22/08/2024
অত্যন্ত গর্বের বিষয়, নতুন সরকারের পরিবর্তনের পর সারা বাংলাদেশে যখন সংস্কারের ঢেউ বইছে, তখন আমাদের প্রিয় বাহারচর ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজনই পড়েনি। এত বড় চমক! কারণ, সারা দেশজুড়ে দুর্নীতি যখন লুকিয়ে থাকে, আমাদের বিদ্যালয়ে সেটা লুকানোর কোন প্রয়োজনই নেই—এখানে তো দুর্নীতি প্রচুর পরিমাণে মজুদ আছে!
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে। শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কথা না হয় বাদই দিলাম, নিয়োগের জন্য কোন ফর্মালিটিজ মানা হয় না। প্রধান শিক্ষক এবং তাঁর বিশ্বস্ত কমিটির ইচ্ছামত লোকজন শিক্ষক হয়ে যান। দূর দূরান্ত থেকে আনা লোকজন শিক্ষক হয়ে যায় আর গ্রামের প্রান্তিক শিক্ষকদের তো কোনও সুযোগই নেই! কারণ, আমাদের প্রধান শিক্ষক আর তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা তো আর দুর্নীতি ছাড়া বাঁচতেই পারেন না!
আর শিক্ষার মানের কথা? ১৪-১৫ বছর ধরে আমরা যা দেখছি, তাতে শিক্ষার মানের উন্নতির কোন সুযোগই নেই। শিক্ষকরা তো পড়ানোর চেয়ে কোচিং করানোতেই বেশি আগ্রহী। ছাত্রদের চাপ দেয়া হয় যেন তারা প্রাইভেট টিউশন নেয়, আর সেটা না করলে ক্লাসে বুঝতে পারার কোন সুযোগ নেই। এবং শ্রেণিকক্ষে যে পাঠদান হয়, তাতে ছাত্ররা জিম্মি হয়ে যায় শিক্ষকদের কাছে—যেন তাদের প্রাইভেটে না পড়লে ক্লাসে কিছুই শিখতে পারবে না।
যদিও আমি এটা বলছি একটু রসিকতা করে, কিন্তু আসলেই আমাদের বিদ্যালয়ে এমন কোন অবস্থাই নেই যা সংস্কার করা সম্ভব হবে। এলাকায় কেউই নেই যারা এদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে। ফলে, সারা দেশ সংস্কারের মুখ দেখলেও, আমাদের বিদ্যালয়ের সংস্কার হবে এমনটা আশা করাটা বোধহয় নিতান্তই হাস্যকর।
প্রকৃতপক্ষে, এই দুর্নীতির ঘুনপোকা থেকে আমাদের বাঁচাবে কে? যখন বিদ্যালয়ের চারপাশে প্রাচীরের মত দুর্নীতি আর নীরবতা ঘিরে রেখেছে, তখন সংস্কারের স্বপ্ন দেখা শুধু কৌতুক নয়, বরং নির্মম বাস্তবতাও বটে।
আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই, কারণ আমরা এখানকার একচ্ছত্র শাসক। আমরা যা চাই, তা-ই হবে—আমরাই এখানে আইন, আর আমাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। আমাদের কার্যকলাপ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না, কারণ আমরা সকল জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে। যদি কারো এতটুকু সাহস থাকে, তবে সামনে এসে প্রতিবাদ করে দেখুক।
শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউশনে বাধ্য করা—সব কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমাদের ইচ্ছামত নিয়ম পাল্টানো কিংবা আইন নিজের মতো করে বানানো, এটাই আমাদের কাজ। আর যেহেতু এলাকায় আর কোন ভালো বিদ্যালয় নেই, আপনাদের সন্তানদের আমাদের এখানেই পড়াতে হবে। তাই কোনো বিকল্প না থাকায়, আপনারা বাধ্য হয়েই আমাদের শর্ত মানতে বাধ্য থাকবেন। প্রতিবাদ? সেটা তো কল্পনাই করতে পারবেন না। আমরা যখন যা চাই, তা-ই হবে।
সবাইকে ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ, জানি sahre করার সাহস নাই।