28/11/2022
GPA 5 না পাওয়াটা সফলতার প্রথম ধাপ, টারনিং পয়েন্ট ও বলতে পারো।
যারা আজ GPA 5 পাওনি বা ফেল করেছ, আজ রাতে ফুল ভলুউমে গান বাজাও ২ ঘণ্টা, তারপর সারা রাত ভাবো......নিজের সাথে কথা বল – কেন রেজাল্ট খারাপ হল? বাবা-মায়ের কথা শুননি? মা-বাবাকে কোন কষ্ট দিয়েছ? তুমি কি কি ফাঁকি দিয়েছ নিজের সাথে? কেউ কখনো অন্যকে ফাঁকি দিতে পারে না, ফাঁকি দেয় নিজেকে।
বাবা-মাকে সালাম করে আবার নতুন করে কাল সকাল থেকেই শুরু কর...... থেমে যেওনা ততক্ষণ যতক্ষণ কেউ বলেও তোমাকে থামাতে না পারে। পড়াশুনার পাশাপাশি জানার চেষ্টা কর অনেক বেশী। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখ, সবার Contact নাম্বার একটা নোট বুকে লিখে রাখ।
আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি ঐরকম ১২ ডজন GPA5 তোমার অফিসে কাজ করবে। আজকের ফলাফলকে জীবনের শেষ পরীক্ষা ভেবোনা। জীবনের পরীক্ষা তো সবে শুরু, ২য় ধাপে তুমি, আরো অসংখ্য সুযোগ পড়ে আছে তোমার জীবনে।
বাবা-মাদের বলছি এই মুহূর্তে আপনাদের সন্তানদের কাছে টেনে নেয়া ও অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশী দরকার। কোন অবস্থাতেই রেজাল্ট নিয়ে কিছু বলা যাবে না – তাকে সাহায্য করুন যাতে সে তার ভুল গুলু ধরতে পারে।
যারা GPA5 পেয়েছ তাদের অভিনন্দন, তোমাদের মা-বাবাকেও অভিনন্দন, তোমাদের কষ্ট সার্থক হয়েছে। থেমে যাবে না এটাই শুরু – ভালো কলেজে ভর্তি হতে না পারলেও হতাশ হবে না। মনে রাখবে সবসময় ভালো কিছু অপেক্ষা করছে তোমার জন্য, নিজের ভালোটা খুঁজে নিতে হবে আর লেগে থাকতে হবে তা না পাওয়া পর্যন্ত।
আমি আমার জীবনে HSC তে ফেল করেছিলাম – চারিদিকে একটাই আলোড়ন “আমাকে দিয়ে কিছু হবে না”, আমি নষ্ট হয়ে গেছি। অনেক কষ্ট করে নিজেকে সামাল দিয়েছিলাম। যথারীতি সবাই বলা শুরু করলো আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু ততদিনে আমি আমার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছি। আমি জানি আমি কি করছি এবং আমি জানি আমাকে কোথায় কতদুর যেতে হবে এবং তার জন্য আমি সব কিছু Sacrifice করতে প্রস্তুত ছিলাম।
কিন্তু আমার কোন দুঃখ ছিল না কারণ ততদিনে আমি বাইরের জগতের তথা দুনিয়ার কোথায় কি হচ্ছে তা জানার ও শিখার আগ্রহ নিজের মাঝে তৈরি করে ফেলেছি। আমি তৈরি ছিলাম যেকোন কষ্ট স্বীকার করার, নির্ঘুম পরিশ্রম করার ও নিজেকে বদলে ফেলার। ঠিক করে ফেলেছিলাম চাকরী করবো না, চাকরী সৃষ্টি করবো। এর পরের ৪-৫ বছর ছিল ভয়ানক কষ্টের, নিরলস সংগ্রামের ও বার বার হোঁচট খাবার দীর্ঘ সময়। তারপর শুধুই এগিয়ে চলা।
জীবনে সফলতা মানে বাড়ি, গাড়ী ও টাকা নয়, সফলতা মানে সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সম্পদ আর একজন সৎ বিনয়ী ভালোমানুষ হওয়া।