15/06/2024
পবিত্র একটি কাজের মধ্যেও কেমন ভীষণ রকম একটা পাপাচার অগোচরেই থেকে যায় আমাদের।
একটু এক্সপ্লেইন করে বললে বিষয় টি এমন,কোরবানি হচ্ছে আমাদের রবের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমরা নিজেদের প্রিয়বস্তুটা বিসর্জন কিংবা উৎসর্গ করা।যদি আল্লাহ তায়ালার বিধান এমনটাই হতো যে পিতাকে তার সন্তানকে কোরবানি করতে হবে,কেমন হতো সেই বিষয় টা। কতটা কঠিন আর নির্মম হতো জাস্ট একটু ইমাজিন করি আমরা।সেইখানে সেই বিষয়টি কে প্রতিস্থাপন করা হলো কোন একটি পবিত্র পশু দ্বারা।
এখন,আমাদের যদি মুখ্যউদ্দেশ্য এটাই হয় কোরবানি দেওয়া। তাহলে তো সেটা এমন হওয়া উচিৎ যেটা আমাদের রবের সন্তুষ্টির কারণ হবে।এখানে মুখ্য উদ্দেশ্যটাই হলো রবের প্রিয় বস্তু রবের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য বিসর্জন দেওয়া।
কিন্তু একটু চিন্তা করলে দেখা যায় আমরা বিষয়টিকে এমন বানিয়ে নিয়েছি,কোরবানি মানে আমাকে একটি পশু কিনতে হবে,এবং সেটাতে আমাকে যথেষ্ট পরিমান লাভবান হতে হবে।আমাকে জিততে হবে।যেখানে উদ্দেশ্য ছিল রবের সন্তুষ্টি জেতা।সেখানে আমরা উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছি অল্প দামে অধিক বলবান পরিমান পশু কিনে নিজেকে জিতেছি প্রমাণ করা।
এই প্রমাণ করতে গিয়ে ই আমরা কিছু সংখ্যক ক্রেতা এতটাই দর কষাকষি শুরু করে দেই যেটাতে কিনা কোন এক গৃহস্থ পরিবারের জন্য স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ( সবাই এক নয়)
অনেক দরিদ্র পরিবারের কৃষক তার পরম যত্নে সন্তানতুল্য পশুটাকে হাটে নিয়ে আসে এই আসায়,, যে এটা বিক্রি করে সে তার পরিবারের জন্য হয়তো কোন একটা স্বপ্ন পূরণ করবে।কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিমান বিক্রি মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই আকাশ পরিমাণ কষ্ট বুকে চেপে আড়ালে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়ে বেড়ান।
আমি মনে করি আমাদের পশু কেনার সময় একটু দেখা উচিৎ আমরা কার থেকে পশুটি ক্রয় করছি।যদি সে সত্যি ই দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করে,তাহলে আমাদের উচিৎ জিতছি নামক অসুস্থ প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী ন্যায্য দামে গরু ক্রয় করা।এতে হয়তো ঐ পরিবারটির স্বপ্ন ভঙ্গ হবে না।খুশি হবে তারা।খুশি হবেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা।কবুল হবে আমাদের কোরবানি ইনশাআল্লাহ 🥰💝
বি:দ্র:মনের ভাবটুকু সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক কথা ই বলা হয়ে গেল।ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।