাদানঃ
পয়েন্টিং এর কাজে সাধারণত সিমেন্ট মর্টার অথবা লাইম মর্টার ব্যবহত হয়। লাইম মর্টারে চুন ও বালির অনুপাত ১ঃ১ এবং সিমেন্ট ও বালির অনুপাত ১ঃ২ হতে ১ঃ৩ হয়ে থাকে।

প্লাস্টারের বিবরণঃ
দেওয়ালের বহির্ভাগ, ঢালাইয়ের পৃষ্ট, ছাদের তলদেশ এবং সিলিং ইত্যাদি পৃষ্টে যে পাতলা ও মসৃণ প্রলেপ দেওয়া হয় তাকে প্লাস্টার বলে। প্লাস্টার করার পর কাঠামো মজবুত ও মসৃণ হয় এবং আবহাওয়ার ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে কাঠামোকে রক্ষা করে।

প্লাস্টার সাত প্রকার-
১। সিমেন্ট প্লাস্টার।
২। মোজাইক বা টেরোজা প্লাস্টার।
৩। লাইম প্লাস্টার।
৪। লাইম সুরকী প্লাস্টার।
৫। জিপ্সাম প্লাস্টার।
৬। সুরকী প্লাস্টার।
৭। মাড প্লাস্টার।

প্লাস্টারের উপাদান সমুহ-
১। সিমেন্ট প্লাস্টার- পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট+বালি+পানি।
২। মোজাইক বা টেরোজা প্লাস্টার- সিমেন্ট+পাথর কুচি+পানি।
৩। লাইম প্লাস্টার- চুন+বালি+পানি।
৪। লাইম সুরকী প্লাস্টার- চুন+সুরকী+বালি+পানি।
৫। জিপ্সাম প্লাস্টার- প্লাস্টার অব প্যারিস+বালি+পানি।
৬। সুরকী প্লাস্টার- চুন+সুরকী+পানি।
৭। মাড প্লাস্টার- মাটি+গোবর বা কাঠের গুড়া বা ধানের তুষ।

Description of Civil Construction other's knowledge
হেডারঃ দেয়াল পিঠের সাথে আড়াআড়িভাবে ইটের দৈর্ঘ্য স্থাপন করলে বাইরে থেকে ইটের যে পার্শ্ব দেখা যায়, তাকে হেডার বলে।

ফেইসঃ দেয়ালের যে পার্শ্ব আবহাওয়ার দিকে বা বাইরের দিকে খোলা থাকে তাকে ফেইস বলে।

ব্যাকঃ দেয়ালের ভিতরের পার্শ্ব যা আবহাওয়ার দিকে খোলা থাকে না তাকে ব্যাক বলে।

টুথিংঃ উত্তম বন্ডের আশায় গাঁথুনির অল্টারনেট কোর্সে ইটকে বর্ধিত রাখাকে টুথিং বলে।

ফ্রগ মার্কঃ ইটের পিঠের গর্তকে ফ্রগ মার্ক বলে।

প্লিন্থ লেভেলঃ বৃষ্টি বা আবহাওয়ার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার জন্য ভূমি থেকে বাড়ির মেঝে কিছুটা উঁচুতে করা হয়। বাড়ির মেঝে ভূমি হতে যে উচ্চতায় করা হয়, তাকে প্লিন্থ লেভেল বলে।

সিলঃ জানালার নিম্নস্থ দেয়াল্কে বৃষ্টির পানি হতে রক্ষা করার জন্য জানালার খাড়া মেম্বারের নিচে ইট, পাথর, কংক্রিট বা কাঠ দিয়ে নির্মিত অনুভূমিক মেম্বারকে সিল বলে।

জ্যাম্বঃ দরজা-জানালার জন্য নির্মিত ফাঁকা জায়গার খাড়া পার্শ্বদ্বয়কে জ্যাম্ব বলে।

করবেলঃ দেয়াল হতে বর্ধিত করে রাখা ইট বা পাথরের এক বা একাধিক কোর্সকে করবেল বলে।

প্যারাপেটঃ ছাদের উপর চারদিকে স্বল্প উচ্চতায় যে দেয়াল নির্মাণ করা হয় তাকে প্যারাপেট বলে।

কোপিংঃ দেয়ালে বৃষ্টির পানি এবং আর্দ্রতা প্রবেশে বাধা প্রদানের জন্য দেয়ালের উপরের মাথায় যে বিশেষ কোর্স প্রদান করা হয়, তাকে কোপিং বলে।

থ্রোটিংঃ ঢালু উপরিতল থেকে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে নিচের তল দিয়ে দেয়ালে আসতে বাধা প্রদানের জন্য যে খাঁজ কাটা হয়, তাকে থ্রোটিং বলে।

ভেন্টিলেটরঃ ঘরের ভিতরে এবং বাইরে অবাধে বায়ু চলাচলের জন্য ছাদের নিচে যে ঘুলঘুলি বা ফাঁকা রাখা হয়, তাকে ভেন্টিলেটর বলে।

ইস্কাটিংঃ ঘরের মেঝে থেকে দেয়ালের চারিদিকে উপরে যে আনুমানিক ১ ফিট বা ৮ ইঞ্চি মাপের টাইলস বা নেট ফিনিশিং করা হয়, তাকে ইস্কাটিং বলে।
ইটের গাঁথুনিঃ
ইট বা পাথরের নির্মাণ কৌশলকেই ম্যাসনরি বলে। ইমারত বা কাঠামোকে নিরাপদ ও মজবুত করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইটকে সাজিয়ে মস্লার মাধ্যমে একত্রিত করা হয়। এই নির্মাণ কৌশলকেই ইটের গাঁথুনি বলে।

ইটের বন্ডঃ
ইটকে একের পর এক সাজিয়ে অবিচ্ছিন্ন দেওয়ালে পরিণত করার পদ্ধতিকে ইটের বন্ড বলে। অর্থাৎ একটি ইটকে আরেকটি ইটের সঙ্গে জোড়া দেওয়ার পদ্ধতিকেই বন্ড বলে।

ইটের বন্ডের প্রকারভেদঃ
(ক) ইংলিশ বন্ড
(খ) ফ্লেমিশ বন্ড

• ডাবল ফ্লেমিশ বন্ড
• সিঙ্গেল ফ্লেমিশ বন্ড
(গ) হেডার বন্ড
(ঘ) স্ট্রেচার বন্ড
(ঙ) গার্ডেন ওয়াল বন্ড
(চ) ফেসিং বন্ড
(ছ) রেকিং বন্ড

• ডায়াগোনাল বন্ড
• হেরিং বোন বন্ড
(জ) ডাচ বন্ড
(ঝ) ইংলিশ ক্রস বন্ড
(ঞ) জিগজ্যাগ বন্ড
(ট) সিল্ভার লক বন্ড

মাটির বিবরণঃ
কাঠামো নির্মাণ এবং ডিজাইনের পূর্বে প্রকল্প এলাকার মাটি পরীক্ষা খুবই গুরুত্ব পূর্ণ । কাঠামোর ভিত্তি ডিজাইনের জন্য মাটির আকার আকৃতি, ভার বহন ক্ষমতা, ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থা এবং মাটির গুনাগুণ সম্পর্কে বিশদ অবগত হওয়ার জন্য মাটি পরীক্ষা অত্যাবশ্যকীয়। স্বল্প ব্যয়ে নিরাপদ ভিত্তি ডিজাইনের জন্য মাটি পরীক্ষা প্রয়োজন। প্রকৌশল কাঠামো নির্মাণের পূর্বে মাটি বিভিন্ন কারিগরি পদ্ধতির মাধ্যমে পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা অপরিহার্য ।

সাব-সয়েলের ব্যর্থতা ব্যতিরেকে প্রতি একক ক্ষেত্রফলের উপর কাঠামোর লোড বহন করার ক্ষামতাকে মাটির ভার বহন ক্ষমতা বলে।
এর একক টন / বর্গ মিটার বা কেজি / বর্গ মিটার । মাটির ভার বহন ক্ষমতা মাটির কণার বৈশিষ্টের উপর নির্ভরশীল। সুক্ষতর কণার সংশক্তি এবং ঘর্ষণ গুণাবলী অধিকতর পরিবর্তনশীল । অপর দিকে যে মাটির ওজন বেশি বা কম ভয়েড যুক্ত, সে মাটির ভার বহন ক্ষমতা বেশি।

মাটির প্রকারভেদঃ

1. নরম কাঁদা মাটি
2. খুব নরম ভিজা কাঁদা মাটি
3. আর্দ্র কাঁদা ও বালি মিশ্রিত মাটি
4. নরম পাথুরে মাটি
5. শক্ত পাথুরে মাটি
6. শুকনো কালো তুলোট জাতীয় মাটি
7. মাঝামাঝি ধরণের শক্ত কাদামাটি
8. প্রায় শুকনো দৃঢ়াবদ্ধ কাঁদা মাটী
9. আলগা এবং শুকনো বেলে মাটি
10. আবদ্ধ বেলে মাটি
11. আলগা নুড়ি পাথর
12. আবদ্ধ নুড়ি পাথর

বা‌লির বিবরণঃ
বালি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ সামগ্রী এবং এটি পূরক পদার্থ হিসেবে ব্যবহত হয়। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত বালি আবহাওয়া জনিত কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে থাকে। শিলার ক্ষয়প্রাপ্তি বা বিচূর্ণন হতে সৃষ্ট কোণাকৃতি বা গোলাকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার সমষ্টি হল বালি।
বালির ক্ষতিকারক পদার্থঃ
বালি উৎস হতে পাওয়ার পরে সরাসরি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা উচিৎ নয়, এতে বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে- যেমনঃ কাঁদা, পলিকণা, উদ্ভিদ জাত জৈব পদার্থ ও লবণ ইত্যাদি।

বালির ব্যবহারঃ
নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে বালি অন্যতম প্রধাণ উপাদান। নির্মাণে এটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহত হয়, যেমনঃ গাঁথুনির মসলা তৈরির কাজে, দেওয়ালের প্লাস্টার এবং পয়েন্টিং এর কাজে, যে কোন ধরণের কংক্রিট তৈরির কাজে, শীট গ্লাস তৈরির কাজে, সলিং করার কাজে, বিটুমিনাস রাস্তার সিলকোটের উপর প্রয়োগ করতে ইত্যাদি।

বালির সূক্ষতার গুণাংকঃ
যে গুণাংক বালির আকার সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে তাকে বালির সূক্ষতার গুণাংক বলে। বালি যত ছোট দানার হয়, তার গুণাংক ততকম হয়, আবার দানা যত বড় হয়, তার গুণাংক ততবেশি হয়।
আমেরিকান প্রমাণ অনুযায়ী চালুনি (ASTM) এর ৪, ৮, ১৬, ৩০, ৫০, ১০০ নং এ বালিকে চালার পর অবশিষ্ট অংশের শতকরা হারের যোগফলকে ১০০ দ্বারা ভাগ করলে যে ফলাফল পাওয়া যায়, তাকে বালির সূক্ষতার গুণাংক (Fineness Modulas) বলে।

বালির সূক্ষতার গুণাংক বের করার নিয়মঃ

সাধারণত দেখা যায় মিহি বালির সুক্ষ্মতা গুনাঙ্ক ১.২-১.৫, মধ্যম মানের স্থুল বালির সুক্ষ্মতা গুণাঙ্ক১.৫-২.০০ এবং মোটা বালির সুক্ষ্মতা গুণাঙ্ক ২ এর অধিক হয়ে থাকে। নির্মাণের স্থুলকাজে ব্যবহৃতবালির সুক্ষ্মতা গুণাঙ্ক ২-৩ হওয়া উচিত।

প্রথমে যে কোন নির্দিষ্ট মাপের বালি মেপে নিন, যেমন- ৫০০ গ্রাম।
তারপর, চালুনি ভালো করে ঝাঁকুনি দেওয়ার পরে ৪, ৮, ১৬, ৩০, ৫০, ১০০ নং চালুনিতে অবশিষ্ট বালি পাওয়া যাবে।

পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট বের করার নিয়মঃ
৪ নং চালুনিতে অবশিষ্ট যা থাকবে তাই পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট।
৮ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ৮ নং চালুনির অবশিষ্ট + ৪ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট
১৬ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ১৬ নং চালুনির অবশিষ্ট + ৮ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট
৩০ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ৩০ নং চালুনির অবশিষ্ট + ১৬নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট
৫০ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ৫০ নং চালুনির অবশিষ্ট + ৩০ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট
১০০ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ১০০ নং চালুনির অবশিষ্ট + ৫০ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট

শতকরা পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট বের করার নিয়মঃ
৪ নং চালুনির শতকরা পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ৪ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট x ১০০ / ৫০০
( যেহেতু, ৫০০ গ্রাম বালি পরীক্ষা করার জন্য নেয়া হয়েছে )
৮ নং চালুনির শতকরা পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ৮ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট x ১০০ / ৫০০
১৬ নং চালুনির শতকরা পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ১৬ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট x ১০০ / ৫০০
৩০ নং চালুনির শতকরা পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ৩০ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট x ১০০ / ৫০০
৫০ নং চালুনির শতকরা পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ৫০ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট x ১০০ / ৫০০
১০০ নং চালুনির শতকরা পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট = ১০০ নং চালুনির পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট x ১০০ / ৫০০

সুতরাং, বালির শতকরা পুঞ্জিভুত (Fineness Modulas) নির্ণয় করার সূত্রঃ
সকল চালুনির শতকরা পুঞ্জিভুত অবশিষ্ট এর যোগফল / ১০০

সি‌মে‌ন্টের বিবরণঃ
সি‌মেন্ট এক‌টি জোরক পদার্থ যা পা‌নির সা‌থে বি‌ক্রিয়া ক‌রে বা‌লি, খোয়া বা পাথর ও রড এগু‌লোর ম‌ধ্যে শক্ত বন্ধন তৈরী ক‌রে থা‌কে।

সিমেন্ট প্রধানত দুই প্রকারঃ
1. প্রকৃতিক সিমেন্ট
2. কৃত্রিম সিমেন্ট
এ ছাড়াও বিশেষ ধরণের নির্মাণের জন্য বিশেষ প্রকারের সিমেন্ট পাওয়া যায়, যেমন-
1. কুইক সেটিং সিমেন্ট
2. লো হিট সিমেন্ট
3. র‍্যাপিড হারডেনিং সিমেন্ট
4. হোয়াইট সিমেন্ট
5. কালারড বা রঙ্গিন সিমেন্ট
6. সালফেট রেজিস্টিং সিমেন্ট
7. এলুমিনাস সিমেন্ট ইত্যাদি।

সিমেন্টের গাঠনিক উপাদান দুই প্রকারঃ
• ১। খনিজ উপাদানে গঠন
• ২। অম্ল ও ক্ষারকীয় উপাদানে গঠন
১। খনিজ উপাদানের তালিকাঃ
• ট্রাই ক্যালসিয়াম সিলিকেট (3CaO, SiO2 - C3S) : 50%
• ডাই ক্যালসিয়াম সিলিকেট (2CaO, SiO2 - C2S) : 25%
• ট্রাই ক্যালসিয়াম এলুমিনেট (3CaO, AL2O3 - C3A) : 10%
• ট্রেট্রা ক্যালসিয়াম এলুমিনো ফেরাইট (4CaO, Al2O3 Fe2O3 - C4AF) : 10%
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4) : 3%
• অন্যান্য যৌগ (Other) : 2%
মোট (Total) = 100%

২। অম্ল ও ক্ষারকীয় বা রাসায়নিক উপাদানের তালিকাঃ
• লাইম বা ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) : 63%
• সিলিকা (SiO3) : 22%
• এলুমিনা (AL2O3) : 7%
• আয়রন অক্সাইড ( Fe2O3) : 3%
• ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO) : 2%
• সালফার ট্রাই অক্সাইড (SO3) : 2%
• পটাসিয়াম ও সোডিয়াম অক্সাইড : 0.3%
• ক্ষারকীয় পদার্থ : 0.7%
মোট (Total) = 100%
ভা‌লো সি‌মেন্ট চেনার উপায়ঃ
• ব্যা‌গের ভিতর সি‌মে‌ন্টে হাত ঢুকা‌লে ঠান্ডা অনুভু‌তি হ‌বে।
• সি‌মে‌ন্টের দানা গু‌লো এ‌কেবা‌রে মি‌হি কোন মোটা দানা থাক‌বেনা।
• এক মু‌ষ্টি সি‌মেন্ট নি‌য়ে পা‌নি‌তে হাত ডুবা‌লে গরম অনুভু‌তি হ‌বে।
• এক মু‌ষ্টি সি‌মেন্ট নি‌য়ে পা‌নি‌তে ছে‌ড়ে দি‌লে তা ডু‌বে যা‌বে।

ইটের বিবরণ
আমাদের দেশে সাধারনত ৯.৫" x ৪.৫" x ২.৭৫" সাইজের ইট, যা মিলি মিটারে ( 238 x 114 x 70 ) বাংলা ইট ব্যাবহার হয়ে থাকে, এই মান PWD এর সিডিউল অনুযায়ী। মসলা সহ ১০" x ৫" x ৩" ( 250 x 125 x 76 )

ইটের প্রকারঃ ইট পাঁচ প্রকার...
১। ১ম শ্রেনীর ইট।
২। ২য় শ্রেনীর ইট।
৩। ৩য় শ্রেনীর ইট।
৪। ঝামা ইট।
৫। পিকেট ইট।

মাঠ পর্যায়ে ইট পরীক্ষাঃ
• একটি ইট নিয়ে তার গায়ে নখের আঁচড় কাটার চেষ্টা করলে তাতে আঁচড় পড়বে না। যদি আঁচড় পরে তাহলে বুঝতে হবে ইটটি ভালো না।
• একটি ইটকে অন্য একটি ইট দিয়ে আঘাত করলে যদি ঘাতব শব্দ উৎপন্ন হয়, তাহলে বুঝতে হবে ইটটি ভালো।
• দুইটি ইটকে টি (T) এর মতো করে ধরে ২ মিটার উঁচু থেকে ফেলে দিলে যদি ভেঙ্গে যায়, তাহলে ইটটি ভালো না আর যদি ভেঙ্গে না যায়, তাহলে ইটটি ভালো।
• একটি পাত্রে যদি ইটকে ভিজানো হয় এবং তা বুদবুদ সহকারে বেশ পরিমাণ পানি শোষণ করে নেয় এবং পানি ঘোলাটে হয়, তবে এটি ভালো ইট নয়।
• একটি ইটটে ভেঙ্গে টুকরা করা হলে যদি টুকরা গুলোর রঙ দেখতে একই রকম হয়, তবে এটি ভালো ইট।
• ইটের ধার ও কোণ গুলো সুক্ষ ও তীক্ষণো হলে বুঝতে হবে এটি ভালো ইট।
• ইটের পৃষ্ট মসৃন ও সমতল হলে এটি ভালো ইট।
• ইটের মাপ আদর্শ থাকবে, যেমনঃ (৯.৫" x ৪.৫" x ২.৭৫")
• ইটের ওজন ৩.৫ কেজির বেশী হবে না।
ইটের কাজের পরিমাণ বাহির করার একক পদ্ধতিঃ
প্রতি ১০০ sft জায়গায় ইটের ৫" গাঁথুনিতে ইট লাগে = ৫০০ টি।
প্রতি ১০০ cft ইটের ১০" গাঁথুনিতে ইট লাগে = ১১৫০ টি।
প্রতি ১০০ sft জায়গাতে হেরিং বোন বন্ড করতে ইট লাগে = ৫০০ টি।
প্রতি ১০০ sft জায়গাতে সলিং করতে ইট লাগে = ৩০০ টি।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Gaibandha, Sador
Dhaka
4700