বয়ানুল কুরআন মাদরাসা উখিয়া।

বয়ানুল কুরআন মাদরাসা  উখিয়া।

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বয়ানুল কুরআন মাদরাসা উখিয়া।, Education, Cox's Bazar.

20/04/2026

📌 সন্তান গড়ার দায়িত্ব — ডিগ্রি নয়, দ্বীনই হোক সন্তানের সত্যিকারের পরিচয়.....

---

পৃথিবীতে একজন পিতামাতার জীবনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবং একই সাথে সবচেয়ে বড় সাফল্যের ক্ষেত্র হলো তার সন্তানকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শুধু পার্থিব শিক্ষা, সম্পদ বা ডিগ্রি দিয়ে সন্তানের জীবন পরিপূর্ণ হয় না। যদি সন্তানের হৃদয়ে পবিত্র কুরআনের আলো এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ না থাকে, তাহলে সেই জীবন প্রকৃত অর্থে সফল নয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আজকের আলোচনায় আমরা কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সন্তান গড়ার দায়িত্ব ও গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব।

---

🟦এক. সন্তান — আমানত, পরীক্ষা ও উপহার

সন্তান কেবল আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পিতামাতার কাছে একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের সঠিক হেফাজত করাই পিতামাতার প্রধান দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন —

> "হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।"
> — (সূরা আত-তাহরীম, ৬৬ : ৬)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সরাসরি পিতামাতাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, শুধু নিজে জান্নাতের পথে চললে চলবে না — পরিবার এবং সন্তানকেও সেই পথে পরিচালিত করতে হবে। এটি একটি ফরজ দায়িত্ব।

আল্লাহ আরও বলেন —

> "সম্পদ ও সন্তান হলো পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য।"
> — (সূরা আল-কাহফ, ১৮ : ৪৬)

কিন্তু এই সৌন্দর্যকে যদি সঠিকভাবে পরিচালনা না করা হয়, তাহলে এই সৌন্দর্যই আখিরাতে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

---

🟦দুই. সন্তানকে দীনি শিক্ষা দেওয়া — পিতামাতার সর্বোচ্চ কর্তব্য

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানের দীনি তরবিয়তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন —

> "প্রতিটি সন্তান ফিতরাতের (ইসলামি স্বভাব) উপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান বা অগ্নিপূজক বানিয়ে দেয়।"
> — (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৩৮৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৫৮)

এই হাদিসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, একটি শিশু ইসলামের স্বভাব নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু পিতামাতার অমনোযোগিতা ও ভুল পরিচালনার কারণে সে সঠিক পথ থেকে সরে যেতে পারে। সুতরাং দায়িত্বটি সম্পূর্ণরূপে পিতামাতার।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন —

> "পিতার পক্ষ থেকে সন্তানকে দেওয়া সর্বোত্তম উপহার হলো উত্তম আদব-আখলাক।"
> — (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ১৯৫২; শায়খ আলবানি এটিকে হাসান বলেছেন)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সম্পদ বা ডিগ্রি নয় — উত্তম চরিত্রই সন্তানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার।

---

🟦 তিন. কুরআনের আলো ছাড়া জীবন অন্ধকার

অনেক পিতামাতা সন্তানকে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান, লক্ষ টাকা খরচ করেন, কিন্তু কুরআন শেখানোর সময় করে উঠতে পারেন না। এটি একটি ভয়াবহ ভুল।

আল্লাহ তাআলা বলেন —

> "নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথ দেখায় যা সবচেয়ে সঠিক।"
> — (সূরা আল-ইসরা, ১৭ : ৯)

কুরআন শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, এটি একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। কুরআনের শিক্ষা থেকে দূরে থাকা মানে জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী আলো থেকে সন্তানকে বঞ্চিত করা।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।"
> — (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫০২৭)

সন্তানকে কুরআন শেখানো মানে তাকে সর্বোত্তম মানুষদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা। এর চেয়ে বড় পাওনা একজন পিতামাতার জন্য আর কী হতে পারে?

---

🟦চার. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ — সন্তানের জন্য পথের আলো

শুধু কুরআন নয়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহও সন্তানের জীবনের পাথেয় হওয়া প্রয়োজন। কারণ কুরআন ও সুন্নাহ একে অপরের পরিপূরক।

আল্লাহ তাআলা বলেন —

> "নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।"
> — (সূরা আল-আহযাব, ৩৩ : ২১)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও আদর্শই হলো মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম মডেল। সন্তানের সামনে সেই আদর্শ তুলে ধরা পিতামাতার একটি পবিত্র দায়িত্ব।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এই দুটো আঁকড়ে ধরবে, ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না — আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।"
> — (মুওয়াত্তা মালিক, হাদিস নং ১৬৬১; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদিস নং ৩১৮)

এই হাদিসই প্রমাণ করে, কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা ছাড়া জীবনে সত্যিকারের সফলতা আসে না।

---

🟦 পাঁচ. সন্তানের জন্য সময় দেওয়া — একটি ইবাদত

আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে পিতামাতা সন্তানকে সময় দিতে ভুলে যাচ্ছেন। টাকা, গাড়ি, বাড়ি সবই দিচ্ছেন, কিন্তু নিজের উপস্থিতি দিচ্ছেন না। অথচ সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো পিতামাতার সান্নিধ্য, ভালোবাসা এবং সঠিক পথনির্দেশনা।

হযরত লুকমান আলাইহিস সালাম তার পুত্রকে যেভাবে নসিহত করেছিলেন, আল্লাহ তাআলা তা কুরআনে উল্লেখ করেছেন —

> "স্মরণ করো, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে দিতে বলেছিল — হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম।"
> — (সূরা লুকমান, ৩১ : ১৩)

লুকমান আলাইহিস সালামের সন্তানকে দেওয়া উপদেশগুলো কুরআনে সংরক্ষিত হয়েছে। কারণ সেগুলো ছিল প্রজ্ঞাপূর্ণ ও চিরন্তন। প্রতিটি পিতামাতাকে তার সন্তানের সাথে এভাবেই কথা বলতে হবে — ভালোবাসার সাথে, প্রজ্ঞার সাথে।

---

🟦 ছয়. সন্তান ভালো হলে পিতামাতাও উপকৃত হন মৃত্যুর পরেও

এখানে একটি অসাধারণ বাস্তবতা রয়েছে। একজন পিতামাতা সন্তানকে দীনদার করে গড়ে তুললে, মৃত্যুর পরেও সেই সুফল পেতে থাকবেন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি জিনিস ছাড়া — সাদাকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা উপকার পাওয়া যায়, এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।"
> — (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬৩১)

এই হাদিসটি স্পষ্ট করে দেয় — নেক সন্তান শুধু দুনিয়ায় নয়, আখিরাতেও পিতামাতার সম্পদ। সন্তানকে দীনদার করে গড়ে তোলা মানে আখিরাতের জন্য বিনিয়োগ করা।

---

🟦 সাত. ডিগ্রি বনাম দীন — ভারসাম্যই আদর্শ পথ

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার — ইসলাম কখনো পার্থিব শিক্ষার বিরোধী নয়। ইসলাম জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।"
> — (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২৪; শায়খ আলবানি সহিহ বলেছেন)

কিন্তু পার্থিব জ্ঞানের সাথে দীনি জ্ঞানের সমন্বয় না থাকলে সেই শিক্ষা মানুষকে কখনো প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়তে পারে না। ডিগ্রিধারী মানুষ হওয়া এবং প্রকৃত মানুষ হওয়া — এই দুটো এক কথা নয়। প্রকৃত মানুষ হতে হলে দীনের আলো অপরিহার্য।

---

🟦 আট. পিতামাতার ব্যর্থতার পরিণতি

যে পিতামাতা সন্তানকে শুধু পার্থিব সুখ-সম্পদের দিকে ধাবিত করেন এবং দীনি শিক্ষা থেকে দূরে রাখেন, তাদের জন্য কুরআনে সতর্কবাণী রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন —

> "হে মুমিনগণ! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এই কারণে গাফেল হয়, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।"
> — (সূরা আল-মুনাফিকুন, ৬৩ : ৯)

সন্তানের পেছনে সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে গিয়ে যদি দীনের দিকটি উপেক্ষিত হয়, তবে এই সন্তানই হবে পরকালে ক্ষতির কারণ।

---

🟦নয়. কীভাবে সন্তানকে গড়বেন — ব্যবহারিক পদক্ষেপ

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সন্তান গড়ার কিছু ব্যবহারিক পথ —

◼️প্রথমত, শৈশব থেকেই সন্তানকে কালিমা, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া শেখান। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "সাত বছর বয়সে সন্তানকে নামাজের আদেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে না পড়লে তাকে প্রহার করো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।"
> — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৯৫; শায়খ আলবানি সহিহ বলেছেন)

◼️দ্বিতীয়ত, নিজে আদর্শ হোন। সন্তান বাবার মুখের কথা নয়, বাবার জীবন দেখে শেখে।

◼️তৃতীয়ত, প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় সন্তানকে দিন। তার কথা শুনুন, তার প্রশ্নের উত্তর দিন, তার সাথে দীনি বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন।

◼️চতুর্থত, ভালো সঙ্গ নিশ্চিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে। অতএব, তোমরা লক্ষ্য করো কার সাথে বন্ধুত্ব করছ।"
> — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৮৩৩; সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২৩৭৮; শায়খ আলবানি হাসান বলেছেন)

◼️পঞ্চমত, সন্তানের জন্য নিয়মিত দোয়া করুন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তার সন্তানের জন্য দোয়া করতেন —

> "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী করো এবং আমার বংশধরদেরও। হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দোয়া কবুল করো।"
> — (সূরা ইব্রাহিম, ১৪ : ৪০)

---

একটি সন্তান পৃথিবীর সমস্ত ডিগ্রি ও সম্পদ অর্জন করতে পারে, কিন্তু যদি তার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় না থাকে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ না থাকে, কুরআনের আলো না থাকে — তাহলে সেই সন্তান প্রকৃত অর্থে মানুষ হয়নি। আর এই ব্যর্থতার দায় বহন করতে হবে তার পিতামাতাকেও।

তাই আজই সংকল্প নিন — সন্তানকে সময় দিন, তার সাথে কুরআন পড়ুন, রাসুলের গল্প বলুন, নামাজে পাশে দাঁড় করান, দোয়া করুন। পার্থিব সাফল্যের পাশাপাশি তাকে আখিরাতের সাফল্যের দিকে পরিচালিত করুন।

তখনই আপনার জীবন সফল হবে, তখনই আপনি একজন সত্যিকারের পিতামাতা হিসেবে আল্লাহর দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে আদর্শ পিতামাতা হওয়ার এবং সন্তানদের কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

14/04/2026

মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থায় উস্তাদ এবং অভিভাবক হলেন একটি পাখির দুটি ডানা। যেকোনো একদিকের চেষ্টায় ঘাটতি থাকলে ছাত্রের চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করা কঠিন। তাই অভিভাবক সম্মেলনে এমন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত, যা অভিভাবক ও মাদরাসার মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করবে।
একটি ফলপ্রসূ অভিভাবক সম্মেলনের জন্য নির্ধারিত আলোচ্যসূচি বা এজেন্ডা নিচে সুন্দরভাবে গুছিয়ে দেওয়া হলো, যা আপনি সরাসরি সম্মেলনে পয়েন্ট আকারে আলোচনা করতে পারেন:

অভিভাবক সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ (এজেন্ডা)
১. পড়ালেখার অগ্রগতি ও সিলেবাস (বিশেষ করে হিফজ ও নাজেরা)
* ছাত্রদের বর্তমান পড়ার অবস্থা এবং আগামী ৬ মাসের লক্ষ্যমাত্রার (টার্গেট) ব্যাপারে অভিভাবকদের ধারণা দেওয়া।
* হিফজ বিভাগের ছাত্রদের ক্ষেত্রে 'নতুন পড়া' বা পেছনের পড়া ইয়াদ রাখার গুরুত্ব বোঝানো।
* বাসায় গেলে ছাত্ররা যেন পড়া একেবারে ছেড়ে না দেয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা।

২. আমল, আখলাক ও তারবিয়াত (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট)
* মাদরাসায় শেখানো সুন্নাতগুলো (যেমন— সালাম দেওয়া, খাওয়ার আদব, ঘুমানোর আদব ইত্যাদি) ছাত্ররা ছুটিতে বাসায় গিয়ে আমল করে কি না, তা অভিভাবকদের কাছে জানতে চাওয়া।
* পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, বিশেষ করে ফজরের সময় অভিভাবকদের নিজ দায়িত্বে সন্তানদের ঘুম থেকে তুলে মসজিদে পাঠানোর গুরুত্ব বোঝানো।
* বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার বিষয়ে পারিবারিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া।

৩. ডিজিটাল আসক্তি ও স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ।
* বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় ব্যাধি হলো মোবাইল ও ইন্টারনেট। ছুটিতে বাসায় গেলে সন্তানের হাতে যেন অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্মার্টফোন না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা।
* অতিরিক্ত মোবাইল বা গেমসের কারণে হিফজ ভুলে যাওয়া এবং মেধা নষ্ট হওয়ার বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা।

৪. স্বাস্থ্য, খাবার ও পরিচ্ছন্নতা (আবাসিকদের জন্য বিশেষ)
* ছাত্রদের শারীরিক সুস্থতার জন্য বাইরের খোলা খাবার বা অতিরিক্ত ক্ষতিকর খাবার (চিপস, ফাস্টফুড) মাদরাসায় দিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা।
* ছুটির পর মাদরাসায় আসার সময় সন্তানের নখ কাটা, চুল ছোট রাখা এবং পরিষ্কার জামাকাপড় ও বিছানাপত্র গুছিয়ে দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।

৫. মাদরাসার নিয়মকানুন ও প্রশাসনিক বিষয়।
* **ছুটি ও সাক্ষাৎ:** মাদরাসার নির্ধারিত ছুটির বাইরে অযথা ছুটি না চাওয়া এবং সাক্ষাতের নির্দিষ্ট সময় মেনে চলার জন্য বিনীত অনুরোধ করা।
* **বেতন ও ফান্ড:** মাদরাসার বেতন বা লিল্লাহ ফান্ডের অনুদান মাসের শুরুতে পরিশোধ করার গুরুত্ব বোঝানো, যাতে প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন খরচ ও শিক্ষকদের বেতন আটকে না যায়।
* **অভিযোগ প্রক্রিয়া:** সন্তান বাসায় গিয়ে মাদরাসা বা উস্তাদদের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা বললে, সাথে সাথে তা বিশ্বাস না করে বা অন্য অভিভাবকের সাথে সমালোচনা না করে, সরাসরি মুহতামিম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া।

৬. উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর ও পরামর্শ গ্রহণ ।
* সম্মেলনের শেষ অংশে অভিভাবকদের কথা শোনার সুযোগ দেওয়া। মাদরাসার পড়ালেখা, খাবার বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের কোনো গঠনমূলক পরামর্শ বা অভিযোগ থাকলে তা নোট করে নেওয়া।
* সবশেষে, সন্তান যেন একজন যোগ্য আলেম ও হাফেজ হতে পারে, সেজন্য উস্তাদ, পিতা-মাতা এবং ছাত্রের সম্মিলিত দোয়ার মাধ্যমে সম্মেলন শেষ করা।

**সারকথা:** সম্মেলনের পরিবেশ হতে হবে আন্তরিক। অভিভাবকরা যেন মনে করেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের সন্তানদের নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসে এবং তাদের উন্নতির জন্যই এত মেহনত করছে।

✍️👉🏻 Hafez Mehedi Hasan

সবাই আমার সাথে যুক্ত হোন

09/04/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
বয়ানুল কুরআন মাদরাসা উখিয়া র পক্ষ থেকে NGO/সংস্থা, দানশীল ব্যক্তি সহ দুনিয়া র মুসলিম ভাই বোনদের নিকট সাধ্য মতো সহযোগিতা র আবেদন।
#কক্সবাজার জেলাধীন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়ন এর গুরামিয়া চৌধুরী গ্যারেজ এলাকায় মুসলিম শিশু কিশোরদের ইসলামিক শিক্ষা/কুরআন শরীফ,নামাজ দুআ,মাদরাসা শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা অংক,ইংরেজি শিক্ষা শিখানো র উপর অতীব জরুরি /দরকার মনে করে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা য় ২০১৭ ইংরেজি সনে বয়ানুল কুরআন মাদরাসা টি আরম্ভ /শুরু করা হয়।আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমত ও দুনিয়ার মুসলমানদের সার্বিক সহযোগিতা য় মাদরাসা টি বর্তমানে নুরানি, ইবতেদায়ী হিফয, কিতাব,মকতব বিভাগে২৫৫ জন ছাত্র /ছাত্রী ও ০৮ জন শিক্ষক দিয়ে মুসলিম শিশু কিশোরদের শিক্ষা দীক্ষা দিয়ে আসছে।

ছাত্র /ছাত্রী বেশী হওয়ায় #শ্রেণি #কক্ষ / #ক্লাস #রুম নিয়ে বিষন কষ্ট হচ্ছে। ছোট শিশুদের মাটির উপর খোলা আকাশের নিচে ধুলো বালি মিশ্রিত হয়ে পড়া লেখা করতে হচ্ছে। যা উক্ত মাদরাসা র একজন জিম্মাদার /দায়িত্বশীল হিসেবে আমি নিজ কে বড় অপরাধী ও ব্যর্থ মনে করেছি তাই ফজরের নামাজের পর এই পোষ্টখানা লিখে চেষ্টা করলাম।হতে পারে এই লেখা টি মৃত্যুর পর অধমের নাজাতের সামান হবে।
#দৈর্ঘ ৫৬ হাত #প্রস্ত- ১৮ হাত একটি ঘর/ভবন নির্মাণ অতীব দরকার মনে করছি।
উক্ত মাদরাসা নির্মাণে যার যার তাউফিক মতো-
#ইট #বালি #সিমেন্ট #রড #টিন #মিস্তিরি খরচ অথবা #পুরো ভবন /ঘর/মাদরাসা নির্মাণ করে দিয়ে মহান সদকায়ে জারিয়ার এই কাজে অংশ গ্রহণ করার জন্য দ্বীন প্রিয় মুসলিম ভাই বোনদের নিকট মাদরাসার পক্ষ থেকে আকুল আবেদন জানাচ্ছি /রহিল।
মহান আল্লাহ কবুল করুন, সহজ করুন।

#চেষ্টা করা আমার কাজ কবুল করা মহান আল্লাহর হাতে।

সালামান্তে-
মুহাম্মদ রেজাউল করীম আফজল
পরিচালক -
বয়ানুল কুরআন মাদরাসা।
গুরামিয়া চৌধুরী গ্যারেজ,হলদিয়া পালং,উখিয়া, কক্সবাজার।
০৯.০৪.২০২৬
সকাল-০৬.৪২ মিনিট।
#মোবাইল - 01830-169516

05/04/2026

এই ফতোয়া জানার পর ছাত্র বেত্রাঘাত একেবারেই ছেড়ে দিয়েছি অনেক আগ থেকে, খুব চেষ্টা করি না পিটাইতে। ফক্বীহুল মিল্লাত মুফতী আবদুর রহমান রহ. বলতেন, নাবালেগ বাচ্চাদেরকে পিটালে রিজিক কমে যায়, কারন তারা নিষ্পাপ। খুব সতর্ক হব সবাই ইনশাআল্লাহ।
নতুন শিক্ষকগন ফতোয়া টি দেখতে পারেন।

কিতাবগুলোর কিছু ইবারত দেখুন-

★ فى الدر المختار: وَإِنْ وَجَبَ ضَرْبُ ابْنِ عَشْرٍ عَلَيْهَا بِيَدٍ لَا بِخَشَبَةٍ لِحَدِيثِ مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعٍ

১০ বছরের বাচ্চা কে সতর্ক করার প্রয়োজন হলে হাত দিয়ে আঘাত করবে লাঠি দিয়ে নয়। কেননা হাদীস শরীফে নামাজের জন্য সাত বছরের বাচ্চা কে আদেশ করতে বলা হয়েছে। (আঘাততে নয়) - ফতোয়ায়ে দুররুল মুখতার।

★ وفى رد المحتار: قَوْلُهُ بِيَدٍ أَيْ وَلَا يُجَاوِزُ الثَّلَاثَ، وَكَذَلِكَ الْمُعَلِّمُ لَيْسَ لَهُ أَنْ يُجَاوِزَهَا قَالَ – عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ – لِمِرْدَاسٍ الْمُعَلِّمِ إيَّاكَ أَنْ تَضْرِبَ فَوْقَ الثَّلَاثِ، فَإِنَّك إذَا ضَرَبْت فَوْقَ الثَّلَاثِ اقْتَصَّ اللَّهُ مِنْك اهـ إسْمَاعِيلُ عَنْ أَحْكَامِ الصِّغَارِ للأستروشني، وَظَاهِرُهُ أَنَّهُ لَا يُضْرَبُ بِالْعَصَا فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ أَيْضًا،

অনুরুপভাবে শিক্ষকের জন্য তিন বেতের বেশি প্রহার করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ সাঃ মিরদাস রাঃ কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, তিন বেতের বেশি প্রহার করা থেকে বিরত থাকো। কেননা তিন বেতের বেশি প্রহার করলে আল্লাহ তোমাকে শাস্তি দিবেন-(হাদিসটি কিতাবুল আসরারে সনদ ছাড়া উল্লেখ রয়েছে) । আসতারুশীনি রঃ এর আহকামুস সিগার থেকে ইসমাইল বর্ণনা করেন, মোট কথা হচ্ছে নামাজ ছাড়া অন্য কারণে ছাত্রকে বেত্রাঘাত করা হবে না।

- ফতোয়ায়ে শামী।

★ أما المعلم فله ضربه، لأن المأمور يضربه نيابة عن الأب لمصلحته، والمعلم يضربه بحكم الملك بتمليك أبيه لمصلحة التعليم…. ألنقل فى كتاب الصلاة يضرب الصغير باليد لا بالخشبة، ولا يزيد على ثلاث ضربات (رد المحتار، كتاب الحظر والإباحة، باب الاستبراء وغيره، فصل فى البيع-9/616)

ছাত্রকে প্রহার করার অধিকার শিক্ষকের রয়েছে। হাদিসের বর্নিত নির্দেশানুযায়ী (নামাজ না-পড়লে প্রহার করার হাদীস) বাবার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ছেলের তা'লিম তরবিয়ত এবং সার্বিক কল্যাণার্থে প্রহারের ব্যাপারে শিক্ষক আদিষ্ট ব্যাক্তি। ছাত্রকে হাত দিয়ে প্রহার করবে বেত দিয়ে নয় এবং সর্বোচ্চ তিন বেতের বেশি প্রহার করবে না। - ফতোয়ায়ে শামী।

★ يجوز للمعلم أن يضربه بإذن أبيه نحو ثلاث ضربات ضربا وسطا سليما… لا بخشبة، فلأن الضرب بها ورد فى جناية صادرة عن المكلف ولا جناية عن الصغير (حاشية الطحطاوى على الدر المختار، كتاب الصلاة-1/170)

অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে মধ্যম পন্থায় সর্বোচ্চ তিনবার হাত দিয়ে প্রহার করা জায়েজ। কেননা মুকাল্লাফ থেকে জেনায়েত প্রকাশ পেলে বেত্রাঘাত করার নুসূস রয়েছে কিন্তু শিশুরা তো মুকাল্লাফ বিশ-শরীয়াহ নয়।

-হাশিয়ায়ে তাহতবী

لو ضرب المعلم الصبى ضربا فاحشا قيد به، لأنه ليس له أن يضربها فى التاديب ضربا فاحشا وهو الذى يكسر العظم أو يخرق الجلد أو يسوده، قال فى البحر: وصرحوا بأنه إذا ضربها بغير حق وجب عليه التعزير، أى وإن لم يكن فاحشا ويضمنه لو مات، وكذا المعلم إذا أدب الصبى فمات منه يضمن عندنا (رد المحتار-6/131)

যদি কোন শিক্ষক শিশুকে সীমাতিক্রমী আঘাত করে তাহলে তাকে জেলে বন্ধি করা হবে। কেননা আদব শিখানোর জন্য হাড় ভেঙ্গে দেওয়া,চামড়া ফাটিয়ে দেওয়া অথবা কালো বানিয়ে ফেলার অধিকার শিক্ষকের নেই। ফতোয়ায়ে বাহরুর রায়েকে রয়েছে;অন্যায়ভাবে কোন শিক্ষক ছাত্রকে আঘাত করলে, সীমাতিক্রমী আঘাত না-হলেও তার উপর তা'জীর করা আবশ্যক। এবং শিক্ষকের আঘাতে ছাত্রের মৃত্যু হলে শিক্ষক জামিনদার হবেন।

শিক্ষার্থিদের শাসনের ক্ষেত্রে ফতওয়ার কিতাবগুলোর রেফারেন্সে কয়েকটি নীতিমালা দাঁড় করাতে পারি। তন্মধ্যে-

১। তিনটির বেশি বেত্রাঘাত করা যাবে না।
২। শরীরে দাগ পড়ে যায় এত জোরে আঘাত করা যাবে না।
৩। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রদের শাসনের ক্ষেত্রে কোনক্রমেই বেত ব্যবহার করা যাবে না।
(লেখাটি এক ভাইয়ের কিছুটা আমি যোগ করেছি।)

Aminul Islam

24/03/2026

বয়ানুল কুরআন মাদরাসা [নুরানি, হিফযখানা,এতিমখানা, কিতাব বিভাগ ]উখিয়া কক্সবাজার।

Photos from বয়ানুল কুরআন মাদরাসা  উখিয়া।'s post 16/03/2026

অভিনন্দন Atm Nurul Bashar Chowdhury,
নবনিযুক্ত প্রশাসক, কক্সবাজার জেলা পরিষদ।

03/03/2026

বয়ানুল কুরআন মাদরাসা উখিয়া।
২০১৭ ইংরেজিতে স্থাপিত হলেও #বার্ষিক প্রতিবেদন /রিপোর্ট এ বছর প্রথম প্রকাশ করা হলো।
অত্র মাদরাসায় দু'টি ফান্ড রয়েছে- #চাঁদা ফান্ড #জাকাত ও #ছদকা ফান্ড।
বিস্তারিত পড়ুন জনাব।
সহযোগিতা র হাত বাড়িয়ে দিন মুহতরম

23/12/2025

একটি মাদ্রাসার প্রাণ হলো মুহতামিম ও শিক্ষকদের মধ্যকার সুসম্পর্ক। ইসলামি পরিভাষায় এটি কেবল নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীর সম্পর্ক নয়, বরং এটি মুরুব্বি ও সাথীদের একটি দ্বীনি কাফেলা।

১. মুহতামিম যেভাবে শিক্ষকদের হক আদায় করবেন
মুহতামিম হলেন মাদ্রাসার অভিভাবক। তার আচরণ হতে হবে অত্যন্ত দয়ালু এবং ইনসাফপূর্ণ।
* ন্যায্য ও সময়মতো পারিশ্রমিক: শিক্ষকদের বেতন ও ভাতা মাসের নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করা। মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে সম্মানি নির্ধারণ করা।
* সম্মান ও মর্যাদা প্রদান: শিক্ষকদের সবসময় সম্মানের চোখে দেখা। ছাত্রদের সামনে বা জনসম্মুখে তাদের সমালোচনা না করে কোনো ভুল হলে একান্তে সংশোধন করে দেওয়া।
* সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা: অসুস্থতায় পাশে দাঁড়ানো, থাকার সুব্যবস্থা করা এবং পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ছুটির ব্যবস্থা করা।
* মতামতের মূল্যায়ন: মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করা। এতে তাদের মধ্যে মালিকানাবোধ ও দায়িত্বশীলতা তৈরি হয়।
* পক্ষপাতহীনতা: কোনো বিশেষ শিক্ষকের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকে না পড়ে সবার সাথে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা।

২. শিক্ষকরা যেভাবে মুহতামিমের হক আদায় করবেন
মুহতামিম হলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং আমীর। তাকে সহযোগিতা করা এবং তার প্রতি অনুগত থাকা শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব।
* আনুগত্য ও আনুগত্য (ইতাআত): শরিয়ত পরিপন্থী নয় এমন প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মুহতামিমের নির্দেশ মেনে চলা।
* আমানতদারিতা: অর্পিত দায়িত্ব (ক্লাস নেওয়া, ছাত্রদের দেখাশোনা) পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে পালন করা। সময়ের প্রতি যত্নবান হওয়া।
* সম্মান ও আদব: মুহতামিমকে নিজের মুরুব্বি ও বড় মনে করা। তার সামনে বা পেছনে এমন কোনো কথা না বলা যা তার মর্যাদাহানি করে।
* গোপনীয়তা রক্ষা: মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বা দাপ্তরিক গোপন বিষয়গুলো বাইরে আলোচনা না করা। প্রতিষ্ঠানের বদনাম হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা।
* পরামর্শ ও সহযোগিতা: মাদ্রাসার কোনো ত্রুটি চোখে পড়লে তা সরাসরি মুহতামিমকে বিনয়ের সাথে জানানো এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তাকে বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করা।

সারকথা
মুহতামিম এবং শিক্ষকদের সম্পর্ক হতে হবে 'দেহ ও প্রাণের' মতো। মুহতামিম যদি শিক্ষকদের সম্মানি ও সম্মানের দিকে খেয়াল রাখেন, আর শিক্ষকরা যদি মুহতামিমকে তাদের আমীর মেনে ইখলাসের সাথে কাজ করেন, তবে সেই মাদ্রাসায় আল্লাহর খাস রহমত নাযিল হয়।

✍️ Hafez Mehedi Hasan

04/11/2025

শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাবনা
#প্রহার-বেত্রাঘাত তারবিয়াহর পদ্ধতি নয়।

আমার জীবনে একজন উস্তায ছিলেন, যিনি কখনও কাউকে ধমক দেননি, এমনকি কোনো তালেবে ইলমকে প্রহারও করেননি। তবুও তালেবে ইলমরা তাকে অত্যন্ত সম্মান করত, আমরাও করতাম। আরেকজন উস্তায পেয়েছিলাম, যিনি নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তেন। অন্যদিকে, আরেকজন উস্তাযের কথা জানি, যিনি কথায় কথায় ধমক দিতেন এবং বেত্রাঘাত করতেন। তালেবে ইলমরা তাঁকে দেখলেই ভয় পেত।
আমার শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা দুই যুগেরও বেশি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি শিক্ষাবিভাগের দায়িত্ব পালন করার তাওফীক পেয়েছি। আমি মহিলা মাদরাসা, ছেলেদের মাদরাসা এবং কিছুদিন কিন্ডারগার্টেনেও ক্লাস নিয়েছি। কর্মজীবনে নানা মেজাজ ও স্বভাবের শিক্ষকের সাক্ষাৎ পেয়েছি।

এক বদমেজাজি শিক্ষিকার কথা জানি, যার রাগ ছিল আগুনের মতো। তিনি বেত্রাঘাত করে নিজের রাগ শান্ত করতেন। আরেকজন শিক্ষক ছিলেন, যাঁর মনে হত শিশুদের প্রহার না করলে তাঁর মন শান্ত হয় না। আমার কাছে তিনি মানসিক রোগী বলে মনে হত। অনেক তালেবে ইলম তাঁর প্রহারের কারণে মাদরাসা পড়া ছেড়ে দিয়েছে।

সরকারি আইন বা শিশু মনোবিজ্ঞানের আলোকে প্রহার নিষিদ্ধ হলেও কওমি মাদরাসার নূরানি, নাজেরা ও হিফজ বিভাগে দারাবা (প্রহার) এখনও বহাল তবিয়তে চলছে। তারবিয়াহর নানা পদ্ধতি আছে।

#নবীজী (সা.) ছিলেন মুআল্লিম-মানবতার শিক্ষক। তিনি কি প্রহারের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন? এর কোনো নজির নেই। শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) রচিত ‘‘আর-রাসুল আল-মুআল্লিম ওয়া আসালিবুহু ফিত-তালীম’’ কিতাবটি আমি কয়েকবার পড়েছি, কিন্তু সেখানে প্রহারের কোনো নববী পদ্ধতি পাইনি।

পারিবারিক, অর্থনৈতিক বা ব্যক্তিগত কারণে রাগের বশে তালেবে ইলমদের প্রহার করে যারা, তারা আমার কাছে শিক্ষক বলে মনে হন না; বরং মনে হয় মানসিক রোগী। হাসপাতালে মানসিক রোগের বিভাগ আছে—এমন শিক্ষকদের সেখানে পাঠানো যেতে পারে।

যাঁরা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ বা শিক্ষকতা সম্পর্কিত পড়ালেখা না করে শিক্ষকতা শুরু করেন, তারা সাধারণত তালেবে ইলমদের বেশি প্রহার করেন। বিশেষ করে নূরানি, নাজেরা বা হিফজখানায় বাড়াবাড়ি পর্যায়ের প্রহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।

আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা: এক মুদি (মালিক) তাঁর হিফজ বিভাগের এক প্রহারকারী শিক্ষককে একদিন প্রহারের পর বলেছিলেন, ‘‘আপনি কি তালেবে ইলমকে গরু পেয়েছেন? চলে যান, বাড়িতে গিয়ে গরু লালন-পালন করুন!’’ আসলে, তিনি সেই শিক্ষককে বহিষ্কারও করেছিলেন। বহিষ্কৃত শিক্ষক নিজেই আমাকে এই গল্পটি বলেছেন।

কওমি মাদরাসায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে পড়ানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। সেই প্রশিক্ষণে প্রহারবিহীন তারবিয়াহর পদ্ধতিও শেখানো উচিত। অনেক তালেবে ইলম প্রহারের কারণে মাদরাসা ছেড়ে দেয়। অনেক শিশু মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয় প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকের হাতে।

প্রহার, বেত্রাঘাত ও ক্লাসে অকারণে রাগ প্রকাশ থেকে বিরত থাকা সম্ভব কিনা, তা এখন ভাবতে হবে। এই ক্ষেত্রে সনাতনী চিন্তার পুনর্গঠন প্রয়োজন। আমি তারবিয়াহর বিরোধিতা করছি না, কিন্তু অতিরিক্ত প্রহার ও মানসিক নির্যাতনের বিরোধিতা করছি। এটা কেবল শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই সম্ভব। যাঁরা তালেবে ইলমদের বেশি প্রহার করেন, তাঁদের নিজের সন্তানদের জীবনও সাধারণত সুখময় হয় না।

মুহতারিম শিক্ষকবৃন্দ, আপনি যদি অন্যের ছেলেকে নিজের সন্তান হিসেবে মনে করতে পারেন, তাহলে অতিরিক্ত প্রহার করতে আপনার মন চাইবে না। আর যদি শুধু প্রহার দিয়েই নিজ সন্তানকে লালন-পাতল করেন, তাহলে আপনি আদর্শ পিতা হতে পারেননি।

একজন আদর্শ উস্তায পিতার মতোই হন। যাঁরা প্রহার করেন, আমার এই লেখা হয়তো তাঁদের রাগান্বিত করতে পারে। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই—আমিও একজন শিক্ষক।

লিখেছেন: Labib Abdullah
শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক ও পরিচালক, ইবনে খালদুন ইনস্টিটিউট

Photos from বয়ানুল কুরআন মাদরাসা  উখিয়া।'s post 28/10/2025

এ্যালবাম-০৪

Want your school to be the top-listed School/college in Cox's Bazar?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Cox's Bazar

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00