21/04/2024
ইসলাম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য মনোনীত সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানবসভ্যতার বিকাশের চূড়ান্ত মুহুর্তে পৃথিবীর সবচে দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ের জন্য আল্লাহ তায়ালা ইসলামকে মনোনীত করেছেন। ইসলাম সভ্যতা বিকাশে যে নবযাত্রার সূচনা করেছে, তার ভিত্তি রেখেছে ইলম তথা জ্ঞানের উপর। মানবজাতির উদ্দেশ্যে ইসলামের উচ্চারিত প্রথম আহবানই জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত।
আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর কাঁধে এক মহাদায়িত্ব অর্পণ করেছেন। তা হলো, জগতবাসীকে পথপ্রদর্শন, নেতৃত্ব প্রদান ও তত্ত্বাবধান করা। আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা, 'তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত। বিশ্বমানবতার কল্যাণে তোমাদের আবির্ভাব।' এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যম উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা জগতের মানুষের উপর স্বাক্ষী হও।'
এ মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনে জ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন প্রয়োজন।
ইসলাম দ্বীন ও দুনিয়ায় সমন্বয়ে ইহ ও পরকালের কল্যাণ সাধনের এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। মানবসভ্যতার কল্যাণ ও সমৃদ্ধ অর্জনে বর্তমানে ধর্ম ও কর্মের সমন্বয়ে নৈতিকতাসমৃদ্ধ জীবনমূখী শিক্ষার বিকল্প নেই।
আল জাওহার মডেল মাদরাসা জীবন-সভ্যতা ও নবধারাকে ইসলামের অনুগামী করে ইসলামের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করতে দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয়ে ইহ ও পরকালীন কল্যান লাভের নিমিত্তে কর্মমুখী ধর্মীয় শিক্ষা প্রবর্তনে এক নতুন শিক্ষাধারা সূচনা করতে চায়। সে লক্ষেই আমাদের সামগ্রিক প্রয়াস নিবেদিত।
🔘লক্ষ ও উদ্দেশ্য🔘
কুরআন সুন্নাহর আলোকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, উন্নত চরিত্র গঠন এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক হাফেজে কুরআন, আলেম ও দেশপ্রেমিক সু-নাগরিক গড়ে তোলা এবং আল্লাহর খলিফা ও নবী রাসূলুল্লাহ সা. এর যোগ্য নায়েবে রাসূল তৈরি করা।
💠মাদরাসার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য সমূহ💠
✪ বিজ্ঞ উলামায়ে কিরাম ও শ্রেষ্ঠ হাফেজে কুরআনদের পরামর্শে পরিচালিত।
✪ বিশ্ব-বিখ্যাত হাফেজ, ক্বারী ও শায়খগণের তিলাওয়াত শোনানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তিলাওয়াত সুন্দর ও সুললিত করার প্রচেষ্টা।
✪ সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা পাঠদান।
✪ শ্রেণী কক্ষে পাঠ সমাপ্তকরণ ও শ্রেণী পরীক্ষার মাধ্যমে পাঠ পর্যালোচনা।
✪ হাতে-কলমে শিক্ষাদান এবং ক্লাসের পড়া ক্লাসেই সম্পন্নকরণ।
✪ দূর্বল ও অমনোযোগী ছাত্রদের বিশেষ গুরুত্বের সাথে পাঠদান।
✪ বেত্রাঘাত নয়: আদর-সোহাগ দিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা।
✪ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিকেলে খেলাধুলার ব্যবস্থা।
✪ স্বাস্থ্যসম্মত তিন বেলা খাবার পরিবেশন।
✪ শিশু মনোবিজ্ঞান অনুসরণে শিক্ষাদান।
✪ হাফেজ ছাত্রদের জন্য রয়েছে সনদের বিশেষ ব্যবস্থা।
✪ পবিত্র কুরআনের ওয়াকফ-ইয়াদাহ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান দান।
✪ আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত হাফেজ ক্বারীদের মাধ্যমে মাশকের ব্যবস্থা।
✪ দৈনিক ইজতেমায়ী মাশক্ব ও গ্রুপভিত্তিক মাশক্ব।
✪ আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক হিফয প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের যোগ্য গড়ে তোলা।
✪ দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রদের আমল আখলাক ও চরিত্র গঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
✪ প্রবাসী ও ব্যস্ত অভিভাবকগণের সন্তানদের দায়িত্ব গ্রহণ।
✪ দেশের ঐতিহাসিক স্থান সমূহে বাৎসরিক শিক্ষা সফর।
✪ সুন্নত তরিকায় জীবন-যাপন।
✪ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা।
💠বিভাগ সমূহ💠
🔹নূরানী কিন্ডারগার্টেন বিভাগ
বাংলা, অংক, ইংরেজিসহ নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত আধুনিক কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতিতে নূরানী সিলেবাসের সমন্বয়ে দ্বীনি শিক্ষার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
🔹নূরানী খুসুসি [বিশেষ] বিভাগ
স্কুল থেকে তৃতীয়/প্রাইমারি শেষ করে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র এক বছরে হাদিস-দোয়া, মাসআলা, ও তাজবিদ আয়ত্ত করণসহ বিশুদ্ধ কুরআনের নাজেরা শেষ করে হিফযের উপযোগী করে তোলা। দ্বিতীয় বছর থেকে হিফয শুরু।
(মেধা ভালো হলে আরো কম সময়েই হিফয শুরু করতে পারবে ইনশাআল্লাহ)
🔹স্ট্যান্ডার্ড নাজেরা বিভাগ
আন্তর্জাতিক তর্জে তারতিল, তাদভীর, হদর মশকের পাশাপাশি তাজবিদ আয়ত্ত করণসহ বিশেষ সূরা সমূহ মুখস্থকরণ।
🔹হিফযুল কুরআন বিভাগ
আন্তর্জাতিকমানের হাফেজগণের তত্ত্বাবধানে, বিশ্ববিখ্যাত হাফেজ ক্বারীদের লাহনে, স্বল্পসময়ে যত্নসহকারে পবিত্র কুরআন হিফজকরণ।
🔹হিফয রিভিশন বিভাগ
পবিত্র কুরআন হিফয সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট শিক্ষকের তত্বাবধানে ইয়াদ মজবুত করণ, আয়াতে মুসতাবিহাত ও ওয়াকফ্ ইয়াদাহ সম্পর্কে জ্ঞান দান।
🔹প্রতিযোগীতা বিভাগ
আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের যোগ্য হিসেবে গড়া তোলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করা।
🔹বয়স্ক কুরআন শিক্ষা বিভাগ
প্রতিদিন বাদ এশা স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ-দোয়া ও প্রয়োজনীয় মাসায়েল শিক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা।
🔯ভর্তির নিয়মাবলি🔯
প্রথম পর্ব ভর্তি শুরু ১লা রমজান থেকে এবং দ্বিতীয় পর্ব ১লা জানুয়ারী থেকে।
(কোটা পূরণ সাপেক্ষে ভর্তি চলবে)
প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তি ফরম ও প্রসপেক্টাস সংগ্রহ করে ফরম পূরণ করে ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি এবং অভিভাবকের ২ কপি ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ অফিসে জমা দিতে হবে। অতঃপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ভর্তি নিশ্চিত করা হবে।
ভর্তির সময় ভর্তি ফি, এক মাসের খোরাকীর টাকা, বেতনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ অগ্রিম প্রদান করতে হবে। প্রতি ইংরেজি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বোডিং চার্জ এবং বেতন ইত্যাদি পরিশোধ করতে হবে।
💠ভর্তি ফি ও অন্যান্য চার্জ (আবাসিক)💠
🔸 ভর্তি ফরম ০০/-
🔸 ভর্তি ফি ২০০০/-
——————
◾মোট ২০০০ টাকা
[পুরাতন শিক্ষার্থীদের ভর্তি নবায়ন ২০০০ টাকা]
🔹মাসিক চার্জ (এক মাসের অগ্রিম)🔹
🔸 খোরাকী ২৫০০/-
🔸 বেতন ১০০০/-
———————
মোট ৩৫০০/-
◾ভর্তির সময় সর্বমোট প্রদেয় ফি – ৫৫০০ টাকা
💠 💠💠💠💠💠💠💠💠
ভর্তি ফি ও অন্যান্য চার্জ (অনাবাসিক)
🔸 ভর্তি ফরম ০০/-
🔸 ভর্তি ফি ২০০০/-
———————
◾ সর্বমোট ২০০০ টাকা
🔹মাসিক চার্জ (অনাবাসিক)🔹
🔸 খোরাকী ০০/-
🔸 বেতন ১০০০/-
———————
মোট - ১০০০ টাকা
💠ছাত্রদের প্রয়োজনীয় আসবাব💠
* একটি ট্রাংক ২২/২৪ ইঞ্চি।
* একটি হোল্ডার বেডিং (বিছানার চাদর, বালিশ ও পাতলা কাঁথাসহ)।
* পাঞ্জাবী: জুব্বা/কাটা (এমব্রয়ডারি ছাড়া) ৩ টা।
(মাদ্রাসার কতৃক নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম কালার)
* সালোয়ার ৩টি (ইউনিফর্ম কালার)
* সাদা গেঞ্জি/ফতোয়া ৩টি।
* সাদা নেট টুপি ২টি ও পাগড়ি/রুমাল ১টি।
* গামছা বা তোয়ালে ১টি ও লুঙ্গি ২টি।
* টুথব্রাশ ও মেসওয়াক ২টি করে।
* স্কুল ব্যাগ ও পেন্সিল বক্সে ১টি।
(নূরানী ও কিন্ডারগার্টেন ছাত্রদের জন্য)
* টিস্যু পেপার।
* মাঝারি সাইজের ট্রাভেল ব্যাগ ১টি (কাপড় রাখা ও বাড়িতে আসা-যাওয়ার জন্য।
উল্লেখিত আসবাব ছাড়া অন্য কোন আসবাব কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আনা-নেওয়া নিষেধ।
💠অভিভাবকদের প্রতি💠
১. আপনার সন্তানের তা'লিম-তারবিয়াতের উন্নতির জন্য মাদ্রাসা কতৃক গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করুন।
২. নির্ধারিত ছুটি ব্যতীত ছুটি না নেওয়া এবং নির্ধারিত সময় ব্যতীত সাক্ষাৎ না করা।
৩. আপনার সন্তানকে গড়ে তুলতে পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
৪. শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা কতৃক নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিয়ে মাদ্রাসায় আনা।
৫. অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের যথা সময়ে মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া নিশ্চিত করা।
৬. নিয়মিত সন্তানের পড়ালেখা ও আমল-আখলাকের উন্নতির খোঁজ নেওয়া এবং প্রতিবেদন ফরমে স্বাক্ষর করা।
💠শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাতের নিয়মাবলি💠
১. সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার বাদ জুমা থেকে মাগরিবের
২০ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত সাক্ষাৎ করা যাবে।
২. সাক্ষাতের সময় শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল দেওয়া
নিষেধ।
৩. সাক্ষাতের সময় শিক্ষার্থীদের গেটের বাহিরে নেওয়া
যাবে না।
৪. সাক্ষাৎ করতে এসে ১৫ - ২০ মিনিট এর মধ্যে
প্রয়োজনীয় কথা সমাপ্ত করার অনুরোধ রইল।
৫. মহিলা অভিভাবকগণ সম্পূর্ণ পর্দার সাথে সাক্ষাৎ
করতে আসতে হবে।
💠ফোনে কথা বলার নিয়মাবলি💠
১. আসর থেকে মাগরিবের ২০ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত ফোনে কথা বলা যাবে। (সপ্তাহে একবার)
২. মাগরিবের পর কোনভাবেই সাক্ষাৎ বা ফোনে কথা
বলা যাবে না।
৩. শুক্রবার সকাল ০৮ - ১০ এবং বাদ জুমা থেকে
মাগরিবের ২০ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত।
৪. ফোনে কথা বলার সময় সর্বোচ্চ ৩ - ৫ মিনিট।
৫. নির্ধারিত মোবাইল নাম্বার ব্যতীত কোন শিক্ষক বা স্টাফের মোবাইলে যোগাযোগ সম্পূর্ণ নিষেধ।
৬. শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার নির্ধারিত
নাম্বার: 01914101939
বিঃদ্রঃ অনির্ধারিত ছুটিতে বাসায় নিতে হলে লিখিত
দরখাস্তের মাধ্যমে ছুটি নিতে হবে।
💠সংশোধন পদ্ধতি💠
১. তারগীব তথা উৎসাহ প্রদান ২. নসিহত করা ৩. সতর্ক করা ৪. ব্যক্তিগত কাউন্সিলিং করা ৫. লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া ৬. এরপরও সংশোধন না হলে ছাড়পত্র প্রদান করা।