07/04/2025
ইসরায়েল কর্তৃক গাজাবাসীর উপর চলমান বর্বরতা মানবতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। প্রতিদিন নির্বিচারে বোমা বর্ষণ, স্কুল-হাসপাতাল ধ্বংস, শিশুদের মৃতদেহ – এসব যেন নিত্যদিনের চিত্র। ইসরায়েল একটি পুরো জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়, আর বিশ্ব সমাজ নিষ্ক্রিয় নীরব দর্শক! এটাই কি সভ্যতা? এটাই কি মানবাধিকার?
গাজাবাসীরা খাবার, পানি, বিদ্যুৎবিহীন অবরুদ্ধ নরকে জীবন কাটাচ্ছে, অথচ তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো যেন চোখ বন্ধ করে বসে আছে। প্রতিদিনের এই গণহত্যা স্পষ্ট জেনোসাইড, স্পষ্ট সন্ত্রাসবাদ! মুসলিম উম্মাহ আজ যদি জেগে না উঠে, তবে কাল ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমরা কলম দিয়ে, অর্থ দিয়ে, দোয়া দিয়ে, জনমত দিয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ যালিমদের কখনো ক্ষমা করেন না – তাঁদের পতন অবশ্যম্ভাবী! গাজার রক্ত বৃথা যাবে না। জাগো মুসলিম, জেগে ওঠো এখনই!
শায়খ আরাফাত হাবীব।
05/04/2025
আপনার ভালোবাসা কেবল সহানুভূতি নয়, ছিল বাস্তব পরিবর্তনের হাতছানি,
স্যার, আপনি নীরব বিপ্লবের একজন অগ্রদূত।
01/04/2025
"একটি ভুল, চিরদিনের শূন্যতা!"
সড়কে প্রতিদিন ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ। আজ যারা আমাদের পাশে হাসিমুখে ছিল, কাল তারা হয়তো সাদা কাফনে মোড়ানো লাশ!
এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাগুলো কি শুধুই নিয়তি? না কি আমাদের অসচেতনতা, তাড়াহুড়া, এবং নিয়ম না মানার ফল?
✅ বেপরোয়া গতি নয়, জীবন বাঁচানোই মূল লক্ষ্য হোক।
✅ চালকের অসতর্কতা বা ক্লান্তি বুঝতে পারলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
✅ রাস্তা পারাপারে সতর্ক থাকুন, ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করুন।
✅ দীর্ঘযাত্রায় বাসের ফিটনেস ও চালকের অভিজ্ঞতা যাচাই করুন।
✅ ট্রাফিক আইন মানুন, নিজেও বাঁচুন, অন্যকেও বাঁচান।
একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না ডেকে আনে। একটু সচেতনতা হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে শত প্রাণ!
31/03/2025
ঈদের আনন্দ, সচেতনতার বন্ধন
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে উৎসব, কিন্তু একটু অসচেতনতা আনন্দকে শোকে পরিণত করতে পারে। প্রতি বছর ঈদের সময় অসংখ্য প্রাণ ঝরে যায় বাইক দুর্ঘটনায়। অতিরিক্ত গতি, হেলমেট ছাড়া চলাচল, ওভারটেকিং, এবং ট্রাফিক আইন না মানাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। একটি প্রাণের মূল্য কোনো আনন্দের চেয়ে বেশি। নিরাপদে চলুন, দায়িত্বশীল হোন, নিজের এবং প্রিয়জনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সড়কে শৃঙ্খলা মেনে চলুন, ঈদের আনন্দকে বিষাদে পরিণত করবেন না। ঈদের আনন্দ হোক নিরাপদ, হোক সবার জন্য সুখের।
30/03/2025
সময়ের স্রোতে রমজান: এত দ্রুত রোজা শেষ হয়ে গেল!
রমজানের চাঁদ উঠেছিল সেদিনই, মনে হয় যেন গতকাল।
আজ দেখি বিদায়ের ঘণ্টা বাজছে, সময় গেল কোথায়!
ইফতার-সেহরির ব্যস্ততায় কাটল দিন, টেরও পেলাম না,
তারাবির মোনাজাতে যেন চোখের জলই প্রমাণ।
সময় কি সত্যিই দ্রুতগামী, নাকি আমরাই ব্যস্ত বেশি?
কখন যেন শেষ দশকে এসেছি, হিসেব মেলে না কিছুই।
রোজার প্রথম দিন মনে হয়েছিল দীর্ঘ এক সফর,
আজ দেখি বিদায়ের পথে, মনে হয় যেন ক্ষণিকের বরণ।
রমজান আসে বারবার, কিন্তু আমাদের আয়ু তো কমছে,
সময়ের এই স্রোতে আমরা কতটুকু অর্জন করতে পারছি?
বিদায় নেয়ার আগে এই মাস থেকে নেক আমল গ্রহণ করি,
যেন আগামী রমজান পেলে খুশি মনে প্রস্তুত থাকি!
শায়খ আরাফাত
মাস্টার্স ইন ইসলামিক স্টাডিজ, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম
29/03/2025
রমজানের শেষ প্রান্তে: বিদায়ের অনুভূতি
রমজান বিদায়ের পথে, মন যেন ভারাক্রান্ত।
কোথায় যেন এক অপূর্ণতার হাহাকার!
রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের মাস ফুরিয়ে যাচ্ছে।
শেষ মুহূর্তেও ক্ষমার দরজা খোলা, ফিরে আসার সুযোগ এখনো আছে।
কতটুকু পেলাম, কতটুকু হারালাম—নিজেকেই প্রশ্ন করার সময়।
লাইলাতুল কদরের আশায় শেষ রাতগুলো কাটুক ইবাদতে।
সিয়ামের আত্মশুদ্ধির পাঠ সারা বছর ধরে রাখতে হবে।
যে চোখ রমজানে অশ্রুসিক্ত হয়েছিল, তা কি সারা জীবন বেঁচে থাকবে?
এ মাসের বিদায় যেন আমাদের নেক আমলেরও বিদায় না হয়।
আল্লাহ যেন আমাদের রমজানের সব ইবাদত কবুল করেন!
শায়খ আরাফাত
27/03/2025
ইসলামিক স্কলারদের মিড়িয়া গ্রহণ: কেন এটি এখন জরুরি?
আজকের যুগে মিড়িয়া, বিশেষ করে টেলিভিশন, রেডিও, সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেট, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরণের তথ্য গ্রহণ করছে। ইসলামী শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং প্রশ্নের ভাণ্ডার বাড়ছে, কিন্তু বাস্তবে আমাদের ইসলামিক স্কলারদের বড় একটি অংশ মিড়িয়া ব্যবহার করতে ভয় পাচ্ছে বা আগ্রহী নয়। এতে করে ইসলামিক শিক্ষা সমাজের অধিকাংশ অংশের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার চার দেয়ালের মধ্যে আটকে থাকা স্কলাররা যখন মিড়িয়া গ্রহণ করতে ব্যর্থ হন, তখন তারা তাদের জ্ঞানের আলোকে সমাজকে অবগত করতে পারছেন না। বিশেষত, বর্তমান যুব সমাজে ইসলামের সঠিক বাণী এবং মূল্যবোধ পৌঁছানোর জন্য মিড়িয়া একটি অত্যন্ত কার্যকরী মাধ্যম হতে পারে। আধুনিক মিড়িয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে স্কলাররা তরুণদের কাছে ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলো সহজে এবং আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।
ইসলামিক স্কলারদের মিড়িয়া গ্রহণ শুধু যুবকদের জন্য নয়, এটি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মিড়িয়া শুধু শিক্ষার প্রসারিত ক্ষেত্র নয়, এটি একটি শক্তিশালী সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম যা ইসলামের বার্তা বিশ্বের প্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম। অধিকন্তু, মিড়িয়া ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের মধ্যে একযোগিতার সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া, মুসলিম যুবসমাজের মধ্যে নাস্তিকতা এবং ইসলামের প্রতি সন্দেহ বাড়ছে। মিড়িয়া প্ল্যাটফর্মে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ও তার সঠিক বাস্তব প্রয়োগের প্রচার যুব সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করবে। তাই, ইসলামী স্কলারদের মিড়িয়া গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। এটি কেবল ইসলামের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে, বরং ইসলামী শিক্ষাকে একটি নতুন আঙ্গিকে আধুনিক যুগে উপস্থাপন করবে।
অতএব, ইসলামী স্কলারদের মিড়িয়া গ্রহণ শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় নয়, বরং এটি ইসলামের বাস্তব শিক্ষা সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর একমাত্র উপায়।
শায়খ আরাফাত ( মাস্টার্স ইন ইসলামিক স্টাডিজ) আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।
27/03/2025
"মৃত্যুর পর গান গেয়ে বিদায় দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি: ইসলামের দৃষ্টিতে"
মৃত্যু হলো এক অমোঘ বাস্তবতা, যা আমাদের সকলকে একদিন সম্মুখীন হতে হবে। ইসলামে মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শোক প্রকাশের জন্য দোয়া, ইস্তিগফার ও সৎকর্মের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, বর্তমান সময়ে অনেকেই মৃতের জন্য গান গেয়ে বিদায় জানান, যা ইসলামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই ধরনের আচরণ মৃতের আত্মার শান্তি বা শান্তিপূর্ণ বিদায়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ইসলাম কোনভাবেই মৃত্যুর পর গান বা সঙ্গীত বাজানোর অনুমতি দেয় না। নবী (সা.) বলেছেন, "মৃতের জন্য দোয়া করো, আল্লাহ তার জন্য রহমত নাযিল করবেন।" (সহীহ মুসলিম)। গান বা সঙ্গীতের মাধ্যমে বিদায় জানানো শিরক ও বিদআত হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।
মৃত্যুর পর যে শ্রদ্ধা প্রদর্শন প্রয়োজন তা হলো, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখা, দোয়া করা এবং মৃতের আত্মার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। আমরা যেন মৃতের বিদায়ের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখি এবং ইসলামের পথে চলার চেষ্টা করি।
27/03/2025
লার রজনী: লায়লাতু কদরের রহস্য ও তার আত্মিক গুরুত্ব
লায়লাতু কদর ইসলামের অন্যতম মহিমান্বিত রাত, যা সারা বিশ্বে মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ বরকতময় সময়। এটি রমজান মাসের শেষ দশ দিন, বিশেষত ২১, ২৩, ২৫, ২৭ এবং ২৯ তারিখের মধ্যে যে কোনো রাতে হতে পারে। কুরআনে সুরা কদরে এই রজনীর গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, "লা তুক্বাল্লাফি হা যীনা তান" (এই রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে নামেন)।
এই রাতের বিশেষত্ব হলো, এতে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পূর্ণরূপে বর্ষিত হয়। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "লায়লাতু কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম" (সুরা কদর, ৩)। এর মানে, যদি কোনো ব্যক্তি এই রাতে সঠিকভাবে ইবাদত করে, তার আমল হাজার মাসের চেয়েও বেশি মূল্যবান হবে।
এছাড়া, লায়লাতু কদর রাতের এক অন্যতম গুণ হল, এটি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের এক বিশেষ সময়। বিশেষত, এই রাতে যদি কেউ তার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। এই রাত মুসলমানদের জন্য আত্মবিশুদ্ধির, সঠিক পথের দিকে ফিরে আসার, এবং আল্লাহর কাছে দয়া লাভের সময়।
লায়লাতু কদর একটি সময়, যখন জীবনের সমস্ত পাপের পরিপূর্ণ ক্ষমা মেলে এবং মানুষের জীবন এক নতুন দিক থেকে শুরু হতে পারে। অতএব, এই রজনীকে শুধুমাত্র উপাসনা ও ইবাদতের জন্য নয়, বরং আত্মিক উন্নতির এবং আল্লাহর রহমত পাওয়ার এক অমূল্য সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
শায়খ আরাফাত ( মাস্টার্স ইন ইসলামিক স্টাডিজ) আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।
27/03/2025
"লায়লাতু কদর: রহমতের রজনী, যেখান থেকে বদলে যেতে পারে আমাদের ভাগ্য"
27/03/2025
শেষ দশক, শেষ রাত – আমাদের কান্না কোথায়?
রমজান আমাদের থেকে বিদায় নিতে চলেছে। রাতগুলো কেটে যাচ্ছে, শেষ দশকের শেষ রাতও হয়তো আজই! কিন্তু আমাদের হৃদয়ে কি কোনো ব্যাকুলতা আছে? আমাদের চোখ কি অশ্রুসিক্ত হয়েছে? যেই রমজানে গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি, জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা, সেই রমজানের শেষ প্রান্তে এসে কি আমরা উদাসীন নাকি অনুতপ্ত?
রাসুল ﷺ তো সারা রাত কেঁদে দোয়া করতেন, সাহাবিরা ভয়ে কাঁপতেন, আর আমরা? আমাদের কান্না কোথায়? যদি এই রমজানেও আমরা গাফিলতি নিয়ে থাকি, তাহলে আর কবে বদলাব? এখনো সময় আছে, দরজাগুলো এখনো খোলা। ফিরে আসি, কান্নায় বুক ভাসাই, যেন পরবর্তী রমজান আমাদের জন্য শুধু স্মৃতি হয়ে না যায়!
শায়খ আরাফাত ( মাস্টার্স ইন ইসলামিক স্টাডিজ) আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।