22/07/2021
পশু কুরবানী করতে বলা হয়েছে কিন্তু সত্য ইতিহাস কুরবানি করতে কি কোথাও বলা আছে? আমরা পশু কুরবানী করার আগেই ইসলামের ইতিহাস কে কুরবানী করে ফেলি। এটা কি কুরবানীর শিক্ষা?
ইসমাইল (আ.) কে কুরবানী করা নিয়ে বাপ-ছেলের মধ্যে যে কথপোকথন হয়েছে এবং কুরবানীর যে ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, তার স্পষ্ট বর্ণনা কুরআনে থাকা সত্ত্বেও যে গালগল্প রচনা করে ইতিহাস বিকৃত করা হয় এতো মারাত্মকভাবে ইতিহাস বিকৃত বোধ হয় অন্য কারো বেলায় হয় না। এটা সন্তানদের পক্ষ থেকে পিতার প্রতি সুস্পষ্ট জুলুম।
যেমন দেখুন :
✓ কুরআনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ইব্রাহীম (আ.) তাঁর পুত্রকে কুরবানী দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন ৷
☞ সূরা আস সাফ্ফাত, আয়াত : ৩৭/১০২।
✗ কিন্তু সমাজে প্রচলিত আছে, “আল্লাহ তায়ালা বলছেন, তোমার প্রিয় বস্তুকে কুরবানী করো”৷
✓ কুরআনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ইব্রাহীম (আ.) তাঁর পুত্রকে কুরবানী করার কথা জানান ৷
☞ সূরা আস সাফ্ফাত, আয়াত : ৩৭/১০২।
✗ কিন্তু ওয়াজে বলা হয়, ইব্রাহীম (আ.) তাঁর পুত্র ও স্ত্রীকে দাওয়াত খাওয়ানো ইত্যাদি মিথ্যা কথা বলে ইসমাইল (আ.) কে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যান এবং পরে সত্য কথাটি বলেন৷ এটা শুধু বানোয়াট কথা নয় বরং একজন নবীর উপর মিথ্যা অপবাদ।
✗ বহুল প্রচলিত একটি ঘটনা, জবাই করার সময় ইব্রাহীম (আ.) তাঁর পুত্রকে ভালো করে বাঁধেন ৷ পরে তিনি নিজের চোখ বেঁধে নেন এবং পুত্রের চোখও বেধেঁ দেন ৷ এরপর ছুড়ি চালান ইত্যাদি বলে যা প্রচলিত সব ভিত্তিহীন, এইরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি ৷
✓ কুরআনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ইব্রাহীম (আ.) তাঁর পুত্রকে জবাইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে উপুড় বা কাত করে শুইয়ে দিতেই অদৃশ্য থেকে আওয়াজ আসে, “হে ইব্রাহীম, তুমি তোমার স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করেছো ৷”
☞ সূরা আস সাফ্ফাত, আয়াত : ৩৭/১০৩, ১০৪, ১০৫।
★ তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছে, এই আওয়াজ শোনার পর ইব্রাহীম (আ.) পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখেন একটা দুম্বা দাঁড়িয়ে আছে তখন তিনি সেটা জবাই করেন ৷
★ হাদীসেও আসছে, জবাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে বিকল্প জানোয়ার প্রদান করা হয় ৷
★হাদীস বিশারদ মুহাম্মাদ ইবনুস সাইয়িদ দরবেশ হুত (১২৭৬ হিঃ) বলেন, হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর বিষয়ে গল্প সমাজে প্রচলিত আছে যে, তিনি তাঁর পুত্রের গলায় ছুড়ি চালান কিন্তু কাটেনি… এই গল্পটি জাল, মিথ্যা এবং জিন্দিকদের কথা ৷
✗ সমাজে প্রচলিত আছে, হযরত ইব্রাহিম (আ.) যখন ইসমাঈল (আ.) কে কুরবানী দেওয়ার জন্য ছুড়ি চালাচ্ছিলেন তখন জিব্রাইল (আ.) এসে এই অবস্থায় দেখে তাঁকে থামানোর জন্য দূর থেকে চিৎকার দিয়ে বললেন “আল্লাহু আকবার , আল্লাহু আকবার”৷ তাঁর এই ধ্বনি শুনে ইব্রাহিম (আ.) বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহ আকবার, অলিল্লাহিল হামদ”৷ আর এভাবেই তাকবীরে তাশরীকের সূচনা হয়েছে ৷
এটা হুজুরদের বানানো কথা৷ জিব্রাইল (আ.) ও ইসমাঈল (আ.) এর মধ্যে এমন কিছু ঘটেনি ৷
☞ বিস্তারিত জানতে পড়ুন :
১. হাদীসের নামে জালিয়াতি, পৃষ্ঠা - ২৩৪।
ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ।
২. তাফসীরে ইবনে কাসীর, সুরা সফফাত, আয়াত (১০১-১০৫)।
ইমাম ইবনে কাসীর রহিমাহুল্লাহ
৩. তাফহীমুল কুরআন, সূরা সাফফাত।
সাইয়্যেদ আবুল আ‘লা মওদূদী রহিমাহুল্লাহ