07/06/2016
ইংলিশ ম্যাডাম যখন দ্যা কাউ রচনা পড়িয়ে
জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'কারো কোনো
প্রশ্ন আছে কিনা!'
এক পিচ্চি দাড়িয়ে বলেছিল 'মিস, কাল
একটা দ্যা কাউ ক্লাস এ নিয়ে আসা
যায়না? আমি কখনো দ্যা কাউ দেখিনি।'
প্রাইমারি এন্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন
সিস্টেম এ জাপান নাম্বার ওয়ান কিভাবে
হলো? বছরের পর বছর গবেষণা আর অক্লান্ত
পরিশ্রমের ফল, বলা বাহুল্য পরিশ্রমটা
করেছেন তারা যারা এই সিস্টেম প্রণয়ন
করেছেন।
বিশ্বের নাম্বার ওয়ান এডুকেশন সিস্টেম
এর মধ্যে ক্লাসে কারো কোনো রোল
নাম্বার নেই। শুধু মাত্র পুঁথিগত বিদ্যা আর
অসুস্থ্য কম্পিটিসন থেকে মুক্তি দেবার
জন্য। আজিব লাগছে ব্যাপারটা? লাগলে ও
এটাই সত্য।
জাপানে কোনো পেরেন্টস গর্ব করে
বলতে পারবেনা, আমার ছেলে বা
মেয়ে ওই ক্লাসে ফার্স্ট। যা শুনে পাশে
বসে থাকা ভদ্রমহিলার মনে জীদ চেপে
যাবে ল, 'গায়ে শুধু হাড্ডি থাকলেও
ফার্স্ট হবি, কিসের ছাইপাশ ক্রিকেট
খেলা বা দৈনিক বিকাল করে মাঠে
খেলতে যাওয়া।'
আমাদের দেশের মহিলারা দুই কারণে
জিনিস কিনে:
১ পাশের বাসার ভাবীর এইটা আছে।
২ পাশের বাসার ভাবীর এইটা নেই।
আমাদের মায়েরা সন্তানদের পড়া
লেখায় চাপ সৃষ্টিটাও একই ভাবে করে
যাচ্ছেন:
১ পাশের বাসার ছেলে বা মেয়েটা
ফার্স্ট, তোকেও ফার্স্ট হতে হবে।
২ পাশের বাসারটা একটা গাধা, সো
তোকে ফার্স্ট হয়ে দেখিয়ে দিতে হবে
আমরাই সুপেরিয়র।
জাপানে সিটি অফিস থেকে দ্বিতীয়
শ্রেণীতে ইন্টারনেট সিকিউরিটি
সিস্টেম এর ক্লাস নেয়। কোনো বিল্ডিং
কনস্ট্রাকশন ঘুরিয়ে নিয়ে আসে কোনো
একদিন হাতে কলমে শেখানোর জন্য। স্কুল
থেকে বরাদ্দকৃত জমিতে ক্লাস ওয়ান এর
পিচ্চি গুলো মিষ্টি আলু এর চারা বপন করে
আসে, সময় হলে সেই আলু উঠিয়ে বাসায়
নিয়ে আসে। এর চেয়ে মজার পড়ালেখা
আর কিভাবে হতে পারে?
আমাদের হাত্তিমাতিমদের মাঠে ডিম
পাড়িয়ে, আগডুম বাগডুম ঘোড়ার ডিম মুখস্ত
করিয়ে, সন্তানদের পড়ালেখা যে একটা
উপভোগ্য বিষয় তা কখনোই বুঝাতে পারব
না।
এই প্রজন্ম বড় হচ্ছে ধান গাছ,পাট গাছ আর
সরিষা ক্ষেত না দেখে। না থাকছে
মাটির সাথে কোনো সম্পর্ক, না শিখতে
পারছে ভালো কোনো টেকনোলজি
সাহিত্য। সাধারণ জ্ঞান তো বাদই দিলাম !!
আমারা শিখতে পারছিনা কেনো?
আমাদের মেধা কম? মোটেও না।
আপনি আমাদের শিখিয়েছেন GPA-5
কিভাবে নিতে হয়। শিখিয়ে দেননি
বিল্ডিংয়ের ভিতর বাঁশ নয়, রড দিতে হয়।