20/05/2021
পৃথিবীতে মৌমাছি না থাকলে মানব সভ্যতা টিকবে চার বছর
পৃথিবীতে যদি মৌমাছিই না থাকে তাহলে কীইবা এমন ক্ষতি হবে? কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন যদি আসলেই পৃথিবীতে কোনো মৌমাছি না থাকত তাহলে কী হতো? সমস্যাটা হল, বিশ্বে ১০০ রকমের ফল আর ৯০ভাগ খাদ্য শস্যেরই পরাগায়ন হয় মৌমাছির সাহায্যে। মৌমাছি না থাকলে কমে যাবে ফসল কিংবা ফলমূলের উৎপাদন। দেখা দেবে খাদ্য সংকট। প্রশ্ন হল, পৃথিবী কী সে দিকেই এগুচ্ছে??? কারণ ১ দশক আগেও বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ মৌমাছি ছিল, এখন আছে তার ২ তৃতীয়াংশ।
বিজ্ঞান বলছে, যদি পৃথিবী থেকে মৌমাছি হারিয়ে যায় তাহলে মানব সভ্যতা টিকবে মাত্র চার বছর। তার মানে, মৌমাছি ছাড়া খুব বেশি দিন টিকে থাকার সময় পাবে না মানুষ। কি হবে যদি সত্যি সত্যি মৌমাছি হারিয়ে যায়?
বিশ্বের ৯০ ভাগ মূল ফসলের পরাগায়ন হয় মৌমাছির মাধ্যমে। মৌমাছি যদি পরাগায়নে সহায়তা না করে তাহলে বাঁচবে না ফসল। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, মানুষের প্রতি তিন লোকমা খাবারের মধ্যে এক লোকমাই আসে মৌমাছির কারণে। পুরো বিশ্বে ৭০ ভাগ আর যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ ভাগ খাদ্য দ্রব্যের পেছনে রয়েছে মৌমাছির অবদান।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মৌমাছি মারাত্মক হারে কমে যাচ্ছে। গত এক দশকে মোট মৌমাছির এক তৃতীয়াংশ বিলুপ্ত হয়েছে। আর বিলুপ্তির পথে রয়েছে ইউরোপের ২৪ ভাগ মৌমাছি।
প্রশ্ন হচ্ছে কেন হারিয়ে যাচ্ছে মৌমাছি? এর অবশ্য বহুবিধ কারণ রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কীটনাশক, খরা, বাসস্থান হারানো, খাদ্যের অভাব, বায়ু দূষণ, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ আরো অনেক কিছু। এক কথায়, পুরোটাই মানব সৃষ্ট কারণ।
বড় বড় কীটনাশক কোম্পানীগুলো কীটনাশক ও আগাছা নিধনকারী ওষুধ বানাচ্ছে ফসলকে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা করতে। যার মধ্যে থাকে নিওনিকোটিনয়েডস বা সংক্ষেপে নিওনিক্স। যা মৌমাছিদের মেরে ফেলে। অর্থ্যাৎ কীটনাশক আসলে ফসলকে রক্ষা নয় বরং ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।
আজ মৌদিবস!! গ্রামে শহরে, যেখানেই আপনি থাকুন না কেন আপনার বাড়ির আশে পাশে কোন মৌগাছ আছে কি? খোঁজ নিন। ওদের বাঁচিয়ে রাখুন। ভবিষ্যতে পৃথিবীতে যেখানে প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর মহামারী আমাদের পরিবহন ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দেবে তখন খাদ্য ঘরে ঘরেই উৎপাদন করতে হবে। তখন এই মৌমাছিরাই হবে আমাদের শেষ ভরসা। মানুষের বিজয় কেতন কিন্তু প্রকৃতির নির্বাচনের শক্তির সামনে প্রায় ভুলুন্ঠিত!!
মনে রাখতে হবে, সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর খাদ্য সংকট কাটবে কিনা তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে আমরা মৌমাছিদের কতটা সংরক্ষণ করতে পারি তার উপর।