04/05/2026
আলহামদুলিল্লাহ!
আজকের দ্বীনি মাহফিলের প্রধান আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হৃদয়গ্রাহী আলোচনা হচ্ছে...
গুগল ম্যাপ লিংক
https://maps.app.goo.gl/NcntN58j8SJ8z7Lx9
তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লা।
গত ২০ জুমাদাল উলা ১৪৩৮ হিজরী,মোতাবেক ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ঈসায়ী,রোজ শনিবার কুমিল্লা শহরের অভিজাত এলাকা বাগিচাগাঁও বড় মসজিদের অদূরে অবস্থিত কে. বি. হাউসে এই প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয়।
সর্বস্তরের মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় দ্বীনী শিক্ষার বিস্তার অতি জরুরি।
দ্বীনী জ্ঞানের অভাবে আকীদা-ইবাদত থেকে শুরু করে জীবনের সকল ক্ষেত্রেই বড় বড় ত্রুটি থেকে যায়,যা একজন মুসলিমের জীবনে থ
04/05/2026
আলহামদুলিল্লাহ!
আজকের দ্বীনি মাহফিলের প্রধান আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হৃদয়গ্রাহী আলোচনা হচ্ছে...
02/05/2026
আগামী ০৪ মে, সোমবার, তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লায় মাসিক দ্বীনি মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
উক্ত মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন:
হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মাজীদ সাহেব হাফিযাহুল্লাহ।
মুহতামীম, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম হুসাইনিয়া, ভালুকা।
শাইখুল হাদীস, মাদরাসা দাওয়াতুল হক, দেওনা।
শাইখুল হাদীস, মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামিয়া ঢাকা।
মাহফিলের সময়সূচী: বাদ মাগরিব থেকে।
মাহফিলের স্থান: মহিলাদের জন্য তালীমুদ্দীন ভবনের নিচতলা এবং পুরুষদের জন্য তালীমুদ্দীন অডিটোরিয়াম।
সকল শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং এলাকাবাসীকে এই মহতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
28/04/2026
আগামী সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ ঈসায়ী তারিখে, মাগরিবের নামাজের পর, তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লা কর্তৃক আয়োজিত মাসিক দ্বীনি মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা সকল শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং এলাকাবাসীকে এই মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য বিনীত আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। মহিলাদের জন্য মাহফিল শ্রবণের সুব্যবস্থা থাকবে।
মাসিক দ্বীনি মাহফিলের এলান।
আগামী ০৪ মে ২০২৬ ঈ,
রোজ সোমবার, বাদ মাগরিব
তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লার মাসিক দ্বীনি মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।
28/02/2026
চার বছর পূর্বে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দে, আজকের এই দিনে তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লায় শিশু-কিশোর আনন্দ মাহফিলের শুভ সূচনা হয়েছিল।
শিশু-কিশোরদের জন্য স্বতন্ত্রভাবে আয়োজিত প্রথম সেই মাহফিলের কার্যবিবরণী স্মৃতিচারণ করা হলো।
__________________________________________
♥️শিশু-কিশোর আনন্দ মাহফিল♥️
আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে 'তালীমুদ্দীন একাডেমী কুমিল্লা'র আজকের "শিশু-কিশোর আনন্দ মাহফিলে"র সুন্দর সমাপ্তি হয়েছে সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার।
আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহেই এতো চমৎকার ও গোছালো আয়োজন করতে পেরেছি আমরা।
🌷বেশ কিছুদিন যাবত আমরা ভাবছিলাম যে প্রতি মাসে যেমন বড়দের জন্য "মাসিক দ্বীনি মাহফিলে"র আয়োজন হয় তেমনি ভাবে শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ কোনো আয়োজন করা যায় কিনা,কারণ বড়দের মাহফিলে শিশুকিশোররা আসলেও তাদের জন্য মাহফিল থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যাবস্থা থাকে খুবই সীমিত।
সেই ভাবনা থেকেই চলতি মাসের শুরুতে সিদ্ধান্ত হল যে তালীমুদ্দীন একাডেমী কুমিল্লার শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাসিক শিক্ষামূলক আনন্দ মাহফিলের আয়োজন করা হবে...
চলতি মাসের মাহফিলের তারিখ ছিল আজ 28 শে ফেব্রুয়ারি 2022 সোমবার
💐 তালীমুদ্দীন একাডেমী কুমিল্লার শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী যাদের বয়স 09 থেকে 14 তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হলো...
🌹 দাওয়াত নামায় অবিভাবকদের মন্তব্যের একটি ঘর ছিল, অনেক অভিভাবক খুবই চমৎকার আবেগঘন এবং মূল্যবান মন্তব্য করেছেন, খুশি প্রকাশ করেছেন, আনন্দ প্রকাশ করেছে, দোয়া করেছেন...
🤲 আশাতীত সাড়া পেলাম আমরা,
100 জনের বেশি শিক্ষার্থী এই মাহফিলে অংশগ্রহণ করলো যাদের সবাই শিশু কিংবা কিশোর,
🎉🎈যেহেতু আয়োজন বাচ্চাদের জন্য, তাই ব্যবস্থাও করা হয়েছে তাদের মতো করে, অনেক গুরুগম্ভীর কিংবা অনেক জটিল কোনো কথা বা বিষয় এখানে উপস্থাপন করা হয়নি, বরং তারা যেন হেসেখেলে আনন্দের সাথে কিছু শিখতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
🎙️ছয়টা পর্বে আজকের অনুষ্ঠান ভাগ করা হয়েছিল।
প্রথম পর্বে ছিল তিলাওয়াত ও দোয়া,
অতঃপর উদ্বোধনী আলোচনা, তারপরে ছিল উপদেশ মূলক আলোচনা, তারপরে শিক্ষনীয় গল্প- ঘটনা, অতঃপর নবী জীবন থেকে গল্প, তারপরে ছিল পাঠ প্রতিযোগিতা, এরপরে কুইজ প্রতিযোগিতা,
আর সবশেষে ছিল অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ পুরস্কার বিতরণ।
🎁 4 ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে, গত মাসে যারা রেগুলার উপস্থিত ছিল তাদের পুরস্কার,
মাসিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সেখান থেকে বিশেষ পুরষ্কার, পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার এবং কুইজে অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার।
শিক্ষার্থীদের আশাতীত উপস্থিতি, তাদের উৎসাহ এবং উচ্ছ্বাস আমাদের সব কষ্ট সব পরিশ্রম সার্থক করে দিলো।
আসরের নামাজ একসাথে পড়া হলো, শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল বিশেষ মেহমানদারীর ব্যবস্থা, ওস্তাদ- ছাত্ররা সবাই একসাথেই দস্তরখানে নাশতা গ্রহণ করল অতঃপর তাদের হাতে হাতে আরো কিছু হাদিয়া দেয়া হলো মাগরিবের আধাঘন্টা আগে আজকের অনুষ্ঠান শেষ হলো।
দুপুর আড়াইটায় শুরু হয় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটলো
সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার তাঁর অনুগ্রহেই আমরা আজকের এই আয়োজন এত সুন্দরভাবে এবং গোছালোভাবে সমাপ্ত করতে পারলাম, ফালিল্লাহিল হামদু আওয়ালান ওয়া আখিরা।
মুহিব্বুল্লাহ হাসান,
তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লা
28. 02. 2022
সোমবার।
ইনশাআল্লাহ! রমযান ১৪৪৭ হিজরি থেকে কুমিল্লায় তালীমুদ্দীন একাডেমির আরও দুটি শাখার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন।
26/01/2026
ইনশাআল্লাহ!
আগামীকাল ২৭ জানুয়ারী, রোজ মঙ্গলবার,
বাদ আসর থেকে তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লায় বার্ষিক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে।
বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন
তালীমুদ্দীন একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রধান মুরুব্বি ও অভিভাবক হযরত মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সাহেব হাফিযাহুল্লাহ।
মুদীর: মারকাযুদ্দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকা
চেয়ারম্যান: তালীমুদ্দীন একাডেমি
সম্পাদক : মাসিক আল কাউসার
সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকাবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীর জন্য রইল বিশেষ আমন্ত্রণ।
মা-বোনদের জন্য মাহফিল শোনার সুন্দর ব্যাবস্থা থাকবে।
#তালীমুদ্দীন_একাডেমি
#তালীমুদ্দীন_একাডেমি_কুমিল্লা
21/01/2026
আগামী মঙ্গলবার, ২৭শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ (০৭ই শাবান ১৪৪৭ হিজরী) তারিখে, তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লায় বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, অভিভাবক সম্মেলন এবং দ্বীনি মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে আপনাদের সকলের উপস্থিতি একান্তভাবে কাম্য।
20/01/2026
আগামী মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ঈ., ০৭ শাবান ১৪৪৭ হি. তারিখে তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও দ্বীনি মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য রইল বিশেষ আমন্ত্রণ।
10/01/2026
তালীমুদ্দীন একাডেমি : শিক্ষক ইজতিমা ২০২৫ কারগুজারী, অনূভুতি ও উপলব্ধি
(বিস্তারিত কারগুজারী)
___________________________________
আলহামদুলিল্লাহ। ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ!
সকল মুআল্লিমের মাঝে দারুণ মুগ্ধতা ছড়িয়ে এবং সকলের হৃদয়ে নব উদ্দ্যম ও অনুপ্রেরণা জাগিয়ে সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হলো
"তালীমুদ্দীন একাডেমি : শিক্ষক ইজতিমা ২০২৫"
এবারের শিক্ষক ইজতিমা ছিলো সত্যিই অভূতপূর্ব ও অনন্যাসাধারণ। যার প্রতিটি কার্যক্রমই ছিলো সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত। প্রতিটি অধিবেশনই ছিলো প্রাণবন্ত ও উৎসাহ উদ্দীপক।
♦️ তারীখ, স্থান ও উপকমিটি ঘোষণা এবং অধীর আগ্রহে আমাদের অপেক্ষা :
ইজতিমার দুই/আড়াই মাস পূর্বেই ১৩ই অক্টোবর মুহতারাম হযরত মুদীর সাহেব হুজুর হাফিজাহুল্লাহ শিক্ষক ইজতিমা ২০২৫ এর লিখিত ঘোষণা করেন এবং তা সুন্দররূপে বাস্তবায়নের জন্য ০৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপকমিটি গঠন করে দেন।
হুজুর ঘোষণা করেন, এবারের ইজতিমা হবে দুই দিন ব্যাপি। ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর। রোজ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার।
সেই সঙ্গে সুসংবাদ জানান যে, এবারের ইজতিমা অনুষ্ঠিত হবে তালীমুদ্দীন একাডেমি কেন্দ্রীয় দপ্তরের নব-নির্মিত নিজস্ব কার্যালয়ে।
আমাদের দুই মুরুব্বি (হযরত মুদীর সাহেব ও হযরত আমীনুত তালীম হুজুর হাফিজাহুমাল্লাহ ) এর সুহবত লাভ আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের ও মহা আনন্দের। তাঁদের ছায়াতলে দুটি দিন কাটাতে পারবো। তাঁদের নসীহত ও দিকনির্দেশনা পেয়ে ধন্য হবো। সে মোতাবেক কাজ করার নতুন প্রেরণা ও দিশা পাবো।
দূর দূরান্তের সহকর্মী ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ হবে। তাদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি থেকে উপকৃত হবার সুযোগ পাবো।
এতোদিন যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের স্বপ্ন দেখছিলাম ।
তা আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতে প্রস্তুত করে দিয়েছেন। যেন একটি আপন ঠিকানা হলো। নিজেদের একটি ঘর হলো। স্বপ্নের সেই ঘরেই আয়োজন হবে আমাদের এবারের মিলনমেলার।
এসব কল্পনা করে আনন্দে আত্মহারা ছিলাম। অধীর আগ্রহে সেই মাহিন্দ্রক্ষণের জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুণছিলাম।
🌹দাওয়াতনামা ও অনুষ্ঠানসূচি :
দেখতে দেখতে ইজতিমার তারীখ ঘনিয়ে এলো। এখনও চার দিন বাকি। এরই মধ্যে চলে এলো হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের বিশেষ দাওয়াতনামা। হুজুর স্নেহের সন্তানদেরকে নতুনভাবে আমন্ত্রণ জানান। এতে আমরা আরও আপ্লুত হলাম।
তারপরই পেয়ে গেলাম একটি সুপরিকল্পিত অনুষ্ঠানসূচী। অনুষ্ঠানসূচী দেখে আরও উচ্ছ্বসিত হলাম। হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের উভয় দিনে লম্বা লম্বা সেশন রয়েছে। রয়েছে প্রশ্নোত্তর পর্বও।
হযরত আমীনুত তালীম হুজুরের জন্য রাখা হয়েছে প্রথম দিনেই প্রশ্নোত্তর পর্বসহ দীর্ঘ অধিবেশন।
তাছাড়া অন্যন্য আকর্ষণীয় পর্ব তো রয়েছেই।
যেমন :
★ সকল মুআল্লিমের পরিচয় ও অনুভূতি প্রকাশ।
★ যিম্মাদারগণের নিজ নিজ শাখার কারগুজারী শোনানো।
★ অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচিত মুআল্লিমীদের আলোচনা। ইত্যাদি।
♥️উপস্থিতি ও মোলাকাত :
সাথীরা যেন স্বাচ্চন্দে সময়মতো উপস্থিত হতে পারে সেজন্য কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রবেশে সমস্যা হতে পারে তাই ঢাকার বাইরের সাথীদেরকে ২৪ তারীখ বুধবারই কেন্দ্রীয় দপ্তরে পৌঁছে যাওয়ার কিংবা ঢাকার কোনো শাখায় রাত্রি যাপন করে সকাল সকাল কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সেই মোতাবেক দূর দূরান্তের সাথী ভাইয়েরা প্রায় সকলেই বুধবার রাতের মধ্যেই কেন্দ্রে পৌঁছে যান। আমরা তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লা থেকে সন্ধ্যার আগেই কেন্দ্রীয় দপ্তরে পৌঁছে যাই। আলহামদুলিল্লাহ।
রাত পেরিয়ে সকাল হতে না হতেই ঢাকার সাথী ভাইয়েরাও উপস্থিত হন।
কেন্দ্রীয় দপ্তর মুআল্লিমদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পেরে, অনেকদিন পর প্রিয় সাথী সঙ্গীদের সাক্ষাৎ পেয়ে অন্তরাত্মা শীতল হয়ে উঠেছে। সে যে এক অবর্ণনীয় মধুর অনুভূতি!
🟥ইন্তিজাম :
এই ইজতিমার এক অনন্যসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিলো এর হুসনে ইন্তিজাম।
এমনিতেই নব নির্মিত কেন্দ্রীয় দপ্তর ভবনের নান্দনিকতা, রুচিসম্মত কাজ সবাইকে বিমোহিত করেছে। তদুপরি সাফাই, বিশ্রামের আরামদায়ক ব্যবস্থা, সুস্বাদু ও মানসম্মত খাবারের ইন্তিজাম, অধিবেশন চলাকালীন একটু পরপরই চা-নাস্তা পরিবেশন ইত্যাদি সবকিছুই সকল মুআল্লিমকে যারপরনাই মুগ্ধ করেছে।
ভবনের প্রবেশমুখেই সুন্দর ডিজাইনের "আহলান-সাহলান ও স্বাগতম" লেখা শুরুতেই সবার নজর কেড়েছে।
🌹অডিটোরিয়াম :
মজলিসের আয়োজন করা হয়েছে ভবনের নিচ তলায়। চমৎকার ও অভিনব সাজে সাজানো হয়েছে অডিটোরিয়াম। মুআল্লিমরা বসার জন্য আরামদায়ক চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যকগ্রাউন্ডে খুব সুন্দর ডিজাইনের বড় ব্যনার লাগানো হয়েছে। সব মিলে এক অভিনব পরিবেশ তৈরী হয়েছে।
সবদিক থেকে এবারের ইন্তিজাম ছিলো অসাধারণ। এর জন্য যার অবদান অকপটে স্বীকার করতে হয় তিনি আর কেউ নন, আমাদের সকলের সুপরিচিত, হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের স্নেহের ছোট সাহেবযাদা মাওলানা নূরুল্লাহ হোসাইন। হুজুর তাকে কেন্দ্রীয় দপ্তরের কার্যক্রমের নেগরাণ নিযুক্ত করেছেন। তিনি মাশাআল্লাহ যিম্মাদারি পালনে নিষ্ঠার সাথে নিরলস মেহনত করে যাচ্ছেন। এই শিক্ষক ইজতিমা তার কর্মদক্ষতার প্রমাণ বহন করে।
এই সুন্দর ইন্তিজামের জন্য মাওলানা নূরুল্লাহ সাহেবের মজবুত টিম তাকে সঙ্গ দিয়েছেন। "তারবিয়াতুল মুআল্লিমীন" বিভাগের নেগরাণ হুজুর মাওলানা রিযওয়ানুল হক ও মাওলানা সাইফুদ্দীন এবং এই বিভাগের তালেবে ইলমরা।
তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। রাতদিন বিরামহীন খাটা-খাটনী করেছেন। একনিষ্ঠতার সঙ্গে মুআল্লিমগণের সেবাযত্ন করেছেন।
আল্লাহ তাআলা সকলকে কবুল করুন। আপন শান মোতাবেক জাযায়ে খায়ের দান করুন। আমীন।
☞ ১ম দিন :
♥️মজলিসের প্রারম্ভ :
তথ্য ফরম পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রত্যেক মুআল্লিম অডিটোরিয়ামে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেছেন।
তালীমুদ্দীন একাডেমির সকল শাখা থেকে প্রায় শতভাগ মুআল্লিম উপস্থিত হয়েছেন। সকলকে একসঙ্গে দেখে মনটা তৃপ্তিতে ভরে গেলো।
♦️সঞ্চালনা ও পরিচালনা :
পুরো অনুষ্ঠান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেছেন, সবগুলো অধিবেশন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন এবং সময়ে সময়ে সুন্দর সুন্দর আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে পুরো মজমাকে প্রাণবন্ত করে রেখেছেন হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের বড় সাহেবজাদা মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ হাসান। জাযাহুল্লাহু ফীদ্দারাইন।
🖊️মাওলানা আবু হাসসান রাইয়্যান সাহেবের আলোচনা :
সকাল ১০ : ৪৫ মিনিটে মজলিসের কার্যক্রম আরম্ভ হওয়ার কথা। কিন্তু মুআল্লিমগণ দশটার আগেই উপস্থিত হয়ে যান। তাই এ সময়কে কাজে লাগানোর জন্য শ্রদ্ধেয় সঞ্চালক মহোদয় তালীমুদ্দীন একাডেমি পল্লবীর যিম্মাদার, সকলের শ্রদ্ধা ও প্রিয়ভাজন মাওলানা রাইয়্যান সাহেবকে ভূমিকাস্বরূপ কিছু কথা বলার জন্য আবদার করেন। তিনি সংক্ষেপে খুবই মূল্যবান ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
তিনি হযরত আমীনুত তালীম হুজুরের একটি উক্তি এবং হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের একটি উক্তি নকল করেন।
তিনি বলেন, তখন আমি মারকাযুদ দাওয়াহতে পড়ি, একদিন এক মজলিসে হযরত আমীনুত তালীম হুজুর শিক্ষার্থীদেরকে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, বড় দুঃখের কথা হলো, তোমাদের সঙ্গে আমাদের ফিকরী ওয়াহদাত তৈরী হচ্ছে না। আমাদের ফিকির এক মেরুতে আর তোমাদের ফিকির ভিন্ন মেরুতে! ফিকরী ওয়াহদাত হবেই বা কী করে? তোমরা তো আমাদের লেখাই পড়ো না! কারও সঙ্গে ফিকরী ওয়াহদাত তৈরী হওয়ার জন্য তিনটি কাজ অপরিহার্য :
১. তার সুহবতে আসা ও তাকে ধারণ করার চেষ্টা করা।
২. তার লেখা ভালোভাবে পড়া ও হৃদয়ঙ্গম করা।
৩. তিনি যাদের সুহবত গ্রহণ করেছেন, যাদের ফিকির লালন করেন তাদের কিতাবাদী ভালোভাবে মুতালাআ করা।
তিনি আরও বলেন, একদা মুহতারাম মুদীর সাহেব হুজুর আমাকে সম্বোধন করে বলেন, তালীমুদ্দীন একাডেমির হুজুরদেরকে বলে দিও, তারা যেন সম্পূর্ণ একাগ্রচিত্তে এ কাজে মনোনিবেশ করে, অন্য কোনো মাশগালা না রাখে এবং ইসলাহী তাআল্লুক রাখতে চাইলে আমীনুত তালীম হুজুরের সঙ্গে রাখে।
উভয় মুরুব্বির এ দুই বাণী উপস্থিত সকলের হৃদয়ে রেখাপাত করেছে। আল্লাহ তাআলা মাওলানা রাইয়্যান সাহেবকে জাযায়ে খায়র দান করুন। আমীন।
💠প্রথম অধিবেশন :
প্রথম অধিবেশন *মুহতারাম হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের* উপস্থিতিতে সকাল এগারোটায় শুরু হওয়ার কথা।
হুজুর নির্ধারিত সময়েই মজলিসে হাজির হন।কুরআন মাজীদের তেলাওয়াত ও নাতে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশনের মাধ্যমে মজলিসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
মুদীর সাহেব হুজুরকে দেখেই আঁচ করা যাচ্ছিলো যে, সকল মুআল্লিমকে পেয়ে হুজুর যেন আজ মহাখুশি, ঠিক যেমনি একজন পিতা উচ্ছ্বসিত হন তার কলিজার টুকরো সন্তানদের কে বহুদিন পর পেলে। হুজুরের চোখে মুখে, আচরণে, উচ্চারণে এ আনন্দ প্রকাশ পাচ্ছিলো। আমাদের প্রতি হুজুরের এ মমতা ও ভালোবাসা দেখে আমরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম।
হুজুর সংক্ষেপে তালীমুদ্দীন একাডেমির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা, চ্যালেঞ্জ ও নাজুকতা এবং মুআল্লিমদের ইলমী প্রস্তুতি বিষয়ে অতি মূল্যবাণ আলোচনা করেছেন।
হুজুর বলেন, দ্বীন শেখার অধিকার সকল মানুষের রয়েছে। নবীজির নিকট সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্বীন শিখতে আসতেন। কারও জন্য কোনও বিধিনিষেধ ছিলো না।
তাইতো এক সাহাবী বলেছেন,
فلم نر عنده بوابا
অর্থাৎ, নবীজির ঘরে কোনও দারোগা ছিলো না। ফলে আমরা খুব সহজেই তাঁর দরবারে পৌঁছাতে পারতাম।
যে আদাবুল ইলম জানে তার জন্য যেমন তালীমুদ্দীন একাডেমি, তেমনি যে আদাবুল ইলম জানে না তার জন্যও তালীমুদ্দীন একাডেমি।
নবীজির নিকট বেদুঈন সাহাবীরাও দ্বীন শিখতে আসতো। তারা আদব কায়দা কম বুঝতো। বড় বড় সাহাবীরা তাদের অপেক্ষায় থাকতেন। কারণ তারা নির্দ্বিধায় যেকোনো প্রশ্ন করে বসতো। আর নবীজি খুব সবরের সঙ্গে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন। এতে উপস্থিত সকলের ফায়দা হতো।
হুজুর আরও বলেন, তালীমুদ্দীন একাডেমির মুআল্লিমদের ইলমী ইস্তিদাদ পাকা হতে হয়। ইলমকে তাজা রাখতে হয় ও বিস্তৃত করতে হয়।
যারা বলে থাকে তালীমুদ্দীনে খেদমত করলে ইলম বাড়বে না তাদর একথা সহীহ মনে হয় না। ইলম বাড়ে মুতালাআ ও চর্চার দ্বারা। সে যে ময়দানেই থাকুক না কেন?
মাদরাসার তালেবে ইলমদের তো فرق مراتب যেহেনে থাকে। কোন বিষয় এখন জানা দরকার, আর কোন বিষয় সামনে জানতে পারবে তা তারা বুঝে। ফলে তারা সে হিসেবে প্রশ্ন করে। সাধারণ মানুষ فرق مراتب বুঝে না। তাই সব ধরনের প্রশ্ন করে। ফলে তালীমুদ্দীনের উস্তাযদের ইলমী প্রস্তুতিও বেশি নিতে হয়।
হুজুর আরও বলেন, দেখ আমি বুড়ো হয়ে গেছি। বুড়ো হলে লাঠি ভর করে চলতে হয়। লাঠি যতো মজবুত হয় ততো জোরে ভর দেওয়া যায়। আপনারা হলেন আমার লাঠি। আপনারাই আমার শক্তি।
(সুবহানাল্লাহ! হুজুর যখন এ কথা বলছিলেন তখন লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আসছিলো। আমরা কি হুজুরের এই সুধারণা ও ভরসার লাজ রক্ষা করতে পারবো?)
অল্প সময়ে হুজুর সবাইকে বিমোহিত করে সাময়িক বিদায় নিলেন।
এরপর শুরু হয়,
♦️সকল মুআল্লিম নিজের পরিচয় ও অনুভূতি শোনানোর পর্ব।
সঞ্চালক সাহেব একেক মুআল্লিমের নাম ঘোষণা করছেন আর তিনি মঞ্চে এসে সংক্ষেপে নিজের পরিচয় বলছেন আর তালীমুদ্দীন একাডেমিতে কাজ করার অনুভূতি ব্যক্ত করছেন।
এই পর্বটি ছিলো বেশ উপভোগ্য ও চিত্তাকর্ষক। সবাই খুব সুন্দর সুন্দর অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন। আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো সকলের অনুভূতিগুলো শুনছিলাম এবং একে অন্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত হচ্ছিলাম। কামনা করছিলাম, ঘড়ির কাটা কিছু সময়ের জন্য থমকে দাঁড়াক। যেন আমরা সবার অনুভূতি শুনতে পারি।
সঞ্চালক সাহেব অধিবেশন সমাপ্ত ঘোষণা করে বললেন, অবশিষ্ট মুআল্লিমদের পরিচয় ও অনুভূতি পরবর্তী অধিবেশনে সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ।
💠দ্বিতীয় অধিবেশন :
বাদ যোহর নির্ধারিত সময়েই দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় এবং অবশিষ্ট মুআল্লিমগণের পরিচয় ও অনুভূতি পর্ব বেশ জমজমাটভাবে সম্পন্ন হয়।
সকল মুআল্লিমের অনুভূতি, উপলব্ধি থেকে একথা সুস্পষ্ট যে, প্রত্যেকে মাশাআল্লাহ বেশ ফিকিরমান্দি, জিদ্দিয়্যাত ও নিষ্ঠার সঙ্গে তালীমুদ্দীনে কাজ করছেন এবং মুরুব্বীদের মানশা মোতাবেক মেহনত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
💠তৃতীয় অধিবেশন :
বাদ মাগরিব ছিলো আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয় মুরুব্বী হযরত আমীনুত তালীম মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক সাহেব হাফিজাহুল্লাহ এর নসীহত, দিকনির্দেশনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব।
হুজুর সময়মতো হজির হয়েছেন। হুজুর কে দেখলে হৃদয়ে কেন জানি একধরনের প্রশান্তির প্রলেপ বয়ে যায়। দুচোখ জুড়ে যায়।
হুজুর সংক্ষিপ্ত তবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে আমাদেরকে ধন্য করেন। অল্প কথায় তিনি কয়েকটি বিষয়ের অবতারণা করেন,
১. شكر। আমাদেরকে আল্লাহ তাআলা এক মহান মিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজে লাগিয়েছেন সেজন্য আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করা।
২. تناصر। অর্থাৎ, আরও যারা এ ময়দানে কাজ করছেন তাদের সহযোগী হওয়া। باهمي تناصر খুব দরকার। আল্লাহ তাআলার হুকুম।
تعاونوا على البر و التقوى
তাই بر ও تقوى এর ক্ষেত্রে تعاون মাতলূব। এটা তাদের শোকরগুজারীর অংশ।
من لم يشكر الناس، لم يشكر الله.
৩. এই কাজ যেন আমাদেরকে অহঙ্কারী করে না তোলে বরং বিনয়ী করে তোলে।
নিজেকে ناصر دين الله ভেবে যেন افتخار পয়দা না হয় বরং تواضع বাড়তে থাকে।
আমরা নিজ ক্ষমতাগুণে এ কাজে লাগি নাই। আল্লাহ তাআলা ইহসান করে আমাদেরকে কাজে লাগিয়েছেন। إحسان مندي অনেক জরুরী।
আল্লাহ তাআলা তার দ্বীনের কাজ নেওয়ার জন্য আমাদের মুহতাজ না।
يستبدل قوما غيركم
এই এলাকার কিংবা এই যামানার লোকেরা এর কদর করছে না! তো অন্য এলাকার কিংবা অন্য যামানার লোকদের মাধ্যমে কাজ নিবেন।
দুনিয়ার সকল আসবাব তো আড়াল মাত্র। সবকিছুর পেছনে মূল কারিগর রব্বুল আলামিন।
৪. কাজের হক আদায় করা চাই। যথাযথ ইলমী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
হাদীসের নির্দেশনা মোতাবেক,
تعليم ، تفقيه، تفطين
সবগুলো স্তরকে সামনে রাখতে হবে।
আবার ইসলামে تربية ছাড়া ইলমের تصور নেই। তাই নবীজি এতিনটি বলেই ক্ষান্ত হননি। বরং এরপর أمر بالمعروف، نهي عن المنكر যুক্ত করেছেন।
তাই নিজেকে علما، عملا، فهما ও عقيدة প্রস্তুত করা এবং নিজেদের মুআশারাতী জিন্দেগীর ইসলাহ করা। কেননা সমাজের সর্বস্তরের লোকদের সঙ্গে আপনাদের সারাক্ষণ উঠাবসা। তাই আপনাদেরকে آداب المعاشرات এর ক্ষেত্রে اجتهادي مرحلة তে পৌঁছা দরকার!
৫. فرض عين علم এর مقدار কী? আর معيار কী? এদুই বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা চাই। না হয় হীনমন্যতাবোধ তৈরী হতে পারে। কারও হীনমন্যতাবোধ থাকলে একাজ ছেড়ে দেওয়া চায়। যেকোনো কাজে কারও হীনমন্যতাবোধ হলে তার সে কাজে লেগে থাকা উচিৎ না। তাকে দিয়ে একাজ আগাবে না। সে দ্বীনের অন্য খেদমতে লিপ্ত হবে।
৬. لا يعني থেকে বেঁচে থাকা। এতে নিজেদের وقار ও وزن ঠিক থাকে। আমাদের মিশন বাস্তবায়নের জন্য وقار ও وزن ঠিক রাখা আবশ্যক।
আলোচনার পর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। হুজুর মুআল্লিমদের লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন। সেখানে যেসব আলপ উঠে এসেছে তার কয়েকটি হলো,
★ তালীমুদ্দীন একাডেমি সকল মুসলমানের প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন মতাদর্শের লেকেরা থাকবে। তাদেরকে তাদের মতাদর্শ থেকে সরে আসার জন্য জবরদস্তি না করা। তাদেরকে তালীমুদ্দীনের সাথে লাগিয়ে রাখা। ধীরে ধীরে ইনশাআল্লাহ ইসলাহ হতে থাকবে।
★ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কুরআন তাসহীহের জন্য সর্বোচ্চ মেহনত করা। ক্লন্ত বা নিরাশ না হওয়া। দুর্বলতা রেখে সামনে বাড়িয়ে না দেওয়া।
★ কোন শিক্ষার্থী মেহনত করতে করতে একেবারে অধর্য্য হয়ে গেছে। তাকে সামনে না দিলে সে হয়তো আর আসবে না এক্ষেত্রে একটু আগে বাড়ানো যায়। তবে এই পড়া রিভিশনে রাখতে হবে।
★ বাচ্চাদের কে আকীদা শেখানোর ক্ষেত্রে আপাতত আলকাউসারে এই বিষয়ে হুজুরের যে লেখাটা ছেপেছে সেটা মুখস্থ করানো যেতে পারে। আগামী শাওয়াল থেকে এ বিষয়ে হুজুর আলকাউসারে ধারাবাহিক লেখবেন ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে হুজুর বিদায় নেন।
♦️যিম্মাদারদের কারগুজারী পর্ব :
এরপরই আরম্ভ হলো আরেকটি মজার পর্ব। যিম্মাদারগণ নিজ নিজ শাখার কারগুজারী শোনানোর পর্ব।
সঞ্চালক সাহেব একেক শাখার যিম্মাদারের নাম ঘোষণা করছেন আর তিনি এসে নিজ শাখার বিস্তারিত কারগুজারী শুনাচ্ছেন।
তারা শিক্ষার্থীদের পেছনে কোন বিষয়ে কীভাবে মেহনত করছেন? তারা তাদের আশপাশে তালীমুদ্দীনের প্রচার প্রসারের জন্য কীভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তা তুলে ধরছেন।
শাখাগুলোর কারগুজারী খুব মনযোগ দিয়ে শুনছিলাম আর সবার সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের বিবরণী থেকে নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছিলাম।
প্রতিটি শাখার উস্তাযগণ মাশাআল্লাহ শিক্ষার্থীদের পেছনে জোরালো মেহনত করে যাচ্ছেন। তাদেরকে কীভাবে তালীম ও তারবিয়াতের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়? তাসহীহে কুরআনের মেহনত, জরুরী মাসায়েল, মৌলিক আকায়েদ ইত্যাদির তালীম কীভাবে অধিকতর ফলপ্রসূ করা যায়? বয়স ও শ্রেণী ভেদে কাদের জন্য কোন পাঠদান পদ্ধতি অধিকতর মুনাসিব, তা নিয়ে প্রত্যেকে রীতিমতো গবেষণা করছেন মাশাআল্লাহ।
এই পর্বটি সকলের জন্য ছিলো অত্যন্ত মুফীদ ও কার্যকরী। পরিতাপের বিষয় হলো, সময় স্বল্পতার কারণে সব শাখার কারগুজারী শোনা সম্ভব হয় নি।
রাত তখন দশটা বাজে। বাদ মাগরিব থেকে টানা অধিবেশন চলছে। তারপরও মুআল্লিমদের চোখেমুখে ক্লান্তি কিংবা অবসাদের ছাপ নেই। যেন এই দুটি দিনকে গণিমত ভেবে পরিপূর্ণ কাজে লাগানোর দৃড় প্রত্যয় নিয়েই সবাই এখানে হাজির হয়েছেন।
🖊️মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ সাহেবের ইন্তিজামী জরুরী আলোচনা :
আজকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব এখনও বাকি। শ্রদ্ধেয় সঞ্চালক সাহেবের ইন্তিজামী জরুরী আলোচনা ও দিকনির্দেশনা।
তিনি আলোচনা শুরু করেন। বিভিন্ন পয়েন্টে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপহার দিয়েছেন।
ইন্তিজামী কঠিন ও উসূলী বিষয়ও যে উপভোগ্য ভাষায় ফুটিয়ে তোলা যায় তার এক নজির স্থাপন করলেন। পুরো মজমা তন্ময় হয়ে আলোচনা শুনছিলেন।
তিনি সংক্ষেপে মুআল্লিমদেরকে তাদের,
★ দায়িত্ব ও যিম্মাদারি, উসূল ও যাওয়াবেত স্মরণ করিয়ে দেন।
★ পেশাদারিত্বের সঙ্গে উসূল মোতাবেক কাজ করতে বলেন।
★ মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার থেকে সতর্ক করেন।
★ সাফাইয়ের প্রতি যত্নবান থাকার কথা বলেন। বলেন, সাফাই আমাদের শিআর ও সৌন্দর্য।
★ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত সম্পর্ক না করে নিজের ওযন ও ওয়াকার বজায় রাখতে বলেন।
★ ইমাম, খতীব ও দ্বীনের বিভিন্ন হালকার সাথে মাত্রা বজায় রেখে সুসম্পর্ক তৈরী করার কথা বলেন। এমন সম্পর্ক করতে বলেন যাতে তালীমুদ্দীনের উপকার হয়। কোনোরূপ ক্ষতি না হয়। ইত্যাদি।
ইন্তিজামী আলোচনার পর প্রথম দিনের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা হয়।
☞ ২য় দিন :
💠প্রথম অধিবেশন :
দ্বিতীয় দিন বাদ ফজর হালকা চা-নাস্তার পরই অধিবেশন শুরু হয়।
এই অধিবেশনের বিষয়বস্তু ছিলো অতীব গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচিত মুআল্লিমদের বিষয়ভিত্তিক আলোচনা। এ পর্বটি রাখা হয়েছে, যেন অপেক্ষাকৃত পুরনো মুআল্লিমগণের অভিজ্ঞতা থেকে নতুনরা উপকৃত হতে পারেন।
অধিবেশনের শুরুতে অতীব চমৎকার এক নাতে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশন করেন তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লার উস্তায মাওলানা মুনযিরুল হক। নাতে রাসূল পরিবেশনকালে আমরা যেন সুরের মূর্ছনায় হারিয়ে গিয়েছিলাম। সবার হৃদয় নবী প্রেমে বিগলিত হলো, কলব সুকূনে ভরে গেলো। এতো সুন্দর করে নবী নামের বন্দনা গাইতে পারা কয়জন উম্মতের ভাগ্যে জুটে?! আল্লাহ তাআলা তাকে জাযায়ে খায়র দান করুন। আমীন।
এরপর কয়েকজন মুআল্লিম তাদের জন্য পূর্ব নির্ধারিত বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন।
🖊️ মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাহেব মাখরাজ ও সিফাত বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ শাস্ত্রীয় আলোচনা করেন।
মুআল্লিমগণ তাদের তেলাওয়াতের মান বৃদ্ধির জন্য কীভাবে মেহনত করতে পারেন সে বিষয়ে জরুরী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
🖊️মাওলানা হাবীবুর রহমান সাহেব তালীমুদ্দীন একাডেমির প্রচার প্রসারে কীভাবে কাজ করা যায়? এবং শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কীভাবে ধরে রাখা যায়? সে বিষয়ে খুবই উপকারী আলোচনা করেন। এ বিষয়ে মাশাআল্লাহ তিনি গবেষণালব্ধ দীর্ঘ প্রবন্ধও প্রস্তুত করেছেন।
🖊️ শ্রদ্ধেয় সঞ্চালক মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ হাসান সাহেব ক্লাসরুমে লক্ষণীয় বিষয়সমূহ নিয়ে বেশ কিছু পয়েন্টে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
🖊️আমি পাঠদান পদ্ধতি বিষয়ে এবং শিক্ষার্থীদের তালীম ও মুযাকারা বিষয়ে টুকটাক আলোপ করি।
পরিতাপের বিষয় হলো, সময় স্বল্পতার দরুণ অনেক মুআল্লিম তাদের জন্য নির্ধারিত বিষয়ে আলোচনা পেশ করবার সুযোগ পান নি।
💠দ্বিতীয় অধিবেশন :
নাস্তার বিরতির পর সকাল দশটার দিকে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। যে অধিবেশনের জন্য মুআল্লিমগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন।
বিষয়বস্তু : হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের কানূনী আলোচনা।
হুজুর সময়মতই মজলিসে হাজির হন। "শিক্ষক নির্দেশিকা" বিষয়ে আলাপ করেন। তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লায় প্রস্তুতকৃত "শিক্ষক নির্দেশিকা" একজনকে পড়ে শোনাতে বললে তালীমুদ্দীন একাডেমি পল্লবীর উস্তায মাওলানা শাহাদাত সাকিব সাবলীলভাবে সবার সামনে তা পাঠ করেন। ফাঁকে ফাঁকে হুজুর পয়েন্টগুলোর উপর প্রয়োজনীয় তালীক ও সংশোধনী পেশ করেন।
শেষে বলেছেন, এই নির্দেশিকা আরেকটু সম্পাদনা ও যোগ বিয়োগ করে আমরা আপনাদের জন্য পাঠিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ।
💠তৃতীয় অধিবেশন :
বাদ জুমা দুপুরের দস্তরখান সেরে তৃতীয় ও সর্বশেষ অধিবেশন শুরু হয়।
এ অধিবেশনের শুরুতে আমাদের আরেকজন মুরুব্বী, যিনি তালীমুদ্দীন একাডেমিকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন *মাওলানা আবদুল মাজীদ সাহেব* হাফিজাহুল্লাহ সংক্ষেপে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। হুজুর ছয়টি পয়েন্টে সারগর্ভ আলোচনা আমাদের কে উপহার দেন :
১. বড়দের সুহবত গ্রহণ অত্যান্ত জরুরী ও উপকারী।
২. কেন্দ্রের নেগরানী ও মাতাহাতে পথ চলা। এতেই কাজে বরকত হয়। চাই আমার বুঝে আসুক বা না আসুক।
৩. কাজের ময়দানে আকল ও দেমাগকে কাজে লাগানো। সুকৌশলী হওয়া।
৪. শিক্ষার্থীদের সামনে যেকোনো আলোচনার আগে "উপস্থাপন মুতালাআ" করা। কীভাবে উপস্থাপন করলে সবার বোধগম্য হবে তার অনুশীলন করা।
৫. لا يعني কাজ যেমন, সিয়াসাত ইত্যাদি বিষয়ের আলাপে নিজেকে না জড়ানো।
৬. তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধির চর্চা করা ও এর হাকীকত বোঝা।
এরপর হযরত মুদীর সাহেব হুজুর সাত সদস্য বিশিষ্ট উপকমিটির দেওয়া রিপোর্ট সামনে রেখে কিছু উসূলী আলোচনা করেছেন।
বলেছেন, এই কমিটি সব শাখার সাথে যোগাযোগ করে বেশ কিছু প্রস্তাবনাসম্বলিত সুন্দর রিপোর্ট পেশ করেছে মাশাআল্লাহ।
খুব শীঘ্রই অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যেমন, ছুটি নীতিমালা, শিক্ষক নীতিমালা, শাখা-উপশাখা নীতিমালা ইত্যাদি প্রস্তুত করে শাখাগুলো তে পাঠিয়ে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
কাজগুলো গোছানোর জন্য কেন্দ্রীয় দপ্তরের খুব দরকার ছিলো। এখন আল্লাহর রহমতে কেন্দ্রীয় দপ্তর অনেকখানি প্রস্তুত হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।
এখানে আমার ছোট ছেলেকে কাজে লাগিয়েছি। তাকে বলা মাত্রই সে আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে। তার অন্যান্য ব্যস্ততা থেকে সে নিজেকে ফারেগ করেছে। মনযোগ দিয়ে কাজ করছে মাশাআল্লাহ। আপনারা তার জন্য দুআ করবেন।
এখানে ইনশাআল্লাহ বেশ কিছু হটলাইন হবে। প্রযুক্তির সাহায্যে এখান থেকে সবগুলো শাখা মনিটরিং করা হবে। শিক্ষার্থীদের মাসআলা মাসায়েলসহ বিভিন্ন জিজ্ঞাসার সরাসরি জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
এরপর হুজুর সবার জন্য দুআ করেন। সবাইকে বিদায় জানান। রাহ খরচ বাবদ সবাইকে হাদিয়া দেন।
আসরের নামায আদায় করে মুআল্লিমগণ দুই দিনে ভরপুর রসদ সংগ্রহ করে নতুন উদ্যমে কাজ করার দৃড় প্রত্যয় নিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
এভাবেই শিক্ষক ইজতিমা ২০২৫ এর শুভ সমাপ্তি হয়। দুইটি দিন যেন স্বপ্নের ঘোরেই কেটে গেলো। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে কবুল করুন। কামিয়াব করুন। আমীন।
______________________________________
মাওলানা আবু মিকদাদ সাজ্জাদ হুসাইন।
সিনিয়র শিক্ষক : তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লা।
31/12/2025
তালীমুদ্দীন একাডেমি
শিক্ষক ইজতেমা ২০২৫ ঈ.
(সংক্ষিপ্ত কারগুজারী)
__________________________
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানি ও দয়ায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সফলতার সাথে সম্পন্ন হলো 'তালীমুদ্দীন একাডেমি শিক্ষক ইজতেমা ২০২৫ ঈ.'।
সাধারণত প্রতি বছর একবার তালীমুদ্দীন একাডেমির সকল শাখা-উপশাখার শিক্ষক ও জিম্মাদারদের নিয়ে হযরতপুর মারকাযুদ্দাওয়াহর প্রধান ক্যাম্পাসে একটি মজলিস বা প্রোগ্রাম হয়ে থাকে।
গত অক্টোবর ২০২৫ ঈ-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে তালীমুদ্দীন একাডেমির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে তালীমুদ্দীন একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা, মুহতারাম চেয়ারম্যান হযরত মুদীর সাহেব মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা আসল, এবার শিক্ষক ইজতেমা হবে ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী এবং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে হযরতপুরে কেন্দ্রীয় দপ্তরের নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে।
এই সংবাদ বা ঘোষণা তালীমুদ্দীন একাডেমির জিম্মাদার শিক্ষক, শিক্ষিকা ও স্টাফদের জন্য ছিল যারপরনাই আনন্দের...
দেখতে দেখতে বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেই সময় চলে আসল...
২৪ ডিসেম্বর বুধবার থেকেই কেন্দ্রীয় দপ্তরে বিভিন্ন শাখার শিক্ষকগণ হাজির হতে শুরু করলেন।
এবং ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে সব শাখার সকল জিম্মাদার ও শিক্ষক উপস্থিত হয়ে গেলেন।
১৯টি শাখা ও ১০টি উপশাখা থেকে অর্ধশতাধিক মুআল্লিম অংশগ্রহণ করলেন।
কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে আগত শিক্ষকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হলো। আন্তরিকতায় ভরা চমৎকার নাশতা হলো।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষককে নোটবুক, কলম, অনুষ্ঠানসূচি ও ব্যাজ প্রদান করা হলো।
অনুষ্ঠানে বসার ব্যবস্থা ছিল বেশ আরামদায়ক। প্রত্যেকের জন্যই আলাদা চেয়ারের ব্যবস্থা ছিল। সাউন্ড সিস্টেম ছিল বেশ আধুনিক ও মানসম্মত।
বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সকাল দশটার মধ্যেই সকল শিক্ষক প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে গেলেন।
পবিত্র কুরআন কারীম তেলাওয়াত ও হামদ-নাতের মধ্য দিয়ে প্রথম অধিবেশন শুরু হলো। কেন্দ্রীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে মাওলানা নুরুল্লাহ হোসাইন এই দুই দিনের সামগ্রিক কার্যাবলী, সুবিধা-অসুবিধা, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে উদ্বোধনী কথা বললেন।
অতঃপর হযরত মুদির সাহেব হুজুর ঘণ্টাব্যাপী তাঁর মূল্যবান সূচনা আলোচনা করলেন।
প্রথম অধিবেশনের বাকি সময় এবং দ্বিতীয় অধিবেশন পুরোটাজুড়ে সকল শাখার শিক্ষকগণ আলোচনা করলেন। সেখানে তাঁরা সংক্ষেপে নিজেদের পরিচয়, কাজ করার অনুভূতি ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করলেন।
আছরের বিরতির পর মাগরিবের পর অনুষ্ঠিত হলো প্রথম দিনের তৃতীয় অধিবেশন। সেখানে তালীমুদ্দীন একাডেমির অন্যতম মুরব্বি মুহতারাম আমীনুত তালীম মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক সাহেব অত্যন্ত মূল্যবান নসিহত পেশ করলেন এবং দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করলেন।
এশার পর প্রথম দিনের চতুর্থ অধিবেশনে শাখাসমূহের দায়িত্বশীলগণ আপন আপন শাখার কারগুজারী ব্যক্ত করলেন এবং মূল্যবান দিকনির্দেশনামূলক কথা বললেন।
২৬শে ডিসেম্বর, রোজ শুক্রবার, ফজরের পর থেকেই শুরু হলো দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম। প্রথম অধিবেশনে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর নির্বাচিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকগণ সংক্ষেপে জরুরি আলোচনা করলেন, যা শিক্ষকদের সকলের জন্যই উপকারী ছিল।
দ্বিতীয় অধিবেশনে হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের উপস্থিতিতে পড়ে শোনানো হলো শিক্ষক নির্দেশিকা ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ইন্তেজামি ও দাপ্তরিক কানুনী আলোচনা।
জুমার পর দুই দিনব্যাপী শিক্ষক ইজতেমার শেষ অধিবেশন শুরু হলো।
শুরুতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান নসিহতমূলক আলোচনা করলেন তালীমুদ্দীন একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ মুরব্বি মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মজীদ সাহেব হাফিযাহুল্লাহ।
অতঃপর হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের ইখতেতামী (সমাপ্তি) আলোচনা ও প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুন্দর সমাপ্তি হলো।
দেখতে দেখতে কীভাবে দুটি দিন পার হয়ে গেল অনুভবই করা গেল না, প্রত্যেকেরই মনে হচ্ছিল এই অনুষ্ঠান যদি আরও কয়েক দিন সময়জুড়ে হতো।
বিচ্ছেদের বেদনা সকলের চেহারায় ছিল সুস্পষ্ট।
যেন পারিবারিক মিলনমেলায় বিচ্ছেদের সুর...
_________________________________
মেজবান তথা কেন্দ্রীয় দপ্তর সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রত্যেক সদস্যের আলাদা খোঁজখবর রেখেছেন তাঁরা।
প্রত্যেকের খাওয়া-দাওয়া, থাকা ও বিশ্রাম সবকিছুর ব্যবস্থা ছিল পুরোপুরি আন্তরিকতাপূর্ণ ও যথাযথ।
এই প্রচণ্ড শীতেও প্রত্যেক সদস্য ঘুমিয়েছেন আরামদায়ক বিছানায়।
কিছুক্ষণ পরপর গরম গরম ধূমায়িত মসলা চা ও প্রয়োজন অনুসারে নাস্তার আয়োজন ছিল ভরপুর।
প্রত্যেক শাখার জন্য সময় বরাদ্দ ছিল, যে সময়ে তারা তাদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কেন্দ্রীয় দপ্তরের সাথে আলোচনা করতে পেরেছেন।
প্রত্যেক সদস্যের জন্য হযরত মুদীর সাহেব হুজুরের পক্ষ থেকে ছিল দিলখোশ উপহার।
আল্লাহ তাআলা তালীমুদ্দীন একাডেমীকে কবুল করুন। যে মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মুরুব্বিগণ তালীমুদ্দীন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা বাস্তবায়নের তৌফিক দিন। সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্টাফ ও সংশ্লিষ্টজনকে আল্লাহ তাআলা কবুল করুন, ইখলাসের সাথে কাজ করার তৌফিক দিন।
(এই লেখায় সংক্ষেপে শুধুমাত্র অনুষ্ঠানসূচি ও এক-দুটো কথা তুলে ধরা হলো, ভবিষ্যতে 'শিক্ষক ইজতেমা ২০২৫'-এর বিস্তারিত কারগুজারী আসবে ইনশাআল্লাহ)
_______________________________
মুহিব্বুল্লাহ হাসান।
তালীমুদ্দীন একাডেমি কুমিল্লা।
৩১/১২/২০২৫ ঈ,
বুধবার।