03/01/2022
বিয়ে পুরুষের জীবনে একটা ভয়াবহ ঘটনা। বিয়ের পরের জীবন আত্মত্যাগের। ৯টা ৫টা অফিস। ৭ টার মধ্যে সরিষার তেল,এক কেজি আলু,এক প্যাকেট কনডম আর এক পাতা মাথা বিষের বড়ি কিনে বাড়ি ফেরা। ১০ টার দিকে ভাত খেয়ে টিভিতে খবর দেখা। বউ এর সাথে জমিজমা,ডিপিএস,ওয়াশিং মেশিনের উপকারীতা,পাশের বাসার ভাবীর ডাইনিং টেবিলের নকশা নিয়ে গল্প গল্প করতে করতে একটু কাছে আসা। এরপর মিউজিক্যাল কোন চ্যানেলে গান ছেড়ে ভলিউম বাড়িয়ে দেয়া। মধ্যরাতে বাসায় একটা হোম থিয়েটার কেনার স্বপ্ন চোখে নিয়ে ঘুমায় যাওয়া। মাইক্রো ওয়েভ ওভেন, ড্রেসিং টেবিল,পাকিস্তানি ফ্যান কিংবা এক শতক জমির লিস্টের নিয়ে চাপা খেয়ে যাওয়া যে স্বপ্ন আর পূরণ হয় না।
বাবা মায়ের বয়স বেড়ে যাচ্ছে। তারা নাতী নাতনীর মুখ দেখতে চান। কেন দেখতে চান জানি না। এমন তো নয় যে তাদের নাতী নাতনীর তিনটা চোখ বা ৫ টা হাত থাকবে। অন্যান্য মানব শিশুর মতই হবে দেখতে। তবুও তাদের দেখার শখ। এই দেখার শখ পূরণের জন্য জন্ম নিবে সন্তান। এর পরের জীবন হবে ডায়াপার,ফিডার এবং ল্যাক্টজেনময়। সন্তানকে বড় করা,ভাল স্কুলে পড়ানো,শখ পূরণ করা,জন্মদিন পালন,চিড়িয়াখানায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হবে দায়িত্ব। সপ্তাহের দুইটা দিন ছুটি। একদিন বাসায় আসবে বউ এর বান্ধবী আর তার জামাই। গল্প একদমই জমবে না জেনেও বউ এর বান্ধবীর জামাই এর সাথে হুদাই গ্যাজাইতে হবে। ক্রিকেট নিয়ে হুদাহুদি আলাপ করতে হবে। আরেকদিন বউ বাচ্চা নিয়ে চিড়িয়াখানা,শিশু পার্ক গমন। ফেরার পথে চা ছেঁকনি,শোলার ঝাড়ু,একটা কড়াই,একটা তিন কোনা লোহার আকৃতি যেটা দিয়ে কি করে জানা নাই এবং সংসারের আরো ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিস। সন্তানের হাতে থাকবে একটা বাতাস ভর্তি মাছ আকৃতির বেগুনী রঙের বেলুন।
গ্রাম থেকে পরিক্ষা দিতে আসবে বউ এর বড় মামার ছেলের ভাতিজা। বাসায় দুই দিন থাকবে। অফিস যাওয়ার আগে তাকে পরিক্ষা কেন্দ্রে রেখে আসতে হবে। পরিক্ষার পরের দিন ও সে থাকবে। তাকে নিয়ে আবারো চিড়িয়াখানায় নিয়ে যেতে হবে। বাঘ ভাল্লুক দেখায় আনা লাগবে। ফেরার পথে জুস,কোন আইসক্রিম,ঝালমুড়ি খাওয়ায় বাড়ি ফিরতে হবে। চিড়িয়াখানায় এতবার যাওয়া পড়বে যে চিড়িয়াখানার পশুরা আপন লোক ভাবা শুরু করবে।
বাসায় শ্বশুর শ্বাশুরি আসবেন। ফ্রিজ ভর্তি বাজার থাকা স্বত্তেও বাজার করে নিয়ে আসতে হবে বড় একটা বোয়াল মাছ যেটার মাথা খাবেন শ্বশুর মশাই। তাদের নিয়ে একদিন ঘুরতে যেতে হবে স্মৃতিসৌধ। ফেরার পথে চাইনিজ খাওয়া দাওয়া। এই দিন রাতের বেলা বাসার চুলা বন্ধ। আরেক দিন যেতে হবে চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানায় গিয়ে জলহস্তি দেখাতে হবে। তাহারা জলহস্তি দ্যাখেন নাই। ঘড়িয়ালকে কুমির কুমির বলে ডাকবে। এই দিন ফেরার পথে দুই কেজি কমলালেবু কিনে ফিরতে হবে।
এভাবে বয়স বেড়ে যাবে,মাথায় চুলের সংখ্যা কমে যাবে। দাঁড়ি পাকা শুরু হয়ে যাবে। বউ এর সাথে প্রেম জীবনের ইতি ঘটবে। সুন্দরী বউ তখন বিদায়ী যৌবনে। পেঁয়াজের দাম বাড়লে আপনার টেনশন হবে, তেলের দাম বাড়লে আপনার টেনশন হবে,রাস্তা পার হতে গিয়ে বাসের তলায় পরে কেউ মরে গিয়েছে শুনলে আপনার টেনশন হবে।
শেষ বয়সে সঞ্চিত কিছু অর্থ হবে। রিটায়ার্ড করার টাকা দিয়ে একটা সাদা কালারের রিকন্ডিশন্ড করোলা গাড়ি হবে। দীর্ঘদিন ডেস্ক জব করে এসে শরীরে হবে হরেক রকম অসুখ। হাই ব্লাড প্রেশার,ডায়াবেটিস,পেশাব করার রাস্তায় ইনফেকশন। রিটায়ার্ড করে একটু আরাম আয়েশের জন্য করোলা গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াবেন,মেয়েকে ইউনিভার্সিটিতে রেখে আসবেন,বউ এর সাথে টাঙাইলে শাড়ি কিনতে যাবেন,রিকশাওয়ালাকে ধরে থাপড়বেন। আপনার মেয়ের বিবাহ হবে। আপনি আপনার মেয়েকে দেখতে যাবেন। আপনার হাই ব্লাড প্রেশার,ডায়াবেটিস আছে জেনেও আপনাকে পোলাও,কোরমা,মুরগীর ঝোল,গরুর কালাভুনা,বোয়াল মাছের মাথা,ইলিশের ডিম খাওয়াবে। কারন মেয়ে বলছে একদিন খেলে কিছু হয় না। খাওয়া শেষে পুডিং,পায়েস,দুধ চা,কমলা লেবু। এরপর আপনাকে জোর পূর্বক শোয়ায় দিবে। আপনি একটা সাদা স্যন্ডোগেঞ্জি গায়ে শুয়ে হাশফাশ করবেন।
আপনার একদিন ঘুমের মধ্যে হার্ট এট্যাক হবে। আপনি মারা যাবেন। আপনি এই জীবনে আপনার অধ্যায় শেষ করবেন। যে জীবন আর কখনো আপনি ফেরত পাবেন না।আপনি এটা মনে করার ই সুযোগ পাবেন না যে আপনার বাসায় আপনার একটা হোম থিয়েটারের শখ ছিল! আপনি যখন মারা যান তখন আপনার ঘরে ছিল একটা গ্রী এসি, ড্রেসিং টেবিল,আলমারী,খাট এবং ঝলমলে একটি নকশা করা বাতি! আহারে জীবন! আহা জীবন!
লেখা সংগৃহীত