15/10/2024
বোর্ড চ্যালেঞ্জ নিয়ে যত প্রশ্ন:
বোর্ড চ্যালেঞ্জ বা খাতা পুনঃনিরীক্ষণ হচ্ছে, কোনো বোর্ড পরিক্ষায় শিক্ষার্থীর রেজাল্ট এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল বা অকৃতকার্য অথবা আশানুরুপ ফল না হলে শিক্ষা বোর্ডকে উক্ত খাতাটি পুনরায় চেক করার জন্য আবেদন করা বোঝায়।
আরও সহজ ভাবে বললে, আপনি পরীক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু পরীক্ষা অনুযায়ী রেজাল্ট ভালো হয়নি, অথবা অনেক ভালো পরীক্ষা দিয়েছেন তবুও ফেল আসছে।
এমন অবস্থায় বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে বোর্ড আপনার খাতাটি পুণরায় চেক করে আবারো ফলাফল প্রকাশ করবে।
সাধারণত রেজাল্ট আশানুরূপ বা সন্তোষজনক না হলেই এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পরে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা যায়।
তবে উল্লেখযোগ্য যেসব কারণে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হয়ে থাকে তা হচ্ছেঃ
• A+ মিস হলে কিংবা গোল্ডেন মিস হলে
• খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েও ফেল করলে
• আশানুরূপ ফলাফল না হলে বদ চ্যালেঞ্জ করা যায়
আপনি উপরের যেকোনো এক বা একাধিক কারণ সহ আপনার রেজাল্ট পরবর্তী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করে নিতে পারো।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কিভাবে খাতা দেখা হয়:
অনেকের ধারণা যেন বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে বুঝি খাতাটি আবার নতুন করে দ্বিতীয় কোনও শিক্ষক দেখেন। কিন্তু এমন ধারণা ভুল।
রেজাল্ট পাবলিশের পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে যে বিষয়ে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করেছেন সেই খাতাগুলি পুনরায় দেখা হয় না।
শুধু মাত্র খাতার সকল প্রশ্নের উত্তরের প্রেক্ষিতে মার্কস দেওয়া হয়েছে কি না, মার্ক্স সঠিক ভাবে যোগ করা হয়েছে কি না, এবং সর্বোপরি খাতায় প্রাপ্ত নাম্বার সঠিক ভাবে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে কি না।
অর্থাৎ, বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে মুলত যে বিষয়গুলি পুনর্বিবেচনা করা হয় তা হচ্ছেঃ
• সকল প্রশ্নের উত্তরে মার্কস দেওয়া হয়েছে কি না
• মার্কস সঠিক ভাবে যোগ করা হয়েছে কি না
• খাতার প্রাপ্ত মার্কস বোর্ডে পাঠানো হয়েছে কি না
• বোর্ডে পাঠানো নাম্বার প্রকাশ করা হয়েছে কি না
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে এর বাহিরে কোনো কিছুই দেখা হয় না একটি খাতার। তবে অনেক সময় অফিসিয়াল নির্দেশনার বাহিরে গিয়ে স্যার রা চাইলে ১/২ মার্কস বাড়িয়ে রেজাল্টে পরিবর্তন আনতে পারেন।
তবে, এমনতা শুধু মাত্র পাশ ফেল এর সময়ে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তাও সবসময়ে না। কারন বোর্ড এর নির্দেশনা বহির্ভূত কাজ এটি।
অন্যদিকে সবথেকে ভালো বিষয় হচ্ছে, বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কখনো আপনার নাম্বার কমানো হবে না।
অর্থাৎ, খাতা আবারো পর্যবেক্ষণ কালে যদি দেখে ভুলে আপনাকে বেশি দেওয়া হয়েছে। তা আর কমানো হবে না।
তাই, রেজাল্ট পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে রেজাল্ট কমার বা নাম্বার কমার ভয় বা আশংকা না থাকায় নির্দ্বিধায় বোর্ড চ্যালেঞ্জ এর জন্য আবেদন করতে পারেন।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে কি কি লাগে:
দেখুন, সবকিছুর মতো বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রেও বোর্ড থেকে দেওয়া নিয়ম মানতে হয়। এক্ষেত্রে প্রত্যেক বছর রেজাল্ট প্রকাশের পরপর বোর্ড থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বোর্ড চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে করনীয় এবং সময়সীমা জানিয়ে দেওয়া হয়।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে যা যা লাগেঃ
যে শিক্ষার্থী বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে চান তার
• বোর্ডের নাম,
• রোল নাম্বার,
• যেসব বিষয়ে আবেদন করবেন তার সাবজেক্ট কোড,
• শিক্ষার্থীর নিজস্ব সচল মোবাইল নাম্বার,
• বোর্ড থেকে নির্ধারণ করা ফি (প্রত্যেক সাবজেক্ট অনুযায়ী নির্ধারিত)
• ব্যালেন্স থাকা টেলিটক সিম (যদি নিজে করতে চান)
বোর্ড চ্যালেঞ্জ ফি বাবদ প্রত্যেক বছর বিষয় প্রতি ১৫০ টাকা ধার্য করা হয়। এবার আপনি কোন কোন সাবজেক্টে আবেদন করবেন সেই কয়গুন ১৫০ টাকা আপনাকে দিতে হবে।
এক্ষেত্রে আপনার যদি টেলিটক সিম না থাকে বা নিজে করতে না পারেন, আপনার বোর্ড চ্যালেঞ্জ এর আবেদনটি আমাদের দিয়ে করিয়ে নিতে পারেন।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নির্ধারিত তারিখ সমূহ
প্রত্যেক বছর এইচএসসি রেজাল্ট প্রকাশের পর বোর্ড থেকে নোটিশ দিয়ে বোর্ড চ্যালেঞ্জ এর নির্ধারিত তারিখ সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হয়।
এইচএসসি ২০২৪ পরীক্ষার্থীদের - বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা যাবে ১৬-২২ অক্টোবর। যাদের রেজাল্ট আশানুরূপ হয়নি, তারা বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে পারো।
এইচএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম
পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের পর অনেকেই ভেঙ্গে পরেন। আপনাদের সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বোর্ড চ্যালেঞ্জ এর আবেদন করে ফেলুন।
আপনার পরীক্ষা ভালো হলে অবশ্যই ফলাফল চেঞ্জ হয়ে ভালো ফলাফল আসবে, ইনশাআল্লাহ। এবার তাহলে চলুন এইচএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম জেনে নেওয়া যাক।
• টেলিটক সিম থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে RSC লিখে স্পেস দিন।
• শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর বড় হাতে লিখে স্পেস দিন।
• শিক্ষার্থীর বোর্ড পরীক্ষার রোল নাম্বার লিখে স্পেস দিন।
• যেসব বিষয়ে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে চান সেসব বিষয়ের সাবজেক্ট কোড লিখুন।
• একাধিক সাবজেক্ট হলে (,) দিয়ে দিয়ে সবগুলি বিষয়ের সাবজেক্ট কোড লিখুন।
• মেসেজটি চেক করে দেখুন সব ঠিক আছে কি না দেখে 16222 এই নাম্বারে পাঠিয়ে দিন।
এমন একটি মেসেজ সেন্ড করার পরে টেলিটক সিমেই একটি ফিরতি এসএমএস আসবে।
যেখানে এই আবেদন বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে এবং এই আবেদন করতে সম্মত আছেন কি না তা জানতে চেয়ে একটি কোড দেওয়া হবে।
আপনি যদি আবেদন করতে আগ্রহী থাকেন এবং বোর্ড চ্যালেঞ্জ আবেদন নিশ্চিত করতে চান তাহলে ফিরতি আবার আরেকটি এসএমএস পাঠাতে হবে।
এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বার টেলিটক সিম থেকে আবার মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবেঃ
• মেসেজ অপশনে গিয়ে RSC লিখে স্পেস দিন।
• এরপর Yes লিখে স্পেস দিন।
• এরপর ফিরতি এসএমএস এ আসা গোপন PIN নাম্বার টি লিখে স্পেস দিন।
• এরপর আপনার ব্যক্তিগত যেকোনো একটি সচল মোবাইল নাম্বার দিন।
• এবার মেসেজটি চেক করে সঠিক ভাবে সব লিখছেন কি না তা দেখে পাঠিয়ে দিন 16222 নাম্বারে।
বেশ, যে নাম্বারটি আপনি দ্বিতীয় মেসেজে দিয়েছেন সেই সিমে একটি কনফার্মেশন মেসেজ গেছে। যেখানে বলা হয়েছে আপনার বোর্ড চ্যালেঞ্জ এর আবেদনটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
--মুবিন স্যার