31/05/2026
🛑 আপনার কি মনে হয় শিক্ষকতা মানেই খাতা দেখার পাহাড় আর অবিরাম দুশ্চিন্তা?
আমিও একসময় এটাই ভাবতাম, কিন্তু আজ এমন ১০টি অ্যাপ শেয়ার করছি যা আপনার শিক্ষকতার ধরণ চিরতরে বদলে দেবে। গতানুগতিক পদ্ধতিতে সময় নষ্ট না করে, আজ থেকেই স্মার্টলি কাজ শুরু করার সময় এসেছে!
আপনার লাইফস্টাইল বদলে দেওয়ার জন্য ১০টি অপরিহার্য অ্যাপ:
১. Google Classroom: ক্লাসের সব কার্যক্রম এক জায়গায়। অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া ও গ্রেডিং করার ঝামেলা শেষ।
২. Canva for Education: মাত্র কয়েক ক্লিকেই প্রফেশনাল স্লাইড, পোস্টার ও ওয়ার্কশিট ডিজাইন। (শিক্ষকদের জন্য ফ্রি!)
৩. Notion: আপনার পুরো বছরের লেসন প্ল্যান, নোটস এবং ডাটাবেজ গুছিয়ে রাখার অল-ইন-ওয়ান হাব।
৪. Quizlet: স্টুডেন্টদের জন্য ফ্ল্যাশকার্ড ও গেমের মাধ্যমে পড়াশোনাকে করুন আনন্দদায়ক।
৫. Nearpod: লেসনকে করুন ইন্টারঅ্যাক্টিভ। রিয়েল-টাইম কুইজ ও ফিডব্যাকের সেরা মাধ্যম।
৬. Todoist: আপনার প্রতিটি দিনের কাজের তালিকা (To-Do List) মনে করিয়ে দেবে এই অ্যাপ।
৭. Gradescope: এআই-এর সাহায্যে খাতা দেখার সময় বাঁচান ৮০%!
৮. Kahoot!: ক্লাসের বোরিং ভাব কাটাতে গেম-ভিত্তিক কুইজ সেশন।
৯. Socrative: তাৎক্ষণিক ছাত্রছাত্রীদের বোঝাপড়া যাচাই করার সেরা টুল।
১০. Google Gemini: আপনার পার্সোনাল টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট। লেসন প্ল্যান তৈরি থেকে ইমেইল ড্রাফটিং—সব এক নিমিষেই সমাধান!
💬 আপনি এই ১০টির মধ্যে কোনটি আগে থেকেই ব্যবহার করেন? অথবা নতুন কোনটির নাম আজই শুনলেন? কমেন্টে জানান!
24/05/2026
প্রাথমিক শিক্ষা
উপবৃত্তির টাকা সুবিধাভোগী মা/অভিভাবকের নগদ একাউন্টে জমা হয়েছে। অনুগ্রহ করে শীঘ্রই টাকা উত্তোলন করে ফেলবেন।
22/05/2026
“আগামীকাল শনিবার ২৩ মে থেকে ০৬ জুন শনিবার পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ বন্ধ থাকবে”
18/05/2026
FLN বা Foundational Literacy and Numeracy (মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান) হলো প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সহজ কথায়, একটি শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শেষ নাগাদ পড়তে, লিখতে এবং সাধারণ গণিত সমাধান করতে পারার দক্ষতাই হলো FLN।
২০২৬ সালের শিক্ষাক্রম এবং বিশ্বজুড়ে চলমান 'Global Learning Poverty' দূরীকরণে এটি একটি প্রধান লক্ষ্য। নিচে এর বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত ও উদাহরণ দেওয়া হলো:
১. FLN-এর দুটি মূল স্তম্ভ
FLN মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত:
Foundational Literacy (মৌলিক সাক্ষরতা): কোনো ভাষা (যেমন: বাংলা বা ইংরেজি) পড়ে বুঝতে পারা, সাবলীলভাবে কথা বলতে পারা এবং নিজের চিন্তা লিখে প্রকাশ করার ক্ষমতা।
Foundational Numeracy (মৌলিক সংখ্যাজ্ঞান): সংখ্যা চেনা, সংখ্যার তুলনা করা এবং দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ গাণিতিক সমস্যার (যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ) সমাধান করতে পারা।
২. কেন FLN এত গুরুত্বপূর্ণ? (তথ্য-উপাত্ত)
ইউনেস্কো এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী:
লার্নিং পভার্টি: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ৭০% শিশু ১০ বছর বয়সেও একটি সাধারণ গল্প পড়ে বুঝতে পারে না।
ভবিষ্যৎ শিক্ষা: যদি কোনো শিশু ৩য় শ্রেণির মধ্যে FLN দক্ষতা অর্জন না করে, তবে পরবর্তী শ্রেণিতে তার ড্রপ-আউট (স্কুল থেকে ঝরে পড়া) হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
SDG লক্ষ্যমাত্রা: জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG 4.1.1) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে সকল শিশুর জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার মূলে রয়েছে এই FLN।
৩. উদাহরণসহ বিস্তারিত বিশ্লেষণ
ক. ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি (সাক্ষরতা)
একজন শিক্ষার্থীর এই দক্ষতা আছে কি না, তা নিচের উদাহরণ দিয়ে বোঝা যায়:
উদাহরণ: একটি শিশুকে ২-৩ লাইনের একটি ছোট অনুচ্ছেদ পড়তে দেওয়া হলো। যদি সে প্রতিটি শব্দ আলাদা করে না পড়ে একটানা সাবলীলভাবে পড়তে পারে এবং পড়া শেষ করে বলতে পারে গল্পটি কী নিয়ে ছিল, তবেই তার লিটারেসি দক্ষতা অর্জিত হয়েছে।
খ. ফাউন্ডেশনাল নিউমারেসি (সংখ্যাজ্ঞান)
এটি কেবল মুখস্থ নামতা বলা নয়, বরং সংখ্যার ধারণা বোঝা।
উদাহরণ: একটি শিশুকে বলা হলো, "তোমার কাছে ১০টি মার্বেল ছিল, তুমি বন্ধুকে ৩টি দিলে আর বাবা তোমাকে আরও ৫টি দিল। এখন তোমার কাছে কয়টি আছে?" শিশুটি যদি এটি মনে মনে হিসাব করে ১২টি বলতে পারে, তবে তার নিউমারেসি দক্ষতা সঠিক পথে আছে।
**৪. বাংলাদেশে FLN-এর বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা**
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি ও বিদ্যালয়ে ভর্তির হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছালেও, গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থাৎ FLN (মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান) অর্জনে এখনো কিছু উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ ও একই সাথে দারুণ কিছু উদ্যোগ রয়েছে। নিচে এর বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হলো:
# # # ক. বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা
* **শিখন ঘাটতি (Learning Gap):** বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন (যেমন: National Student Assessment) অনুযায়ী, ৩য় ও ৫ম শ্রেণির একটি বড় অংশের শিক্ষার্থী তাদের শ্রেণি-উপযোগী বাংলা পড়তে বা সাধারণ গণিত সমাধান করতে হিমশিম খায়। করোনা মহামারীর কারণে এই ঘাটতি আরও কিছুটা বেড়েছিল, যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
* **শ্রেণিকক্ষে বৈচিত্র্য ও বড় আকার:** অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বেশি হওয়ায় প্রতিটা শিশুর দিকে আলাদাভাবে নজর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
* **উপকরণ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার:** প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ও আকর্ষণীয় টিচিং-লার্নিং ম্যাটেরিয়ালস (TLM) এবং ডিজিটাল টুলের ঘাটতি FLN অর্জনের গতিকে কিছুটা ধীর করে দেয়।
# # # খ. বর্তমান সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগসমূহ
* **নতুন শিক্ষাক্রম (২০২৬):** বর্তমান শিক্ষাক্রমে মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে 'অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন' এবং 'যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন'-এর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্যই হলো মুখস্থ না করিয়ে ৩য় শ্রেণির মধ্যেই শিশুর ভাষা ও গণিতের মৌলিক ভিত্তি শক্ত করা।
* **বিশেষ রেমেডিয়াল প্যাকেজ ও রিকভারি প্ল্যান:** প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) করোনাকালীন শিখন ঘাটতি পূরণে বিশেষ 'রিকভারি প্ল্যান' এবং অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে।
* **শিক্ষক প্রশিক্ষণ (Teacher Training):** মাঠপর্যায়ে সাব-ক্লাস্টার ও ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের FLN-বান্ধব শিক্ষণ পদ্ধতি, যেমন—গল্প বলা, খেলার ছলে গণিত শেখানো (Math Games) এবং আনন্দের মাধ্যমে বর্ণমালা ও ধ্বনি সচেতনতা (Phonemic Awareness) তৈরির কৌশল শেখানো হচ্ছে।
* **সহায়ক উপকরণের ব্যবহার:** শিক্ষার্থীদের জন্য পঠন দক্ষতা বাড়াতে আকর্ষণীয় সম্পূরক পঠন সামগ্রী (SRM) এবং গাণিতিক দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন কিউব, মার্বেল ও কাঠি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
# # # গ. উত্তরণের উপায় ও করণীয়
* **ফোকাসড শিখন (Focused Learning):** প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত রুটিনে ভাষা ও গণিতের জন্য নির্দিষ্ট সময় বাড়িয়ে "পড়তে শেখা ও গণনা করতে শেখা"-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
* **ধারাবাহিক মূল্যায়ন (CA):** সনাতন পরীক্ষার চেয়ে শ্রেণিকক্ষেই 'রুব্রিক্স' বা নির্দিষ্ট সূচক ব্যবহার করে প্রতিদিনের কাজের মাধ্যমে শিশুর দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং তাৎক্ষণিক নিরাময়মূলক (Remedial) ব্যবস্থা নেওয়া।
* **কমিউনিটি ও অভিভাবক সম্পৃক্ততা:** মা সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা, যাতে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে যা শেখাচ্ছেন, বাড়িতেও যেন তার কিছুটা চর্চা হয়।
> **সারসংক্ষেপ:** ২০২৬ সালের শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG 4) অর্জন করতে হলে বাংলাদেশে FLN-এর ওপর বিনিয়োগ ও মাঠপর্যায়ের তদারকি আরও জোরদার করা অপরিহার্য। প্রতিটি শিশুই যাতে "জানার জন্য পড়া" (Reading to Learn) শুরু করার আগে "পড়তে শেখা" (Learning to Read) নিশ্চিত করতে পারে—এটাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
>
17/05/2026
৫ম শ্রেণির, ইংরেজি
Parts of speech.
17/05/2026
দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন-২০২৬
প্রশ্ন কাঠামো এবং সিলেবাস
১ম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত।
17/05/2026
বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় আবৃত্তির জন্য নিম্নবর্ণিত কবিতা নির্বাচন করা হয়েছে।
নির্বাচিত কবিতা:৩য় থেকে ৫ম শ্রেণি (বালক ও বালিকা)
কবিতা ও কবির নাম
লিচু-চোর কাজী নজরুল ইসলাম
৪র্থ শ্রেণি আমার বাংলা বই পৃষ্ঠা নং-৮৯
15/05/2026
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ শিশুদের রিডিং বা পঠন দক্ষতা বৃদ্ধির কারিগর। শ্রেণিকক্ষে সরাসরি প্রয়োগ করা যায় এমন কিছু কার্যকর কৌশল, তথ্য ও উদাহরণ নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। একজন শিক্ষক হিসেবে এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. 'প্রাক-পঠন' বা ছবি দেখে অনুমান কৌশল (Predicting)
পড়ার মূল কাজ শুরু করার আগে শিশুদের পাঠ্যবইয়ের ছবিগুলো দেখিয়ে গল্পটি সম্পর্কে ধারণা করতে দিন।
কৌশল:পাঠের শিরোনাম এবং ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করুন, "এই ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে?" বা "গল্পটি কী নিয়ে হতে পারে?"
কেন কার্যকর:এটি শিশুদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করে এবং তাদের মস্তিষ্কে সংশ্লিষ্ট শব্দভাণ্ডার (Vocabulary) সক্রিয় করে তোলে।
উদাহরণ:'শীতের সকাল' গল্পটি পড়ানোর আগে শীতকালীন পোশাক বা কুয়াশার ছবি দেখিয়ে শিশুদের নিজেদের অভিজ্ঞতা বলতে বলুন।
২. আদর্শ পাঠ ও আঙুল চালনা (Finger Tracking)
শিক্ষক নিজে যখন পড়বেন, তখন তা হবে শিক্ষার্থীদের জন্য মানদণ্ড।
কৌশল:শিক্ষক স্পষ্ট স্বরে, সঠিক প্রমিত উচ্চারণে এবং যতিচিহ্ন মেনে পড়বেন। শিক্ষার্থীরা তাদের আঙুল প্রতিটি শব্দের নিচে রেখে শিক্ষকের সাথে মেলাবে।
কেন কার্যকর: কানে শোনা (Audio) এবং চোখে দেখা (Visual) এর মধ্যে সমন্বয় ঘটলে শব্দ চেনা সহজ হয়।
উদাহরণ: শিক্ষক পড়বেন "আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে", আর শিক্ষার্থীরা প্রতিটি শব্দের নিচে আঙুল রেখে মনে মনে উচ্চারণ মেলাবে।
৩. ধ্বনিভিত্তিক পাঠ (Phonemic Awareness)
শব্দকে ভেঙে তার ভেতরের ধ্বনিগুলো আলাদাভাবে চেনা।
কৌশল: একটি শব্দকে খণ্ড খণ্ড করে উচ্চারণ করা। যেমন: 'কলম' = ক্ + অ + ল্ + অ + ম্।
কেন কার্যকর: গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ধ্বনি ভেঙে পড়তে পারে, তারা অপরিচিত শব্দ দ্রুত পড়তে শেখে।
উদাহরণ: বোর্ডে 'ফুল' লিখে ফ-এর নিচে হাত দিয়ে 'ফু' এবং ল-এর নিচে হাত দিয়ে 'ল'—এভাবে ভেঙে উচ্চারণ শেখানো।
৪. তিন ধাপের পঠন পদ্ধতি (I Do, We Do, You Do)
এটি একটি প্রমাণিত শিখন মডেল যা ধাপে ধাপে শিশুকে স্বাবলম্বী করে।
ধাপ ১ (I Do): শিক্ষক নিজে পড়ে শোনাবেন।
ধাপ ২ (We Do): শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই সমস্বরে (Choral Reading) একসাথে পড়বে।
ধাপ ৩ (You Do): শিক্ষার্থী নিজে একা পড়বে।
কেন কার্যকর: এটি শিক্ষার্থীর মনের ভয় দূর করে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
৫. 'পঠন বন্ধু' বা পেয়ার রিডিং (Partner Reading)
শিক্ষার্থীদের জোড়ায় ভাগ করে পড়তে দেওয়া।
কৌশল: একজন ভালো পাঠক শিক্ষার্থীর সাথে একজন পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীকে জোড়া করে দিন। একজন পড়বে, অন্যজন শুনবে এবং ভুল হলে ধরিয়ে দেবে।
কেন কার্যকর: শিশুরা শিক্ষকের চেয়ে সহপাঠীদের কাছে ভুল করতে কম দ্বিধাবোধ করে।
উদাহরণ: ক্লাসের শেষ ১০ মিনিট 'জোড়ায় পাঠ' এর জন্য বরাদ্দ রাখা।
৬. শব্দ দেয়াল ও লেবেল (Word Wall & Labeling)
শ্রেণিকক্ষের পরিবেশকে পঠনবান্ধব করে তোলা।
কৌশল: ক্লাসরুমের জানলা, দরজা, টেবিল, বা আলমারির গায়ে বড় বড় অক্ষরে সেগুলোর নাম লিখে দিন। এছাড়াও প্রতিদিন নতুন ৫টি শব্দ 'শব্দ দেয়ালে' টাঙিয়ে দিন।
কেন কার্যকর: বারবার চোখের সামনে শব্দগুলো দেখলে অবচেতন মনেই সেগুলো গেঁথে যায়।
উদাহরণ: দরজায় একটি কার্ডে বড় করে লিখুন 'দরজা' (Door)। শিশু যখনই দরজা দিয়ে ঢুকবে, তার চোখে শব্দটি পড়বে।
৭. রিডিং ফ্লুয়েন্সি বা সাবলীলতা বৃদ্ধির খেলা
পড়ার গতি বাড়ানোর জন্য কিছু মজার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
কৌশল: 'এক মিনিটে কয়টি শব্দ' (One Minute Reading) খেলা। একটি নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ এক মিনিটে কে কতটি শব্দ নির্ভুলভাবে পড়তে পারে তা দেখা।
কেন কার্যকর: এটি শিশুদের মধ্যে পড়ার গতি (Fluency) বাড়াতে উৎসাহ দেয়।
উদাহরণ: স্টপওয়াচ ধরে প্রতি সপ্তাহে একবার করে এই পরীক্ষা নেওয়া এবং উন্নতির রেকর্ড রাখা।
৮. অনুধাবন যাচাই (Comprehension Check)
শুধু রিডিং পড়াই যথেষ্ট নয়, শিশু কী পড়ছে তা বুঝতে পারছে কি না তা নিশ্চিত করা।
কৌশল: পড়ার মাঝখানে থামিয়ে ছোট ছোট প্রশ্ন করা। যেমন— "এরপর কী হতে পারে?" বা "চরিত্রটি কেন এমন করল?"
কেন কার্যকর: এটি পড়ার প্রতি মনোযোগ ধরে রাখে এবং চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করে।
শিক্ষকদের জন্য একটি পঠন মূল্যায়ন ছক (নমুনা):
১. শিক্ষার্থীর নাম ২. শব্দ চেনার সক্ষমতা ৩. যতিচিহ্নের ব্যবহার ৪. সাবলীলতা (গতি) ৫. অনুধাবন ক্ষমতা |
১.রহিম ২.ভালো ৩. মাঝেমধ্যে ভুল ৪.ধীর ৫. চমৎকার
২. করিমা ২ চমৎকার ৩ সঠিক ৪. দ্রুত ৫.ভালো
শিক্ষকগণ যদি প্রতিদিনের পাঠে অন্তত ১০-১৫ মিনিট নিবিড়ভাবে পঠন দক্ষতার (সবলীলতা ও উচ্চারণ) জন্য আলাদা সময় রাখেন, তবে ৩-৬ মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা সম্ভব।
প্রতিটি শিশুর শেখার গতি আলাদা, তাই পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য উৎসাহমূলক শব্দ ও ধৈর্যই প্রধান হাতিয়ার।
15/05/2026
২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজন✍️
✅পরীক্ষার সময়: প্রতিটি বিষয়ের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
📖 ১. বাংলা (পূর্ণমান: ১০০)
• কবিতার প্রথম ৮ পঙ্ক্তি লিখন (কবি ও কবিতার নামসহ): ১০ নম্বর।
• শব্দার্থ লিখন (৫টি): ৫ নম্বর।
• বাক্য গঠন (৫টি): ৫ নম্বর।
• শূন্যস্থান পূরণকরণ (৫টি): ৫ নম্বর।
• বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর লিখন (৫টি): ৫ নম্বর।
• বিপরীত শব্দ/সমার্থক শব্দ লিখন (৫টি): ৫ নম্বর।
• সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (৪টি): ৮ নম্বর।
• সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (৪টি): ১৫ নম্বর।
• কবিতা/গদ্য অনুচ্ছেদের মূলভাব লিখন: ৫ নম্বর।
• ভাষারীতি পরিবর্তন/পদ নির্ণয়/ ক্রিয়ার কাল (৫টি): ৫ নম্বর।
• প্রশ্ন তৈরিকরণ/বিরামচিহ্ন প্রয়োগ (৫টি): ৫ নম্বর।
• যুক্তবর্ণ বিভাজন ও শব্দ গঠন (৫টি): ৫ নম্বর।
• এককথায় প্রকাশ (৫টি): ৫ নম্বর।
• ফরম পূরণকরণ/আবেদনপত্র লেখন: ৫ নম্বর।
• রচনা লেখন (সূত্রসহ/উন্মুক্ত): ১২ নম্বর।
📖 ২. ইংরেজি (পূর্ণমান: ১০০)
(পাঠ্যবই থেকে):
• শব্দের অর্থ মেলানো (৫টি): ৫ নম্বর।
• শব্দ দিয়ে বাক্য গঠন (৫টি): ৫ নম্বর।
• সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (৬টি): ১৮ নম্বর।
(পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে):
• শূন্যস্থান পূরণ (৫টি): ৫ নম্বর।
• বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (৫টি): ৫ নম্বর।
• সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (৫টি): ১৫ নম্বর।
• WH questions তৈরি করা (৬টি): ৬ নম্বর।
• শব্দ সাজিয়ে বাক্য তৈরি/বাক্য সাজিয়ে গল্প তৈরি (৬টি): ৬ নম্বর।
• বড় হাতের অক্ষর ও বিরামচিহ্ন প্রয়োগ: ৫ নম্বর।
• ফরম পূরণ/শূন্যস্থান পূরণ (দিন/মাস সংক্রান্ত): ৫ নম্বর।
• verbs-এর সঠিক রূপ ব্যবহার (৫টি): ৫ নম্বর।
• ব্যক্তিগত চিঠি লিখন: ১০ নম্বর।
সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ লিখন: ১০ নম্বর।
📖 ৩. প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (পূর্ণমান: ৫০+৫০= ১০০)
প্রাথমিক বিজ্ঞান (মান: ৫০):
• বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (৫টি): ৫ নম্বর।
• শূন্যস্থান পূরণ/সত্য-মিথ্যা নির্ণয়/মিলকরণ (৫টি): ৫ নম্বর।
• সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (৮টি): ১৬ নম্বর।
• বিস্তারিত উত্তর প্রশ্ন (৪টি): ২৪ নম্বর।
• বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (মান: ৫০):
• বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (৫টি): ৫ নম্বর।
• শূন্যস্থান পূরণ/সত্য-মিথ্যা নির্ণয়/মিলকরণ (৫টি): ৫ নম্বর।
• সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (৮টি): ১৬ নম্বর।
বিস্তারিত প্রশ্ন উত্তর চারটি :২৪ নম্বর।
15/05/2026
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা - ২০২৬
কুইজের নমুনা প্রশ্ন
বাংলা, গণিত, ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞান।