20/03/2026
ঈদের দিনের ফজিলত
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. থেকে একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন
فَإِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ الْفِطْرِ سُمِّيَتْ تِلْكَ اللَّيْلَةُ لَيْلَةَ الْجَائِزَةِ
‘রমজানের শেষ রাতে, অর্থাৎ ফিতরের রাতেই হয় ‘লাইলাতুল জাইযাহ’—পুরস্কারের রাত।’
এরপর যখন ঈদের সকাল হয়, আল্লাহ তাআলা সব দেশে ফেরেশতাদের প্রেরণ করেন। তারা পৃথিবীতে নেমে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে এমন উচ্চ কণ্ঠে ডাক দিতে থাকেন—যে ডাক মানুষ ও জিন ছাড়া আল্লাহর সৃষ্ট সবকিছুই শুনতে পায়। তারা বলতে থাকেন
يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ! اخْرُجُوا إِلَى رَبٍّ كَرِيمٍ يُعْطِي الْجَزِيلَ ، وَيَعْفُو عَنِ الذَّنْبِ الْعَظِيمِ
‘হে মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত! তোমরা বেরিয়ে এসো এমন এক মহান ও দয়ালু রবের দরবারে—যিনি প্রচুর দান করেন এবং বড় বড় গুনাহও ক্ষমা করে দেন।’
যখন বান্দারা ঈদগাহের দিকে বের হয়, তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করেন
مَا جَزَاءُ أَجِيرٍ وَفَّى عَمَلَهُ ؟
‘যে শ্রমিক তার কাজ সম্পন্ন করেছে, তার প্রাপ্য কী?’
ফেরেশতারা উত্তর দেন
إِلَهَنَا وَسَيِّدَنَا! جَزَاؤُهُ أَنْ تُوَفِّيَهُ أَجْرَهُ
‘হে আমাদের রব ও মালিক! তার প্রাপ্য হলো—তার পূর্ণ মজুরি প্রদান করা।’
তখন আল্লাহ তাআলা বলেন
فَإِنِّي أُشْهِدُكُمْ يَا مَلَائِكَتِي أَنِّي قَدْ جَعَلْتُ ثَوَابَهُمْ مِنْ صِيَامِهِمْ شَهْرَ رَمَضَانَ وَقِيَامَهُ رِضَائِي وَمَغْفِرَتِي
‘হে আমার ফেরেশতারা! তোমরা সাক্ষী থাকো—আমি রমজান মাসের রোজা ও রাতের ইবাদতের প্রতিদান হিসেবে তাদের জন্য আমার সš‘ষ্টি ও ক্ষমাকে নির্ধারণ করেছি।’
এরপর আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উদ্দেশে বলেন
يَا عِبَادِي سَلُونِي ، فَوَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا تَسْأَلُونِي الْيَوْمَ شَيْئًا فِي جَمْعِكُمْ لِآخِرَتِكُمْ إِلَّا أَعْطَيْتُكُمْ ، وَلَا لِدُنْيَاكُمْ إِلَّا نَظَرْتُ لَكُمْ
‘হে আমার বান্দারা! আজ তোমরা আমার কাছে চাও। আমার ইজ্জত ও মহিমার কসম! আজ তোমরা তোমাদের আখিরাতের জন্য যা চাইবে, আমি তা অবশ্যই দেব। আর দুনিয়ার ব্যাপারে যা চাইবে, আমি তাতেও তোমাদের কল্যাণের দিকেই দৃষ্টি দেব।’
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন
فَوَعِزَّتِي لَأَسْتُرَنَّ عَلَيْكُمْ عَثَرَاتِكُمْ مَا رَاقَبْتُمُونِي ، فَوَعِزَّتِي لَا أَخْزِيكُمْ ، وَلَا أَفْضَحُكُمْ بَيْنَ يَدَيْ أَصْحَابِ الْحُدُودِ
‘আমার ইজ্জতের কসম! যতদিন তোমরা আমাকে ভয় করে চলবে, আমি তোমাদের ভুলত্রুটি ঢেকে রাখব। আমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমাদের লাঞ্ছিত করব না, সীমা লঙ্ঘনকারীদের সামনে তোমাদের অপমান করব না।’
এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন
انْصَرِفُوا مَغْفُورًا لَكُمْ قَدْ أَرْضَيْتُمُونِي ، وَرَضِيتُ عَنْكُمْ
‘ফিরে যাও—তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তোমরা আমাকে সš‘ষ্ট করেছ, আর আমিও তোমাদের প্রতি সš‘ষ্ট হয়েছি।’
এ কথা শুনে ফেরেশতারা আনন্দিত হন এবং খুশি হন এই ভেবে—রমজান শেষে ঈদের দিনে আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে কী অপার দান ও সম্মান দান করছেন। [ বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪২১]
এই হাদিস আমাদের জানিয়ে দেয়—ঈদের দিন শুধু আনন্দের নয়; বরং আল্লাহর ক্ষমা, সš‘ষ্টি ও পুরস্কার পাওয়ার এক মহামূল্যবান দিন।
ওয়াহাব ইবন মুনাব্বিহ রহ. বলেন
خَلَقَ اللَّهُ الْجَنَّةَ يَوْمَ الْفِطْرِ، وَغَرَسَ شَجَرَةَ طُوبَى يَوْمَ الْفِطْرِ، وَاصْطَفَى جِبْرِيلَ -عَلَيْهِ السَّلَامُ- لِلْوَحْيِ يَوْمَ الْفِطْرِ، وَالسَّحَرَةُ وَجَدُوا الْمَغْفِرَةَ يَوْمَ الْفِطْرِ
আল্লাহ তাআলা ঈদুল ফিতরের দিনে জান্নাত সৃষ্টি করেছেন, ঈদুল ফিতরের দিনে জান্নাতের ‘তূবা’ বৃক্ষ রোপণ করেছেন, ঈদুল ফিতরের দিনে ওহী বহনের জন্য জিবরাঈল আ.-কে মনোনীত করেছেন এবং ফেরাউনের জাদুকরেরা ঈদুল ফিতরের দিনেই ক্ষমা লাভ করেছিলেন। [ গুনিয়াতুত তালেবীন : ২/২৯]