02/03/2024
এটাতো সবাই জানেন, ইসলাম কোন গোষ্ঠীগত বা বংশীয় উত্তরাধিকার নয় যে, মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই সে এমনিতেই মুসলমান হয়ে যাবে এবং মুসলমান হওয়ার জন্য তার কোন কিছু করা লাগবে না।
যেমন শেখ বা সাইয়েদ বংশে জন্মগ্রহণ করলেই সন্তান এমনিতেই শেখ বা সাইয়েদ হয়ে যায়। শেখ বা সাইয়েদ হওয়ার জন্য তাকে কোন কিছু করতে হয় না,
কিন্তু ইসলাম এমন একটি ধর্মের নাম, এমন একটি জীবন বিধানের নাম, যা আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছিলেন, যা কুরআনে কারীমে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
অতএব, যে এই দ্বীন মেনে নিবে এবং সে অনুযায়ী নিজের জীবন পরিচালনা করবে, সে-ই মূলত মুসলমান। যারা এই দ্বীন সম্পর্কে ধারণা রাখে না এবং সে অনুযায়ী জীবন গঠন করে না, সে খাঁটি মুসলমান নয়। সুতরাং বুঝা গেল যে, খাঁটি মুসলমান হতে হলে দুটো বিষয় অত্যন্ত জরুরী-
১. আমরা দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জানবো, কমপক্ষে প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়াবলীর জ্ঞান অর্জন করবো।
২. এই দ্বীনকে আমরা মানবো এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেব।
-এরই নাম ইসলাম এবং মুসলমান হওয়ার অর্থই হলো এটা।
ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা অর্থাৎ অত্যাবশ্যকীয় বিষয়সমূহ জানা, মুসলমান হওয়ার পূর্বশর্ত। এ জন্যই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
طلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
অর্থাৎ- 'দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয।'
(ইবনে মাজাহ, বায়হাকী)
🚫স্মরণ রাখতে হবে যে, আমাদের ধর্মে যেসব কাজ ফরয সেসব কাজ সম্পাদন করা-ইবাদত। এজন্য ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা এবং ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করাও ইবাদত। এজন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে অনেক সওয়াব বা প্রতিদান রয়েছে। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজের অনেক ফযীলত ও মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। একখানা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
🟢'যে ব্যক্তি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করার জন্য ঘর থেকে বের হয়, সে ঘরে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় থাকে।' (তিরমিযী) অন্য এক হাদীসে এসেছে-
🟢'যে ব্যক্তি ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য কোন রাস্তায় পা বাড়ায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য বেহেশতের রাস্তা সুগম করে
দেন।' (মুসলিম)
আরেকটি হাদীসে এসেছে-
🟢'ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ এবং তা অর্জনের জন্য চেষ্টা করা পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ।' (তিরমিযী) (অর্থাৎ এ দ্বারা মানুষের পেছনের গুনাহ মাফ হয়ে যায়)
মোটকথা, প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা, ইসলামের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়াবলীর ধারণা লাভ করার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয।
সে ধনী হোক বা গরীব, যুবক হোক বা বৃদ্ধ, শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত, পুরুষ হোক বা নারী।
পূর্বে বর্ণিত হাদীস থেকে এটা বুঝা গেল যে, জ্ঞানার্জনের কাজে যে সময়টুকু অতিবাহিত হয়, এর জন্য যে পরিশ্রমটুকু করতে হয়, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে এর বিরাট প্রতিদান আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
সুতরাং আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে, ইসলামের খুব জরুরী বিষয়গুলোর জ্ঞান অর্জনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
আসুন! এসব বিষয়গুলো আমরা নিজেরা শিখি, অন্যদেরকে শিখাই। এসব ইসলামী সভ্যতা প্রচলনে এবং সর্বত্র প্রসার ঘটাতে আমরা আমাদের চেষ্টা-তদবীর কাজে লাগাই। একে জীবনের লক্ষ্যে পরিণত করি। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
'যে ব্যক্তি ইসলামকে জিন্দা করার নিয়তে দ্বীন শেখার চেষ্টা করে, (অর্থাৎ অন্যদের মাঝে প্রচার-প্রসার করে এবং সে অনুযায়ী তাদেরকে পরিচালনা করে) আর তখন যদি সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে সে কিয়ামতের দিন নবী-রাসূলদের এতো নিকটবর্তী থাকবে যে, তার মাঝে ও নবীদের মাঝে একটি মাত্র শ্রেণীর পার্থক্য থাকবে।'
🔴প্রতিটি মুসলমানের জানা থাকা আবশ্যক, এমন বিষয় গুলা নিয়ে আমাদের একটি দারুণ কোর্স আছে।সে সম্পর্কে জানতে আমাদের মেসেজ করতে পারেন ইনশাআল্লাহ।
অথবা ভিজিট করুন ঃwww.alihdaacademy.com