29/05/2020
"বিয়ে জীবন পাল্টে দেয়"
মাস ছয় এক আগে আমার এক আত্মীয় আমাকে ফোন দেয়। ফোন ধরার সাথে সাথে স্নেহ ও মায়ায় মোড়ানো অনেক গুলো শব্দ কানে ভেসে আসে। আমি আদবের সাথে উত্তর সম্পন্ন করে, উনার ও উনার ফ্যামেলির খোঁজ খবর নেই।
প্রাথমিক পর্যায়ের ফোন আলাপ শেষ হওয়ার পর, জনৈক আত্মীয় উনার ছেলের প্রসঙ্গ তুলে আনেন। উনার ছেলে বছর খানেক হল দেশ রক্ষার একটি বাহিনীতে যোগদান করেছে।আলহামদুলিল্লাহ, খুশির সংবাদ।
তবে তিনি দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে আমাকে হতাশার বাক্য শুনালেন। উনার ছেলে চাকরিটা করতে চায় না। ফোন করে করে চাকরি ছেড়ে দেবার কথা বলে। এই নিয়ে তাদের ছোট সংসার অশান্তির আগুন পোহাচ্ছে।
জিজ্ঞেস করলাম- আপনার ছেলে এই কথা কতদিন হল বলে আসছে?
তিনি খুব হতাশ কন্ঠে আমাকে জবাব দেয় - সেই প্রথম থেকেই এই কথা বলে আসছে। প্রথমে ভাবতাম, নতুন চাকরি পেয়েছে, কষ্টে বোধহয় এমন কথা বলছে। কিন্তু না দিন যতই গড়াচ্ছে, ছেলের চাকরি ছাড়ার ভুত ততোই ঘাড়ে চাপছে।
কিছু কিছু সময় ছেলের কথা শুনে চোখ বেয়ে পানি চলে আসে। মনে অশান্তির ঝড় বয়ে যায়। এই কথা বলতে বলতে কান্নার আওয়াজ কানে ভেসে আসছিল।
আমি শান্ত গলায় উনাকে শান্তনা দিতে চেষ্টা করলাম। বল্লাম চিন্তা করবেন না। আপনার ছেলের সাথে আমি কথা বলবো। আল্লাহ তায়ালা সব ঠিক করে দিবে, ইনশাআল্লাহ। কথা শেষে উনি স্বস্তির কন্ঠ নিয়ে ফোন রাখলেন।
ফোন রাখার পর আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। ছেলেটি খুবই ভদ্র ও নম্র প্রকৃতির ছিল। ভদ্রতার বারো আনাই তার মধ্যে রয়েছে।কখনো কোন ত্রুটিমূলক কাজে তার ছায়া ছিল না। তবে সে কেন এমন করছে?
একদিন সন্ধ্যায় ছেলেটিকে ফোন দিলাম। খোঁজ খবরের পর্ব শেষ করে প্রশ্ন করলাম- তুমি চাকরি কেন ছাড়তে চাও?
পরক্ষণেই জবাব আসে- চাকরিটা খুবই কষ্টের। এই চাকরি আমার দ্বারা হবে না।
বল্লাম- তোমার সাথে তো আরো অনেকেই চাকরি করে। তার কি সবাই চাকরি ছেড়ে দেবার কথা বলে?
অনেকক্ষণ বুঝানোর পরও সে চাকরি ছাড়ার চিন্তায় অটল।
ফোনের শেষ প্রান্তে এসে ওকে অন্য রকম একটা প্রশ্ন করি -
তুমি কি কাউকে পছন্দ কর?
ছেলে সততার সাথে জবাব দেয় - সে কাউকে পছন্দ করে না।
কিছুদিন পর আত্মীয় যখন আমাকে ফোন দিয়ে ছেলের এই সমস্যার সমাধানের পরামর্শ চাচ্ছিল। তখন উনার প্রতি আমার পরামর্শ ছিল- আপনার ছেলেকে একটি ভালো ও ধার্মিক পরিবারের মেয়ের সাথে বিয়ে করিয়ে দেন। তাহলে আপনার ছেলের মনের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা রহমত, বরকত, সাংসারিক চিন্তা ও বাস্তবতার দৃষ্টি খুলে দিবে, ইনশাআল্লাহ।
কিছুদিন পর ছেলের মা বাবা এক ধার্মিক মেয়ের সাথে তার ছেলেকে বিবাহের রহমতে আবদ্ধ করে দেন। আলহামদুলিল্লাহ।
ছেলের বিয়ের অনেকদিন পর আত্মীয় আমাকে ফোন দেয়।
স্বস্তির কন্ঠে, শান্তির নিঃশ্বাস নিয়ে আমাকে পরিবারের শান্তির কথা জানায়। আলহামদুলিল্লাহ ছেলে সাংসারিক হয়ে উঠেছে। ছেলের মুখে এখন আর চাকরি ছাড়ার হতাশামূলক বাক্য শুনা যায় না। পরিবারের সদস্যরা এখন শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
আত্মীয়র কথা গুলো শুনে খুবই ভাল লাগছিল।
আর ভাবছিলাম, আল্লাহ তায়ালা বিয়ের মাধ্যমে রহমত, সুখ, শান্তি ও দায়িত্ব নামক কর্তব্য রেখে বান্দাকে সুখি করে দেন, সুবাহানাল্লাহ।
বিয়ের মাধ্যমে যেন আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের জীবনকে বরকতময় ও সুখিময় করে দেন।