03/02/2026
আজ গোনাহ মাফের বরকতময় রজনী শবে বারাআত। কীভাবে কাটাবেন এ রাত??
১.বারাতের রাতে ইবাদতের নিয়তে গোসল করা মুস্তাহাব। (শামী)
২.ফরজ নামাজসমূহ জামাতের সাথে আদায় করা।
৩.মাগরিব নামাজ বাদ: আওয়াবীনের নামাজ (দুই দুই রাকাআত করে ছয় রাকাআত)।
৪.এশার নামাজ শেষে আমল-
৫.কুরআন তিলাওয়াত: কুরআন মাজিদের যে কোন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করবে। তবে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ কতিপয় সুরার নাম নিচে উল্লেখ করা হল-সুরা ইয়াসিন,সুরা আর রহমান,সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক,সুরা বাকারার শেষ তিন আয়াত,সুরা দুখান, সুরা আল ইমরানের শেষ তিন আয়াত, সুরা হা-মীম সাজদাহ
★জিকির
নাফি ইসবাত )لا اله الا الله( এর জিকির (৩০০-১৫০০ বার)।
তাওবার জিকির: )الله الله( )১০০-১০০০ বার)।
★দরুদ শরীফ: (১০০ বার)-
◇ দরুদে যিয়ারাত-
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدِ نِ النَّبِيِّ الْأُتِيَ وَآلِهِ وَسَلَّمْ .
◇ দরুদে সাইফুল্লাহ-
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ سَيْفِ اللَّهُ القَاطِعِ وَآلِهِ وَسَلَّمْ
◇ দরুদে ইবরাহিম-:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
◇ দরুদে শেফা-
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ بِعَدَدِ كُلِّ دَاءٍ وَدَوَاءِ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ بِعَدَدِ كُلِّ عِلَّةٍ وَشِفَاءٍ
এ ছাড়াও যে কোন দরুদ শরীফ পড়া যায়।
★বিভিন্ন নফল নামাজ
দুই দুই রাকাআত করে যে কোন সুরা দিয়ে নফল নামাজ যত রাকাআত সম্ভব পড়বে।
★সালাতুত তাসবীহ
নিয়ম: প্রথমে নামাজের নিয়ত করতঃ আল্লাহু আকবার বলে তাকবিরে তাহরিমা পর যথারীতি ছানা পাঠ করবে। অতঃপর নিম্নোক্ত দোয়াটি ১৫ বার পাঠ করবে।
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ اللَّهُ أَكْبَرُ
অতঃপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহসহ সুরা ফাতিহা ও যে কোন সুরা পাঠ করবে।
অতঃপর উক্ত দোয়া ১০ বার পাঠ করবে।
তারপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবিহ পাঠ করে উক্ত তাসবিহ ১০ বার পাঠ করবে।
রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উক্ত তাসবিহ ১০ বার পাঠ করবে।
অতঃপর সিজদায় গিয়ে সেজদার তাসবিহ পড়ে উক্ত তাসবিহ ১০ বার পাঠ করবে।
তারপর প্রথম সিজদা থেকে উঠে বসা অবস্থায় উক্ত তাসবিহ ১০ বার পাঠ করবে।
অতঃপর দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে সেজদার তাসবিহ পাঠ করে উক্ত তাসবিহ ১০ বার পাঠ করবে। (এভাবে ১ রাকাআতে উক্ত তাসবিহ ৭৫ বার ও ৪ রাকাআতে ৩০০ বার পাঠ করা হবে।
এভাবে দুই বৈঠকে ৪ রাকাআত নামাজ পড়াকে সালাতুত তাসবিহ বলে। রুকু ও সিজদায় গিয়ে প্রথমে রুকু ও সিজদার তাসবিহগুলো কমপক্ষে ৩ বার পাঠ করে নিবে। তারপর উক্ত তাসবিহ পাঠ করবে। উল্লেখ্য যে, তাসবিহগুলো পাঠের সময় হাতের আঙ্গুলিতে গণনা করবে না। বরং মনে মনে হিসাব করবে।
কোন রোকনে (রুক-সিজদাতে) তাসবিহ ভুলে গেলে পরবর্তী রোকনে তা পড়ে নিবে। যেমন: রুকুতে তাসবিহ পড়তে ভুলে গেলে সেজদায় গিয়ে ২০ বার তাসবিহ পড়ে নিবে।
★সালাতুত তাওবা
যদি কেউ কোন গুনাহ করে ফেলে তবে ক্ষমা পাওয়ার জন্য প্রথমে অজু গোসল করে দুই রাকাআত নামাজ পড়বে। হাদিস শরিফে এসেছে-
عَنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ »
হযরত আবু বকর রা হতে বর্ণিত, রাসুল এরশাদ করেছেন, যে কোন বান্দা গুনাহ করার পর অজু করে দুই রাকাআত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে (তাওবা করে) ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ তায়ালা তাকে মাফ করে দেন। নামাজ আদায়ের পর নিম্নোক্ত দোয়াটি একাগ্রচিত্তে, গভীর আগ্রহ নিয়ে, অত্যন্ত বিনয় ও অনুতাপের সাথে পড়বে।
أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
হাদিস শরিফে এসেছে, এ দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। যদি সে ব্যক্তি যুদ্ধের ময়দান থেকে পালায়নকারীও হয়ে থাকে। (আবু দাউদ, তিরমিজি)
তারপর আল্লাহ তায়ালার দরবারে দু'হাত উঠিয়ে বলবে,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَتُوْبُ إِلَيْكَ مِنْهَا لَا أَرْجِعْ إِلَيْهَا أَبَدًا اللَّهُمَّ مَغْفِرَتُكَ أَوْسَعُ
مِنْ ذُنُوبِي وَرَحْمَتُكَ أَرْجُي عِنْدِي مِنْ عَمَلِي
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি গুনাহ থেকে তোমার নিকট তওবা করছি। আমি পুনরায় এ গুনাহ করব না। হে আল্লাহ! আমার পাপের চেয়েও তোমার ক্ষমা অনেক বড় ও প্রশস্ত। আমার নিকট আমার আমলের চেয়ে তোমার রহমতই বড় আশার বস্তু।
মুহতারাম পাবনা হুজুরের শবে বরাত বই অবলম্বনে।