29/04/2026
“নারী প্রেম”
_______________________________
এই পার্থিব জগতে পুরুষের জন্য সবচাইতে ক্ষতিকর বস্তু ও পরীক্ষার জিনিস হচ্ছে নারী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীরাই হবে (সবচাইতে বড়) ফিতনাহ (পরীক্ষার বস্তু)।” সহীহ মুসলিম।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বল করে।” সুরা নিসাঃ ২৮।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাবেয়ী বিদ্বান, ইমাম তাউস রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়লে পুরুষেরা দুর্বল বা ধৈর্যহারা হয়ে যায়।”
_______________________________
ইমাম ইবনুল জাওযী রহি’মাহুল্লাহ নারী প্রেমের বিপর্যয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, “নারী প্রেম ও নারী আসক্তির প্রায়শ্চিত্ত বিভিন্ন প্রকার। কখনো ভোগ করতে হয় সঙ্গে সঙ্গে কখনো দেরিতে, কখনো প্রকাশ পায় কখনো তা প্রকাশ পায় না। আবার এর এমন কিছু শাস্তি রয়েছে, যা আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেও বুঝতে সক্ষম হয় না। তবে সবচাইতে বড় শাস্তি হচ্ছেঃ আল্লাহকে ভুলে যাওয়া ও ঈমান বিলুপ্ত হওয়া। নারী আসক্তি ও গুনাহের কারণে অন্তর মরে যায়, যার ফলে সে আল্লাহর কাছে মুনাজাতের স্বাদ আস্বাদন করতে সক্ষম হয়না, পবিত্র ক্বুরআন তার অন্তরে অবস্থান করে না। ইস্তেগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাসহ অন্যান্য ইবাদত তার কাছে অর্থহীন মনে হয়। আরো অনেক ধর্মীয় অবক্ষয় রয়েছে, যা তাকে আস্তে আস্তে গ্রাস করে নেয়, যা সে অনুধাবনও করতে পারে না। তার অন্তরের দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত হয় গুনাহের অন্ধকার, নষ্ট হয়ে যায় তার অন্তর দৃষ্টি, যার প্রভাব পড়ে তার শরীরেও। যেমন, চোখের দৃষ্টি চলে যায়, স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে ইত্যাদি। তাই অন্তরের মধ্যে গুনাহের আসক্তি উপলব্ধি করার সাথে সাথে কোন ব্যক্তির উচিত তওবা করা, হয়তো এর দ্বারা আসন্ন বিপদ দূরীভূত হয়ে যাবে।” জাম্মুল হাওয়াঃ ২১৭।
_______________________________
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আ’নহুমা বলেছেন “পূর্ব যুগের মানুষ যেমন নারীদের কারণে কুফুরীতে লিপ্ত হয়েছে, ঠিক তেমনি পরবর্তী যুগেও নারীদের কারণে পুরুষেরা কুফুরীতে লিপ্ত হবে।” জাম্মুল হাওয়াঃ ১৭৯।
নিম্নে আমরা এমন দুইটি সত্যি ঘটনা উল্লেখ করছি, যার দ্বারা নারীর প্রেমে পড়ে পুরুষদের কুফরীতে লিপ্ত হওয়ার চিত্র স্পষ্ট ফুটে উঠবে।
_______________________________
প্রথম ঘটনাঃ
আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, আমি একটি ঘটনা শুনেছি। বাগদাদে একজন ব্যক্তি ছিল, যে মানুষের নিকট ‘সালেহ-মুয়াজ্জিন’ (নেককার-মুয়াজ্জিন) হিসেবে পরিচিত ছিল। চল্লিশ বৎসর সে আযানের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছে। ভালো চরিত্রগুনের কারণে জনসমাজে সৎ, নীতিবান ও ভাল লোক হিসেবে খুব প্রসিদ্ধি ছিল তার। একদা সে আযান দেওয়ার জন্য মসজিদের মিনারায় ওঠে, মসজিদের পাশেই ছিল এক খৃষ্টান পরিবার, সেই বাড়ির এক মেয়ের ওপর তার দৃষ্টি পড়ে, আর এতেই সে তার প্রেমে মগ্ন হয়ে যায়। মিনারা থেকে নেমেই সে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে দরজার কড়া নাড়া দিল। মেয়েটি বলল, কে? সে বলল, আমি সালেহ-মুয়াজ্জিন। মেয়েটি দরজা খুলে দিল। ঘরে প্রবেশ করে সে তাকে জড়িয়ে ধরল। মেয়েটি বলল, তোমরা না সৎ! চরিত্রবান! আমানতদার! তুমি একি করছ? সে বলল, যদি তুমি আমার কথায় সাড়া দাও, ভাল; অন্যথায় আমি তোমাকে হত্যা করব। মেয়েটি বলল, তুমি নিজ ধর্ম ত্যাগ না করলে আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারব না। তৎক্ষনাৎ সে বলল, আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করলাম, মুহাম্মদের আনীত সমস্ত বিধান থেকে মুক্ত হলাম। অতঃপর সে মেয়েটির নিকটবর্তী হল। মেয়েটি বলল, তুমি ছলনা করছ, কার্যসিদ্ধির জন্য এ কথা বলছ, পরে তুমি নিজ ধর্মে ফিরে যাবে, যদি সত্য বলে থাক, তাহলে শূকরের গোস্ত ভক্ষণ কর, সে তাতেও রাজি হল, শূকরের গোস্ত ভক্ষণ করল। মেয়েটি বলল, মদ পান কর, সে তাও করল। যখন তার ভেতর মদের ক্রিয়া শুরু হল, সে মেয়েটির কাছে এল, মেয়েটি একটি রুমে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিল। আরো বলল, তুমি ছাদে চড়, আমার আব্বার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর, সে এসে আমাদের বিয়ে পড়িয়ে দেবে। সে ছাদে উঠে এবং সেখান থেকে পড়ে মারা যায়। মেয়েটি বের হয়ে একটি কাপড় দিয়ে তার মরদেহ ঢেকে রাখে। মেয়েটির পিতা এসে এই ঘটনা অবহিত হলে সে মৃত দেহটি রাস্তায় ফেলে রাখে। পরদিন ঘটনা জানাজানি হয়, অতঃপর লোকেরা তার দেহ ডাষ্টবিনে ফেলে দেয়।”
জাম্মুল হাওয়াঃ ৪০৯।
_______________________________
দ্বিতীয় ঘটনাঃ
ইমাম ইবনু কাসীর রহি’মাহুল্লাহ ইমাম ইবনে জাওযীর বরাত দিয়ে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। “আবদাহ বিন আব্দুর রহিম নামে এক মুজাহিদ ২৭৮ হিজরি সনে মারা যায়। যার সম্পর্কে শ্রুতি রয়েছে যে, সে অধিকাংশ সময় ইউরোপের খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদে ব্যস্ত থাকত। একবারের ঘটনা, মুজাহিদগণ ইউরোপের একটি দেশ ঘেরাও করে রেখে ছিল, দূর্গের ভেতর অবস্থানকারী এক নারীর প্রতি তার দৃষ্টি পড়ল, আর এতেই সে তার প্রেমে পড়ে যায়। শুরু হলো তাদের মাঝে চিঠির আদান-প্রদান, মুজাহিদ লোকটি খ্রীস্টান মেয়েটিকে লিখল, আমি তোমাকে কীভাবে পেতে পারি? সে বলল, তুমি খৃষ্টান হয়ে যাও আর দেয়াল টপকে আমার কাছে চলে এসো, এক সময়ের বীর মুজাহিদ লোকটি তাই করলো। বিষয়টি মুসলমানদের খুব ভাবিয়ে তুলল। বরং, আতঙ্কিত করল। সকলেই মর্মাহত হল, অনেক আফসোস করল, কঠিন মনে হল তাদের কাছে তার ঘটনাটি। কয়েক বৎসর পর তার সাথে একদল মুজাহিদের সাক্ষাত। তারা দেখতে পেল, তখনও সে ঐ মহিলার সাথে সংসার করছে, তারা জিজ্ঞেস করল, কি ব্যাপার? কোথায় গেল তোমার ক্বুরআন? আর তোমার আমল, রোজা, জিহাদ ও নামাজের খবর কি? সে বলল, আমি সম্পূর্ণ ক্বুরআন ভুলে গেছি, শুধুমাত্র একটি আয়াত আমার মনে আছেঃ “যারা কুফুরী করেছে তারা একসময় কামনা করবে, যদি তারা মুসলমান হত! আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন, তারা আহারে ও ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকুক, এবং আশা তাদেরকে গাফেল করে রাখুক। আর অচিরেই তারা (তাদের কাজের পরিণাম) জানতে পারবে।” সুরা হিজরঃ ২-৩।
মুর্তাদ হয়ে যাওয়া সেই লোকটি আরো জানালো, “এখন তো আমার তাদের মধ্যে অনেক সন্তান ও সম্পদ হয়েছে।”
আল বিদায়াহঃ ১১/৬৪।
_______________________________
#হাদিস