04/09/2023
সূরা আবাসার শিক্ষা
১. ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্রে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিই গুরুত্বপূর্ণ, যে সত্যের সন্ধান প্রার্থী ; সে যদি দরিদ্র, দুর্বল, প্রভাবহীন ও অক্ষম হয় তবুও ।
২. সমাজের সত্যবিমুখ, অহংকারী, প্রভাবশালী, সম্পদশালী ও মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বহীন। কারণ সে সত্যের সন্ধান করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। না।
৩. কুরআন মজীদ সেসব লোকের জন্যই হেদায়াত যারা আল্লাহর দীনের পথে চলতে প্রস্তুত । যারা এ পথে চলতে প্রস্তুত নয়, তাদের জন্য কুরআন মজীদ হেদায়াত নয়। আর তাই দীনী দাওয়াতের ক্ষেত্রে এমন লোকদের কোনো গুরুত্ব থাকতে পারে না ।
৪. দীনের আহ্বায়কদের দীনী দাওয়াতের ক্ষেত্রে সর্বস্তরের লোকদের প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত। এ পর্যায়ে সমাজে মর্যাদার দিক থেকে নিম্নে অবস্থানকারী বলে কাউকে গুরুত্বহীন মনে করা যাবে না; যদি সে দীনকে জানা ও মানার ব্যাপারে আগ্রহী হয়।
৫. কুরআন মজীদ ইতিপূর্বেকার আসমানী কিতাবসমূহের মতো মিশ্রণের দোষে দুষ্ট নয়। এতে কোনো প্রকার পরিবর্তন-পরিবর্ধন ঘটেনি এবং কেয়ামত পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটার আশংকাও নেই ; কারণ এর হিফাযতকারী স্বয়ং আল্লাহ।
৬. মানুষের উচিত তার সৃষ্টির উপাদান, তার জন্ম-প্রবৃদ্ধি, মৃত্যু— অবশেষে কবরে পৌঁছান পর্যন্ত পর্যায়গুলো সম্পর্কে যদি চিন্তা-ফিকির করে তবে সে অবশ্যই মহান স্রষ্টা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে বাধ্য—একথা অনায়াসে বুঝতে পারা যায়।
৭. আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের পরিবেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আল্লাহর হাজারো নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করতে হবে। এর ফলে আমাদের ঈমান দৃঢ় হবে।
৮. মানুষ ও গবাদি পশুর খাদ্য সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা দ্বারাও ঈমান দৃঢ় হয়। অতএব এ সম্পর্কেও আমাদের চিন্তা-গবেষণা করতে হবে।
৯. কেয়ামত অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত হবে । অতপর দুনিয়ার সূচনা থেকে নিয়ে কেয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত যত মানুষ দুনিয়াতে আসবে সবাইকে পুনরায় জীবিত করে উঠানো হবে এবং হাশরের ময়দানে সবাইকে একত্রিত করা হবে।
১০. হাশরের ময়দানে মানুষ নিজ নিজ স্বজন থেকে পালিয়ে দূরে সরে যেতে থাকবে এবং সবাই নিজ নিজ অবস্থা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকবে যে, অন্য কারো ভাবার কোনো সুযোগ থাকবে না।
১১. দুনিয়াতে যারা তাদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন থেকে আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে জীবন যাপন করবে তারা হাস্যোজ্জল চেহারায় সেখানে অবস্থান করবে।
১২. আর যারা তাদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে আল্লাহর নির্দেশের বিপরীত নীতি অনুসারে জীবনকাল কাটিয়ে দেবে, তাদের চেহারা সেদিন ধূলি-ধূসরিত ও কালিমায় লিপ্ত হবে। সেদিন তাদের দুঃখের সীমা থাকবে না।