Economics with azam sir
HSC and Admission Economics�
16/10/2023
Live class Economics_Demand
অর্থনীতি ক্লাস
বি:দ্র: ২৪ এবং ২৫ ব্যাচের অর্থনীতি কোর্স এবং ব্যাচে ভর্তি চলছে...
লোকেশন: মহিলা কলেজ রোড ( লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল সংলগ্ন)
যোগাযোগ: 01918621720
নোবেল পাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনুস আর নোবেল না পাওয়া ড. আখতার হামিদ খানের
মধ্যে পার্থক্য কি?
_________________________________
ভাবছি তো ভাবছি ততই মনের মধ্যে নতুন নতুন প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একজন
খ্যাতির জন্য লবিং কাভারেজ নেয়, আরেকজন সাইকেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে মানুষের সমস্যার
কারণ খুঁজে বের করে।
ক্ষুদ্র ঋণ, কৃষি বিপ্লব, পরিবার পরিকল্পনা, ইমাম প্রশিক্ষণ, সমবায়, পল্লী উন্নয়ন, উন্নয়ন
প্রশাসন, বয়ষ্ক শিক্ষা কার্যক্রমগুলোর মৌলিক উদ্ভাবনটা যিনি করেছেন তিনিই ড. আখতার
হামিদ খান। তারই গড়া একাডেমীর লাইব্রেরীতে বসে তারই কর্মপদ্ধতি কপিরাইট
করে একজন পেলেন নোবেল।
আমিও ড. ইউনুসের খুব ভক্ত। কারণ একজন স্বপ্নবাজ মানুষ তিনি। তরুনদের স্বপ্ন দেখাতেই যেন
এসেছেন জগতে। চলতি বছরের ২৮জুন ঢাকার হোটেল রেডিসনে সো্স্যাল বিজনেস
ডে উপলক্ষ্যে ইউনুস সেন্টারের একটি সামিটে যাবার সুযোগ হয়েছিল। তখনো আমি ড. খানের
সাথে ইউনুস সাহেবকে তুলনা করতামনা, এখনও যে করছি তাও নয়। কারণ ড. ইউনুস সাহেব
বিবেকের কাঠগড়ায় দাড়িয়ে কখনো তার সফলতায় ড. খানের অবদানকে অস্বীকার
করতে পারবেননা। ওই সামিটে ইউনুস সাহেব খুব দৃঢ়তার সাথে বলছিলেন,
‘‘আমরা বেকারত্বকে যাদুঘরে পাঠাবো। বেকারত্ব বলতে কিছু থাকবে না।’’
আমি মুগ্ধ হয়ে গিলছিলাম তার কথাগুলো। সেদিন রেডিসনে উপস্থিত ৪৬টি দেশের
ডেলিগেটরাও উপভোগ করলেন নোবেল লরিয়েট ড. ইউনুস এর কথায়।
ড. আখতার হামিদ খান সম্পর্কে আগে থেকে জানতাম তিনি কুমিল্লা পদ্ধতির উদ্ভাবক।
কিন্তু যখন তার সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করলাম তখন মনে হল, ড. ইউনুস যা করছেন তা শুধুই
তার ছায়া মারিয়ে যাচ্ছেন আর কিছুই নয়। মজার ব্যাপার যে, বার্ড কর্মকর্তাদের কাছ
থেকে নয় তাকে জানার জন্য আমি কুমিল্লার প্রবীন কিছু মানুষের
সাথে কথা বলেছি যারা ১৯৫০ সাল থেকে ড. খান সাহেবের সাথে কাজ করেছেন
এবং কাজের সাথে ছিলেন, কেউ কেউ প্রতিবেশী হিসেবে, কেউ ছাত্র
হিসেবে তাকে পেয়েছেন।
ভারতের আগ্রায় জন্ম নেয়া ড. আখতার হামিদ খান ইতিহাসে স্থান নেয়া একজন
রাজনৈতিক নেতা বা ধর্মপ্রচারক নন, গোটা পশ্চিম পাকিস্তানের কৃষি ও
পল্লী উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা এক বিস্ময়মানব তাতে কোন সন্দেহ নেই।
যদি বাড়িয়ে কিছু বলে থাকি তবে আমন্ত্রণ থাকবে তাকে জানার চেষ্টা করুন।
ড. খান নেত্রকোণা জেলার এসডিও হিসেবে চাকুরীকালে তার সরকারি তহবিল
থেকে বন্যাপ্লাবিত মানুষকে ত্রাণ বিতরণ করেন, ফলে উর্ধতন কর্মকর্তা ব্রিটিশ
জেলা প্রশাসক বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে কৈফিয়ত চান। তখন ১৯৪৪ সাল। ২য় বিশ্বযুদ্ধও
চলছিল। ড. খান তাদেরকে জানিয়ে দেন যে চাকুরী করে জনগনকে সেবা করা যায়না,
কৈফিয়ত দিতে হয় সে চাকুরী তিনি করবেননা। তৎকালীন ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের
চাকুরী ছেড়ে দেয়াটা কেউ স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। পরবর্তীতে তিনি চলে আসেন
কুমিল্লায়। সেখানে মফিজাবাদ কলোনীতে তিনি তালা মেকারের কাজ করেন, তারপর
কখনো কার্পেন্টার, কখনো কুলি। তিনি প্রাকটিক্যাল অবলোকন করলেন সমাজের নিম্নআয়ের
একজন মানুষ কতটাকা আয় করে এবং তা দিয়ে স্বাচ্ছন্দে জীবিকা নির্বাহ সম্ভব কি না।
পরে ১৯৪৭-৫০ পর্যন্ত তিনি জামিয়া মিল্লিয়াতে শিক্ষকতা করেন
পরবর্তীতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। অধ্যক্ষের দায়িত্ব
পালনের পাশাপাশী তিনি (১৯৫৩-৫৪) তৎকালীন সরকারের অনুরোধে ভিলেজ এ্যাইড
কর্মসূচীর দায়িত্ব পালন করেন। মজার ব্যাপার যে তখনই তিনি ঢাবি সিনেটের সদস্য ছিলেন
এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পদ গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাক্ষাণ করেন।
তখন ড. খান যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ষ্টেট ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে শুধু কুমিল্লাকেই
পরিচিত করেননি। তৎকালীন সময়ে পূর্ব-পাকিস্তান নামে যে নতুন একটি রাষ্ট্রগঠন
হয়েছে তাও তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছিলেন তার মেধা আর কর্মগুনে।
১৯৫৯সালের ২৭মে অভয়াশ্রম থেকেই শুরু হুল তৎকালীন PARD যা বর্তমান BARD (Bangladesh
Academy for Rural Development)
মানুষ যখন পুকুরের পানি পান করতো তখন তিনি গভীর নলকূপ স্থাপন করলেন।
শীতকালে মাটি যখন শুকিয়ে আছে, তখন একটি গ্রামে যন্ত্রপাতি নিয়ে খান সাহেবের
নেতৃত্বে মাটি খুড়া শুরু হল। একদল মানুষ প্রতিবাদ করে বলে উঠলো পানি পড়বে আসমান
থেকে মাটির নিচ থেকে পানি আনতে গেলে আল্লাহর গজব পড়বে। কেউ কেউ বললো খোদার
উপর খোদাগিরি। যখন পানি উত্তোলন শুরু হল সবার মুখ তখন বন্ধ হয়ে গেল। প্রতিটি থানায়
তখন গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু হল। এরপর উচ্চ ফলনশীল ধান রোপনের পর
কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তণ এলো। দারিদ্রতার কষাঘাতে নিমজ্জিত
মানুষকে তিনি সমবায়ী হওয়ার জন্য ছোট ছোট সমিতিতে একত্রিত করলেন। সঞ্চয়
শেখাতে শুরু করলেন। কৃষক, কামার-কুমার, মোটর শ্রমিক এমনকি মেথরদেরও সমিতি করলেন ড.
খান। তখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় রাইসমিলটি স্থাপণ করেন বর্তমান বিসিক এলাকায়।
দুধের খামার গড়ে তুলে শুরু করেন কো-অপারেটিভ ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সমিতি। মানুষ
গাভী পালতে উদ্ভুদ্ধ হল। দুধের কলসি নিয়ে ভির জমতে থাকলো ধর্মপুরের সেই সমিতির
কারখানায়। শুরু হল কুমিল্লা বাটার উৎপাদন। ভারী ভারী মেশিনারিজ নিয়ে আসা হল
জার্মান থেকে। কুমিল্লা বাটারের গাড়ি যাত্রা শুরু করলো ঢাকা চট্টগ্রামের পথে। দেশ
পাড়ি দিয়ে তা রপ্তানিও শুরু হল।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র ঋণে এলো ব্যাপক সাফল্য। দিদার সমিতি, কেটিসিসিএ হয়ে উঠলো রোল
মডেল। পরে দিদার সমিতি যাকে দিয়ে শুরু করলেন ড. খান সাহেব সেই ইয়াছিন সাহেব
পেলেন র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার।
কুমিল্লা পদ্ধতি হয়ে উঠলো সারাদেশের পল্লী উন্নয়নের মডেল কর্মসূচী। দেশ বিদেশ
থেকে প্রশিক্ষণ নিতে আসতে শুরু করলেন সমাজকর্মী, গবেষকরা। ষাটের দশকে ক্ষুদ্র ঋণের
উপর কুমিল্লা বার্ডে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ড. ইউনুস। চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক যখন
বার্ড লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতো তখন অনেকে খান সাহেবকে বলতেন লোকটি আপনার
প্রতি খুব আগ্রহী। খান সাহেব নাকি তাদের বলতেন, পল্লী উন্নয়নের পদ্ধতিগুরো সবার
মাঝে ছড়িয়ে দেয়া দরকার। আমি প্রবীন কিছু ব্যক্তির সাথে কথা বলেছি যারা খান
সাহেবের সাথে কাজ করেছেন। এমনই একজন বললেন, ইউনুস সাহেব গবেষনার সব তথ্য যেমন
সংগ্রহ করতেন তেমনি গ্রামে গ্রামে ড. খান সাহেবের কাজগুলোও দেখতেন।
৬০ এর দশকে ড. খান যখন বার্ডের পরিচালক তখন বিকেলে প্রায়ই সাইকেল
নিয়ে ঘুরতে বেরোতেন। তখন যাদের বাড়িতে তার সাইকেল থামতো তাদের একজন তৎকালীন
হালিমা মিলের শ্রমিক নেতা আলী তাহের মজুমদার (ভাষা সৈনিক)। এবছর তার বয়স ৯৮।
তাহের সাহেব বলেন, ড. খানই একজন ব্যক্তি যিনি প্রান্তিক মানুষদের জীবন পরিবর্তন
কিভাবে করতে হয় তা হাতে কলমে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।
ড. আখতার হামিদ খানের পূর্বে এ অঞ্চলে কেউ পরিবার পরিকল্পনার কথা ভাবেনি,
সমবায়ের কথা ভাবেনি, স্যানিটেশনের জন্য কাজ করেনি, বিশুদ্ধ পানির জন্য এতো উদ্যোগ
নেয়নি। তিনিই বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে পরিবার পরিকল্পনা ধর্মবিরোধী কোন কাজ নয়
বরং তা হল পরিকল্পিত পরিবার গঠনের উপায়। তিনি যখন বুঝলেন ইমামরা অনেক মর্যাদাবান
কিন্তু ইসলাম যে একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা তা অল্পশিক্ষিত আলেমরাও জানেন না তাই
তাদেরকে নিয়ে ইমাম প্রশিক্ষণের শুরু করলেন তিনিই। পরে আজ যে কাজ করছে ইসলামিক
ফাউন্ডশন।
১৯৭১সালের যুদ্ধের সময় জরুরী হেলিকপ্টার অবতরণ করে তাকে পুরো পরিবারসহ
পাকিস্তানে নিয়ে যায় পাক সেনাবাহিনী। তখন তাকে পাকিস্তানে পল্লীর
সমস্যা দূরীকরণের প্রস্তাব দিলে তিনি তাদের বলেন, আগে তোমরা রাজনৈতিক সমস্যার
সমাধান কর। তিনি বরাবরই বাংলাদেশে গণহত্যার বিরোধীতা করেন।
যুদ্ধ পরবর্তীতে আবারো ফিরে আসেন বার্ডে। তবে এবার আর তাকে বেশিদিন
থাকতে দেয়া হযনি। আমাদের হিনমন্য রাজনৈতিকরা কেউ কেউ চোর আবার
কেউবা তাকে পাঞ্জাবের লোক বলে বিতারনের কথা বলতেন। ড. খান তাদের
উদ্দেশ্যে বলেন, আমার সব হিসেব নিকেশ প্রতিবছর অডিট হয়েছে কেউ যদি সেখানে গড়মিল
পেতো তাহলে আমাকে চোর বলতে। পরদেশী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তোমরা নিজেদের
নিয়ে চিন্তা করতে পারলে বাইরের লোক তোমাদের নিয়ে চিন্তা করতে হতো না। তার
তিক্ততার কিছু অভিজ্ঞতা তিনি কৈফিয়ত নামে একটি স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেছেন
যা যে কোন পাঠকের চোখে পানি গড়াতে বাধ্য করবে। ড. খান তখন তাদের বলেছিলেন,
আমি যা করছি তা এই এলাকার এখন অনেকেই বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন
তাকে রেখে দিতে কিন্তু তৎকালীন কিছু দুষ্ট রাজনৈতিক তার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত
হয়ে তাকে কুমিল্লায় থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন।
পরে জিয়াউর রহমান যখন প্রেসিডেন্ট হন তখন ড. খানকে বার্ডের
আদলে আরেকটি একাডেমী করার জন্য বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এবং প্রেসিডেন্ট তার
নিজ জেলায় ড. খানকে পরিচালক রেখে গড়ে তুলেন Rural Development Akademy (RDA)
বার্ড থেকে যাওয়ার পর তিনি ১৯৭৩-৭৮ পর্যন্ত মিশিগান ষ্ট্যাট ইউনিভার্সিটির
ভিজিটিং প্রফেসরের দায়িত্ব পালন করেন।
আশির দশকে তিনি পাকিস্তানের করাচীতে ওরাঙ্গী পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু করেন।
১৯৯৮সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ষ্টেটে মৃত্যুবরন করেন।
ড. আখতার হামিদ খান কোন নির্দিষ্ট অঞ্চল, জাতি বা গোত্রের জন্য ছিলেন না।
তিনি সমগ্র মানুষরে জন্যই এক আলোকবর্তিকা। তার আলোকচ্ছটায় আলোকিত হয়েছে অসংখ্য
জনপদ, পথহারা দরিদ্র মানুষ পেয়েছে জীবনকে সাজাবার মূলমন্ত্র।
ড. ইউনুস কে ছোট করার জন্য নয়, তবে সত্য যে তিনি ক্ষুদ্র ঋণের জনক নন। ড. আখতার হামিদ
খানের ছাত্র হিসেবেই তিনি এখানে এসেছিলেন ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কে জানতে ও প্রশিক্ষণ
নিতে। আজকের যে কড়া সূদে ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতারা জর্জরিত। কিন্তু ড. খান যে ক্ষুদ্র ঋণ শুরু
করেছিলেন তাতে প্রতিটি সমিতির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক শ্রমিকরা জীবনের দূর্ভেদ্য
অন্ধকার থেকে হাফ ছেড়ে বেঁচেছিল। ড. খানের সময়ে যে সমিতির পুকুর ভরা মাছ ছিল,
বাগান ছিল ফুল সবজিতে ভরপুর, খামার ছিল, উৎপাদন ছিল আজ সেগুলোর
অনেকগুলো রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবশালীদের দাপটে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু
এখনো তার শেষ অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকলেও জীর্ণতার প্রলেপ পড়ে তা শুধুই শুকনো মৃত
গাছের মতো।
তাই আমি বলি, যে একজন সবার জন্য গড়ে দিয়ে গেলেন, লোক তৈরী করলেন আর এখন
সেগুলো ভোগ করার জন্য অসংখ্য লোকও তৈরী হয়েছে গড়ার লোক নেই। ড. খান সাহেবের
জীবনের কিছু কথা জেনে আমি ভাবছি, এতো কিছু করেও যিনি আমাদের
থেকে দিনে দিনে মুছে যাচ্ছেন তখন আমরা আমাদের বেঁচে থাকা ছোট্ট জীবনে কি এমন
করেছি যে মানুষ আমাদের স্মরণ রাখবে।
let us be useful আখতার হামিদ খানের কথাটি উচ্চারণ করেই সমাপ্তি করছি অসমাপ্ত অনেক কথার
তথ্য সূত্র:- facebook থেকে সংগৃহীত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Comilla Cantonment
Cumilla