13/10/2022
নবী কারিম ﷺ এর আগমন এবং বিদায়ঃ
📖🖋️📖🖋️📖🖋️📖🖋️📖🖋️📖🖋️📖🖋️📖🖋️
নবী কারীম ﷺ এর জন্ম তারিখ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও একটি বিষয়ে সবাই একমত যে নবী কারিম ﷺ এর জন্ম রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার দিন হয়েছিল। কিন্তু তারিখ নির্ধারণে চারটি রেওয়ায়েত বর্ণনা রয়েছে। যেমনঃ ২, ৮, ১০ ও ১২ তারিখ। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ হচ্ছে ১২ তারিখের রেওয়ায়েত অর্থাৎ ১২ ই রবিউল আউয়াল সোমবার।
হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহঃ এই মতে সবাই একমত বলে দাবি করেছেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে আসিরের ‘আল কামিল’ গ্রন্থে এই তারিখই(১২ ই রবিউল আউয়াল) গ্রহণ করা হয়েছে।
📖রেফারেন্সঃ সিরাতে খাতামুল আম্বিয়াঃ পৃষ্ঠা-১৭)
তাছাড়া মহানবী ﷺ-এর জীবনী লেখকদের মধ্যে ইবনে ইসহাক প্রথম সারির জীবনীকার। তিনি বলেন, মহানবী ﷺ হস্তীবাহিনীর ঘটনার বছর ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন।
📖রেফারেন্সঃ সিরাতে ইবনে হিশাম, খণ্ড-১, পৃ. ১৫৮)
সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অভিমত হলোঃ
হাফেজ ইবনে কাছীর রহঃ ১২ তারিখের দলীল সম্পর্কে বলেনঃ-
وقيل لثنتي عشرة خلت منه, نص عليه ابن اسحاق ورواه ابن ابى شيبة فى مصنفه عن عفان بن مسلم عن سعيد بن مينا عن جابر وابن عباس رضى الله عنهما انهما قالا: ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل يوم الاثنين الثانى عشر من شهر ربيع الاول وفيه بعث وفيه عرج به الى السماء وفيه هاجر وفيه مات, وهذا هوالمشهور عند الجمهور و الله اعلم.
‘ইবনে ইসহাক রহঃ ১২ তারিখের মতটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আবী শাইবা তার ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে আফফান ইবনে মুসলিম এর সূত্রে সাঈদ ইবনে মীনা থেকে বর্ণনা করেন যে, জাবের রাদিঃ ও ইবনে আব্বাস রাদিঃ বলেছেন, নবী ﷺ হস্তি বাহিনীর মক্কায় আক্রমণের বছর রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার জন্ম গ্রহণ করেন। আর রবিউল আউয়াল মাসে তাকে নবুওয়াত দেয়া হয় এবং এই মাসে তাঁর মে‘রাজ হয় এবং এই মাসেই তিনি হিজরত করেন আর এই মাসেই তিনি ইন্তিকাল করেন। কিন্তু ইন্তিকালের তারিখ নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে তবে, এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে তিনি (নবী ﷺ) ১২ ই রবিউল আউয়াল সোমবার জন্মগ্রহণ করেন কিন্তু ১২ ই রবিউল আউয়াল মৃত্যু বরণ করেন না। তবে দিন তথা সোমবার মৃত্যু বরণ করেছেন, এটাও স্পষ্ট বর্ণনায় পাওয়া গেলেও তারিখ কেউ কেউ বলেছেন, ২ ই রবিউল আউয়াল সোমবার আবার কেউ বলেছেন ৯ ই রবিউল আউয়াল সোমবার। হাফেজ ইবনে কাছীর রহঃ বলেন, জমহুরের নিকট এই মতটিই বেশি প্রসিদ্ধ। 📖রেফারেন্সঃ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/২৮৩)
[উল্লেখ্য যে, হাফেজ ইবনে কাসির হলেন কুখ্যাত হাদিস তাহকীককারী এবং সালাফী মানহাযের তথা আহলে হাদিসের গড ফাদার ইবনে তাইমিয়ার ছাত্র]
🖋️ব্যক্তিগত মতামতঃ আমরা যদি তর্কের
খাতিরে নবী ﷺ এর জন্ম এবং ইন্তেকাল একই দিনে বা একই তারিখে ধরেও নিই, তারপরও সেইদিনকে শোক দিবস হিসেবে পালন করার কোন সু্যোগ নেই। কারণ নবী কারীম ﷺ দুনিয়াতে এসেছিলেন রহমত নিয়ে এবং তিনার ﷺ রহমত এখনো বিরাজমান, এমনকি কেয়ামত পর্যন্ত বিরাজমান থাকবে। অর্থাৎ নবী ﷺ এর ইহ-জিন্দেগীতে থাকা যেমন আমাদের জন্য রহমত, চলে যাওয়াও আমাদের জন্য রহমত। আর মহান রবের ঘোষণা হলো রহমতের শুকরিয়া আদায় করা এবং রহমত পেয়ে খুশি উদযাপন করা। শুধু তাই নয় ইসলামের শরীয়তে মুসলমানদের জন্য ৩ দিনের বেশি শোক পালন করার বিধান নেই(শুধুমাত্র স্বামী মারা গেলে স্ত্রী ১৩০ দিন অর্থাৎ ৪ মাস ১০ দিন শোক পালন করবে)।
আর আমাদের নবী ﷺ তো রহমতুল্লিল আলামিন, ইমামুল মুরসালিন, খাতামুন্নাবি-ঈন, হায়াতুন্নাবী, যিনি এখনো মদিনার রওজা মোবারকে জিন্দা অবস্থায় আছেন এমনকি পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে তিনার ﷺ কোন উম্মত যদি তিনার উপর দুরুদ ও সালাম প্রেরণ করেন, তিনি ﷺ সেই দুরুদ ও সালামের জবাব দিয়ে থাকেন।
এখন কেউ যদি মনে করে যে, নবী ﷺ আমাদের মত করে মরে গেছেন, তিনার রহমতও আমাদের মধ্য থেকে চলে গেছে, আমরা এখন তিনার ﷺ উম্মত হিসেবে নেই। তাহলে তারা শোক পালন করলেই কি আর না করলেই বা কি❓
তবে আপনার একজন দ্বীনি ভাই হিসেবে শুধু এইটুকু অনুরোধ করবো, প্রিয় ভাই আমার❗ আমার নবী ﷺ সম্পর্কে এমন কোন ধারণা রাখবেন না, যেই ধারণা রাখার কারণে আপনার ঈমাণ চলে যায়, মৃত্যুটাও বে-ঈমান হিসেবে হয়, এমনকি হাশরের ময়দানে নবী ﷺ এর শাফায়াত থেকে বঞ্চিত হতে হয়। আপনি আমার নবী ﷺ কে মৃত মনে করছেন অথচ আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা পবিত্র কুরআনে আল্লাহর অলীদেরকে জিন্দা ঘোষণা করেছেন, আমরা সবাই জানি যে, দুনিয়ার বিধান অনুযায়ী সবাই এই দুনিয়া থেকে চলে যায় কিন্তু সবাই মৃত্যু বরণ করেনা। যেমনঃ আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা তাদেরকে (যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়) মৃত বলনা বরং তারা জিন্দা কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারনা, এমনকি তারা আমার(আল্লাহর) পক্ষ থেকে রিজিকিপ্রাপ্ত।"(আল-কুরআন)
এই ঘোষণা যদি একজন শহীদের জন্য হয়, তাহলে নবীদেরকে মৃত মনে করা তো স্পষ্ট কুফরি, আর যিনি (মুহাম্মদ ﷺ) নবীদেরও নবী, তিনাকে মৃত মনে করা তো সবচেয়ে বড় কুফরি।
মহান রব! আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুক।
আমরা তো শুধু এটাই বলি যে-
"ফিদাকা আবি ওয়া উম্মি ইয়া রাসুলুল্লাহ ﷺ"