Comilla Iswar Pathsala High School

Comilla Iswar Pathsala High School Comilla Iswar Pathsala High School

১৮৫৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিটঘর গ্রামে জন্ম নেওয়া কর্মযোগী মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ১৯৪৩ সালে পরলোকগমন করেন। পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া না করতে পারা এই ব্যক্তি সেই সময়ের কুমিল্লা শহরে এসে ব্যবসা শুরু করেন এবং বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হন। কিন্তু বৈষয়িক উন্নতির চেয়ে জ্ঞানচর্চার উন্নতিকেই তিনি মানুষের মুক্তির প্রকৃত উপায় হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। তাই নিজের আয়ের অর্ধেক নিয়মিতভাবে তিনি দান

করে গেছেন প্রজন্মের শিক্ষাবিস্তারের পেছনে। এমনকি তাঁর কুমিল্লার সম্পত্তি, ব্যবসা—সবই দান করে গেছেন শিক্ষাজ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখতে। ভারতের কাশিতেও আছে তাঁর আনুকূল্যে গড়ে ওঠা বিদ্যাপীঠ (১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত)। নিজের এই ঔদার্যের কথা তিনি কাউকে জানতে দিতে চাননি। সে কারণেই হয়তো আজও বাংলাদেশের মানুষ তাঁর সম্পর্কে অবগত নয়। অথচ কুমিল্লায় সেই আমলে তিনি যা করেছেন, অন্তত তাঁর মৃত্যুর পর সে তথ্য প্রচারণার প্রয়োজন ছিল জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য।
কুমিল্লায় ঈশ্বর পাঠশালা, দাতব্য চিকিৎসালয়, মায়ের নামে গড়ে তোলা রামমালা গ্রন্থাগার, রামমালা ছাত্রাবাস, নিবেদিতা ছাত্রীনিবাস ইত্যাদি আজও আলো ছড়িয়ে চলেছে সরকারি-বেসরকারি কোনো রকম সহায়তা ছাড়াই। তাঁরই প্রতিষ্ঠা করা ট্রাস্টির বর্তমান সদস্যরাই এ সবকিছুর তত্ত্বাবধান করেন। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের যাবতীয় খরচ বহন করে ট্রাস্ট। উপমহাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ধর্মচর্চার অবাধ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল মহেশাঙ্গন। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পর মনে সন্দেহ জেগেছে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে।
শিক্ষা বিষয়ে মহেশ চন্দ্রের নিজস্ব দর্শন ছিল। তিনি মনে করতেন, একমাত্র শিক্ষাই মানুষকে মুক্তি দিতে পারে, করে তুলতে পারে আত্মনির্ভর। ইন্দ্রকুমার সিংহের কর্মযোগী মহেশ চন্দ্র ও কুমিল্লা মহেশাঙ্গন গ্রন্থ থেকে জানা যায়, মহেশ চন্দ্র ‘স্বাবলম্বন’ কথাটিকে অন্তরের স্বাধীন ভাব হিসেবেই বুঝতেন এবং সেই স্বাধীন ভাব অর্জনের পরম উপায় হিসেবে শিক্ষালাভ করা ও জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখাকে অবিকল্প মানতেন।
মহেশ চন্দ্র তাঁর কোনো কথাই লিপিবদ্ধ করে যাননি। তাঁর একমাত্র গ্রন্থ আত্মকথায় তিনি তুলে ধরেছেন ব্যবসায় সাফল্য লাভের বিবরণ। এটা তিনি করেছেন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠা লাভ সম্পর্কে নানা অলৌকিক অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে নিজের চিন্তাদর্শন প্রকাশ করাও তাঁর কাছে অহংকার প্রচারের শামিল ছিল। কাজের মধ্য দিয়েই প্রকাশ করেছেন নিজেকে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপীঠের শিক্ষক কেমন হবেন, শিক্ষার্থীরা কেমন হবেন, সমাজে তাঁরা কী অবদান রাখবেন—সবকিছু সম্পর্কেই তাঁর ছিল স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, যা আজও পালন করার চেষ্টা করা হয় ঈশ্বর পাঠশালায়।
মহেশ চন্দ্র তাঁর নিয়োগপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক রাসমোহন চক্রবর্তীর মাধ্যমে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম, দর্শন ও জ্ঞানচর্চার নানা ধরনের প্রকাশিত পুস্তক এবং বৃহত্তর কুমিল্লা, সিলেট অঞ্চল থেকে প্রায় আট হাজার হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে গড়ে তুলেছিলেন রামমালা গ্রন্থাগার। হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির মধ্যে প্রায় ছয় হাজার সংস্কৃত ভাষায় রচিত, বাকিগুলো বাংলায়। তুলট কাগজ, তালপাতা, কলাপাতা, কাঠসহ নানা উপাদানের পাণ্ডুলিপিগুলো আগ্রহীদের বিস্ময় জাগায়। এই পাণ্ডুলিপিগুলোর পাঠোদ্ধার করার বিশেষ কোনো উদ্যোগের কথা জানা যায় না। বরং অযত্ন-অবহেলায় সেগুলোকে নষ্ট হতে দেওয়া হচ্ছে অবলীলায়। মহেশাঙ্গনের নাটমন্দিরে আসা ভক্তদের আওয়াজ আর মাঠে খেলার অবাধ সুযোগে উড়তে থাকা ধুলোয় জলীয় বাষ্পে পাতাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছাদ থেকে চুইয়ে পড়া বৃষ্টির পানিতেও ঝাপসা হয়ে এসেছে অমূল্য হস্তলিপি।
খোদ কুমিল্লার বেশির ভাগ মানুষ জানেই না, কী আছে এই গ্রন্থাগারে। গবেষকেরাও যে চট করে কিছু খুঁজে পাবেন, সে উপায়ও নেই। নেই কোনো তালিকা বা ক্যাটালগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি বিভাগ একবার ফোর্ড ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রায় আড়াই হাজার হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি দুই কিস্তিতে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে মাইক্রোফিল্ম করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামমালা গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপির সব মাইক্রোফিল্মই নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রাস্টি দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় সরকারের কোনো দায় নেই রামমালা গ্রন্থাগারের অমূল্য সংগ্রহ সংরক্ষণ করার। কিন্তু দেশের মূল্যবান সম্পদ রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কিছুতেই এড়ানো যায় না।
বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর সমন্বিত তালিকা প্রস্তুতকরণে বা পাণ্ডুলিপি গবেষণায় তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত বা আকর্ষিত করার ব্যাপারে কারও কোনো ভূমিকার কথা জানা যায় না। তবে রামমালা গ্রন্থাগার ও মহেশাঙ্গনের সমস্যা অন্য অর্থেও প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক স্বার্থলোভী মানুষ মহেশাঙ্গনের সম্পত্তির হিসাব কষতে শুরু করেছেন।

10/07/2025

সকল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা! জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় সাফল্য কামনা করি।

09/07/2025

স্বপ্ন! পূরন হউক

09/07/2025

সকল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
ফলাফল বের করার জন্য এই লিংক গিয়ে ফরম পূরন করবে।

নিবেদিতা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক দিপালী দাশগুপ্ত আজ ভোরে নিজ বাসা (তালপুকুরপাড়) ইহ লোকের মায়া ত্যাগ ...
11/06/2025

নিবেদিতা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রাক্তন
প্রধান শিক্ষক দিপালী দাশগুপ্ত আজ ভোরে নিজ বাসা (তালপুকুরপাড়) ইহ লোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোক গমন করেন।
ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স্ব গচ্ছতু
অন্তেষ্টি ক্রিয়া দুপুর ১ টায় কুমিল্লা ঠাকুরপাড়া মহা শশানে অনুষ্টিত হবে।
সকল ছাত্র ছাত্রীর উপস্থিতি কাম্য।

ঈশ্বর পাঠশালা, কুমিল্লা শতবর্ষ পুরনো কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা একসময় শুধু কুমিল্লার নয়, তখনকার অবিভক্ত বাংলার অন্যতম সেরা ...
08/05/2025

ঈশ্বর পাঠশালা, কুমিল্লা

শতবর্ষ পুরনো কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা একসময় শুধু কুমিল্লার নয়, তখনকার অবিভক্ত বাংলার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান ছিলো। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৪৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ঈশ্বর পাঠশালার একজন ছাত্রের সেরা দশে অবস্থান করায়৷ ঈশ্বর পাঠশালা পূর্ব বাংলার শান্তি নিকেতন খ্যাত মহেশাঙ্গনের একটি অংশ। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৪ সালে, দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য এটি প্রতিষ্ঠা করেন, পাশেই ছাত্রদের জন্য রামমালা ছাত্রবাসও প্রতিষ্ঠিত হয় বছরখানেক পর।

কুমিল্লার মহেশাঙ্গন সমগ্র উপমহাদেশে একটি ব্যতিক্রম ইতিহাস। কুমিল্লা শহরে দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্যের অবদান বলে শেষ করা যাবেনা। কুমিল্লার মহামূল্যবান সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং ঐতিহ্য, স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে এটাই ছিল পূর্ববঙ্গের শান্তিনিকেতন। যার নাম এখন কুমিল্লা শহরেই বিস্মৃতপ্রায়, সারাদেশের মানুষ অনেকেই হয়তো জানে না বললেই চলে। মোট ৮ একর জমির ওপর এই প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। বর্তমানে ১০-১১টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত একটি পবিত্র ভূমি এই মহেশাঙ্গন যা দু’বাংলা মিলিয়ে একটিই মাত্র। এখানে রয়েছে এখন ঈশ্বর পাঠশালা, রামমালা গ্রন্থাগার, রামমালা ছাত্রাবাস, নিবেদিতা ছাত্রী নিবাস, নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়, পুঁথি সংগ্রহশালা, নাটমন্দির, আয়ুর্বেদ ভেষজ গবেষণাগার, হোমিওপ্যাথ স্টোর, সংস্কৃত কলেজ ও ঈশ্বর পাঠশালা ব্যায়ামাগার। এছাড়া আছে একটি পুকুর।

সময়ের সাথে ঈশ্বর পাঠশালা তার জৌলুশ কিছুটা হারালেও পুরনো ইতিহাস আজও তার কীর্তি বিবরন দেয়।

04/05/2025

Best friend?? বেস্টফ্রেন্ড বলতে কিচ্ছু হয় না যতদিন তুমি কাজে লাগবা ততোদিনই তুমি বেস্টফ্রেন্ড... 🤝🤝
বেটার অপশন বা লাইফ পার্টনার পেয়ে গেলে টাটা ☺️😅

Address

Adarsha Sadar
Cumilla
3500

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Comilla Iswar Pathsala High School posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Comilla Iswar Pathsala High School:

Shortcuts

Share

Category