তিন ধরনের অভিভাবক মাদরাসা এবং শিক্ষক নিয়ে অভিযোগ করে।
১/ যে সকল শিক্ষার্থীর মেধা দূর্বল।
২/ যে সকল শিক্ষার্থী নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকে না।
৩/ যারা মাদরাসায় বেতন কম দেয় এবং পাওনা ঠিকমতো আদায় করে না।
মারকাযুল আবরার মাদরাসা ÷ Markajul Abrar
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from মারকাযুল আবরার মাদরাসা ÷ Markajul Abrar, Education, South sheyachar, Fatullah, Narayanganj, Dakshin Khan.
অনুমতি ছাড়া মাদরাসা পরিবর্তন
মুফতি আব্দুল মালেক হাফি.
যাঁদের কাছে ও যে প্রতিষ্ঠানে আমি তালীম হাসিল করছি, সেখানে যদি পরবর্তী পড়াশোনার ব্যবস্থা থাকে তাহলে শরাফতের দাবি হল, পরবর্তী পড়াশোনাও সেখানে সমাপ্ত করা। এরপর ঐ উস্তাদগণের সাথে মাশওয়ারা করে তাঁদের অনুমতি ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়া।
কোনো অসুবিধা বা অপারগতার কারণে আগেই যদি মাদরাসা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে সন্তুষ্টি না হোক, অনুমতি তো অবশ্যই নেওয়া উচিত।
উস্তাদগণেরও কর্তব্য, তালিবে ইলমের কল্যাণ ও সুবিধাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মাদরাসা পরিবর্তন যদি তার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে খুশির সাথে অনুমতি দেওয়া।
হযরত পাহাড়পুরী দামাত বারাকাতুহুম তাঁর নিজের ঘটনা শুনিয়েছেন যে, পাহাড়পুর মাদরাসায় (মুরাদনগর, কুমিল্লা) ঐ সময়ের সর্বশেষ জামাতের পড়াশোনা যখন সমাপ্ত হল, তখন আমরা সবাই মাদরাসাতেই বসে ছিলাম যে, উস্তাদগণই ফয়সালা করবেন, আমরা কখন যাব এবং কোথায় যাব। শেষে উস্তাদগণ ফয়সালা করেছেন এবং আমাদেরকে স্টেশন পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেছেন।
মাদরাসা আরাবিয়া খেড়িহরে এখনও শেষ জামাত মিশকাত। শা’বান ১৪০৭ হিজরীর শুরুতে (১৯৮৭ঈ.) আমাদের অত্যন্ত পেরেশানীর বিষয় এই ছিল যে, ঐ উস্তাদগণের কাছেই দাওরা পড়ার কোনো ব্যবস্থা হল না! আমরা অনেক মিনতি করেছি যে, একবছরের জন্য হলেও দাওরা খুলুন, যেন আমরা দাওরা এখানেই পড়তে পারি। কিন্তু তাঁরা মঞ্জুর করেননি। এটা তাঁদের নীতি যে, ব্যক্তি ও উপকরণের যথেষ্ট ব্যবস্থা হওয়া ছাড়া নতুন কোনো জামাত খোলা হবে না, বিশেষত যখন অন্যান্য বড় মাদরাসার দ্বারা প্রয়োজন পূরণ হচ্ছে। এই ঘটনায় মাদরাসার জিম্মাদারগণের জন্যও এই অনুসরণীয় আদর্শ আছে যে, যথাযথ ব্যবস্থা ছাড়া নতুন জামাত খুলে ছাত্রদেরকে পরীক্ষায় ফেলা ঠিক নয়।
হযরত হারদুয়ী রাহ. থেকে সরাসরি শুনেছি, লোকেরা বারবার বলে যেন এখানে, মাদরাসা দাওয়াতুল হক হারদুয়ীতে দাওরা খুলি। আমরা বলি, ‘ভাই প্রতিষ্ঠান কি কম? দেওবন্দ আছে, সাহারানপুর আছে, ওখানে চলে যাও।’
এখন তো গোটা দুনিয়া থেকে ছাত্ররা দেওবন্দমুখী হয়ে থাকে। কিছু হাসিল করার পরিবর্তে সম্ভবত বরকত গ্রহণের নিয়তই প্রধান হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃত বরকত তো হাসিল করার মাঝেই রয়েছে।
দেওবন্দি চিন্তা চেতনাই যদি হাসিল না হয়, তাহলে এই কষ্টের ফল কী? যাক একসময় তো এটিও ছিল নতুন মাদরাসা। মিশকাতের পর দাওরা পড়ার জন্য কেউ গাঙ্গুহ, কেউ দিল্লী ...
কিন্তু হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী (রাহ.) বললেন, আমাদের কাছে এটা গায়রতের খেলাফ মনে হল যে, এ পর্যন্ত যাঁদের কাছে পড়লাম তাদের কাছে দাওরা পড়ব না! তো দাওরা এখানেই পড়লাম।
গতকালের ঘটনা। এক তালিবে ইলম এসেছেন, তিনি ইফতা বিভাগে দাখেলা নিতে চান। মাশওয়ারা চাইলেন, কোথায় দাখেলা নিবেন। তা’লীমী মুরববীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে বললেন, তিনি এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এরপর কথাপ্রসঙ্গে জানা গেল, তিনি হিফয থেকে দাওরায়ে হাদীস এরপর উলূমুল হাদীস একই মাদরাসায় পড়েছেন। আমি তাকে মোবারকবাদ দিলাম এবং আরজ করলাম, অবশিষ্ট তালীমও ওখানেই হাসিল করুন। সামান্যই বাকী আছে। এটার জন্য অন্য কোথাও যেয়ে এই কীর্তির অঙ্গহানী করা থেকে বিরত থাকুন।
ওখানে হযরত মাওলানা সাদেকুল ইসলাম ছাহেব আছেন, যিনি হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. এর যমানায় দারুল উলূম করাচীতে ইফতা বিভাগে তালীম হাসিল করেছেন। তাঁর সোহবতকে গনীমত মনে করুন।
জানিনা, আজকাল ছাত্রদের বারবার মাদরাসা পরিবর্তনের এত আগ্রহ কেন। এর একটি বড় দায় তো এই যে, এতে উস্তাদ অনেক বেশি হয়ে যান, যার ফলে হক্ব আদায়ের পরিধিও অনেক বেড়ে যায়। হক্ব আদায়ের বিষয়ে আমাদের অলসতা ও উদাসীনতা তো এখন অবর্ণনীয়। এরপরও এত হক নিজের উপর কেন আরোপ করছি? উপযুক্ত কারণ ছাড়া আমরা যেন মাদরাসা পরিবর্তন না করি। উপযুক্ত কারণ থাকলেও ইস্তিখারা ও মাশওয়ারার পরই যেন পরিবর্তন করি।
আলী মিয়া রহিমাহুল্লাহ الكيمياء গল্পে লিখেছেন,
و تثقيفه و اصلاحه خير من تحويل التراب ذهبا.
মানুষের সংশোধন এবং তাকে শিষ্টাচার শেখানো মাটি স্বর্ণে রূপান্তরিত করার চেয়ে উত্তম ৷
প্রাথমিক পর্যায়ে যারা মেহনত করেন তাদের আল্লাহ উত্তম বিনিময় দান করুন ৷ ইলমের জন্য শাগরেদকে যেমন নিজেকে বিলিন করতে হয়; তেমন উসতাযকেও তিলে তিলে নিজেকে ক্ষয় করতে হয় ৷ স্বাদ, আহ্লাদ কুরবান করতে হয় ৷ পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের হক তালাফি হয় ৷
তবেই বাগানে ফুটে ফুল, আসে ফল, ফুল-ফলের বসন্ত ৷ বসন্ত দেখে সবাই এগিয়ে আসে ঘ্রাণ নিতে ৷ আড়ালে থেকে যায় মালী৷ মালঞ্চের মালীদের এটাই স্বার্থকতা ৷
আমি যতদিন এই ক্ষয়, লয় সহ্য করতে পারবো; ফুল ফুটবে, বসন্ত আসবে ৷ ইতিহাসে যারা ক্ষয়-লয় সহ্য করেছেন; আমিও তাদের পথ বেছে নিয়েছি ৷ আশায় বুক বেঁধেছি, পথ চেয়ে আছি, আরো কিছু "মালী" তৈরী হবে ভবিষ্যতের জন্য ৷
ফয়জুল্লাহ সিদ্দিকী
মাদরাসা পরিচালকদের জন্য কতিপয় জরুরী পরামর্শ
• মাদরাসার উন্নতি-অগ্রগতির চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা। এ জন্য নিষ্ঠাবান শিক্ষকদের মূল্যায়ন করুন। এতে অন্যরাও নিষ্ঠাবান হয়ে যাবেন।
• শিক্ষকদের জন্য ন্যায়সঙ্গত যুগান্তকারী নীতিমালা তৈরী করুন। যা আপনার অবর্তমানেও বহাল থাকবে। এতে যুগ যুগ ধরে আপনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তা নাহলে একসময় তারা আপনার অব্যাহতিতে আনন্দ প্রকাশ করবে।
• শিক্ষকদের হাদিয়া যা পারেন দেন, তবে তাদেরকে বেশি পরিমাণে সম্মান দেয়ার চেষ্টা করুন। এতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
• মাদরাসার স্বার্থ ঠিক রেখে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিন। যাকে যখন যে কাজে ব্যবহার করলে বেশি উপকার হয়, সে সময় তাকে সে কাজে লাগান। অন্য সময়ে তাকে ফ্রি করে দিন।
• সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠাবান শিক্ষকদের নিয়ে পরামর্শ করুন এবং তাদের মতামত মূল্যায়ন করুন। এ ক্ষেত্রে একগুয়েমি করলে সেটা হবে স্বেচ্ছাচারিতা।
• কোন শিক্ষকের উপর অপবাদ দিবেন না। কু-ধারণা প্রকাশ করবেন না। অন্যায় করলে উপযুক্ত প্রতিকারের ব্যবস্থা করবেন। বাড়াবাড়ি, ছাড়াছাড়ি কোনটাই সমীচীন হবে না।
• যদি মনে করেন, আপনার মেজাজ খারাপ, রাগ বেশি কিংবা বয়সের কারণে অশালীন আচরণ প্রকাশ পাচ্ছে তাহলে দায়িত্বভার কমিয়ে দিন অথবা উম্মাহর স্বার্থে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিন। এটা আপনার জন্য নিরাপদ।
• কোন শিক্ষক নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে কখনো গালি দেয়া যাবে না। রাগতস্বরে কিছু বলা যাবে না। প্রয়োজনীয় সর্তক করার পরও যদি তিনি নিয়মের আওতায় না আসেন তবে তাকে লিখিতভাবে শোকজ করুন। শুরা পরিষদের মাধ্যমে তাকে শাসন করুন। প্রয়োজন হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাকে অব্যাহতি দিন।
শিক্ষকদের করণীয় ও বর্জনীয়।
১: ক্লাসে মোবাইল চালানো পরিহার করুন,(একান্ত প্রয়োজন ছাড়া)।
২: ক্লাস রুমে ঘুমানো পরিত্যাগ করুন।
৩: অযথা বাহিরে, অফিসে, কিংবা কাহারোও সাথে গল্প করে ক্লাসের সময় নষ্ট করবেন না।
৪: কোন ছাত্রকে অতিরিক্ত ভালবাসা দেখাবেন না। সকলকে সমান চোখে দেখবেন।
৫: ছাত্রদের সাথে মার্জিত ভাষায় কথা বলবেন। কর্কশ ও গালাগালি করবেন না।
৬: অন্য শিক্ষককের দোষ খুজবেন না। এবং ছাত্রদের সামনে মাদ্রাসার কিংবা কোন শিক্ষকের দুর্নাম করবেন না।
৭: কোন ছাত্রকে কান, ঘাড়, মাথা, ইত্যাদিতে প্রহার করবেন না। এবং হাত দিয়েও প্রহার করবেন না। ছাত্রের চেহারা, কান, মাথা ও স্পর্শকাতর কোন অঙ্গে বেত্রাঘাত করবেন না।
৮: ছাত্রদের ভালো কাজের প্রশংসা করবেন। খারাপ কাজের নিন্দা না করে বুঝিয়ে দিবেন।
৯: ছাত্র-ছাত্রীদের লেখার প্রতি বিশেষ ভাবে নজর দেন, ক্লাসে চক দিয়ে লেখানোর সময় প্রত্যেকটা ছাত্রছাত্রীর প্রতি নজর রাখেন।
১০: নিয়মিত খাতায় লেখা দেন, মাঝেমধ্যে ক্লাসে দুই থেকে তিন লাইন খাতায় লেখান।
১১: সামনে পড়ানোর আগে পিছনের পড়াগুলো জপিয়ে নেন,
নতুন পড়াগুলো বারবার নিজে বলে দেন।
১২: ছাত্রদের থেকে একজন করে পড়া শুনবেন, পড়া ভুল হলে ভুল ধরে শুধরে দিবেন।
১৩: রাগান্বিত অবস্থায় শাস্তি দেবেন না। ছাত্রকে শাস্তির উপযুক্ত হতে দেবেন না। বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
১৪: ছাত্র দ্বারা কোন ধরনের শারীরিক খেদমত নিবেন না।
১৫: কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষকের মোবাইল থেকে কোন ছাত্রকে ফোন করার সুযোগ দিবেন না।
১৬: ছাত্রের অভিভাবকের সাথে আচার ব্যবহার ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে হুশিয়ার থাকবেন। ব্যক্তিগত আদান প্রদান থেকে বিরত থাকবেন।
১৭: সুন্নতের পাবন্দি করবেন। ক্লাসের উপযুক্ত পোশাক পরিধান করবেন। ছাত্রদের তরবিয়তের প্রতি বিশেষ নজরদারী করবেন।
১৭: ঘুম, গোসল, খানা, নামাজের সময় ও আছরের পরের সময় ছাত্রদেরকে শিক্ষকের বিশেষ তত্বাবধানে রাখবেন।
১৮: প্রাতিষ্ঠানিক আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।
১৯: সব ধরনের লেনদেন পরিচ্ছন্ন রাখবেন।
২০: ছাত্রদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করবেন।
মনে রাখবেন আল্লাহ পাক আপনাকে ছাত্র গড়ার কারিগরের স্থানে বসিয়েছেন। প্রত্যেকটা ছাত্রের হক আদায় করা আপনার কর্তব্য।
হিফজ বিভাগের ছাত্রদের উদ্দেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নসীহত।
১. দৈনিক যতটুকু সবক দিবে প্রথমে ততটুকু কমপক্ষে আধা ঘণ্টা তেলাওয়াত করবে। এবং কাউকে তা দেখে পড়ে শোনাবে, যাকে সবকের নাযারা বলা হয়।
২. মাগরিবের পর ঐ পৃষ্ঠাটি ভালো ভাবে মুখস্থ করবে। সবক মুখস্থ করার নির্দিষ্ট যে নিয়ম আছে সেই নিয়মেই সবক মুখস্থ করবে।
৩. সবক প্রতিদিন ফজরের পূর্বে শোনাবে।
৪. প্রতিদিন সবক কোন ভালো ছাত্রকে শুনানোর পর হুজুরকে শোনাবে।
৫. দৈনিক অবশ্যই তেলাওয়াত করবে। যদি প্রতিদিন তেলাওয়াত করা হয়, তাহলে প্রতিদিন আমুখতা শুনাতে আরাম পাবে, ইয়াদ থাকবে। পিছনের পড়া কাঁচা রেখে সবক দিবে না।
৬. ক্লাস ছুটির পর পিছনের পড়া শুরু করে দিবে, এমন ভাবে পড়বে যাতে প্রত্যেক পারা প্রতিদিন ২/১ বার পড়া হয়।
৭. প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ১ পারা দিয়ে ৪ রাকাত নফল নামাজ পড়বে।
৮. সপ্তাহে একদিন সারা সপ্তাহে যে ভুল গুলো হবে কমপক্ষে ২০ বার জপতে হবে।
৯. ফাহেশা, বাজে, বেফায়দা, ফাজলামি মার্কা কথাবার্তা থেকে সর্বদা বেঁচে থাকবে। আছরের পর সময়টা কাজে লাগাতে হবে। আছরের পর ৩/৪ পারা পড়বে।
১০. কারো সাথে কোন রকম বন্ধুত্বে জড়াবে না এবং শত্রুতাও সৃষ্টি হতে দেবে না।
১১. যতটা কম পারা যায় বাসায় যাবার চেষ্টা করবে। একেবারে না যেতে পারলে খুবই ভাল। কারণ এতে জেহেন পরিষ্কার থাকবে।
১২. মোবাইল জিনিসটা নিজের জন্যে হারাম মানবে।
১৩. হিফয শেষ করার পর কোন বছরই যেন তারাবি পড়ান থেকে মাহরুম না হও সে খেয়াল রাখবে। এবং অবশ্যই তারাবি পড়িয়ে টাকা নেবে না।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রতি সবিনয়ে কিছু অনুরোধ!
১/ ছাত্রদেরকে মারপিট করে নিজেকে বিপদে ফেলবেন না। যার জন্য ঝুঁকি নেবেন সেই আপনার শত্রু হয়ে দাঁড়াবে।
২/ অভিভাবককে আপন মনে করবেন না।ওরা পর। সুযোগ পেলে আপনার খবর করে ছাড়বে।
৩/ ছাত্র নিয়মিত মাদ্রাসায় না এলে ছাত্রের থেকে বেশি অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
৪/ বড় কোন অপরাধ করলে মোহতামীম এবং অভিভাবকদের অভিহিত করবেন, ঝুঁকি নেবেন না।
৫/ ছাত্র বা অভিভাবকের সাথে ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করবেন না, সুযোগ পেলে কামড় দেবে।
৬/ ছাত্র অমনোযোগী হলে বা তাঁর মেধা কম হলে অবশ্যই অভিভাবককে জানাবেন।
৭/ পরীক্ষার রেজাল্ট অবশ্যই অভিভাবককে জানাবেন।
৮/ অভিভাবকদেরকেই শাসন করতে বাধ্য করবেন। যার ছেলে সেই শাসন করবে এটাই ফাইনাল।
৯/ মাদ্রাসা ও পরিচালকের সমালোচনায় থেকে নিজেকে বিরত রাখুন অন্যথায় নিজেই লজ্জিত হতে হয়।
১০/ ছাত্রদের থেকে খেদমত নেওয়া বন্ধ করুন।
যদি ধৈর্য্য এবং কৌশল কম থাকে তবে অবশ্যই অন্য কোন কাজে সময় দিন। শিক্ষকতা কঠিন কাজ।
আল্লাহ তায়া’লা সবাইকে বুঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন ।
মাদরাসা পরিচালনার নিয়ম কানুন
পৃথিবীতে দ্বীন টিকিয়ে রাখার জন্য মাদরাসা জরুরী। কিন্তু মাদরাসা দ্বারা তখনই দ্বীন রক্ষার খেদমত আশা করা যায়, যখন মাদরাসার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে সহীহ উসূল অনুযায়ী চলবে এবং মাদরাসাকেও সহীহ উসূল অনুযায়ী চালাবে। অন্যথায় না দ্বীনের হেফাযত হবে আর না নিজেদের উন্নতি সাধন হবে বরং সময় আর অর্থ নষ্ট ছাড়া কিছুই হবে না। প্রত্যেকটা মাদরাসা যেন দ্বীন রক্ষার একেকটা কেল্লায় পরিণত হতে পারে তাই নিম্নে মাদরাসার কমিটি, ছাত্র, শিক্ষক ও মুহতামিম এর জন্য দিকনির্দেশনামূলক সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করা হলো। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের উক্ত আলোচনার উপর আমল করার তাওফিক দান করুন!
১. আমরা মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি হই আর মুহতামিম হই বা সাধারণ শিক্ষক হই, আমাদের নিজেদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য দু’টি কাজ করতে হবে।
ক. কোন হক্কানী বুযুর্গের সুহবত অবলম্বন করতে হবে এবং তার সাথে ইসলাহী সম্পর্ক কায়েম রাখার মাধ্যমে দিলের দশটা রোগ থেকে মুক্ত হওয়া এবং দশটি গুণ অর্জন করার মেহনত করতে হবে।
খ. নিজের ঈমান ও আমলের তরক্কীর জন্য দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত করতে হবে। কারণ ব্যক্তি যতক্ষণ নিজের উন্নতির ফিকির না করে সে যতই উম্মতের ফিকির করুক তার দ্বারা কোন কাজ হয় না। খুব ভাল করে জানা দরকার,কোন ব্যক্তি নিজের ঈমান আমলের উন্নতির চিন্তা ফিকির না করলে তাকে দিয়ে আল্লাহ ইসলামের কাজ নিবেন না। বস্তুত নিয়ত থাকবে নিজের উন্নতির, এর মধ্য দিয়ে অন্যের উন্নতিও হয়ে যাবে। নিজের ফিকির না করে আগে অন্য লোককে ঠিক করতে গেলে শুরুতেই তার থেকে অহংকার প্রকাশ পায়। আর আল্লাহ তা‘আলা অহংকারী থেকে দ্বীনের খেদমত নেন না।
২. আমাদের মাদ্রাসা জীবিত মাদরাসা না মৃত মাদরাসা? মৃত মাদরাসা বলে ঐ মাদরাসাকে যেখানে শিক্ষকদের সকল মেহনত ছাত্রদের মধ্যে সীমিত; বাইরের জনগণের দ্বীনী উন্নতির জন্য তাদের কোন ফিকির ও মেহনত নেই।
একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয় ছাত্রের নামে এবং তা পরিচালিত হয় টাকার মাধ্যমে। ছাত্র এবং অর্থ এই দুই জিনিসতো আসবে জনগণ থেকে। আর জনগণ এগুলো তখনই দিবে যখন তাদের জন্য আমাদের মেহনত থাকবে এবং তাদের মধ্যে দ্বীন থাকবে। আর এটাই মূলনীতি কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হবে। তাদেরকে কিছুই দিব না, শুধুই চাইতে থাকবো, তাহলে কিছুই পাওয়া যাবে না। যে মাদরাসা শুধুই ছাত্রদের পিছনে মেহনত করে, বাইরে কোন মেহনত করে না সেটা হল মৃত মাদরাসা। আর যে মাদরাসা ছাত্রদের উপর মেহনত করার সাথে সাথে বাইরের মানুষের ঈমান-আমল ও কুরআন সহীহ করে দেয়া, জরুরী মাসায়িল শিখানো ইত্যাদির মেহনত করে সেই মাদরাসা হলো জিন্দা মাদরাসা। জনগণের দীনি তরক্কীর জন্য মাদরাসা পরিচালক এবং আসাতিযায়ে কেরাম নিম্নোক্ত উপায়ে মেহনত করতে পারেঃ
আম জনতা ও এলাকাবাসীর উপর দুই লাইনে মেহনত করবেঃ
(ক) তাবলীগের লাইনে ।
(খ) দাওয়াতুল হকের লাইনে।
তাবলীগের দ্বারা ঈমান শিখাবে আর দাওয়াতুল হকের দ্বারা যাবতীয় আমলের মেহনত করবে। যেমনঃ নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ, বিবাহ-শাদী কাফন-দাফন ইত্যাদি সুন্নাত মোতাবেক করার প্রশিক্ষণ দেয়া। তাবলীগের দ্বারা জনগণের ইমান মজবুত হবে এবং তাদের মাঝে আমলের আগ্রহ পয়দা হবে। আর দাওয়াতুল হকের মাধ্যমে তাদের আমল বিশুদ্ধ ও সুন্নাত তরীকায় হবে এবং তারা সহী সুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে শিখবে।
প্রয়োজনে আশপাশের একেক গ্রামকে একেক শিক্ষকের দায়িত্বে দিয়ে দিবে। তারা ঐ গ্রামের মানুষকে তাবলীগে পাঠাবে। আমলী মশকের মাধ্যমে উযু নামায ও যাবতীয় আমলের সুন্নত তরীকা শিখাবে। নূরানী পদ্ধতিতে ২/৩ মাসে চক স্লেটের মাধ্যমে তাদের কুরআন সহী করে দিবে। এভাবে ২/৩ মাস চলার পর তার পার্শ্ববর্তী গ্রামে পর্যায়ক্রমে কাজ করবে।এতে কোন গ্রামের কোন লোক মাদরাসার বিরুদ্ধে থাকবে না; বরং প্রতিটি লোক মাদরাসার পক্ষে এসে যাবে। আর এভাবেই মাদরাসা জিন্দা মাদরাসা হবে। নতুবা মাদরাসা মুর্দা থেকে যাবে।
শুধু শিশু ছাত্রদেরকে পড়ালে হবে না; পাকা দাঁড়ীওয়ালাদেরকেও ছাত্র বানাতে হবে, যাদের কবরে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। মুহতামীম সাহেব সর্বস্থানে তদারকী করবেন। কোন উস্তাদ কতটুকু কাজ করলেন তার তদারকী করবেন। এবং ঐ সকল গ্রামবাসীর ইন্টারভিউ নিবেন। দায়িত্বশীল উস্তাদগণ স্ব-স্ব এলাকায় গিয়ে আসরের নামায আদায় করবেন এবং মাগরিবের আগ পর্যন্ত উক্ত মেহনত করবেন।
ছাত্রদের উপর দুই লাইনে মেহনত করতে হবে:
(ক) তা‘লীম।
(খ) তরবিয়াত।
তা‘লীম অর্থ কিতাব পড়ানো আর তরবিয়াত হল কিতাবের ছাপানো লেখাগুলো তার শরীরে ছেপে দেয়া অর্থাৎ তাদের আমলী জীবন গঠন করে দেয়া, বাংলাতে যাকে বলে শিক্ষা-দীক্ষা। এর জন্য উস্তাদদের ‘সুহবাত ইয়াফতাহ’ হতে হবে এবং ছাত্রদেরকে হক্কানী শাইখের সুহবতে বসার ব্যবস্থা করতে হবে।
মাদরাসার হিসাব যেভাবে রাখবে:
মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আরেকটি জরুরী বিষয় হলো, মাদরাসার হিসাবটা খুবই মজবুতভাবে রাখবে। যে যেই উদ্দেশ্যে মাদরাসায় দান করবে তার টাকা সেই কাজেই ব্যয় করবে। কোন সময় যাকাত ফান্ডের টাকা যেন সরাসরি বেতন ফান্ডে না আনা হয় বা নির্মাণে খরচ না করা হয়। টাকা খাত ওয়ারী ব্যয় করতে হবে। খরচ যদি গলতভাবে করা হয় তাহলে ঐ মাদরাসার কোন ছাত্র আল্লাহওয়ালা হবে না। কোন মাদরাসায় যদি মাদরাসার সম্পদের ব্যবহার সহীহভাবে না হয় সেখান থেকে সহীহ আলেম পয়দা হয় না।
জেনেশুনে কারো হারাম টাকা নেয়া যাবে না। জানা আছে যে, এক লোকের পূর্ণ মালই হারাম-তাহলে তা নেয়া যাবে না। হ্যাঁ, নিলে সেটা টয়লেটের কাজে লাগাতে হবে। এ টাকা দিয়ে বেতন দিলে বা লিল্লাহ বোডিং এ ব্যয় করলে ছাত্র গড়বে না। আয়-ব্যয়ের ব্যাপারে খাত ঠিক রাখতে হবে।
তবে লিল্লাহ ফান্ড থেকে অন্য ফান্ডের জন্য সাময়িক করজ নেয়া জায়িয আছে। তবে তা ফেরত দিতে হবে। অথবা সহীহ পদ্ধতিতে শরঈ তামলীক করতে জানলে সেভাবে করবে। প্রচলিত হিলার আশ্রয় নিবে না, যার দ্বারা মানুষের যাকাত কুরবানী নষ্ট হয়ে যায়।
আমাদের মুরব্বীগণ বলেছেন, মাদরাসা এমন দ্বীনী প্রতিষ্ঠান, যেখানে দু’টি জিনিস যথাযথ সংরক্ষণ করা হয়। ১.মুসলমানদের সন্তানদের সঠিকভাবে তা’লীম তরবিয়াতের মাধ্যমে হিফাযত করা অর্থাৎ ইলম ও আমল শিখানো হয়।
২. মুসলমানদের অনুদান সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে হিফাযত করা। অর্থাৎ মালগুলো সঠিক খাতে খরচ করা এবং প্রত্যেকটি পয়সার হিসাব রাখা। প্রত্যেকটা আয় রশিদের মাধ্যমে হতে হবে, আর প্রত্যেকটি ব্যয় খরচের ভাউচারের মাধ্যমে হতে হবে। রশিদ ব্যতীত কোন টাকা মাদরাসায় জমা নেয়া হবে না। সব টাকা রশিদ দ্বারা মাদরাসায় ঢুকবে আর খরচের ভাউচারের মাধ্যমে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যাবে। পাকা খাতা তথা ক্যাশ বুক থাকবে, যেখান থেকে খাতওয়ারি লেজার বুকে যাবে।
হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেছেন, ক্যাশের সাথে তোমরা চারজন লোককে জড়িত কারো যাতে মাদরাসার সম্পদে কোন খেয়ানত না হয়। যার ব্যাখ্যা নিম্নরুপঃ
১. মুহতামিম বা নায়েবে মুহতামিমঃ তাঁর কাজ হল ভাউচার অনুমোদন দেয়া। এভাবে যে, তিনি দেখবেন, এই খরচটা আদৌ প্রয়োজনীয় কিনা বা কত কম টাকায় এটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায়। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন মুহতামিম বা তার নায়েব।
২. আর কমিটির কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে মাসে বা সপ্তাহে একবার ভাউচারে সই করার জন্য । তাহলে ওটা হবে চূড়ান্ত অনুমোদন।
৩. যিনি ক্যাশিয়ার হবেন, তার কাছে রশিদের মাধ্যমে টাকা জমা হবে আর অনুমোদিত ভাউচারের মাধ্যমে খরচ হবে। রশিদ দেখে-দেখে খাতার মধ্যে টাকা জমার সাইডে জমা করবে। আর যে ভাউচারগুলো অনুমোদন হয়ে এসেছে সেগুলো ডান পাশে খরচের পাতায় লেখবে। খাতার বাম পাশে জমা লিখতে হয়, আর ডান পাশে খরচ। ক্যাশিয়ারের একটা নিজস্ব খাতা থাকবে যাকে বলে জার্নাল বা কাচা খাতা। এটা নিজস্ব হিসাব ঠিক রাখার জন্য, যাতে পকেট থেকে ভর্তুকি দেয়া না লাগে। এই দায়িত্বে যারা থাকবে তাদের খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে, খাতায় খরচের কথা না লিখে কাউকে টাকা দিবে না। পরবর্তিতে খাতায় উঠিয়ে নিবো, এই মনে করে কখনো আগে টাকা দিবে না। কেননা, পরে আর মনে নাও থাকতে পারে, তখন ঐ টাকা নিজের পকেট থেকে দেয়া লাগবে।
ক্যাশিয়ার প্রতিদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখে দেখবে যে, আজকে তার হাতে কত আছে। এটাকে বলে ডেইলি ব্যালেন্স। প্রত্যেক দিন ক্যাশ মিলাবে। কারণ যে কোন সময় মুহতামিম বা কমিটির কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে যে, ক্যাশিয়ার সাহেব! আজকে আপনার ক্যাশ ইন হ্যান্ড অর্থাৎ হাতে কত টাকা আছে? তিনি সাথে সাথে বলবেন যে, আজকে আমার হাতে এত আছে। এভাবে মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নিবে যে ক্যাশ ঠিক মত আছে, না ক্যাশিয়ার সাহেব ওখান থেকে ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহ করছে।
৪. হিসাব রক্ষকঃ তার কাছে মাদরাসার পাকা খাতা থাকবে এবং লেজারবুক থাকবে , ক্যাশবুকে তো রশিদের মাধ্যমে যত টাকা এসেছে সবই বাম পাশে উঠে গেছে, আর সকল খরচাদি ডান পাশে উঠে এখানে কোন খাত পার্থক্য করা হয়নি। কিন্তু এগুলো যখন লেজারবুকে যাবে তখন জমার সাইড এবং খরচের সাইড উভয়টি খাত ওয়ারী লেজারে উঠবে। প্রত্যেক খাতের জন্য লেজার বুকে কয়েক পৃষ্ঠা বরাদ্দ করা থাকবে এবং পৃষ্ঠা নং সহ সূচিপত্র থাকবে।
ক্যাশিয়ার সাহেব আজকে যত টাকা জমা হয়েছে এবং যত টাকা ভাউচারের মাধ্যমে খরচ হয়েছে সেগুলোর রশিদ বহি ও খরচের ভাউচার আগামীকাল হিসাবরক্ষকের কাছে দিবেন। নিজের পার্সোনাল হিসাবের খাতা তাকে দিবে না। তাকে দেখাবেও না, এটা একেবারেই নিষিদ্ধ।
হিসাব রক্ষক সাহেব নিজে রশিদ দেখে দেখে জমার সাইড লিখবেন আর খরচের ভাউচার দেখে খরচের সাইড লিখবেন। এর পর যোগ-বিয়োগ করে ক্যাশ ইন হ্যান্ড বের করবেন। অতঃপর দু’জনে মতবিনিময় করবেন যে ভাই! আপনার ক্যাশ ইন হ্যান্ড কত? তখন ক্যাশিয়ার বলবেন আমার কাছে আজকে এত আছে। হিসাব রক্ষক বলবেন, আমারও এত আছে, উভয়ের কথা মিলে গেলে ঠিক আছে। আর যদি গড়মিল হয় তাহলে যেকোনো একজন ভুল করেছেন বলে ধরা হবে এবং উভয়ে হিসাব দ্বিতীয় বার ভালো করে মিলাবে ও ভুল ঠিক করে নিবে।
মুহতামিম বা হিসাব রক্ষকের কাছে টাকা থাকবে না। টাকা থাকবে ক্যাশিয়ারের কাছে। মোটকথা, অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে থাকবে দুই জন, ক্যাশে একজন, আর হিসাব রক্ষক হিসাবে একজন, মোট চারজন। এই চারজন লোক যদি হিসাবের কাজে জড়িত থাকে তাহলে মাদরাসার এক টাকাও কোন দিন অবৈধভাবে ব্যবহার হতে পারে না। চারজন একমত হলে টাকা মেরে নেয়া সম্ভব কিন্তু চারজন একমত হওয়া সহজ নয়। একই সাথে চারজন লোক গোমরাহ হবে না। সাধারণভাবে মাদরাসাগুলোতে যে হিসাব রক্ষক থাকে সেই ক্যাশিয়ার হয়, তারা একের ভিতর দুই করে রেখেছে। এটা করার কারণে যত সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সারাবছর সঠিক উপায়ে হিসেব রেখে বছরের শেষে সরকার অনুমোদিত কোন অডিট ফার্ম দ্বারা হিসাব নিরীক্ষণ করিয়ে নিবে। তাহলে আর কোন দায়দায়িত্ব থাকবে না। কেউ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ করতে পারবে না। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাযত করুক।
মোটকথা, এভাবে যদি সঠিক নিয়মে মাদরাসা পরিচালনা করে নিজের জন্য, তালিবে এলেমের জন্য এবং এলাকার লোকদের জন্য আমরা মেহনত করি, তাহলে এলাকায় দ্বীন চমকে যাবে। সকল মানুষ দ্বীনদার হয়ে যাবে, মাদরাসার মধ্যে ছাত্র সংকট ও অর্থ সংকট থাকবে না ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ আমাদেরকে আমলের তাওফীক দান করুন ! আমীন।
লেখকঃ মুফতি মনসুরুল হক হাফিঃ
ইলমে দ্বীন থেকে মাহরূম হওয়ার কারণ
মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ
এই যমানায় দ্বীন শেখার জন্য মাদরাসায় আসা বিরাট বড় কুরবানী। এত বড় কোরবানীর পর কোনো তালিবুল ইলমের মাহরূম হওয়ার কথা নয়। যে যমানায় দ্বীনী ইলমের কোনো কদর নেই, না পরিবারে, না সমাজে তখন যদি কোনো একজন মানুষ ইলমের জন্য আগ্রহী হয় এবং তা গ্রহণ করতে চায় তার তো মাহরূম হওয়ার প্রশ্নই আসে না। অথচ বাস্তবতা এই যে, ইলমের তলবে এসেও অধিকাংশ মানুষ ইলম থেকে মাহরূম হয়ে যাচ্ছে। কী এর কারণ? কেন সে মাহরূম হচ্ছে? সে দুনিয়াও ছেড়ে দিল, আবার ইলম থেকেও মাহরূম হল। এর চে’ মর্মান্তিক বিষয় আর কী হতে পারে? যে যমানায় সামান্য মেহনতের অনেক আজর দেয়ার ওয়াদা করা হয়েছে, তখন মানুষ কেন ইলম থেকে মাহরূম হয় তা চিন্তা করা দরকার। আমাদের পূর্ববর্তীগণ এর কারণগুলো সাফ সাফ বলে গিয়েছেন। এক দল তো মাহরূম হচ্ছে এই কারণে যে, তারা ইলম তলবই করেনি। তারা ইলম থেকে এমন মাহরূম হয়েছে যে, পঞ্চাশ বছর বয়সের মানুষ এমন মাসআলা জিজ্ঞাসা করে, যা আমাদের মাদরাসার ছোট একজন তালিবুল ইলম শুনলেও হেসে দেবে। অথচ সেটিই তার কাছে বিরাট বিষয়। কারণ সে যিন্দেগীতে দ্বীনের একটি মাসআলাও শিখেনি। কিন' এই অল্প ক’জন মানুষ, যাদের ইলম তলব করার সুযোগ হয়েছে তারা কেন মাহরূম হচ্ছে? এর কারণগুলো জানা দরকার এবং সেগুলো থেকে যথাসম্ভব নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। কিছু কারণ এমন আছে, যেগুলোর উপর তালিবুল ইলমের নিয়ন্ত্রণ নেই। যেমন গিযা (পানাহার) হালাল হওয়া। দ্বীনী ইলম হাসিল হওয়ার জন্য এটি একেবারে অপরিহার্য। অথচ তা তালিবুল ইলমের নিয়ন্ত্রণে নেই। তালিবুল ইলমের ভরণ-পোষণ যারা করে তাদের অনেকেই এ বিষয়ে উদাসীন। ব্যবসা-বাণিজ্য করছে অথচ মাসআলা জানে না এবং জানার চেষ্টাও করে না। কোন কারবার হালাল, কোন কারবার হারাম, অনেকেরই তা জানা নেই। অনেকে তো জেনে শুনেও হারাম পন্থা অবলম্বন করছে। অনেকে বলে যে, এই যমানায় এত বাছ বিচার করে চলা সম্ভব নয়। তাহলে আর সংসার চালানো যাবে না। তবে আলহামদুলিল্লাহ, অনেক মানুষ এমনও আছে, যারা হালাল হারাম বেছে চলার জন্য আমাদের চেয়েও বেশি ফিকির করছে। তো কোনো অভিভাবক যদি হারাম পথে উপার্জিত অর্থ তালিবুল ইলমের পিছনে ব্যয় করে আর তালিবুল ইলম তা ভোগ করে এবং তা দিয়ে তার শরীরের রক্ত-মাংস তৈরি হয় তাহলে চিরতরে তার ইলমের দরজা বন্ধ। সারা জীবন মাদরাসায় পড়ে থাকলেও তার ইলম হাসিল হবে না। এজন্য তাকে খোঁজখবর নিয়ে জানতে হবে, অভিভাবকের উপার্জন হালাল কি না। হালাল বলে নিশ্চিত হলে সে তা ব্যবহার করবে। আর হারাম হলে এর থেকে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। এর একটি ছুরত হল কোনোরকম জানটা বাঁচে-এ পরিমাণ গ্রহণ করা, এর বেশি গ্রহণ না করা। তারা দিতে চাইলেও তালিবে ইলমের কর্তব্য গ্রহণ না করা। কিন' আমাদের অনেক তালিবুল ইলমের অবস্থা তো এই যে, তার ভাই ও আত্মীয়-স্বজন হারাম উপার্জন করে, ব্যাংকে চাকরি করে, সুদি লেনদেন করে এ কথা জেনেও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যায়, হারাম থেকে বাঁচার কোনো চেষ্টাই করে না। অথচ যারা হারাম উপার্জন করে বলে জানা আছে, তালিবুল ইলম তাদের বাড়িতে যেতে পারে না, তাদের বাড়ি থেকে কিছু খেতে পারে না। নতুবা ইলম থেকে মাহরূম হতে হবে। তবে আপনার উপার্জন হারাম, এই জন্য আপনারটা খাবো না-একথা বলার প্রয়োজন নেই। প্রথম কাজ নিজে হারাম থেকে বেঁচে থাকা। যেখানে যেখানে হারাম গিযার সামান্য গন্ধ আছে তালিবুল ইলমের উচিত সেখান থেকে দূরে থাকা। তবে এমনভাবে যাতে ফেতনা না হয়। তাদের বিয়ে-শাদীতে না যাওয়া, তাদের হাদিয়া-তোহফার বিষয়ে সাবধান থাকা, ফিরিয়ে দিলে যদি ফেতনা হয় তাহলে রেখে দিবে, কিন্তু নিজেরা খাবে না, অন্তত নিজে খাবে না। গরীবকে দিয়ে দিবে। বাবার উপার্জন হারাম হলে কোনো রকম জান বাঁচে-এ পরিমাণ গ্রহণ করবে। আর ইসতেগফার করে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে যে, আল্লাহ! আমার জন্য হালাল গিযার ব্যবস্থা করে দাও। আমার ইলমের পথের এই বাধা দূর করে দাও। আর যা উপায়হীন অবসস্থায় গ্রহণ করছি আমার জন্য তা হালাল করে দাও। বাবার জন্য দোয়া করবে যে, আল্লাহ তুমি তাঁকে হারাম উপার্জন থেকে ফিরিয়ে আন এবং হালাল উপার্জনের তাওফীক দাও। এভাবে ভিতরে যদি তড়প ও অস্থিরতা আসে তাহলে আল্লাহ তাআলা অন্তত তার জন্য ঐ গিযাটা হালাল করে দিবেন। তারপর মা বাবাকে জানানো দরকার যে, সস্তানের ইলমের জন্য পিতামাতার হালাল-হারাম বেছে চলা জরুরি। যে ঘরের উপার্জন হালাল নয় সে ঘরে ইলম আসে না। সন্তানকে মাদরাসায় দিলেও তার যিন্দেগী কামিয়াব হয় না। না দুনিয়াতে, না আখিরাতে। বহু ছেলে এভাবে বরবাদ হচ্ছে। কেউ কারণ খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে না। আমার মনে হয়, এর মূল কারণ হল, হারাম গিযা। থানভী রাহ. বলেছেন মাদরাসায় কোনো তালিবুল ইলমকে দাখেল করার সময় খবর নাও যে, অভিভাবকের উপার্জন হালাল কি না। আমরা তো খবর নেই না, এমনকি এই প্রশ্নটাও করি না যে, আপনি কী চাকরি করেন, আপনার আয় কত? আপনার অন্যান্য উপার্জন কী? আমি একটা ভর্তি ফরম তৈরি করেছিলাম যাতে এই সব প্রশ্ন ছিল। কিন্তু তা চালু করতে পারিনি। আমার সঙ্গীরা বলল, এতে ফেতনা হবে। কিন্তু কী লাভ হয়েছে! যারা মাহরূম হওয়ার তারা তো মাহরূম হচ্ছেই। অনেক ছেলেকে দেখি, সুন্দর লেখাপড়া করছে, হঠাৎ বলে যে, আমার লেখাপড়া করতে মন চায় না। পালিয়ে যায়। কোনো মারধর করা হয় না। আদর আপ্যায়নের সাথে পড়ানো হয়। পালিয়ে যাওয়ার বাহ্যিক কোনো কারণ নেই। তবুও পালিয়ে যায়। আমরা এর কারণ তলিয়ে দেখি না। এর প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল হারাম গিযা। এই হারাম গিযা থেকে তালিবুল ইলমের বাঁচার উপায় হল একেবারে যতটুকু না নিলে নয়, ততটুকু নেবে। অতিরিক্ত নেবে না। দিতে চাইলেও এই বলে ফিরিয়ে দেবে যে, আমার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এখন ফিরিয়ে দেওয়া তো দূরের কথা, জোর করে আরো বেশি আদায় করার চেষ্টা করে। অথচ এই অতিরিক্ত খরচটা তার ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার কারণ। এটা খুব নাযুক এবং স্পর্শকাতর বিষয়, কিন' না বলে তো উপায় নেই। অভিভাবকদের মধ্য থেকে যাদের সাথে কথা হয় তাদেরকে বলা দরকার যে, আপনার উপার্জন হালাল করার চেষ্টা করুন। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে ছেলেকে মাদরাসায় দেবেন না। দিলে ছেলের ইলম শিক্ষা হবে না। দুনিয়াও বরবাদ হবে, আখেরাতও বরবাদ হবে। কাবা ঘর নির্মাণের সময় কাফের-মুশরিকরা পর্যন্ত হালাল উপার্জন দ্বারা আল্লাহর ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করেছে। তারা ভেবেছিল আল্লাহর ঘর নির্মাণের সময় হারাম মাল ব্যবহার করলে আল্লাহর কাছে রেহাই পাব না। হালাল উপার্জন দ্বারা নির্মাণের চেষ্টা করেছিল বলেই একটি অংশ তারা নির্মাণ করতে পারেনি, ছোট করে নির্মাণ করতে হয়েছে। এখন মুসলমানদের দেশে সরকারী পয়সা ব্যয় করে স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি তৈরি হচ্ছে। সরকারী পয়সায় হালাল হারামের কোনো বাছ-বিচার নেই। প্রকাশ্যে হারাম রাজস্ব সরকারী তহবিলে জমা হচ্ছে। সুতরাং ঐ সকল স্থান থেকে যারা লেখাপড়া করে বের হবে তারা কিছু শব্দ ও বাক্য শিখতে পারে, কিন্তু মানুষ হতে পারে না। কাফেরদের দেশে হবে, কিন' মুসলমানদের সন্তান হারাম পয়সায় লেখাপড়া করে মানুষ হবে না। এই জন্য মাদারেসে কাওমিয়্যা সব সময় সরকারী সাহায্য থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখছে। একইভাবে ব্যক্তিগতভাবে যাদের ঘরে হারাম উপার্জন হয় তাদের ঘরে ইলম আসার কথা নয়। হাঁ, ঘরে হারাম উপার্জন হওয়া সত্ত্বেও তালিবুল ইলম যদি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে তাহলে আল্লাহ তাআলা হিফাযত করবেন। বেঁচে থাকার উপায় কী? যতটুকু না খেলে আমি বাঁচতে পারব না, যতটুকু কাপড় না হলে আমার সতর ঢাকবে না, এ পরিমাণ নেওয়া, এর বেশি না নেওয়া। আর হারাম উপার্জনকারী আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে না খাওয়া এবং তাদের হাদিয়া গ্রহণ না করা। ইলম থেকে মাহরূমীর দ্বিতীয় কারণ হল বাড়িতে আল্লাহর নাফরমানী হওয়া। যে বাড়িতে আল্লাহ তাআলার নাফরমানী হয়, নাচ গান হয়, পর্দা-পুশিদা নেই, মা পর্দা করে না, বোন পর্দা করে না, বাবা পর্দা করে না সে বাড়িতে ইলম আসবে না। এগুলোর উপর যদিও তালিবুল ইলমের নিয়ন্ত্রণ নেই তবুও এগুলো তার ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার অনেক বড় কারণ। এটা থেকে সে বাঁচবে কীভাবে? সে নিজে পর্দা করবে। এই মাদরাসার একজন তালিবুল ইলমকে জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার ভাবী আছে? সে বলল, আছে। ভাবীর সাথে দেখা দাও? বলল, জ্বী। ভাবীর সাথে পর্দা করা যে জরুরি তাকি জানো? বলল, না। তোমার আব্বা কোথায়? বলল, হজ্বে গেছেন। হজ্ব থেকে আসলে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলবে। তার পিতা এলে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সে কি ঘরে ভাবীর সাথে পর্দা করে? তিনি বলেন কি, এক ছাদের নিচে থাকলে পর্দা করা কি সম্ভব? আমি বললাম, আপনি যদি ঘরে পর্দা রক্ষা করতে না পারেন তাহলে আপনার ছেলের ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার আশঙ্কা আছে। কোনো গুরুত্ব দিল না। এমনকি ছেলেটাও না। এরপর বছরখানেকের মধ্যেই লেখাপড়া থেকে তার মন উঠে গেল। সে আর পড়ল না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাড়িতে পর্দা না থাকার কারণে ছেলেটা ইলম থেকে মাহরূম হল। এজন্য তালিবুল ইলমের বাবা-মার উচিত পর্দা করা, তালিবুল ইলম চেষ্টা করে যদি বাড়িতে পর্দা না আনতে পারে তাহলে অন্তত নিজের পর্দাটা রক্ষা করা কর্তব্য। যাদের সাথে পর্দা করা জরুরি সে যদি তাদের সাথে পর্দা করে তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাকে ইলম দান করবেন, তাকে মাহরূম করবেন না। বাড়িতে নাচগানের ব্যবস্থা আছে কিন' সে ঐগুলো থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে মাফ করে দিবেন। আর এখন তো তালিবুল ইলম-আল্লাহ তাআলা হিফাযত করুন-নিজেই মাদরাসায় নাচগানের ব্যবস্থা করে নেয়। মাদরাসায় যন্ত্র নিয়ে আসে! ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার এর চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে? যার মা বাবা বাড়িতে নাচগানের ব্যবস্থা করে ঐ ছেলের ইলম হাসিলের কোনো সম্ভাবনা নেই, তার মাহরূম হওয়া নিশ্চিত। আল্লাহ তাআলা যদি তাঁর দ্বীনকে হিফাযত করতে চান তাহলে ঐ ছেলেকে আলিম বানাবেন না। কোনো না কোনো ভাবে সে ইলম থেকে মাহরূম হয়েই যাবে। আজ হোক কিংবা আগামী কাল। এখন বাঁচার একমাত্র উপায় হল ঐগুলোকে অন্তর থেকে ঘৃণা করা এবং তাতে শরীক না হওয়া। তাহলে আল্লাহ মেহেরবানী করে তাকে ইলম দিয়ে দিবেন। মোটকথা, প্রতিকূল পরিসি'তিতেও তালিবুল ইলম যদি হারাম গিযা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে, পর্দার উপর পুরা মযবুতীর সঙ্গে আমল করে এবং নাচগান ইত্যাদি গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা তাকে ইলম দান করবেন। এ ধরনের আরো কিছু কারণ আছে, যেগুলোর উপর তালিবুল ইলমের নিয়ন্ত্রণ নেই, কিন্তু সেগুলো থেকে বাঁচার উপায় আল্লাহ তাআলা রেখেছেন। পক্ষান্তরে কিছু কারণ আছে যেগুলোর উপর তালিবুল ইলমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে, কিন্তু তালিবুল ইলম তা থেকে বেঁচে থাকে না। এটা তো আরও মারাত্মক। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইলমের পথের সকল বাধা থেকে বেঁচে থাকার এবং ইলম হাসিল হওয়ার যাবতীয় আসবাব ইখতিয়ার করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
আপনার কাছে যদি মাদরাসা মসজিদের খেদমতকে খেদমত মনে না হয় বরং চাকুরী মনে হয়। তাহলে আপনি এ পথে না থাকাই ভালো।
কারণ এ পথে কষ্ট আছে, শ্রম আছে কিন্তু সে পরিমান পারিশ্রমিক নেই, সযোগ সুবিদা নেই। এখানে জবাব দিহিতা আছে তবে মূল্যায়ন তেমন নেই।
এ সব কষ্ট যদি আপনি লিল্লাহ্ করতে পারেন। তাহলে দুনিয়ার মানুষ আপনাকে ঠকালেও আল্লাহ্ আপনাকে ঠকাবে না। খেদমত করে মজা পাবেন। সাময়িক কিছু কষ্ট হলেও ইখলাস আর যোগ্যতা থাকলে এক সময় সবকিছু মালিক সহজ করে দিবেন। ইনশাআল্লাহ্
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
South Sheyachar, Fatullah, Narayanganj
Dakshin Khan
1421