13/04/2026
সিনিয়র পেশ ইমাম কাম পেশ ইমাম কাম ইমাম কাম মুয়াজ্জিন কাম মুছাল্লী (মুক্তাদী শূন্য অবস্থায়) কাম খাদেম (অল ইন ওয়ান)
এমন অনেক মসজিদ আছে, যেখানে উক্ত সব দায়িত্বে থাকেন একজন মাত্র লোক। তার সম্মানী/ ভাতা/ বেতন যাহাই বলুন সর্বসাকুল্যে পাঁচ বা দশহাজার টাকা। ইসলামে বৈরাগ্যর স্থান নেই বিধায় তারও পরিবার পরিজন আছে। পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে তাকে অন্য কাজও করতে হয়। এত এত ঝামেলার মাঝে কখনো যদি ট্যাংকে পানি ওঠাতে ভুলে যায় কিংবা ঝাড়ু দিতে না পারে; তবে তার খাইর নেই। অন্যান্য কর্মস্থলে নির্দিষ্ট বস থাকলেও এখানে সবাই বস; সবাই তাকে বকাঝকা দিতে পারবেন, এমনকি চড় থাপ্পড়ও। তাকে সকলের মন রক্ষা করে চলতে হয়, অন্যথায় যে কেউ বলে দিতে পারেন, আর আসিও না! সবাই তাকে দেমাগ দেখাতে পারলেও সে পারবে না। কারণ, এখানে সে ছাড়া সবাই মালিক, সবাই আরবাব, সবাই প্রভু!
আমাদের দেশে ধনীদের একটি কমন ডায়লগ আছে, “ভাত ছিটালে কাকের অভাব নেই ”। সত্যিই নূতন একটা লোক তারা পেয়েও যান! কারণ, এই পেশার মানুষগুলো ভাবে, নূতন কোনখানে নিয়োগ হলে বেতন একটু বাড়তে পারে; বেতন না বাড়লেও হয়তো একটু ভালো ব্যবহার পাবে! দিন কয়েক যেতে না যেতেই তারা দেখতে পায়, আশার গুড়ে বালি!
উক্ত পরিস্থিতি রাতারাতি কিংবা আপনাআপনি পাল্টে যাবে না। এই পেশার মানুষগুলো নিজেরা নিজেদের স্বার্থে এগিয়ে না এলে অন্য কেউ তাদের হয়ে কাজ করবে বলে মনে হয় না।
তাদের করুন অবস্থা দেখে মনে হয়, তাদের জীবনটাই রোবটিক; তাদের আবেগ-অনুভূতি-আত্মসম্মানবোধ কবেই মরে গেছে! এই জীবন্ত লাশগুলোর মাঝে যে প্রাণ আছে, সেই চেতনা জাগ্রত করার জন্য ইরানি কবি সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন কাজভিনির একটি কবিতার চম্বুকাংশ ঈষৎ পরিবর্তন করে তুলে ধরা হলো।
শোষণের চিত্র: (বড়লোক মুতাওয়াল্লী/কমিটি/মুছাল্লীর দম্ভ)
“খোদার ঘরে বসিয়ে প্রভু কহিল-
নিজ দাসে;
ফ্যানের সুইচ অন করো জুড়াই দেহ বাতাসে!
হুকুম তামিলের জন্যই শুধু ভবে সৃজন তোর ;
আমরা এসেছি এথা ভোগবিলাসে রইতে ভোর!
তোর পেটে ভাত থাক বা নাইবা থাক;
সহাস্যে সকলে বলতে হবে সালামুন আলাইক!”
ভাগ্যের দোহাই: (শোষকের অজুহাত)
আদি থেকে মোদের ভাগ্য ছিল নির্ধারিত ,
ধুলো উড়িয়ে ঘোড়া দৌড়াব; তুমি পদদলিত!
আমরা খাবো হরেক রকম সুস্বাদু খাবার;
তুমি খাবে হিয়ার খুন আর চড় থাপ্পড়!
কবির প্রতিবাদ:
ওঠো জেগে ভাই হে! এসেছে সময়,
আপন অধিকার নাও ছিনিয়ে, হয়ে নির্ভয়।
মুখ বুজে আর কতকাল সইবে অবিচার;
দৃঢ়পদে এগিয়ে চলো, নাশো স্বৈরাচার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি পুরো বাংলাদেশের লক্ষ কোটি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর বিশেষ একটি শ্রেণী পেশার মানুষের কথা উল্লেখে সকল অত্যাচারিত অবহেলিত মানুষের চিত্রায়নের প্রয়াস।
দেশের মসজিদগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরক....