11/05/2026
চামড়া শিল্প রক্ষার দাবির পেছনে কী আসলেই অন্য খেলা থাকে?
-----------------------------------------------------------------***
কোরবানির ঈদের আগে আগে প্রতিবছর আলেম-উলামাদের কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও চামড়া শিল্প রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন সভা-সেমিনার করতে দেখা যায়।
দায় ও দরদের জায়গা থেকে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের দাবি রাখে। এই যে প্রতিবছর কোরবানির আগে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়, তাতে আসলে লাভের গুড়টা খায় কে?
চামড়া খাতে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগকারীরা তো এটা নিয়ে কিছু করেন না। উল্টো তারা চামড়ার দাম কমাতে যা যা করার তাই করেন, তাহলে এমন কর্মসূচি পালনের লাভ কি?
প্রশ্ন করতে পারেন, চামড়ার টাকায় মাদরাসা চলে। কিন্তু ভাই এটা ভুল। খোঁজ নিয়ে দেখেন, ঢাকার বড় বড় মাদরাসায় বছরে আট-দশ কোটি টাকা খরচ হয়, আর চামড়া কালেকশন ও বিক্রি করে সব বাদে আয় হয় টেনেটুনে খুব বেশি হলে- ১৫-২০ লাখ টাকা। তাহলে বাকী টাকা কোথা থেকে আসে?
আমার কথা হলো, বাকি টাকা যেভাবে আসে চামড়াখাত থেকে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ টাকাও সেভাবেই আসবে- ইনশাআল্লাহ। শুধু ভরসা করে চামড়া কালেকশনটা বাদ দিন। ঢাকার অনেক মাদরাসা এখন চামড়া কালেকশন করে না। তারা তো চলছেন, দয়াময় আল্লাহ চালাচ্ছেন।
চামড়া কালেকশন বাদ দেন- দেখবেন, চামড়ার দাম কেমনে বাড়ে। একটা উদাহরণ দেই। এখন ট্যানারিওয়ালারা নিজের গদিতে বসে চামড়া পাচ্ছেন। আবার মূল্যও পরিশোধ করেছন কয়েক মাস পরে। তারা এই ট্যানারি দেখিয়ে খুব কম সুদে ব্যাংক ঋণ পেয়েছেন, এটা করে তাদের ব্যবসা চলছে, পেট চলছে। তারা চামড়া না পেলে পথে বসবে। তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের ব্যবসা টেকাতে চামড়া কীভাবে সংগ্রহ করবেন, সেটা কাদের ব্যাপার। সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা কেন?
এখন আমরা কি করছি? বাড়ি বাড়ি যেয়ে চামড়া সংগ্রহ করে তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। তারা আরামে ব্যবসা করছে। একটু ভিন্নভাবে ভাবুন। ঘরের দরজায় দরজায় চামড়া পরে আছে, ট্যানারিওয়ালারা বসে আছেন দিন শেষে চামড়া নেই। কার লস?
এই যে অসংখ্য কওমি শিক্ষার্থী মাদরাসার খরচে খাটছে, তার ফল ভোগ করছে ট্যানারিওয়ালারা। আগে ট্যানারিওয়ালারা নিজেদের খরচে চামড়া সংগ্রহ করতো, এ কাজে তাদের বিশাল অংশ ব্যয় হতো। সেই ব্যয় এখন করতে হচ্ছে না। উল্টো চামড়া কমদামে কিনে তারা। তাদের লাভ আর লাভ।
এই যে আলেম-উলামারা চামড়ার ন্যায্যমূল্যের কথা বলছেন, তারও ফায়দা যতটুকুই হোক আলেমরা আগেও পায়নি এখনও পায় না। বরং অনেকেই বলেন, কোনো কোনো ট্যানারিওয়ালারা নাকি আলেমদের দিয়ে এ জাতীয় প্রোগ্রাম করিয়ে থাকেন, সত্য-মিথ্যা জানি না। তবে বাজারে কথাটা আছে!
ঘটনা যাই হোক, মাদরাসাগুলোর উচিৎ চামড়া সংগ্রহের কাজ বাদ দেওয়া। এতে কোনো মাদরাসা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হবে না- ইনশাআল্লাহ। উল্টো শিক্ষার্থীদের দিলখোলা সাহায্য-সমর্থন মিলবে। ঈদের দিন হাজার হাজার বাবা-মা তার সন্তানকে কাছে পাওয়ার আনন্দে মন ভরে দোয়া করবে।
আরেকটি কথা, খবরে দেখলাম, কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে মসজিদের ইমামসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বৈঠক শেষে এ কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
দেখুন অবস্থা! চামড়া নিয়ে কোরবানিদাতার টেনশন নেই, এ খাতের ব্যবসায়ীদের টেনশন নেই। চামড়া নিয়ে টেনশন করবেন মসজিদের ইমামরা। এর অর্থ কী?
--------------------
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
৬ মে ২০২৬