কুমিল্লা সাউদার্ণ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত।
ফাউন্ডেশনটি সম্পূর্ণ ভাবে শিক্ষা ও সমাজ সেবায় নিয়োজিত একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। শত ঐতিহ্যের লীলাভূমি কুমিল্লা'র কতিপয় শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যাহারা বিভিন্ন পেশায় সততার সমুজ্জল দৃষ্টান্ত রেখেছেন তাদের সহযোগীতা ও পরামর্শে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা সাউদার্ণ ফাউন্ডেশন অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথ
ে পরিচালিত হয়ে আসছে।
"স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত, রাজনীতি ও ধূমপানমুক্ত"- এ শ্লোগানকে ভিত্তি করে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা কমার্স কলেজ।
প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু স্ব-অর্থায়নে অর্থাৎ একটি ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত, তাই একটি বিশেষ কমিটি দ্বারা উহা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
উল্লেখ্য যে, প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা সাউদার্ণ ফাউন্ডেশনের একটি শিক্ষা প্রকল্প। এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী জনাব মোতাহের হোসেন খান আনিস। অধ্যক্ষ মোঃ হুমায়ূন কবীর মাসউদ, যার নিরলস পরিশ্রম ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি দিনে দিনে সুনামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ফলাফল
প্রতিষ্ঠার পর ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির ১ম ব্যাচে ২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে ২৭ জনই পাস করে। সে বছর শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জনসহ কুমিল্লায় শীর্ষ স্থান অর্জন করে।
২০০৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের শীর্ষ দশ তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করে। এ বছর ৭২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে ৭১ জন পাস করে। পাসের হার ছিল ৯৮.৬১।
২০০৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের শীর্ষ দশ তালিকায় ৪র্থ স্থান অর্জন করে। এ বছর ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে ৭৩ জন পাস করে। পাসের হার ছিল ৯৭.৩৩।
২০১০ সালে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পাসের হারের দিক থেকে শীর্ষস্থান অর্জন করে। এ বছর ১৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে সকলেই পাস করে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করে। অর্থাৎ পাসের হার ১০০%
২০১১ সালে পাসকৃতদের মদ্যে ১০০ জন তাদের জিপিএ প্রায় দ্বিগুন হারে বৃদ্ধি করেছে। এদের মধ্যে ৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
সর্বশেষ ২০১২ সালে ১৮২ জন অংশগ্রহন করে। ৯৯% পাশের হার নিয়ে শিক্ষাবোর্ডের নতুন নিয়মে ১৮তম স্থান অর্জন করে।
কলেজ কল্যান পরিষদ
কলেজে কোন ছাত্র সংসদ নেই। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক কল্যানের জন্য শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ছাত্র-ছাত্রী কল্যান পরিষদ আছে। যার কাজ হলো, শিক্ষা সম্পূরক সকল প্রকার সহপাঠ কার্যক্রম পরিচালনা করা। এছাড়া কলেজের অস্বচ্ছল ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সাহার্যার্থে কাজ করছে একটি ছাত্র কল্যাণ পরিষদ।
ছাত্র রাজনীতি ও ধূমপান নিষিদ্ধ
কলেজে সকল প্রকার রাজনৈতিক কার্যক্রম ও ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ক্লাব কার্যক্রম
কলেজ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সাধারন জ্ঞান, বিতর্ক, আবৃত্তি, নাটক, সঙ্গীত, ল্যাঙ্গুয়েজ, ইত্যাদি ক্লাব আছে। ছাত্র-ছাত্রীরা নিজ নিজ ইচ্ছানুযায়ী এ সকল ক্লাবের সদস্য হয়ে স্বীয় মেধার পরিস্পুটনে সক্ষম হয়।
সাধারন জ্ঞান ক্লাব
কুমিল্লা কমার্স কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জীবনের যে কোন রকম প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যে সাধারন জ্ঞান ক্লাব চালু করা হবে। এই লক্ষ্যে প্রতিদিন প্রথম ঘন্টার অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সাধারন জ্ঞান ক্লাস হবে।
শিক্ষা সম্পূরক কার্যক্রম
ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে নিয়মিত খেলাধুলা, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাসিক পত্রিকা, বার্ষিকী ও দেয়ালিকা প্রকাশ, সেমিনার, বিতর্ক অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস পালন, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বনভোজন ইত্যাদি শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
শিক্ষা সফর
বৎসরের বিভিণ্ন সময়ে শিল্প কারখানা, ব্যাংক, শেয়ার বাজার এবং দেশের ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট স্থান সমূহে সময় সুযোগমত শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করা হয়।
পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি হৃদয়-মনের সুষম বিকাশ একজন মানুষকে সত্যিকার মানুষ রূপে গড়ে তোলে। তাই কুমিল্লা কমার্স কলেজ চায় যেন প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রী স্বচ্চরিত্র, বিবেকবান এবং সুকোমল হৃদয়ের অধিকারী হয়ে ওঠে। ক্ষুদ্র স্বার্থপরতার উর্দ্ধে উঠে পরার্থে জীবন দানের ঔদার্য যেন তারা এ কলেজে অধ্যয়নকালে অর্জন করতে পারে।
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের কলম থেকে
স্নেহভাজন ছাত্র/ছাত্রীবৃন্দ,
কুমিল্লা কমার্স কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে তোমাদের সবাইকে জানাই উষ্ণ স্বাগতম এবং আন্তরিক অভিনন্দন। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি মূলতঃ স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত, রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমাদের স্বপ্ন কুমিল্লা কমার্স কলেজকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা, যেখান থেকে তৈরী হবে সৎ, নিষ্ঠাবান, দায়িত্বপূর্ণ, সুশৃংখল এবং কর্মজীবন উপযোগী জ্ঞান সমৃদ্ধ ছাত্র-ছাত্রী বৃন্দ। এই সকল ছাত্র-ছাত্রী কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যদি তাদের পরিবার, সমাজ, দেশ সর্বোপরি মানুষের কল্যানে কিছু করতে পারে তবেই স্বার্থক হবে আমাদের সকল প্রয়াস।
আমাদের প্রধান লক্ষ্য তাত্ত্বিক শিক্ষাকে বাস্তবতার সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পিত উপায়ে Academic Calendar and Course Plan অনুযায়ী শিক্ষাকার্যক্রম ও পরীক্ষা সমূহের (Spot test, সাপ্তাহিক, মাসিক ও সেমিষ্টার) সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে পাঠদান।
কুমিল্লা কমার্স কলেজ তাঁর ছাত্রদের সৃজনশীল হতে, প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে এবং প্রকৃত জ্ঞানার্জন করতে উৎসাহ প্রদান করে। চর্বিত চর্বন করার মধ্যে কোন আনন্দ নেই। আবার প্রকৃত শিক্ষার অর্থ ভূড়ি ভূড়ি এবং উন্নত মানের তত্ত্বা বা তথ্য মগজে সঞ্চয় করাও নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মন, মনন, মানসিকতা, চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, জীব বোধ এক কথায় মনুষত্বের বিকাশ সাধন করা এবং একই সাথে দক্ষতা অর্জন করা। এই কাজে আমাদের শিক্ষক মন্ডলী হবে তোমাদের প্রধান সহায়ক। এই উদ্দেশ্যে আমরা সার্বজনীন মানসিক মূল্যবোধের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকি এবং যে কোন ধরনের সংকীর্ণতা বা গোড়ামীকে প্রত্যাখান করি।
উল্লেখ্য যে, শিক্ষাঙ্গনে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত রাখার উদ্দেশ্যে রাজনীতি ও ধূমপান এখানে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অগ্রগতি, সুনাম ও সাফল্য নির্ভর করে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকমন্ডলী, অভিভাবকবৃন্দ ও ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মিলিত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার উপর। কুমিল্লা কমার্স কলেজ অধ্যয়নরত প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মিলিত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার উপর। কুমিল্লা কমার্স কলেজে অধ্যয়নরত প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে তাই হতে হয় দায়িত্ব সচেতন ও কলেজ নিয়ম শৃঙ্খলার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। কলেজ প্রসপেক্টাস এ বর্ণিত নিয়মাবলী ছাত্র-ছাত্রীরা শ্রদ্ধার সঙ্গে পালনে অঙ্গীকার বদ্ধ হয়ে কলেজের সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে বলে আমি আন্তরিক ভাবে প্রত্যাশা করি।
সর্বোপরি, শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে কুমিল্লা কমার্স কলেজ হোক Step to Higher Education.
মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর মাসউদ
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ
কুমিল্লা কমার্স কলেজ