10/03/2016
.কয়েক দিন আগের কথা। বাংলাদেশ আর ভারতের ক্রিকেট ম্যাচ। একসঙ্গে খেলা দেখার জন্য গেলাম বন্ধুর বাসায়। খেলা দেখতে বসেছি, এমন সময় চলে গেল বিদ্যুৎ! খেলার মাত্র দুই ওভার গেছে তখন, মেজাজটা গেল চরম বিগড়ে! কী করব ভাবছিলাম, খেলার আপডেট তো পেতে হবে। বন্ধু বলল, ‘মোবাইল ফোনে রেডিওটা অন কর, অ্যাটলিস্ট ধারাভাষ্য শোনা যাবে।’ যেমন ভাবা তেমন কাজ, মোবাইল ফোনে রেডিও অন করে দুই বন্ধু ধারাভাষ্য শুনতে লাগলাম।রেডিও অন করেই শুনলাম ধারাভাষ্যকার বলছেন, ‘বোলার বল নিয়ে দৌড়ে আসছেন, ব্যাটসম্যান ব্যাট চালিয়েছেন, ছয় হওয়ার সম্ভাবনা...কিন্তু না, বল ড্রপ খেয়ে সীমানার বাইরে! একটা দারুণ টক-ঝাল-মিষ্টি চার।’তারপর বেজে উঠল জিঙ্গেল, ‘মন চাটনি, খাইলেই সুখ!’বন্ধু আমার দিকে তাকিয়ে রইল অবাক দৃষ্টিতে। যা হোক এরপরের বলে আবার ধারাভাষ্যকার বলতে শুরু করলেন, ‘বোলার হাঁটি হাঁটি পা পা করে বল নিয়ে এগিয়ে আসছেন, ব্যাটসম্যান ব্যাট দিয়ে আলতো টোকা দিলেন, একটি রান...না! ব্যাটসম্যানদের অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় একটি জবা লিপ জেল দুই রান।’আবার জিঙ্গেল, ‘জবা লিপ জেল, ঠোঁটে ঠোঁটে কথা হয়।’এবার আমি বন্ধুর দিকে তাকিয়ে রইলাম অবাক হয়ে। আবার ধারাভাষ্যকার শুরু করলেন, ‘বোলার আসছেন দৌড়ে, পুরো যেন চ্যাম্পিয়ন গাড়ির টায়ারের মতো বেগে! বল করলেন এবং ব্যাটসম্যান হাঁকিয়ে ব্যাট চালালেন, কিছু হওয়ার সম্ভাবনা...কিন্তু না! একদম শিউলি ওয়াশিং পাউডার ক্লিন বোল্ড।’ আবারও জিঙ্গেল, ‘শিউলি ফুলের সুবাসে, শিউলি ওয়াশিং পাউডার, মিটিয়ে দেবে আপনার কাপড়ের ফরসা হওয়ার আবদার।’এবার আর কেউ অবাক হলাম না। ধারাভাষ্যে মনোযোগ দিলাম, ‘যাঁরা বাংলাদেশের খেলা দেখে হতাশ, তাঁরা খেয়ে নিতে পারেন লায়ন এনার্জি ড্রিংক। লায়ন এনার্জি ড্রিংক, হতাশা কেটে যাবে নিমেষেই!’হতাশ হব কী করে, হাসতে হাসতে আমাদের গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা। শুরু হলো পরের বল, ‘বোলার এবার আগের চেয়েও তীব্র গতিতে বল করলেন। ব্যাটসম্যান ব্যাট চালালেন জোরে এবং একটি মিসেস ট্যাংগো ছক্কা! বল একদম মাঠের বাইরে। মিসেস ট্যাংগো, একবার খাইলে বারবার খেতে হয়।’ধারাভাষ্যকার এখানেই ক্ষান্ত নন, ‘বাংলাদেশের খেলা দেখে খুশি হলে করিয়ে নিন খুশি লাইফ ইনস্যুরেন্স। খুশি লাইফ ইনস্যুরেন্স, বেঁচে থাকুন, খুশি থাকুন।’বন্ধু জিজ্ঞেস করল, ‘দোস্ত, এরা কী খেয়ে খেলার ধারাভাষ্য দিচ্ছে?’ ভাবছিলাম উত্তরে কী বলব, এমন সময় বিদ্যুৎ চলে এল। আবার টিভি ছাড়তে যাব, তখন বন্ধু বলল, ‘না দোস্ত, থাক, টিভি ছাড়ার দরকার নেই। রেডিওতে ধারাভাষ্য শুনেই যা বিনোদন পাচ্ছি আর খেলা দেখার দরকার নেই। বরং এদের কথাবার্তাই শুনি।’