কথাটা তেতো হলেও শত ভাগ খাঁটি কথা।
চাকরি করে চাকর ; বলাতে মানুষ রেগে যায় কেন ??????
চাকর+ই= চাকরি। চাকরি যে করে সে চাকর। চাকরের কোনো পছন্দ অপছন্দ থাকতে নেই (সাধারনত)। চাকর শুধু আদেশ মানবে, সে তার ভাল লাগুক আর না লাগুক, পরিস্থিতি তার পক্ষে যাক বা বিপক্ষে কিছুতেই কিছু আসে যায় না কতৃপক্ষের।
চাকরি করতে গেলেই এ কথা মাথায় রাখা বাঞ্চনীয়।
ভুল কিছু বললাম !?!
Barashalghar U M A High School
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Barashalghar U M A High School, School, Barashalghar, Devidwar, Cumilla.
কে লিখেছেন জানি না, কিন্তু অসাধারণ👌
১. মা ৯ মাস বহন করেন, বাবা ২৫ বছর ধরে বহন করেন, উভয়ই সমান, তবুও কেন বাবা পিছিয়ে আছেন তা জানেন না।
২। মা বিনা বেতনে সংসার চালায়, বাবা তার সমস্ত বেতন সংসারের জন্য ব্যয় করেন, উভয়ের প্রচেষ্টাই সমান, তবুও কেন বাবা পিছিয়ে আছেন তা জানেন না।
৩. মা আপনার যা ইচ্ছা তাই রান্না করেন, বাবা আপনি যা চান তা কিনে দেন, তাদের উভয়ের ভালবাসা সমান, তবে মায়ের ভালবাসা উচ্চতর হিসাবে দেখানো হয়েছে। জানিনা কেন বাবা পিছিয়ে।
৪. ফোনে কথা বললে প্রথমে মায়ের সাথে কথা বলতে চান, কষ্ট পেলে ‘মা’ বলে কাঁদেন। আপনার প্রয়োজন হলেই আপনি বাবাকে মনে রাখবেন, কিন্তু বাবার কি কখনও খারাপ লাগেনি যে আপনি তাকে অন্য সময় মনে করেন না? ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে ভালবাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে, প্রজন্মের জন্য, বাবা কেন পিছিয়ে আছে জানি না।
৫. আলমারি ভরে যাবে রঙিন শাড়ি আর বাচ্চাদের অনেক জামা-কাপড় দিয়ে কিন্তু বাবার জামা খুব কম, নিজের প্রয়োজনের তোয়াক্কা করেন না, তারপরও জানেন না কেন বাবা পিছিয়ে আছেন।
৬. মায়ের অনেক সোনার অলঙ্কার আছে, কিন্তু বাবার একটাই আংটি আছে যেটা তার বিয়ের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবুও মা কম গহনা নিয়ে অভিযোগ করতে পারেন আর বাবা করেন না। তারপরও জানি না কেন বাবা পিছিয়ে।
৭. বাবা সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করেন পরিবারের যত্ন নেওয়ার জন্য, কিন্তু যখন স্বীকৃতি পাওয়ার কথা আসে, কেন জানি না তিনি সবসময় পিছিয়ে থাকেন।
৮. মা বলে, আমাদের এই মাসে কলেজের টিউশন দিতে হবে, দয়া করে আমার জন্য উৎসবের জন্য একটি শাড়ি কিনবে অথচ বাবা নতুন জামাকাপড়ের কথাও ভাবেননি। দুজনেরই ভালোবাসা সমান, তবুও কেন বাবা পিছিয়ে আছে জানি না।
৯. বাবা-মা যখন বুড়ো হয়ে যায়, তখন বাচ্চারা বলে, মা ঘরের কাজ দেখাশোনা করার জন্য অন্তত উপকারী, কিন্তু তারা বলে, বাবা অকেজো।
১০. বাবা পিছনে কারণ তিনি পরিবারের মেরুদণ্ড। আর আমাদের মেরুদণ্ড তো আমাদের শরীরের পিছনে। অথচ তার কারণেই আমরা নিজেদের মতো করে দাঁড়াতে পারছি। সম্ভবত, এই কারণেই তিনি পিছিয়ে আছেন...!!!!
*জানিনা কে লিখেছে, কুড়িয়ে পাওয়া।
সমস্ত বাবাদেরকে উৎসর্গ করছি *
সালাম জানাই পৃথিবীর সকল বাবাদেরকে!
~সংগৃহীত~
বিলাসিতার কি শেষ আছে!!!!!
সিংগাপুরের সাতচল্লিশ বছর বয়ষ্ক মিলিয়নিয়ার একজন একটি বইতে লিখেছেন, 'আমাকে প্রায়ই বিদেশ যেতে হয় এবং আমি ফ্লাই করি ইকোনমি ক্লাশে সবার সাথে। একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এত ধনী হওয়ার পরও আপনি কেন ইকোনমি ক্লাশে ভ্রমন করেন? আমি উত্তর দেই, এ জন্যই তো আমি সিংগাপুরের সেরা ধনী।'
আরেকটি অতি মূল্যবান কথা তিনি বলেছেন, তাহলো, 'বিলাসিতার আসলে শেষ নেই। কোনো বিলাসিতাই আপনার তৃপ্তি শেষ করতে পারবে না। যেমন, একটি 'গুচি' ব্যাগ কিনলেন, কেনা অব্দি আপনার আনন্দ। এরপর কিন্তু আপনার আরেকটি দামি ব্যাগ পছন্দ হবে, আপনি তাও কিনবেন, তারপর আরেকটা-- এটা আসলে নেভার এন্ডিং প্রসেস।'
আমি এ লেখা লিখছি, নিজের জন্য। আমরা মধ্যবিত্তরা যখন একটু বিত্তের মুখ দেখি, তখন সেটা দিয়ে জীবনের অনেক অপূর্ণ ইচ্ছে পূরণ করে ফেলতে চাই। আমার মধ্যেও এ সমস্যা আছে।
আমাদের অনেকের আছে।
আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হই। তারপর কষ্ট করে মোটামুটি দাঁড়াই। তখন মনে হয়, জীবন তো একটাই; অতএব, মধ্যবিত্তের সীমাবদ্ধতায় যা কিনতে পারিনি, সেগুলো এবার কেনা যাক। এটা শুধু আমার নয়, অনেকের সমস্যা।
এখন মনে হচ্ছে, এটা হচ্ছে জীবনের বড় ভুলের একটি। কারণ কোনো 'কেনাই' আসলে কারো চূড়ান্ত তৃপ্তি আনতে পারবে না। 'গুচি' জুতোর পর আমাদের 'আরমানি' কিনতে ইচ্ছে করবে। আরমানির পর 'বারবারি'। আই ফোন ১২ কিনলে পরের বছর আই ফোন ১৩ কিনতে চাইব।
এভাবেই আসলে ধ্বংস হয় নিজের আর্থিক সংগতি। ধ্বংস হয় আত্মার শুদ্ধতা। এগুলো কেনার টাকা জোগাড় করার জন্য অশুদ্ধ দৌড় শুরু হয়, যার কোন ফিনিশিং পয়েন্ট নেই। অথচ একটি বিলাসের খরচ যদি আমি একজন বিপন্ন শিক্ষার্থীর পেছনে খরচ করতাম- সেটা হয়তো শত বছর অবদান রাখত। একজন রোগীর পেছনে খরচ করতাম, তিনি হয় তো তাঁর বাচ্চাগুলোকে গুছিয়ে যাওয়ার জন্য আর ক'দিন সময় পেতেন। অথচ, আমি ফালতু জামা, জুতো, কলম, ঘড়ি, চশমা এগুলোর পেছনে ছুটেছি।
মানুষের পেছনে ছুটিনি।
আসলে কোনো টাকাই নিজের নয়, তা সমাজের টাকা। তাই পাই-পয়সা খরচের সময়ও আমাদের ভাবা উচিত, এ পয়সাটি কীভাবে খরচ করলে শুধু আমি না, আমরা সবাই উপকৃত হবো।
তিনি আমাকে নিজের কাছে নিজেকে 'ভিলেন' বানিয়ে দিলেন!
আসেন এককাপ চা খাওয়াই–
খেয়াল করলে দেখবেন, এই সরকারের আমলে বিগত পনেরো বছরে যতগুলো কাজ হয়েছে, সবচে বেশি আলোচিত ঘটনা দুইটা। এক. শিক্ষাব্যবস্থার নীতি পরিবর্তন, দুই. বাংলাদেশে ভারতের রেল ট্রানজিট।
ঘটনা আরো বহু আছে। বাট এই দুইটা স্পেশাল। কেন স্পেশাল, তা বলছি।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালে আপনি একটা জিনিস দেখবেন। সেটা হচ্ছে এখানে পড়াশোনার হার খুবই কম। ক্লাস নাইনের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা হবে পাঁচ ঘন্টা। মাঝখানে আবার টিফিন আছে। পরীক্ষায় লেখা নেই। প্র্যাকটিক্যাল টাইপ।
পরীক্ষার গ্রেডিং সিস্টেমটা একবার দেখেন। মার্কিং পয়েন্টে থাকে বৃত্ত, চতুর্ভুজ, আয়ত, রম্বস, এইসব। আমি এখনো জানিনা কে কোনটা পাইলে কত মার্কস পাবে!
আচ্ছা এবার আসি বই নিয়ে। এখন যারা নাইনে পড়ে, তাদের কোনো বিভাগ নেই। সাইন্স, আর্টস, কমার্স, এইসব নেই। ঢালাও ভাবে বই সাজানো। বিজ্ঞান বইয়েই ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, সাধারণ বিজ্ঞান, এইসব মিক্স করে দেওয়া। গণিত বইয়ে থাকবে গণিত। ওমা গণিত বইয়ে দেখি প্যারাগ্রাফ লেখা। গণিত কখনো থিওরি ভিত্তিক পড়া হতে পারে?
যারা পঁচিশের এসএসসি ব্যাচ, তাদের ফিজিক্স কেমিস্ট্রি বই দেখলে চোখ কপালে উঠে যায়। বই কখনো ফালতু হয়না, ফালতু হয় যে লিখছে সে। এই বইগুলো লেখার প্রধান সমন্বয়ক ছিলো জাফর ইকবাল।
বোর্ড পরীক্ষার গ্রেডিং সিস্টেমটা কেমন? চলে, এইতো আরেকটু পড়তে হবে, মাঝারি, ভালো হচ্ছে, খুব ভালো, আরেকটু হলেই বেস্ট হতো, বেস্ট... এগুলো কোন ধরণের গ্রেডিং?
শিক্ষাব্যবস্থার নীতি পরিবর্তনের কারণ কি আপনি জানেন?
কারণটা আমি আপনাকে বলবোনা। আপনি নিজেই খুঁজে বের করবেন। কিভাবে? আপনার ছেলে মেয়ে, ভাই-বোন, কিংবা আশেপাশের স্টুডেন্টদের ধরবেন। একটা ট্রান্সলেশন ধরবেন, একটা ম্যাথের সূত্র ধরবেন। সামাজিকীকরণ কি, সাহস কি, ন্যায় অন্যায় কি, এগুলো ধরবেন। উত্তর দিতে পারবেনা। কারণ পড়াশোনার নামে তাদের বানানো হচ্ছে ফার্মের মুরগী।
এবার আসল ঘটনায় আসি। আঠারো সালে যখন কোটাবিরোধী আন্দোলন হলো, ঠিক তখনই সূর্য ডুবে যাচ্ছিলো প্রায়। সরকারকে ঐ জায়গা থেকে ফিরিয়ে আনে ভারতীয় 'র'। তখনো ভারতীয় 'র' বাংলাদেশে এসেছিলো। তারা দেখেছিলো শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা, একতা, ঐক্য, নীতি। ঘাবড়ে যায় তারা।
তারা আগে থেকেই জানে বিরোধীদলের কোনো হ্যাডম নেই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার। এতদিন তো সবকিছু ঠিকঠাক ছিলোই, মাঝখানে আঠারোর ছাত্র আন্দোলন সবকিছুর মোড় ঘুরিয়ে দিলো। ভারতীয় 'র' চিফ বুঝতে পারলো, সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ছাত্রসমাজ ছাড়া কারো নেই। তাহলে এদের কিভাবে দমানো যায়?
এদের দমাতে হলে দুইটা কাজ করতে হবে। এক. এদের মেরুদন্ড ভাঙতে হবে, দুই . দেশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিতে হবে।
মেরুদণ্ড ভাঙবে কিভাবে? আপনারা জানেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। দ্যাট মিনস শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। ছাত্রসমাজ অন্ধ হয়ে যাবে, তারা ভালোমন্দের পার্থক্য বুঝতে পারবেনা, অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবেনা।
এখন বুঝলেন শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তনের কারণ? যাই হোক।
এবার আসি দুইনাম্বার পয়েন্ট নিয়ে। কিভাবে তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিবে? একটা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে তাদের সেখানে যেতে হয়। থাকতে হয়। কিন্তু সরাসরি প্রবেশ করলে তা আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী। তাই তারা নিয়ে আসে রেল ট্রানজিট।
বাংলাদেশের বুকে ভারতের ট্রেন চলাচলের এক্সট্রা কোনো কারণ নেই। আই রিপিট, কোনো কারণ নেই। যা দেখানো হবে, বোঝানো হবে, সব মিথ্যা। ট্রানজিটের কারণ একটাই। দেশের মধ্যে বৈধভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রবেশ। আর দেশের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী একবার প্রবেশ করলে ধীরেসুস্থে তারা এদেশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিয়ে নিবে। তখন সরকারের কোনো ভয় থাকবেনা। গদি হারানোর ভয়ে তাকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হবেনা।
চব্বিশের নির্বাচনের পর সরকারের মিশন ছিলো দুইটা। এক. কোটা দিয়ে কোটাধারীদের তার পক্ষে নেওয়া, দুই. ভারতীয় রেল ট্রানজিটের মাধ্যমে এইদেশে তাদের সেনাবাহিনীর প্রবেশ।
কিন্তু দুইটার একটাও কাজে লাগেনি। কারণ রেল চালু হওয়ার কথা থাকলেও কোনো একটা কারণে তা বিলম্ব হয়। কিন্তু ততদিনে সরকার কোটার ঘোষণা দিয়ে দেয়। আর তখনই ছাত্রসমাজ জেগে ওঠে। কিন্তু এই ঘোষণা যদি ভারতীয় সেনাবাহিনী দেশে প্রবেশের পর দিতো, তাহলে ঘটনা উল্টো ঘটে যেতো।
কত সুনিপুণভাবে এই জাতিকে ধ্বংস করার প্ল্যান সাজানো হয়েছে, তা আপনি এখনো জানেন না।
চা শেষ, এখন আসতে পারেন।
©
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে কি আপনি শঙ্কিত?
ই/জ/রা/ইলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যখন নতুন মৌল আবিস্কার করে, তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা লাইব্রেরিতে গিয়ে প্রেম করে! বিশ্বের ১ নম্বর হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বছরে কোন কনসার্টের খবর পাওয়া যায় না। আর আমাদের ভার্সিটিতে কত কত কনসার্ট... এল.আর.বি, জেমস, শিরোনামহীন, অ্যাশেজ, তাহসান, ওয়ারফেজ.-একটার পর একটা প্রোগ্রাম হয়।
নাচ, গান, হোলি উৎসবও হয় এখন। ফাক ইউ, হট বেবি, ক্রাশ খাইছি, মাস্তি, ইয়াবা, বিয়ার, গাজা এই শব্দগুলো এখন ছেলে-মেয়েদের কাছে অতি পরিচিত।
অন্যান্য দেশে জ্ঞানী মানুষরা, বিজ্ঞানীরা কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বেশ কয়েকবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিবেটে অংশগ্রহণ করেন।
আর আমাদের?
বিজ্ঞানী মকসুদুল আলম কয়টা সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যেতেন? আমাদের বর্তমান বিজ্ঞানী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম কয়টি সমবর্তন অনুষ্ঠানে যান? (যিনি ব্যাক্টেরিয়া শনাক্তকরণের সেন্সর তৈরি করেছেন. "যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স" জার্নাল এ তার গবেষণা ছাপা হয়েছে)
বা ‘জিন’ ত্রুটি নির্ণয়ে অভাবিত সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের যে তিন গবেষক। তারা হলেন— ডা. কেএম ফোরকান উদ্দিন ও ডা. মোঃ রোবেদ আমিন ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান বৈজ্ঞানিক ডক্টর মোহাম্মদ উদ্দিন ড্যাফিল। তারাও কি ভার্সিটির কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যাবেন? তাদেরকে কি বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকা হবে?
তাদের কাউকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকবে না। কারণ- নাইলা নাঈম আর সানি লিওনদের দাম এখানে বেশি অথবা দালালী আর দাসত্বের বীজ বহনকারী মেরুদণ্ডহীন বুদ্ধিজীবীরা - যারা এদেশের মানুষকে রোহিঙ্গার মতো করতে চায়। স্টিভ জবসের স্পিচ পাওয়া যায় ইউটিউবে। সমাবর্তনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।
বিলগেটস একজন ভালো বক্তা।
মার্ক জুকারবার্গও একজন মোটিভেশনাল স্পীকার!
আজকে চীন বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হতে যাচ্ছে। ইন্ডিয়া আইটি সেক্টরে ডমিনেট করছে। তাদের ছেলে মেয়েরা গুগলে কাজ করে। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা মাস্তি করে আর মেয়েরা হিন্দি সিরিয়াল দেখে সময় পার করে।
ভারত যখন বসে বসে সিইও তৈরি করে আমরা তখন বসে বসে ক্যাম্পাসে ক্যাডার তৈরি করি। আমেরিকা যখন নতুন নতুন ফাইটার জেটের নকশা করে, তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যখন প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা মেলার আয়োজন করে আমরা তখন ক্যাম্পাসে মিথিলার - তাহসান ডিভোর্স নিয়ে আন্দোলন করি এবং ইউটিউবে লুল ভিডিও দেখি।
মায়ানমার যখন প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত থেকে খনিজ সম্পদ আহরণের যন্ত্র আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে - তখন আমাদের ছেলেমেয়েরা বোটানিক্যল গার্ডেনে বসে প্রেম করছে।
আমাদের দেশে প্রেমের নাটক করে হিট হওয়া ছেলেটা হলো বড় সেলেব্রেটি। আর ময়দা সুন্দরী হচ্ছেন হট কেক।
এখানে লাইব্রেরিতে গিয়ে অন্তরঙ্গ হওয়ার ভিডিও ফাঁস হয়।
সদ্য বিদেশ ফেরত আমাদের এক শিক্ষক বলেছিলেন, ওদের দেশে কলেজ লেভেলের ছেলে মেয়েদের যে দক্ষতা আমাদের দেশে মাস্টার্স পাস করা ছেলেমেয়রাও এতোটা ক্রিয়েটিভ এবং দক্ষ হয় না।
আমরা মাসে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ১০০ টির বেশি TV চ্যানেল (আমাদের একটা চ্যানেলও ভারতে দেখানো হয় না) সংযোগ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা দিচ্ছি----
অফিস টাইমে কিভাবে মেয়ে পটাতে হয়?
কিভাবে বেস্ট ফ্রেন্ডকে প্রপোজ করতে হয়?
কিভাবে বন্ধুর গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে ফ্লার্ট করতে হয়?
কেন বাংলাদেশ থেকে গবেষক তৈরি হয় না?
কেন আমরা ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিংয়ে জায়গা পাই না?
আমরা যারা দেখতে খুব একটা আকর্ষণীয় হই না, মেধা থাকে মিডিওকোর লেভেলের এবং আর্থিক সক্ষমতা থাকে টানাপোড়েনের মধ্যে, আমাদের মধ্যে না কিছু বিষয় খুব কমন থাকে!!
আমরা দেখতে এত সাধারণ হই যে, কেউ কখনো দ্বিতীয়বার ঘুরে তাকায় না। আমরা রাস্তার ধারে নাকেমুখে তরমুজ মাখিয়ে খেলেও যেমন কারো চোখে পড়ি না, তেমনি কোন প্রোগ্রামের গেটে সেজেগুজে রিকশা থেকে নামলেও কেউ পাত্তা দেয় না।
আমরা কখনো কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টপ করি না। স্কুল কলেজে টপের দুই ধাপ নীচে থেকে থেকে পরিবার পরিজনের এক্সপেকটেশন বাড়াই শুধু। এরপর প্রতিযোগিতার আসল সমুদ্রে নামার পরে এক্সপেকটেশনের চাপে টুপ করে ডুবে হারিয়ে যাই। কিংবা মরে গিয়ে পেট উপরে জাগিয়ে ভেসে উঠি, বিষ ঢালা পুকুরের বোয়াল মাছের মত।
আমাদের আর্থিক সক্ষমতার গল্পগুলো হয় খুবই পীড়াদায়ক। ছোটবেলায় যখন আমাদের ২০ টাকার পেটিস খাওয়ার শখ হয়, তখন আমাদের কাছে থাকে ১৬ টাকা। মাঝবয়সে যখন আমাদের ২০ হাজার টাকার বাসায় থাকতে ইচ্ছে করে, তখন আমাদের কাছে থাকে ১৬ হাজার টাকা। শেষ বয়সে যখন ২০ লাখ টাকার গাড়িতে চড়তে ইচ্ছে করে, আমাদের ব্যাঙ্কে থাকে ১৬ লাখ।
এরকম দুই বা চারের ছোট্ট ফাঁকগুলো গলে বেরিয়ে যায় আমাদের সব স্বপ্ন, সাধ, আহ্লাদগুলো!!
আমরা কখনো গান গাইতে পারি না, কবিতা আবৃত্তি পারি না, ছবি আঁকতে পারি না, বিতর্ক পারি না, গল্পের জমজমাট আসরের মধ্যমণি হতে পারি না। এরপর একদিন আমরা হুট করে আবিষ্কার করে বসি, উপরওয়ালা আমাদেরকে কোন ধরণের বাড়তি গুণ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান নি।
আমরা পারি শুধু অন্যের গিফটেড কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে হাততালি দিয়ে যাওয়ার জন্য, হাততালি পাওয়ার জন্য নয়!!
আমরা ভীড় তৈরী করি, কিন্তু কখনো ভীড়ের কারণ হতে পারি না। আমরা অন্যকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি, কিন্তু নিজে কখনো কারো স্বপ্নের কারণ হতে পারি না। আমরা সবাইকে এপ্রিশিয়েট করে চলি, কিন্তু নিজেরা কখনো এপ্রিসিয়েশন পাই না।
ভীড় থেকে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা আমরা যারা করি, আমরা সবসময় হেরে যাই। দুটো হাততালি পাওয়ার আশায় আমরা হয়ে উঠি পিপল প্লিজার। ব্যতিক্রম কিছু হতে চেয়ে আমরা সবসময়ই হয়ে উঠি কাছের মানুষের উপহাসের পাত্র।
যাকে মুগ্ধ করতে চাই, তার চোখে দেখি করুণা। যার কাছে প্রায়োরিটি চাই, তার কাছে পাই অবহেলা। যাদের পায়ে দুনিয়াটা এনে দিতে চাই, তারা বলে, ইউ আর নট এনাফ!!
আমাদের কপালে দিনশেষে থাকলে শুধু মারই থাকে, পিঠ চাপড়ানোর মত কিছু থাকে না।
আমরাও মাঝে মাঝে টপ করতে চাই, অন্যের চোখে মুগ্ধতা দেখতে চাই, আরেকজনের পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু হতে চাই, কারো উপন্যাসের প্রোটাগনিস্ট হতে চাই। উঠতে চাই চূড়ায়, সর্বোচ্চ শিখরে!!
অথচ দিনশেষে আমরা একবুক তীব্র কষ্ট নিয়ে উপলব্ধি করি, নিঃসীম শূন্যতার এই মহাজগতে আমাদের অস্তিত্ব শূন্যের চেয়েও ক্ষুদ্রতর।
একটি রাষ্ট্র 'উগ্রবাদীদের' খুঁজে বের করে তাদের নিশ্চিহ্ন করাকে নিজেদের মিশন বানিয়ে নিয়েছে। এর পেছনে তারা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে। গত ২০ বছরে এভাবে কয়েক কোটি 'উগ্রবাদীকে' তারা বন্দী, নির্যাতন এবং হত্যা করেছে। এর আগে নব্বইয়ের দশকে ৫ লক্ষ ইরাকি উগ্রবাদী শিশুকে স্যাংকশান দিয়ে উপোস রেখে মেরেছে। আর এই রাষ্ট্রের অনুগত অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো কতোজনকে মেরেছে, বন্দী করেছে, টর্চার করেছে, সেই তথ্য এক আল্লাহই জানেন।
তো কেবল লাশের হিসেবে কষেই বলে দেয়া যায় যে, কাউকে সমকামিতার সমর্থক বলা যতোটা বিপজ্জনক, কাউকে উগ্রবাদী বলা তার চেয়ে কয়েক লক্ষ গুণ বিপজ্জনক।
কিন্তু আজ শিখলাম -
*সমকামিতা হারাম। ঘৃণ্য পাপ। শাস্তিযোগ্য অপরাধ* - এটা বলা 'হেইটস্পিচ', সাইবার বুলিয়িং, সংকীর্ণতা ও অসহিষ্ণুতা। এবং রীতিমতো 'হুমকি'
কিন্তু
*কেউ সমকামিতার ব্যাপারে কুরআন-হাদীসের বক্তব্য এবং ইসলামের অবস্থান তুলে ধরলে সেটাকে উগ্রবাদ বলা, এবং এটা নিয়ে ফিরিঙ্গি আব্বাদের কাছে "এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া উচিত", জাতীয় কান্নাকাটি করা* - হেইটস্পিচ না। বরং এটা উদারতা। সহিষ্ণুতা। কল্যাণকামীতা এবং শান্তি এবং পৌনঃপুনিক শান্তি।
ওহ হা...ভালো কথা। 'উগ্রবাদী' অর্থ হল মুসলিম। এমন মুসলিম যারা লিবারেলিসম আর সেক্যুলারিসম অনুযায়ী ইসলাম পালন করতে রাজি না। তারা কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী ইসলাম পালন করতে চায়।
আমার ভাই রোডস অ্যান্ড হাইওয়েতে আছে। ৩ কোটি টাকা দিয়ে আমাদের গ্রামের বাড়িতে বাড়ি করছে!
আমি বললাম, আপনার ভাইয়ের বেতন কত?
গর্বে ভরা চেহারাটা মুহূর্তে ছাই হয়ে গেলো।
দোস্তো বলিস না, এই শালা ট্রাফিক পুলিশ, শালারা দুই টাকারও ঘুষ খায়!
দোস্তো, তোদের ফ্লাটে কত খরচ পড়েছে?
-এই সব মিলে ৯৭ লাখ।
তোর বাবা তো ট্যাক্সে আছে, বেতন কত? চেহারা আবারও ছাই।
ওদিকে লায়লা তার বয়ফ্রেন্ডকে বলছে, কাবিন কিন্তু ৩০ লাখ টাকা হতে হবে। (বয়ফ্রেন্ড ২৮ হাজার টাকার বেতনের চাকুরি করে!) না হলে আমার প্রেস্টিজ পাংকচার! ফেবুতে পোস্ট দিয়েছে, "যে ছেলে যৌতুক চায়, তাদের না বলুন!"
এদিকে মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। ছেলে কলেজের টিচার, আরেকজন পিডাব্লিউতে চাকুরি করে। মেয়ের বাবা পরেরজনে মত দেয়ায় মেয়ে বলছে, " বাবা তোমার পছন্দ সেরা"!
এক আত্মীয়ের বাসায় গেলাম। সারা জীবন সততার বুলি আউড়িয়েছেন। মেয়ের জামাই চাকুরি করেন সিটি কর্পোরেশনে। খুব গর্ব করে বলছেন, তার মেয়ে ঘরের ফার্নিচার ৪/৫ বছর পরেই পাল্টায়। মেয়ে খুব সৌখিন। ৮০ লাখ টাকায় ফ্লাট কিনে আরও ৫০ লাখ টাকা খরচ করছে ইন্টেরিয়র কাজে!
জিজ্ঞেস করলাম, ভাইজান, জামাইয়ের বেতন কতো?
অফিসে বসে আছি। একটা ছেলে সালাম দিয়ে ট্রেনের সময় জানতে চাইল। কথায় কথায় বলল তার ভাইও রেলওয়েতে জব করে।
-জিগ্যেস করলাম কোন পোস্ট?
ও বলল ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা। তার ভাই নাকি ৬/৭বছরে অনেক কিছু করেছে।
জিগ্যেস করলাম,তোমার ভাইয়ের বেতন কত?
আর কোন উত্তর নাই...।
আমরা এত নষ্ট হয়েছি, এত নষ্ট হয়েছি যে, আমাদের কোন লজ্জা নেই। ঘুষ আমার অধিকার, কিন্তু কন্ডাকটর ১৫ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা চাইলেই, "এগুলা মানুষ না। এই টাকা খেয়ে এরা কিছুই করতে পারে না। মানুষের টাকা মেরে কিছুই করতে পারে না।" অথচ একটু আগেই বাসে মোবাইলে আলাপ করছিল, একটা বেসরকারি ব্যাংকে চাকুরির জন্য ৯ লাখ আর ১০ লাখের ঘুষের আলাপ!!
কন্ডাকটর গলা কাটছে। গলা কাটছে শিক্ষিত দুর্বৃত্তরাও। শিক্ষিতদের গলাকাটা বড় নির্মম, দেশটাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়।
কন্ডাকটররা একটা নিদারুণ সত্যি কথা বলে,
"আফনেরা যে কলমের খোচায় কুটি কুটি টাকা মাইরা খান, হেই হিসাব তো আমরা নেই না!"
কথা সত্যি এবং নিদারুণ সত্যি।
কিছু অসভ্য শ্রমিকদের দেখলাম অ্যাম্বুলেন্সেও কালি দিচ্ছে, আটকাচ্ছে।
সেই অ্যাম্বুলেন্স দেখে মনে পড়ে গেলো এর চেয়ে ভয়াবহ অসভ্য গোষ্ঠীর কথা। বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির দালালদের কথা, যারা অতি উচ্চ শিক্ষিত ডাক্তার এবং যাদের পেছনে রাষ্ট্রের কোটি টাকা খরচ হয়। মেয়াদউত্তীর্ণ ঔষধ, আইসিইউতে রেখে গলা কাটার সেই সব অমানুষদের কথা।
মানুষ হয়তো আছে। সংখ্যাটা কম।
মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে।
তা কোথায় হলো, ছেলে কী করে?
যদি ঘুষের ডিপার্টমেন্টের হয়,
দেখবেন মেয়ের বাবা মা, ভাই বোন আর মেয়ের চেহারা খুশিতে কেমন চকচক করে!!
অথচ এই যে অরাজকতা, এই যে ভেজাল জিনিস, এই যে উচ্চমূল্য, এই যে গলাকাটা সেবা, এই যে পেনশনের টাকা তুলতে ফাইলের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে জুতার তলা ক্ষয় হয়ে যাওয়া, এই যে পরীক্ষায় ভালো করলেও চাকুরি না হওয়া, এই সবের মূলে তো ওই যে যেখান থেকে বিয়ের প্রস্তাব এলে জিহবা চকচক করে, চেহারায় (নোংরা) খুশির ঢেউ উঠে, সেই দুর্নীতিবাজ শুয়োরদের কারণে।
বিখ্যাত এক অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, "শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি"! এই শুয়োরের বাচ্চারা কারা?
এই লেখা পড়ে পরে যাদের চেহারায় চপেটাঘাত পড়বে, ছাই হয়ে যাবে, তারা৷"
বাংলাদেশে জন্মানোর একটা লাভ আছে। এই দুনিয়ায় না, আখিরাতে আরকি।
আপনার এত পরিমাণে হক মারা হবে, আপনি নিজেও হিসাব রাখতে পারবেন না। রাস্তার মুজুর থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা সবাই আপনার হক মারবে কোনো না কোনোভাবে।
আর হাসরের ময়দানে এইগুলার জন্য একটা বড় সংখ্যক নেকি আপনার আমলনামায় আসবে।
কিন্তু শর্ত একটাই, আমি নিজেও যেন ঐ জালিমদের অন্তর্ভুক্ত না হই।
#সংগৃহীত
আমরা যখন চাকরি শেষে অবসরে আসব, ততদিনে বন্ধুবান্ধব বলতে তেমন কেউ থাকবে না। ইতোমধ্যেই বন্ধুবান্ধবের একটা বড় অংশ দেশের বাইরে, নয়তো এলাকার বাইরে।
২৫-৩০ বছর অন্য শহরে চাকরির সুবাদে আত্নীয়স্বজনদের সাথে যোগাযোগও অত সরগরম থাকবে না৷
আমাদের সন্তান-সন্তুতি যদি থাকে, এরা হবে আমাদের চাইতেও ব্যস্ত। আমরাই আমাদের বাপ-মাকে সময় দিতে পারছি না, ওরা সম্ভবত ফিরে তাকানোর সময়ও থাকবে না৷
অনেক দীর্ঘ সময় এলাকার বাইরে থাকায় এলাকাবাসী, পাড়া-প্রতিবেশীরাও আমাদেরকে ঠিক চিনবে না। চিনলেও হয়তো দূর থেকে চিনবে, কাছে এসে আড্ডা দেওয়ার মত শক্ত পরিচয় অদ্দিনে থাকবে না।
দীর্ঘদিনের চাকরিজীবনের কলিগদেরও ছেড়ে আসতে হবে। যারা রিটায়ারমেন্টে চলে যাবে, তারাও তাদের নিজ এলাকা কিংবা কোনো আত্নীয়স্বজনের কাছাকাছি এলাকায় সেটেল হওয়ার চেষ্টা করবে, কলিগদের কাছাকাছি পাওয়ার সম্ভাবনাও তাই কম।
আমাদের হয়তো অর্থ হবে, সুনাম হবে, বড়সড় পদ হবে, কিন্তু আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবীয় সম্পর্কগুলোর প্রতি সম্ভবত আমরা সুবিচার করতে পারবো না।
আমাদের দাদা-নানাদের প্রজন্ম যে আত্নীয়স্বজন পরিবেষ্টিত মৃত্যু পেয়েছিলেন, আমাদের সময় সম্ভবত সেরকম হবে না। আমরা অনেক দামী কোনো এক হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুবরণ করব, কিন্তু সম্পূর্ণ একা!
কোনো কোম্পানিকে বয়কট করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি করা - সিম্পল এজ দ্যাট। যেহেতু পণ্য হারাম না হইলে কেনা ও হারাম না, অতএব কার থেকে কী কিনবেন বা কিনবেন না বয়কটের ক্ষেত্রে, সেটা পুরাপুরি ডিপেন্ড করতেছে "কী করলে আপনার শত্রুর ম্যাক্সিমাম ক্ষতি হবে, আপনার মিনিমাম ক্ষতির বিনিময়ে" সেটার উপর। ব্যাপারটা জাস্ট স্ট্র্যাটেজির।
এবার আসি ফাইভার (Fiverr) আর কোকাকোলার ক্ষেত্রে -
- কোকাকোলা আপনি না কিনলে তাদের ক্রেতা কমতেছে একটা। এক লাখ মানুষ না কিনলে বাংলাদেশে তাদের এক লাখ বোতল কম বিক্রি হচ্ছে। অন্য কেউ এসে এই কোক কিনে নিয়ে যাইতে পারবে না। বাংলাদেশে তাদের সেল কমবেই, অর্থাৎ ওভারল সেল ও কমবে। তাছাড়া কোক না কিনার কারণে আপনিও কোনো ক্ষতির শিকার হইলেন না। এটা একটা নো-ব্রেইনার বয়কট।
- ফাইভার আপনার কাছে কিছু বিক্রি করে না। আপনি ফাইভারে সার্ভিস বিক্রি করেন, ক্রেতা আপনাকে টাকা দেওয়ার সময় ফাইভার আপনার থেকে সার্ভিস চার্জ কেটে রাখে। আপনি বয়কট করলে হয়তো আপনার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক ফ্রিল্যান্সারের দেশ ইন্ডিয়ার কেউ আপনার কাজটা নিবে। অন্য আরও দেশ তো আছেই। অর্থাৎ ফাইভারের যেই কমিশন সেটা তারা পাবেই, জাস্ট মাঝে বিক্রেতা আপনি না হয়ে অন্য কেউ হইলো। লস হইলো আপনার, ফাইভারের না।
"অমুক জিনিস বয়কট কত্তেছো কিন্তু তমুক কত্তেছো না হেহে" বলা লোকজন সাধারণত দুই শ্রেণির হয়ঃ
১। বুদ্ধি কম, বয়কট জিনিসটা কীভাবে কাজ করে বুঝে না
২। অলস, নিজে কিছুই করতেছে না তাই অন্যকে "হ্যাঁ বুঝালাম ৫০% করো কিন্তু ১০০% করো না কেন?" বলে গিল্ট ট্রিপ দিতে চায়
এই দুইটার যেই শ্রেণির ই হোক না কেন, এদের থেকে বয়কটের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্যানপ্যান না শুনা ই উচিৎ।
আমরাই শেষ জেনারেশন,
গরুর গাড়ি থেকে সুপার সনিক কনকর্ড জেট দেখেছি। পোস্টকার্ড, খাম, ইনল্যান্ড লেটার থেকে শুরু করে আজকের হোয়াটস্যাপ চ্যাটিং, ফেসবুক, ই-মেইল পর্যন্তও করছি। অসম্ভব মনে হওয়া অনেক জিনিসই সম্ভব হতে দেখেছি।
আমরা জেনারেশন,
টেলিগ্রাম এসেছে শুনলেই ঘরগুষ্টির মুখ শুকিয়ে যেতে দেখেছি…
আমরাই শেষ জেনারেশন,
মাটিতে বসে ভাত খেয়েছি আর প্লেটে ঢেলে চা খেয়েছি সুরুৎ শব্দে।
আমরাই শেষ জেনারেশন,
ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে লুকোচুরি, বাঘবন্দি, ডাঙ্গুলি, দাড়িয়াবাধা, গোল্লাছুট, মার্বেল খেলেছি, কাঁচা বেলের আঠায় কাগজের ঘুড়ি বানিয়ে আকাশে উড়িয়েছি, নাড়া ক্ষেতে ফুটবল বানিয়ে খেলেছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন,
হ্যারিকেন আর কূপির আলোতে পড়াশুনা করেছি, বেত থেকে পাখার ডাঁটির চাবকানি খেয়েছি আর চাদরে হাফ বডি ঢুকিয়ে উপুড় হয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়েছি দস্যু বনহুর, কুয়াশা, মাসুদ রানা, স্বপন কুমারের সিরিজ।
আমরাই শেষ জেনারেশন,
ফ্যান, এসি, হিটার, ফ্রীজ, গ্যাস, মাইক্রোওভেনের অস্থাবর সুখ ছাড়াই ছোটবেলা কাটিয়েছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন,
ঈগল পেন থেকে বমি করা সুলেখা কালি হাতে মেখে মাথায় মুছে ‘বাবরের যুদ্ধবৃত্তান্ত’ লিখেছি, বড়দের পকেটে বড় নিবের উইংসাঙ দেখেছি আর নতুন বই-খাতার একটা আলাদা গন্ধ আর আনন্দ উপভোগ করেছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন,
বিনা টিফিনে স্কুলে গেছি, ইস্কুলে টিচারের হাতে মার খেয়ে, বাড়ি এসে নালিশ করাতে সেকেন্ড-রাউন্ড বেদম ফ্রি-ষ্টাইল ওয়ান-ওয়ে ফাইট সহ্য করেছি, দোষ তো আমার নাহলে টিচার মারবেন কেন?
আমরাই শেষ জেনারেশন,
বড়দের সন্মান করেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন,
জোৎস্না রাতে ছাদে ট্রানজিস্টরে বিবিসি’র খবর, অনুরোধের আসরের শেষ সাক্ষী।
আমরাই শেষ জেনারেশন,
টেলিভিশনে খেলা দেখার জন্য ছাদে উঠে এ্যন্টেনা এডজাস্ট করে স্যিগনাল ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের ছিল তিন লাঠির এন্টেনা, আর ছিল টিভি স্ক্রিনে পার্মানেন্ট ঝিলমিলানি, তাতে কোনও প্রব্লেমই হোত না, ওটা জীবনের অঙ্গ ধরাই ছিল। গন্ডগোল পাকাতো ঐ লোডশেডিং।
আমরাই শেষ জেনারেশন,
আত্মীয় স্বজন বাড়িতে আসার জন্য অপেক্ষা করেছি। ইচ্ছে করে বৃষ্টি ভিজে ইস্কুল থেকে বাড়ি ঢুকেছি।
আমরা শেষ জেনারেশন,
সূর্য ডোবার আগেই বাড়ি না ঢুকলে পেদানি খেয়েছি।
আমরা শেষ জেনারেশন,
ঈদের সময় শুধু একটা নুতন জামার জন্য অপারগ বাবার দিকে চেয়ে থেকেছি।
আমরাই লাষ্ট জেনারেশন এখনও বন্ধু খুঁজি। জীবনের চলার স্রোতে হারিয়েছি জীবনের স্বর্গ।
লস্ট প্যারাডাইস।
এখন পৃথিবী রিটার্ন ব্যাক করবে ধীরে ধীরে সেই পিছনের দিনে ফিরে যাবে। আধুনিকতা বলতে আর কিছু সামনের দিকে আসবে না।
পৃথিবীর নানা রকম অবক্ষয় হতেই থাকবে।
#সংগৃহীত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Barashalghar, Devidwar
Cumilla
3532