02/05/2016
বাংলাদেশে রেকর্ড ভাঙ্গা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: খবড় প্রচারে বিবিসি বাংলা এগিয়ে
২ নভেম্বর ২০১৪, (শেষআলো ডটকম): বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল গতকাল শনিবার। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত প্রায় ১০ টা পর্যন্ত গোটা দেশ একযোগে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে গিয়েছিল।
নেমে এসছিল ব্যাপক জনদুর্ভোগ। কলকারখানার উৎপাদন,ব্যবসা বাণিজ্যের কাজ, হাসপাতাল সেবা, ইন্টারনেট, গ্যাস ও পানি সরবরাহ এভাবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখা দেয় চরম বিপর্যয়।
একদিন পর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আজ বলেছেন, জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের শিকার হয়ে গোটা বাংলাদেশ দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যুৎহীন থাকার পর আজ (রোববার) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে ।
রোববার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানতে চান -কী কারণে বিদ্যুতের এমন বিপর্যয় হয়েছে? জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে চাই না। তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন হাতে এলে সঠিক তথ্য দেয়া যাবে। তার আগে কিছু বললে ‘কনফিউশন’ তৈরি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দাবী করেন, “এখন সারাদেশে ৪,৯০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪,৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। কোথাও কোনো লোডশেডিং নেই।”
শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাংলাদেশ ও ভারতের সরবরাহ লাইনে ত্রুটি থেকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের খবরটি প্রথম পাওয়া যায়। তারপর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যুত বিপর্যয় সম্পর্কে ভেড়ামারার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানকার সঞ্চালন লাইন দিয়ে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। ভেড়ামারার রামকৃষ্ণপুরে অবস্থিত ৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ভারত-বাংলাদেশ ব্যাক টু ব্যাক বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রে আকস্মিক বিপর্যয় থেকেই এ বিপদ ঘটেছে।
গ্রিড বিপর্যয়ের পরে আরও বড় সঙ্কট এড়াতে দেশের নানা প্রান্তে অবস্থিত মোট ৯ টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়।
তবে ঠিক কোথা থেকে কিভাবে সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে তা আজকের সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার করতে চান নি প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী।
শনিবারের বিদ্যুত বিপর্যয় প্রসঙ্গে পিডিবি’র সাবেক পরিচালক এ এস এম বজলুল হক জানান, এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে এবার বেশী সময় ধরে বিদ্যুতবিহীন থেকেছে গোটা দেশ। যে কোন সময় যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটতেই পারে তবে সেটা এড়িয়ে চলতে হলে যন্ত্রপাতি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষন করা দরকার। পুরনো যন্ত্রপাতি বদলানো দরকার।
এ প্রসংগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইনজিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড: এ হাসিব চৌধুরী বলেন, আমাদের বিদ্যুত ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। বড় ধরনেরর বিপর্যয় এড়াতে হলে যে সব প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকা দরকার তা এযাবত গ্রহণ করা হয় নি।
এদিকে, ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা আজ এক রিপোর্টে দাবি করেছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে ভারতের কোনো ভূমিকা নেই। পত্রিকাটিতে প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “শনিবার সকাল ১১টায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুরু হওয়ার পরে কোনো কোনো মহল থেকে এ জন্য ভারতকে দায়ী করে নানা খবর প্রচার করা হয়। এর ফলে নানা বিভ্রান্তি দেখা দেয়।”
শনিবার নাটোরে বিরোধী দল বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক বিশাল জনসভায় অভিযোগ করেন, ঐ সভার টেলিভিশন সম্প্রচার আটকাতেই সরকার দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
ভয়াবহ এবং নজীরবিহীন এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের খবড় দেশীবিদেশী সব ইলিক্ট্রিক ও প্রীন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে প্রচার, প্রকাশ ও আপডেট করে ।আপডেটের দিকদিয়ে বিবিসি বাংলা সবার শীর্ষে। ১লা নভেম্বর ২০১৪, তারা তিনটি আপডেট নিউজ প্রকাশ করে এবং ২ নভেম্বর ২০১৪ তারা ২টি আপডেট নিউজ প্রকাশ করে ।যা হুবাহু নিন্মে প্রকাশ করা হলো ।
১মঃ বাংলাদেশ জুড়ে বিদ্যুৎ নেই
বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ত্রুটির কারণে আজ সকাল থেকে সারা দেশের সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
আজ সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একে একে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে।
ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর অফিস, পার্লামেন্ট, এবং অন্যন্য সরকারি ভবনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে জেনারেটরের থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ দিয়ে কাজ চলছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, জাতীয় গ্রিডে কারিগরী সমস্যার কারণে পুরো দেশ জুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে।
সমস্যাটি ঠিক কি তা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মি. হামিদ সুনির্দিষ্টভাবে না জানালেও বলেছেন, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের রিপোর্ট পেলেই প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছে তা জানা যা