03/07/2026
❤❤❤শ্যামা একদিন ফিরে আসবেই❤❤❤
-------------------------------------------
”ভীষণ খারাপ লাগছে ওর চলে যাওয়া…” - হৃদয়ের তন্ত্রী ছিঁড়ে শ্যামা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
”শ্যামা, তুমি এভাবেই বলতে পারলা”- জয়ের অস্ফুট বাক্যটা কিন্তু মুখ দিয়ে বের হলো না।
দু’জনের চেহারা মলিন ও ফ্যাকাশে। কারো মুখে কোনো কথা নেই- নির্বাক। আকাশে অনেক কালো মেঘ জমেছে। এই বুঝি আকাশ ভেঙে ভারি বর্ষণ হবে।
তাহলে কি শ্যামা এখনো সাগরকেই ভালোবাসে! এতদিনেও বুঝি শ্যামার মন পেলাম না! -একফালি হতাশার কালো চাঁদ উঁকি দেয় চির সন্দিহান জয়ের মানস গগনে।
জয় আর শ্যামা পাশাপাশি দু’জন দু’পাশ হয়ে নির্ঘুম সারারাত কাটিয়েছে আজ। গতকাল সাগর প্রথম এসেছিল শ্যামার স্বামীবাড়িতে। চলে যাবার সময় দু’জনে এগিয়ে গিয়ে বিদায় দিয়েছিল। পেছন থেকে সাগরের চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখছিল তারা। নিষ্পলক শ্যামার গহিন অন্তরে কাল বৈশাখির ঝড় বয়ে যায়- ‘আহারে! এই বোকা ছেলেটা এখনো আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে!’
বিয়ের আগেও শ্যামা বহুবার এরকম অশ্রুসজল বিদায় জানিয়েছিল সাগরকে। তখন অবশ্য জয় নয়, শ্যামার মা-ই থাকতো সাথে। তবে সে বিদায়লগ্নগুলোতে শ্যামা বুকের ভেতর এতোটা বিরহ ব্যথা কখনো অনুভব করতো না।
উদ্দাম যৌবনের সুশোভিত বসন্তে সাগর ভালোবেসেছিল শ্যামাকে। কিন্তু কোনো এক ঘন অমানিশার কৃষ্ণ রজনীতে স্বপ্নের ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে শ্যামা। শুরু হয় দু’জনের জীবনের নতুন গল্প, ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়। শ্যামা ভুলে যায় ফেলে আসা পেছনের সব গল্প। কিন্তু শ্যামার জন্য সাগরের নি:স্বার্থ ভালোবাসা এখনো ফ্যাকাশে হয়ে যায়নি, বিবর্ণ হয়নি এতটুকুও। প্রেমান্ধ ব্যক্তিত্বহীন সাগর এখনো শ্যামাকে ভুলতে পারে না, এখনো তার পিছু ছাড়তে পারে না। কত শত বিনিদ্র রজনি কেটেছে সাগরের, শ্যামাকে নিয়ে একটি সুখের তাজমহল গড়ার। যেখানে থাকবে শুধু ভালোবাসা আর ভালোবাসা। যেখানে বাস করবে শুধু শ্যামা আর সাগর।
সেদিন সাগরকে সাগরে ছুঁড়ে ফেলে শ্যামা নিজ পছন্দে বিয়ে করে নিয়েছিল অজপাড়া গাঁয়ের এক ব্যবসায়ী যুবককে। সহজ সরল জয়ও শ্যামাকে অনেক ভালোবাসতো। দু’জনই নিজ নিজ পরিবারের একমাত্র ছেলে ও একমাত্র মেয়ে। শুরু হয় শ্যামার নতুন জীবন, নতুন স্বপ্ন ও নতুন কাব্য লেখা। সাগর ডুবে গিয়েছিল অতল সাগরে। এখনো ডুবছে আর চিৎকার করে ”শ্যামা শ্যামা”বলে ডাকছে। কিন্তু সাগরে সাগরের আর্ত চিৎকার একমাত্র শ্যামা ছাড়া আর কেউ শুনতে পায় না।
জয়-শ্যামার বিয়ের আজ ষোলো বছর। অনেক সামাজিক প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে পরস্পর ভালোবেসে বিয়ে করেছিল তারা। কিন্তু কেন যেন স্বামীভক্তা শ্যামা আর বউপাগল জয়ের সংসারে সুখপাখি চির অধরাই রয়ে গেছে। নেপথ্যে সাগরের বুকফাটা আহাজারিই কি অভিশাপ হয়ে ফিরে আসছে বারবার?
বিয়ের ষোলোতম বছরেও সন্দেহ, হতাশা, অবিশ্বাস ও অপূর্ণতা জয়-শ্যামার সংসারের সঙ্গী হয়ে আছে। সংসারে এখন আর কেউ কারো প্রিয়জন নয়, এমনকি প্রয়োজনও নয়। অশান্তির তপ্ত অনল প্রতিনিয়ত দহন করছে দু’জনকে। শ্যামা মনে করে, সাগরের বুকে দাউ দাউ করে জ্বলা বিরহের বহ্নিশিখাই তার জীবনকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে চলেছে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে।
আজ থেকে ষোলো বছর আগে সাগরকে দূরে ঠেলে দিয়ে সুখের নীড় খুঁজে নিয়েছিল শ্যামা। কিন্তু এখনো সাগর আশায় বুক বেঁধে অন্তহীন প্রতীক্ষার প্রহর গুণছে- তার শ্যামা একদিন না একদিন ফিরে আসবেই।
কিন্তু শ্যামা কি কোনোদিন আসবে?
সময় আর নিয়তি বড়ই নিষ্ঠুর।