23/01/2021
Mohammad Ilias Miah Chowdhury High School; Cox's Bazar
official page. School code: 4252
EIIN : 106275
23/01/2021
15/12/2020
মোঃ ইলিয়াছ মিয়া চৌং উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক
জনাব আ.ন.ম মাঈন উদ্দিন
মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটি'র জেলা আ্যাম্বেসেডর হলেন।
----------------------
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোঃ ইলিয়াছ মিয়া চৌং উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জনাব আ.ন.ম মাঈন উদ্দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটুআই এর আইসিটি বিষয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে কক্সবাজার জেলায় অ্যাম্বেসেডর নিযুক্ত হওয়ায়…………
আমরা মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া চৌং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক- কর্মচারী ও শিক্ষার্থী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।
আমরা তাঁর সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করছি।
প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ, আসলামুআলাইকুম। আশাকরি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আরো আশাকরি শত ব্যস্ততার মাঝেও আপনার সন্তান- সন্ততি / ভাই- বোন বা আপনার অধীনে আছে এমন শিক্ষার্থীর খোঁজ - খবর রাখছেন। আপনার তদারকি আরো কার্যকর হওয়ার জন্য সবিনয়ে পরামর্শ =
১,আপনার সন্তান বা ভাই -বোন কে সকাল বেলা ও সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে বসান।
২,বই পড়ে খাতায় লিখান এবং একটু চেক করুন।
৩, অনলাইন ক্লাস গুলোতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন।
৪,ক্লাস শেষ করার পর মোবাইল টি আপনি নিয়ে ফেলুন এবং পুনরায় ক্লাস শুরুর পুর্বে মোবাইল টি দিন। ক্লাস ছাড়া মোবাইল দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
৫, মা ই পারবেন তত্ত্বাবধান করতে।
৬,সবসময় বকা দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
৭, আপনার সন্তানদের আদর করেন, জোর করা থেকে বিরত থাকুন, বুঝিয়ে বলেন।
৮, লেখাপড়ার জন্য কোন ছাড় দেয়া যাবে না।
৯, শিক্ষকদের সহায়তা নিন।
১০, পরিবার এর সদস্য একসাথে খাবার খান,একসাথে গল্প করুন।
১১, কিছু কিছু ঘরের / বাসার কাজ করান।
১২,নিজের পড়া নিজে পড়ে এমন অভ্যাস করান।
27/08/2020
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ৩ অক্টোবর পর্যন্ত
CW বাংলা::
করোনার কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান। তবে কওমী মাদ্রাসা খোলা থাকছে।
এম এ খায়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার কারণে কওমি মাদ্রাসা ছাড়া দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে এর আগে অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির কথা জানিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরে সংশোধনী দিয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর কথা জানান এই কর্মকর্তা।
এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন চলতি সপ্তাহে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। সেপ্টেম্বর মাসেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে। দুই মন্ত্রণালয়ে আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
আর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি সংক্রান্ত নির্দেশনা এখনও পাইনি। তবে দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে তিনি জানান।
ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ছুটি আরও একমাস বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
26/08/2020
২০২০ সনের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় হতে উম্মে কুলসুম সালমা (ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ) সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে।
উম্মে কুলসুম সালমা বৃত্তি অর্জন করায় আমাদের বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
তোমার ভবিষ্যৎ জীবন আরো উজ্জ্বল হোক।
15/08/2020
মাফরূপা আলম মুনা, মোঃ ইলিয়াস মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সদ্য এসএসসি-২০২০ পাস করা শিক্ষার্থী।
জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার এর উদ্যোগে আয়োজিত স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মতো রহমান এঁর ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা ২০২০ এ অংশগ্রহণ করে 'খ' গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সবার মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
মোঃ ইলিয়াস মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় পরিবার তার এই চমৎকার ফলাফলে খুবই আনন্দিত।
প্রাণঢালা অভিনন্দন প্রিয় শিক্ষার্থী মাফরূপা আলম মুনা।
23/07/2020
তাকে কি চিনি?
জুলফিকার আলী ভুট্টো একবার তাজউদ্দীন আহমদ সম্বন্ধে বলেছিলেন, ‘আমি তো শেখ মুজিবকে ভয় পাই না, আমি ভয় পাই তার পাশে বগলে ফাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই খাটো মানুষটিকে।’ এ ছাড়া ছয় দফার যৌক্তিকতা নিয়ে একবার এক আলোচনার টেবিল থেকে জুলফিকার আলী ভুট্টো সটকে পড়েছিলেন, যখন তিনি জানতে পেরেছিলেন আলোচনা করবেন তাজউদ্দীন আহমদ। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান রাওয়ালপিন্ডিতে একটা গোলটেবিল বৈঠক আহ্বান করলে সবাই চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, কিন্তু যখন জানতে পারেন বৈঠকে আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন তাজউদ্দীন আহমদ, তখন সবার মাঝেই স্বস্তি দেখা দেয়। স্বাধীনতা-পূর্ববর্তীকালে তার জ্ঞান ও মনীষা সম্পর্কে সবাই এভাবেই জানতেন ও মানতেন। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্র্তী সময়ের প্রেক্ষাপটটা কেন জানি পুরোটাই ভিন্ন, এখন বরং এই প্রশ্ন ওঠাটাই সঙ্গত ও স্বাভাবিক যে, সত্যিই কি তাকে আমরা চিনি? তাকে কি আমরা জানি?
উপর্যুক্ত প্রশ্নের উত্তর যদি হয় ‘হ্যাঁ’। তা হলে পাল্টা প্রশ্ন ওঠা সঙ্গত ও যৌক্তিক যে, তাকে চিনলে-জানলে আমরা কতটা চিনি, কতটা জানি? প্রকৃতার্থে তাকে যদি আমরা চিনতাম-জানতাম, পাঠে-অনুসরণে-অনুভবে রাখতাম, সর্বোপরি জ্ঞান করতাম আদর্শ, তা হলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর বাংলাদেশ আরও অন্যরকম হয়ে উঠতে পারত। বলছি, তাজউদ্দীন আহমেদের কথা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের যিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পন্থায় তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামকে পরিচালিত করে সুনিশ্চিত করেছিলেন চূড়ান্ত বিজয়। দেশীয়-আন্তর্জাতিক সব ষড়যন্ত্র তিনি মোকাবিলা করেছিলেন গভীর প্রজ্ঞায়। এমনকি দলের ভেতরের ষড়যন্ত্রকারীরাও তাকে বিচলিত ও বিপথগামী করতে চাইলেও তিনি পা দেননি সেই ফাঁদে। অথচ স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা হলো। তাজউদ্দীনের কাছে বঙ্গবন্ধু কেমন ছিলেন তার অনবদ্য একটা উদাহরণ রয়েছে এই লেখায়।
খান সারওয়ার মুরশিদ ‘তাজউদ্দীন আহমদ আলোকের অনন্তধারা-প্রথম খ-’ বইয়ে লিখেছেন, আমার একটি কথা বিশেষভাবে মনে আছে, যেদিন ভারত আমাদের স্বীকৃতি দিল, ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। ভারত যখন যুদ্ধের জন্য তৈরি, সেদিন তাজউদ্দীন কিন্তু কেঁদে ফেলেছিলেন সাংবাদিকদের সামনে। তাজউদ্দীনের সঙ্গে শেখ সাহেবের কী যে সম্পর্ক ছিল, সেটা আমি বুঝতে পারিনি। সেদিন তাজউদ্দীন না কাঁদলে আমি খুশি হতাম হয়তো। সেদিন তাজউদ্দীন বললেন, ‘বাংলাদেশের আজ জন্ম হলো। পৃথিবীর একটি প্রধান রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিল। এবং এই রাষ্ট্রের যিনি সত্যিকার জনক তিনি এই দৃশ্যটি দেখবার জন্য উপস্থিত নেই। আজ তার অনুপস্থিতি আমি অন্তরাত্মা দিয়ে উপলব্ধি করছি।’ তাজউদ্দীনের চোখ দিয়ে বেশ খানিকটা জল গড়িয়ে পড়ল। দেশে যুদ্ধ চলছে, এক অর্থে তাজউদ্দীন কিন্তু সেই যুদ্ধের জনকও।
তাই বলছিলাম প্রধানমন্ত্রীর চোখ দিয়ে জল পড়বে কেন? জল যদি থাকে সেটা অনুভবে থাকবে। বুঝতে পারছি তার আন্তরিকতা, নেতার প্রতি তার আনুগত্য, ভালোবাসা। এটা পরিষ্কার, তাজউদ্দীন সৎ মানুষ ছিলেন, চোখের পানি চেয়ে রাখতে পারেননি।
তাজউদ্দীনের লক্ষ্য ছিল একটাই, স্বাধীন বাংলাদেশ। আর স্বাধীন বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ-আকাক্সক্ষা ও স্বপ্নের বাংলাদেশ। অথচ সেই বাংলাদেশে তাকে আমরা চিনি না, জানিও না সেই অর্থে।
কীভাবেই হবে জানা সম্ভব? মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সবচেয়ে কঠিতম সময়ের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীনের নামে কী আছে এ দেশে? কয়েকটা সরণি আর তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হলো স্মরণ-শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ প্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা ‘চেয়ার’ কি তার মতো ব্যক্তিত্বের নামে হওয়া জরুরি নয়? তাজউদ্দীন আহমদের মতো ব্যক্তিরা জ্ঞানচক্ষুর আড়ালে বলেই কি এখনো প্রতিষ্ঠা করা গেল না বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ?
৫০ বছর একটা দেশের জন্য যেমন খুব বেশি সময় নয়, তেমনি একেবারে কমও নয়। অথচ আমাদের দেশটি এখনো হয়ে উঠতে পারল না মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র, সংহত হলো না আমাদের গণতন্ত্র। সমাজে প্রতিষ্ঠা করা গেল না সমতা ও ন্যায়বিচার। ন্যায্যতার চর্চা নিশ্চিত হলো না সর্বস্তরে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারল না প্রতিষ্ঠানগুলো? বিকশিত হলো না রাষ্ট্র-সমাজ ও ব্যক্তির ন্যায়ানুগ মূল্যবোধ।
আমাদের ভেবে দেখা জরুরি, কেন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ গঠন সম্ভবপর হলেও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশপ্রেম ও জাতি গঠনের সেই অগ্নিমন্ত্র থেকে ছিটকে পড়লাম আমরা। অথচ এই জাতির এ মানুষগুলোই তো সুচারুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোয় তাজউদ্দীনের অবদানের কথা বিভিন্নজনের লেখালেখিতে যেভাবে উঠে এসেছে, তা যেন রূপকথাকেও হার মানায়। দিন-রাত পরিশ্রম করতেন। ঘুমাতেন মাত্র ৪ ঘণ্টা। কলকাতার থিয়েটার রোডের অফিস-সংলগ্ন একটা রুমেই রাত্রি যাপন করতেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি যুদ্ধ চলাকালে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার ঘটনার পর ঢাকার ধানম-ির বাসা ছাড়েন। স্ত্রীকে একটা চিরকুট লিখে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শেষ হলে দেখা হবে আর নির্দেশ দিয়েছিলেন সন্তানদের নিয়ে সাত কোটি জনতার সঙ্গে মিশে যেতে। সত্যিই যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি তিনি। অথচ তারও ছিল একটা কোমল মন। যেমনটা সাক্ষ্য দেয় নিচের দুটো ঘটনায়।
১. ১৯৭০ সালের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড়ের সময় (ডিসেম্বরে ছিল নির্বাচন) অনেক মানুষ তাজউদ্দীন আহমদের বাসায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। এমন সময় তার বাড়ির জানালায় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে একটা বুলবুলি পাখির মৃত্যু হয়। অন্ধকারে লুকিয়ে ক্রন্দনরত তাজউদ্দীন আহমদকে তার মেয়ে দেখে ফেলেন। ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে সারাদিন আন্দোলনরত তাজউদ্দীন মেয়েকে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাসায় এত মানুষের জায়গা হলো অথচ এই ছোট্ট বুলবুলি পাখিটার জায়গা হলো না...।’
২. ১৯৭১ সালে যখন ভারতে বসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এবং দেশের শাসনকার্য নিয়ে ব্যস্ত তখনকার ঘটনা। আনিসুজ্জামান একদিন তাজউদ্দীন আহমদের কাছে যান। তিনি গিয়ে দেখলেন, তার চুল উষ্কখুষ্ক, চোখ লাল। বললেন, ‘আপনার শরীর খারাপ নাকি?’ তাজউদ্দীন সাহেব জবাব দিলেন, ‘গত রাতে শুতে যাওয়ার পর হঠাৎ ঝড়ে আমার ঘরের জানালার একটা অংশ খুলে গেল, তখন মনে হলো, এই ঝড়ে আমার ছেলেরা না খেয়ে, না ঘুমিয়ে যুদ্ধ করছে, আর আমি ঘুমাচ্ছি? আমি রাতে আর ঘুমাতে পারি নাই...।’
তাজউদ্দীন আহমদের প্রজ্ঞা ও মনীষায় মানুষের স্থান ছিল সর্বাগ্রে। মানুষকে তার প্রাপ্য অধিকার-শ্রদ্ধা ও সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উদাহরণযোগ্য ও অনুসরণীয়। তার মানুষ নিয়ে ভাবনার বৃত্তজুড়ে ছিল দেশপ্রেম।
রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজনীতি-সংস্কৃতি নীতি নিয়ে ছিল তার গভীর অনুধ্যান ও চিন্তার স্বাতন্ত্র্য। এমনকি বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও তিনি দেশপ্রেমকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। বৈদেশিক সাহায্যের ক্ষেত্রে তার সরাসরি যুক্তি ছিল- আমরা সাহায্য নেব, তবে তা কোনোভাবেই ভিখারির মতো নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু সরাসরি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। এ কারণে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়েও তার ছিল শক্তিশালী যুক্তি ও ভিন্ন কৌশল গ্রহণের পরামর্শ।
তাজউদ্দীন আহমদের রোজনামচা যদি আমরা পাঠ করি, তা হলেও দেখব তার আগ্রহ ও অভীপ্সার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ ও দেশ। এ কারণে তার ডায়েরির পাতায় পাতায় রয়েছে প্রতিদিনের আবহাওয়ার ফিরিস্তি। আবার এসব জার্নিই যে তাকে পরিণত বয়সে এ দেশের কৃষক ও কৃষি সম্পর্কে ভিন্নভাবে ভাবতে শিখিয়েছে তাও স্পষ্ট হয় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বকালে। মেরুদ- সোজা রেখে, দেশপ্রেম জারি রেখে মানুষকে ভালোবাসার যে উদাহরণ আমরা তাজউদ্দীনের চরিত্রে পাই, তা শুধু বিরল নয়, তুলনারহিতও বটে। যেমন-
১৯৭১ সালে যখন ভারতে বসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এবং দেশের শাসনকার্য নিয়ে ব্যস্ত, তখনকার ঘটনা। অনটাইম অফিসে আসা তাজউদ্দীন সাহেব এসে দেখলেন, তার পিয়ন তখনো আসেনি। তিনি থিয়েটার রোডের পিয়নের সেই বাসায় চলে গেলেন। তার অন্য এক কর্মচারী অফিসে এসে তাকে না পেয়ে সেই পিয়নের বাসায় গেলেন। গিয়ে দেখেন, বাসায় আর কেউ নেই শুধু প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন সাহেব জ¦রে আক্রান্ত পিয়নের মাথায় বদনা দিয়ে পানি ঢালছেন।
তাজউদ্দীন আহমদের এবারের জন্মদিন পালন এসেছে করোনার নিদানকালে। ২৩ জুলাইয়ের ৯৫তম জয়ন্তীতে তিনি যখন স্মরিত হচ্ছেন, তখন পৃথিবীজুড়ে চলছে করোনা মহামারীর তা-ব। বাংলাদেশও করোনার আঘাতে পর্যুদস্ত। মন ভালো নেই কারোরই। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের ভঙ্গুর ব্যবস্থাপনায় সবাই উৎকণ্ঠিত। করোনাকালেও দুর্নীতির লাগামহীনতায় দেশে-বিদেশে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি, ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছি।
এরই মধ্যে হাজির হচ্ছে ঈদুল আজহা। জীবন যেখানে সংশয়িত, জীবিকা যেখাবে ফুটো বেলুনের মতো চুপসে যাওয়ার উপক্রম, সেখানে ঈদ কি আনন্দ নিয়ে আসবে? আমরা করোনাকালের ঈদকে তুলনা করছি মুক্তিযুদ্ধকালীন ঈদের সঙ্গে। ঈদুল ফিতরের সময় কথাটা বেশ উচ্চারিত হয়েছে। একাত্তরের সেই ঈদেও তাজউদ্দীনের ভূমিকা-মানসরূপ ফুটে উঠেছে এ লেখায়।
‘...মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটা ঈদ হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষের জন্য সেটা তো আর আনন্দের ঈদ ছিল না, আমাদের সবার মন তো ভারাক্রান্ত, তবু তো আমার ছোট্ট একটা সংসার ওখানে ছিল। যতদূর মনে পড়ে আমার, ঈদ উপলক্ষে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে আগের দিন রাতে তিনি আমাদের বাড়িতে এসে উপস্থিত হলেন। আমাকে বললেন না কেন হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সেই আমির আলী এভিনিউয়ের নিচতলার ফ্ল্যাটে চলে এলেন।
আমি যখন এদিকে, তখন তিনি রান্নাঘরে গিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন এবং হাতে ক’টা টাকা গুঁজে দিলেন। এই মানবিক টাচটা তুলনাহীন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি হয়তো অন্য আরও কারও কারও কথাও মনে করেছিলেন। যদিও আমাদের কারও মনে নেই সেই যুদ্ধদিনে অনুভব ছিল না যে ঈদ বলে কিছু আছে। তিনি হয়তো ভাবলেন, এই মানুষগুলো তো আমার চারদিকে আছে, এদের পরিবার আছে, আমার পরিবার থেকে আমি না হয় দূরে থাকছি। এটা যে একটা অনুভূতি, শত ব্যস্ততার মাঝে মানুষটি নিজে চলে এলেন, এটি আমাদের জন্য খুবই উল্লেখযোগ্য ছিল।
করোনার নিদানকালের এই ঈদে আমাদের রাজনীতিবিদরা যদি তাজউদ্দীন আহমদের এই উদাহরণ জীবনব্রত থেকে শিক্ষা নিতেন, তাকে একটু চেনাজানায় নিষ্ঠাপ্রাণ হতেন- তা হলে কেমন হতো?
লেখকঃ
ড. কাজল রশীদ শাহীন
সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Cox's Bazar Sadar
Cox's Bazar
4743