06/04/2025
কি মনে হচ্ছে কি বয়কটের কথা
আমি কিন্তু বলি নাই আমি এখনো ইসরাইলে পণ্য ব্যবহার করি নাই।
আলহামদুলিল্লাহ
চলুন সবাই মিলে ওয়াদা করি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইসরাইলে পূর্ণ বয়কট করলাম। এবংকি ফজে আইন আমাদের জন্য।
এটাই আমাদের জন্য একটা মাত্র সুযোগ।
সময় থাকতে চলে আসুন রবের দিকে।
20/03/2025
কিয়ামতের দিন আমরা তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনবো, এমনকি মুসলিমদেরও। আমরা আল্লাহর সামনে তাদের জবাবদিহি করব”
গাযার এক ফিলিস্তিনি বাবা
দুনিয়াতে এত বড় কষ্ট আর কি হতে পারে?
তখন রবের সামনে আমরা কি জবাব দিব?
হায় আফসোস
এখনো মুসলিম জাতি ও মুসলিম উম্মাহ নেতাদের এখনো চোখ খুলে না। তারা দেখো না দেখার ভান করে আছে।
18/03/2025
হে ইমাম মাহাদি জলদি আসো,
জালিমের জুলুম আর সইতে পারি নাহ্।
ইয়া আল্লাহ!😭
তার সাথে আমাদের ধ্বংস কর। কারণ আমরা জিলিমের গোলাম।
শরীরের শক্তি দিয়ে লড়তে পারিনা, মুখে বলতে পারি না।
18/03/2025
#বদরের_যুদ্ধ_থেকে_শেখার_৫টি_বিষয়_হলঃ
হিজরীর দ্বিতীয় বছরের রমজানের ১৭ তারিখে, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নেতৃত্বে মুসলমানরা ইসলামী ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংঘর্ষে অংশ নিয়েছিল এবং মুশরিকদের বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ হয়েছিল পশ্চিম আরবে, বর্তমান সৌদি আরবের বদর উপত্যকা। এই উপত্যকার নামানুসারে এই যুদ্ধ বদর যুদ্ধ নামে পরিচিতি লাভ করে। অন্যান্য যুদ্ধের মতো এই যুদ্ধটিও তাৎপর্য অর্জন করেছে তবে এটি মূলত ভিন্ন। এই যুদ্ধকে অন্য যুদ্ধের থেকে আলাদা কর্তে সাহায্য করার প্রধান কারণ হল, যদি সাহাবারা যুদ্ধে তাদের সাহসিকতা না দেখাতেন এবং তাতে বিজয় না আনতেন, তাহলে ইসলাম পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এগিয়ে যেতে পারত না এবং আমরা কেউই ইসলাম কে এভাবে পেতামনা যেভাবে আমরা আজকে পেয়েছি।
তদুপরি, এই যুদ্ধ কেবলমাত্র সাহাবাদের ভক্তি এবং আল্লাহ ও তাঁর নবীর প্রতি তাদের ভালবাসা এবং সহানুভূতিকেই বোঝায় না, বরং এটিও দেখায় যে কীভাবে কারও সত্যিকারের বিশ্বাস এবং দৃঢ় সংকল্প আন্তরিকভাবে লড়াই করলেও শূন্যের সম্ভাবনা থাকলেও বিশাল বিজয় আনতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালভাবে বোঝার জন্য, এই নিবন্ধটি বদরের যুদ্ধ থেকে শেখা যেতে পারে এমন ৫টি সেরা পাঠের উপর নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই পাঠগুলি নিম্নরূপ:
💠 ১- প্রতিশ্রুতিতে থাকুন এবং অন্যদের সাথে পরামর্শ করুনঃ
যখন নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বদর উপত্যকায় কাফিরদের আগমনের কথা জানানো হয়েছিল, তখন নবী মুমিনদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বলেননি। বরং তিনি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার জন্য সময় নিয়েছিলেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে যুদ্ধের বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের মতামত ও ইচ্ছা সম্পর্কে পরামর্শ করা উত্তম হবে। এটি বেশিরভাগই এই কারনে ছিল যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে দিতে চাননি কারণ তাদের কাছে আকাবার অঙ্গীকার ছিল যার হিসাবে আনসারদের তাদের অঞ্চলের বাইরে যুদ্ধ করা জরুরি ছিলনা। তাই, নবী আনসারদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং উল্লিখিত অঙ্গীকারের মূল্যকে অটল রেখে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে দিয়েছিলেন।
নবীকে এই বিষয়ে সাহাবাদের সাথে পরামর্শ করতে বাধ্য ছিলেননা কারণ তিনি ইতিমধ্যেই সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছ থেকে ওহী পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা করেছিলেন কারণ তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিয়ে যেতে পছন্দ করেননি। এর সাথে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের শিখিয়েছিলেন যে আপনার সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ করা ভাল কারণ এই আলোচনার শেষে নতুন কিছু বেড়িয়ে আসবে এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি জানা যেতে পারা জাবে জতি অন্যদের অংশগ্রহণ করা দেওয়া হই।
💠 ২- একীকরণ এবং দুয়ার শক্তিঃ
যুদ্ধের সময় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীরা যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা হল তাদের যুদ্ধের জন্য তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তাদের 'ধর্মে ভ্রাতৃত্ব' এতই শক্তিশালী ছিল যে তারা একে অপরের পক্ষে লড়াই করেছে এবং কাউকে অনুভব করতে দেয়নি যে তারা আনসার ও মুহাজিরিন বিভাগের। প্রকৃতপক্ষে, এই একীকরণটি ছিল নবীর দুয়ার একটি ফলাফল যা তিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সাহাবাদের জন্য একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখতে এবং যুদ্ধে বিজয় অর্জনের জন্য তিনার সাহায্য চেয়েছিলেন।
এমনকি যুদ্ধের রাতের আগে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহায্যের জন্য আল্লাহর কাছে দু'হাত তুলেছিলেন দুআ করার জন্য যার ফলে হাজার হাজার জঙ্গি হিসাবে ফেরেশতাদের আগমন হয়েছিল। এখানে দুআটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ নবী সর্বশক্তিমান আল্লাহকে সেনাবাহিনীকে বিজয় দেওয়ার জন্য বলেছিলেন নতুবা তাঁর ইবাদত করার জন্য পৃথিবীতে কেউ থাকবে না।
💠 ৩- আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখুনঃ
যুদ্ধে মু’মিনের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন যেখানে কাফের ছিল প্রায় ১০০০ বা তারও বেশি। মুসলমানদের সংখ্যা কাফেরদের এক-তৃতীয়াংশ না হলেও মুসলমানরা বিজয়ী ছিল কারণ তাদের মহান আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। কারণ মুসলমানরা জানত যে এটি তাদের শক্তি নয় যা তাদের বিজয় এনে দেবে, বরং এটি তাদের বিশ্বাস যা তাদের পক্ষে কাজ করবে এবং তাদের যুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করবে। অতএব, মুসলমানদের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখা এবং তাকে সরণে রেখে কাজ করা একটি প্রয়োজনীয় গুণ। আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করার আছে যে এটি কেবল তাদের বিশ্বাস নয় যে তারা যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল, বরং বিশ্বাসের সাথে তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টা ছিল যা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে তাদের সাহায্য করেছিল।
💠 ৪- আল্লাহ সবকিছু পরিকল্পনা করেনঃ
ঐশ্বরিক দৃষ্টিকোণ থেকে জানা যায় যে, কাফেরদের সংখ্যা মুমিনদের চেয়ে অনেক বেশি হলেও আল্লাহ নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করে ও কাজ পূর্ণ করে। মানুষ হিসাবে, আমরা মনে করি যে অবশ্যই বিজয় বৃহত্তর সংখ্যাবাহিনীর হবে কারণ তাদের শক্তি এবং বল রয়েছে, তবে বিষয়গুলি আমরা যেমন আশা করি বা চাই সেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। আল্লাহর পরিকল্পনার মধ্যে ছিল বদর যুদ্ধের দিন বৃষ্টি হবে। বালুকাময় উপত্যকায় বৃষ্টি হলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তিনার সাহাবীরা যেখানে শিবির স্থাপন করেছিলেন সেগুলিকে এটি আরও শক্ত করে তোলে যাতে এটি তাদের চলাচল সহজ করে দেয়। যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের অপর প্রান্তে যাওয়া কঠিন ছিল কারণ কুরাইশরা যে অংশে শিবির স্থাপন করেছিল সেখানে বৃষ্টি হয়নি এবং কোনোভাবে তাদের মুসলিম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিজয় আনতে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল।
💠 ৫- সচ্ছলতার সময় আল্লাহকে স্মরণ করাঃ
নবী এবং মুসলমানরা যখন কাফেরদের বিশাল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের বিজয় নিশ্চিত করেছিল, তখন নবী তাদের উপর তাঁর বরকতের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করেছিলেন এবং তাদের বিজয় প্রদান করেছিলেন যে তারা তাঁর প্রতি অত্যন্ত দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
নবী এবং মুসলমানরা যখন কাফেরদের বিশাল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন, তখন নবী তাদের উপর তিনার বরকতের জন্য এবং তাদের বিজয় দান করার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করেছিলেন যা পাওয়ার জন্য তিনার তাঁর প্রতি অত্যন্ত দৃঢ় বিশ্বাস রাখেছিলেন। কারণ কৃতজ্ঞতার অনুভূতি একজনকে নম্র করে তুলবে। এমনকি কুরআনে, আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে উৎসাহিত করেছেন এই বলে:
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ۖ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর। (পবিত্র কুরআন: ০৭/১৪)
এই পাঁচটা তাৎপর্য মধ্যে আমাদের একটাও নাই। না আছে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, না আছে ধৈর্য ধারণ ক্ষমতা। এই হল আমাদের ঈমানের অবস্থা।
এই দূর্বল ঈমানের কারণে মুসলিম সমাজের অধঃপতন। এবংকি কাফের, মুশরিক ও নাস্তিকদের হাতেও নির্যাতন ও হেনস্থা হতে হয়। তারা আমাদের নবীকে নিয়ে এবং নবী পরিবারকে নিয়ে চোখে চোখ রাঙিয়ে আঙ্গুল তুলে কথা বলে।
এইটুকু ভাবেন আমাদের ঈমানের পরিমাণ কোথায় যায়ে ঠেকছে।
সামনে আমাদের দাজ্জলের মোকাবেলা কিভাবে করব
যেমনটা হাসি পায়, তেমনটা কষ্টও লাগে।
আর আমরা পাগল হয়ে যাই ইনক্লাব জিহাদ, ইনকেলাব জিহাদ নিয়ে।
আফসোস হয় আমাদের মত মুসলিম জাতিকে নিয়ে এবংকি আফসোস হয় নিজের ঈমানকে নিয়ে।
যারা কিনা, এক মুসলিম ভাই এক মুসলিম ভাই পিছনে লেগে থাকে। কিভাবে ক্ষতি করা যায়, এভাবে মানুষের সামনে হেনস্থ করা যায় পেছনে লেগে থাকে।
আহলে হাদিস, সালাফি, হানাফি নিয়ে লেগে থাকে
তাদের এইটা মাথায় আসে না তারা কিন্তু মুসলিম। সবারই একটাই স্থান কবর সে খানে কে আহলে হাদিস, কে সালাফি, কে হানাফি এইটা প্রশ্ন করা হবে না।
হায় আফসোস
কি করলাম দুনিয়া জিন্দেগীতে
মানুষের পিছে না লেগে লেগে জীবনটা শেষ করে দিলাম।
15/02/2025
আমি ChatGPT কে প্রশ্ন করলাম: যদি তুমি শয়তান হতে তাহলে মানুষের মন কিভাবে ধ্বংস করতে?
যদি আমি শয়তান হতাম, মানুষের মন ধ্বংস করার জন্য আমি নানা ধরনের কৌশল ব্যবহার করতাম। প্রথমে, মানুষের আত্মবিশ্বাস কমানোর চেষ্টা করতাম, তাদের অবমূল্যায়ন করার মাধ্যমে তাদের নিজেকে অপর্যাপ্ত বা অযোগ্য মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এরপর, তাদের অশুভ চিন্তা ও খারাপ অভ্যাসের প্রতি আগ্রহী করতাম, যেন তারা ভুল পথে চলে যায়। আমি তাদের মধ্যে সন্দেহ, ভয়, এবং ঘৃণা সৃষ্টির মাধ্যমে সম্পর্কের ভাঙ্গন তৈরি করতাম, যা তাদের মানসিক শান্তি নষ্ট করত।
শয়তান মানুষের মন ধ্বংস করতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। এখানে তার প্রধান কিছু কৌশল উল্লেখ করা হলো:
1. মিথ্যা আশা সৃষ্টি করা: শয়তান মানুষের মনে মিথ্যা আশা সৃষ্টি করে, যা তাদেরকে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের প্রতি উদাসীন করে তোলে। এতে তারা পাপাচরণে লিপ্ত হয়।
2. সংশয় সৃষ্টি করা: শয়তান মানুষের মনে সংশয় সৃষ্টি করে, যা তাদেরকে ভালো কাজ থেকে বিরত রাখে এবং পাপাচরণে প্ররোচিত করে। এতে তাদের ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে।
3. দারিদ্র্যের ভয় দেখানো: শয়তান মানুষকে দারিদ্র্যের ভয় দেখিয়ে তাদেরকে অসৎপথে পরিচালিত করে। এতে তারা হারাম উপার্জনের দিকে ধাবিত হয়।
4. কুমন্ত্রণা দেওয়া: শয়তান মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে তাদেরকে পাপাচরণে প্ররোচিত করে। এতে তারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে।
5. ভালো কাজ থেকে বিরত রাখা: শয়তান মানুষের মনে সংশয় সৃষ্টি করে তাদেরকে ভালো কাজ থেকে বিরত রাখে এবং পাপাচরণে প্ররোচিত করে।
6. আত্মবিশ্বাস কমানো: শয়তান মানুষের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে তাদেরকে হতাশ করে, যাতে তারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
7. অন্যদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা: শয়তান মানুষের মধ্যে অন্যদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, যা সম্পর্কের ভাঙ্গন ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
8. অশুভ চিন্তা ও খারাপ অভ্যাসের প্রতি আগ্রহী করা: শয়তান মানুষের মধ্যে অশুভ চিন্তা ও খারাপ অভ্যাসের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে, যাতে তারা ভুল পথে চলে যায়।
9. সন্দেহ ও ভয় সৃষ্টি করা: শয়তান মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও ভয় সৃষ্টি করে, যা তাদের মানসিক শান্তি নষ্ট করে।
10. আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক চিন্তা ধ্বংস করা: শয়তান মানুষের আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক চিন্তাকে ধ্বংস করে, যাতে তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
এই সকল কৌশলের মাধ্যমে শয়তান মানুষের মন ধ্বংস করতে চায়। তবে আল্লাহর স্মরণ, দোয়া, এবং তাঁর আদেশ পালন করে এসব প্ররোচনা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
#আরিফুল
07/02/2025
#দান_করার_ফজিলত:
দান-সদকা করলে মনে শান্তি আসে । দানের কারণে নানান বাল- মুসিবত থেকে মহান রব আমাদের হেফাজত করেন। দান করলে ধন বেড়ে যায় কমে না। তাই দানের হাত প্রসারিত করলে আমাদের ও প্রতিবেশি গরীব-দুঃখীসহ অনেকের উপকার হয়।
মহান রব বলেন-
إِن تُبْدُوا الصَّدَقٰتِ فَنِعِمَّا هِىَ ۖ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَآءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۚ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّـَٔاتِكُمْ ۗ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
অর্থঃ যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি খয়রাত গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দিবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খুব খবর রাখেন।
[আল বাকারা আয়াত – ২৭১]
مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوٰلَهُمْ فِى سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِى كُلِّ سُنۢبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ ۗ وَاللَّهُ يُضٰعِفُ لِمَن يَشَآءُ ۗ وَاللَّهُ وٰسِعٌ عَلِيمٌ
যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে একশ' দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
[আল বাকারা আয়াত – ২৬১]
الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوٰلَهُمْ فِى سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَآ أَنفَقُوا مَنًّا وَلَآ أَذًى ۙ لَّهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
অর্থঃ যারা স্বীয় ধন-সম্পদ আল্লাহ রাস্তায় ব্যয় করে, এরপর ব্যয় করার পর সে অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে না এবং কষ্টও দেয় না, তাদেরই জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে পুরস্কার এবং তাদের কোন আশংকা নেই, তারা চিন্তিতও হবে না।
[আল বাকারাঃ আয়াত নং ২৬২]
ামের_দাওয়াত
04/02/2025
এই কথা গুলো প্রতিটা বিবাহিত ও অবিবাহিত যুবকের
আশা করি মন দিয়ে পড়বেন।
#গোপন_গুনাহে_লিপ্ত_জীবন:
হায় দুনিয়ার চোখে আমি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু, হায়রে আমার মুসিবত! নিজেকে কন্ট্রোল করার ক্ষেত্রে আমি খুব দুর্বল। অন্যদের অগোচরে মোবাইলে পর্নোগ্রাফি, অশ্লীল ছবি ও ভিডিও দেখি। আমি জানি আল্লাহ্ আমাকে দেখছেন। কিন্তু প্রতিবারই আমি এ অশ্লীল কাজে লিপ্ত হই। শুধু দেখা নয়; বরং হস্তমৈথুনে লিপ্ত হই। আমি জানি যে, আমি যা করছি সেটা পশুদের কাজ। আমি জানি যে, এ কাজ আমার নেক আমলগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; বরং সমূলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমি নামায পড়ি ও তওবা করি। একদিন বা দুইদিন সবর করি। পুনরায় এতে লিপ্ত হই। এসব দৃশ্য ও ভিডিও দেখা এবং কুকামে লিপ্ত হওয়ার জন্য নিজের ভেতরে তীব্রভাবে অদ্ভুত তাড়না অনুভব করি। আমি জানি না— আমি কী করব? আমি জানি যে, আমার প্রভু যদি আমার মৃত্যু দেন তাহলে আমি জাহান্নামে প্রবেশ করব। কিন্তু আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।
#অশ্লীল ও হারামকাজ এর থেকে মুক্তি উপায়:
যা কিছু আপনাকে আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ করে দেয় সেগুলোর ফটক বন্ধ করে দিতে হবে। আল্লাহ্ তাআলা বলেন: “বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ— আল্লাহ্র অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ্ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[সূরা যুমার, আয়াত: ৫৩]
অতএব, এ আম বিধান থেকে কোন একটি গুনাহও বাদ পড়বে না। কিন্তু এটি তাওবাকারীদের জন্য খাস।[সমাপ্ত]
ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) “আল-জাওয়াব আল-কাফী” গ্রন্থে (পৃষ্ঠা-১৬৫) বলেন: ন্যায্যতা ও অনুগ্রহ নির্ভর আল্লাহ্ তাআলার হেকমত হচ্ছে যে, “গুনাহ থেকে তাওবাকারী যেন ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার গুনাহ নেই”।
তিনি আরও বলেন:
“তোমরা তোমাদের প্রভুর ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের চেষ্টা কর যার বিশালতা আসমান ও জমিনের মত। মোত্তাকীদের জন্য তা প্রস্তুত করা হয়েছে; যারা সুদিন ও দুর্দিনে (আল্লাহ্র পথে) ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ্ মুহ্সিনদেরকে ভালবাসেন। এবং যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি জুলুম করে ফেললে আল্লাহ্কে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা চায়। আল্লাহ্ ছাড়া পাপ ক্ষমা করবে কে? আর তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা পুনঃপুনঃ করতে থাকে না। এমন লোকদের প্রতিদান হচ্ছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ক্ষমা আর এমনসব জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল বাস করবে। সৎকর্মশীলদের এই প্রতিদান কতই না উত্তম!”[সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩-১৩৬]
আর যে ব্যক্তি গুনাহ করল। এরপর অন্তর থেকে শুদ্ধভাবে তওবা করল। আবার দুর্বলতায় পড়ে পুনরায় গুনাহ করল। তারপর আবার শুদ্ধভাবে তওবা করল। যার অবস্থাটি এমন—গুনাহ ও অবাধ্যতা এবং তওবা, অনুশোচনা ও রহিম রাহমানের দিকে ফিরে আসার মাঝে; সে ইনশাআল্লাহ্ আল্লাহ্র ক্ষমার আওতাধীন। আশা করা যায় আল্লাহ্ তার স্খলনকে মাফ করে দিবেন, তার গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “এক বান্দা গুনাহ্ করল। তারপর সে বলল: হে আমার রব্ব! আমি তো গুনাহ্ করে ফেলেছি; আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন তার রব্ব বলেন: আমার বান্দা কি একথা জেনেছে যে, তার একজন রব্ব রয়েছে; যিনি গুনাহ্ মাফ করেন ও গুনাহর কারণে শাস্তি দেন। আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় কিছুকাল কেটে যায়। এরপর সে আবার আরেকটি গুনাহ করে। তিনি বলেন, তখন সে বলে: ও আমার প্রভু! আমি তো আরেকটি গুনাহ্ করে ফেলেছি; আমাকে মাফ করে দিন। তখন আল্লাহ্ বলেন: আমার বান্দা কি জেনেছে যে, তার একজন রব্ব আছেন; যিনি গুনাহ্ মাফ করেন ও গুনাহর কারণে শাস্তি দেন? আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম (তিনবার); সে যা ইচ্ছা তা করুক।”[সহিহ বুখারী (৭৫০৭) ও সহিহ মুসলিম (২৭৫৮)]
#তওবাকে পরিপূর্ণ করার জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন:
যে রাস্তাগুলো আপনাকে গুনাহের দিকে ধাবিত করে সে রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া। তা এভাবে যে, একাকী না থাকা; বরং সবসময় অন্যদের মাঝে থাকা, যদি বিবাহ করে থাকেন আপনার স্ত্রী ও সন্তানদের মাঝে থাকা। আর যদি বিবাহ না করে থাকেন তাহলে দূরত্ব বিয়ে করে ফেলুন।
সদা-সর্বদা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকর কোন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। কারণ অবসর সময় মানুষের নষ্টের কারণ। এমন নষ্ট যার কোন সীমা নেই।
মোবাইল থেকে ইন্টারনেট সংযোগ চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন করা; হতে পারে আপনার মোবাইল সেটটি পরিবর্তন করাই আপনার জন্য বেশি ভাল হবে। এমন মোবাইল সেট ব্যবহার করবেন সে সেটে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না। অন্তরে ঈমান, আল্লাহ্র ভয়, আল্লাহ্র হিসাব গ্রহণের কাঠিন্য, আল্লাহ্ আপনাকে দেখছেন ও আপনাকে মনিটর করছেন এ অনুভূতিগুলো মযবুত করা। কুরআন তেলাওয়াত, নফল নামায ও তাহাজ্জুদ নামায পড়া বাড়ানো।
হেদায়েতের উপর অটল থাকার জন্য আল্লাহ্র কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। সবচেয়ে উপকারী দোয়া হচ্ছে اهدنا الصراط المستقيم অর্থ- “আমাদেরকে সরল পথ দেখান”।
আল্লাহ আমাদের সবাই হেফাজত করুন আমিন।
#আরিফুল
#আসমানের_আয়োজন
ামের_দাওয়াত
03/02/2025
নামাযের পরে কিছু প্রয়োজনীয় আমল:-
(০১) রাসূলুল্লাহ সাঃ প্রত্যেক ফরয নামায শেষে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন।
[মুসলিম, ১২২২]।
(০২) তারপর “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালা-লী ওয়াল ইকরাম" - এটি পরতেন।
[মুসলিম, ১২২১]।
(০৩) সুবহান আল্লাহ (৩৩ বার)।
আলহামদুলিল্লাহ (৩৩ বার)।
আল্লাহু-আকবার (৩৩ বার)।
(লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা-লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর") (১ বার)। এগুলো পাঠে গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে দেয়া হয়)।
[মুসলিম, ১২৪০]।
(০৪) আয়াতুল কুরসী।
(সূরা বাক্বারা আয়াত-২৫৫) ১ বার পড়া।
ফরজ নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে তার আর বেহেস্তের মধ্যে মৃত্যু ছাড়া আর কোন দূরত্ব থাকেনা।
[নাসাঈ]।
(০৫)
أللهم أجرني من النار
"আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার" ৭বার, ফজর ও মাগরিবের পরবে।
সে দিন বা সে রাতে মারা গেলে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন।
(০৬) সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও সূরা নাস,
প্রত্যেকটি ৩ বার করে, ফজর ও মাগরিবের পর। রাসূল (সা.) বলেন, সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো পাঠ করলে তোমার আর কিছুরই দরকার হবে না।
(০৭) দূরুদ শরীফ ১০ বার, ফজর ও মাগরিবের পর। কেয়ামতের দিন রাসূলের শাফা'আত লাভ করবে।
(০৮)
" رضيت بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد نبيا
(রাদ্বীতু বিল্লাহি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা") ৩ বার, ফজর ও মাগরিবের পরবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আল্লাহ উক্ত ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করবেন।
(০৯) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার বলে,
«سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ».
(সুবহানাল্লা-হি ওয়াবিহামদিহী)
তার পাপসমূহ মুছে ফেলা হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির সমান হয়ে থাকে।
বুখারী ৭/১৬৮, নং ৬৪০৫; মুসলিম ৪/২০৭১, নং ২৬৯১।
আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআ'লার আমাদের আমল করার তৌফিক দিন। আমিন।
16/01/2025
এই তো শুরু আল্লাহ তোমাদের কীভাবে পোড়াবে সেটা আল্লাহ-ই ভালো জানেন। ফিলিস্তিনের শান্তিকামী সাধারণ মুসলমানদের পোড়াতে তোমরা ২৬ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র সহায়তা দিয়েছ এখন পর্যন্ত।
যেমনটা আমাদের দেশে হইছে একদিন না একদিন পতন হয়েছে জালিম বাদশার। কেউ কল্পনা করতে পারে নাই সেটিকে থাকবে না।
আজ জুলুমকারীদের এটা এগুলা দেখে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
31/12/2024
আর মাত্র কয়েক ঘন্টার পরে ২০২৫ তে পদার্পণ করতে যাচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের জীবন থেকে পূর্ণ একটি বছর বিদায় নিল। নতুন বছরকে নতুন চেতনায় গ্রহণ করতে হলে মুহাসাবা ও আত্মসমালোচনার কোনো বিকল্প নেই। অথচ এই সময় আত্মসমালোচনার পরিবর্তে আত্মবিস্মৃতির দৃষ্টান্তই প্রকটভাবে দেখা যায়।
নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে দেশের শহর-নগরগুলোতে জমে ওঠে উদ্দাম নাচ-গানের আসর। আমাদের মিডিয়া একে আদর করে বলে ‘তারণ্যের উন্মাদনা’। যেন তরুণ মাত্রেরই উন্মাদ হওয়া অপরিহার্য।
এই উচ্ছৃঙ্খল পশ্চিমা কালচার বিগত দেড় দশক যাবত বাংলাদেশে চর্চিত হচ্ছে। এদেশের ঈমানদার নাগরিকদের জন্য এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কী হতে পারে?
মুসিলম পিতামাতার সন্তানরা এ রাতে ভেসে যায় আল্লাহর নাফরমানীর সয়লাবে। সর্বত্র ছেলেমেয়ের অবাধ মেলামেশা প্রকট রূপ ধারণ করে। তরুণ-তরুণীরা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়, রেস্তোরাঁ, পার্ক-উদ্যান, নাইট ক্লাব ইত্যাদিতে। বহু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে থাকে।
নাইট ক্লাব ও ‘অভিজাত’ হোটেলগুলোতে বসে মদের আসর। তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করার জন্য থাকে নানা রকম আয়োজন। ফলে নারী ও মদে পঙ্কিল হয়ে ওঠে বছরের প্রথম দিনরাত্রিগুলো।
#কিভাবে আসলো থার্টি ফার্স্ট নাইট:
ইতিহাসের আলোকে বিভিন্ন জাতির সূত্রানুযায়ী ইংরেজি নববর্ষ এবং ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ কালচারের শেকড়ের কথা উদ্ধৃতির দাবি রাখে। খ্রিস্টপূর্ব ’৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ইংরেজি নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করেন। তারপরও ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালনের ইতিহাসের সাথে ইসলামের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। সূত্রমতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে ইংরেজি সনের বিস্তৃতি। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার [খৃস্টানদের তথাকথিত ধর্মযাজক, (যার বিবাহ বহির্ভূত একটি সন্তান ছিল) পোপ গ্রেগরীর নামানুসারে যে ক্যালেন্ডার] অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হয়! সাধারণভাবে প্রাচীন পারস্যের সম্রাট জমশীদ খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে এই নববর্ষ বা নওরোজের প্রবর্তন করেছিলেন। এ ধারাবাহিকতা এখনো পারস্যে আছে, এবং ইরানে নওরোজ (নতুন দিন) ঐতিহ্যগত নববর্ষের জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। ইরানে নববর্ষ বা নওরোজ শুরু হয় পুরনো বছরের শেষ বুধবার এবং উৎসব চলতে থাকে নতুন বছরের ১৩ তারিখ পর্যন্ত। ইরান হতেই ইহা একটি সাধারণ সংস্কৃতির ধারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ করে। মেসোপটেমিয়ায় এই নববর্ষ শুরু হতো নতুন চাঁদের সঙ্গে। ব্যাবিলনিয়ায় নববর্ষ শুরু হতো ২০ মার্চ, মহাবিষুবের দিনে। অ্যাসিরিয়ায় শুরু হতো ২১ সেপ্টেম্বর, জলবিষুবের দিনে। মিসর, ফিনিসিয়া ও পারসিকদের নতুন বছর শুরু হতো ২১ সেপ্টেম্বর। গ্রীকদের নববর্ষ শুরু হতো খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত ২১ ডিসেম্বর। রোমান প্রজাতন্ত্রের পঞ্জিকা অনুযায়ী নববর্ষ শুরু হতো ১ মার্চ এবং খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩-এর পরে ১ জানুয়ারিতে। ইয়াহুদিদের নববর্ষ বা রোশ হাসানা শুরু হয় তিসরি মাসের প্রথম দিন, কতিপয় ইয়াহুদিদের মতে সেই মাসের দ্বিতীয় দিন। মোটামুটিভাবে তিসরি মাস হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর। মধ্যযুগে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে নববর্ষ শুরু হতো ২৫ মার্চ, তারা ধারণা করতো এদিন দেবদূত গ্যাব্রিয়েল যিশুমাতা মেরির কাছে যিশু খ্রিস্টের জন্মবার্তা জ্ঞাপন করে। অ্যাংলো-স্যাকসন ইংল্যান্ডে নববর্ষের দিন ছিল ২৫ ডিসেম্বর। পহেলা জানুয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হচ্ছে। বাদশাহ আকবরের ফরমান অনুযায়ী আমীর ফতেহ উল্লাহ্ শিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলি সাল চালু হয় ১০ মার্চ ১৫৬৩ সালে। ইংরেজ আমলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হলেও রাজস্ব আদায়ে ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা সাল তথা ফসলী সন বেশি ব্যবহার করা হতো। বর্ষবরণের সাথে ধর্মীয় অনুভূতির যোগ শুরু থেকেই ছিল বা বর্ষবরণকারীরা ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকেই তা করত। তবে, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত কোন নবী-রাসূল আনিত ইসলামে অনুমোদিত হয়নি! মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে প্রবেশ করতে পারেনি। মজুসী বা অগ্নি উপাসকরা এখনো বর্ষবরণকে সরকারি ছত্রছায়ায় ব্যাপক জাঁকজমকভাবে পালন করে থাকে। একে তারা তাদের ধর্মীয় অনুষঙ্গ মনে করে এবং একে নওরোজ বা নতুন দিন বলে অভিহিত করে। ফসলী সনের নববর্ষ হিন্দুদের খাছ ধর্মীয় উৎসবের দিন। এর আগের দিন তাদের চৈত্র সংক্রান্তি, আর পহেলা বৈশাখ হলো ঘট পূজার দিন। [সূত্র- থার্টি ফাস্ট নাইট : একটু ভাবুন! (গ্রন্থ) সবুজ বাংলা ও সামহিয়্যারইন (ব্লগ)]
ইসলামী সংস্কৃতিতে বর্ষ বিদায় ও বর্ষ বরণের কোন বিধান নেই। প্রতি রাতেই আমরা মৃত্যুবরণ করি। প্রতি প্রত্যুষেই আমরা নতুন জীবন পেয়ে আল্লাহ্র নিকটে সিজদায় লুটিয়ে পড়ি ও তাঁর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। অতঃপর তাঁর তাওফীক কামনা করে দিবসের কর্তব্যকর্মে নিজেকে নিয়োজিত করি। এজন্যেই ঘুমাতে যাবার সময় বলি-
বিসমিকাল্লা-হুম্মা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া
‘হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি মরি ও বাঁচি’।
প্রত্যুষে যখন ঘুম থেকে উঠি, তখন বলি,
আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর ‘
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি আমাকে মৃত্যু দানের পরে জীবন দান করেছেন এবং তাঁর দিকেই হবে আমাদের পুনরুত্থান’।
যে মুসলমান দৈনিক রাতে ও সকালে এই দো‘আ পড়ে ও তার প্রভুর নিকটে জীবনের হিসাব পেশ করে, তার জন্য প্রতি রাতই বিদায়ী রাত ও প্রতিটি দিনই নতুন দিন।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরাম এরূপ কিছু করেছেন বলে জানা যায় না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্ম দিবস, নবুঅত প্রাপ্তি দিবস, মি‘রাজ দিবস, মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত দিবস, বদর দিবস, মক্কা বিজয় দিবস, তাঁর মৃত্যু দিবস প্রভৃতি স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলি তাঁর যুগে, খেলাফতে রাশেদাহ্র যুগে কিংবা উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগে কখনোই পালিত হয়নি।
অতএব শুধু থার্টি-ফার্স্ট নাইটে নয়, বরং দূরদর্শী মানুষের জন্য প্রতি রাত্রিতেই আগামীকাল সুন্দর জীবনের হিসাব করা উচিত। আমাদের আয়ুষ্কাল খুবই সামান্য। তাই জীবনের প্রতিটি সেকেণ্ড ও মিনিটকে হিসাব করে কাজে লাগাতে পারলেই ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে উন্নতি আসবে, নইলে নয়। আল্লাহ আমাদের তরুণ-তরুণীদের ও সমাজ নেতাদের সুমতি দান করুন এবং আমাদের সকল গুনাহ-খাতা মাফ করে সুন্দর মানুষ হবার তাওফীক দান করুন-
আমীন।
ামের_দাওয়াত
#আসমানের_আয়োজন
#আরিফুল