20/09/2026
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের প্রচলিত সুফি-তাসাউফের দৃষ্টিতে ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম হলো শাহেনশাহে বাগদাদ, পীরানে পীর, দস্তগীর, হযরত গাউসুল আ‘যম, শায়খ আবদুল কাদের জিলানী (কা.সি.আ.)-এর ওফাত/ঊরস শরীফ স্মরণে রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে আয়োজিত ফাতিহা, কুরআনখানি, মিলাদ, দোয়া-মুনাজাত ও তাবাররুক বিতরণের একটি বিশেষ ধর্মীয় মাহফিল। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো।
🌿 ১. ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহমের মূল উদ্দেশ্যঃ
এটি মূলত কোনো নতুন ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত নয়; বরং নেক আমল, কুরআন তিলাওয়াত, দরূদ-শরীফ, জিকির, দোয়া, সদকা ও আল্লাহর নেক বান্দাদের স্মরণ করার একটি উপলক্ষ হিসেবে সুফি মহলে পালিত হয়। বাংলাদেশে এ উপলক্ষে কুরআনখানি, মিলাদ, গাউসুল আ‘যম (রা.)-এর জীবন ও শিক্ষা আলোচনা, দোয়া-মুনাজাত এবং তাবাররুক বিতরণের প্রচলন রয়েছে।
🌙 ২. কেন ১১ রবিউস সানি এত গুরুত্বপূর্ণ?
হযরত শায়খ আবদুল কাদের জিলানী (রা.)-এর ওফাত ১১ রবিউস সানি ৫৬১ হিজরি হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখ করা হয়। তাই তাঁর ভক্ত ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীদের কাছে এ দিনটি বিশেষ স্মরণীয়।
তাঁকে কাদেরিয়া তরিকার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ও মহান সুন্নি সূফী শায়খ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাঁর জীবন ছিল শরিয়ত, সুন্নাহ, ইলম, তওবা, তাকওয়া, জিকির ও আত্মশুদ্ধির প্রতি গভীর আহ্বানের দৃষ্টান্ত।
🕋 ৩. আহলে সুন্নাতের সুফি দৃষ্টিতে এর তাৎপর্য
ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহমের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ওলী-আল্লাহকে ভালোবাসা মানে তাঁদের দেখানো পথে আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করা।
গাউসুল আ‘যম (রা.)-এর নামে প্রচলিত শিক্ষাগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে শরিয়ত ও সুন্নাহ অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাঁর একটি প্রসিদ্ধ বাণীতে কুরআন ও সুন্নাহকে আল্লাহর পথে চলার মূল পথনির্দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থাৎ প্রকৃত তাসাউফ হলো শরিয়ত থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়; বরং শরিয়তের বাহ্যিক আমলকে ইখলাস, ইহসান ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অন্তরে প্রতিষ্ঠা করা।
🤲 ৪. ফাতিহার মাধ্যমে কী ফজিলত আশা করা হয়?
আহলে সুন্নাতের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ ধরনের মাহফিলে—
কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব অর্জন করা,
দরূদ ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণ বৃদ্ধি করা,
আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করা,
মৃত মুসলমানদের জন্য ঈসালে সওয়াব করা,
গরিব-মিসকিনকে খাদ্য ও সদকা করা,
নেককার বান্দাদের জীবন ও আদর্শ স্মরণ করে নিজের আমল সংশোধন করা
—এসব নেক কাজের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও সওয়াবের আশা করা হয়।