02/06/2026
প্রথম গ্র্যান্ড রিইউনিয়ন-২৬
নিউ হোস্টেল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ
নিউ হোস্টেলে আমাদের পথচলা শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। তখন থেকেই দেখতাম বিভিন্ন ব্যাচের বড় ভাইয়েরা পরম মমতায় হোস্টেলে ফিরে আসতেন পুরোনো দিনগুলোর খোঁজে। বড় ভাইদের মুখে শুনতাম, আমাদের এই প্রিয় প্রাঙ্গণে কখনোই সব ব্যাচের কোনো রিইউনিয়ন হয়নি । অথচ নিউ হোস্টেলের অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দেশের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরেই আমাদের এই হোস্টেলের কৃতী ভাইয়া সুনামের সাথে কাজ করছেন।
হোস্টেল ছাড়ার পর প্রায়ই বিভিন্ন সিনিয়র ভাইদের কাছে রিইউনিয়নের কথা বলতাম। তবে আমরা ছিলাম সবচেয়ে জুনিয়রদের মধ্যে, তাই বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব পেত না। এরপর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আমাদের ব্যাচ নিজেদের উদ্যোগে ইফতার আয়োজন করি। সেই সময় অনেক সিনিয়র ভাই উৎসাহ দিয়ে বলতেন, 'সব ব্যাচকে নিয়ে কিছু করা যায় না?হাদী'
বিশেষ করে ১৯ ব্যাচের মহাশিন ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলেই রিইউনিয়নের প্রসঙ্গ উঠত। ধীরে ধীরে স্বপ্নটা আরও বড় হতে থাকে। রমজান মাসে কয়েকজন সিনিয়র ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই-সব ব্যাচকে নিয়ে একটি ইফতার আয়োজন করা হবে। কয়েক দিনের প্রস্তুতিতে প্রায় ১৬০ জনের সেই ইফতার আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সেই আয়োজনের সময় আমি, ১৯ ব্যাচের আরমান ভাই ও রানা ভাই শফিউল্লাহ মুন্সি ভাইয়ের অফিসে যাই। আগে কোনো পরিচয় না থাকলেও, “নিউ হোস্টেল” শব্দটি উচ্চারণ করার পর ভাই যে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন, তা আজও মনে গেঁথে আছে। উনার আন্তরিকতায় রিইউনিয়নের ভাবনাকে আরো জোরালো করে।
পরবর্তীতে নিউ হোস্টেলের সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে থাকি। অনেককে মেসেজ দিয়েছি, কেউ সাড়া দিয়েছেন, কেউ হয়তো ব্যস্ততার কারণে দিতে পারেননি। এই সময়টায় শিহাব ভাইয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতে থাকে। মূলত ভাই কাছ থেকেই প্রথম নিউ হোস্টেল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের বিষয়টি জানতে পারি। ফয়সাল করিম ভাই, শফিউল্লাহ মুন্সি ভাই, রাসেল ভাইসহ আরও অনেক সিনিয়র ভাইয়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সেই সংগঠনের ভিত্তি তৈরি হয়।
বিশেষভাবে বলতে হয় শিহাব ভাইয়ের কথা। তিনি এবং শাখাওয়াত ভাই ৮০/৮৫ ব্যাচ থেকে শুরু করে ১৯/২০ ব্যাচ পর্যন্ত সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে নিরলস কাজ করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নিউ হোস্টেলিয়ানদের একত্রিত করার পেছনে ভাইদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি প্রায়ই ভাইকে রিইউনিয়নের জন্য বিরক্ত করতাম। ২০২৪ সালে শিহাব ভাই দেশে এলে আমরা কয়েকজন সিনিয়র-জুনিয়র মিলে ভাইয়ের গ্রামের বাড়িতে যাই। কিন্তু ভাইয়ের ছুটি কম থাকায় তখন রিইউনিয়নের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে আবার নতুন উদ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
আতাউর রহমান জসিম ভাই, শফিউল্লাহ মুন্সি ভাই, শিহাব ভাই, সাজ্জাদ, রাকিব সহ আরও অনেকের ধারাবাহিক জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠিত হয়। সেই থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ ৬-৭ মাসের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি।
এই পুরো আয়োজনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন ডা.আতাউর রহমান জসিম ভাই। বিভিন্ন কমিটি, উপ-কমিটি, সমন্বয় এবং সার্বিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাইয়ের নেতৃত্ব ও পরিশ্রম ছিল অসাধারণ। কুমিল্লা ও ঢাকায় ধারাবাহিক মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রথমে প্রায় ৩৫০ জনের ইফতার আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এরপর অসংখ্য জুম মিটিং ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত নিউ হোস্টেলের ১ম গ্র্যান্ড রিইউনিয়নের তারিখ।
এই মহাযজ্ঞের আরেকজন প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এম. এম. খোরশেদ আলম মজুমদার স্যার। স্যারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং নিরলস উৎসাহ পুরো আয়োজনকে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। স্যারের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন বাস্তবায়ন করা সত্যিই কঠিন হতো।
১৯৬৫ ব্যাচ থেকে ২০২৬ ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ নিউ হোস্টেলিয়ানের অংশগ্রহণে এই আয়োজন বাস্তবে রূপ নেয়। এর পেছনে পৃষ্ঠপোষক, উপদেষ্টা, বিভিন্ন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং অসংখ্য সিনিয়র-জুনিয়র ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে।
এদের মধ্যে কয়েকজনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতেই হয়; কারণ তাঁদের ছাড়া এই আয়োজনের গল্প সম্পূর্ণ হয় না।
মোস্তফা কামাল ভাই-৮৫ শিল্পপতি, আল মোস্তফা গ্রুপ প্রধান পৃষ্ঠপোষক
আব্দুল্লাহ আল মামুন ভাই'৮৬
ডা. আব্দুল করিম ভাই'৯২
খোরশেদ আলম'৯২
ইকবাল ভাই'৯৪
কানন ভাই'৯৪
মজিবুর ভাই'৯৬
শামছুল আরেফীন ভাই'৯৬
খিজির আহমেদ ভাই'৯৬
মো. সালাহউদ্দিন ভাই'৯৮
মো. শাকিল ভাই'৭
রিয়াজুর রহমান ভাই'৮
শফিউল্লাহ মুন্সি ভাই'১০
রাফাত ভাই' ১৩
আবদুর রহিম ভাই'১৩
শিহাব উদ্দিন ভাই'১৬
তোফায়েল ভাই' ১৬
শাখাওয়াত ভাই'১৬
সাইফুল ভাই'১৬
শামিম ভাই'১৭
মেহেদী ভাই,১৯
সাঈদ ভাই'১৯
আরমান ভাই'১৯
সাজ্জাদ '২২
রাকিব '২৩
এছাড়াও আমাদের অসংখ্য ভলান্টিয়ার ও ব্যাচ রিপ্রেজেন্ন্টেটিভ ভাইরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের সবার অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।
এই ঈদের ছুটিতে আমরা বাড়ির টানে মাত্র একটা দিন ঘরে থাকতে পেরেছি। আয়োজনের শেষ দিনগুলোতে আমরা ভলান্টিয়াররা দৈনিক মাত্র ৪/৫ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছি। ঈদের ছুটির কারণে ক্যাম্পাসের আশেপাশের সব খাবারের দোকান বন্ধ থাকায় খাওয়া-দাওয়া নিয়ে প্রচণ্ড কষ্ট ও ‘প্যারা’ পোহাতে হয়েছে। কিন্তু আজ যখন আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ও মোস্ট সিনিয়র ভাইরা মেসেজ দিয়ে বলেন "তোমাদের আয়োজন দারুণ সফল হয়েছে", তখন মনে হয় আমাদের বিগত কয়েক মাসের সব কষ্ট, বিনিদ্র রজনী আর পরিশ্রম এক নিমেষেই সার্থক হয়ে গেছে।
হাজারো মানুষের এই বিশাল আয়োজনে আমাদের অজান্তেই হয়তো কিছু ভুল-ত্রুটি হয়ে গেছে। আশা করি আমাদের সব ভুল-ত্রুটিকে আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
পরিশেষে, আপনাদের এই ছোট ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন, যেন আগামী রিইউনিয়নের আগেই একটি সম্মানজনক পরিচয় তৈরি করতে পারে।
নিউ হোস্টেলের বন্ধন চিরটাকল অক্ষুণ্ণ থাকুক🤍
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা
১) এমপি মনিরুল হক চৌধুরী মহোদয় (৬৫)
২) জনাব খালেকুজ্জামান (৬৬)
৩) বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল চৌধুরী (৭০)
৪) সাবেক এমপি আব্দুল গফুর ভুঁইয়া সহ যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন ও উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত করেছেন।
৫) বার্ড কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে ডিজি মহোদয় এবং পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন (৮৬), পরিচালক প্রশিক্ষণ, যিনি সর্বদা আমাদের সাথে ছিলেন। তিনি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আহ্বায়ক হিসেবে
সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল হাদি(২০২২) সহ কমিটির সদস্যদের নিয়ে চমৎকার আয়োজনে ভূমিকা রেখেছেন।
৬) জেলা প্রশাসনের পক্ষে ডিসি মহোদয় সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।
৭) বিশেষ কৃতজ্ঞতা পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের প্রতি। পুলিশ প্রশাসনের সাথে সার্বিক সমন্বয় ও নির্দেশনা প্রদান করে আমাদের অংশগ্রহণকারী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের আগমন ও নিরাপত্তার সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন ৯১ ব্যাচের পুলিশ কমিশনার জনাব ফয়েজুল কবির। তাঁকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
৮) ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ, নিউ হোস্টেলের বর্তমান ও প্রাক্তন সুপার এবং সহকারী সুপারবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
৯) আমন্ত্রিত অতিথিদেরও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
১০) ২০০৩ ব্যাচের ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষক গুলজার হাসান ও বিএনসিসি-র চৌকস দলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ।
ধন্যবাধান্তে
আবদুল্লাহ আল হাদী
ব্যাচ-২০২২