24/11/2025
আমাদের কত অভিযোগ, যে আমার কিছু দু'আ কবুল হয়না। কত দু'আ করি কিন্তু দু'আ কবুল হয়না। এই ভেবে অনেকটা হতাশায় থাকি।
কিন্তু বিষয়টা এমনো হতে পারে, যে আল্লাহ আমার এই দু'আ করাটা পছন্দ করেন তাই বারবার শুধু দু'আ শুনতে চান। কবুল হয়ে গেলে হয়তো দু'আ করবেন না। তাই দু'আ টা শোনার জন্য আল্লাহ একটু দেরি করেন।
ভেবে দেখেছেন আপনার দু'আ করাটা আল্লাহর কাছে কত পছন্দের? আর দু'আ কি বিফলে যাবে বলেন? দুনিয়াতে না হোক আখিরাতে বিনিময় পাবেনই ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং, দু'আ করতেই থাকুন আপনার রব আপনার দু'আ এবং চোখের পানি খুব পছন্দ করেন।
ভেবেই চোখ রবের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে যাচ্ছে। আমার রব আমার কন্ঠ পছন্দ করেন এর চেয়ে বড় কিছু কি হতে পারে? কোন দু'আ কখন আল্লাহ কবুল করবেন তিনিই ভালো জানেন। দু'আ কবুল না হোক দু'আ করতে তো পারছি! আর সেই দু'আ টা আমার রবের কাছে অনেক পছন্দের ও। দু'আর বিনিময় না হয় আখিরাতে চেয়ে নিবো ইনশাআল্লাহ।
22/07/2025
👀 একজন মা বলতেছিল বাবারে তুই আজকে আমার হাতের শেষ খাওয়াটা খাইয়া গেলি, বাবা --আমি তো তোরে শেষ দেখা দেখতে পারলাম না।
😭.....…...................
ভয়াবহ একুশে জুলাই ২০২৫
সময়--১:১২ মিনিট
আমার ছেলে মাসনুন রহমান সিনান
উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের দিয়াবাড়ি শাখার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র।
প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী ছুটি হয় দুপুর ১ টায়।।
আজকে আমার পরীক্ষার ডিউটি ছিল চার নং ভবনের 804 নম্বর রুমে। বেলা একটায় পরীক্ষা ডিউটি শেষ করে ছেলের ভবনের সামনে যাব হঠাৎ মনে হল রেস্ট নেই ও নিজেই চলে আসবে আমার টিচার্স রুমেপ্রতিদিনের মতো।
আমি টিচার্স রুমে রেস্ট নিচ্ছি তখন দুপুর ১ টা ১১ মিনিটে আমার ছেলের ফর্ম মাস্টার বাবুল স্যার আমাকে ফোন দিয়ে বললেন -ম্যাডাম আজকের সিনানের ছুটি হবে ১ টা 40 মিনিটে ।আমি বললাম ক্লাস শেষ হলে৭ নং ভবনের দোতালায় পাঠিয়ে দিবেন টিচার্স রুমে। আমি ওকে স্যার বলেই ফোনটা কেটে দিলাম। সাথে সাথে বোম ব্রাস্ট হওয়ার মত একটা সাউন্ড হইল --আমি মাঠের পাশে টিচার্স রুম থেকে দেখতে পেলাম আমার ছেলের ভবনের সামনে আগুন।
আমার টিচার্স রুমে আমার সামনে আমার একজন সিনিয়র সহকর্মী জনাব এজাজ মাসুদ স্যার বসা ছিলেন। আমি এক চিৎকারে বললাম স্যার আমার ছেলের ভবনে তো আগুন লাগছে।
উনার ছেলে ওই ভবনেই পড়ে কোন কারণে সে আজকে আসে নাই।
আমি চিৎকার করে দৌড়াচ্ছি স্যার আমাকে বলছেন দোয়া করেন আল্লাহকে ডাকেন। ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই।
দৌড়াতে দৌড়াতে আমার হাজব্যান্ড কে ফোন দিয়ে বলেছি আমার ছেলের ভবনে আগুন লাগছে।
যেখানে আগুন লাগছে সেখানে গিয়ে দেখি তিনটা গলিত লাশ। শুধু আইডি কার্ড টা পড়ে আছে।
একটা বাচ্চার গায়ে কাপড় নাই পুরো শরীর ঝলসে গেছে।
সামনে গিয়ে দেখি যে ভবনে আমার ছেলে ক্লাস করে যেই রুমে আমার ছেলে ক্লাস করে সেই রুমের চারদিকে ধোঁয়া।
ছেলের ক্লাসরুমে আগুন আমি বাইরে থেকে কি বুঝবো তাই ক্লাসে ঢুকতে চাইলাম। সেনাবাহিনীর দুইজন আর আমার কলেজের বিএনসিসি ছাত্ররা আমাকে ঢুকতে দিলো না ---
আমি বারবার ঢুকতে চাইলাম জোর করে ঢুকতে চাইলাম আমাকে বাধা দিল দুজন আমাকে জোর করে এক পাশে নিয়ে গেল। আমি ডানপাশে ঘুরেই দেখি আমার ছেলের ফোন মাস্টার বাবুল স্যার।
জিজ্ঞেস করলাম স্যার আপনি এখানে আমার ছেলে কই???
শুধু হাতটা ধরে বলল ওরা উপরে দুই তালায়।
বিশ্বাস করলাম না তারপর আমার একজন ছাত্র এসে বলল ম্যাডাম কিছু হয় নাই এই পাশে আসেন। ক্যান্টিনের পাশে উপরে ৭ থেকে আটজন মেয়ে বাচ্চাকে দেখা যাচ্ছিল। আমি আল্লাহর কাছে কি দোয়া পড়ছিলাম আমার কিছুই মনে নাই।
আমার বিভাগের আমার একজন সহকর্মী মুকুল স্যার এর ভাগ্নিও ঐ ভবনে আটকা পড়ছেন। সে পাশ থেকে ওপার দৌড়াচ্ছেন আর চিৎকার করতেছেন।
আমাকে দুইজন সেনাবাহিনী বসায় দিয়ে ধরে রাখলেন একপাশ থেকে। যেন আমি সামনে না যাই।
তারপর দোতলার সামনে গাছ ছিল আম গাছ কেটে ফেলা হলো।
গ্রিলের তালা ভাঙ্গা হলো একপাশ ভেঙে ফেলা হলো।
আমি শুধু দেখতে পাচ্ছি কিছু ছাত্রী গ্রিলের নিচ দিয়ে দিয়ে বের হয়ে আসছে।
৮ থেকে ১০ জন ছাত্রী এবং একজন ম্যাডাম বের হওয়ার পর হঠাৎ আমার ছেলের চেহারা ভেসে উঠলো।
ওই মুহূর্তটা একজন মায়ের জন্য কি মুহূর্ত সেটা বলে বোঝানো যাবে না লিখেও শেষ করা যাবে না।
মুকুল স্যার যদি পারতো তাকে দোতলা থেকেই টেনে বের করত।আমার ছেলেকে দেখার সাথে সাথে সে দৌড়ে গিয়ে জড়ায় ধরছে বাবা রে তুই তাড়াতাড়ি আয়।
আমার মানিককে আমার সন্তানকে আমি জড়াইয়া ধরলাম।
যারা আমার ছেলের ক্লাসে আটকে ছিল তারা কেউ বেঁচে ফিরে নাই। সবাই পুরে কয়লা হয়ে গেছে।
একজন মা বলতেছিল বাবারে তুই আজকে আমার হাতের শেষ খাওয়াটা খাইয়া গেলি বাবা --আমি তো তোরে শেষ দেখা দেখতে পারলাম না।
মূলত বিমান ক্রাশ হয়ে ক্লাসরুমের ভিতরে ঢুকে গেছে।
বিমান ক্রাশ হওয়ার সাথে সাথেই ১৫ মিনিটের মধ্যেই যা ধ্বংস হওয়ার যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।
যাতে শরীর পুড়ে গেছে তাদেরকে বাঁচানো খুবই অসম্ভব খুব খারাপভাবে শরীর পুড়ে গেছে।
এত কাছ থেকে কখনো দেখিনি। এত ভয়ঙ্কর!!
আমি রাত আটটা দশ মিনিটে সেই দুর্ঘটনাস্থলে আবার যাই।আমার ফরমের দুইটা মেয়ে অসুস্থ তাদেরকে দেখার জন্য।
সেই ভবনের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম।
রাত ৮ টা ১৫ মিনিটের সময় বিজিবির একজন সদস্য নাম মাসুদ , তিনি ফোনে কাউকে বলছিলেন আরও একটি লাশ পাওয়া গেছে কিন্তু কয়েকটি পুড়ে যাওয়া খন্ড বিখন্ড অংশ।
হে রাব্বুল আলামিন, রাহমানুর রাহিম তুমি উত্তম পরিকল্পনাকারী --শিশুদের এমন মৃত্যু তুমি দিয়েছো বাবা মা তাদের গলে যাওয়া লাশের শেষ চিহ্নটুকু দেখতে পাবেনা।
তাসলিমা আকতার
প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
মাইলস্টোন কলেজ
২১/০৭/২০২৫,সোমবার
সংগৃহিত........
20/07/2025
বার বার পোস্ট টা চোখে পরে আর ভীষণ কষ্ট হয়
মানুষ কক্সবাজার সৈকতে যায় আনন্দ খুঁজতে আর এই অসহায় মা-বাবা গেছেন সন্তানকে খুঁজতে। হায়রে জীবন, ১৩ দিন হতে চললো...ভোরের আলো ফুটার আগেই বাবা সাকিব হাসান ও মা জেসমিন আক্তারের দৃষ্টি খুঁজে ফিরে সৈকত থেকে সৈকতের উপকূল, এই বুঝি একমাত্র সন্তান অরিত্র হাসানের কোন খোঁজ পাবে।
এভাবে রাতে পরে দিন দিনের পরে রাত কেটে যাচ্ছে। মা বাবা বুঝি এমনি হয়। ঘুম নাই খাওয়া দাওয়া নাই শুধু অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে দীর্ঘ সমুদ্রের অতলে 😭
মহান রাব্বুল আলআমীন ওনাদের সহায় হোক আমিন 🤲
20/07/2025
মৃত্যুর পর
ধনসম্পদ হবে ওয়ারিশদের!
রুহু হবে আজরাইলের!
মাংস হবে পোকা মাকড়ের!
হাড্ডি হবে মাটির!
নিজের বলতে থাকবে শুধুমাত্র নেক আমল।
20/07/2025
রাসুল (সা:) ইরশাদ করেন
যখন তোমাদের কেউ দু'আ করে তখন সে যেন প্রথমে আল্লাহ তাআ'লার প্রশংসা ও তার গুনগান দিয়ে দু'আ শুরু করে। অতঃপর রাসুলের প্রতি দরুদ পাঠ করে। এরপর তার যা ইচ্ছা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে'
(আবু দাউদ-১৪৮১, তিরমিযী-৩৪৭৭)
07/07/2025
বৃষ্টির দিনে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করি।"
শুভ সকাল
06/07/2025
হযরত সায়্যিদুনা আবু কাতাদাহু হতে বর্ণিত
নবী করীম ইরশাদ করেন, “আমার বিশ্বাস, আশুরার দিনের রোযা দ্বারা আল্লাহ তা'য়ালা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।”
(সহীহ মুসলিম, পৃষ্ঠা-৫৯০, হাদীস-১১৬২)